> **বিকল্প ফরম্যাটসমূহ:** [এইচটিএমএল](https://golpohub.com/episodes/romantic-ottachar-s2-ep20) | [জেসন](https://golpohub.com/episodes/romantic-ottachar-s2-ep20?format=json) | [আরএসএস ফিড](https://golpohub.com/episodes/romantic-ottachar-s2-ep20?format=rss) | [অ্যাটম ফিড](https://golpohub.com/episodes/romantic-ottachar-s2-ep20?format=atom)

# চেয়ারম্যানের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন

![চেয়ারম্যানের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন](https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-chapter-2337-4ee9f0.webp)

---
*[ইসরাত জাহান](https://golpohub.com/authors/israt-jahan)-এর [রোমান্টিক অত্যাচার](https://golpohub.com/series/romantic-ottachar) সিরিজ থেকে*\n*আনুমানিক পড়ার সময়: 12 মিনিট*
- **মোট শব্দ:** 1,828
- **প্রকাশিত:** Sep 12, 2026
---

আশফি এভাবে মাহিকে খাইয়ে দেওয়াতে মাহি কিছুক্ষণ আশফির চোখের দিকে তাকিয়ে রইলো।মাহি ওর চোখদুটোতে দেখতে পাচ্ছে মাহির প্রতি আশফির সেই আগের একটা অধিকারবোধ,সেই ভালোবাসা,সেই জোড়। এগুলো দেখে মাহির সত্যিই খুব শান্তি লাগছে কিন্তু সেই সাথে রাগ ও হচ্ছে। -“এমনধরনের অধিকারবোধ দেখানোর কি প্রয়োজন।যেখানে ভালোবাসার পরিমাণ এতোটা থাকা সত্তেও দূরে সরিয়ে রাখা হচ্ছে আমাকে।কোনো প্রয়োজন নেই আমার এতো খেয়াল রাখার।ওকে কোনো কথাই বললাম না।ওর চেম্বার থেকে বেরিয়ে আসতে লাগলাম। পেছন থেকে ও আমাকে ডেকে বলল, -“কোথায় যাওয়া হচ্ছে লাঞ্চটা না করে? -“ওর কোনো কথার উত্তর দিলাম না।সোজা বেরিয়ে এলাম ওর চেম্বার থেকে।সেক্রেটারিকে আমার চেম্বারে আসতে বললাম। -“ম্যাম?বলুন কি প্রয়োজন? -“আপনার স্যার এর কাছ থেকে কোম্পানির সবরকম লাভ ক্ষতি হিসাবের ফাইল যাবতীয় ইনফরমেশন নিয়ে আসুন।ওগুলো আপনি আমাকে সব বুঝিয়ে দিবেন। -“ওকে ম্যাম।বাট আজকেই সব হিসাব নিকাশ গুলো দেখাতে হলে অফিস আওয়ার ওভার হয়ে যাবে। -“হুম।আমার তো কোনো প্রবলেম নেই। আপনার যদি কোনো প্রবলেম না থাকে তাহলে আমাকে সময় দিলে খুশি হবো। -“আমার কোনো প্রবলেম নেই ম্যাম। -“ওকে থ্যাংকস। তারপর সেক্রেটারি আশফির চেম্বারে গিয়ে আশফিকে মাহির বলা কথা বলে ফাইল আর ইনফরমেশন গুলো চাইল।আশফির ব্যাপারটা ভালো না লাগলেও ওগুলো দিতে বাধ্য হলো।কারণ সেক্রেটারির সামনে ও কোনো সিনক্রিয়েট করতে পারবেনা।মাহি সেক্রেটারির সাথে বসেছে হিসাব নিকাশ দেখার জন্য।অফিস টাইম শেষ।অফিস টাইম শেষ হয়ে যাওয়ার পর ও কিছু সময় আশফি অফিসে থাকতো।কিন্তু আজ কাল আশনূহার জন্য অফিস টাইম শেষ হলেই বাসায় ফিরে যায়।আজকে যাওয়ার সময় আশফি দেখে গেল মাহি সেক্রেটারির সাথে বসে কাজ করছে। তারপর ও আশনূহাকে নিয়ে বাড়িতে ফিরে গেল।বাড়িতে গেলেও মনটা পড়ে রইলো অফিসেই।মনটা খুব অশান্ত হয়ে রয়েছে ওর। আশনূহাকে খাইয়ে ওকে ঘুম পাড়িয়ে দিতে অনেকটা সময় পার হয়ে গেল।রাত প্রায় ৮:৩০ টা বাজে।আশফি ভাবছে, -“মাহি কি এখনো অফিসেই আছে? কোম্পানির যা লাভ ক্ষতির হিসাব তা তো আজকে রাতে দেখেও শেষ করতে পারবেনা ও। সেক্রেটারিকে একটা ফোন করে দেখি। তারপর আশফি সেক্রেটারির ফোনে কল করলো।কল করতেই আশফি বলল, -“তোমাের ম্যাম যদি সামনে থাকে তাহলে ফোনটা নিয়ে বাইরে চলে এসো। -“ওকে স্যার। -“তার মানে ও এখনো অফিসেই আছে? -“জ্বী স্যার।আমি এতো সময় ম্যামের সাথেই ছিলাম। -“কাজ কি কমপ্লিট? -“না স্যার।এখনো অনেক বাকি। -“তো তোমার ম্যাম কি সারা রাত ধরে হিসাব নিকাশ দেখবে নাকি? -“না স্যার।উনি রাত ১০ টার সময় বাসায় যাবেন।ততসময় পর্যন্ত উনি আমাকে থাকতে বলেছেন। -“ঠিকা আছে রাখো। রেগে গিয়ে আশফি ফোনটা কেটে দিল। তারপর নিজে নিজেই কথা বলতে থাকলো। -“রাত ১০ টা পর্যন্ত উনি অফিসে বসে কাজ করবেন।কাজ তো যেনো আমি কোনোদিন করিনি।উনি নিজেই কাজের মর্ম বুঝেন। মাহিও বুঝতে পেরেছিল তখন যে ফোনটা আশফি করেছে।আর কেনো করেছে সেটাও বুঝতে পেরেছে।কিন্তু তারপরেও সেক্রেটারির সাথে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।আর এদিকে আশফি রাত ১০ টা বাজার অপেক্ষায় রয়েছে। তারপর সেক্রেটারির কাছে ফোন করে জানবে মাহি অফিস থেকে বেরিয়েছে কিনা।যখনই রাত ১০ টা বাজল তখনই আশফি আবার সেক্রেটারির কাছে ফোন করলো। -“জ্বী স্যার বলুন। -“ও বেরিয়েছে? -“না এখনো বেরোননি।তবে বেরোনোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। -“আচ্ছা ওকে তোমার গাড়িতে করে পৌঁছে দাও। -“ওকে স্যার। -“হুম।আর তোমার সাথে যেতে না চাইলে আমাকে ফোন অথবা মেসেজ করে জানাবে। -“ঠিকআছে। মাহি অফিস থেকে বেরোতে গেল তখন সেক্রেটারি মাহিকে বলল, -“ম্যাম! -“হুম বলুন। -“যদি কিছু মনে না করেন তাহলে আমি আপনাকে পৌঁছে দিতে পারি। মাহি বেশ বুঝতে পেরেছে যে আশফি ওকে বলেছে ওকে পৌঁছে দিতে।মাহি সেক্রেটারিকে বলল, -“ধন্যবাদ।কোনো প্রয়োজন নেই। -“ম্যাম এখন তো আপনার কাছে গাড়ি নেই। যেতে কষ্ট হবে।আপনি প্লিজ চলুন।আমি আপনাকে পৌঁছে দিব। -“আমার কোনো কষ্ট হবেনা যেতে।আপনি যান। সেক্রেটারি ফোন করছিল আশফিকে বিষয়টা জানানোর জন্য।মাহি কথাগুলো বলেই বেরিয়ে আসছিল হঠাৎ করেই ফিরে এসে সেক্রেটারিকে বলল, -“আমার সম্পর্কিত তো কোনো নিউজ দিবেন না ফোন বা মেসেজ করে আপনার স্যারকে। মনে থাকবে তো? -“ইয়েস ম্যাম। ঐ মুহূর্তে আশফি ফোনটা রিসিভ করে ফেলেছিল।তাই ও মাহির কথাগুলো শুনতে পেয়েছিল।আশফি সেক্রেটারিকে আর কিছু বললোনা।গাড়িটা নিয়ে আশফি বেরিয়ে গেল। কিন্তু তার আগেই মাহি ট্যাক্সিতে উঠে গিয়েছে।অফিসের সামনে গিয়ে মাহিকে না পেয়ে মাহির বাসার সামনে গেল।গিয়ে দেখতে পেল মাত্রই মাহি ট্যাক্সি থেকে নামছে। তারপর মাহি গাড়ি থেকে নেমে বাসার ভেতরে ঢুকে গেল।আশফি ভাবলো, -“নাহ্। অনেক হয়েছে ওকে শাস্তি দেওয়া। আজকেই নিয়ে যাব বাসায়।জোড় করেই তুলে নিয়ে যাব যদি যেতে না চাই।গাড়ি থেকে নেমে ওর বাসার সামনে দাড়িয়ে কলিংবেলে চাপ দিলাম। -“বাসায় এসে দাড়াতে পারিনা এর মাঝে আবার কে ডাকতে এলো? দরজাটা খুলতেই ওকে দেখলাম।আমার মুখটা ভালো করে দেখার আগেই ঠাস করে ওর মুখের উপর দরজাটা লাগিয়ে দিয়েছি।আজ প্রায় পনেরো টা দিন আমার থেকে ও দূরে।চারদিন চলছে আমি ওর বাসার বাইরে।এর মাঝে ও একবার ও ফোন করে আমার খোঁজ নেইনি।আর আজকে এসেছে আমার সাথে দেখা করতে? এভাবেই থাকবো আমি।আমাকে ও প্রয়োজন নেই কিন্তু ওর মেয়েকে তার মাকে ছাড়া কতকাল আলাদা করে রাখতে পারে সেটাই আমি দেখবো।আমি এটাই বা কেনো ভাবছি যে আমাকে ওর একদিন প্রয়োজন হবে? ওর মেয়ের মায়ের প্রয়োজন হলে অন্য একজন মেয়েকে মা বানিয়ে নিয়ে আসবে ওর মেয়ের। কতটা খারাপ অবস্থায় রেখেছে ও আমার মেয়েকে আমার কাছ থেকে নিয়ে গিয়ে। অসভ্য মানুষ একটা। ওদিকে দরজার ওপারে দাড়িয়ে রাগে গর্জন করতে শুরু করলো আশফি। -“কত্ত বড় সাহস! আমাকে দেখে আমার মুখের উপর দরজা লাগিয়ে দিলো?কথা বলার সুযোগ পর্যন্ত পেলাম না।ইচ্ছা করছে দরজাটা ভেঙ্গে ওকে টানতে টানতে নিয়ে আসি। আফসোস এটা আমার বাড়ি নয়।কি আর করার বাধ্য হয়ে বাসায় ফিরতে হবে।কাল অফিসে আসুন তারপর আপনাকে দেখছি। আশফি সেদিন রাতে বাধ্য হয়ে বাসায় ফিরে গেল।পরেরদিন সকালে আশফি অফিসে গিয়ে দেখতে পেল মাহি ওর আগেই অফিসে চলে এসেছে।ঐ দিন আশফি আশনূহার গভরনেসকে বলল, -“আশনূহাকে নিয়ে আপনি বাগানের ঐ সাইডটাতে গিয়ে থাকবেন।দশ মিনিট পর আমি ওখানে আসছি। -“ওকে স্যার। আশফি গভরনেস বাগানের ডান পাশে গিয়ে দাড়াতে বলল।যেখানে মাহির চেম্বারটা থেকে সরাসরি বাগান টা দেখা যায়।তারপর গভরনেস আশনূহাকে নিয়ে ওখানেই গিয়ে ঘুড়তে থাকলো।চেম্বারে বসে ছিল মাহি। বাগানের চোখ পড়তেই দেখতে পেল আশনূহাকে।সেখানে কি আর এক মিনিট দেরী করতে পারে মাহি?দৌড়ে চলে গেল বাগানে। মাহিকে দেখে গভরনেস চিনতে পেরেছে। তাই ও মাহির সাথে হ্যাই হ্যালো করলো।মাহি গভরনেসের সাথে বেশি সময় কথা না বলেই আশনূহাকে ওর কোল থেকে নিয়ে নিল। চারদিন পর মাকে কাছে পেয়েছে। কিন্তু আশনূহার চিনতে একটুও কষ্ট হলোনা ওর মাকে।আশফি পেছনে দাড়িয়ে সেটা দেখছে। ও জানতো মাহি আশনূহাকে দেখে আর বসে থাকতে পারবেনা।ওকে কোলে নিতে ঠিকই আসবে।গভরনেসকে আশফি ইশারা করে চলে যেতে বলল।মাহি আশনূহাকে কোলে নিয়ে আদর করতে করতে একসময় আশফির দিকে চোখ পড়লো।ওমনি মাহির হাসি মুখটা রাগে দুঃখে চুপসে গেল।মাহি আশফিকে দেখে বলল, -“একদম কিন্তু আমার মেয়েকে আমার কাছ থেকে নিতে আসবেনা।না হলে কিন্তু খুব খারাপ কিছু হবে। আশফি মাহির কথা শুনে কিছু বলল না।চুপ করে দাড়িয়ে রইলো।তারপর মাহির সামনে এসে দাড়াল।আর মাহিকে বলল, -“অফিসে এসেছেন অফিস সামলাতে, অফিসের কাজ করতে।সেখানে এসে মেয়েকে নিয়ে বসে থাকলে কি চলবে? -“অফিসে এসে আমি কি করবো না করবো সেটা আমাকেই বুঝতে দিন।আপনার কথা শুনে চলবো নাকি? আশফি রেগে গিয়ে মাহির আরো কাছে এগিয়ে বলল, -” কি বললে তুমি? মাহি কিছুটা পিছু সরে গেল ভয়ে।তারপর বলল, -“যা বলার বলে দিয়েছি।আর বলতে পারবোনা। -“ওকে।আমার মেয়েকে নিয়ে বসে থাকতে হলে আমার চেম্বারে আমার চোখের সামনে বসে থাকতে হবে। -“কেনো?আমার চেম্বার নেই?আর আমার মেয়েকে নিয়ে আমি যেখানে খুশি বসে থাকতে পারি।তাতে তোমার কি? -“ওতো সতো জানিনা।যা বললাম তাই করতে হবে।বলা যায় না, আমার মেয়েকে নিয়ে ভেগে যেতে পারো। -“হ্যা?কি বললে তুমি?আমার মেয়েকে নিয়ে আমি ভেগে যাব?আমি কি বাচ্চা চোর? আমার মেয়েকে নিয়ে আমার ভেগে যেতে হবে কেনো? ইচ্ছা করলে ওকে আমার নিজের কাছে নিয়ে যেতে পারি।চুরি করে নিয়ে যাওয়ার কোনো প্রশ্নই আসেনা। -“তুমি খুব ভালো করেই জানো আমার সামনে থেকে আমার মেয়েকে তুমি কখনোই নিয়ে যেতে পারবেনা।তাই ওকে অফিসের সময়টুকু কাছে রাখতে চাইলে আমার চেম্বারেই তোমাকে থাকতে হবে। মাহি আর কিছু বলল না।নিচের তাকিয়ে কথাগুলো শুনলো।আশফির এই ব্যবহারগুলো মাহির মনে সত্যি অনেক বড় আঘাত দিল। নিজের সন্তানকে কাছে রাখতে হলেও ওকে নজরবন্দী হয়ে থাকতে হবে।ও চলে সোজা আশফির চেম্বারে।এদিকে আশফি মনে মনে বলতে থাকলো, -“আমার সামনে রাখার জন্য এর থেকে ভালো উপায় আর পেলাম না।আজকে তুমি কি করে বাড়ি ফিরে না আসো সেটা আমিও দেখবো। চেম্বারে গিয়ে বসলাম আমি।আর আমার বউ তার মেয়েকে নিয়ে সোফার উপর বসে তাকে আদর করছে তার সাথে কথা বলছে আর মাঝেমাঝে বাকা চোখে আমার দিকে একটু তাকাচ্ছে।আর আমিও পিসিটা সামনে রেখে ওর দিকে তাকিয়ে আছি। -“অসহ্যকর বিষয়।কাজ না করে ইঁদুরের মত চোখদুটো করে তাকিয়ে আছে সেই তখন থেকে। কথাগুলো মাহি একটু জোড়ে জোড়েই বলল। আশফি মাহির কথা শুনে রেগে গিয়ে বলল, -“কি বললে তুমি?ইঁদুরের মত চোখ আমার? -“তার থেকেও খারাপ। -“কি?এভাবে অপমান করছো আমাকে? ওয়েট। দেখছি আমি কার চোখ ইঁদুরের মত। আশফি উঠে মাহির কাছে এসে দাড়াতেই চেম্বারে গভরনেস চলে এলো। -“স্যার বাবুর খাওয়ার সময় হয়ে গেছে।ওকে এখন খাওয়াতে হবে। মাহি উঠে দাড়িয়ে গভরনেস কে বলল, -“তো?আমি তো আছিই।আমি ওকে আমার…… কথাটা বলতে গিয়ে মাহির মনে পড়ে গেল আশনূহা এখন পাওডার মিল্ক খাই।মায়ের থেকে দুধ খাওয়ার অভ্যাস আশনূহার এখন আর নেই।নেই বলতে আশফি বাধ্য করেছে অভ্যাস ত্যাগ করতে।মাহি একবার ভীষণ রাগী আর দুঃখকাতর চোখে আশফির দিকে তাকালো।আশফি ও তখন মাহির দিকে তাকিয়ে ছিল।ব্যাপারটা আশফির কাছে খুব খারাপ লেগেছে।ও বুঝতে পারছে যে মাহি ওকে মনে মনে ঠিক কি বলছে, কতোটা কষ্ট লাগছে ওর।কিন্তু তখন রাগ আর জিদের বশে বাধ্য হয়েছিল আশনূহাকে মাহির থেকে কেড়ে নিয়ে আসতে।যেটা করা ওর একদম উচিত হয়নি। মাহিকে শাস্তির সাথে অনেকটা কষ্ট ও দিয়ে দিয়েছে আশফি।তা ও এখন খুব ভালো ভাবেই বুঝতে পারছে।ও এখন চাইছে যে করেই হোক মাহিকে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে।ওদের দুজনের চোখে কথা বিনিময়ের মাঝেই হঠাৎ করে গভরনেস মাহির কোল থেকে আশনূহাকে নিয়ে নিল।আশফি গভরনেসকে বলল, -“চান্দুকে ম্যামের চেম্বারে নিয়ে যাও।ওখানে ওকে নিয়ে গিয়ে খাইয়ে দাও। গভরনেস আশনূহাকে নিয়ে চলে গেল।তখন মাহি ও চলে যাচ্ছিল চেম্বার থেকে।আশফি পিছু থেকে মাহির হাত টেনে ধরলো।তারপর বলল, -“কোথায় যাচ্ছো? -“চেম্বারে। -“এখানেই থাকো।চেম্বারে যেতে হবেনা। মাহি আশফির দিকে না তাকিয়ে আশফির কথা না শুনে ওর হাতটা ঝাড়ি দিয়ে ফেলে দিল।তারপর আবারও বেরিয়ে যেতে গেল। আশফি দ্রুত গিয়ে মাহির সামনে পথ আটকে দাড়ালো।ওকে বলল, -“কি হলো?বারণ করছি না যেতে? আর একটু পর লাঞ্চ টাইম।লাঞ্চটা এখানেই করবে। -“সামনে থেকে সরো।যেতে দাও আমাকে। -“আমার মাথা গরম করোনা।চলো ওখানে গিয়ে বসো। -“ধ্যাত!সরে যাও তো। মাহি আশফিকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিল। এতে আশফির ভীষণ রাগ হয়ে গেল।কোনো কথা না বলে মাহিকে টেনে ধরে নিয়ে এসে জোড় করে ধরে ধাক্কা দিয়ে সোফার উপর বসিয়ে দিল।মাহি চিৎকার করে বলল, -“আশফি?এটা কি ধরনের অসভ্যতা? -“অসভ্যতা? এই তুমি কি বললে?আমি অসভ্যতামি করেছি? -“তো এটাকে কি বলে? আশফি মাথা ঠান্ডা করে মাহির কাছে গিয়ে বসে বলল, -“আমি তোমার কি হই? -“কিচ্ছুনা। -“আচ্ছা?তো চান্দুটা কোথ থেকে আসলো? -“আকাশ থেকে। -“তাই?ও আচ্ছা বুঝতে পেরেছি।আল্লাহ্ আকাশ থেকে ঝপ করে চান্দুকে ফেলে দিয়েছে আর তুমি টপ করে ধরে ফেলেছো। -“ধুর!যতসব অদ্ভুত কথা বার্তা।যেতে দাও তো আমাকে।না হলে আমি কিন্তু চিৎকার করবো। -“করো। -“সত্যি বলছি কিন্তু। আশফি অন্য দিকে ঘুরে বলল, -“হুম।আমিও তো করতে বলছি। -“আআআ……. মাহির সাউন্ডটা চেম্বারের বাইরে যাওয়ার আগেই আশফি মাহির মুখ চেপে ধরে মাহির ঠোঁটে ওর ঠোঁট চেপে ধরলো।সেদিন রাতের মত আজকে আশফি মাহির ঠোঁটে ঠিক মাহির মত করে চুমু দিচ্ছে যে মাহিও আজ ঠোঁটে ভীষণ ব্যাথা পাচ্ছে।মাহিকে ছেড়ে দেওয়ার পর মাহি আশফিকে বলল, -“এটাকে চুমু খাওয়া বলে নাকি পাথর দিয়ে ঠোঁট থেতলে দেওয়া বলে? -“আমার ঠোঁট পাথরের মত? -“সেভাবেই তো চেপে ধরেছো। -“আর সেদিন রাতে আপনি কি করেছিলেন? লোহা দিয়ে ঠোঁট থেতলে দিয়েছিলেন। সেদিন রাতের কথা আশফি বলতেই মাহির মনে পড়ে গেল আশফি সেদিন কি ব্যবহার করেছিল মাহির সাথে।মাহির মুখটা কালো হয়ে গেলো।আশফি ওর মুখটা দেখে বুঝতে পারলো।মাহি চুপ করে রইলো আর কোনো কথা বললোনা।লাঞ্চের সময় হয়ে গেছে। আশফি খুব জোড় করেই মাহিকে খাইয়ে দিল। জোড় করে খাইয়ে দিতে গিয়ে মাহির গালে মুখে খাবার পুরো জড়িয়ে গেছে।মাহি রেগে গিয়ে আশফিকে বলল, -“এগুলো কি করলে তুমি?এটা তো অফিস তোমার বাড়ি তো না। -“তাতে কি? অফিসটাও আমার,বাড়িটাও আমার আর বউটাও আমার। -“হুহ।বউ!! -“টেনশন নিওনা।ওগুলো আমি পরিষ্কার করে দিচ্ছি। আশফি মাহির মুখে লেগে থাকা খাবার গুলো চেটে খেতে গেলো।মাহি বলল, -“খবরদার।একদম এটা করবেনা।আমার কাছে আসবেনা তুমি। এইসব ব্যাপারে আশফি কখনোই মাহির বাঁধা শুনেনা।

---

[<< পূর্ববর্তী অধ্যায়](https://golpohub.com/episodes/romantic-ottachar-s2-ep19) | [সিরিজ সূচি](https://golpohub.com/series/romantic-ottachar) | [পরবর্তী অধ্যায় >>](https://golpohub.com/episodes/romantic-ottachar-s2-ep21)