{
    "_links": {
        "html": "https://golpohub.com/episodes/romantic-ottachar-s2-ep26",
        "json": "https://golpohub.com/episodes/romantic-ottachar-s2-ep26?format=json",
        "markdown": "https://golpohub.com/episodes/romantic-ottachar-s2-ep26?format=md",
        "rss": "https://golpohub.com/episodes/romantic-ottachar-s2-ep26?format=rss",
        "atom": "https://golpohub.com/episodes/romantic-ottachar-s2-ep26?format=atom"
    },
    "seo": {
        "canonical_url": "https://golpohub.com/episodes/romantic-ottachar-s2-ep26",
        "title": "রোমান্টিক অত্যাচার সিজন ২ পর্ব ২৬ - বিমান দুর্ঘটনা ও নিখোঁজ অস্তিত্ব | Romantic Ottachar Season 2 Part 26",
        "description": "পড়ুন রোমান্টিক অত্যাচার সিজন ২ পর্ব ২৬। প্লেন ক্রাশের বিভীষিকা আর থাইল্যান্ডের হাসপাতালে মাহির জীবন বাঁচানোর লড়াই।",
        "keywords": "রোমান্টিক অত্যাচার সিজন ২ পর্ব ২৬, romantic ottachar season 2 part 26, romantic ottachar season 2 porbo 26, romantic ottachar s2 ep 26 link, মাহি, আশফি, বিমান দুর্ঘটনা ও নিখোঁজ অস্তিত্ব",
        "image_url": "https://golpohub.com/assets/images/og.jpg",
        "schema": {
            "@context": "https://schema.org",
            "@graph": [
                {
                    "@type": "Chapter",
                    "name": "বিমান দুর্ঘটনা ও নিখোঁজ অস্তিত্ব",
                    "position": 26,
                    "description": "মাহির অভিমানী পলায়নের পর জাপানের প্লেন ক্রাশের মর্মান্তিক সংবাদ আশফির দুনিয়াকে ধ্বংসের অতলে ঠেলে দেয়। কিন্তু থাইল্যান্ডের হাসপাতালে মাহির বেঁচে থাকার খবর পেয়ে আশফি যখন সেখানে পৌঁছায়, তখন মাহির জন্য সে কী সংকল্প গ্রহণ করে?",
                    "url": "https://golpohub.com/episodes/romantic-ottachar-s2-ep26",
                    "inLanguage": "bn",
                    "timeRequired": "PT23M",
                    "datePublished": "2026-09-12T18:56:58+00:00",
                    "dateModified": "2026-09-12T19:27:02+00:00",
                    "wordCount": 3615,
                    "image": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-chapter-2343-682eac.webp",
                    "accessibilityFeature": [
                        "readingOrder",
                        "structuralNavigation",
                        "displayTransformability",
                        "uncontracted"
                    ],
                    "accessibilityControl": [
                        "fullKeyboardControl",
                        "fullTouchControl"
                    ],
                    "accessibilityHazard": [
                        "none"
                    ],
                    "potentialAction": {
                        "@type": "ReadAction",
                        "target": "https://golpohub.com/episodes/romantic-ottachar-s2-ep26"
                    },
                    "isPartOf": {
                        "@type": [
                            "BookSeries",
                            "CreativeWorkSeries"
                        ],
                        "name": "রোমান্টিক অত্যাচার",
                        "url": "https://golpohub.com/series/romantic-ottachar"
                    },
                    "author": {
                        "@type": "Person",
                        "name": "ইসরাত জাহান",
                        "url": "https://golpohub.com/authors/israt-jahan"
                    }
                },
                {
                    "@type": "BreadcrumbList",
                    "itemListElement": [
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 1,
                            "name": "Golpo Hub",
                            "item": "https://golpohub.com"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 2,
                            "name": "সিরিজসমূহ",
                            "item": "https://golpohub.com/series"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 3,
                            "name": "রোমান্টিক অত্যাচার",
                            "item": "https://golpohub.com/series/romantic-ottachar"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 4,
                            "name": "বিমান দুর্ঘটনা ও নিখোঁজ অস্তিত্ব",
                            "item": "https://golpohub.com/episodes/romantic-ottachar-s2-ep26"
                        }
                    ]
                }
            ]
        }
    },
    "filters": [],
    "data": {
        "id": 2343,
        "ep_number": 26,
        "title": "বিমান দুর্ঘটনা ও নিখোঁজ অস্তিত্ব",
        "slug": "romantic-ottachar-s2-ep26",
        "url": "https://golpohub.com/episodes/romantic-ottachar-s2-ep26",
        "reading_time": 23,
        "thumbnail_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-chapter-2343-682eac.webp",
        "yt_video_id": null,
        "yt_video_url": null,
        "timestamps": {
            "published_at": "2026-09-12T18:56:58+00:00",
            "updated_at": "2026-09-12T19:27:02+00:00"
        },
        "meta": {
            "word_count": 3615,
            "seo_title": "রোমান্টিক অত্যাচার সিজন ২ পর্ব ২৬ - বিমান দুর্ঘটনা ও নিখোঁজ অস্তিত্ব | Romantic Ottachar Season 2 Part 26",
            "seo_description": "পড়ুন রোমান্টিক অত্যাচার সিজন ২ পর্ব ২৬। প্লেন ক্রাশের বিভীষিকা আর থাইল্যান্ডের হাসপাতালে মাহির জীবন বাঁচানোর লড়াই।",
            "keywords": "রোমান্টিক অত্যাচার সিজন ২ পর্ব ২৬, romantic ottachar season 2 part 26, romantic ottachar season 2 porbo 26, romantic ottachar s2 ep 26 link, মাহি, আশফি, বিমান দুর্ঘটনা ও নিখোঁজ অস্তিত্ব",
            "characters_involved": [
                "মাহি",
                "আশফি",
                "আরমান চৌধুরী"
            ]
        },
        "content": "-” থাক,আমার এখন কোনো রোমান্স লাগবেনা।এখন বাসায় চলুন।মেয়েটা অনেক্ষণ একা আছে।খিদে পেয়ে গেছে হয়তো এতক্ষণে।\n\n-” হুম।বাবা-মা এর রোমান্সে বর্তমান আমার চান্দুটাই ব্যাঘাদ ঘটাচ্ছে।কবে যে বড় হবে…..?\n-” ও বড় হতে হতে তো তুমি বুড়া হয়ে যাবে।তখন এসব রোমান্স করার বয়স থাকবে তোমার?\n-” রোমান্স করার জন্য কোনো বয়স লাগেনা।বুড়া হই আর যাই হই।রোমান্স চলছে চলবে।\n-” হা হা হা।আচ্ছা ঠিক আছে।চলো এখন দেরী হয়ে যাচ্ছে।\nআশফি মাহি দুজনে ওদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে চাচ্চুর বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলো।আশফি ড্রাইভিং করছে আর মাহির সাথে কথা বলছে।\n-” ও হ্যা….তুমি তো দুপুরের পর নানুর বাড়িতে যাবে,তাইনা?\n-” হুম।মামু আসতে চেয়েছিল আমাদের নিয়ে যাওয়ার জন্য।আমি নিষেধ করে দিয়েছি।\n-” ভালো করেছো।এতো কষ্ট করে এতদূর আসতে হবেনা।আমরা চলে যেতে পারবো।\nকথা বলার পর কিছুক্ষণ মাহি চুপ করে রইলো।আশফি ওকে জিজ্ঞেস করলো,\n-” হঠাৎ চুপ করে গেলে যে?\n-” (নিশ্চুপ)\nমাহির চুপ করে থাকা দেখে আশফি মাহির মুখের দিকে তাকালো।মাহির চোখদুটো ভিজে এসেছে প্রায়।আশফি বুঝতে পারলো মাহির ওর মায়ের কথা মনে পড়ছে হয়তো।আশফি মাহিকে বলল,\n-” নানুবাড়িতে যাওয়ার আগেই এভাবে মন মুড খারাপ করে ফেলছো?\n-” মা মারা যাওয়ার ঠিক মাসখানেক পরই নানুভাই মারা গেলো।শুধু ফোনেই শুনতে পেলাম।একনজর দেখার ভাগ্য আমার আর হলোনা।এমনিতেই অসুস্থ ছিল তার উপর সন্তানের মৃত্যুর খবর শুনে নিজের শেষ কিছুদিন সময়গুলো চোখের পানি ফেলেই পার করলো। আমার মা টাও বড় অভাগী।মৃত্যুর আগে কলমা টা কানে শুনতে পেলোনা,\nপানিটুকু মুখে দিতে পারলোনা।মা তো সারাজীবন মানুষের ভুল ক্ষমা করে এসেছে কখনো সে মনের ভুলেও কাউকে কষ্ট দিয়েছে কিনা সন্দেহ।তাহলে এতো নির্মমভাবে তার মৃত্যু দিলো কেনো আল্লাহ্?\n-” তা তো উনিই ভালো জানেন।\nশুনেছি ভালো মানুষগুলোকে আল্লাহ্ পাক বেশিদিন এই জঘন্যতম পৃথিবীতে বাঁচিয়ে রাখেননা।\n-“জানিনা এটা সত্য কিনা।কিন্তু তাই বলে এতো কষ্ট দিয়ে সেই ভালো মানুষকে তুলে নেওয়ার কি মানে?\n-“চুপ করো।এসব কথা আর বলোনা। ভাগ্যে যা ছিল তাই হয়েছে।এছাড়া আর কিছুই ভাবিনা আমি।\nসারা রাস্তা মাহি চুপচাপ ছিল।বাড়িতে আসার পর দুজনে ফ্রেশ হয়ে দুপুরের খাবার খেয়ে আশনূহাকে নিয়ে রামপুরার উদ্দেশ্যে রওনা হলো।মাহির নানুবাড়ির উদ্দেশ্যে।ওখানে যাওয়ার পর মাহিকে দেখে মাহির মামু মামিমা জড়িয়ে ধরে কাঁদতে শুরু করলো।আশফি আর আশনূহা দুজনেই এই বাড়িতে নতুন অতিথি।ওদের তিনজনকে আবার বরণ করে ঘরে তুললো মাহির মামিমা।মাহি আশফি আর আশনূহাকে নিয়ে ওর নানিবু এর কাছে গেলো।তিনি এখন পুরো শয্যাশায়ী।সন্ধ্যা পর্যন্ত ওরা ওখানে সময় দিলো।আশফি আজকের রাতটা মাহিকে এখানে থেকে যেতে বলেছিল কিন্তু মাহি থাকলোনা।তার কারণ একটাই।এখানে সব জায়গায় ওর মায়ের স্মৃতি।যতটুকু সময় ছিল ওখানে ততটুকু সময় মাহির নানিবু শুধু ওর মায়ের কথা বলে কেঁদেছে মাহির কাছে।মাহি সেগুলো আর সহ্য করতে পারছিলোনা। মাহির সর্বক্ষণ এমন মনে হচ্ছে যদি কোনো কিছুর বিনিময়ে হলেও মাহি ওর মাকে ফিরিয়ে আনতে পারতো।নিজেকে আর সামলাতে না পেরে মাহি ওর নানুবাড়ি থেকে বিদায় নিয়ে চলে এলো চাচ্চুর বাড়িতে।রাত ২ টার সময় আলিশা আর আলিশার বাবা বাড়িতে এসে পৌঁছালো।আলিশা তখনো পুরোপুরি সুস্থ নয়।মাহি আর চাচিমা আলিশাকে ঘরে নিয়ে গেলো।আর আশফি ওর চাচ্চুর সাথে কথা বলছিল,\n-” চাচ্চু!দুপুর তোমাদের সাথে এসেছো তো?নাকি পরে আসবে বলেছে?\n-” না,ও আমাদের সাথেই এসেছে। এমনিতে আলিশাকে অনেক মেইন্টালি সাপোর্ট দিচ্ছে।কিন্তু ওর ঐ সাপোর্টে আলিশা আরো কষ্ট পাচ্ছে কারণ এতোকিছুর পরও দুপুর ওকে ভালোবাসতে পারবেনা বলে।আমি তো আমার মেয়ের চিন্তা ভাবনা দেখে পুরো অবাক হয়ে যাচ্ছি। এখনকার মেয়ে হয়ে ও এতোটা আবেগপূর্ণ হলো কিভাবে?\nবুঝলাম দুপুর ছেলে হিসেবে অনেক ভালো কিন্তু দুপুর ছাড়া কি ওর আর কোনো ভালো ছেলে পাবেনা?যে ছেলে ওকে ভালোইবাসতে রাজি না যেটা ও সরাসরি বারবার তার মুখ থেকে শুনছে তারপরও ও কি কারণে ওর জন্য এতো দুর্বল হচ্ছে?\n-” চাচ্চু!তুমি যা বলছো তা যদি ও বুঝতো তাহলে তো এতোবড় দুর্ঘটনা ঘটাতোনা।আচ্ছা তুমি রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে রেস্ট নাও।পরে কথা বলবো।\n-” হুম।আর শোন,কাল সকাল ১০ টায় দুপুর আসবে এখানে।\n-” ওহ্,তাই নাকি।তাহলে তো ভালোই হলো।আচ্ছা ঠিক আছে।\nআশফিও রুমে চলে গেলো।রুমে এসে মাহির জন্য অপেক্ষা করছিলো।মাহি আলিশার কাছে বসে ওর সাথে কথা বলছিল।কথা বলা শেষ করে মাহি রুমে এলো।আশফিকে বসে থাকতে দেখে মাহি বলল,\n-” চাচ্চুর সাথে কি কথা হলো তোমার?\n-” কাল সকাল ১০ টায় দুপুর আসছে এখানে।\n-” ও আচ্ছা।তো তুমি আর চাচ্চু ওকে কিভাবে কি বলবে ভেবে রেখেছো?\n-” না।তার জন্য তোমার সাথে কথা বলা দরকার।ও আসার পর আমি আর তুমি নিজে ওর সাথে এ বিষয়ে কথা বলবো।তারপর ওর যা মন্তব্য তা তো ও বলবেই।\nআশফি আর মাহি কিছুসময় দুপুর আর আলিশার বিষয় নিয়ে আলোচনা করে ঘুমিয়ে পড়লো।পরেরদিন সকালে আশফি আর মাহি নাস্তা শেষ করে আলিশাকে নিয়ে বাগানে গেলো।মাহি আলিশাকে বলল,\n-” আলিশা তোমাকে আমি তোমার কাজের জন্য কিছু বলবোনা।কারণ তোমার মনটা এখন পুরোটাই টিনেজার এর মত হয়ে গেছে।তোমাকে যাই বুঝায় তুমি কোনো কিছুই বুঝবেনা।তবে এসব কাজের মাধ্যমে তুমি তোমার নিজের দাম নিজেই কমিয়ে ফেলছো।শুধু এইটুকুই বললাম।\n-” আচ্ছা বাদ দাও এসব,মাহি।আলিশা তুমি বলো তো আজকে কোথায় ঘুরতে যাওয়া যায়?ভাবছি আজকে সবাই মিলে বাইরে কোথাও যাবো।\n-” তোমরা যেখানে যাবে আমি সেখানেই যাবো।\n-” আচ্ছা দুপুরকে ও সঙ্গে করে নিয়ে যাবো আজ।\nআশফির কথাটা শুনে আলিশা একবার আশফির মুখের দিকে তাকালো।কিছু বলার চেষ্টা করলো আশফিকে।তখনই বাড়ির ভেতরে একটা কালো রঙের গাড়ি ঢুকলো।আলিশা বুঝেছে যে গাড়িতে দুপুর এসেছে তাই আর আলিশা বাগানে থাকলোনা।ওখান থেকে বাসার ভেতর ঢুকে গেলো।আসলে যতবারই দুপুরের মুখটা আলিশা দেখে ততবারই ওর কাছে মনে হয় এই জীবনে হয়তো দুপুরকে কখনো নিজের করে পাবেনা। মাহি গাড়িটার দিকে তাকিয়ে ছিল এটা দেখার জন্য যে গাড়ির ভেতরে কে আছে।আশফি মাহিকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে ওর কোমরটা ধরে টেনে কিছুটা নিজের কাছে নিয়ে নিল তারপর ওকে বলল,\n-” ওভাবে গাড়ি দেখার কি আছে?মনে হচ্ছে যে প্রথম দেখছো গাড়ি।\n-” আরে নাহ্।কি যে বলো।আমি তো দেখতে চেষ্টা করছি গাড়িটার ভেতর কে আছে।\n-” সেটা তো নামলেই দেখতে পাবে।\n-” আচ্ছা ঠিকআছে দেখছিনা ওভাবে। কিন্তু তুমি আমাকে এভাবে ধরে আছে কেনো?ছাড়ো,কেউ আমাদের এভাবে দেখলে কি ভাববে?\nগাড়িতে করে দুপুর এসেছে।বাগান ক্রস করে ঢুকতেই ও চোখ পড়ে গেলো মাহি আর আশফির দেখে।আসলে আশফির চাচ্চু দুপুরকে শুধু আলিশার সুস্থ হওয়ার জন্য একটু ওর পাশে থেকে মেইন্টালি সাপোর্ট দিতে বলেছে।আর দুপুর ও ভেবেছে যে আর যাই হোক একটা মেয়েকে ওর জন্য মরে যেতে দেখতে পারবেনা।তাই ও চাচ্চুর কথাই রাজি হয়েছিল আলিশাকে কিছুদিন সঙ্গ দিতে। কিন্তু এখানে এসে যা দেখলো তাতে মনে হচ্ছে ও এখনই এই স্থান ত্যাগ করে চলে যাবে।দুপুরের চোখটা যেন সরছেইনা ওদের উপর থেকে।মাহি আর আশফিও এইটুকু সময়ের মধ্যেই নিজেদের সাথে গল্প করতে ব্যাস্ত হয়ে গেছে।ওরা খেয়াল করছেনা যে দুপুর ওদের কিছুদূর থেকেই লক্ষ করছে। এর মাঝেই আলিশার বাবা আসলো দুপুরের সামনে।আলিশা বাসায় ঢুকে ওর বাবাকে বলেছে দুপুরের আসার কথা।তাই দুপুরকে নিতে বাসার নিচে চলে এসেছে।\n-” আরে দুপুর যে,এখানে দাড়িয়ে কেনো?চলো ভেতোরে এসো।খুব খুশি হলাম তুমি আমার বাড়িতে এসেছো বলে।\nআলিশার বাবার কথার আওয়াজ শুনে দুপুর ওদের থেকে চোখ ফিরালো। তারপর মনের বিরুদ্ধেই আলিশার বাবার সাথে কিছু কুশলাদি বিনিময় করে বাসার ভেতরে ঢুকলো।আর ওদিকে আশফি আর মাহি চাচ্চু আর দুপুরের কথা শুনে বাগান থেকে ওদের পিছু পিছু বাসার ভেতরে ঢুকলো।আশফির চাচ্চু দুপুরকে বসতে দিয়ে মাহি আর আশফিকে ওর সাথে পরিচয় করিয়ে দিল।যদিও এটা সম্পূর্ণ ফরমালিটি ছিল। আশফি মাহিকে নিয়ে বসে দুপুরের সাথে কথা বলতে শুরু করলো।\n-” মি.দুপুর হাসান।আপনি কি আমাকে চিনতে পেরেছেন?ওহ্ স্যরি,আগে বলুন আপনি কেমন আছেন?\n-” নো,ইটস অলরাইট।আল্লাহ্ পাকের ইচ্ছায় অনেক ভালো আছি।আপনারা কেমন আছেন?আর হ্যা,আমার মেমোরি খুব ফ্রেশ আছে।এতো সহজে কাউকে ভুলে যাইনা।\n-” হুম।সেটাই তো প্রবলেম।\n-” স্যরি?\n-” না মানে ভালো মানুষ,ভালো মুহূর্ত এগুলো যত মনে রাখবেন ততই আপনার জীবন সুখে সমৃদ্ধ হবে।আর খারাপ মানুষ,খারাপ স্মৃতি এগুলো মনে রাখাটা মন বা শরীরের জন্য কোনোটাই ভালো নয়।সেটাই মিন করলাম আর কি।\nদুপুর আশফির কথা কিছুটা হলেও বুঝতে পেরেছে।আশফির কথার উত্তরে দুপুর শুধু একটা হাসি দিল।তারপর কথার মোড় ঘুরিয়ে দুপুর মাহির সাথে কথা বলা শুরু করলো।\n-” কেমন আছো মাহি?সময়ের সাথে সাথে কি আমাকেও ভুলে গেছো?\n-” দুপুর ভাইয়া আপনার মেমোরি যতটা ফ্রেশ আমার মেমোরি তার থেকে বেশি না হলেও খুব কম ফ্রেশ ও নয়।\n-” শুনে খুশি হলাম।মি.আশফি আপনাদের দুজনের জুড়ি মাশাল্লাহ্ খুবই সুন্দর।দেখে চোখদুটো জুড়িয়ে যাওয়ার মত।\nআশফি দুপুরের উত্তরে বলল,\n-” অজস্র ভালোবাসা রইলো।এতো সুন্দর প্রশংসার জন্য।\nএতোদিন মাহির জন্য দুপুরের মনে যে ইমোশোনটা কাজ করতো মাহি আর আশফিকে আজ সামনাসামনি একসাথে দেখে ইমোশোনটা যেনো ধীরে ধীরে কমতে আছে।কিছুক্ষণ পর আশফির চাচিমা আশনূহাকে কোলে করে আসলো দুপুরের সাথে পরিচিত হওয়ার জন্য। সেই সাথে দুপুর মাহি আর আশফির একমাত্র মেয়ে আশনূহাকে দেখে কারো পারমিশন ছাড়াই ওকে কোলে তুলে নিলো।তারপর দুপুর আশনূহাকে উদ্দেশ্য করে বলল,\n-” মামনি,তোমাকে দেখে তো আমার পুরো প্রাণটাই জুড়িয়ে গেলো।মাশাল্লাহ্ পৃথিবীরর সব সৌন্দর্য যেনো তোমার মাঝে।\nএভাবে কিছুক্ষণ ওদের মাঝে সময় কেটে গেলো।তারপর আশফি আর ওর চাচ্চু দুজনে দুপুরের সাথে বসে কিছু কথা বলল।আর আশফি সন্ধ্যার পরে ওকে ওদের সাথে বাইরে ঘুরতে যাওয়ার প্রপোজাল দিল। তাতে দুপুর আলিশার কথা ভেবে রাজি হয়ে গেলো।আশফি মাহি আর আশনূহাকে নিয়ে গাড়ির পেছন সিটে বসলো।দুপুর ড্রাইভ করছে আর আলিশা দুপুরের পাশের সিটে।\nমধুবাগের উদ্দেশ্যে ওরা রওনা হলো। আজকে মাহি আর আশফি দুপুরের সাথে খোলামেলা সব কথা বলবে। তারপর ওরা চারজন ব্রিজের উপর এসে দাড়ালো।আশনূহা তখন আলিশার কোলে ছিল।সবাই সবার সাথে টুকটাক কথাবার্তা বলছিল।এসব কথার মাঝেই মাহি দুপুরকে বলল,\n-“দুপুর ভাইয়া?তোমার সাথে কিছু কথা আছে আমাদের?মানে আমার আর আশফির।\n-“হ্যা বলো,কি কথা?\nআশফি দুপুরের কিছুটা দূরে দাড়িয়ে ছিল।দুপুরের সামনে এসে বলল,\n-“কথাগুলো অবশ্যই তোমাকে যুক্তি দিয়ে বুঝতে হবে।আর সেটা আলিশার ব্যাপারেই।জানি তুমি হয়তো আনইজি ফিল করছো তবুও যদি আমাদের কথাগুলো একটু শুনতে?\n-” না না।আনইজি ফিল করার কি আছে।বলুন কোনো সমস্যা নেই।\n-” মাহি আমি আশনূহাকে নিয়ে একটু সামনে থেকে হেঁটে আসি।\nআলিশা আসলে ওদের কথাগুলো এভাবে দাড়িয়ে শুনতে চাচ্ছিলনা।নিজের কাছে নিজেকে কেমন যেনো ছোট ছোট লাগছিল ওর।তারপর আশফি আর মাহি দুপুরের সাথে অনেক কথা বলল।ওকে বিভিন্নভাবে বোঝানোর চেষ্টা করলো। সবশেষে আশফি দুপুরকে বলল,\n-” পেছনে ফেলে আসা স্মৃতিগুলো আকড়ে ধরে কোনোদিন ভালো থাকা যায়না। হয়তো যেকোনোভাবে সামনের সময়গুলো পার করে দেওয়া যায় কিন্তু আপনাকে ঘিরে কিছুসংখ্যক মানুষ আছে যারা ভালো থাকার চেষ্টা করছে।\nআপনার সাথে সুখী জীবন কাটানোর চেষ্টা করছে।কিন্তু আপনার এই একা থাকার সিদ্ধান্তটা আপনার মনের থেকেও তাদের মনে বেশি কষ্ট জমা হচ্ছে। ধরুন না আপনার বাবা-মায়ের কথা।তাদের একমাত্র ছেলে আপনি। তারা নিশ্চই আপনার কাছে বাইনা করে ঘরে একটা মিষ্টি বউ নিয়ে আসার জন্য।আপনার ছেলেমেয়ে অর্থাৎ তাদের নাতি-নাতনিদের আদর-সোহাগ করে তাদের ভালোবেসে জীবনের শেষ সময়গুলো কাটাতে।সবশেষে না হয় আলিশার কথা বললাম।ও হয়তো আপনার জীবনের সিদ্ধান্ত না জেনেই আপনাকে ভালোবেসে ফেলেছে।আপনার এমন সিদ্ধান্তের কারণে আজকে কতগুলো মানুষ কষ্ট ভোগ করছে।একবার ভেবে দেখুন।\nআলিশা আমার বোন বলে তার হয়ে সুপারিশ করছিনা।ওর জায়গায় আজকে অন্য মেয়েও এভাবে ভালোবাসতে পারতো।জীবনটা আপনার কিন্তু আপনার আশেপাশের লোকগুলোকে ঘিরে তাদের ভালো থাকার কথা চিন্তা করে কিছু সিদ্ধান্ত ভেবর নেওয়া উচিত।যে তারা আপনার এই সিদ্ধান্তে আপনার সাথে তারাও ভালো থাকতে পারছে কিনা।\nকারণ তারা আপনার ছায়াই বসবাস করছে এবং সারাজীবন করতে চাই।দুপুর আপনি কি আমার কথা বুঝতে পেরেছেন?\n-” আসলে কি বলবো আমি?জীবনের অর্ধেক অংশ এমন চিন্তাভাবনা মনের ভেতর গেঁথে পার করে দিয়েছি।বাবা-মা চাই যে তার ছেলে একটা মিষ্টি বউ ঘরে নিয়ে আসুক।কিন্তু তারা এটা নিশ্চই চাইবেনা যে আমি ঐ মিষ্টি বউটাকে কখনো কষ্ট দিই।কারণ কোনো স্ত্রী কোনোদিন এটা সহ্য করতে পারবেনা যে তার স্বামীর অন্তরস্থলে সে কোনোদিনও জায়গা পাবেনা।হয়তো সারাজীবন একই ছাদের নিচে দায়িত্ব-কর্তব্যের খাতিরে দিনগুলো পার করে দিতে পারবো।কিন্তু মনের তৃপ্তিটা কোনোদিনও পাবোনা। মানুষ মারা গেলে তাকে যেমন কোনোদিনও ফেরত আনা সম্ভব নয় তেমনই মনের মৃত্যুটাও।মনের মৃত্যু ঘটলে তাকে যে জীবিত করা অসম্ভব।\nএবার মাহি কথা বলল,\n-“কেনো অসম্ভব?মনটা তো আর দেহ ছেড়ে যাইনি।ওটা তো তোমার দেহের মাঝেই আছে।\n-“হুম আছে।মৃত অবস্থায়।\n-“দুপুর ভাইয়া তুমি কেনো বুঝতে চেষ্টা করছোনা?যে…..\n-“মাহি?তোমরা যেহেতু কথাগুলো সামনাসামনি ই বলেছো আমিও আর চেঁপে রেখে কিছু বলতে চাইনা।যে রোগের জন্য যে ওষুধ তৈরি হয়েছে সেই রোগের জন্য ঠিক সেই ওষুধটাই প্রয়োজন।মি.আশফি?আপনার শরীরে ঘা হয়েছে।আপনি তার ব্যাথা অনুভব করতে পারবেন,আমি বা মাহি না। আপনার ঘায়ের জন্য যে ওষুধ প্রয়োজন সেই ওষুধের বদলে ভুল ওষুধ পড়লে আপনি কি সুস্থ হবেন?\nদুপুরের কথা শুনে আশফি কিছু বললোনা।শুধু মাহির দিকে রাগী দৃষ্টিতে সেখান থেকে চলে গেলো।মাহি আশফির চলে যাওয়ার কারণ বুঝতে পেরেছে সেই সাথে দুপুরও।দুপুর মাহির দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে চোখ ফিরিয়ে নিয়ে পিছনের দিকে তাকলো।তখন আলিশা পেছনে দাড়িয়ে ছিল।আলিশা ও সবকথা শুনতে পেয়েছে।দুপুর আলিশার কাছে এগিয়ে গেলো।আলিশাকে কিছু বলার চেষ্টা করলো কিন্তু কিছু বললোনা।দুপুর চলে গেলো ওখান থেকে।আশফি মাহি আর আলিশাকে নিয়ে বাড়ি ফিরে আসলো। আশফি ওর চাচ্চুকে কোনো কিছু না বলে সোজা উপরে চলে গেলো।তাই মাহি চাচ্চুকে সবকিছু বলল।আলিশা ও আশফির পিছুপিছু আশফির রুমে গেলো।আশফি আলিশাকে দেখে ওকে শান্তনা দেওয়ার মত কোনো বাক্য উচ্চারণ করলোনা।আলিশা কথা বলা শুরু করলো,\n-“আশফি তুমি তো মাহিকে অনেক ভালোবাসো তাইনা?\nআলিশার এমন প্রশ্নে আশফি কোনো উত্তর দিলনা।আলিশা আবার বলল,\n-“আমি জানি তুমি মাহিকে তোমার জীবনের থেকেও বেশি ভালোবাসো। ওকে তোমার জীবনে পাওয়ার জন্য কতোকিছুই না করেছো।আল্লাহর দয়ায় শেষ অবদি তুমি ওকে তোমার নিজের করেই পেয়েছো।তাহলে তুমি একসময় নিশ্চই বুঝতে পেরেছিলে যে মাহিকে ছাড়া তুমি কোনোদিন থাকতে পারবেনা। আশফি দুপুর ও যে আমার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।\n-“আলিশা,তুমি কি চাইছো?\n-“স্পষ্টভাবেই বলি।একমাত্র মাহিই পারবে দুপুরকে আমার কাছে এনে দিতে।\nআশফি রাগে প্রচুর উত্তেজিত হয়ে গেল। আলিশাকে একরকম ধমকে বলল,\n-“আলিশা আবেগে তোমার মাথা কি একেবারেই গেছে?\n-“আশফি প্লিজ আমার পুরো কথা না শুনে আগেই রিয়্যাক্ট করোনা।আগে তুমি একটু তোমার রাগ কন্ট্রোল করো।\n-“আমি ঠিক আছি।তুমি বলো।\n-“মাহি দুপুরকে আলাদাভাবে কিছু সময় দিবে।কিছুদিন ওর সাথে ঠিক আগের মত বন্ধুর মত মিশবে।আর তার মাঝেই মাহি ওকে আমার বিষয়গুলো বোঝাবে। এভাবে একদিনে ওকে কিছু বোঝানো যাবেনা।ব্যাথাটা যেহেতু মাহির থেকেই পেয়েছে তাই মাহিই ওকে বোঝাতে পারবে।কথাগুলো একটু ঠান্ডা মাথায় ভেবে দেখো আশফি।তুমি হয়তো রাজি নাও হতে পারো।কিন্তু আমাকে তোমার নিজের বোন ভাবলে তুমি নিশ্চই রাজি হতে।\n-“এটা সম্ভব না আলিশা।মাহি ওকে সময় দিলে ও তো মাহির প্রতি আরো দুর্বল হবে।\n-“তোমাদের একসাথে দেখে ওর রিয়্যাকশনটা কি এতোটাই নেগেটিভ ছিল আশফি?ও এখন জানে যে মাহি এখন দুজন মানুষের।তোমার আর আশনূহার।\nআর এতোটা বিবেকহীন নয় যে ও এখন আবার মাহিকে পাওয়ার চিন্তা করবে।\n-“তুমি ওর শেষের কথাগুলো শুনেছিলে?ও কি বোঝাতে চেয়েছিল?\n-“হুম শুনেছি।কিন্তু তার মানে এই না যে ও মাহিকে তোমার থেকে ফেরত চাইছে।হ্যা ও যদি আমাকে বিয়ে করতে রাজি হয় তাহলে ওর কাছে গিয়ে ওর ভালোবাসা অর্জন করতে বেশি সময় লাগবেনা।\nআশফি আলিশার কথাগুলো কিছুসময় বসে ভাবলো।তারপর চাচ্চু আর চাচিমার কথা ভেবে এমন সিদ্ধান্তে রাজি হলো আশফি।আশফির বাবা মায়ের মৃত্যুর পর আশফির চাচ্চু আর চাচিমা ওকে সবরকম ভাবে অনেক সাপোর্ট করেছে। আর আজ তার মেয়ে ওকে নিজের ভাই দাবি করে কিছু আবদার করেছে তা ও ফেলে দিতে পারবেনা।তাই মাহিকে ও এই ব্যাপারে রাজি করানোর দায়িত্ব নিলো।কিন্তু সম্পূর্ণ ওর মনের বিরুদ্ধে। যে আশফি মাহিকে কখনো কোনো ছেলের সাথে একসাথে বসে কথা বলা দেখলে তা সহ্য করতে পারেনা আর আজকে ও নিজে মাহিকে রিকোয়েস্ট করবে দুপুরের সাথে কিছুদিন মিশতে। আশফি আলিশার সামনেই মাহিকে কথাগুলো বলল।মাহি আশফির মুখে এমন কথা শুনে একদম আকাশ থেকে পড়লো মনে হলো।মাহি আশফিকে জিজ্ঞেস করলো,\n-“আশফি তুমি কি সুস্থ মস্তিষ্কে কথাগুলো বলছো?\nআশফির মাথা এমনিতেই গরম হয়ে আছে এই ব্যাপারে।তার উপর মাহির এই কথা শুনে কেনো যেনো রেগে গেলো।মাহিকে উচ্চস্বরে বলল,\n-“তোমার কি মনে হচ্ছে?আমি পাগলের সংলাপ গাইছি?\n-“পাগলের সংলাপ না গাইলে তুমি এমন কথা কিভাবে বলছো?\nআশফি আলিশার দিকে তাকিয়ে মাথা ঠান্ডা করলো।তারপর মাহিকে কথাগুলো বোঝানোর চেষ্টা করলো।কিন্তু মাহি তো কোনোমতেই রাজি হচ্ছেনা।আলিশা মাহির এমন ব্যবহার দেখে কিছুটা হতাশ হলো।প্রায় কান্না করে দেওয়ার মত অবস্থা।তারপর আলিশা রুম থেকে বেরিয়ে গেলো।আশফির খারাপ লাগলো আলিশার মুখটা দেখে।আশফি মাহিকে বিছানার উপর বসালো তারপর ওকে বলল,\n-“মাহি?এই চাচ্চু একদিন আমাকে বুকে চেঁপে ধরেছিল।বাবা মায়ের মৃত্যুর পর চাচ্চু আর চাচিমা আমাকে শক্ত হতে সাহায্য করেছিল।আজকে তারই মেয়ে আমার কাছে সাহায্য চাইছে।তাও আবার ভাই দাবি করে।আমি তো সত্যি ওর ভাই।আজকে আমার নিজের বোন হলে আমি তো সত্যিই ওর জন্য কিছু না কিছু করতাম।\n-“নিজের বউকে অন্য পুরুষকে সময় দিতে বলতে?\n-“বিষয়টা খারাপ ভাবে নিওনা।তুমি আর ওর সাথে কোনো সম্পর্কে জড়াচ্ছোনা।আগে যেমন বন্ধু ভাবতে ঠিক তেমনই বন্ধু ভাববে।\n-“কিন্তু ও তো আমাকে বন্ধু ভাববেনা।\n-“প্রেমীকাও ভাববেনা।\n-“আশফি তুমি বুঝতে পারছোনা।\n-“আমি সব বুঝতে পারছি।তাও তোমাকে এগুলো করতে হবে।\n-“আমি পারবোনা।\n-“মাহি তুমি এভাবে আমার মুখের উপর কিভাবে পারবোনা শব্দটা উচ্চারণ করতে পারলে?\n-“তুমি কি সত্যি এটা মন থেকে চাইছো?\n-“হুম।\n-“এতো ইজিলি কিভাবে মেনে নিতে পারলে?আমি তো পারছিনা।\nএই কথাগুলোর পরই ওদের রুমে চাচ্চু আর চাচিমা প্রবেশ করলো।আলিশা ওর কথাগুলো চাচ্চু আর চাচিমাকে বলেছে। আসলে একমাত্র মেয়ে তার বলা কথাগুলো ওনারা ফেলে দিতে পারছেনা। আবার এদিকে কিছু বোঝাতেও পারছেনা ওকে।সব থেকে খারাপ অবস্থার ভেতর আছে ওনারা দুজন।শেষ পর্যন্ত মেয়ের ভালো থাকার জন্য মাহির কাছে ছোট হতে বাধ্য হলো ওনারা।ওনারাও মাহিকে বোঝাতে শুরু করলো।আর মাহি শুধু বারবার আশফির মুখের দিকে তাকাচ্ছে। একবারও মাহির মনটা বুঝতে চেষ্টা করছেনা আশফি।মাহি যে দুপুরের সাথে কিছুদিন কেনো একটা ঘন্টাও আলাদাভাবে সময় দিতে পারবেনা। আবার এদিকে মাহিও এটা বুঝতে পারছেনা যে আশফিও সহ্য করতে পারছেনা এই ব্যাপারগুলো।কিন্তু তার পরও আশফি বাধ্য হচ্ছে শুধুমাত্র ওর চাচা-চাচির জন্য।মাহির সিদ্ধান্তের কাছে যেনো সবাই ব্যার্থ হলো মাহিকে বোঝাতে।মাহি শুধু আশফিকে এটুকুই বলল চাচ্চু আর চাচিমায়ের সামনে,\n-“আমি আমার মৃত্যুর শেষ সময়টুকু পর্যন্ত আমার স্বামী সন্তানকে দিতে চাই। আর সেই সময়ের কিছু অংশ আমি কোনো পর পুরু্ষের খাতে ব্যায় করতে পারবোনা।\nআশফির চাচ্চু আর চাচিমা আর কিছু না বলে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো। আশফি ও আর মাহির সাথে কথা বললোনা।রাতটা দুজনের এভাবে কেটে গেলো কথা না বলে।আশফি ভেবেছিল চাচ্চু আর চাচিমা বলার পর হয়তো মাহি বিষয়টা বুঝবে।কিন্তু মাহির কথাগুলো শুনে আশফির খুব রাগ হলো।আশফি ভাবছে,\n-“আমি জানি মাহির এই কাজটা করতে একটু কষ্ট হবে।কষ্টটা আমারও হবে।কিন্তু একবার ওদের কথা চিন্তা করে ওদেরকে মাহির হেল্প করা উচিত ছিল। সামান্য বন্ধুর মতই কিছুদিন সময় দিবে দুপুরকে আলিশার ব্যাপারগুলো বোঝানোর জন্য।তাতে এতো রিয়্যাক্ট ও না করলেও পারতো।এরপরেও যদি দুপুর আলিশাকে বিয়ে করতে রাজি না হয় তাহলে তো আর কিছু করতে হবেনা ওকে।আর কিই বা করার থাকতে পারে। কিন্তু আলিশা,চাচ্চু,চাচিমা এটুকু তো বুঝবে যে মাহি ওদের কথামত ওদের হেল্প করার চেষ্টা করেছিল।\nএগুলো ভেবেই আশফি মাহির উপর রাগ করে রইলো কিছুদিন।মাহির সাথে কথা বলতোনা,ওর কাছে আসতোনা।আর আলিশাও আর রুম থেকে বের হতোনা। চাচ্চু-চাচিমা ও খুব ভেঙ্গে পড়ছিল আলিশার ফিউচারের কথা ভেবে।আশফি দেশে আসার আগে চাচ্চুকে আশা দিয়েছিল যে ও আর মাহি এসে সব ঠিক করে দিবে কিন্তু তাদের কোনো হেল্পই করতে পারলোনা ও।ওনাদের সামনে যেতেও আশফির এখন খুব খারাপ লাগে।একদিন সন্ধ্যাই রুমে বসে আছে।সারাদিন আশফি তেমন রুম থেকে বের হয়নি।মাহি রুমে ঢুকে আশফির কাছে গিয়ে বসলো।আশফি মাহিকে দেখেও কোনো কথা বললোনা। আসলে মাহির ও খুব খারাপ লাগছে এভাবে সবাইকে বিষন্নভাবে দেখতে।কিন্তু এরপরেও মাহি পারবেনা দুপুরের সাথে নতুন করে কোনো নতুন সম্পর্ক করতে।\nহোক সেটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক।মাহি আশফির হাতটার উপর হাত রাখলো। তারপর ওকে বলল,\n-“আশফি,তোমরা কি আমাকে ভুল বুঝছো?মানে তোমাদের এটাই কেনো মনে হচ্ছে যে আমিই দুপুরকে সব বোঝাতে পারবো?তার বিপরীত কিছু ও তো হতে পারে?\n-“বিপরীত কিছু কি হবে?তোমাকে কি আমার থেকে কেড়ে নিয়ে যাবে….হ্যা? যাবেনা তো।তাহলে তোমার এতো আপত্তি কিসে?\nমাহি এবার রেগে গিয়ে বসা অবস্থা থেকে উঠে দাড়ালো।তারপর আশফিকে বলল,\n-“আপত্তি আছে।আমি একজন মেয়ে,কোনো পুরুষ নই।আমি যদি কোনো পু্রুষ মানুষের সাথে ঢলাঢলি করি বা তার সাথে শুধু বন্ধু ভেবেই সময় কাটাই তাহলেও গোটা সমাজ যেমন আমাকে তার ঘনিষ্ঠ কিছু মনে করবে তেমন যে দুপুর ও আমাকে তেমন কিছু ভাববেনা তার শিওরিটি তুমি কিভাবে দিচ্ছো?ও কি ভাববেনা যে শুধুমাত্র আলিশাকে মেনে নেওয়ার জন্য আমি ওর সাথে এসে বন্ধুত্ব করছি? আমার পার্সোনালিটিটা ওর কাছে কতোটা নিচে নেমে যাবে সেটা তুমি একবারও ভাবলেনা?\nআশফি মাহির আর কোনো উত্তর না দিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো।আশফি এখন কি করবে কিছু ভেবে পাচ্ছেনা। কিছুসময় পর আশফি রুমে আসলো আবার।তখন মাহি আশনূহাকে ঘুম পাড়াচ্ছিল।আশফি এসে মাহিকে বলল,\n-“মাহি?সবকিছু নেগেটিভলি না ভেবে একবার পসেটিভ করে ভাবলে পারতে। এতোটা স্বার্থপরতার পরিচয় তুমি দিবে তা আমি কখনো তোমার থেকে আশা করিনি।অন্তত আলিশার মনের শান্তনাটুকুর জন্য কাজটা করতে পারতে। ওর মনটা একবার বুঝতে চাইলেনা।আমি তোমাকে পাওয়ার জন্য খারাপ ভালো সবরকম পদ্ধতি ব্যবহার করেছিলাম। শুধুমাত্র তোমাকে পাওয়ার জন্য।ঠিক তেমনি আলিশাও দুপুরকে সেভাবেই পেতে চাই।কিন্তু ও তো কোনো খারাপ পদ্ধতি ব্যবহার করছেনা।কতোটা ভালোবাসলে নিজের প্রাণটাও শেষ করে দিতে চাই ও।\n-“এতোকিছুর পরও দুপুর ওকে ভালোবাসতে পারবেনা।সেখানে আমি বোঝালেই ও বুঝে যাবে?\n-“তোমাকে বোঝানোটাই বৃথা।তুমি আসলে সুখের মুখ দেখছো তো তাই অন্যের কষ্টটা অনুভব করতে পারছোনা। মস্ত বড় স্বার্থপর তুমি।\nকথাগুলো বলে আশফি বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়লো।সেদিন রাতে মাহি আশফি কেউই খাইনি।মাহি আশফির বলা কথাগুলো বারবার ভাবছে আর মনেমনে বলছে,\n-“এমন ধরনের কথা আশফি আমাকে বলতে পারলো?এতোগুলো দিনে আমার এতো রকম অন্যায়ের পরেও আশফি আমাকে এমনধরনের কথা বলেনি।আর আজকে এমন একটা বিষয়ে ও আমাকে এই কথা বলবে তা তো আমি এখনো বিশ্বাস করতে পারছিনা।\nমাহি আশফির এই ব্যবহারে যতটা কষ্ট পেলো ঠিক ততোটা রাগ ও হলো।\n★দুই দিন পর★\nআশফি বিকালে বাইরে গেছিলো।সন্ধ্যা ৭:৪০ এ বাসায় ফিরলো।বাড়িতে এসে মাহিকে কোথাও না পেয়ে মাহিকে ফোন করলো।কিন্তু মাহির ফোনটা বন্ধ।বাড়িতে ওর চাচিমার কাছে মাহির কথা জিজ্ঞেস করাতে উনি বলল,\n-“মাহি তো তুই বের হওয়ার পরই আশনূহাকে নিয়ে বের হয়ে গেলো।\n-“তুমি শুনোনি ও কোথায় যাচ্ছে?\n-“হুম।বললো বাইরে কি কাজ আছে। কিন্তু যাওয়ার সময় ওর মুখটা দেখলাম পুরো লাল হয়ে আছে। চোখ,মুখ ফোলা।মনে হলো খুব কান্না করেছে। তুই ওর সাথে আর কোনো মিসবিহেভ করিসনা।শুধু শুধু নিজেদের মাঝে ঝামেলা সৃষ্টি করার কোনো মানে আছে?আলিশার ভাগ্যে আল্লাহ্ যা লিখে রেখেছে তাই হবে।যা অসম্ভব তা চাইলে সেই আবদার তো আর রাখা যাবেনা। ওকে বুঝতে হবে যে সম্পর্ক,ভালোবাসা এগুলো কখনো জোড় করে হয়না।\nআশফি চাচিমার কথা শুনে রুমে চলে গেলো।বিছানায় বসতে বালিশের উপরে একটা চিঠি পেলো।চিঠিটা মাহির ছিল। চিঠিতে লিখা,\n-“আশফি আমি এই কয়দিনে একদম হাঁপিয়ে গেছি।তোমার এই আমার সাথে কথা না বলা,খারাপ ব্যবহার করা এগুলো আমি সহ্য করতে পারিনা। আজ পুরো এক সপ্তাহ তুমি আমার সাথে কথা বলোনা।কথা বললেও উচ্চকন্ঠে বলো।এই বিষয়গুলোর জন্য তুমি আমার সাথে এমন ব্যবহার করবে তা আসি ভাবতে পারিনি।মানলাম চাচ্চু আর চাচিমার জন্য তুমি আমাকে দুপুরের সাথে বন্ধুত্ব করতে বলেছিলে।কিন্তু সেটা আমার জন্য কেনো অসম্ভব তা তুমি কি একটু ও বুঝতে পারলেনা?তোমাকে ছাড়া আমি এই পৃথিবীতে আর কাউকে একফোটা সময় ও দিতে পারবোনা।তুমি আমার স্বামী,তুমি আমার বন্ধু আর তুমিই আমার প্রেমীক।নাটক ও করতে পারবোনা আমি দুপুরের সাথে।আমি আজকে সন্ধ্যা সাতটার ফ্লাইটে আমি জাপান চলে যাচ্ছি।আমি আর পারছিলাম না এগুলো সহ্য করতে।চাচ্চু আর চাচিমাকে বলো আমাকে যেনো তারা মাফ করে দেন।আর পারলে তুমি ও আমাকে মাফ করে দিও।\nচিঠিটা পড়ে আশফির খুব রাগ হলো। এভাবে মাহির চলে যাওয়াটা ও আশা করেনি।আশফি দ্রুত এয়ারপোর্টে গেল। ওখানে গিয়ে জানতে পারলো মাত্র দশ মিনিট আগেই জাপানের প্লেনটা ফ্লাই করেছে।আশফি বাসায় এসে ড্রয়িংরুমে বসলো।খুব বিষণ্ন দেখাচ্ছে ওকে।চাচ্চু জিজ্ঞাস করলো,\n-“মাহি কোথায় গেছে আশফি?ও ঠিক আছে তো?\n-“সাতটার ফ্লাইটে ও জাপান এর উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে।\n-“মাহি এভাবে চলে যেতে পারলো আমাদেরকে না জানিয়ে?অনেক কষ্ট দিয়ে ফেলেছি হয়তো মেয়েটাকে।\nআশফি কোনো কথা বললোনা।রুমে চলে গেলো।রাতটা আর ঘুমাতে পারলোনা।কাল ও চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।রাত ৩:৩০ টার দিকে আশফি ঘুমালো।কিন্তু আর বেশিক্ষণ ঘুমাতে পারলোনা।চাচ্চু উপরে গিয়ে আশফির রুমের দরজা ধাক্কাতে থাকলো আর আশফিকে ডাকতে থাকলো।চাচ্চুকে এভাবে ডাকতে শুনে আশফি ভয় পেয়ে গেলো।আশফি ভাবছে,\n-“আলিশা আবার কিছু করে বসলো না তো?\nআশফি দৌড়ে গিয়ে দরজা খুললো।\n-“কি হয়েছে চাচ্চু?তুমি কাঁদছো কেনো?\n-“আশফি…..?\n-“কি হয়েছে বলো?আলিশা কিছু করে ফেলেছে?\nকথাটা বলতেই আলিশা ও ছুটে আসলো আশফির কাছে।আলিশা আর চাচিমা ও কান্না করছে।আশফি আবার জিজ্ঞেস করলো,\n-“আরে কি হয়েছে বলো না তোমরা?\nচাচ্চু জবাব দিলো।\n-“কাল সন্ধ্যা সাতটায় জাপানের উদ্দেশ্যে যে প্লেনটা রওনা দিয়েছিল সেটা গতকাল রাতে ক্রাশ করেছে।মাত্র টিভিতে নিউজ চ্যানেলে দেখালো।\nচাচ্চুর কথা শুনে আশফি আর নিজেকে সামলাতে পারলোনা।দরজার কাছে দাড়িয়ে ছিল।মাথা ঘুরে পড়ে যেতে লাগলো আশফি।\n\n(কিছু পাঠকদের রিকোয়েস্টের জন্য আর একটা পার্ট বাড়িয়ে দিবো ভেবেছি।)",
        "series": {
            "id": 66,
            "title": "রোমান্টিক অত্যাচার",
            "slug": "romantic-ottachar",
            "url": "https://golpohub.com/series/romantic-ottachar",
            "thumbnail_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/series-romantik-otzacar-66-a17f8c.webp",
            "progress_status": "completed"
        },
        "author": {
            "id": 54,
            "name": "ইসরাত জাহান",
            "slug": "israt-jahan",
            "url": "https://golpohub.com/authors/israt-jahan",
            "avatar_url": "https://cdn.golpohub.com/avatars/author-israt-jahan-54-552fc6.webp",
            "bio": "ইসরাত জাহান আধুনিক বাংলা অনলাইন কথাসাহিত্যের এক আবেগপ্রবণ ও পাঠকপ্রিয় কণ্ঠস্বর। তিনি গভীর মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন, নায়কের তীব্র অধিকারবোধ ও পজেসিভ ভালোবাসা এবং সম্পর্কের জটিল দোলাচলকে নিপুণ দক্ষতায় ফুটিয়ে তোলেন। তাঁর গল্পে তীব্র সংঘাত, রোমান্টিক খুনসুটি এবং পারিবারিক মেলোড্রামা এক অনন্য গতিতে পাঠককে মোহগ্রস্ত করে রাখে।",
            "series_count": 0,
            "meta": {
                "bio": "ইসরাত জাহান আধুনিক বাংলা অনলাইন কথাসাহিত্যের এক আবেগপ্রবণ ও পাঠকপ্রিয় কণ্ঠস্বর। তিনি গভীর মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন, নায়কের তীব্র অধিকারবোধ ও পজেসিভ ভালোবাসা এবং সম্পর্কের জটিল দোলাচলকে নিপুণ দক্ষতায় ফুটিয়ে তোলেন। তাঁর গল্পে তীব্র সংঘাত, রোমান্টিক খুনসুটি এবং পারিবারিক মেলোড্রামা এক অনন্য গতিতে পাঠককে মোহগ্রস্ত করে রাখে।",
                "pen_name": "ইসরাত জাহান",
                "aliases": [
                    "Israt Jahan",
                    "ইসরাত জাহান"
                ]
            },
            "timestamps": {
                "created_at": null,
                "updated_at": null
            }
        },
        "navigation": {
            "previous_episode": {
                "id": 2342,
                "ep_number": 25,
                "title": "স্মৃতির শহরে ফিরে আসা",
                "slug": "romantic-ottachar-s2-ep25",
                "url": "https://golpohub.com/episodes/romantic-ottachar-s2-ep25",
                "thumbnail_url": "https://golpohub.com/assets/images/og.jpg"
            },
            "next_episode": {
                "id": 2344,
                "ep_number": 27,
                "title": "হারিয়ে যাওয়া স্মৃতির পুনর্জন্ম",
                "slug": "romantic-ottachar-s2-ep27",
                "url": "https://golpohub.com/episodes/romantic-ottachar-s2-ep27",
                "thumbnail_url": "https://golpohub.com/assets/images/og.jpg"
            }
        }
    }
}