{
    "_links": {
        "html": "https://golpohub.com/episodes/sehser-patay-shuru-s1-ep35",
        "json": "https://golpohub.com/episodes/sehser-patay-shuru-s1-ep35?format=json",
        "markdown": "https://golpohub.com/episodes/sehser-patay-shuru-s1-ep35?format=md",
        "rss": "https://golpohub.com/episodes/sehser-patay-shuru-s1-ep35?format=rss",
        "atom": "https://golpohub.com/episodes/sehser-patay-shuru-s1-ep35?format=atom"
    },
    "seo": {
        "canonical_url": "https://golpohub.com/episodes/sehser-patay-shuru-s1-ep35",
        "title": "শেষের পাতায় শুরু পর্ব ৩৫ - ললাটে প্রথম স্পর্শের দাগ | Sesher Patay Shuru Part 35",
        "description": "পড়ুন শেষের পাতায় শুরু পর্ব ৩৫ (ললাটে প্রথম স্পর্শের দাগ)। চোখের জল মোছানো ও রিশুর ভালোবাসার প্রথম স্বীকারোক্তির অধ্যায়।",
        "keywords": "শেষের পাতায় শুরু পর্ব ৩৫, sesher patay shuru porbo 35, sesher patay shuru part 35, sehser patay shuru episode 35, sesher patay shuru part 35 link, রিশু, ঝিনুক, প্রথম চুম্বন, স্বীকারোক্তি",
        "image_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-chapter-2508-dc5217.webp",
        "schema": {
            "@context": "https://schema.org",
            "@graph": [
                {
                    "@type": "Chapter",
                    "name": "ললাটে প্রথম স্পর্শের দাগ",
                    "position": 35,
                    "description": "শোয়ার ঘরে এসে অভিমানের অশ্রু ঝরিয়ে ঝিনুক স্বীকার করে তার একাকীত্ব। পরম মমতায় তার চোখের জল মুছে দিয়ে রিশু যখন প্রথমবারের মতো কপালে গভীর চুম্বন এঁকে দেয়, তখন কি ঝিনুকের সব ক্ষত মুছে যাবে?",
                    "url": "https://golpohub.com/episodes/sehser-patay-shuru-s1-ep35",
                    "inLanguage": "bn",
                    "timeRequired": "PT13M",
                    "datePublished": "2026-09-14T16:50:40+00:00",
                    "dateModified": "2026-09-14T16:54:33+00:00",
                    "wordCount": 2014,
                    "image": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-chapter-2508-dc5217.webp",
                    "accessibilityFeature": [
                        "readingOrder",
                        "structuralNavigation",
                        "displayTransformability",
                        "uncontracted"
                    ],
                    "accessibilityControl": [
                        "fullKeyboardControl",
                        "fullTouchControl"
                    ],
                    "accessibilityHazard": [
                        "none"
                    ],
                    "potentialAction": {
                        "@type": "ReadAction",
                        "target": "https://golpohub.com/episodes/sehser-patay-shuru-s1-ep35"
                    },
                    "isPartOf": {
                        "@type": [
                            "BookSeries",
                            "CreativeWorkSeries"
                        ],
                        "name": "শেষের পাতায় শুরু",
                        "url": "https://golpohub.com/series/sehser-patay-shuru"
                    },
                    "author": {
                        "@type": "Person",
                        "name": "পিনুরাম",
                        "url": "https://golpohub.com/authors/pinuram"
                    }
                },
                {
                    "@type": "BreadcrumbList",
                    "itemListElement": [
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 1,
                            "name": "Golpo Hub",
                            "item": "https://golpohub.com"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 2,
                            "name": "সিরিজসমূহ",
                            "item": "https://golpohub.com/series"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 3,
                            "name": "শেষের পাতায় শুরু",
                            "item": "https://golpohub.com/series/sehser-patay-shuru"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 4,
                            "name": "ললাটে প্রথম স্পর্শের দাগ",
                            "item": "https://golpohub.com/episodes/sehser-patay-shuru-s1-ep35"
                        }
                    ]
                }
            ]
        }
    },
    "filters": [],
    "data": {
        "id": 2508,
        "ep_number": 35,
        "title": "ললাটে প্রথম স্পর্শের দাগ",
        "slug": "sehser-patay-shuru-s1-ep35",
        "url": "https://golpohub.com/episodes/sehser-patay-shuru-s1-ep35",
        "reading_time": 13,
        "thumbnail_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-chapter-2508-dc5217.webp",
        "yt_video_id": null,
        "yt_video_url": null,
        "timestamps": {
            "published_at": "2026-09-14T16:50:40+00:00",
            "updated_at": "2026-09-14T16:54:33+00:00"
        },
        "meta": {
            "word_count": 2014,
            "seo_title": "শেষের পাতায় শুরু পর্ব ৩৫ - ললাটে প্রথম স্পর্শের দাগ | Sesher Patay Shuru Part 35",
            "seo_description": "পড়ুন শেষের পাতায় শুরু পর্ব ৩৫ (ললাটে প্রথম স্পর্শের দাগ)। চোখের জল মোছানো ও রিশুর ভালোবাসার প্রথম স্বীকারোক্তির অধ্যায়।",
            "keywords": "শেষের পাতায় শুরু পর্ব ৩৫, sesher patay shuru porbo 35, sesher patay shuru part 35, sehser patay shuru episode 35, sesher patay shuru part 35 link, রিশু, ঝিনুক, প্রথম চুম্বন, স্বীকারোক্তি",
            "characters_involved": [
                "অম্বরীশ (রিশু)",
                "সঙ্ঘমিত্রা (ঝিনুক)"
            ]
        },
        "content": "বাথরুমে ঢুকেই গিজার চালিয়ে দিয়েছিল, তাড়াতাড়ি মুখের ওপরে গরম জলের ঝাপটা মেরে উত্তর দেয়, “হ্যাঁ এই হয়ে গেছে।”\n\nবেশি দেরি করলে ওর সুন্দরী প্রেয়সী ক্ষেপে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। তাড়াতাড়ি হাত পা ধুয়ে বাইরের জামা কাপড় ছেড়ে ঘরের জামা কাপড় পরে বাথরুম থেকে বেড়িয়ে পরে রিশু। দরজা খোলা মাত্রই ঝিনুকের সাথে চখাচুখি হয়। বাইরের পোশাক ছেড়ে একটা ঢিলে টপ ওপরে পরে নিয়েছে, টপের বাঁ দিকটা বাঁ কাঁধ ছাড়িয়ে বাজুর ওপরে নেমে যাওয়াতে ফর্সা গোল কাঁধের অনেকাংশ বেড়িয়ে পড়েছে। বাঁধন খোলা এলো চুলের কয়েক গোছা মুখের ওপরে একপাশে দুলতে থাকে। চিবুক ছাড়িয়ে রিশুর চোখ নেমে যায় মরালী গর্দানের ওপরে। টপের নিচে অন্তর্বাস পরে না থাকায় পিনোন্নত স্তন জোড়া ভীষণ ভাবেই টপ ফুঁড়ে সামনের দিকে উঁচিয়ে থাকে। এই কয়দিনে বাড়িতে বসে থাকার ফলে শরীরে কিঞ্চিত মেদ জমে যাওয়ার ফলে ঝিনুকের নধর দেহের গঠন আরো বেশি লোভনীয় হয়ে ওঠে। পরনে একটা চাপা পায়জামা, যেটা ঝিনুকের কোমরের নিচের দেহের আঁকিবুঁকি আঁকার অবয়াব আরো বেশি করে ফুটিয়ে তুলেছে। স্বর্গের অপ্সরার মতন ভারী নিতম্ব দুলিয়ে রিশুকে একটু ঠেলে দিয়ে ঢুলু ঢুলু কাজল কালো নয়নে ওর দিকে বাঁকা হাসি হেসে বাথরুমে ঢুকে পরে।\n\nদরজা বন্ধ করার আগে রিশুর দিকে একটা দুষ্টু মিষ্টি হাসি ছুঁড়ে বলে, “ডোন্ট ব্রেক ইউর প্রমিজ। (প্রতিশ্রুতির খেলাপ করোনা কিন্তু)।”\n\nমাথা নাড়িয়ে হেসে উত্তর দেয়, “এট ইওর সার্ভিস ম্যাডাম (এই বান্দা তোমার সেবায় হাজির)।”\n\nনেশার ঘোরে ট্যাক্সির মধ্যে কতকি রিশুকে বলেছে ভেবেই মনে মনে হেসে ফেলে ঝিনুক। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দেখে ওর চোখ জোড়াতে লালচে রঙ ধরে গেছে। এই ভাবে রিশুর সামনে যেতে ভীষণ বিব্রতবোধ করে। রিশু নিজে ড্রিঙ্ক করে না কিন্তু তাও ওকে মানা করেনি, ভেবে বেশ ভালো লাগে, অন্তত ওর স্বাধীনতায় এখন হস্তক্ষেপ করেনি কিন্তু নিজের জীবন শৈলী বদলাতে হবে। ওকে সত্যি কি কেউ বুঝেছে? যাকে ভেবেছিল ভালোবাসে সে আঘাত হেনেছে, আর অচেনা যে মানুষটার সাথে চোখ বুজে এতদুর পাড়ি দিয়েছে সে তার মনের কথা কোনদিন জানতে চায়নি। এক সপ্তাহের ওপরে হয়ে গেল কিন্তু এখন পর্যন্ত রিশুর দিক থেকে কোন পদক্ষেপ নেই। সারাদিন একা বাড়িতে থাকতে থাকতে হাঁপিয়ে উঠেছে, এতদিন গৃহবন্দী হয়ে কোনদিন কাটায়নি। আজ রাতেই একটা বিহিত করতে হবে না হলে আর থাকতে পারছে না এইভাবে। ট্রেনের যাত্রীরাও সুদুর পথ পাড়ি দেওয়ার সময়ে গল্পে মেতে ওঠে, কিন্তু রিশু ভীষণ চুপচাপ প্রকৃতির মানুষ, একটু বেশি বাড়ি ঘেঁষা, অতীব মার্জিত রুচি সম্পন্ন ব্যাক্তি। চরিত্রগত দিক থেকে দুইজন সম্পূর্ণ ভিন্ন মেরুর নর নারী। ভালো করে সাবান দিয়ে মুখ হাত ধুয়ে নেয়। চোখে মুখে বারেবারে জলের ঝাপটা দিয়ে নেশার ঘোর কাটিয়ে নেয়, মত্ত অবস্থায় ওর সামনে যেতে ভীষণ লজ্জা করে ঝিনুকের। হাতে করে একটা জ্যাকেট নিয়ে এসেছিল,সেটা টপের ওপরে পরে বাথরুম থেকে বেড়িয়ে আসে ঝিনুক।\n\nএকটা জ্যাকেট পরে বসার ঘরের সোফায় বসে ঝিনুকের জন্য অপেক্ষা করছিল রিশু। কথা দিয়েছে রাতে ওর সাথে গল্প করবে, কথা রাখতেই হবে প্রেয়সীর না হলে আবার মুখ ভার করে বসে থাকবে। যদিও এর আগে ওর মুখের দিকে চেয়ে দেখা হয়নি তবে বিকেলের পর থেকে ঝিনুকের রূপে ঝিনুকের আচরনে মুগ্ধ হয়ে গেছে, তীব্র আকর্ষণ জেগে উঠেছে ওর হৃদয়ের কোণে।\n\nবাথরুম থেকে বেড়িয়ে রিশুকে সোফায় বসে থাকতে দেখে মুচকি হাসি দিয়ে জিজ্ঞেস করে, “তোমার ঘুম পাচ্ছে না?”\n\nআলতো মাথা নাড়ায় রিশু, “ঘুমটাকে আসতে বারণ করে দিলাম।”\n\nবাথরুম থেকে বেড়িয়ে ভীষণ ঠান্ডা লাগছিল ঝিনুকের, বুকের কাছে হাত দুটো জড় করে মৃদু কাঁপতে কাঁপতে রিশুকে বলে, “আমার ঠান্ডা লাগছে, ঘরে চল।”\n\nসোফা ছেড়ে উঠে পরে রিশু, নিজের ঘরের দিকে পা না বাড়িয়ে শোয়ার ঘরে ঢুকে বিছানার ওপরে বসে পরে। গত এক সপ্তাহ ধরে এই ঘর ওর বেহাত হয়ে গেছে, ঝিনুকের কবলে চলে গেছে ওর শোয়ার ঘর। পিঠের দিকে একটা বালিশ রেখে হেলান দিয়ে বসে ঝিনুককে বলে, “আরে একটা জ্যাকেট পড়বে ত, এই ভাবে থাকলে ঠান্ডা ত লাগবেই।”\n\nবাথরুম থেকে বেশ একটা ঝগড়া করার প্রস্তুতি নিয়ে বেরিয়েছিল, কিন্তু ওইভাবে রিশুকে বসে থাকতে দেখে সেইসব কোথায় যেন হাওয়ায় মিশে গেল। একটা পাতলা জ্যাকেট পরে বিছানার ওপরে একটু তফাতে বসে ওকে জিজ্ঞেস করে, “কাল তাহলে ছুটি নিতে পারছ না?”\n\nরিশু মাথা নাড়িয়ে উত্তর দেয়, “না গো, পসিবেল নয়। তুমি আমার প্রফেশান ঠিক বুঝতে পারছ না। আমি এমেসের ডাক্তার, হটাত করে না বলে কয়ে ছুটি নেওয়া সত্যি অসম্ভব।”\n\nখুব ইচ্ছে করছিল ওর সাথেই শপিং করতে তাই একটু আহত হয়েই বলে, “আচ্ছা যদি কারুর হটাত করে শরীর খারাপ করে তখন সে কি করবে?”\n\nমাথা নাড়িয়ে হেসে ফেলে রিশু, “শরীর খারাপ হলে সে কথা আলাদা। তুমি বল শুধু মাত্র শপিং করার জন্য ছুটি নেওয়া কি ঠিক?”\n\nগোমড়া মুখ করে উত্তর দেয়, “ভেবেছিলাম তোমার সাথে যাবো।”\n\nরিশু ওকে বলে, “তুমি ত বলছিলে তোমার কোন বান্ধবীর সাথে শপিং করতে যাবে।”\n\nমাথা দোলায় ঝিনুক, “হ্যাঁ রিতিকার সাথে যাওয়ার একটা প্লান আছে কিন্তু...”\n\nরিশু ভুরু কুঁচকে ওর দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করে, “কিন্তু কি? সত্যি রিতিকা বলে কেউ আছে নাকি...”\n\nমাথা ঝাঁকিয়ে হেসে ফেলে ঝিনুক, “না না আছে কিন্তু” নিজের হাত নিয়ে খেলতে খেলতে বলে, “মানে কলেজে পড়ার সময়ে তেমন ভাবে পরিচয় ছিল না তাই ভাবছিলাম যে...”\n\nকথাটা ঠিক বুঝতে না পেরে আবার প্রশ্ন করে রিশু, “তার মানে রিতিকা তোমার বান্ধবী নয়? শুধু মাত্র ব্যাচমেট?”\n\nমাথা দোলায় ঝিনুক, “হ্যাঁ, আমার ব্যাচমেট।” রিশুর কাছে কিছু লুকিয়ে লাভ নেই, তাই বলতে শুরু করে নিজের কলেজের কথা, “আসলে কি জানো, এমবিএ পড়ার সময়ে আমাদের মধ্যে তেমন কথাবার্তা হত না।” ঠোঁট চেপে হেসে বলে, “ক্যাট ফাইট, আমাদের মধ্যে একটা রেশারেশি ছিল, কে বেশি সুন্দরী।” বলেই লজ্জায় অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।\n\nঝিনুকের লাজে রাঙ্গা মুখমন্ডল দেখে ওর কাছে সরে এসে বলে, “ইউ আর ডেফিনিটলি গরজিয়াস (তুমি প্রকৃত অর্থে সুন্দরী)।” ভীষণ ইচ্ছে করছিল লাজে রাঙ্গা সুন্দরীকে জড়িয়ে ধরতে।\n\nএকদম পাশে সরে আসাতে ঝিনুক একটু নড়ে বসে রিশুর হাতের ওপরে আলতো চাঁটি মেরে লাজুক হেসে বলে, “ধ্যাত যাও ত...”\n\nনিজের কাঁধ দিয়ে ঝিনুকের কাঁধে আলতো ধাক্কা মেরে ইয়ার্কি মেরে বলে, “তাহলে কি বলব, তুমি শাকচুন্নির মতন দেখতে, এই বলব।”\n\nদুই হাত দিয়ে রিশুর বাজুতে ধাক্কা মেরে বিষণ্ণতার ভান করে মুখ ঝামটা মেরে বলে, “যাও, আর তোমার সাথে কথা বলব না।”\n\nওদের মধ্যে কথা আর বলা হয় কোথায়। দুপুরের পর থেকেই সেই যে বুকের মধ্যে একটা ভেসে যাওয়ার টান জেগেছে সেই উজানের টানে এত সহজে ভাঁটা পড়তে দিতে চায়না রিশু। প্রেয়সীকে একটু খেপিয়ে তোলার জন্য বলে, “কথা যখন বলবে না তাহলে আর বসে থেকে কি লাভ, আমি তাহলে ঘুমাতে যাই।”\n\nরেগে মেগে বিছানা ছেড়ে উঠে মুখ ঝামটা দিয়ে বলে, “হ্যাঁ তুমি ঘুমাতে যাও।”\n\nরাগলে ঝিনুককে আরো বেশি মিষ্টি দেখায়, বিয়ের প্রথম রাতেই সেই রূপ দেখে আকর্ষণ অনুভব করেছিল। এইবারের রাগে মিষ্টি অনুরাগ মিশে আছে। ঝিনুক উঠে দাঁড়ানো মাত্র ওর হাত ধরে টান মেরে বলে, “যাও কোথায়?”\n\nকব্জিতে মোচড় দিয়ে নিজের হাত ছাড়াতে চেষ্টা করে দাঁতে দাঁত পিষে উত্তর দেয় সুন্দরী ললনা, “যেদিকে দুচোখ যায় চলে যাবো, আর ভালো লাগে না।” ওর চোখ জোড়া ভীষণ ভাবেই জ্বালা করে ওঠে, নাকের পাটা ফুলে ওঠে এক অজানা ব্যাথায়, “কেউ আমাকে ভালোবাসে না, কেউ আমাকে বোঝে না।”\n\nঝিনুককে ব্যাথা দেওয়ার অভিপ্রায় একদম ছিল না রিশুর, ওকে এইভাবে কাঁদতে দেখে ভীষণ ভাবেই অপ্রস্তুত হয়ে পরে। হাত ধরে টেনে পাশে বসিয়ে প্রেয়সীর মুখ দুই হাতে আঁজলা করে তুলে ধরে। ঝিনুকের চোখ জোড়া জলে উপচে পড়েছে, দুই চোখের কোনা বেয়ে দুই ফোঁটা অশ্রু ওর কোমল গন্ড বেয়ে নিচের দিকে নেমে যেতেই বুড়ো আঙ্গুল দিয়ে সেই অশ্রুর দাগ মুছিয়ে দেয়। নরম মসৃণ ত্বকের ওপরে রিশুর উষ্ণ হাতের পরশে ঝিনুকের মোমের মতন হৃদয় গলে যায়। সুন্দরী ললনাকে কাঁদতে দেখে রিশুর হৃদয় গলে যায়, ভীষণ ভালোবাসে শুধু মাত্র মুখে স্বীকার করেনি তাই’ত রোজদিন বাজার থেকে ওর জন্য ফল কিনে নিয়ে আসে, রাতে বাড়ি ফিরে স্নান করার পরে ওর জামা কাপড় শুকিয়ে দেয় কিন্তু কোনদিন সেই নিয়ে ওকে বকাবকি করেনি। ও বোঝে যে ঝিনুকের ক্ষত হৃদয়ের ব্যাথা, সেই ক্ষত খুঁড়ে বেশি ব্যাথা দিতে চায়নি। ওর আদরের রমণীর চোখের জল ভীষণ ভাবেই কাঁদিয়ে তোলে রিশুকে।\n\nঅশ্রুর ফোঁটা মুছিয়ে দিয়ে আদর করে বলে, “আমি তোমায় ভীষণ ভালোবাসি, ঝিনুক।”\n\nসেই বিয়ের রাতে রিশুর মুখে নিজের নাম শুনেছিল তারপরে কোনদিন ওকে নাম ধরে ডাকেনি। প্রথমবার রিশুর মুখে সরাসরি নিজের নাম শুনে বুক কেঁপে ওঠে গলা ধরে আসে ঝিনুকের। রিশুর মাথা নেমে আসে ঝিনুকের মুখের ওপরে। ঝিনুকের চোখের পাতা ভারী হয়ে আসে আসন্ন এক প্রেমাস্পদ স্পর্শের আকাঙ্ক্ষায়। রিশুর বুকের কাছে জড়সড় হয়ে আপ্রান চেষ্টা করে নধর দেহপল্লব রিশুর বুকের সাথে মিলিয়ে মিশিয়ে একাকার করে দিতে। ঝিনুকের মুখখানি আঁজলা করে নিজের দিকে তুলে ধরে প্রসস্থ ললাটে অধর চেপে ধরে। প্রেমিক স্বামীর প্রথম ঠোঁটের পরশে গলে যায় ঝিনুকের হৃদয়। ওর সারা শরীর অবশ হয়ে যায় রিশুর ঠোঁটের উষ্ণ পরশে।\n\nবেশ কিছুক্ষন ঝিনুকের কপালে ভালোবাসার প্রথম চুম্বন এঁকে মৃদু করে বলে, “তুমি আমাকে বল, আমি তোমার সব কথা শুনবো ঝিনুক।” চোখের জল মুছিয়ে আদর করে বলে, “প্লিজ কেঁদো না।”\n\nরিশুর জ্যাকেটের কলার চেপে ওর প্রসস্থ বুকের ওপরে নিজেকে সঁপে দিয়ে ভেঙ্গে পরে ঝিনুক, “তুমি মিথ্যুক, তুমি আমাকে একদম ভালোবাসো না।”\n\nঅভিমানের কান্নায় ফুলে ওঠা নরম পিঠের ওপরে হাত বুলিয়ে আদর করে বলে, “কে বলেছে যে আমি তোমাকে ভালোবাসি না?”\n\nদুম করে রিশুর বুকের বাঁদিকে একটা কিল মেরে বলে, “এটা মহা শয়তান, কিছুই বলে না।”\n\nহৃদয়ের ওপরে ঝিনুকের নরম হাত চেপে ধরে বলে, “আমি তোমার প্রেমে কবে পড়েছিলাম জানো?”\n\nঝিনুক রিশুর দিকে মুখ তুলে তাকিয়ে জলা ভরা চোখ থাকা স্বত্তেও ঠোঁটে হাসি টেনে বলে, “কবে?”\n\nরিশু, ঝিনুকের লালচে নাকের ডগায় নাকের ডগা ঘষে আদর করে বলে, “কোলকাতা এয়ারপোরটে সিকিউরিটি চেকের পরে যখন তুমি আমায় না পেয়ে চারপাশে খুঁজছিলে, তখন আমি তোমার প্রেমে পরে যাই।”\n\nরিশুর কথা শুনে সব ব্যাথা ভুলে নিচের ঠোঁট চেপে লাজুক হেসে ওর বুকের ওপরে আরো জোরে দুম দুম করে কয়েকটা কিল মেরে বলে, “আচ্ছা, আমাকে একা ছেড়ে দিয়ে শয়তানি করা হচ্ছিল তাহলে।”\n\nমৃদু হেসে রিশু বলে, “আই অয়াজ জাস্ট চেকিং মাই ডারলিং (আমি আমার প্রেয়সীকে একটু পরীক্ষা করছিলাম মাত্র)।”\n\nঝিনুক নিচের ঠোঁট দাঁতে কেটে কাজল কালো বড় বড় চোখ করে লাজুক হেসে বলে, “আমি একটা কথা বলব?”\n\nরিশু ভুরু কুঁচকে ওর দিকে দেখে মাথা দুলিয়ে বলে, “হ্যাঁ?”\n\nকথাটা বলার আগেই লজ্জায় ঝিনুকের কান লাল হয়ে যায়, লাজুক হেসে চোখ নামিয়ে রিশুর প্রসস্থ ছাতির ওপরে মাথা রেখে বলে, “দিল্লীতে নেমে যখন তুমি আমার মাথায় গলায় শাল জড়িয়ে দিলে, সেই মুহূর্তে না আমি...”\n\nঝিনুকের থুঁতনিতে তর্জনী ঠেকিয়ে নিজের দিকে তুলে ধরে দুষ্টুমি করেই প্রশ্ন করে, “সেই মুহূর্তে কি হয়েছিল?”\n\nঝিনুক ওর হাত ধরে তর্জনীতে আলতো কামড় দিয়ে বলে, “সেই মুহূর্তে তোমাকে কেটে ফেলতে ইচ্ছে করছিল আর কি।” বলেই লাজুক হেসে ওর বুকের ওপরে মাথা রেখে চোখ বুজে শিথিল হয়ে চুপ করে যায়।\n\nবাঁ হাত দিয়ে ঝিনুককে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে ওর মাথার ওপরে ঠোঁট চেপে ধরে রিশু। বাহুপাশ নিবিড় করে হৃদয়ের উষ্ণতায় ঝিনুকের শুন্য হৃদয় ভরিয়ে তুলতে আপ্রান চেষ্টা করে। ঝিনুকের উষ্ণ শ্বাসের ঢেউ ওর প্রসস্থ ছাতির ওপরে বয়ে বুকের ভেতর আলোড়ন সৃষ্টি করে। পিনোন্নত স্তন যুগলের কোমল উষ্ণ পরশে রিশুর বুকে জমে থাকা ঝড় মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। নুজের বুকের ওপরে ঝিনুকের হৃদস্পন্দন অনুভব করতে পারে রিশু, ধুকধুক ধুকধুক করে ধিমে তালে ওর হৃদ স্পন্দনের সাথে তাল মিলিয়ে মাতোয়ারা হয়ে উঠছে ধিরে ধিরে। হিটার জ্বালানো হয়নি, কনকনে ঠান্ডায় ওর বুকের ওপরে ঝিনুকের কোমল দেহপল্লবের মৃদু কম্পন অনুভব করে মন কেমন করে ওঠে রিশুর। ইসস, মেয়েটা কেমন ভাবে কাঁপছে তাও মুখে কিছুই বলবে না।\n\nঝিনুকের রেশমি চুলের মধ্যে নাক ঘষে আদর করে জিজ্ঞেস করে, “এই...”\n\nএই উষ্ণ পরশ ছাড়িয়ে কার উঠতে ভালো লাগে, তাই মাথা না উঠিয়েই মিহি কন্ঠে প্রশ্ন করে, “মমম... কিইইই...”\n\nবাহুডোর বিন্দুমাত্র শিথিল না করে আরো বেশি ঝিনুকের লোভনীয় দেহপল্লব জড়িয়ে ধরে মিহি কন্ঠে জিজ্ঞেস করে, “তোমার ঠান্ডা লাগছে?”\n\nরিশুর ছাতির ওপরে ওপরে নাক ঘষে হরিণীর মতন মিহি কন্ঠে বলে, “হুমমম...”\n\nপাশে পরে থাকা লেপটা টেনে ঝিনুকের গায়ের ওপরে জড়িয়ে দেয় রিশু। গায়ের ওপরে লেপ পড়তেই আরো বেশি রিশুর বুকের কাছে জড়সড় হয়ে বসে পরে। কিছু পরে রিশুর দিকে মাথা তুলে ওর চশমা ভেদ করে গভীর চোখের দিকে খানিকক্ষণ চেয়ে থাকে ঝিনুক। ওর মনের মানুষটা সেই সাত সকালে উঠে হসপিটাল গিয়ে কয়েক’শ রুগী দেখে আবার বাড়ি ফিরে ডিনারের জন্য বাইরে গিয়ে তারপর রাতে ফিরে ওর গল্প শুনতে বসেছে ভাবতেই ওর মন ভরে ওঠে।\n\nমিষ্টি হেসে জিজ্ঞেস করে, “তুমি খুব টায়ার্ড তাই না?”\n\nডিনার শেষে ট্যাক্সিতে ওঠার আগে পর্যন্ত ক্লান্তিতে শরীর ভেঙ্গে আসছিল রিশুর কিন্তু ট্যাক্সিতে উঠে ঝিনুকের কোমল দেহপল্লবের ছোঁয়ায় আর ওর অনর্গল মিষ্টি আবোলতাবোল বুলি শুনে ক্লান্তভাবটা অনেক আগেই কেটে গেছে। মাথা নাড়িয়ে বলে, “না না একদম না, তুমি থাকলে ক্লান্তি আসে নাকি?”\n\nনিচের ঠোঁট চেপে লাজুক হেসে ফেলে ঝিনুক, “এইই চা খাবে?”\n\nঝিনুককে ছাড়তে একদম ইচ্ছে করছিল না রিশুর তাই বাহুবেষ্টনি আরো নিবিড় করে বলে, “না এত রাতে চা খায় না।”\n\nচশমার ভেতর থেকে রিশুর চোখের মনির মাঝে নিজের প্রতিফলন দেখে চোখের তারায় লাজুক হাসি মাখিয়ে বলে, “একদম তোমার মতন করে চা বানাবো, সত্যি বলছি।”\n\nবল তো আরশি তুমি মুখটি দেখে\nযদিও কাজল আমি পরিনি, যদিও কবরী আজ বাঁধিনি,\nতবু বল তো রূপসী কে তোমার চোখে,\nআমি নই বিম্ববতি রাজার ঘরে,\nহাসিতে পান্না তো নয়, কান্না ঝরে\nবল তো আরশি, তুমি মুখটি দেখে\nকেতকী লজ্জা না পায়, আমায় দেখে,\nতবু বলো, বল তো আরশি তুমি মুখটি দেখে, রূপসী কে তোমার চোখে।",
        "series": {
            "id": 70,
            "title": "শেষের পাতায় শুরু",
            "slug": "sehser-patay-shuru",
            "url": "https://golpohub.com/series/sehser-patay-shuru",
            "thumbnail_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/series-sesher-patay-suru-70-3cb003.webp",
            "progress_status": "completed"
        },
        "author": {
            "id": 22,
            "name": "পিনুরাম",
            "slug": "pinuram",
            "url": "https://golpohub.com/authors/pinuram",
            "avatar_url": "https://cdn.golpohub.com/avatars/pinuram-22-995484.webp",
            "bio": "পিনুরাম বাংলা কথাসাহিত্যের এক সংবেদনশীল ও মননশীল রূপকার। মানবজীবনের টানাপোড়েন, দায়িত্ববোধের কঠিন আত্মত্যাগ এবং সামাজিক শৃঙ্খলের ভেতর লুকিয়ে থাকা সূক্ষ্ম অনুভূতির রূপায়ণে তাঁর লেখনী অনন্য। তাঁর চরিত্ররা আবেগতাড়িত ভুলের ভেতর দিয়ে হেঁটে এসে অবশেষে গভীর আত্মোপলব্ধি ও দায়িত্বশীল মানবিকতায় পূর্ণতা পায়। বাস্তব জীবনের জটিল মনস্তত্ত্ব ও আত্মশুদ্ধির মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা তাঁর গল্পগুলো পাঠকদের চিত্তে শুভ ও ইতিবাচক চেতনার বিস্তার ঘটায়।",
            "series_count": 0,
            "meta": {
                "bio": "পিনুরাম বাংলা কথাসাহিত্যের এক সংবেদনশীল ও মননশীল রূপকার। মানবজীবনের টানাপোড়েন, দায়িত্ববোধের কঠিন আত্মত্যাগ এবং সামাজিক শৃঙ্খলের ভেতর লুকিয়ে থাকা সূক্ষ্ম অনুভূতির রূপায়ণে তাঁর লেখনী অনন্য। তাঁর চরিত্ররা আবেগতাড়িত ভুলের ভেতর দিয়ে হেঁটে এসে অবশেষে গভীর আত্মোপলব্ধি ও দায়িত্বশীল মানবিকতায় পূর্ণতা পায়। বাস্তব জীবনের জটিল মনস্তত্ত্ব ও আত্মশুদ্ধির মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা তাঁর গল্পগুলো পাঠকদের চিত্তে শুভ ও ইতিবাচক চেতনার বিস্তার ঘটায়।",
                "phone": null,
                "gender": "male",
                "address": {
                    "country": "India"
                },
                "birth_date": null,
                "social_links": [],
                "pen_name": "পিনুরাম",
                "aliases": [
                    "Pinuram",
                    "Pinu Ram"
                ]
            },
            "timestamps": {
                "created_at": null,
                "updated_at": null
            }
        },
        "navigation": {
            "previous_episode": {
                "id": 2507,
                "ep_number": 34,
                "title": "অন্ধকার ক্যাবের উষ্ণ শ্বাস",
                "slug": "sehser-patay-shuru-s1-ep34",
                "url": "https://golpohub.com/episodes/sehser-patay-shuru-s1-ep34",
                "thumbnail_url": "https://golpohub.com/assets/images/og.jpg"
            },
            "next_episode": {
                "id": 2509,
                "ep_number": 36,
                "title": "মধ্যরাতের চা আর স্বীকারোক্তি",
                "slug": "sehser-patay-shuru-s1-ep36",
                "url": "https://golpohub.com/episodes/sehser-patay-shuru-s1-ep36",
                "thumbnail_url": "https://golpohub.com/assets/images/og.jpg"
            }
        }
    }
}