{
    "_links": {
        "html": "https://golpohub.com/episodes/rode-bheja-tilottoma-s1-ep12",
        "json": "https://golpohub.com/episodes/rode-bheja-tilottoma-s1-ep12?format=json",
        "markdown": "https://golpohub.com/episodes/rode-bheja-tilottoma-s1-ep12?format=md",
        "rss": "https://golpohub.com/episodes/rode-bheja-tilottoma-s1-ep12?format=rss",
        "atom": "https://golpohub.com/episodes/rode-bheja-tilottoma-s1-ep12?format=atom"
    },
    "seo": {
        "canonical_url": "https://golpohub.com/episodes/rode-bheja-tilottoma-s1-ep12",
        "title": "রোদে ভেজা তিলোত্তমা পর্ব ১২ - বৈদ্যনাথের আঙিনায় শপথ | Rode Bheja Tilottoma Part 12",
        "description": "পড়ুন রোদে ভেজা তিলোত্তমা পর্ব ১২। বৈদ্যনাথ ধামে পুজো এবং দেওঘর রামকৃষ্ণ মিশনে মধুছন্দার ভাইয়ের সাথে পার্থর সাক্ষাৎ।",
        "keywords": "রোদে ভেজা তিলোত্তমা পর্ব ১২, রোদে ভেজা তিলোত্তমা ১২, ১২শ পর্ব, rode bheja tilottoma porbo 12, rode bheja tilottoma part 12, rode bheja tilottoma episode 12, rode bheja tilottoma part 12 link, পার্থ, মধুছন্দা, সত্যজিৎ, দেওঘর",
        "image_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-1153-0c5e2d.webp",
        "schema": {
            "@context": "https://schema.org",
            "@graph": [
                {
                    "@type": "Chapter",
                    "name": "বৈদ্যনাথের আঙিনায় শপথ",
                    "position": 12,
                    "description": "দেওঘরের হোটেল রুমে প্রথমবার একে অপরকে নিবিড়ভাবে পাওয়ার আলোড়ন তৈরি হয়। পুজো দিতে গিয়ে বৈদ্যনাথের গর্ভগৃহে পাথরের শিবলিঙ্গের সামনে দুজনের বিশ্বাসের বন্ধন কি একসূত্রে বাঁধা পড়ে? ভাইয়ের মিশনের প্রার্থনার মাঝে পার্থ কি খুঁজে পাবে তার জীবনের স্থায়ী ঠিকানা?",
                    "url": "https://golpohub.com/episodes/rode-bheja-tilottoma-s1-ep12",
                    "inLanguage": "bn",
                    "timeRequired": "PT11M",
                    "datePublished": "2026-08-27T22:02:06+00:00",
                    "dateModified": "2026-09-06T01:33:29+00:00",
                    "wordCount": 1637,
                    "image": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-1153-0c5e2d.webp",
                    "isPartOf": {
                        "@type": [
                            "BookSeries",
                            "CreativeWorkSeries"
                        ],
                        "name": "রোদে ভেজা তিলোত্তমা",
                        "url": "https://golpohub.com/series/rode-bheja-tilottoma"
                    },
                    "author": {
                        "@type": "Person",
                        "name": "পিনুরাম",
                        "url": "https://golpohub.com/authors/pinuram"
                    }
                },
                {
                    "@type": "BreadcrumbList",
                    "itemListElement": [
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 1,
                            "name": "Golpo Hub",
                            "item": "https://golpohub.com"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 2,
                            "name": "সিরিজসমূহ",
                            "item": "https://golpohub.com/series"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 3,
                            "name": "রোদে ভেজা তিলোত্তমা",
                            "item": "https://golpohub.com/series/rode-bheja-tilottoma"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 4,
                            "name": "বৈদ্যনাথের আঙিনায় শপথ",
                            "item": "https://golpohub.com/episodes/rode-bheja-tilottoma-s1-ep12"
                        }
                    ]
                }
            ]
        }
    },
    "filters": [],
    "data": {
        "id": 1153,
        "ep_number": 12,
        "title": "বৈদ্যনাথের আঙিনায় শপথ",
        "slug": "rode-bheja-tilottoma-s1-ep12",
        "url": "https://golpohub.com/episodes/rode-bheja-tilottoma-s1-ep12",
        "reading_time": 11,
        "thumbnail_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-1153-0c5e2d.webp",
        "yt_video_id": null,
        "yt_video_url": null,
        "timestamps": {
            "published_at": "2026-08-27T22:02:06+00:00",
            "updated_at": "2026-09-06T01:33:29+00:00"
        },
        "meta": {
            "word_count": 1637,
            "chapter_number": 12,
            "seo_title": "রোদে ভেজা তিলোত্তমা পর্ব ১২ - বৈদ্যনাথের আঙিনায় শপথ | Rode Bheja Tilottoma Part 12",
            "seo_description": "পড়ুন রোদে ভেজা তিলোত্তমা পর্ব ১২। বৈদ্যনাথ ধামে পুজো এবং দেওঘর রামকৃষ্ণ মিশনে মধুছন্দার ভাইয়ের সাথে পার্থর সাক্ষাৎ।",
            "keywords": "রোদে ভেজা তিলোত্তমা পর্ব ১২, রোদে ভেজা তিলোত্তমা ১২, ১২শ পর্ব, rode bheja tilottoma porbo 12, rode bheja tilottoma part 12, rode bheja tilottoma episode 12, rode bheja tilottoma part 12 link, পার্থ, মধুছন্দা, সত্যজিৎ, দেওঘর",
            "characters_involved": [
                "পার্থ",
                "মধুছন্দা",
                "সত্যজিৎ"
            ]
        },
        "content": "<p>ছেলেটা চলে যেতেই দরজা বন্ধ করে ওকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরলাম। অনেকদিন পরে কাছে পেয়েছি তাও আবার একেবারে নিজের করে, এখানে বাধা দেওয়ার কেউ নেই, দেখার কেউ নেই শুধু মাত্র দুইজনে এক কামরায়।</p>\n<p>ছন্দা আমার হাতের ওপরে হাত রেখে আলিঙ্গন আরও নিবিড় করে সোহাগ ভরা কণ্ঠে বললো, &#8220;প্লিজ ছেড়ে দাও না হলে কিন্তু কামড়ে দেব, সত্যি বলছি।&#8221;</p>\n<p>আমিও বদমাশি করে ওর নরম গালে আমার না কামানো গাল ঘষে দিলাম, &#8220;উম্মম এবারে সম্পূর্ণ ভাবে একা পেয়েছি আর ছাড়ছি না কোন মতেই।&#8221;</p>\n<p>এই ঠাণ্ডার মধ্যেও আসন্ন উত্তেজনায় বুকের রক্ত চনমন করে ওঠে ছন্দার। আমি দুইহাতে ওর পেলব দেহ পল্লব জড়িয়ে ধরলাম, মনে হল যেন ও গলে যাবে আমার বাহু বেষ্টনীর মাঝে। ছন্দা কেঁপে উঠলো আমার প্রগাড় আলিঙ্গনে, ধীরে ধীরে আমার বাঁ হাত ওর সুগৌল উদ্ধত কুচের নিচে উঠে এলো আর আর ডান হাতটি নেমে গেল নরম গোল তলপেটের ওপরে। ঠোঁট নামিয়ে আনলাম ওর মসৃণ মরালি গর্দানে, আলতো করে ভিজে ঠোঁট ছুইয়ে দিতেই কেঁপে উঠলো ললনা। আমার ধমনীতে লেগেছে প্রেমের আগুন আর সেই অগুন ওর শরীরে ছড়াতে বেশি সময় নিল না। এক অদ্ভুত শিহরণ খেলে যায় ছন্দার সারা শরীরে। দুই হাত আমার হাতের ওপরে দিয়ে বাহুবেষ্টনীকে আর চেপে দেয় নিজের শরীরের ওপরে। আমি ওর কামিজের ওপর দিয়েই অল্প অল্প করে নাভির নিচের নরম নারীমাংসে আদর করতে শুরু করে দিলাম। নিজের অজান্তেই আমার বাহু বেষ্টনী বজ্র কঠিন হয়ে গেল, এইবারে দুই হাতে যেন পিষে ফেলবে ওকে। নভেম্বরের ঠাণ্ডা আর দুই তৃষ্ণার্ত কপোত কপোতী কে আলাদা করে রাখতে পারেনা। ছন্দার বুকের মাঝে, হারিয়ে যাওয়ার এক লেলিহান শিখা ধিকি ধিকি করে জ্বলে ওঠে। মাথাটা পেছনের দিকে হেলিয়ে দেয়, আমার দাড়ি না কামানো গালে গাল ঘসতে থাকে। প্রেমের ঘর্ষণে নরম গালে অগ্নিস্ফুলিঙ্গর আবির্ভাব হয়। আমাদের মাঝে একটি সর্ষে দানা রাখলে যেন তেল বেড়িয়ে আসবে, এমন ভাবে এক জন আর এক জনের সাথে আঠার মতন মিশে গেলাম।</p>\n<p>আধবোঝা নয়নে, প্রেমঘন কাঁপা গলায় ছন্দা বলে ওঠে, &#8220;জানো আমি ভাবতে পারছি না যে আমরা সত্যি এখানে একসাথে।&#8221;</p>\n<p>সত্যি সেটা আমিও ভাবতে পারছিলাম না যদি না ও আমার গালে একটা হালকা আদরের কামড় বসিয়ে দিত। আমি ওর ঘাড়ে গর্দানে কানের লতিতে চুম্বনে চুম্বনে ভরিয়ে দিলাম। ছন্দার বুকের উষ্ণ রক্ত ত্বকের ওপরে ছড়িয়ে পড়ে, ঘন ঘন শ্বাস নেওয়ার ফলে ওর দুই বুকে অন্তহীন সমুদ্রের ঢেউ খেলতে শুরু করে।</p>\n<p>প্রেমঘন আপ্লুত কণ্ঠে বললাম, &#8220;ছন্দা আমি তোমাকে ভালোবাসি।&#8221;</p>\n<p>গালে গাল ঘসতে ঘসতে, ছন্দা মিহি স্বরে জিজ্ঞেস প্রেম নিবেদন করলো, &#8220;তোমাকে ছাড়া আর কোথায় যাবো সোনা? জানো কফি হাউসে বসে প্লান করার পরের দিন থেকেই আমার রাতের ঘুম ছিলো না, কবে তোমার কাছে যাবো এই ভেবে।&#8221;</p>\n<p>উত্তেজনায় আমার সিংহ কেশর ফুলিয়ে দিল আর নিটোল নিতম্বের খাঁজের মাঝে আমার সিংহের স্পর্শের অনুভুতি পেয়ে চঞ্চল হয়ে ওঠে ছন্দা। ক্ষিপ্ত সিংহ কেশর ফুলিয়ে কোমল নিটোল নিতম্ব মাঝে বিঁধে গেছে।</p>\n<p>আমি ওকে আরও নিবিড় করে জড়িয়ে ধরে বললাম, &#8220;কিছুতেই তোমাকে ছারছি না, এবারে পিষে ফেলব।&#8221;</p>\n<p>আমার পৌরুষত্তের ছোঁয়া পেয়ে কিঞ্চিত উত্তেজিত হয়ে উঠলো সেই সাথে সেটা দমিয়ে নিয়ে বললো, &#8220;আমার ওপরে একটু দয়া করবে না? সারা রাত ট্রেনে এসে জামা কাপড় নোংরা হয়ে গেছে দয়া করে স্নান সারতে দাও।&#8221;</p>\n<p>ধীরে ধীরে আমার দিকে ঘুরে দাঁড়ালো আর হটাত দুম করে একটা কিল বসিয়ে দিল আমার বুকের ওপরে। তারপরে খিলখিল করে হেসে উঠে আমার বাহুপাশ ছাড়িয়ে মুখ ভেঙ্গিয়ে নিজের জামা কাপড় নিয়ে বাথরুমে ঢুকে গেল। অগত্যা আর কি করি, একটা সিগারেট ধরিয়ে প্রেমিকার অপেক্ষা করতে থাকলাম।</p>\n<p>স্নান সেরে গায়ে তোয়ালে জড়িয়ে বেড়িয়ে এলো, আমি ওর ওই রুপ দেখে হাঁ করে চেয়ে রইলাম। ছন্দা বড় লজ্জা পেয়ে আমাকে বকা দিয়ে তাড়াতাড়ি স্নান সেরে নিতে বললো। ওর দিকে দুই পা এগোতেই পালিয়ে গেল। আমি দাড়ি কাটার রেজর ব্লেড আর আমার জামাকাপড় নিয়ে বাথরুমে ঢুকে গেলাম। বাথরুমে আলো কম তাই দাড়ি কাটার সময়ে আর দরজা বন্ধ করিনি।</p>\n<p>আমি দাড়িতে সাবান লাগিয়ে একবার উঁকি মেরে দেখতে চেষ্টা করলাম কি করছে। স্নান সেরে ললনা নীলাম্বরী হয়ে সেজে, পরনে হাল্কা নীল রঙের শাড়ি। ভিজে চুল পিঠের ওপরে এলো করা, সারা দেহ থেকে এক মিষ্টি গন্ধ নির্গত হচ্ছে। চুল আঁচড়াতে আঁচড়াতে আমার খালি ছাতি দেখে থমকে আমার দিকে চেয়ে রইলো ক্ষণিকের জন্য তারপরে লজ্জায় মাথা নিচু করে নিল। আমি ওকে দেখে চোখ মেরে ইশারায় বললাম যে একদম মার কাটারি লাগছে, পথে বের মানুষ ওকে দেখবে আর হোঁচট খাবে। আমি ওর কাছে এসে দুষ্টুমি করে ওর নাকের ওপরে ফেনা মাখিয়ে দিলাম।</p>\n<p>একটু রাগের ভান করে ছন্দা বললো, &#8220;ধুত, কি যে কর না তুমি, সাজ টাই নষ্ট করে দেবে।&#8221;</p>\n<p>এই বলে নাকটা আমার অনাবৃত বাজুর ওপরে মুছে দিল। নাক মুছতে গিয়ে নিজের অজান্তে, সুগৌল উদ্ধত কোমল বক্ষ আমার বাজুতে লেগে গেল। আঁচলে ঢাকা নরম কুচের স্পর্শে আমার শরীর গরম হয়ে যায়। ছন্দা, আমার দেহের বেড়ে ওঠা উত্তাপ বুঝতে পেরে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে কোমরে একটা দুলুনি দিয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে বিছানার দিকে চলে যায়। </p>\n<p>যাবার আগে আমার উদ্দেশ্যে ছুঁড়ে দেয় &#8220;কালকেই তো দাড়ি কেটে বেরিয়েছ, এখন আবার দাড়ি কামাতে গেলে কেন?&#8221;</p>\n<p>আমি ও কম যাই না, সুন্দরী কপোতীর উত্তর জুতসই দিতে হয়, &#8220;তোমার ওই গোলাপি গালে গাল ঘষে মনে হল তোমার কিছুটা আমার গালে লেগে গেছে তাই সেগুলো উঠানোর জন্য দাড়ি কামাচ্ছিলাম।&#8221;</p>\n<p>লজ্জায় কান লাল হয়ে যায় ছন্দার, &#8220;এক চড় মারবো এবারে, তাড়াতাড়ি স্নান করো মন্দির যেতে হবে।&#8221;</p>\n<p>উফফফ বাঃবা আবার সেই মন্দির। তাড়াতাড়ি স্নান সেরে বেড়িয়ে এলাম। ছন্দা ততক্ষণে গায়ের ওপরে একটা গাঢ় নীল রঙের ওভারকোট চাপিয়ে নিয়েছে আর সেই সাথে গলায় একটা শাল জড়িয়ে নিয়েছে। আমি জামা কাপড় পরে ওকে জিজ্ঞেস করলাম কোথায় যেতে হবে এবারে। ছন্দা বললো, বৈদ্যনাথ ধামের মন্দিরে আগে পুজো দেবে তারপরে খাওয়া দাওয়া করবে। সেখান থেকে অনুকুল ঠাকুরের আশ্রম দেখতে যাবো এবং বিকেলে সত্যজিতের কলেজে যাবো।</p>\n<p>হোটেল থেকে বেড়িয়ে আবার সেই টাঙ্গা চেপে মন্দিরের কাছে এলাম। দেওঘরে প্রচুর সঙ্খ্যখ বাঙালি একসময়ে মধুপুর, দেওঘর, রাঁচি এইসব জায়গায় বড় লোক বাঙালিদের বাগান বাড়ি থাকত। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে সেই বাগান বাড়ি গুলো অনেকে বিক্রি করে দিয়েছে অথবা বেহাত হয়ে গেছে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে। সরু অলিগলি পেরিয়ে লোকজনের ভিড় ঠেলে মন্দিরে পৌছালাম। বিশাল মন্দির প্রাঙ্গন লোকে লোকারণ্য, শিবের মন্দিরে দর্শন করার জন্য লম্বা লাইন। লাইন দেখে আমি ভিরমি খেলাম, লাইন দিয়ে সিনেমার টিকিট কাটতে রাজি, যাত্রা পালা দেখতে রাজি কিন্তু&#8230;.. ছন্দা চোখ পাকিয়ে আমাকে চুপচাপ ওর পাশে দাঁড়াতে বললো। এর মাঝে আবার পাণ্ডাদের উৎপাত, পুজো করিয়ে দেবে একদম সাক্ষাৎ বিগ্রহ দর্শন করিয়ে দেবে। </p>\n<p>ছন্দা ওদের কথায় কোন কান দিল না, ওদের বললো, &#8220;ঠাকুর পুজো আমি দেব আমার মতন করে, সেখানে মন্ত্রের কি দরকার, কারুর মধ্যস্ততার করার কি দরকার?&#8221;</p>\n<p>প্রায় এক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ঠেলাঠেলি করে শেষ পর্যন্ত দর্শন মিলল। একটা অতি ক্ষুদ্র দরজা দিয়ে প্রবেশ করলাম একটা অতি ক্ষুদ্র গর্ভ মন্দিরে, আমি ওকে জিজ্ঞেস করলাম যে শিবের মূর্তি কোথায়? ছন্দা আমাকে মেঝের মাঝে একটা কালো পাথর দেখিয়ে বললো, &#8220;ওই যে শিব লিঙ্গ।&#8221;</p>\n<p>চারপাশে যা লোকের ভিড় আর চিৎকার চেঁচামেচি তাতে কি আর শান্তি করে পুজো দেওয়া যায়? কিন্তু ছন্দার দেওয়া চাই, আমি ওকে দুই হাতে আগল করে একপাশে দাঁড়িয়ে গেলাম। ডালিতে আনা ফুল বেল পাতা জল দিয়ে পুজো দিল। এর মাঝে একটা পান্ডা আবার আমার কপালে আর ছন্দার কপালে সিঁদুরের তিলক কেটে দিল।</p>\n<p>ওইখান থেকে কোন রকমে বেঁচে বেড়িয়ে ওকে বললাম, &#8220;আর যদি কোন মন্দিরে আমাকে ঢুকিয়েছ&#8230;..&#8221;</p>\n<p>হেসে আমাকে বললো, &#8220;দেখে শুনে প্রেম করতে পারতে! তাহলে এই সমস্যা হতো না।&#8221;</p>\n<p>আমি বললাম, &#8220;কলেজে পড়ার সময়ে জানতাম না যে তুমি পাথর দেখলেই পেন্নাম ঠুকবে।&#8221;</p>\n<p>অভিমানিনীর মানে লেগে গেল, &#8220;এখন সময় আছে, অন্য মেয়ে খুঁজে নিতে পারো।&#8221;</p>\n<p>আমি ওর কাঁধে হাত রেখে বললাম, &#8220;যা বাবা, এইটুকু ঠাট্টা করতে পারবো না?&#8221;</p>\n<p>আমার বাজুতে চিমটি কেটে বললো, &#8220;যা খুশি নিয়ে ঠাট্টা করো, কিন্তু আমার ঠাকুর আমার বিশ্বাস নিয়ে একদম নয়।&#8221;</p>\n<p>সেদিনের পর থেকে কোনোদিন ওর পুজো অর্চনা নিয়ে কিছু বলিনি। সেদিনের কথায় আমি বুঝেছিলাম কারুর বিশ্বাসে কোনোদিন আঘাত হানতে নেই। বিশ্বাসের জোরে এই পৃথিবী চলে, মানুষ পরস্পরকে ভালোবাসে। তারপরে ছন্দা অবশ্য আমাকে, প্রনাম করতে অথবা মন্দিরে যেতে বিশেষ জোরাজুরি করত না তবে ওর মন রাখতে আর বিশ্বাসের জন্য ওর সাথে যেতাম।</p>\n<p>মন্দির প্রাঙ্গনে আরও দেব দেবীর ছোট ছোট মন্দির, সব বিগ্রহের সামনে দাঁড়িয়ে প্রনাম করলো। পুজো সেরে মন্দির থেকে বের হতে আমাদের দুপুর হয়ে গেল। ছন্দা বললো আর অনুকুল ঠাকুরের আশ্রমে যাবে না, খেয়ে দেয়ে একটু বিশ্রাম নিয়ে বিকেলে ভাইয়ের কলেজে যেতে হবে।</p>\n<p>মন্দির থেকে বেড়িয়ে অলিগলি পেড়িয়ে একটা মিষ্টির দোকানের সামনে এসে বললো, &#8220;এখানের রসগোল্লা খেয়ে দেখ, ওই কোলকাতার রসগল্লাকেও হার মানিয়ে যাবে।&#8221;</p>\n<p>আমি ওকে জিজ্ঞেস করলাম, &#8220;তাই নাকি?&#8221;</p>\n<p>অবন্তিকা নাম ছিলো ওই মিষ্টির দোকানের, আজও আছে ওইখানে দাঁড়িয়ে, পুরানো নতুন যারাই যায় একবার অবন্তিকার রসগোল্লা খায়। আমরাও পুরি আর ছোলার ডাল খেয়ে হোটেলের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। হোটেলে যাওয়ার পথে দেওঘরের ইতিহাস আমাকে শুনাল, অত ধার্মিক আমি কোনোদিন ছিলাম না তাই মন দিয়ে শুনলাম ওর গল্প। ভাইকে ভর্তি করতে এসে নন্দন পাহাড়, ত্রিকুট পাহাড়, তপোবন আরো অনেক জায়গা ঘুরে এসেছে। কিন্তু সব জায়গায় মন্দির তাই ছন্দা আর আমাকে জোর করলো না। তবে আমরা ঠিক করলাম যে একবার দেওঘরের আশেপাশের জায়গাও ঘুরে দেখে নেব, পারলে ম্যাসাঞ্জোর ড্যাম দেখে আসা যাবে।</p>\n<p>দুপুরে খেয়ে দেয়ে একটু বিশ্রাম নিয়ে বিকেলের আগেই আমরা রওনা দিলাম মিশন কলেজের দিকে। পথে যেতে যেতে সেই মিশনের কথা আমাকে বললো। বিশাল লোহার গেটের সামনে আমাদের নামতে হল। গেটের ভেতরে ঢুকতেই মনে হল এক অন্য জগতে এসে গেছি। সোজা একটা রাস্তা সদর গেট থেকে মন্দির পর্যন্ত, একটু ভালো ভাবে তাকালে এমন কি মন্দিরের ভেতর পর্যন্ত দেখা যায়। চারপাশে বড় বড় খেলার মাঠ, এক পাশে কলেজ, আর মন্দিরের চারদিকে ছড়িয়ে ছেলেদের থাকার ধাম। আমরা যখন কলেজে পৌঁছেছিলাম তখন ওদের কলেজের ছুটি হয়েছিলো। এক রঙের ড্রেস পরা অত গুলো ছেলে কিলবিল করে কলেজ থেকে বেড়িয়ে এল। আমি ভাবলাম এদের মধ্যে ছন্দার ভাইকে কি করে খুঁজে পাওয়া যাবে। ছন্দা ঠিক ওর ভাইকে খুঁজে বের করলো আর দিদিকে দেখে সত্যজিত দৌড়ে এলো। সেই প্রথম ওর সাথে দেখা, মাথার চুল উস্কোখুস্কো। ঠিক যেমন ভাবে বড়দি আমাকে কলেজ যাওয়ার আগে জামা প্যান্ট ঠিক করে মাথা আঁচরে দিত ঠিক সেই ভাবে ওর ওই চুলের মধ্যে আঙ্গুল ডুবিয়ে আঁচরে দিল।</p>\n<p>ছন্দা আমাকে সত্যজিতের সাথে পরিচয় করিয়ে দিল। এত দুষ্টু ছেলে, মিচকি হেসে আমাকে জিজ্ঞেস করলো, &#8220;তুমি তো টুক করে দিদিকে নিয়ে পালাবে আর আমি কি করবো?&#8221;</p>\n<p>ছন্দা ওকে মৃদু বকে বললো, &#8220;হ্যাঁ তুই খুব পেকে গেছিস তাই না।&#8221; ব্যাগ খুলে ওর জিনিসপত্র দিয়ে বললো ওই গুলো রেখে আসতে।</p>\n<p>আমি ছন্দার দিকে দেখে ওকে বললাম, &#8220;আমি যেখানে যাবো তোকে সঙ্গে নিয়ে যাবো চিন্তা নেই।&#8221;</p>\n<p>আমরা ঘুরে ঘুরে মিশন দেখলাম, বিকেলের প্রার্থনা দেখলাম, বিশাল মন্দিরের নাট মন্দিরে সাড়ে তিনশ ছেলের একসাথে বন্দনা গান। সেই সব শুনে অবাক হয়ে যেতে হয় আমি যেন অন্য এক আধ্যাত্মিকতায় বিচরন করছিলাম সেই সময়ে।</p>",
        "series": {
            "id": 25,
            "title": "রোদে ভেজা তিলোত্তমা",
            "slug": "rode-bheja-tilottoma",
            "url": "https://golpohub.com/series/rode-bheja-tilottoma",
            "thumbnail_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/series-rode-veja-tilottma-25-56697e.webp",
            "progress_status": "completed"
        },
        "author": {
            "id": 22,
            "name": "পিনুরাম",
            "slug": "pinuram",
            "url": "https://golpohub.com/authors/pinuram",
            "avatar_url": "https://cdn.golpohub.com/avatars/pinuram-22-995484.webp",
            "bio": "পিনুরাম বাংলা কথাসাহিত্যের এক সংবেদনশীল ও মননশীল রূপকার। মানবজীবনের টানাপোড়েন, দায়িত্ববোধের কঠিন আত্মত্যাগ এবং সামাজিক শৃঙ্খলের ভেতর লুকিয়ে থাকা সূক্ষ্ম অনুভূতির রূপায়ণে তাঁর লেখনী অনন্য। তাঁর চরিত্ররা আবেগতাড়িত ভুলের ভেতর দিয়ে হেঁটে এসে অবশেষে গভীর আত্মোপলব্ধি ও দায়িত্বশীল মানবিকতায় পূর্ণতা পায়। বাস্তব জীবনের জটিল মনস্তত্ত্ব ও আত্মশুদ্ধির মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা তাঁর গল্পগুলো পাঠকদের চিত্তে শুভ ও ইতিবাচক চেতনার বিস্তার ঘটায়।",
            "series_count": 0,
            "meta": {
                "bio": "পিনুরাম বাংলা কথাসাহিত্যের এক সংবেদনশীল ও মননশীল রূপকার। মানবজীবনের টানাপোড়েন, দায়িত্ববোধের কঠিন আত্মত্যাগ এবং সামাজিক শৃঙ্খলের ভেতর লুকিয়ে থাকা সূক্ষ্ম অনুভূতির রূপায়ণে তাঁর লেখনী অনন্য। তাঁর চরিত্ররা আবেগতাড়িত ভুলের ভেতর দিয়ে হেঁটে এসে অবশেষে গভীর আত্মোপলব্ধি ও দায়িত্বশীল মানবিকতায় পূর্ণতা পায়। বাস্তব জীবনের জটিল মনস্তত্ত্ব ও আত্মশুদ্ধির মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা তাঁর গল্পগুলো পাঠকদের চিত্তে শুভ ও ইতিবাচক চেতনার বিস্তার ঘটায়।",
                "phone": null,
                "gender": "male",
                "address": {
                    "country": "India"
                },
                "birth_date": null,
                "social_links": [],
                "pen_name": "পিনুরাম",
                "aliases": [
                    "Pinuram",
                    "Pinu Ram"
                ]
            },
            "timestamps": {
                "created_at": null,
                "updated_at": null
            }
        },
        "navigation": {
            "previous_episode": {
                "id": 1152,
                "ep_number": 11,
                "title": "কুয়াশা মাখা ভোরের দেওঘর",
                "slug": "rode-bheja-tilottoma-s1-ep11",
                "url": "https://golpohub.com/episodes/rode-bheja-tilottoma-s1-ep11",
                "thumbnail_url": "https://golpohub.com/assets/images/og.jpg"
            },
            "next_episode": {
                "id": 1154,
                "ep_number": 13,
                "title": "আদিম মিলনের নিবিড় রাত",
                "slug": "rode-bheja-tilottoma-s1-ep13",
                "url": "https://golpohub.com/episodes/rode-bheja-tilottoma-s1-ep13",
                "thumbnail_url": "https://golpohub.com/assets/images/og.jpg"
            }
        }
    }
}