{
    "_links": {
        "html": "https://golpohub.com/episodes/sehser-patay-shuru-s1-ep31",
        "json": "https://golpohub.com/episodes/sehser-patay-shuru-s1-ep31?format=json",
        "markdown": "https://golpohub.com/episodes/sehser-patay-shuru-s1-ep31?format=md",
        "rss": "https://golpohub.com/episodes/sehser-patay-shuru-s1-ep31?format=rss",
        "atom": "https://golpohub.com/episodes/sehser-patay-shuru-s1-ep31?format=atom"
    },
    "seo": {
        "canonical_url": "https://golpohub.com/episodes/sehser-patay-shuru-s1-ep31",
        "title": "শেষের পাতায় শুরু পর্ব ৩১ - বন্ধুর আগমনে চমক | Sesher Patay Shuru Part 31",
        "description": "পড়ুন শেষের পাতায় শুরু পর্ব ৩১ (বন্ধুর আগমনে চমক)। ইন্দ্রজিৎ-শালিনীর আগমন ও ঝিনুককে নিয়ে বাইরে ডিনারের আমন্ত্রণ।",
        "keywords": "শেষের পাতায় শুরু পর্ব ৩১, sesher patay shuru porbo 31, sesher patay shuru part 31, sehser patay shuru episode 31, sesher patay shuru part 31 link, রিশু, ঝিনুক, ইন্দ্রজিৎ, শালিনী",
        "image_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-chapter-2504-e04eb4.webp",
        "schema": {
            "@context": "https://schema.org",
            "@graph": [
                {
                    "@type": "Chapter",
                    "name": "বন্ধুর আগমনে চমক",
                    "position": 31,
                    "description": "হঠাৎ ইন্দ্রজিৎ ও শালিনী এসে উপস্থিত হয় ফ্ল্যাটে। নতুন বউকে নিয়ে বাইরে পাঁচতারা রেস্তোরাঁয় ডিনারের তোড়জোড় শুরু হতেই রিশু ও ঝিনুকের ঘরোয়া জীবনে কি এক উৎসবের রং লাগবে?",
                    "url": "https://golpohub.com/episodes/sehser-patay-shuru-s1-ep31",
                    "inLanguage": "bn",
                    "timeRequired": "PT12M",
                    "datePublished": "2026-09-14T16:50:40+00:00",
                    "dateModified": "2026-09-14T16:54:33+00:00",
                    "wordCount": 1881,
                    "image": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-chapter-2504-e04eb4.webp",
                    "accessibilityFeature": [
                        "readingOrder",
                        "structuralNavigation",
                        "displayTransformability",
                        "uncontracted"
                    ],
                    "accessibilityControl": [
                        "fullKeyboardControl",
                        "fullTouchControl"
                    ],
                    "accessibilityHazard": [
                        "none"
                    ],
                    "potentialAction": {
                        "@type": "ReadAction",
                        "target": "https://golpohub.com/episodes/sehser-patay-shuru-s1-ep31"
                    },
                    "isPartOf": {
                        "@type": [
                            "BookSeries",
                            "CreativeWorkSeries"
                        ],
                        "name": "শেষের পাতায় শুরু",
                        "url": "https://golpohub.com/series/sehser-patay-shuru"
                    },
                    "author": {
                        "@type": "Person",
                        "name": "পিনুরাম",
                        "url": "https://golpohub.com/authors/pinuram"
                    }
                },
                {
                    "@type": "BreadcrumbList",
                    "itemListElement": [
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 1,
                            "name": "Golpo Hub",
                            "item": "https://golpohub.com"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 2,
                            "name": "সিরিজসমূহ",
                            "item": "https://golpohub.com/series"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 3,
                            "name": "শেষের পাতায় শুরু",
                            "item": "https://golpohub.com/series/sehser-patay-shuru"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 4,
                            "name": "বন্ধুর আগমনে চমক",
                            "item": "https://golpohub.com/episodes/sehser-patay-shuru-s1-ep31"
                        }
                    ]
                }
            ]
        }
    },
    "filters": [],
    "data": {
        "id": 2504,
        "ep_number": 31,
        "title": "বন্ধুর আগমনে চমক",
        "slug": "sehser-patay-shuru-s1-ep31",
        "url": "https://golpohub.com/episodes/sehser-patay-shuru-s1-ep31",
        "reading_time": 12,
        "thumbnail_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-chapter-2504-e04eb4.webp",
        "yt_video_id": null,
        "yt_video_url": null,
        "timestamps": {
            "published_at": "2026-09-14T16:50:40+00:00",
            "updated_at": "2026-09-14T16:54:33+00:00"
        },
        "meta": {
            "word_count": 1881,
            "seo_title": "শেষের পাতায় শুরু পর্ব ৩১ - বন্ধুর আগমনে চমক | Sesher Patay Shuru Part 31",
            "seo_description": "পড়ুন শেষের পাতায় শুরু পর্ব ৩১ (বন্ধুর আগমনে চমক)। ইন্দ্রজিৎ-শালিনীর আগমন ও ঝিনুককে নিয়ে বাইরে ডিনারের আমন্ত্রণ।",
            "keywords": "শেষের পাতায় শুরু পর্ব ৩১, sesher patay shuru porbo 31, sesher patay shuru part 31, sehser patay shuru episode 31, sesher patay shuru part 31 link, রিশু, ঝিনুক, ইন্দ্রজিৎ, শালিনী",
            "characters_involved": [
                "অম্বরীশ (রিশু)",
                "সঙ্ঘমিত্রা (ঝিনুক)",
                "ইন্দ্রজিৎ",
                "শালিনী"
            ]
        },
        "content": "ওপিডি শেষ, তারপরে কাজের রিপোর্ট জমা দেওয়া, ফারস্ট ইয়ারের ছাত্র ছাত্রীদের সাথে একটু পড়াশুনা নিয়ে আলাপ আলোচনা, এই সব সেরে যখন বাড়ি ফেরার জন্য পা বাড়ায় তখন সন্ধ্যে হয়ে গেছে। প্রত্যকেদিন ভাবে একটু তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরবে, কিন্তু শেষ মুহূর্তে কোন কাজ এসে পরে আর ঠিক সময়ে কোনদিন বের হওয়া যায় না। ঝিনুকের কথা মনে পড়তেই মনে মনে হেসে ফেলে রিশু। এত দিনেও তার সাথে ঠিক ভাবে পরিচয় করা হয়ে ওঠেনি, কি ভালোবাসে, কিসে অপছন্দ, এরপর কি করতে চায় কিছুই জানে না, শুধু জানে যে মেয়েটা সাজতে ভীষণ ভালোবাসে, একটু ভুলো মনের, স্নানের পরে জামা কাপড় গুলো সেই বাথরুমেই পরে থাকে, বিকেলে বাড়ি ফিরে স্নান সেরে নিজেই ওর জামা কাপড় গুলো বারান্দায় শুকাতে দেয়। তখন ঝিনুকের মনে পরে যে নিজের জামা কাপড় শুকাতে দেয়নি আর তখন ওর হাত থেকে নিয়ে যায়। মনে মনে হেসে ফেলে রিশু, সেই সাথে বুঝতে চেষ্টা করে দুষ্টু মিষ্টি ঝিনুকের মানসিক অবস্থা। যখন চন্দ্রিকা ওকে ছেড়ে চলে গিয়েছিল তখন চন্দ্রিকাকে ভোলার জন্য ওর কাছে অঢেল সময় ছিল, পড়াশুনায় নিজেকে ডুবিয়ে নিয়েছিল, কিন্তু ঝিনুকের বয়স সবে মাত্র তেইশ, একদিনের মধ্যে ওর ওপরে যে ঝঞ্ঝা গেছে সেখান থেকে তাড়াতাড়ি বেড়িয়ে আসা দুস্কর। নিজেকেই প্রশ্ন করে রিশু, পা বাড়াতে দ্বিধা কেন? শুধু কি মেয়েটা একটু দুরন্ত আর অবাধ্য ছিল তাই? ওদের বিয়ের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে, সেই দুরন্তপনার কিছুই ওর চোখে পরেনি, তার চেয়ে ওর বাড়িতে যে তন্বী তরুণীর বাস তার ফর্সা পায়ের সুগোল গোড়ালিতে বাঁধা নুপুরের নিক্কনে রোজ সকালে আনমনা হয়ে যায় রিশুর চিত্ত।\n\nপারকিঙ্গের দিকে হাঁটতে হাঁটতে রিশু মাকে ফোন করে, সারাদিনের খবরা খবর না জানানো পর্যন্ত ওর স্বস্তি হত না, অন্যপাশে ওর মা সারাদিন উন্মুখ হয়ে থাকে ছেলের ফোনের জন্য। প্রত্যকে বারের মতন এক প্রশ্ন মায়ের, কেমন আছিস বাবা? এই চলছে, ছাড়া এর বেশি আর কোন সঠিক উত্তর খুঁজে পায় না আজকাল। আগে এর উত্তরে অনেক কিছু বলার থাকত ওর কাছে, আজকে হসপিটালে এই করেছে, কত গুলো অপারেশান হয়েছে, কাজের মেয়ে কি রান্না করে গেছে, ঠান্ডা কেমন পড়েছে ইত্যাদি। ভাই বোনের কলেজের পরীক্ষা চলছে, মাঝে মাঝে দিয়ার প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়, রাতে ইন্টারনেট ঘেঁটে সেই উত্তর খুঁজে মেসেজ করে পাঠিয়ে দেয়। মাকে জানিয়ে দেয় আগামী জানুয়ারিতে লন্ডনের সেমিনারে যাওয়ার ব্যাপারে। মা ভীষণ খুশি তবে প্রশ্ন করেছিল যে ততদিন ঝিনুক কোথায় থাকবে। এর উত্তর এখন জানে না রিশু, পরিচয়ের পরিধি যদি বাড়ে ততদিনে তাহলে সঙ্গে নিয়ে যাবে এটাই ভেবে রেখেছিল।\n\nমায়ের ফোন রাখতেই মোবাইলে মেসেজের আওয়াজ আসে, খুলে দেখে ঝিনুকের মেসেজ, “কখন ফিরবে?”\n\nমুচকি হেসে মাথা দোলায় রিশু, উত্তর লিখে পাঠায়, “বেড়িয়ে গেছি।”\n\nসঙ্গে সঙ্গে ফোন আসে ঝিনুকের, “কতক্ষনে লাগবে আসতে? চা বসিয়ে দেব?”\n\nউচ্ছল চপলার কন্ঠস্বর শুনে হেসে ফেলে রিশু, “পরে বানিও, জ্যামে ফেঁসে গেলে কতক্ষন লাগবে জানি না।”\n\nজ্যামের কথা শুনে দমে যায় ঝিনুক, ভারাক্রান্ত মনেই উত্তর দেয়, “আচ্ছা, সাবধানে এসো। আজকে আবার ঠান্ডাটা খুব বেশি করেই পড়েছে।”\n\nকথাটা শুনে ভীষণ ভালো লাগে রিশুর, এতদিন এই ধরনের দুশ্চিন্তার ভাবনা কি আসেনি ওর মধ্যে? হয়ত এসেছে কিন্তু এতদিন মুখ ফুটে বলতে পারেনি। রিশুও নিজে আগ বাড়িয়ে কোনদিন সেই ধরনের কোন উক্তি প্রকাশ করেনি ঝিনুকের সমক্ষে। পুরুষ শাসিত সমাজে ওকেই সরবাগ্রে পদক্ষেপ নিতে হবে, কিন্তু যে ঝিনুকের কথা শুনেছে সেই ঝিনুক কি কোনদিন ওর সমক্ষে আসবে না। মনে মনে হেসে ফেলে রিশু, বারবার সেই ছবিটার কথা মনে পরে যায়, প্রথমদিনে ওর বোন গাড়িতে যে ঝিনুকের ছবি দেখিয়েছিল।\n\nঝিনুকের ফোন রাখা মাত্র ইন্দ্রিজিতের ফোন আসে, “কি রে কি ব্যাপার, একদম উধাও হয়ে গেলি?”\n\nহেসে ফেলে রিশু, “বিয়ের পরে পালিয়ে গেলি, দিল্লী ফিরে সেই যে একবার ফোন করলি তারপর তোর আর দেখা নেই যে। আবার আমাকে কেন বলতে যাস।”\n\nইন্দ্রজিত উত্তর দেয়, “ওকে বস, আমরা দুইজনে এই পৌঁছে যাচ্ছি তোর বাড়ি। ডিনার কিন্তু তোর তরফ থেকে।”\n\nরিশু উত্তর দেয়, “আচ্ছা আয়, ডিনার বাইরে কোথাও করে নেব।”\n\nইন্দ্রজিত অবাক হয়েই প্রশ্ন করে, “বাইরে কেন?”\n\nহেসে ফেলে রিশু, “না মানে এখন ঝিনুক ঠিক ভাবে সড়গড় নয়, নতুন জায়গা তাই এখন রান্না করে না। ওই কাজের লোকটাই রান্না করে যায়।”\n\nইন্দ্রজিত কিছুক্ষন চুপ থাকার পরে জিজ্ঞেস করে, “সব ঠিক আছে ত?”\n\nকি উত্তর দেবে, মা আর বোনের পরে এই ইন্দ্রজিত আর শালিনী, এদের কাছে কিছুই লুকায় না রিশু। তবে ইদানিং মা ছাড়া আর কাউকে সব কথা জানায় না তাই উত্তর দেয়, “বিন্দাস আছি রে, তুই বাড়ি আয়।”\n\nশালিনী ইন্দ্রজিতের হাত থেকে ফোন নিয়ে বলে, “ভাইয়া, আমরা কিন্তু তোমার বাড়ির সামনে পৌঁছে গেছি প্রায়।”\n\nশালিনীর কথা শুনে রিশু অবাক হয়ে যায় ওরা যে এত তাড়াতাড়ি বাড়িতে পৌঁছে যাবে সেটা আশা করেনি। বিয়ের সময়ে ঝিনুকের সাথে ইন্দ্রজিত আর শালিনীর পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময় হয়নি কারণ ওদের মাঝে কোন কথাবার্তা হয়নি সেই সময়ে। বাড়িতে ঝিনুক একা ভেবেই ভীষণ অপ্রস্তুত হয়ে পরে রিশু, সঙ্গে সঙ্গে ওদের বলে, “আরে, ঝিনুক একা বাড়িতে।”\n\nহেসে ফেলে শালিনী, “না না, ভাবীকে নিয়ে পালাচ্ছি না চিন্তা নেই।”\n\nহেসে ফেলে রিশু, “আচ্ছা আমি ঝিনুককে ফোন করে দিচ্ছি।”\n\nওদের ফোন রেখে আবার ঝিনুককে ফোন করে রিশু জানিয়ে দেয় ইন্দ্রজিত আর শালিনীর আসার কথা। কলেজে থাকাকালীন মেয়েদের সাথে গায়ে পরে খেজুরে আলাপ করত ইন্দ্রজিত, যদিও এখন আর সেইভাবে কোন মেয়েদের সাথে গায়ে পরে আলাপ পরিচিতি করে না তবুও ঝিনুকের ব্যাপারে মনের কোন এক গভীর কোনায় অধিকারবোধ জেগে ওঠে, যতই হোক ওর বিবাহিতা স্ত্রী। হেলমেট পরে তাড়াতাড়ি বাইক নিয়ে বেড়িয়ে পরে বাড়ির উদ্দেশ্যে।\n\nযদিও একটু দোনামনা করছিল ঝিনুক, রিশুর অবর্তমানে কোন অচেনা মানুষের সাথে কিভাবে কথাবার্তা বলবে সেটা ভেবে পাচ্ছিল না, কিন্তু রিশু জানিয়েছে যে ইন্দ্রজিত ওর প্রিয় বন্ধু তাই কিছু বলতে পারেনি। বলার জন্য অনেক কিছুই ভেবে রেখেছিল, বাড়িতে একা একা থাকতে থাকতে ভীষণ একঘেয়ে লাগছিল ওর, রিতিকার সাথে পরেরদিন বেড়াতে যাওয়ার কথা একটু বুঝে শুনে বলতে হবে তার জন্য নিজেকে তৈরি করেছিল। ভেবেছিল রিশু এলে এক সাথে চা খেতে খেতে রিতিকার ব্যাপারে জানাবে। এই সুদুর দিল্লীতে রিতিকা ছাড়া আর কোন জানাশোনা নেই। অগত্যা রিশুর বন্ধু এবং বন্ধু পত্নীর আগমন হবে শুনে একটা সালোয়ার কামিজ পরে তৈরি হয়ে নেয় ঝিনুক। দরজায় কলিং বেলের আওয়াজ শুনেই বুকের ভেতরটা কেমন যেন ধুক করে ওঠে ওর। অপরিচিত মানুষ কিন্তু রিশুর প্রিয় বন্ধু কেমন ভাবে তাদের আদর আপ্যায়ন করবে সেটা ভেবেই পায়না। দরজা খুলে শালিনী আর ইন্দ্রজিতকে দেখে কি ভাবে সম্বোধন করবে ভেবে পায় না ঝিনুক। বার্তালাপ ইংরেজি আর হিন্দি মিশিয়ে শুরু হয় কারণ শালিনী অথবা ইন্দ্রজিত কেউই বাংলা জানে না।\n\nশালিনী ওর ইতস্তত ভাব দেখে হেসে ওর হাত ধরে বলে, “আমি শালিনী, বিয়েতে ঠিক ভাবে পরিচয় হল না।”\n\nকি বলবে ভেবে পায়না ঝিনুক, প্রত্যুত্তরে একটু হেসে বলে, “হ্যাঁ, অনেক ঝামেলার মধ্যে সবাই ছিলাম। আপনারা আসবেন জানিয়ে ও এই একটু আগেই ফোন করেছিল।”\n\nবাইরের মানুষের সামনে রিশুকে কি ভাবে সম্বোধন করবে সেটা ভেবে পায় না। মায়ের সাথে কথা বলার সময়ে রিশুর নাম হয়ে যায় “তোমার জামাই” বোনের সাথে কথা বলার সময় সেটা পালটে যায় “তোর জিজু” কিন্তু নিজের ঠোঁটে আজ পর্যন্ত নাম নিতে পারেনি, “এইযে” বলেই বরাবর সম্বোধন করে গেছে।\n\nইন্দ্রজিত ঝিনুকের সামনে একটু ঝুঁকে হেসে বলে, “রোজ ইজ ভেরি ডাল ইনফ্রন্ট অফ ইউ (গোলাপ তোমার সামনে তুচ্ছ), থ্রিবার্ড অর ক্যাটলেয়া অর্কিড? এইবারে বুঝেছি ব্যাটা এক রাতের মধ্যে কেন দৌড়াতে দৌড়াতে কোলকাতা পৌঁছে গেল।”\n\nমনে মনে হেসে ফেলে ঝিনুক, ডাক্তার ওর জন্য কোলকাতা দৌড়ে যায়নি, গিয়েছিল নিজের ভাইয়ের হাত ভাঙ্গার কথা শুনে। ইন্দ্রজিতের কথা শুনে ভীষণ লজ্জা পেয়ে যায়। যে অর্কিড ফুলের নাম বলল ইন্দ্রজিত তার একটারও নাম কোনদিন শোনেনি। একেবারে অচেনা মানুষের মুখ থেকে এই ধরনের কথাবার্তা একদম আশা করেনি।\n\nশালিনী স্বামীকে মৃদু ধমক দিয়ে চুপ করিয়ে বলে, “আরে তুমি থামবে। এসেই শুরু করে দিয়েছ?” তারপরে ঝিনুককে সোফায় বসিয়ে হাত ধরে বলে, “সো, ভাইয়া কখন ফিরবে বলেছে?”\n\nঝিনুক উত্তরে বলে, “হস্পিটাল থেকে বেড়িয়ে পড়েছে, এই কিছুক্ষনের মধ্যেই ফিরে আসবে।”\n\nইন্দ্রজিত নিজেই রান্না ঘরে ঢুকে একটা ডেকচিতে চায়ের জল বসিয়ে দিয়ে ঝিনুককে জিজ্ঞেস করে, “ও ব্যাটা ত গরম জল গেলে, তুমিও কি ওর সাথে গরম জল খাও নাকি?”\n\nহটাত করে ইন্দ্রজিতকে রান্নাঘরে ঢুকে চা বানাতে দেখে, ঝিনুক ভীষণ ভাবেই অপ্রস্তুত হয়ে পরে। ও সঙ্গে সঙ্গে সোফা ছেড়ে উঠে বাধা দিয়ে বলে, “এই না না আপনাকে চা বানাতে হবে না, আমি বানিয়ে দিচ্ছি।”\n\nশালিনী ওর হাত ধরে পাশে বসিয়ে হেসে বলে, “তুমি এই বাড়িতে নতুন, এখানে আমাদের যাওয়ার আসা বিগত ছয় বছর ধরে। ও যা করছে করতে দাও, তুমি আমার পাশে বস।” ওর গালে হাত বুলিয়ে মিষ্টি হেসে বলে, “আর ওই আপনি বলা ছাড়তে হবে কিন্তু। নো ফরমালিটিস, উই আর ফ্রেন্ডস।” শালিনীর কথা শুনে বেশ ভালো লাগে ঝিনুকের।\n\nচা বানাতে বানাতে রান্নাঘর থেকেই ইন্দ্রজিত ওদের উদ্দেশ্যে বলে, “গেট রেডি, আমরা আজকে বাইরে ডিনার করব।”\n\nইন্দ্রজিতের কথায় ভীষণ ভাবেই অপ্রস্তুত হয়ে পরে ঝিনুক তাই আমতা আমতা করে বলে, “ও আসুক তারপরে না হয়ে...”\n\nইন্দ্রজিত হেসে ফেলে, “ও ব্যাটার জন্য অপেক্ষা করে লাভ নেই, আমরা তোমাকে হাইজ্যাক করে নিয়ে যেতে এসেছি।”\n\nশালিনীও হেসে বলে, “ভাইয়া কে চেনা আছে, বাড়ি ফিরবে তারপর স্নান করবে, এপাশ ওপাশ ধপাস করবে তারপরে আবার জামা কাপড় পড়বে তাতে অনেক দেরি, তুমি রেডি হও তাহলে ভাইয়া আর বেশি দেরি করতে পারবে না।”\n\nহয়ত সেই রিশু আর নেই, বাড়ি ফিরেই সব থেকে আগে স্নান সেরে কোন মতে এক কাপ চা খেয়েই ওকে জিজ্ঞেস করে বাজারে যাওয়ার কথা। ঝিনুক তাও ওদের বলে, “না মানে ক্লান্ত হয়ে আসবে এসেই আবার...”\n\nশালিনী চোখ টিপে হেসে বলে, “আচ্ছাআআ, ভাইয়ার জন্য এত চিন্তা?”\n\nলজ্জায় পরে যায় ঝিনুক, প্রত্যেক দিন হসপিটাল থেকে বাড়ি ফিরে স্নান সেরে কিছু কেনাকাটা না থাকলেও ওকে নিয়ে এই সামনের বাজারে যায়। ঝিনুক বুঝতে পারে যে রিশু অন্তত এটা বোঝে যে সারাদিন ও একা একা বাড়িতে থেকে একঘেয়ে হয়ে যায়। রিশু কোনদিন ওর পোশাকের দিকে নজর দেয়নি তাও রিশুর মার্জিত স্বভাব পাশে আধুনিক পোশাক অর্থাৎ জিনস টপ শারট ইত্যাদি পরে বের হতে কেমন যেন লাগে। কথায় গল্পে ঝিনুক জানতে পারে যে শালিনী আর ইন্দ্রজিত দুইজনেই ডাক্তার, শালিনী নিওন্যাটালোজিস্ট আর ইন্দ্রজিত জেনারেল মেডিসিন নিয়ে এমডি করেছে। এরা সবাই কত শিক্ষিত ভেবেই নিজেকে খুব হীন বলে মনে হয় ওর, কিন্তু শালিনীর মিষ্টি ব্যাবহারের ফলে সেই জড়তা কিছুক্ষনের মধ্যেই কেটে যায়। ওদের সাথে গল্প করলেও ঝিনুকের কান সজাগ ছিল, অপেক্ষায় ছিল কখন রিশুর বাইকের আওয়াজ শুনতে পাবে। কিছুক্ষনের মধ্যেই ওর চিরপরিচিত বাইকের আওয়াজ শুনেই মনে হল দৌড়ে বারান্দায় যায়, কিন্তু শালিনী আর ইন্দ্রজিত থাকার ফলে সেই উত্তেজনা দমন করে নেয়।\n\nকিছুক্ষনের পরে দরজায় কলিং বেলের আওয়াজে ঝিনুক হেসে বলে, “ওই শেষ পর্যন্ত এসে গেছে।”\n\nবাইক পার্ক করার সময়ে রোজদিনের মতন একবার ওর ফ্লাটের বারান্দার দিকে তাকিয়ে দেখে, না সেদিন আর দাঁড়িয়ে নেই, বুঝতে দেরি হয় না যে এতক্ষনে নিশ্চয় ইন্দ্রজিত আর শালিনী ওর বাড়িতে পৌঁছে গেছে। তাড়াতাড়ি সিঁড়ি চেপে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে কলিং বেলে বাজায়। ঝিনুক যেন দরজার কাছেই অপেক্ষা করেছিল, কলিং বেলের আওয়াজ শেষ হওয়ার আগেই দরজা খুলে দেয়। ঝিনুকের চোখের মিষ্টি হাসির টানে ক্ষনিকের জন্য সব কিছু ভুলে যায় রিশু।\n\nইন্দ্রজিত ঝিনুকের পেছনেই দাঁড়িয়ে ছিল, ওকে দেখে হেসে ফেলে বলে, “আরে ভাই নিজের বাড়ি ইয়ার, ঢুকে পর, ওইখানে অত দাঁড়িয়ে কি হবে।”\n\nহেসে ফেলে রিশু, “এতদিন পরে তোর আসার সময় হল?”\n\nইন্দ্রজিত ওকে জড়িয়ে ধরে বলে, “বোকা... আমি ত তাও এসেছি, তুই ত এসে শুধু একবার ফোন করলি।”\n\nরিশু হেসে উত্তর দেয়, “কাজের চাপে আছি ভাই।”\n\nইন্দ্রজিত উত্তর দেয়, “বালের ঢপের চপ। চল তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নে আজকে বাইরে ডিনার করব।”\n\nরিশুর হাত থেকে ব্যাগ আর এপ্রন নেওয়ার জন্য হাত বাড়ায় ঝিনুক। বাকিদের অলক্ষ্যে ঝিনুকের দিকে একটু মাথা নুইয়ে একটু হেসে ওর হাতের ব্যাগ দিয়ে দেয়। সেই প্রথম দিনে এক বার ঝিনুক ওর হাত থেকে ব্যাগ নেওয়ার জন্য হাত বাড়িয়েছিল, সেদিন বারণ করে দেওয়ার পরে কোনদিন নিজের গন্ডি উলঙ্ঘন করেনি। ঝিনুক ওর ব্যাগ, এপ্রন আর স্টেথো নিয়ে ছোট ঘরের দিকে রাখতে চলে যায়। ইন্দ্রজিতের সাথে কথা বললেও ওর চোখ আটকে থাকে ঝিনুকের চলে যাওয়া দিকে। ভারী নিতম্বের দুলুনি, ছোট ছোট পায়ের চলন আর পিঠের ওপরে ঢেউ খেলানো চুলের আলোড়ন রিশুর বুকের রক্ত জলে ভরা ঘড়ার মতন ছলাত ছলাত করে ওঠে। উফফ মেয়েটা সত্যি মন কাড়তে ওস্তাদ। কোথায় ছিল এই রূপ? রোজদিন যেন এক নতুন রূপে ওর সামনে আবির্ভাব হয় ওর প্রেয়সী, যেন চোখের ভাষায় ওকে সাবধান করে বলে, শুধু দেখবে ছুঁতে অত সহজে দেব না। ঠিক যেন কারটুনের টম আর জেরির খেলা, কে কাকে বেশি উত্যক্ত করে তুলতে পারে সেই নিয়েই এদের যুদ্ধ।",
        "series": {
            "id": 70,
            "title": "শেষের পাতায় শুরু",
            "slug": "sehser-patay-shuru",
            "url": "https://golpohub.com/series/sehser-patay-shuru",
            "thumbnail_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/series-sesher-patay-suru-70-3cb003.webp",
            "progress_status": "completed"
        },
        "author": {
            "id": 22,
            "name": "পিনুরাম",
            "slug": "pinuram",
            "url": "https://golpohub.com/authors/pinuram",
            "avatar_url": "https://cdn.golpohub.com/avatars/pinuram-22-995484.webp",
            "bio": "পিনুরাম বাংলা কথাসাহিত্যের এক সংবেদনশীল ও মননশীল রূপকার। মানবজীবনের টানাপোড়েন, দায়িত্ববোধের কঠিন আত্মত্যাগ এবং সামাজিক শৃঙ্খলের ভেতর লুকিয়ে থাকা সূক্ষ্ম অনুভূতির রূপায়ণে তাঁর লেখনী অনন্য। তাঁর চরিত্ররা আবেগতাড়িত ভুলের ভেতর দিয়ে হেঁটে এসে অবশেষে গভীর আত্মোপলব্ধি ও দায়িত্বশীল মানবিকতায় পূর্ণতা পায়। বাস্তব জীবনের জটিল মনস্তত্ত্ব ও আত্মশুদ্ধির মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা তাঁর গল্পগুলো পাঠকদের চিত্তে শুভ ও ইতিবাচক চেতনার বিস্তার ঘটায়।",
            "series_count": 0,
            "meta": {
                "bio": "পিনুরাম বাংলা কথাসাহিত্যের এক সংবেদনশীল ও মননশীল রূপকার। মানবজীবনের টানাপোড়েন, দায়িত্ববোধের কঠিন আত্মত্যাগ এবং সামাজিক শৃঙ্খলের ভেতর লুকিয়ে থাকা সূক্ষ্ম অনুভূতির রূপায়ণে তাঁর লেখনী অনন্য। তাঁর চরিত্ররা আবেগতাড়িত ভুলের ভেতর দিয়ে হেঁটে এসে অবশেষে গভীর আত্মোপলব্ধি ও দায়িত্বশীল মানবিকতায় পূর্ণতা পায়। বাস্তব জীবনের জটিল মনস্তত্ত্ব ও আত্মশুদ্ধির মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা তাঁর গল্পগুলো পাঠকদের চিত্তে শুভ ও ইতিবাচক চেতনার বিস্তার ঘটায়।",
                "phone": null,
                "gender": "male",
                "address": {
                    "country": "India"
                },
                "birth_date": null,
                "social_links": [],
                "pen_name": "পিনুরাম",
                "aliases": [
                    "Pinuram",
                    "Pinu Ram"
                ]
            },
            "timestamps": {
                "created_at": null,
                "updated_at": null
            }
        },
        "navigation": {
            "previous_episode": {
                "id": 2503,
                "ep_number": 30,
                "title": "লন্ডন সেমিনারের বার্তা",
                "slug": "sehser-patay-shuru-s1-ep30",
                "url": "https://golpohub.com/episodes/sehser-patay-shuru-s1-ep30",
                "thumbnail_url": "https://golpohub.com/assets/images/og.jpg"
            },
            "next_episode": {
                "id": 2505,
                "ep_number": 32,
                "title": "লাল শাড়ির মোহময়ী রূপ",
                "slug": "sehser-patay-shuru-s1-ep32",
                "url": "https://golpohub.com/episodes/sehser-patay-shuru-s1-ep32",
                "thumbnail_url": "https://golpohub.com/assets/images/og.jpg"
            }
        }
    }
}