{
    "_links": {
        "html": "https://golpohub.com/episodes/sehser-patay-shuru-s1-ep38",
        "json": "https://golpohub.com/episodes/sehser-patay-shuru-s1-ep38?format=json",
        "markdown": "https://golpohub.com/episodes/sehser-patay-shuru-s1-ep38?format=md",
        "rss": "https://golpohub.com/episodes/sehser-patay-shuru-s1-ep38?format=rss",
        "atom": "https://golpohub.com/episodes/sehser-patay-shuru-s1-ep38?format=atom"
    },
    "seo": {
        "canonical_url": "https://golpohub.com/episodes/sehser-patay-shuru-s1-ep38",
        "title": "শেষের পাতায় শুরু পর্ব ৩৮ - ছেঁড়া জিন্সের আধুনিক সাজ | Sesher Patay Shuru Part 38",
        "description": "পড়ুন শেষের পাতায় শুরু পর্ব ৩৮ (ছেঁড়া জিন্সের আধুনিক সাজ)। বোল্ড ও আকর্ষণীয় পোশাকে এইমসে রিশুকে চমকে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ঝিনুকের যাত্রা।",
        "keywords": "শেষের পাতায় শুরু পর্ব ৩৮, sesher patay shuru porbo 38, sesher patay shuru part 38, sehser patay shuru episode 38, sesher patay shuru part 38 link, ঝিনুক, রিতিকা, এইমস, চমক",
        "image_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-chapter-2511-545777.webp",
        "schema": {
            "@context": "https://schema.org",
            "@graph": [
                {
                    "@type": "Chapter",
                    "name": "ছেঁড়া জিন্সের আধুনিক সাজ",
                    "position": 38,
                    "description": "রিশুর ভালোবাসায় আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠা ঝিনুক নিজেকে সাজিয়ে তোলে চাবুক ফিগারের ব্লু জিন্স ও হাই বুটে। রিতিকাকে সাথে নিয়ে হাসপাতালে ডাক্তার স্বামীকে এমন অপ্রত্যাশিত চমক দিতে যাওয়া কি কোনো নতুন ঝড়ের পূর্বাভাস?",
                    "url": "https://golpohub.com/episodes/sehser-patay-shuru-s1-ep38",
                    "inLanguage": "bn",
                    "timeRequired": "PT15M",
                    "datePublished": "2026-09-14T16:50:40+00:00",
                    "dateModified": "2026-09-14T16:54:33+00:00",
                    "wordCount": 2279,
                    "image": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-chapter-2511-545777.webp",
                    "accessibilityFeature": [
                        "readingOrder",
                        "structuralNavigation",
                        "displayTransformability",
                        "uncontracted"
                    ],
                    "accessibilityControl": [
                        "fullKeyboardControl",
                        "fullTouchControl"
                    ],
                    "accessibilityHazard": [
                        "none"
                    ],
                    "potentialAction": {
                        "@type": "ReadAction",
                        "target": "https://golpohub.com/episodes/sehser-patay-shuru-s1-ep38"
                    },
                    "isPartOf": {
                        "@type": [
                            "BookSeries",
                            "CreativeWorkSeries"
                        ],
                        "name": "শেষের পাতায় শুরু",
                        "url": "https://golpohub.com/series/sehser-patay-shuru"
                    },
                    "author": {
                        "@type": "Person",
                        "name": "পিনুরাম",
                        "url": "https://golpohub.com/authors/pinuram"
                    }
                },
                {
                    "@type": "BreadcrumbList",
                    "itemListElement": [
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 1,
                            "name": "Golpo Hub",
                            "item": "https://golpohub.com"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 2,
                            "name": "সিরিজসমূহ",
                            "item": "https://golpohub.com/series"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 3,
                            "name": "শেষের পাতায় শুরু",
                            "item": "https://golpohub.com/series/sehser-patay-shuru"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 4,
                            "name": "ছেঁড়া জিন্সের আধুনিক সাজ",
                            "item": "https://golpohub.com/episodes/sehser-patay-shuru-s1-ep38"
                        }
                    ]
                }
            ]
        }
    },
    "filters": [],
    "data": {
        "id": 2511,
        "ep_number": 38,
        "title": "ছেঁড়া জিন্সের আধুনিক সাজ",
        "slug": "sehser-patay-shuru-s1-ep38",
        "url": "https://golpohub.com/episodes/sehser-patay-shuru-s1-ep38",
        "reading_time": 15,
        "thumbnail_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-chapter-2511-545777.webp",
        "yt_video_id": null,
        "yt_video_url": null,
        "timestamps": {
            "published_at": "2026-09-14T16:50:40+00:00",
            "updated_at": "2026-09-14T16:54:33+00:00"
        },
        "meta": {
            "word_count": 2279,
            "seo_title": "শেষের পাতায় শুরু পর্ব ৩৮ - ছেঁড়া জিন্সের আধুনিক সাজ | Sesher Patay Shuru Part 38",
            "seo_description": "পড়ুন শেষের পাতায় শুরু পর্ব ৩৮ (ছেঁড়া জিন্সের আধুনিক সাজ)। বোল্ড ও আকর্ষণীয় পোশাকে এইমসে রিশুকে চমকে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ঝিনুকের যাত্রা।",
            "keywords": "শেষের পাতায় শুরু পর্ব ৩৮, sesher patay shuru porbo 38, sesher patay shuru part 38, sehser patay shuru episode 38, sesher patay shuru part 38 link, ঝিনুক, রিতিকা, এইমস, চমক",
            "characters_involved": [
                "সঙ্ঘমিত্রা (ঝিনুক)",
                "রিতিকা",
                "দিয়া",
                "ঝিলিক"
            ]
        },
        "content": "এতদিন একটা দুঃস্বপ্নের মধ্যে যেন ওর জীবনটা কাটছিল, এই বদ্ধ ঘরের মধ্যে মাঝে মাঝেই শ্বাস আটকে আসতো ওর। সেই এক দেয়াল, সেই এক বিছানা তাও যেন সবকিছুর মধ্যে মুক্তির আভাস পায়। অন্যদিনে রিশু বেড়িয়ে যাওয়ার পরে বাড়িটা ভীষণ ভাবেই ওকে চেপে ধরতে আসতো, কিন্তু সেদিন মনে হল এই দেয়াল এই সোফা এই চেয়ার টেবিল এই বিছানা সব যেন ওর কতদিনের চেনা পরিচিতি। ওর পা যেন আর মাটিতে পড়ছে না, বদ্ধ জীবন আর বদ্ধ নয়, ঝিনুক যেন খাঁচা ছাড়া এক পাখি।\n\nগতকাল বিকেলের পরে আর বাড়িতে ফোন করা হয়নি। গতকাল বিকেল থেকেই একটা নেশার ঘোরের মধ্যে যেন ওর সময় কেটে গেছে। বোনের সাথে বেশ কয়েকদিন ভালো করে কথা বলা হয়নি, এতদিনের একটা দুঃস্বপ্নের অবসান ঘটেছে। গতকাল সকালে ওর মা বলছিল যে দিয়া নাকি ওদের বাড়িতে রাতে আসবে।\n\nবোনকে ভিডিও কল করল ঝিনুক, “কি রে কি করছিস?”\n\nবড়দিন উপলক্ষে এক সপ্তাহের জন্য কলেজ ছুটি তাই বাড়িতেই ছিল ঝিলিক, সকাল সকাল দিদির ফোন পেয়ে বেশ আশ্চর্য হয়ে বলে, “ওহ বাবা, আজকে সকাল সকাল আমার কথা মনে পড়ল?” বলেই খিলখিল করে হেসে ফেলে ষোড়শী তন্বী তরুণী।\n\nপাশের থেকে রিশুর বোন দিয়া বান্ধবীর তালে তাল মিলিয়ে উত্তর দেয়, “মনে পড়ল তাহলে?”\n\nকিঞ্চিত লজ্জিত হয়েই উত্তর দেয় ঝিনুক, “নারে আই মিন টু সে, তোদের না মনে করে কি থাকা যায় নাকি?”\n\nদিয়া প্রশ্ন করে, “আজকে ওপিডি আছে তো। দাদাভাই বেড়িয়ে গেছে?”\n\nউত্তর দেয় ঝিনুক, “হ্যাঁ, এই একটু আগেই বেড়িয়ে গেছে। তোরা কি করছিস?”\n\nঝিলিক উত্তর দেয়, “বাঙালি আর কি করবে, শুয়ে শুয়ে ইন্সটা এফবি দেখছি আর ল্যাদ খাচ্ছি।”\n\nদিয়া পাশ থেকে হেসে উত্তর দেয়, “আন্টি আজকে চিকেন বিরিয়ানি বানাচ্ছে। আমরা তোমাকে দেখিয়ে দেখিয়ে খাবো।”\n\nঝিনুক জিজ্ঞেস করে, “তোদের পড়াশুনা নেই?”\n\nদিয়া খিলখিল করে হেসে ফেলে, “কে বলেছে পড়া নেই, এই তো মাঝে মাঝেই এরতার সাথে প্রেমে পড়ছি, কখন বিছানা থেকে পড়ছি, কখন শুয়ে পড়ছি আর শোনার কথা...”\n\nঝিলিক ওর বান্ধবীর কথার রেশ টেনে বলে, “সারাদিন আন্টির আর মায়ের ঘ্যানর ঘ্যানর শুনছি...” বলেই হিহি করে ফেলে।\n\nদুই বান্ধবীর কথা শুনে ঝিনুক হেসে ফেলে, “তোরা দুটো মহা শয়তান।” যদিও দিয়ার সাথে আগে থেকে সেই ভাবে পরিচয় হয়নি ঝিনুকের তাও এই কয়দিনে ফোনে একটু কথাবার্তা বলে অনেকটা সহজ হয়ে গেছে।\n\nদিয়া ঝিনুককে জিজ্ঞেস করে, “কাল বিকেলে দাদাভাই ফোন করেনি কেন?”\n\nইসস, এদের সাথে কথা বলতে বলতে গতকালের কথা একদম ভুলে গেছিল ঝিনুক, “না রে কাল আর সময় পায়নি তোর দাদাভাই। ইন্দ্রজিতদা আর শালিনীদি এসেছিল ওদের সাথেই ডিনার করতে বেড়িয়েছিলাম আর কি।”\n\nঝিলিক চুকচুক করে বলে, “ইসস ডিনারে শুকনো কিছুই গিলতে হল তোকে?”\n\nবোনের কথা শুনে ঝিনুক হেসে ফেলে, “না রে কালকে দুই গ্লাস ফ্রেঞ্চ ওয়াইন খেলাম তারপরে কি যেন এক উদ্ভট নামের হুইস্কি খেলাম।”\n\nদিয়া আর ঝিলিক ভীষণ আশ্চর্যচকিত হয়ে সমস্বরে প্রশ্ন করে, “জিজুর সামনে তুই হুইস্কি খেলি? তোকে খেতে দিলো?”\n\nলাজুক হেসে উত্তর দেয় ঝিনুক, “তোর জিজু একদম ভিজে বেড়াল...”\n\nকথাটা বুঝতে না পেরে দিয়া জিজ্ঞেস করে, “মানে? দাদাভাই ড্রিঙ্ক করে নাকি?”\n\nঝিনুক সঙ্গে সঙ্গে বাধা দিয়ে বলে, “না না তোর দাদাভাই ড্রিঙ্ক করে না, আমি সে কথা বলতে চাইনি।” তারপরে নরম গলায় বলে, “মানে আমাকে বারণ করেনি।” বলেই লাজুক হাসি হাসে।\n\nঝিলিক খিলখিল করে হেসে বলে, “তাহলে তোর পোয়াবারো। তুই কি লাকি মাইরি। জিজু ড্রিঙ্ক করে না কিন্তু পেয়ারের বউ ড্রিঙ্ক করলে বারণ করে না। ইসসস ভাগ্যে যদি আমার একটা এমন বর জুটতো।”\n\nঝিনুক ড্রিঙ্ক করেছে শুনে দিয়ার মুখের ভাব ক্ষনিকের জন্য বদলে যায় তবে সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে সামলে নিয়ে হেসে বলে, “আমার দাদাভাই ইস দ্যা বেস্ট দাদাভাই অফ দ্যা ওয়ার্ল্ড।”\n\nমাথা দোলায় ঝিনুক, কলেজে পড়ার সময়ে অনেকের সাথেই মেলামেশা করেছে, এমন কি একজনের সাথে ছলনার প্রেমে জরিয়েও পড়েছে তবে ডক্টর অম্বরীশের মতন ঠান্ডা মাথার মানুষ আর দুটো দেখেনি। মানুষটা কথা না বলেও ভালবাসতে জানে, আর যখন ভালোবাসে তখন বাঁধ ভাঙা ভালোবাসে। ননদিনী আর বোনকে বলে, “তোরা দিল্লী চলে আয়।”\n\nদিদির কথা শুনে ঝিলিক নেচে ওঠে, “হ্যাঁ হ্যাঁ, আমি তো এক পায়ে খাড়া, জিজু কবে আসছে নিতে?”\n\nদিয়াও সেই সাথে নেচে ওঠে, “ঠিক ঠিক, দাঁড়াও আমি দাদাভাইকে ফোন করে বলছি।”\n\nঝিনুক কিছুক্ষন থেমে একটু ভেবে বোনকে বলে, “তোর জিজু নেক্সট মান্থে লন্ডন যাচ্ছে...”\n\nঅবাক হয়েই দিয়া প্রশ্ন করে, “মাম্মা জানে?”\n\nঝিনুক উত্তর দেয়, “আজ সকালে ওর এইচওডির ফোন এসেছিল তখন জানতে পারলো যে জানুয়ারিতে লন্ডনে কোন এক সেমিনার আছে, এক সপ্তাহের জন্য লন্ডন যেতে হবে। তোরা তার আগেই আমার এখানে চলে আয়।”\n\nদিয়া মাথা দুলিয়ে হেসে বলে, “আমি দাদাভাইকে ম্যানেজ করে নেবো আর দাদাভাই মাম্মাকে ম্যানেজ করে নেবে।”\n\nঝিলিক চোখ বড় বড় করে দিয়াকে জিজ্ঞেস করে, “একা একা দিল্লী যাবো নাকি, জিজু আমাদের নিতে আসবে না?”\n\nদিয়া কাঁধ ঝাঁকিয়ে বুক ফুলিয়ে হেসে বলে, “একা না যাওয়ার কি আছে, ফ্লাইটে যাবো অসুবিধে কি?”\n\nউচ্ছ্বাসিত হয়ে ঝিলিক বলে, “উফফফ মাইরি, দিল্লী গিয়ে খুব ঘুরবো আর খুব শপিং করব।”\n\nদিয়ার কাছে দিল্লী এখন পাশের পাড়ার মতন মনে হয়, সেই ছোটবেলা থেকে যখনি ওদের ছুটি হত তখনি ওর মা ওকে আর ওর ভাইকে নিয়ে দিল্লীতে ওর দাদাভাইয়ের কাছে চলে যেত। বান্ধবীর উচ্ছ্বাসিত কন্ঠ শুনে হেসে বলে, “করিস তবে অনেক বারগেনিং করতে হয়।” তারপরে ঝিনুককে জিজ্ঞেস করে, “তোমাকে শপিং করাতে কোথায় নিয়ে গিয়েছিল?”\n\nহেসে ফেলে ঝিনুক, “মারকেটের নাম তো ভুলে গেছি।”\n\nঝিলিক খিলখিল করে হেসে দিয়ার কাঁধে ধাক্কা মেরে বলে, “তোর দাদাভাই কি কঞ্জুস মাইরি। আমার দিদিকে শপিং মলে শপিং না করিয়ে কোন এক নাম না জানা এঁদো মারকেটে নিয়ে গেছে শপিং করাতে।”\n\nদিয়া হেসে বলে, “ওইখানে শপিং মলের চেয়ে ভালো জিনিস মারকেটে পাওয়া যায়।” চোখ টিপে বলে, “আমার একটা লিভাইসের জিন্স আর থাইহাই বুটস পাওনা আছে।”\n\nঝিলিক দিদিকে একটু ঠেস মেরে হেসে বলে, “তোর তো রান্নাবান্নার বালাই নেই, গায়ে হাওয়া লাগিয়ে দিব্বি আছিস। কাজের মেয়ে রান্নাবান্না করে ঘরের কাজ করে চলে যায়।”\n\nমুচকি হাসে ঝিনুক, “তোর জন্য এমন একটা খুঁজে আনবো।”\n\nফিক করে হেসে ফেলে দিয়া, “দাদাভাইকে ওয়ান এন্ড ওনলি পিস বানিয়েছিল ভগবান, তারপর সেই ডাইস ভেঙ্গে ফেলেছে।”\n\nঝিলিক মুখ বেঁকিয়ে দিয়াকে বলে, “উফফফ পারি না, তোর শুধু দাদাভাই আর দাদাভাই। আমার দিদি কি বানের জলে ভেসে এসেছে নাকি?”\n\nদিয়া ঠোঁট কুঁচকে মোবাইলের মাধ্যমে ঝিনুকের দিকে চুমু ছুঁড়ে দেওয়ার ভঙ্গি করে বলে, “একদম নয়, ঝিনুকদি ইস দ্যা মোস্ট হটেস্ট বেব ইন দ্যা ওয়ার্ল্ড।”\n\nঝিনুক একটু লজ্জিত হয়ে বলে, “হ্যাঁ হ্যাঁ অনেক হয়েছে। তোরা প্যাকিং শুরু কর আমি মামনির সাথে কথা বলে নেবো।”\n\nদিয়া ঠোঁট বেঁকিয়ে বলে, “তোমার মামনি যন্তর পিস কিন্তু। তবে হ্যাঁ, ভাই যদি সাথে যায় তাহলে আমাদের মজা করা লাটে উঠে যাবে। সব কথা কিন্তু মাম্মাকে বলে দেবে।” বলেই হিহি করে হেসে ফেলে।\n\nঝিনুক হেসে ফেলে বলে, “বাঃ রে, আমার দশটা নয় পাঁচটা নয় একটা মাত্র ছোট্ট আদরের দেওর।”\n\nদিয়া হিহি করে হেসে বলে, “তোমার পেয়ারের দেওর না আস্ত একটা বাঁদর।”\n\nঝিনুক মিষ্টি হেসে বলে, “ওর চিৎকারের শুনেই তোর দাদাভাই কোলকাতা ছুটে গিয়েছিল। ওকে না নিয়ে এলে কি করে হবে।”\n\nদিয়া মুখ বেঁকিয়ে বলে, “ধ্যাত, আমি ভাবলাম এই প্রথমবার একা একা ঘুরতে গিয়ে একটু মস্তি করব তা না।”\n\nঝিনুক ওকে জিজ্ঞেস করে, “দিপ যদি বায়না ধরে তখন কি করবি?”\n\nদিয়া একটু ভেবে বলে, “মাম্মা এখন বাড়ি ছেড়ে যেতে পারবে না, তাই দিপ ও যেতে পারবে না। বাকিটা তুমি দাদাভাইকে বুঝিয়ে বলো দাদাভাই মাম্মাকে ম্যানেজ করে নেবে।”\n\nঝিনুক একটু ভেবে উত্তর দেয়, “আচ্ছা আমি দেখি মামনির সাথে কথা বলে কি বলে তারপরে তোদের জানাচ্ছি।”\n\nঝিলিক একটু ভেবে বলে, “হ্যাঁ তুই আন্টির সাথে কথা বল, আন্টি মাকে বলে দিলে মা আর তাহলে না করতে পারবে না। সব কিন্তু এখন তোর হাতে।”\n\nঝিনুক মৃদু হেসে উত্তর দেয়, “আচ্ছা বাবা, বলছি তো তোরা প্যাকিং শুরু কর, আমি মামনিকে ম্যানেজ করে নেব।”\n\nঝিনুক ফোন রেখে বিছানায় উপুড় হয়ে শুয়ে বুকের নিচে বালিশ চেপে মোবাইল খুলে ওদের বিয়ের ছবি দেখতে শুরু করে। যদিও এর আগে মাঝে মাঝে মোবাইলে ওদের বিয়ের ছবি দেখেছে, তবে সেদিন ওর কাছে সব কিছুই যেন একটা ঘোরের মতন। বিয়ের সময়ের নিজেদের শুভ দৃষ্টির কথা মনে পড়তেই ভীষণ লজ্জায় হাসি পেয়ে যায় ঝিনুকের, সামনে কে আছে দেখার দরকার নেই, ওকে যেন সবাই ধরে বেঁধে কসাইয়ের হাতে তুলে দিয়েছে। প্রথম দেখার ঘটনা মনে পরে যায়, কেউ কি ওইভাবে গালের দিকে দেখে বলে নাকি, এমা কি হয়েছে, অয়েন্টমেন্ট লিখে দেবো লাগিও। ওর অবচেতন হৃদয় সেই মুহূর্তে জোড়া লেগে গিয়েছিল। ঠোঁটে এখন রিশুর তীব্র প্রেমঘন চুম্বনের পরশ লেগে। সারা শরীর জুড়ে ভালোবাসার প্রথম ছোঁয়ার আবেগ অনুভূতি ঢেউ খেলে বেড়ায়। নিটোল স্তন জোড়া ভীষণ ভাবেই পিষে ধরে বালিশের ওপরে, দুই পা ভাঁজ করে দুলিয়ে দুলিয়ে রিশুর ছবি দেখে আর লাজুক হাসি হাসে।\n\nরিশুর ছবিতে নাক ঘষে দুষ্টুমি করে বলে, “তুমি না মহা শয়তান। আগে কেন দেখা করতে আসোনি আমার সাথে? তুমি যদি আগেই আমার জীবনে আসতে তাহলে কি আর এই অঘটন হত নাকি? নাহ তুমি পালিয়ে চলে গেলে কোথায়, সেই রাঁচি। না হলে কেমন বেশ ছোটবেলায় দেখা হয়ে যেত, একটু লুকিয়ে চুরিয়ে দুষ্টু মিষ্টি প্রেম করতে পারতাম। তা না, মাঝ রাতে কোথা থেকে উড়ে এসে জুড়ে বসলে আমার জীবনে।”\n\nঠিক সেই সময়ে রিতিকার ফোন এলো, “হ্যালো কি রে কি করছিস?”\n\nরিশুর ছবি দেখতে দেখতে এক প্রকার মোহাচ্ছন হয়ে পড়েছিল ঝিনুক, হটাত করে ফোন এসে যাওয়াতে সেই মোহাবেশ কেটে যায় ওর। “এই কিছু না রে। তোর কি খবর? আজকে কি সত্যি আমরা যাচ্ছি?”\n\nরিতিকা হেসে বলে, “তুই বল, আমি তো অফিস থেকে লিভ নিয়ে নিয়েছি।”\n\nকিছুক্ষন ভেবে উত্তর দেয় ঝিনুক, “আচ্ছা ঠিক আছে তাহলে।”\n\nরিতিকা বলে, “ওকে ডারলিং, আমি এই বারোটার মধ্যে তোর বাড়ি পৌঁছে যাবো।”\n\nহেসে উত্তর দেয় ঝিনুক, “ওকে।”\n\nবিছানা ছেড়ে উঠে পড়ল ঝিনুক, ঘড়িতে এগারোটা বাজে, হাতে মাত্র এক ঘন্টা সময়। বিয়ের কয়েকদিন আগে সেই একবার বিউটি পার্লার যাওয়া হয়েছিল তারপরে দিল্লীতে এসে সেইভাবে নিজের পরিচর্যা করা হয়নি। পায়ে লোম গজিয়ে গেছে, ভুরু জোড়া একটু মোটা হয়ে গেছে। আশেপাশে পার্লারের খোঁজ জানে না, ওয়াক্সিং থ্রেডিং ম্যানিকিওর পেডিকিওর ইত্যাদি করাতে হবে। স্নান সারার জন্য জামা কাপড় নিয়ে বাথরুমে ঢুকে পরে ঝিনুক। রিতিকা আসার আগেই তৈরি হয়ে নিতে হবে। রিতিকাকে নিয়ে রিশুর হসপিটালে যাবে দেখা করতে, একেবারে চমকে দেবে ওকে। অন্যদিনে স্নানের তাড়া থাকে না, ওর হাতে অঢেল সময় থাকে। অন্যদিনে বাথরুমে ঢুকে আয়নায় নিজের দিকেই অনেকক্ষণ শুন্য দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে থাকে। সেদিনও বাথরুমে ঢুকে আয়নায় নিজেকে দেখেই ফিক করে হেসে ফেলে। ওর জীবনের গতিপথ বদলে গেছে।\n\nগিজার চালিয়ে শাওয়ারের নিচে দাঁড়িয়ে গুনগুন করে গান ধরল ঝিনুক, Can I touch you? I can't believe that you are real, How did I ever find you? You are the dream that saved my life You are the reason I survived।\n\nস্নান সেরে শোয়ার ঘরে ঢুকে হেয়ার ড্রাইয়ার চালিয়ে চুল শুকাতে শুকাতে একবার ফোনের দিকে দেখে নেয়, এতক্ষনে নিশ্চয় রিশু হসপিটাল পৌঁছে গেছে। ওপিডি ডিউটি, খুব ব্যাস্ত নিশ্চয়, না আর এখন মেসেজ করে লাভ নেই। একেবারে সোজা চমক দেবে প্রেমিককে। ঠিক তখনি রিতিকার ফোন আসাতে একটু ব্যাস্ত হয়ে পরে, ফোনেই রিতিকাকে বাড়ির ঠিকানা আর রাস্তা বুঝিয়ে দেয়। আলামারি খুলে বেশ কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে থাকে, কি পোশাক পড়বে সেটাই ঠিক করতে পারছে না। গতকাল জিন্স পড়ার ইচ্ছে ছিল কিন্তু প্রথমবার রিশুর সাথে বাইরে কোথাও ডিনারে যাচ্ছে ভেবেই শেষ পর্যন্ত শাড়ি পড়েছিল। তবে আজকে রিশু নয় বান্ধবীর সাথে মারকেটে যাচ্ছে শপিং করতে তাই একটা টরন স্টোন ওয়াশ নীল রঙের জিন্স আর একটা উঁচু গলার সাদা রঙের সোয়েটার বের করে। শীতকাল, সকালেই বারান্দায় বেড়িয়েই বুঝে গেছে বাইরে কত ঠান্ডা তাই জিনসের নিচে একটা স্কিন কালারের ইনার লেগিন্স পরে নেয়। চাপা জিন্স কোমরের নিচ থেকে পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত আঠার মতন ওর ত্বকের সাথে লেপটে যায়। দুই ঊরু কাছে বেশ ছেঁড়া, হাঁটুর নিচেও একটু ছেঁড়া এটাই বর্তমান ফ্যাশান। হাইনেক সোয়েটার পরে জিনসের ভেতরে বাকিটা গুঁজে নেয়। পাতলা কোমরে একটা বেল্ট লাগিয়ে নেয়। আয়নাটা বিশেষ বড় নয় তাই নিজেকে সম্পূর্ণ দেখতে একটু অসুবিধে হয় ঝিনুকের। বাম হাতের কবজিতে সোনার পাতে মোড়া লোহা বাঁধানো, ইচ্ছে করেই পোশাকের সাথে মিলিয়ে হাতের শাঁখা পলা বাঁধানোটা খুলে ফেলে। দুই কানে বড় গোল রিং পরে নেয়, গলায় একটা পাতলা সোনার চেন। মাথার চুল একপাশ করে আঁচড়ে নিয়ে মুখমন্ডলের প্রসাধনির জন্য ছোট আয়নার সামনে বসে পরে। মেকআপ বাক্স খুলে চোখের পাতার ওপরে হাল্কা কালচে আইশ্যাডো লাগিয়ে চোখ জোড়া একটু স্মোকি করে তোলে, দুই চোখের পাতায় আইল্যাশ আঠা দিয়ে আটকে চোখের পলক গুলো একটু বড় করে তোলে, চোখের নিচে কাজল পরে চোখের আকার আরো একটু টানাটানা করে তোলে। একগাদা লিপস্টিক খুলে বসে পরে, কি লাগালে এই পোশাকের সাথে মানাবে সেটা ভাবতে ভাবতেই ওর দরজায় কলিং বেল বেজে ওঠে।\n\nদরজা খুলতেই রিতিকা ওকে দেখে আশ্চর্য হয়ে যায়, “ইয়ো বেব ইউ আর লুকিং হট।” বলেই ঝিনুক কে জড়িয়ে ধরে।\n\nরিতিকার পরনে চাপা কালো রঙের জিন্স, গায়ে একটা লম্বা কালো রঙের জ্যাকেট আর তার নিচে একটা লাল রঙের শারট। ঠান্ডার জন্য মাথায় একটা ক্যাপ পড়েছে তবে সেটা ঠান্ডা আটকানোর জন্য নয় সেটা স্টাইলের জন্য। মনে মনে নিজেকে রিতিকার পাশে দাঁড় করিয়ে একবার প্রতিদ্বন্দ্বী অবচেতন মন যাচাই করে নেয় কে বেশি সুন্দরী। কলেজের সেই রেষারেষি এখন ঠিক ভাবে কাটেনি, ভাবতেই মনে মনেই হেসে ফেলে ঝিনুক।\n\nহেসে ফেলে ঝিনুক, “কাম অন ইয়ার, কতদিন পরে দেখা বলতো।”\n\nরিতিকা বাড়ির চারপাশে চোখ বুলিয়ে সোফায় বসে ওকে জিজ্ঞেস করে, “আর তোর কি খবর বল?”\n\nঝিনুক সোফায় বসে উত্তর দেয়, “আই এম ইন ক্লাউড নাইন...”\n\nরিতিকা ওর দিকে গভীর ভাবে তাকিয়ে দেখে মিষ্টি হেসে বলে, “বিয়ের পরে তুই যেন আরো হট হয়ে গেছিস।”\n\nলজ্জায় ঝিনুকের গালে লালচে আভাস দেখা দেয়, সকালের রিশুর প্রথম চুম্বন এখন ওর ঠোঁট থেকে মুছে যায়নি। লাজুক হেসে উত্তর দেয়, “ইউ সে। হোয়াট এবাউট হরিশ?”\n\nমৃদু হেসে রিতিকা উত্তর দেয়, “আমাদের অনেকদিন আগেই ব্রেকআপ হয়ে গেছে।”\n\nভুরু কুঁচকে ঝিনুক প্রশ্ন করে, “কি হল?”\n\nরিতিকা উত্তর দেয়, “নাথিং মাচ, ছাড় না ওর কথা।”\n\nচোখ কুঁচকে একবার রিতিকাকে জরিপ করে বলে, “ওকে একটু দাঁড়া আমি একটু সেজেই বেড়িয়ে পড়ছি।”\n\nচোখ বড় বড় করে হেসে ফেলে রিতিকা, “আরো সাজ বাকি?”\n\nমাথা দোলায় সুন্দরী ললনা, “এই জাস্ট লিপস্টিক লাগিয়ে বেড়িয়ে যাবো।”\n\nতর্জনী আর মধ্যমা নিজের ঠোঁটে ছুইয়ে ঝিনুকের দিকে একটা ছোট চুম্বন ছুঁড়ে দিয়ে বলে, “তুই এখন সেই ঝিনুক আছিস।”\n\nমনে মনে হেসে ফেলে ঝিনুক, ডুবে গেছিলাম রে ও না থাকলে কোথায় যে তলিয়ে যেতাম নিজেই জানিনা। লাজুক হেসে উত্তর দেয়, “দাঁড়া লিপস্টিকটা লাগিয়ে আসছি।”\n\nশোয়ার ঘরে ঢুকে ঠোঁটে গাড় বাদামি রঙের একটা লিপস্টিক লাগিয়ে আয়নায় নিজেকে একবার জরিপ করে বেড়িয়ে পরে ঝিনুক। গায়ে গাড় নীল রঙের রিশুর কিনে দেওয়া ওভারকোট চাপিয়ে নেয়, পায়ে থাই হাই গাড় বাদামি রঙের বুট। বেরনোর আগে রিতিকা ওর আপাদমস্তক চোখ বুলিয়ে জিজ্ঞেস করে, কাকে ঘায়েল করতে চলেছে? রিতিকা প্রশ্ন করলে উত্তরে বলে, সব থেকে আগে এইএমএস যাবে ওর নতুন “বয়ফ্রেন্ড”কে একটা চমক দিতে। নতুন বয়ফ্রেন্ডের কথা শুনে রিতিকা বেশ চমকে যাওয়াতে হাসিতে ফেটে পরে ঝিনুক। ক্যাবে বসে রিশুর হসপিটালের দিকে যেতে যেতে একটা মেসেজ করে জানিয়ে দেয় যে ওরা দুইজনে শপিং করতে বেড়িয়ে পড়েছে, কিন্তু এটা জানায় না যে ওরা রিশুর সাথে দেখা করতে আসছে।",
        "series": {
            "id": 70,
            "title": "শেষের পাতায় শুরু",
            "slug": "sehser-patay-shuru",
            "url": "https://golpohub.com/series/sehser-patay-shuru",
            "thumbnail_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/series-sesher-patay-suru-70-3cb003.webp",
            "progress_status": "completed"
        },
        "author": {
            "id": 22,
            "name": "পিনুরাম",
            "slug": "pinuram",
            "url": "https://golpohub.com/authors/pinuram",
            "avatar_url": "https://cdn.golpohub.com/avatars/pinuram-22-995484.webp",
            "bio": "পিনুরাম বাংলা কথাসাহিত্যের এক সংবেদনশীল ও মননশীল রূপকার। মানবজীবনের টানাপোড়েন, দায়িত্ববোধের কঠিন আত্মত্যাগ এবং সামাজিক শৃঙ্খলের ভেতর লুকিয়ে থাকা সূক্ষ্ম অনুভূতির রূপায়ণে তাঁর লেখনী অনন্য। তাঁর চরিত্ররা আবেগতাড়িত ভুলের ভেতর দিয়ে হেঁটে এসে অবশেষে গভীর আত্মোপলব্ধি ও দায়িত্বশীল মানবিকতায় পূর্ণতা পায়। বাস্তব জীবনের জটিল মনস্তত্ত্ব ও আত্মশুদ্ধির মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা তাঁর গল্পগুলো পাঠকদের চিত্তে শুভ ও ইতিবাচক চেতনার বিস্তার ঘটায়।",
            "series_count": 0,
            "meta": {
                "bio": "পিনুরাম বাংলা কথাসাহিত্যের এক সংবেদনশীল ও মননশীল রূপকার। মানবজীবনের টানাপোড়েন, দায়িত্ববোধের কঠিন আত্মত্যাগ এবং সামাজিক শৃঙ্খলের ভেতর লুকিয়ে থাকা সূক্ষ্ম অনুভূতির রূপায়ণে তাঁর লেখনী অনন্য। তাঁর চরিত্ররা আবেগতাড়িত ভুলের ভেতর দিয়ে হেঁটে এসে অবশেষে গভীর আত্মোপলব্ধি ও দায়িত্বশীল মানবিকতায় পূর্ণতা পায়। বাস্তব জীবনের জটিল মনস্তত্ত্ব ও আত্মশুদ্ধির মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা তাঁর গল্পগুলো পাঠকদের চিত্তে শুভ ও ইতিবাচক চেতনার বিস্তার ঘটায়।",
                "phone": null,
                "gender": "male",
                "address": {
                    "country": "India"
                },
                "birth_date": null,
                "social_links": [],
                "pen_name": "পিনুরাম",
                "aliases": [
                    "Pinuram",
                    "Pinu Ram"
                ]
            },
            "timestamps": {
                "created_at": null,
                "updated_at": null
            }
        },
        "navigation": {
            "previous_episode": {
                "id": 2510,
                "ep_number": 37,
                "title": "দশ গোনার বাঁধভাঙা টান",
                "slug": "sehser-patay-shuru-s1-ep37",
                "url": "https://golpohub.com/episodes/sehser-patay-shuru-s1-ep37",
                "thumbnail_url": "https://golpohub.com/assets/images/og.jpg"
            },
            "next_episode": {
                "id": 2512,
                "ep_number": 39,
                "title": "চেম্বারের সামনে রাজকন্যা",
                "slug": "sehser-patay-shuru-s1-ep39",
                "url": "https://golpohub.com/episodes/sehser-patay-shuru-s1-ep39",
                "thumbnail_url": "https://golpohub.com/assets/images/og.jpg"
            }
        }
    }
}