{
    "_links": {
        "html": "https://golpohub.com/episodes/rode-bheja-tilottoma-s1-ep6",
        "json": "https://golpohub.com/episodes/rode-bheja-tilottoma-s1-ep6?format=json",
        "markdown": "https://golpohub.com/episodes/rode-bheja-tilottoma-s1-ep6?format=md",
        "rss": "https://golpohub.com/episodes/rode-bheja-tilottoma-s1-ep6?format=rss",
        "atom": "https://golpohub.com/episodes/rode-bheja-tilottoma-s1-ep6?format=atom"
    },
    "seo": {
        "canonical_url": "https://golpohub.com/episodes/rode-bheja-tilottoma-s1-ep6",
        "title": "রোদে ভেজা তিলোত্তমা পর্ব ৬ - গঙ্গার ঘাটে প্রথম স্পর্শ | Rode Bheja Tilottoma Part 6",
        "description": "পড়ুন রোদে ভেজা তিলোত্তমা পর্ব ৬। সাতক্ষীরার উদ্বাস্তু স্মৃতির হাহাকার এবং গঙ্গার ঘাটে পার্থ ও মধুছন্দার প্রথম চুম্বন।",
        "keywords": "রোদে ভেজা তিলোত্তমা পর্ব ৬, রোদে ভেজা তিলোত্তমা ৬, ৬ষ্ঠ পর্ব, rode bheja tilottoma porbo 6, rode bheja tilottoma part 6, rode bheja tilottoma episode 6, rode bheja tilottoma part 6 link, পার্থ, মধুছন্দা, প্রথম চুম্বন",
        "image_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-1147-766071.webp",
        "schema": {
            "@context": "https://schema.org",
            "@graph": [
                {
                    "@type": "Chapter",
                    "name": "গঙ্গার ঘাটে প্রথম স্পর্শ",
                    "position": 6,
                    "description": "নবদ্বীপের মন্দির দর্শন শেষে শান্ত গঙ্গার তীরে বসে ১৯৭১-এর উদ্বাস্তু জীবনের রক্তক্ষয়ী স্মৃতির কথা জানায় মধুছন্দা। বহু বছর চেপে রাখা সেই কান্না শুনে স্তব্ধ হয়ে যায় পার্থ। কিন্তু গঙ্গাবক্ষের সাক্ষী থাকা সেই সান্ত্বনা আর পরম এক চুম্বন কি তাদের ভবিষ্যৎকে চিরতরে বদলে দেবে?",
                    "url": "https://golpohub.com/episodes/rode-bheja-tilottoma-s1-ep6",
                    "inLanguage": "bn",
                    "timeRequired": "PT10M",
                    "datePublished": "2026-08-27T22:02:06+00:00",
                    "dateModified": "2026-09-06T01:33:29+00:00",
                    "wordCount": 1585,
                    "image": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-1147-766071.webp",
                    "isPartOf": {
                        "@type": [
                            "BookSeries",
                            "CreativeWorkSeries"
                        ],
                        "name": "রোদে ভেজা তিলোত্তমা",
                        "url": "https://golpohub.com/series/rode-bheja-tilottoma"
                    },
                    "author": {
                        "@type": "Person",
                        "name": "পিনুরাম",
                        "url": "https://golpohub.com/authors/pinuram"
                    }
                },
                {
                    "@type": "BreadcrumbList",
                    "itemListElement": [
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 1,
                            "name": "Golpo Hub",
                            "item": "https://golpohub.com"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 2,
                            "name": "সিরিজসমূহ",
                            "item": "https://golpohub.com/series"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 3,
                            "name": "রোদে ভেজা তিলোত্তমা",
                            "item": "https://golpohub.com/series/rode-bheja-tilottoma"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 4,
                            "name": "গঙ্গার ঘাটে প্রথম স্পর্শ",
                            "item": "https://golpohub.com/episodes/rode-bheja-tilottoma-s1-ep6"
                        }
                    ]
                }
            ]
        }
    },
    "filters": [],
    "data": {
        "id": 1147,
        "ep_number": 6,
        "title": "গঙ্গার ঘাটে প্রথম স্পর্শ",
        "slug": "rode-bheja-tilottoma-s1-ep6",
        "url": "https://golpohub.com/episodes/rode-bheja-tilottoma-s1-ep6",
        "reading_time": 10,
        "thumbnail_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-1147-766071.webp",
        "yt_video_id": null,
        "yt_video_url": null,
        "timestamps": {
            "published_at": "2026-08-27T22:02:06+00:00",
            "updated_at": "2026-09-06T01:33:29+00:00"
        },
        "meta": {
            "word_count": 1585,
            "chapter_number": 6,
            "seo_title": "রোদে ভেজা তিলোত্তমা পর্ব ৬ - গঙ্গার ঘাটে প্রথম স্পর্শ | Rode Bheja Tilottoma Part 6",
            "seo_description": "পড়ুন রোদে ভেজা তিলোত্তমা পর্ব ৬। সাতক্ষীরার উদ্বাস্তু স্মৃতির হাহাকার এবং গঙ্গার ঘাটে পার্থ ও মধুছন্দার প্রথম চুম্বন।",
            "keywords": "রোদে ভেজা তিলোত্তমা পর্ব ৬, রোদে ভেজা তিলোত্তমা ৬, ৬ষ্ঠ পর্ব, rode bheja tilottoma porbo 6, rode bheja tilottoma part 6, rode bheja tilottoma episode 6, rode bheja tilottoma part 6 link, পার্থ, মধুছন্দা, প্রথম চুম্বন",
            "characters_involved": [
                "পার্থ",
                "মধুছন্দা"
            ]
        },
        "content": "<p>দুপুর নাগাদ কৃষ্ণনগর পৌঁছে গেলাম সেখান থেকে বাস বদল করে মায়াপুর যেতে হবে। গ্রাম্য রাস্তা দিয়ে গ্রামের লোক বোঝাই বাসে চেপে দুপুরের একটু পরেই মায়াপুর পৌছালাম। বিলিতি মন্দির তখন সম্পূর্ণ তৈরি হয়নি, ইট কাঠ বালি পাথর বোঝাই মন্দির প্রাঙ্গনে। আশেপাশে অনেক ছোট ছোট মন্দির আমাদের অবশ্য সেই সব দেখার বিশেষ বালাই ছিলো না। দুইজনে শুধু মাত্র কোলকাতার নাগপাশ ছাড়িয়ে নিভৃতে একে অপরের সান্নিধ্য খুঁজতে এসেছিলাম এই গঙ্গাবক্ষে। তাও রমণীর মন্দির দেখা চাই। শেষ পর্যন্ত নৌকায় চেপে গঙ্গা পার করে নবদ্বীপে গিয়ে নিতাই গৌরাঙ্গের মন্দির দেখা হল রিক্সায় চেপে। এই মন্দির দেখা, ঠাকুর প্রনাম করা আমার কোনোদিন পোষাতো না। বাড়িতে কালী পুজো হতো বটে, তবে সবার মান রেখে বিগ্রহের সামনে করজোড়ে বসে থাকতাম। বাঙালির পালা পার্বন প্রত্যেক মাসেই লেগে থাকে আর আমাদের বাড়ি এইসবে খুব মানে। মধুছন্দা সেই রকমের মেয়ে, যেখানে দেখল একটা মন্দির অথবা বটতলায় একটা পাথর আর কিছু ফুল রাখা, সেখানেই দাঁড়িয়ে চটি খুলে ঢিপ করে একটা প্রণাম ঠোকা ওর চাই। সেই সাথে জোর করে আমাকেও করজোড়ে দাঁড়াতে হতো ওর পাশে।</p>\n<p>মনে মনে ওর মুণ্ডপাত করতে করতে বললাম, &#8220;সবই তো এটম ইলেক্ট্রনের সমাগম, আচার্য জগদিশ চন্দ্র প্রমান করে দিয়েছেন যে গাছের প্রাণ আছে এখন বল তুই কাকে ছেড়ে কাকে প্রনাম করবি।&#8221;</p>\n<p>জনা কুড়ি মন্দিরে ঢুকে প্রনাম করে কপালে সিঁদুরের টিপ নিয়ে ওর কপাল রক্ত ললাটের মতন দেখাচ্ছিল। কিছুটা সিঁদুর ওর চশমা ওপরে আর ওর নাকের ডগায় পড়েছিলো।</p>\n<p>সেই রক্তিম আভাময় মুখ খানি নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বললো, &#8220;তোর যদি এতই সমস্যা হয় তাহলে এইখানে নিয়ে এলি কেন? অন্য কোথাও যাওয়া যেতে পারতিস, এই ধর কাকদ্বীপ, ডায়মন্ড হারবার, রায়চক যেখানে খুশি।&#8221;</p>\n<p>সত্যি বলতে জানিনা কেন মায়াপুরের কথা মনে হয়েছিলো সেদিন। তবে ওর মুখ খানি দেখে মনে হয়েছিলো যে রায়চক, ডায়মন্ড হারবার না গিয়ে মায়াপুরে এসে ওর যেন বেশি ভালো লেগেছে।</p>\n<p>বিকেলের আগেই আমাদের ফিরতে হবে। ফিরে যাওয়ার আগে গঙ্গার পাড়ে দুইজনে একটু বসে পড়লাম। পায়ের নিচে ঠাণ্ডা গঙ্গার জল ছলকে ছলকে উঠলো আর নদীর ঠাণ্ডা বাতাসে ওকে জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে করলো। কখন যেন অজান্তেই ওর হাত উঠে এলো আমার হাতের ওপরে, আমার বাম বাজু খানা নিজের হাতের মধ্যে নিয়ে বাম কাঁধে মাথা রেখে দূর চোখ রেখে কোথায় যেন হারিয়ে গেল মধুছন্দা। ওর ওই খেই হারা ভঙ্গিমা ভাঙতে বড় কষ্ট লাগলো আমার।</p>\n<p>অনেকক্ষণ না অল্পক্ষণ ঠিক নেই, অনেক দূর থেকে ভেসে আসা আওয়াজ এলো আমার কানে, &#8220;জানিস কেন ইছামতী দেখতে যাই নি।&#8221;</p>\n<p>কিছুক্ষণ চুপ থাকার পরে কাঁপা গলায় ওর বিগত দিনের কাহিনী শুনলাম, &#8220;হাসনাবাদের ওই ইছামতীর ওই পাড়ে আমাদের বাড়ি ছিলো, সাতক্ষীরার এক গ্রামে। পূর্ববঙ্গ তখন জ্বলতে শুরু করেছে দাউদাউ করে। গ্রামের পর গ্রাম রক্তে লাল হয়ে উঠেছিলো ধুসর রঙের মাটি। সত্তরের এক অঘ্রায়নের গভির রাত। একদল মানুষ গভির রাতে আমাদের গ্রামে চরাও হল। আমাদের গ্রামে * সংখ্যা যাও ছিলো, তার অনেকেই আগেই এই পাড়ে চলে এসেছিলো। কিন্তু আমাদের গ্রামের আজমল চাচা আমাদের যেতে দিল না, বাবাকে বললো যে এই মারদাঙ্গা কিছু দিনের মধ্যে ঠাণ্ডা হয়ে যাবে। কিন্তু সেই আগুন আর নেভার নাম নিল না প্রতিদিন প্রতিনিয়ত বেড়ে উঠলো। সেই রাতে আজমল চাচা আর নজরুল ভাই লাঠি নিয়ে আমাদের বাড়ির দাওয়ায় দাঁড়িয়ে। কিন্তু ওই দুষ্কৃতির দলকে রোখা গেল না। ওরা জোর করে আজমাল চাচাকে সরিয়ে দিয়ে আমাদের বাড়ি চড়াও হল। ততক্ষণে নজরুল দাদা আমার দাদাকে পিঠে নিয়ে আমাকে আর মাকে নিয়ে বাড়ির পেছন থেকে বেরিয়ে মাঠ ধরে দৌড়াতে শুরু করে দিল। আমি মায়ের কোল জাপ্টে ধরে মুখ গুঁজে পড়ে রইলাম, সুধুমাত্র দূরে হইহই মারামারির আওয়াজ শুনতে পেলাম। বাবা আমাদের সাথে আসতে পারেনি, আজমাল চাচা বাবাকে নিজের বাড়িতে ধানের গোলায় লুকিয়ে রেখেছিলো। অনেক কষ্টে রেল স্টেশানে পৌঁছে দিয়েছিলো নজরুল ভাইজান। তারপরে ট্রেনে করে শিয়ালদা। তিনদিন তিনরাত পেটে এক দানা পড়েনি, শুধু মাত্র কলের জল ছাড়া।&#8221;</p>\n<p>ওর কথা শুনতে শুনতে আমার গলা শুকিয়ে গেল। আমি বড় হয়েছি প্রাচুর্যে, জন্মের পর থেকে সাদা ধবধবে নরম বিছানা আমার জন্য অপেক্ষা করেছে। নিজে হাতে খেতে শিখেছি অনেক পরে, অনেক দিন পর্যন্ত বড়দি খাইয়ে দিত। রাতের খাওয়ার পরে শেষ পাতে মিষ্টি না হলে আমার খাওয়া শেষ হতো না, সেই জন্য কাকা রোজ দিন অফিস ফেরত রসগোল্লা নিয়ে আসতো আমাদের সবার জন্য।</p>\n<p>কাঁপা কণ্ঠে মধুছন্দা ওর গল্প বলে চলল, &#8220;চারদিনের দিন ওই খালি পেটে দাদা কয়েক বস্তা মাল বয়ে চার আনা নিয়ে এলো, সেই চার আনায় এক খুড়ি মুরি আর একটু গুড় খেয়ে কাটালাম আমরা। ওই শিয়ালদা স্টেশানে আমাদের মতন অনেকেই ছিলো, বানের জলে ভেসে আসার মতন বর্ডার থেকে যত ট্রেন আসত সব ট্রেনে গরু ভেড়া খেদানোর মতন মানুষে ভর্তি। কারুর মাথা ফেটে গেছে, কারুর বাবা মারা গেছে, কারুর মা বোনের সাথে জোর জবরদস্তি করা হয়েছে। সব মানুষ ভিটে ছাড়া উদ্বাস্তু। সাতদিনের দিন একটা ট্রেনে চেপে আমার বাবা শিয়ালদা পৌছাল। বাবাকে দেখে সেকি আনন্দ, হাতে যেন চাঁদ পেয়ে গেলাম। তারপরে শুরু হল কঠিন জীবন যাত্রা, কোথায় যাই কোথায় ঠাঁই পাবো তার কোন ঠিকানা নেই। স্টেশানের পাশের একটা ক্যাম্পে আমাদের ঠাই হল। রোজ সকালে দাদাকে নিয়ে বেড়িয়ে যেত বাবা, সন্ধ্যে হলে কিছু না কিছু কিনে আনত খাবার জন্য। যা কিছু ছিলো সব এক রাতে খুইয়ে চলে এসেছিলাম তবে আজমাল চাচা বাবাকে বলেছিলো যে দাঙ্গা শেষ হলে ফিরে আসতে। কিন্তু ফিরে আর যাওয়া হলো না আমাদের ভিটে মাটি সাতক্ষীরায়।&#8221;</p>\n<p>আমি ওর কাঁধের ওপরে হাত রাখতেই আমার দিকে সরে এলো, কাঁধে ওপরে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করে বসে রইলো কিছুক্ষণ। সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা খুঁজতে চেষ্টা করলাম কিছুক্ষণ ধরে। নির্জন এই গঙ্গাবক্ষে ওকে এই প্রশস্ত বুকের মাঝে লুকিয়ে ফেলতে বড় ইচ্ছে করলো।</p>\n<p>আমি ওকে সান্তনা দিয়ে বললাম, &#8220;ছাড় ওই সব কথা, অন্য কিছু বল।&#8221;</p>\n<p>চশমা খুলে চোখের কোল মুছে আমাকে বললো, &#8220;তোদের সবার ক্ষোভ যে আমি চুপচাপ থাকি বেশি কথা বলি না। কাকে কি বলব বল? এতদিন চুপচাপ ছিলাম আর চুপ করেই থাকতাম যদি তুই না এসে আমাকে নাড়িয়ে দিতিস।&#8221;</p>\n<p>ওর মাথার ঘন কালো চুলে নাক ডুবিয়ে একটু ঘষে আলতো চুমু খেয়ে বললাম, &#8220;আমি আছি তোর পাশে তুই এত চিন্তা করিস না সব ঠিক হয়ে যাবে।&#8221;</p>\n<p>আমার হাত খানি বুকের কাছে নিবিড় করে জড়িয়ে ধরে নাক ঘষে বললো, &#8220;আমার সব থেকে বড় ভয় সেখানেই। শুকনো বালির মতন যেটাকে আঁকড়ে ধরতে যাই তাই আঙ্গুলের ফাঁকা দিয়ে পিছলে যায়।&#8221;</p>\n<p>আমি ওকে বললাম, &#8220;কেন এইসব উল্টো পালটা চিন্তা ভাবনা করছিস? বাড়ি ফেরার ইচ্ছে আছে না নেই।&#8221;</p>\n<p>আমি মজা করে বলিনি, অথবা আমার কোন শয়তানি অভিপ্রায় ছিলো না ওই বার্তার মধ্যে। কিন্তু মধুছন্দা চোখ মুছে দুষ্টুমি ভরা হাসি নিয়ে তাকিয়ে বললো, &#8220;এতো তাড়াতাড়ি এক সাথে রাত কাটাবার ইচ্ছে নাকি শয়তান ছেলে?&#8221; দুম করে বুকের ওপরে একটা কিল বসিয়ে দিয়ে বললো, &#8220;ধরতে এলে কিন্তু কামড়ে দেব তোকে!&#8221;</p>\n<p>আমি ওকে জড়িয়ে ধরতে যেতেই হাত ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে খিলখিল করে হেসে দিল। সাথে সাথে আমিও উঠে ওর হাত ধরে ফেললাম, &#8220;পালাবি কোথায় এখানে আমি আর তুই ছাড়া আর কেউ নেই?&#8221;</p>\n<p>লজ্জায় লাল হয়ে গেল ওর ফর্সা গোল মুখ। হাত ছাড়ানোর দুর্বল প্রচেষ্টা চালিয়ে গেল কিছুক্ষণ কিন্তু ততক্ষণে ওকে বুকের কাছে টেনে নিয়ে এলাম। মিহি কণ্ঠে বারেবারে বলতে লাগলো, &#8220;প্লিস ছেড়ে দে।&#8221;</p>\n<p>আমার শরীরের সহস্র ধমনীতে রক্তের মাতন লেগেছে, সেই সাথে মধুছন্দার তপ্ত শ্বাসের ঢেউয়ে আমার বুক ভেসে যাচ্ছে। ডান হাতে ওর পাতলা নরম কোমর জড়িয়ে নিবিড় করে কাছে টেনে নিলাম। শরীরের সাথে শরীর মিশে গেল, বুকের ওপরে পিষে গেল দুই নরম কুঁচ। ধীরে ধীরে মুখ নামিয়ে আনলাম ওর মুখ মন্ডলের কাছে। চশমার পেছনে দুই চোখ শক্ত করে বন্ধ করে নিচের দিকে তাকিয়ে রইলো। ওর সারা শরীর উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, আমার বাহু পাশে ছটফট করে চলেছে এক সর্পিল কন্যে। আমি তর্জনী দিয়ে ওর থুঁতনি ছুঁয়ে আমার দিকে ওর মুখ উঠিয়ে আনলাম। ওর লাল নরম ঠোঁট জোড়া তিরতির করে কাঁপতে শুরু করে দিল আসন্ন অধর মিলনের আশঙ্কায়। ঠোঁট জোড়া ছুঁতেই ওর ঠোঁট খুলে গেল। ওর হাত উঠে এলো আমার জামার কলারে, প্রাণপণ শক্তি দিয়ে আমার জামার কলার খামচে ধরলো। আর সেই সাথে আমাদের দুই জোড়া ঠোঁট মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল। এই গঙ্গাবক্ষ আমাদের এই মিলনের সাক্ষী হয়ে রইলো আদি অনন্ত কালের জন্য।</p>\n<p>বাকি সারাটা রাস্তা ওর মুখ দিয়ে কোন বুলি ফুটলো না। বাসে উঠে আমার হাত খানা কোলের কাছে শক্ত করে জড়িয়ে ঘুমিয়ে পড়লো। এক বারের জন্য আমার দিকে চেয়ে তাকালো না। বুঝতে বাকি রইলো না যে লজ্জায় আর আমার দিকে তাকানোর শক্তি নেই। বাস থেকে নেমে আবার বাসে চেপে ওর বাড়ি পর্যন্ত গেলাম, ততক্ষণে রাত ঘনিয়ে এসেছে কোলকাতার বুকে। এবারে আর বাস স্টান্ড নয়, হাঁটতে হাঁটতে ওদের পাড়ার গলির মুখ পর্যন্ত চলে গেলাম। পাশাপাশি হেঁটে ছিলাম তবে হাত ধরতে পারিনি। গলির মুখে এসে আধো আলো আধো অন্ধকারে আমার মুখের দিকে তাকালো। সারা মুখে রক্তিম প্রেমের আভা সেই অন্ধকার ম্লান করে দিল।</p>\n<p>আমার হাতের ওপরে চিমটি কেটে বললো, &#8220;কামড়াতে পারলাম না তাই চিমটি কেটে শোধ নিলাম।&#8221;</p>\n<p>চিমটি খেয়ে সম্বিত ফিরলো। না, যা হয়েচে সেটা সত্যি সত্যি হয়েছে, কোন স্বপ্ন নয়, &#8220;উরি বাঃবা, এই ভাবে কেউ চিমটি কাটে নাকি? এক কেজি মাংস তুলে নিলি যে?&#8221;</p>\n<p>কাছে এসে মিহি কণ্ঠে বললো, &#8220;আর তুই আমার সম্মতি না নিয়ে কি করে দিয়েছিস সেটার কি হবে?&#8221;</p>\n<p>ওর হাত টেনে কাছে আনতে যাবো, কিন্তু সর্ব সমক্ষে সেটা করা ভীষণ বিপদ, তাই একটু তফাতে দাঁড়িয়েই বললাম, &#8220;এই চিমটির দাম তোর কাছ থেকে সুদে আসলে উসুল করব কিন্তু।&#8221;</p>\n<p>দুষ্টু মিষ্টি অনুরাগ দেখিয়ে বললো, &#8220;এর পরে আসিস, সত্যি যদি না কামড়িয়েছি তাহলে আমার নাম বদলে নিস।&#8221;</p>\n<p>আমিও কম গেলাম না, &#8220;এখুনি নাম বদলাতে রাজি, ছন্দা।&#8221;</p>\n<p>নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরে লজ্জা সংবরণ করে বললো, &#8220;অনেক হয়েছে, এবারে বাড়ি যা। পয়সা আছে না দিতে হবে?&#8221;</p>\n<p>আমি মিচকি হেসে জবাব দিলাম, &#8220;না না আছে।&#8221;</p>\n<p>ছেড়ে যেতে কিছুতেই ইচ্ছে করছিলো না আমার, তাও রাতের গভীরতা দেখে আমাকে বললো, &#8220;আমি আসি তাহলে।&#8221;</p>\n<p>আমি ওইখানে দাঁড়িয়ে রইলাম যতক্ষণ না বাড়ির গেট খুলে বাড়ির মধ্যে ঢুকে গেল। বাড়ি ফিরলাম এক ঘোরের মধ্যে, চারপাশের সব কিছু কেমন রঙ্গীন, রাস্তার বিজলী বাতি সেদিন যেন বেশি করে জ্বলছে, আশেপাশের সব মানুষ বেশ খুশি, এই পৃথিবীতে দুঃখ কষ্ট যেন সব উধাও হয়ে গেছে। সেই রাতে আমার আর ঘুম হল না, তিন তলার আমার ঘরের জানালা দিয়ে আকাশ দেখে কাটালাম আর খোলা চোখে দেখলাম এই সুন্দরী জলপরীকে। পরের দুই দিন আমার সাথে ঠিক ভাবে কথা পর্যন্ত বলেনি ছন্দা। কালো ভ্রমরের মতন ওর পেছনে লেগে ছিলাম কিন্তু মুখের বুলি ফুটাতে পারিনি।</p>\n<p>দুই দিন পরে আমাকে জানিয়েছিলো যে সেই রাতে ওর ঘুম হয়নি। সারা রাত জেগে আকাশের তারা গুনেছিলো।</p>",
        "series": {
            "id": 25,
            "title": "রোদে ভেজা তিলোত্তমা",
            "slug": "rode-bheja-tilottoma",
            "url": "https://golpohub.com/series/rode-bheja-tilottoma",
            "thumbnail_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/series-rode-veja-tilottma-25-56697e.webp",
            "progress_status": "completed"
        },
        "author": {
            "id": 22,
            "name": "পিনুরাম",
            "slug": "pinuram",
            "url": "https://golpohub.com/authors/pinuram",
            "avatar_url": "https://cdn.golpohub.com/avatars/pinuram-22-995484.webp",
            "bio": "পিনুরাম বাংলা কথাসাহিত্যের এক সংবেদনশীল ও মননশীল রূপকার। মানবজীবনের টানাপোড়েন, দায়িত্ববোধের কঠিন আত্মত্যাগ এবং সামাজিক শৃঙ্খলের ভেতর লুকিয়ে থাকা সূক্ষ্ম অনুভূতির রূপায়ণে তাঁর লেখনী অনন্য। তাঁর চরিত্ররা আবেগতাড়িত ভুলের ভেতর দিয়ে হেঁটে এসে অবশেষে গভীর আত্মোপলব্ধি ও দায়িত্বশীল মানবিকতায় পূর্ণতা পায়। বাস্তব জীবনের জটিল মনস্তত্ত্ব ও আত্মশুদ্ধির মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা তাঁর গল্পগুলো পাঠকদের চিত্তে শুভ ও ইতিবাচক চেতনার বিস্তার ঘটায়।",
            "series_count": 0,
            "meta": {
                "bio": "পিনুরাম বাংলা কথাসাহিত্যের এক সংবেদনশীল ও মননশীল রূপকার। মানবজীবনের টানাপোড়েন, দায়িত্ববোধের কঠিন আত্মত্যাগ এবং সামাজিক শৃঙ্খলের ভেতর লুকিয়ে থাকা সূক্ষ্ম অনুভূতির রূপায়ণে তাঁর লেখনী অনন্য। তাঁর চরিত্ররা আবেগতাড়িত ভুলের ভেতর দিয়ে হেঁটে এসে অবশেষে গভীর আত্মোপলব্ধি ও দায়িত্বশীল মানবিকতায় পূর্ণতা পায়। বাস্তব জীবনের জটিল মনস্তত্ত্ব ও আত্মশুদ্ধির মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা তাঁর গল্পগুলো পাঠকদের চিত্তে শুভ ও ইতিবাচক চেতনার বিস্তার ঘটায়।",
                "phone": null,
                "gender": "male",
                "address": {
                    "country": "India"
                },
                "birth_date": null,
                "social_links": [],
                "pen_name": "পিনুরাম",
                "aliases": [
                    "Pinuram",
                    "Pinu Ram"
                ]
            },
            "timestamps": {
                "created_at": null,
                "updated_at": null
            }
        },
        "navigation": {
            "previous_episode": {
                "id": 1146,
                "ep_number": 5,
                "title": "মায়াপুরের অচেনা ডাক",
                "slug": "rode-bheja-tilottoma-s1-ep5",
                "url": "https://golpohub.com/episodes/rode-bheja-tilottoma-s1-ep5",
                "thumbnail_url": "https://golpohub.com/assets/images/og.jpg"
            },
            "next_episode": {
                "id": 1148,
                "ep_number": 7,
                "title": "বোধনের আলোয় গোপন আঁধার",
                "slug": "rode-bheja-tilottoma-s1-ep7",
                "url": "https://golpohub.com/episodes/rode-bheja-tilottoma-s1-ep7",
                "thumbnail_url": "https://golpohub.com/assets/images/og.jpg"
            }
        }
    }
}