সিজন 1 অধ্যায় 12 পারিবারিক ড্রামা #বিয়ে #নাটকীয় মুহূর্ত #জোরপূর্বক বিয়ে শুভ্রলাবণ্যশুভ্রর মাশুভ্রর বাবাদাদা

অপ্রত্যাশিত বন্ধন

•3 মিনিট পড়া•378 শব্দ
অপ্রত্যাশিত বন্ধন

বাব্বাহ! জামাই তো দেখি একদম তৈরি…

দাদার কন্ঠকে অনুসরণ করে পিছু ফিরলাম আমি।

কিন্তু একি! দাদার সাথে সাথে যে আরো কয়েক জোড়া চোখ পলকহীন দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে।

প্রশ্ন করলাম। বাবা-মা, কাকা-কাকীমা কিছু বলবে তোমরা?

জবাবে কারো মুখ থেকে কোন শব্দ বের হয়নি। তবে আমার মা এগিয়ে আসে রুমে আমার দিকে।

তারপর তিনি যেটা বলেন সেটা শুনে আমার পুরো শরীর শিহরণ দিয়ে ওঠে। সে স্থানেই থমকে দাঁড়ায় আমি। বাকরুদ্ধ হয়ে যাই। কিছুক্ষণের জন্য হারিয়ে ফেলি কথা বলার শক্তি। মা যেটা বললো সেটা ছিল আমার ভাবনারও অতীত।

অত্যন্ত ধীর এবং স্বাভাবিক গলায় আমার মা সেদিন আমায় জানিয়েছিলো, শুভ্র! এটা বিয়ে বাড়ি। বিয়ে বাড়িতে গ্রামের দূর দূরান্ত থেকে আগত মুরুব্বীয়ান থাকবে। তাই দয়া করে এখানে এমন কিছু করিস না যেটা দেখে লোকে আমাদের দিকে আঙ্গুল তুলতে পারে। আমাদের সম্মানহানি হয়।

লাবণ্যকে আমাদের অনেক পছন্দ। ওর শান্তশিষ্ট বিনয়ী স্বভাবের জন্য সুমনরাও অকে বেশ পছন্দ করেছে। প্রচন্ড চুপচাপ স্বভাবের সে। বয়স কম হলেও যেকোন পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেয়ার বিশেষ ক্ষমতা আছে ও’র। সে গুনেই তোর দাদাও মুগ্ধ।

এমন মেয়েকে বিনা দ্বিধায় চোখ বোজে বিয়ে করা যায়। যেটা তুইও পারিস।

মায়ের শেষ কথা’য় আমার হৃদপিণ্ড কেঁপে ওঠল। স্নায়ুক্ষয়ী উত্তেজনায় ঘামতে লাগলাম আমি। কাঁপা স্বরে প্রশ্ন করলাম মা’কে, মাম্মমানে?

পুনঃবার স্বাভাবিক গলায় মায়ের জবাব, মানে লাবণ্যর বিয়েটা তোর সাথে হচ্ছে। মায়ের কথা শেষ হতে না হতেই পাশে রাখা চেয়ারে বসে পড়লাম আমি।

বাবা-দাদা, কাকা-কাকীমা, কাজিন এবং একমাত্র ছোটবোন আশা সবাই আমাকে বোঝাতে ব্যস্ত।

ওরা ঠিক কি বলেছে? কি বলে আমাকে শান্ত করার চেষ্টা করেছে? সেটা আমি জানি না। আমি জানি, আমার মাথাটা কেবল ঘুরছিল।

পরে যখন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরি তখন নিজেকে বিছানায় আবিষ্কার করি। যেখানে আমাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে ছিলো অনেকগুলো মানুষ।

‘কেমন বোধ করছি?’ কোনরকমে এটা জেনেই ওরা ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ে আমাকে বিয়ের আসরে নেয়ার জন্য।

মা’কে বারংবার একটা কথা বলতে চেয়েও পারিনি বলতে। বিয়ের আসরে গিয়ে চেষ্টার কোন ভ্রুটি করিনি।

কিন্তু আমার মা! আমার কোন কথা শুনার আগ্রহ দেখাননি। ওনার একটাই কথা ছিলো, কথা যা বলার বাড়িতে গিয়ে বলিস। শুনবো আমি।

বুঝাতে ব্যর্থ আমি একটা সময় চুপ হয়ে যাই।

বিয়ে পরানো শেষ হয়। সামাজিক নানা রীতিনীতি শেষে বউ নিয়ে গাড়িতে গিয়ে বসি।

পাশাপাশি বসে দু’জন। কারো মুখেই কোন কথা নেই। অথচ ভেতরে আমাদের অজস্র কথাদের ভীড় জমেছিল।

গাড়ি চলছে তার আপন গতিতে। এসিযুক্ত গাড়িতে বসেও ঘামছি আমি ভিষণ।

দু’কান দিয়ে অগ্নির ন্যায় গরম হাওয়া বের হচ্ছিলো আমার। অনাকাঙ্খিত কিছু ঘটলে এরকমই হয় বুঝি….!

অধ্যায় 12 সমাপ্ত

আপনি এই অধ্যায়টি পড়া শেষ করেছেন। পরবর্তী পর্বে যান অথবা আপনার প্রতিক্রিয়া জানান!

মন্তব্যসমূহ

0

আলোচনায় যোগ দিন

মতামত জানাতে এবং পাঠকদের সাথে আলোচনায় অংশ নিতে লগইন করুন।

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

প্রথম মন্তব্যটি করে আলোচনা শুরু করুন!

রকমারি কালেকশন

বইপ্রেমীদের জন্য রকমারি বেস্টসেলার

অধ্যায় পাঠ শেষে সংগ্রহ করুন আপনার পছন্দের ঘরানার সেরা বই ও বিশেষ ডিসকাউন্ট

অপ্রত্যাশিত বন্ধন

অনুচ্ছেদ 1 / 1 • চলছে
বিজ্ঞাপন