> **বিকল্প ফরম্যাটসমূহ:** [এইচটিএমএল](https://golpohub.com/episodes/romantic-ottachar-s2-ep19) | [জেসন](https://golpohub.com/episodes/romantic-ottachar-s2-ep19?format=json) | [আরএসএস ফিড](https://golpohub.com/episodes/romantic-ottachar-s2-ep19?format=rss) | [অ্যাটম ফিড](https://golpohub.com/episodes/romantic-ottachar-s2-ep19?format=atom)

# বিচ্ছেদের বিষবাষ্প

![বিচ্ছেদের বিষবাষ্প](https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-chapter-2336-e9ebf3.webp)

---
*[ইসরাত জাহান](https://golpohub.com/authors/israt-jahan)-এর [রোমান্টিক অত্যাচার](https://golpohub.com/series/romantic-ottachar) সিরিজ থেকে*\n*আনুমানিক পড়ার সময়: 11 মিনিট*
- **মোট শব্দ:** 1,719
- **প্রকাশিত:** Sep 12, 2026
---

আশফি রেগে গিয়ে মাহিকে খুব জোড়ে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিল।মাহি ছিটকে বিছানার উপরেই পড়লো।আর আশফি বিছানা থেকে উঠে দাড়িয়ে মাহিকে বিছানার উপর থেকে নামিয়ে ওকে রুমের বাইরে বের করে দিল। মাহি ভালো খারাপ কিছু বলার আগেই আশফি দরজাটা বন্ধ করে দিল।মাহির পৃথিবীটা যেন ওখানেই থমকে গেল,এমন একটা অবস্থা।নিরব হয়ে দরজার সামনে দাড়িয়ে কিছুক্ষণ চোখের পানি ফেলল।ও ভাবছে, -“এই কি আমার সেই আশফিটা?যার হৃদয় এতোটা কঠোর ছিলনা আমার প্রতি,যে কখনোই তার মাহিকে চোখের আড়াল হতে দিতনা।মাত্র ১০ দিনে সেদিনকার আশফি আর আজকের আশফির আকাশ পাতাল ব্যবধান।আমি বেঁচে থাকতে ওর থেকে এতোটা অবহেলা সহ্য করতে পারবোনা।কিন্তু মরে গেলে যে ওর আর আমার মেয়েটার মুখটাও কখনো দেখতে পাবোনা। এইসব ভাবতে ভাবতে মাহি ওর বেডরুমে চলে গেল।অন্ধকার রুমে বিছানার উপরে চুপটি করে বসে পড়লো।আর ওদিকে আশফির কিছুটা সংযত হওয়ার পর ও এখন টের পেল যে রাগের বশে মাহির সাথে ও কি করেছে? -“আমার দ্বারা আজকে এটাও সম্ভব হলো? কুকুরের মত ট্রিট করলাম ওকে আজ।যার স্থান আমার মনের সবথেকে গভীরে ছিল।যাকে ছাড়া আমার একটা দিনও বেঁচে থাকা অসম্ভব। আর আজ এতোগুলো দিন আমি তার থেকে আলাদা ঘরে বাস করছি।যার ভালোবাসা পাওয়ার জন্য তাকে কাছে পাওয়ার জন্য আমি নোংরা কাজ করতেও বাধ্য হয়েছি আর আজ সে আমার এতো কাছে আছে আমাকে এতো ভালোবাসছে তবুও তাকে আমি দূরে সরিয়ে দিচ্ছি,বহুদূরে।আবার নিজেও তার কাছে যেতে পারছিনা।মানতে পারছিনা আমি সেদিনকার পরিস্থিতি গুলো।উফ এতোটা যন্ত্রণাদায়ক এই সময়গুলো।কি করছি আমি? না পারছি ওকে দূরে সরিয়ে দিতে আর না পারছি কাছে টানতে।ওকে নিয়ে এতোটা সংকটময় অবস্থাতে আমাকে পড়তে হবে তা আমার চিন্তার বাইরে ছিল।যেকোনো একটা সিদ্ধান্তে আমাকে পৌঁছাতে হবে।দূরে চলে যাব ওর থেকে।না না,অসম্ভব।এটা আমি কি ভাবছি।পারবোনা,আমি বেঁচে থাকতে সেটা কোনোদিনও পারবোনা।কিন্তু আমার মনের শান্তির প্রয়োজন।আমি আর পারছিনা ওর সাথে এভাবে চলতে।ও কতোটা কষ্টে আছে জানিনা তবে তার থেকেও শতগুণ বেশি কষ্ট পাচ্ছি আমি।সবথেকে আপন মানুষটিকে দূরে সরিয়ে রাখা কি যে কষ্টের! তারপর আশফি ভেবেচিন্তে একটা সিদ্ধান্তে আসলো।সিদ্ধান্তটা হল আশফি কিছুদিন মাহির থেকে আর এই বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে গিয়ে থাকবে।কিছুদিন মাহির থেকে দূরে থাকলে মাহির প্রতি টান অনুভব করবে।মনের ভেতরে একটা শূণ্যতার সৃষ্টি হবে ওর।তখন আর পারবেনা মাহির থেকে দূরে সরে থাকতে।কিন্তু ও এটাও ভাবছে চান্দুকে না দেখে ও কতদিন থাকতে পারবে?পরেরদিন সকালবেলা আশফি নাস্তার টেবিলে, -“তুমি সার্ভ করছো যে?তোমার ম্যাম কি করছে? সার্ভেন্টকে উদ্দেশ্য করে আশফি কথা বলল। সার্ভেন্ট তার উত্তরে বলল, -“ম্যাম আজ সকালে রুমের বাইরে বের হয়নি। আশফি সকালের নাস্তা না করেই অফিসে চলে গেল।আসলে ভালোবাসা জিনিসটাই একটা অভ্যাস।সেখানে ভালোবাসার মানুষটার কেয়ারনেস,তার কথা, তার সাথে উঠাবসা,প্রতিদিন তার মুখটা দেখা এগুলোও একটা মানুষের অভ্যাসে রূপ নেয়।আর এগুলোর একদিন তার ব্যতিক্রম হলে সেই দুটো মানুষের মাঝেই একটা দূরত্বের সৃষ্টি হয়ে যায়।অফিসে যাওয়ার ঘন্টা দুই পর বাসা থেকে আশফির ফোনে কল গেল। -“হ্যালো,স্যার? -“হুম বলো।কি হয়েছে? -“স্যার! ম্যাম বাসা থেকে বেরিয়ে গেছে। -“কোথায় বেরিয়ে গেছে?আর কখন? -“মাত্রই সে বাবুসোনাকে নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে গেল।সাথে কোনো গাড়ি নেইনি। -“গাড়ি নেইনি মানে?গার্ড কোথায়?ওরা ওর সাথে যাইনি? -“না স্যার।উনি কাউকে ওনার সাথে যেতে দেইনি।মনে হচ্ছে উনি এ বাসা ছেড়ে চলে গেল। ব্যাপারটা আশফির ও বুঝতে বাকি নেই যে মাহি বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে।আশফির এই ব্যাপারগুলো খুবই অপছন্দনীয়।ও ভাবে স্বামী-স্ত্রীর দুজনের মাঝে যাই হোক কিন্তু তাতে বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়া বা তার সাথে না থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া এমনধরনের জিনিসগুলো একদমই অযৌক্তিক।সেটা খুবই বাজে আর চিপ মাইন্ডের বিষয় বলে মনে হয় ওর কাছে।মাহির এই কাজে আশফি চিন্তিত না হয়ে উল্টে আরো রেগে গেলো।আশফি গার্ডগুলোকে ফোন করে বলে দিল মাহিকে খুঁজতে করতে।মাহি ঠিক কোথায় গিয়ে থাকে সেটা ওকে জানাতে বলল গার্ডগুলোকে। কিছুক্ষণ পর গার্ডগুলো আশফিকে জানালো এই শহরেই একটা এ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া করেছে মাহি। সেখানেই আশনূহাকে নিয়ে থাকবে। আশফি শুনে ফোনটা আছাড় মেড়ে দিল। -“ছিহ্ এতোটা ন্যারো মাইন্ডেড তুমি? তোমার সাথে যে ঠিক কি করা উচিত সেটা আমি ভেবে পাচ্ছিনা। অফিস থেকে বেরিয়ে আশফি সোজা মাহির কাছে গেল।তখন মাহি আশনূহাকে ঘুম পাড়াচ্ছিল আর আশনূহা শুধু একানাগাড়ে কেঁদেই চলেছিল। প্রতিরাতে বাবার কোলে চড়ে ঘুমিয়ে পড়ার অভ্যাস।বাবার মুখটা খুব ভালোভাবেই চিনে নিয়েছে আশনূহা।আশফি যখন ঘরে ঢুকলো মাহি তো কিছুটা আশার আলো দেখলো।হয়তো আজকে আশফি মাহিকে আগের মত কাছে টেনে নিবে।কিন্তু আশফি যে রেগে আছে তা মাহি খুব ভালোভাবেই বুঝলো ওর চোখ দেখে। তারপরেও মাহির মনটা খুশি খুশি লাগছে যে আশফি ওকে নিতে এসেছে। আশফি মাহির কাছে গিয়ে দাড়ালো।ওকে বলল, -“তোমাকে বলা বা করার মত আমার আর কিছুই নেই।তবে আমার মেয়েকে নিয়ে আমার অনেক কিছু করার আছে। -“কি করতে চাইছ তুমি?আর কেনো এসেছো? -“কেনো এসেছি তা তো এখন দেখতেই পাবে। আশফি মাহিকে আর একটা কথাও না বলে মাহির কোল থেকে আশনূহাকে(চান্দু) নিয়ে নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে যেতে গেল। -“আশফি?এটা কি করছো তুমি?দাড়াও বলছি। -“দাড়িয়ে থাকার মত সময় আমার নেই। আর আমার মেয়ে নিঃশ্ব বা এতিম নয় যে তাকে বাসা ভাড়া করে থাকতে হবে।তোমার থাকার হলে তুমি থাকতে পারো। -“স্টপ ইট আশফি।তুমি কি ম্যাড হয়ে গেছো?ও আমাকে ছাড়া কি করে থাকতে পারবে?ওর এখন বাবাকে নয় মাকে প্রয়োজন। -“আল্লাহ্ পাক সহায় থাকলে মায়ের প্রয়োজনটাও মিটিয়ে নিব। -“তোমার বোধবুদ্ধি সত্যি লোপ পেয়েছে।তুমি কি জেনে শুনে ইচ্ছা করে আমার মেয়ের ক্ষতি করতে চাইছো?ওর এখন মাকে প্রয়োজন মায়ের থেকে খাবার প্রয়োজন।সেটা তুমি কিভাবে দিবে?কিভাবে থাকবে ও আমাকে ছাড়া? -“যেভাবে ছিল ঐ রাত। -“মানে? -“ঐ রাত ও ওর মায়ের সংস্পর্শ ছাড়াই ছিল। ঠিক সেভাবেই ও থাকবে আমার কাছে। কথাগুলো বলেই আশফি ওর মেয়েকে নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে গেল।পিছু থেকে মাহি ওকে অনেকবার ডাকলো ওকে আটকানোর চেষ্টা করলো কিন্তু পারলোনা।মাহি যেন এবার সত্যি মরে যাবে এমন অবস্থা ওর।মাহি একবার ভাবছে ও ফিরে যাবে ওর বাড়িতে আবার ভাবছে না, ও কেনো যাবে?ওকে তো আশফি চাইনা।আশফি শুধু ওর মেয়েকে চাই। তাইতো শুধু ও এসে ওর মেয়েকে নিয়ে চলে গেল।একবার ও মাহিকে ওর সাথে যাওয়ার কথা বললোনা। বললোনা “মাহি আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবোনা।তোমাকে আমার প্রয়োজন।তুমি ফিরে চল আমার সাথে।”এইভাবেই মাহি চিন্তা করছিল। মাঝখানে তিনটাদিন অতিক্রান্ত হয়ে গেল। এর মাঝে আশফি মাহিকে একটা ফোন ও করেনি। কিন্তু আশফি মাহির খোঁজটা হয়তো ওর গার্ডগুলোকে দিয়ে সংগ্রহ করে।আশফি দেখতে চাই ঠিক কতদিন মাহি ওদেরকে ছেড়ে একা থাকতে পারে।আর আশনূহাকে আশফি সবসময় নিজের কাছে নিজের চোখের সামনে রাখে।বাসায় যতটুকু টাইম থাকে ততটুকু টাইম আশফি আশনূহার টেক কেয়ার করে। আর অফিসে গেলেও আশনূহাকে সাথে নিয়েই ও অফিসে যায়।সাথে একজন গভরনেস রাখে।অফিসের সময়টুকু গভরনেস হেল্প করে আশনূহাকে সামলাতে।আশফি কনফারেন্স রুমে যাবে মিটিং এ বসার জন্য। কনফারেন্স রুমে গিয়ে মিটিং শুরু করবে এমন সময় সেক্রেটারি এসে বলল, -“স্যার মিটিং টা একটু পরে শুরু করুন। -“কেনো?পরে শুরু হবে কেনো? মিটিং তো এই টাইমেই শুরু হওয়ার কথা ছিল।আর সবাই তো এখানে এ্যাটেন্ড আছে। -“স্যার সবাই এ্যাটেন্ড নেই।আজকে আমাদের কোম্পানির চেয়ারম্যান আসবে। -“চেয়ারম্যান? -“গতকাল আপনি অফিস থেকে বাসায় চলে যাওয়ার ওনার ফোন এসেছিল আমার কাছে। আজ থেকে উনি রেগুলার অফিস জয়েন করবে। আশফি আর কোনো কথা বললোনা।ও বুঝতে পেরেছে আজ থেকে অফিসে কে জয়েন করছে। চেয়ারম্যান এর সিট ছেড়ে ও তার পাশের সিটে গিয়ে বসলো।পাঁচ মিনিট পরই রুমে চেয়ারম্যান প্রবেশ করলো।সেক্রেটারি সহ সকর কর্মকর্তা তাকে অভিবাদন জানালো। -“গুড মর্নিং চেয়ারম্যান। -গুড মর্নিং এভরিবডি।আপনারা আপনার আসন গ্রহণ করুন। চেয়ারম্যান তার সিট গ্রহণ করতে গিয়ে আশফির দিকে তাকালো।আশফি চেয়ারম্যান কে কোনো স্বাগতম জানাইনি। তার দিকে একবার তাকাইওনি।সামনে রাখা পিসির দিকে চেয়ে বসে আছে।মিটিং শেষ করে আশফি আশফির চেম্বারে গিয়ে বসলো। আশনূহাকে নিয়ে গভরনেস ওর চেম্বারেই ছিল।আশফি ওর মেয়েকে কোলে করে অফিসের বাইরের দৃশ্য দেখাচ্ছে জানালার কাছে দাড়িয়ে।এমন সময় চেম্বারে চেয়ারম্যান ঢুকল।আশফি পিছু ঘুরে তাকে দেখে গভরনেস এর কাছে আশনূহাকে দিয়ে বলল, -“আপনি ওকে নিয়ে অফিসের বাগান থেকে ঘুরে আসুন। -“ওকে স্যার। -“প্লিজ টেক ইয়োর সিট মাহি চৌধুরী।সরি চেয়ারম্যান। -“ইটস অলরাইট।ভালোই লাগছে চেম্বারটাকেও নিজের বাড়ি করে তুলেছেন। -“হুম।একজন বাবা হওয়া মানে শুধু অর্থ উপার্জন করা নয়।তার সন্তানকে যথাযথ সময় দেওয়া,তাকে দেখাশোনা করা। -“সুন্দর।খুবই ভালো লাগলো। মাহি গিয়ে চেম্বারে রাখা সোফার উপর বসলো।আশফি টেবিলের সাথে হালকা বসা অবস্থার মত হেলান দিয়ে দাড়িয়ে রইলো। মাহির দিকে চেয়ে আছে। -“ফরমাল ড্রেসআপে মাহিকে বেশ অন্যরকম সুন্দর লাগছে।ভালোই মানিয়েছে ওকে। তো চেয়ারম্যান কি খাবেন আপনি? -“অলরেডি কফি রাখা আছে এখানে। -“ওটা হট কফি। -“সো হোয়াট?আমি এটাই খাবো। -“ওয়াও গ্রেট।মাত্র তিনদিনেই অভ্যাসের পরিবর্তন।ড্রেসআপ,চাইনিজ হেয়ার কাটিং,লুক অল আর এক্সেলেন্ট। -“খুবই খুশি হলাম আপনার প্রশংসায়। -“আমি আনন্দিত। -“অফিসের লাভ ক্ষতির হিসাব নিকাশটা আগে আমাকে বুঝিয়ে দিন। -“সে তো অবশ্যই। আশফি একগাদা ফাইল নিয়ে এসে মাহির সামনে বসলো।আশফির কাছে মাহির এভাবে আগমনটা প্রথমদিকে অবাক লাগলেও এখন ও বিষয়টাকে স্বাভাবিক করেই নিয়েছে। কিন্তু এভাবে মাহির ব্যাক করার উদ্দেশ্যটা আশফি এখনো বুঝে উঠতে পারেনি। -“এখন এটুকু পর্যন্তই থাক।বাকি হিসাবগুলো আবার পরে বুঝিয়ে দিব। -“কেনো?এখন কি প্রবলেম। -“আমাকে আমার মেয়ের কাছে একবার যেতে হবে।অনেকক্ষণ ও গভরনেসের কাছে রয়েছে। -“মায়ের থেকে আলাদা করে গভরনেসের দায়িত্বে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। -“কি বললে? তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে কথাগুলো কিছুটা আস্তে করেই বলল মাহি।কিন্তু কথাগুলো খুব স্পষ্টভাবেই আশফির কানে পৌঁছালো। -“নাথিং।ইউ হ্যাভ টু গো।বাট অনলি ফর ফিফটিন মিনিটস। -“হোয়াট? -“ইয়াহ্।আমার হিসাবগুলো আজকেই চাই। অফিস আওয়ার ওভার হয়ে গেলেও। আশফি মাহিকে কিছু বলতে গিয়েও পারলোনা বলতে।কারণ এটা তো অফিস।আর তাছাড়া মাহির আবদারগুলো আশফি খুব সহজে ফেলে দিতে পারেনা।কিন্তু এখন ওদের মাঝে সম্পর্কটা যেভাবে বিস্তার করছে তাতে কে কতক্ষণ কার আবদারগুলো রাখতে পারবে তা ওরা নিজেরাও জানেনা।তবে আশফির উপর এখনো মাহির আত্মবিশ্বাসটা একটু বেশি। এখনো ও আশফিকে আগের আশফি বলেই মনে করে।আর তা যদি নাও হয়ে থাকে ওকে ও সাবেক আশফিতে পরিণত করবে।আশফি ওর মেয়েকে মাহির ধারের কাছেও নিয়ে আসছেনা।কারণ ও চাই মাহি ব্যাকুল হোক আশনূহাকে একবার কাছে নেওয়ার জন্য। ব্যাকুল হয়ে ও নিজে ফিরে আসুক ওর কাছে। আশফি লাঞ্চ টাইমে ওর চেম্বারে বসে মাহির সাথে কথা বলছে, -“এখন তো লাঞ্চ টাইম। -“আপনি আপনার লাঞ্চটা করে নিন।আমি ওয়েট করছি। মাহি কথাটা বলে ফোন টিপতে ব্যাস্ত হয়ে পড়লো। -“আমি আপনার লাঞ্চের কথা জিজ্ঞেস করছি। -“আমার লাঞ্চ নিয়ে আপনাকে চিন্তিত হতে হবেনা।আপনারটা আপনি করুন। ফোন টিপতে টিপতে মাহি উ্রঠে জানালার কাছে গিয়ে দাড়ালো।মাহি মনে মনে আসলেই ব্যাকুল হয়ে পড়েছে আশনূহাকে একবার নিজের কাছে নেওয়ার জন্য।কিন্তু আশফির সামনে সেটা প্রকাশ করছেনা। আশফি মনে মনে বলছে, -“পরিস্থিতিটা আগের মত হলে কে কার চিন্তা করবে সেটা বুঝিয়ে দিতাম।শুধুমাত্র তোমার দায়িত্বজ্ঞানহীনতার জন্য তোমাকে এমন একটা শাস্তি দেওয়া।কিন্তু তুমি যে দিনে দিনে কতোটা জেদী হয়ে উঠছো তা আমি দেখে একটু অবাকই হচ্ছি।তোমার সমস্যাটা একটা জায়গায়।যেখানে যা করা উচিত তুমি সেখানে তা না করে তার উল্টোটা করো।সবকিছু স্বাভাবিক করে নিতে হয়তো আমার একটু সময় লাগছিল।তুমি সেই ব্যাপারটা না বুঝেই একটা বিশ্রি লো মাইন্ডের কাজ করে বসলে। বাড়ি ছেড়ে একটা ভাড়া বাড়িতে গিয়ে উঠলে। -“পিছু ঘুরে দেখি আশফি খাবারটা না খেয়ে আমার দিকে চেয়ে আছে।আমি তাকানোর পরও চোখটা সরাচ্ছেনা।ও যে কিছু বলতে চাইছে তা আমি বুঝতে পারছি।আমি ওকে বললাম, -“কিছু বলতে চাইছেন? -“হুম।এখানে বসুন লাঞ্চটা করে নিন। মাহি আশফির সামনে গিয়ে নিচু স্বরে বলল, -“এটা অফিস।নিজের গন্ডির মাঝে থাকুন। এমন একটা কথা মাহি বলবে সেটা ও ভাবতে পারেনি।চোখে অলরেডি রাগের ছায়া দেখা দিয়েছে।আশফি উঠে চেম্বারের দরজাটা লক করে দিল।তারপর খাবারটা খুলে সেখান কিছুটা খাবার নিয়ে মাহির কাছে গিয়ে এক হাত দিয়ে ওর কোমড় টেনে ধরলো।মাহি কিছু বলতে যাওয়ার আগেই ওর মুখের মধ্যে খাবারটা পুড়ে দিল।আর তারপর মাহির মুখে ওর মুখ লাগিয়ে মাহির মুখের ভেতর থেকেই কিছু অংশ খাবার খেয়ে নিল।মুখটা মুছে আশফি মাহিকে বলল, -“আমার গন্ডিটা কতদূর পর্যন্ত এবার দেখতে পেয়েছো?তোমার ব্যাপারে আমার গন্ডিটা যে কোনো জায়গায় ডিসার্ভ করে।হোক সেটা অফিস।

---

[<< পূর্ববর্তী অধ্যায়](https://golpohub.com/episodes/romantic-ottachar-s2-ep18) | [সিরিজ সূচি](https://golpohub.com/series/romantic-ottachar) | [পরবর্তী অধ্যায় >>](https://golpohub.com/episodes/romantic-ottachar-s2-ep20)