{
    "_links": {
        "html": "https://golpohub.com/episodes/sehser-patay-shuru-s1-ep55",
        "json": "https://golpohub.com/episodes/sehser-patay-shuru-s1-ep55?format=json",
        "markdown": "https://golpohub.com/episodes/sehser-patay-shuru-s1-ep55?format=md",
        "rss": "https://golpohub.com/episodes/sehser-patay-shuru-s1-ep55?format=rss",
        "atom": "https://golpohub.com/episodes/sehser-patay-shuru-s1-ep55?format=atom"
    },
    "seo": {
        "canonical_url": "https://golpohub.com/episodes/sehser-patay-shuru-s1-ep55",
        "title": "শেষের পাতায় শুরু পর্ব ৫৫ - শেষের পাতায় নতুন শুরু | Sesher Patay Shuru Part 55",
        "description": "পড়ুন শেষের পাতায় শুরু পর্ব ৫৫ (শেষের পাতায় নতুন শুরু)। রিশু ও ঝিনুকের মধুর পুনর্মিলন এবং পাঁচ বছর পরের পূর্ণতার মহাকাব্যিক সমাপ্তি।",
        "keywords": "শেষের পাতায় শুরু শেষ পর্ব, শেষের পাতায় শুরু ৫৫, sesher patay shuru porbo 55, sesher patay shuru part 55, sehser patay shuru episode 55, sesher patay shuru shesh porbo, রিশু, ঝিনুক, সমাপ্তি",
        "image_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-chapter-2528-be1631.webp",
        "schema": {
            "@context": "https://schema.org",
            "@graph": [
                {
                    "@type": "Chapter",
                    "name": "শেষের পাতায় নতুন শুরু",
                    "position": 55,
                    "description": "লন্ডন যাওয়ার আগের মাঝরাতে রিশুর কান্নায় ভেঙে পড়ে ফোনের ওপাশ—'ঝুনু, তোমায় ছাড়া পারছি না!' ভোররাতের ফ্লাইটে পালিয়ে আসা প্রেমের মিলন আর পাঁচ বছর পরের কোলজুড়ানো মুক্তোর হাসিতে কি পূর্ণতা পেল তাদের জীবন?",
                    "url": "https://golpohub.com/episodes/sehser-patay-shuru-s1-ep55",
                    "inLanguage": "bn",
                    "timeRequired": "PT13M",
                    "datePublished": "2026-09-14T16:50:40+00:00",
                    "dateModified": "2026-09-14T16:54:33+00:00",
                    "wordCount": 1995,
                    "image": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-chapter-2528-be1631.webp",
                    "accessibilityFeature": [
                        "readingOrder",
                        "structuralNavigation",
                        "displayTransformability",
                        "uncontracted"
                    ],
                    "accessibilityControl": [
                        "fullKeyboardControl",
                        "fullTouchControl"
                    ],
                    "accessibilityHazard": [
                        "none"
                    ],
                    "potentialAction": {
                        "@type": "ReadAction",
                        "target": "https://golpohub.com/episodes/sehser-patay-shuru-s1-ep55"
                    },
                    "isPartOf": {
                        "@type": [
                            "BookSeries",
                            "CreativeWorkSeries"
                        ],
                        "name": "শেষের পাতায় শুরু",
                        "url": "https://golpohub.com/series/sehser-patay-shuru"
                    },
                    "author": {
                        "@type": "Person",
                        "name": "পিনুরাম",
                        "url": "https://golpohub.com/authors/pinuram"
                    }
                },
                {
                    "@type": "BreadcrumbList",
                    "itemListElement": [
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 1,
                            "name": "Golpo Hub",
                            "item": "https://golpohub.com"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 2,
                            "name": "সিরিজসমূহ",
                            "item": "https://golpohub.com/series"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 3,
                            "name": "শেষের পাতায় শুরু",
                            "item": "https://golpohub.com/series/sehser-patay-shuru"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 4,
                            "name": "শেষের পাতায় নতুন শুরু",
                            "item": "https://golpohub.com/episodes/sehser-patay-shuru-s1-ep55"
                        }
                    ]
                }
            ]
        }
    },
    "filters": [],
    "data": {
        "id": 2528,
        "ep_number": 55,
        "title": "শেষের পাতায় নতুন শুরু",
        "slug": "sehser-patay-shuru-s1-ep55",
        "url": "https://golpohub.com/episodes/sehser-patay-shuru-s1-ep55",
        "reading_time": 13,
        "thumbnail_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-chapter-2528-be1631.webp",
        "yt_video_id": null,
        "yt_video_url": null,
        "timestamps": {
            "published_at": "2026-09-14T16:50:40+00:00",
            "updated_at": "2026-09-14T16:54:33+00:00"
        },
        "meta": {
            "word_count": 1995,
            "seo_title": "শেষের পাতায় শুরু পর্ব ৫৫ - শেষের পাতায় নতুন শুরু | Sesher Patay Shuru Part 55",
            "seo_description": "পড়ুন শেষের পাতায় শুরু পর্ব ৫৫ (শেষের পাতায় নতুন শুরু)। রিশু ও ঝিনুকের মধুর পুনর্মিলন এবং পাঁচ বছর পরের পূর্ণতার মহাকাব্যিক সমাপ্তি।",
            "keywords": "শেষের পাতায় শুরু শেষ পর্ব, শেষের পাতায় শুরু ৫৫, sesher patay shuru porbo 55, sesher patay shuru part 55, sehser patay shuru episode 55, sesher patay shuru shesh porbo, রিশু, ঝিনুক, সমাপ্তি",
            "characters_involved": [
                "অম্বরীশ (রিশু)",
                "সঙ্ঘমিত্রা (ঝিনুক)",
                "আম্বালিকা",
                "পিয়ালী",
                "দিয়া",
                "ঝিলিক",
                "দীপ",
                "শালিনী"
            ]
        },
        "content": "রাতে শোয়ার সময়ে বিশাল ঘরের মধ্যের বিশাল বিছানার ওপরে ভীষণ ভাবেই একা মনে হয় নিজেকে। প্রথম রাতের কথা ভীষণ ভাবেই মনে পরে যায়, বিছানার পাশে রাখা সোফাটার দিকে শুয়ে শুয়েই অনেকক্ষণ চেয়ে থাকে। সেই রাতে এই সোফায় বসে কাটিয়ে দিয়েছিল রিশু। কোলকাতায় অতটা ঠান্ডা নেই তবে একটা কম্বল গায়ে দিয়ে বিশাল বিছানার এক কোনায় কুঁকড়ে শুয়ে ছিল। কিছুতেই ঘুম আসছিল না ওর চোখে। পরের দিন রিশু চলে যাবে, এই ভেবেই বুকের বাঁ দিকে ভীষণ ভাবেই ব্যাথা করছিল ঝিনুকের।\n\nরাত কত জানা নেই, হটাত করেই ওর ফোন বেজে ওঠে। ফোনের স্ক্রিনে নামের সাথে ছবিটা ভেসে উঠতেই চোয়াল শক্ত হয়ে যায়, তিরতির করে কেঁপে ওঠে নরম গোলাপি ঠোঁট জোড়া, চোখ জোড়া টলটল করে ওঠে। ভীষণ রাগ হয়, না উঠাব না তোমার ফোন, এখন কেন উঠাতে যাবো। ফোনের সবুজ বোতাম টিপে কানের কাছে চেপে ধরে ঝিনুক।\n\nঅন্য পাশে সেই জলদ গম্ভির আওয়াজ একদম নেই, “ঘুমিয়ে পড়েছ?”\n\nকানের ভেতর ঢুকে সেই আওয়াজ ওর বুক ছারখার করে দেয়। ঘুমাতে দেয় কই আর। দুই চোখে বন্যা। মনে পড়েছে তাহলে, এতক্ষন পরে? বুকের মাঝে হাপর টানে।\n\nওইপাশে সেই কন্ঠস্বর আবার বলে, “কিছু বলবে না?”\n\nমাথা নাড়ায় ঝিনুক, কেন ওর সাথে কথা বলতে যাবে? জীবনে না জেনে কত ভুল করেছে যে নিজেই ভুলে গেছে। তাই বলে এক্কেবারে এক কথায় ওকে এইভাবে...\n\nনিচু গলায় ফোনের মধ্যে থেকে ভেসে আসে বহু প্রতীক্ষিত ডাক, “ঝুনু...”\n\nশেষ ভালোবাসার একমাত্র পুরুষের কাঁপা কন্ঠে ভালোবেসে দেওয়া নাম শুনে চোখ টিপে বন্ধ করে নেয় ঝিনুক। আর পারছে না। হেঁচকির মতন দলা পাকিয়ে কান্না গলা বেয়ে উঠে, খোলা মুখ দিয়ে ঠিকরে বের হতে চাইছে।\n\nধরা কন্ঠস্বর ওকে বলে, “আই এম সরি, ঝুনু।”\n\nকিসের “সরি”? একটা সামান্য ইংরেজি শব্দ কি সব কিছু ঠিক করে দেবে নাকি? জীবনে প্রচুর ভুল করলেও, সেই রাতে মায়ের কথা শুনে এই শয়তানটার সাথে বিয়ে করতে রাজি হয়েছিল। একটা ছোট “সরি” তে কি করে ভুলে যায়? কিন্তু ওর হৃদয়টা চুরি করে নিজের কাছে রেখে দিয়ে বলে কি না ওকে সব “ফ্রিডম” দিয়েছে। “ফ্রি” কোথায় হতে পারল তাহলে?\n\nওইপাশ থেকে গলা ভেসে আসে, “সত্যি বলছি, বুকের বাঁ দিকটা ভীষণ ব্যাথা করছে, ঝুনু।”\n\nকেঁদে ফেলে শেষ পর্যন্ত ঝিনুক। মনে হচ্ছিল ঠাসিয়ে একটা থাপ্পড় কষিয়ে দেয় শয়তানটার গালের ওপরে। আদিখ্যেতা দেখান হচ্ছে এত রাতে, ন্যাকামো করে বলা হচ্ছে, বুকের বাঁ দিক ব্যাথা করছে। চলে যেতে বলার সময়ে মনে ছিল না?\n\nগলাটা ভীষণ ভাবেই খাদে নেমে যাচ্ছে মনের মানুষটার, “আমি অনেক কিছু বুঝি না। কি করব বল। এমন একটা প্রোফেশানে আছি যে মাঝে মাঝে আমার নাওয়া খাওয়ার সময় থাকে না, জানো।”\n\nকোনদিন বলেছে নাকি সেই নিয়ে? সেদিন তো রাগের বশে মুখ থেকে বেড়িয়ে গেছিল। কোনদিন জেদ ধরেনি যে রোজ বিকেলে ওকে বাইরে বেড়াতে নিয়ে যেতে হবে। কোনদিন জেদ ধরেনি যে শপিং করাতে নিয়ে যেতে হবে। দুই অবুঝ প্রানের মেল বন্ধন, হয়ত কঠিন। ওর বাজুর ওপরে মাথা রেখে রাতের বেলা যখন ওই বুকের উষ্ণ ওম ওর গালে লাগত তখন সবকিছু ভুলে যেত। অবুঝ ও নিজেও, ভালোবাসার খোঁজে কত উল্টোপাল্টা পথে গেছে।\n\nকাঁপা গলা শোনা যায়, \"হিসাবে হয়ত আমি অনেক এগিয়ে গেছি, কিন্তু শেষ বেলায় তুমি জিতে গেলে। চুপচাপ, বিনা বাক্যব্যায়ে একটা আওয়াজ পর্যন্ত না করে তুমি জিতে গেলে।”\n\nজিততে আসেনি ঝিনুক, কোনদিন জিততে আসেনি। সেই প্রথম দেখাতেই কেমন যেন হারিয়ে গেছিল। ভেবেছিল যে মানুষ ওর ব্যাথা দেখতে পারে সে মানুষ হয়ত অনেক কিছুই বুঝবে। ইসস শয়তানটা আবার কেমন করে বলছে দেখো, ও নাকি জিতে গেল। সব খুইয়ে দিয়ে সর্বহারার দলের প্রথম সারিতে ঝিনুকের নাম এখন। বেশ কিছুক্ষন চুপচাপ ওইপাশ থেকে শ্বাসের আওয়াজ ভেসে আসে। সেটাই ওর কানে মধুর সঙ্গীত, এই আওয়াজ ভীষণ ভাবেই ওকে কাছে টানে। যখন শ্রান্ত ক্লান্ত হয়ে রাতের বেলা ওকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে পরে কিন্তু ওর চোখে ঘুম আসে না, তখন চুপচাপ ওর বন্ধ চোখের দিকে এক ভাবে তাকিয়ে এই আওয়াজ শুনত। কানের ওপরে মোবাইল চেপে ধরে ক্রমাগত ফুঁপিয়ে কেঁদে চলেছে।\n\nবেশ কিছুক্ষন চুপ করে থাকার পরে কাঁপা গলা ভেসে আসে, “ঝুনু, তোমায় ভীষণ দেখতে ইচ্ছে করছে, ঝুনু।”\n\nদূরে ঠেলে দিয়ে এখন আবার, আদিখ্যেতা দেখো লোকটার, বলে কি না দেখতে ইচ্ছে করছে। ভীষণ অভিমান হয় মনের মানুষটার ওপরে। আর চুপ করে থাকতে পারে না ঝিনুক। বুকের পাঁজর অনেক কিছুই চেঁচিয়ে বলতে চেয়েছিল, কিন্তু ঠোঁট থেকে দুটো শব্দ বের হল ওর, “খেয়েছ কিছু?”\n\nপ্রেয়সীর বহু প্রতীক্ষিত কম্পিত সুমিষ্ট কন্ঠ শুনে বুকের পাঁজর দুমড়ে যায় হৃদপিণ্ড গলায় এসে ধাক্কা মারে রিশুর। কানের ওপরে মোবাইল চেপে ধরে, সেই আওয়াজটা বারে বারে মনের মধ্যে আওড়ায়। কানের মধ্যে বারেবারে ওই ছোট দুটো শব্দ প্রতিধ্বনিত হয়। ছোট উত্তর দেয়, “হ্যাঁ, খেয়েছি।”\n\nঝিনুক জিজ্ঞেস করে, “বাড়ি কখন ফিরলে?”\n\nউত্তর দেয় রিশু, “একটু দেরি হয়েছে। এখানে বৃষ্টি শুরু হয়েছে।”\n\nউল্টো হাতে চোখের কোনা মুছে রিশুকে জিজ্ঞেস করে, “সুটকেস গুছানো হয়ে গেছে?”\n\nমাথা দোলায় রিশু, “হ্যাঁ।”\n\nজিজ্ঞেস করে ওর সাধের কামিনী, “মাফলার নিয়েছ?”\n\nইসস এটা ভুলে গেছে, মাথা নাড়ায় রিশু, “না ভুলে গেছি।” সত্যি ঝিনুক ছাড়া ওর গতি নেই।\n\nঅভিমানিনী কপট ঝাঁঝিয়ে ওঠে, “এখুনি নাও। লন্ডনে এক ডিগ্রি চলছে। আলমারির ডান দিকে নিচের দিকের কোনায় রাখা আছে।”\n\nহেসে ফেলে রিশু, কোলকাতায় বসে লন্ডনের তাপমান পর্যন্ত মুখস্থ করে বসে আছে ওর প্রেয়সী সুন্দরী। বিছানা ছেড়ে উঠে আলমারি খুলে নিচের তাক থেকে মাফলার বের করে আনে। সুটকেস খুলে মাফলারের সাথে সাথে ঝিনুকের গোলাপি টপটা সঙ্গে নিয়ে নেয়। “হ্যাঁ, ঢুকিয়ে নিয়েছি।”\n\nঝিনুক ওকে জিজ্ঞেস করে, “গ্লাভস নিয়েছ?”\n\nমৃদু হেসে মাথা দোলায় রিশু, “হ্যাঁ ওটা তুমি আগেই গুছিয়ে দিয়েছিলে।”\n\nউত্তর শুনে জল ভরা চোখে হেসে ফেলে ঝিনুক, “না, আমি ভাবলাম তুমি আবার সব বার টার করে দিলে নাকি। কি জানি বাবা কথায় কথায় সবাইকে বের করে দাও।”\n\nশেষের কথাটায় ব্যাথা পায় রিশু। অপরাধীর মতন নিচু গলায় বলে, “সরি, ঝুনু।”\n\nভগ্ন হৃদয়ে ঝাঁঝিয়ে ওঠে ব্যাথিত ললনা, “বারেবারে আমাকে ওই নামে ডাকবে না, বুঝলে।” তারপরে কেঁদে ফেলে ঝিনুক, “আমার ভীষণ কষ্ট হয়।”\n\nদুই রিক্ত প্রান চুপচাপ গভীর রাতের অন্ধকারে নিজেদের ব্যাবধান দুর করতে মুখিয়ে ওঠে। কিন্তু হায় বিধি ওদের মাঝে যে কয়েক হাজার কিলোমিটারের ব্যাবধান।\n\nগলা কেঁপে ওঠে রিশুর, “তোমায় ভীষণ দেখতে ইচ্ছে করছে, ঝুনু।” অন্যপাশ থেকে ভেসে আসে প্রেয়সীর বাঁধ ভাঙা চাপ ক্রন্দন ধ্বনি। কতদিন দেখেনি ওর প্রেয়সীকে, “আমি কাল একদম ভোরের টিকিট কাটছি। তুমি শুধু মাত্র কয়েক ঘন্টার জন্য এসো।”\n\nঅভিমানী হৃদয় ঝাঁঝিয়ে ওঠে, “না যাবো না।” বুক ফেটে যায় ঝিনুকের। বেশ কিছুক্ষন পরে চোখের কোল মুছে জিজ্ঞেস করে, “পাঁচটায় কোন ফ্লাইট আছে কি?”\n\nহেসে ফেলে রিশু, “দেখছি দাঁড়াও।”\n\nমৃদু ঝাঁঝিয়ে ওঠে রূপসী ললনা, “শুয়ে আছি তাতে গায়ে লাগছে নাকি?” বলেই হেসে ফেলে।\n\nসঙ্গে সঙ্গে ল্যাপটপ খুলে বসে পরে রিশু। প্লেনের সময় দেখে ওকে বলে, “পাঁচটায় একটা আছে কিন্তু সেটা ধরতে হলে তোমাকে তো রাত দুটোতে বাড়ি থেকে বের হতে হবে। বাড়ি থেকে এয়ারপোর্ট এক ঘন্টার মতন লেগে যাবে যে।”\n\nবিছানায় উঠে বসে মুখ ফুলিয়ে মাথা নাড়ায় ঝিনুক, “আমি কিছু জানি না।”\n\nরিশু ঘড়ি দেখে বলে, “আরে একটা বাজে এখানেই। তুমি তাহলে রেডি হও। কিন্তু এত রাতে কি বলে বের হবে?”\nঘাড় কাত করে মোবাইল কানের ওপরে চেপে ধরে বিছানা ছেড়ে উঠে পরে ঝিনুক। রাত একটা বাজে হাতে মাত্র এক ঘন্টা। কিন্তু এত রাতে যদি মামনি শোনে যে ঝিনুক দিল্লী যাচ্ছে তাহলে হয়ত খুব বকাবকি করবে। কিন্তু ও যাবেই।\n\nমাথার চুল এলো করে খোঁপায় বাঁধতে বাঁধতে বলে, “কাউকে কিছুই বলব না, চুপিচুপি পালিয়ে যাবো।” বলেই খিলখিল করে হেসে ফেলে।\n\nকানের ওপরে মোবাইল চেপে ধরে রিশু। কতদিন এই গলার আওয়াজ শোনেনি, কতদিন এই হাসির কলতান ওর কানে ভেসে আসেনি। প্লেনের টিকিট কেটে ওকে পাঠিয়ে দিয়ে বলে, “পালাও পালাও, কেউ ধরে ফেলার আগেই পালিয়ে আসো।”\n\nআলমারি খুলে সেই ওর দেওয়া সালোয়ার কামিজ বার করে। রেগে মেগে সেদিন কিছুই আনা হয়নি। জামা কাপড় হাতে নিয়ে বাথরুমের দিকে যেতে যেতে বলে, “হ্যাঁ শয়তান, আর শয়তানি করতে হবে না। ফোন রাখো আমি রেডি হব।”\n\nরিশু মাথা চুলকে আদর করে আবদার করে, “একটা ভিডিও কল কর।”\n\nমাথা দোলায় রিশুর রূপসী তন্বী প্রেয়সী, “তুমি না ভীষণ দুষ্টু। আমি এখন বাথরুমে যাবো।”\n\nদুষ্টুমির হাসি দেয় রিশু, “ভালো তো তাহলে।”\n\nমোবাইলে দীর্ঘ একটা চুমু খেয়ে বলে, “ফোন রাখো আমি রেডি হই। ক্যাবে উঠে তোমাকে আবার ফোন করব।”\n\nরিশু নাছোড়বান্দা, “প্লিজ ঝুনু একটা ভিডিও কল কর।”\n\nহাসতে হাসতেই ঝিনুক রিশুকে একটু বকে দেয়, “ধ্যাত, তুমি না। পরে করব। এয়ারপোর্টে গিয়ে করব।”\n\nরিশু মুচকি হেসে আবদার করে, “আচ্ছা একটা ছোত্ত হামি।”\n\nগোলাপি নরম ঠোঁট জোড়া ফোনের কাছে কুঁচকে মিষ্টি করে একটা চুমু ছুঁড়ে দেয়, “মুহহহহহাআআআ... হয়েছে এবারে, শান্তি।”\n\nচুম্বনের আওয়াজ পেয়ে রিশুর বুক ভরে ওঠে, নিচু গলায় বলে, “মিসিং ইউ ঝুনু।”\n\nআরও একটা সুদীর্ঘ চুম্বন ছুঁড়ে দেয় ফোনের মধ্যে থেকে, “মুয়াহহহ... এই এবারে আমাকে ড্রেস আপ করতে দাও।”\n\nওর প্রেয়সী শেষ পর্যন্ত ওর ক্রোড়ে ফিরে আসছে। কেমন যেন একটা শিউরে ওঠা অদ্ভুত অনুভূতি জাগে ওর সারা শরীরে। কেমন যেন কাউকে মাঝ রাতে চুরি করে নিয়ে আসার মতন অনুভূতি। প্রেমিকার সাথে দেখা করার জন্য আর অপেক্ষা করতে পারছে না, “তাড়াতাড়ি আসো।”\n\nআবার বকুনি দেয় ওর প্রেয়সী কামিনী, “তুমি ফোন রাখলে তবে না আমি ড্রেস করব, শয়তান।” গভীর রাতে বাড়ি থেকে প্রেমিকের সাথে দেখা করতে যাওয়ার জন্য পালিয়ে যাওয়া। উফফফ, সর্বাঙ্গ শিউরে ওঠে ঝিনুকের। সারা শরীরে কাঁটা দিয়ে ওঠে। বুকের রক্ত চঞ্চল হয়ে ওঠে, নাক মুখ কুঁচকে রিশুকে মুচকি হেসে বলে, “ইসসস কি মনে হচ্ছে জানো...”\n\nকথাটা রিশু শেষ করে, “বয়ফ্রেন্ডের জন্য বাড়ি থেকে পালাচ্ছ...”\n\nদুই তৃষ্ণার্ত কপোত কপোতী বহুদুরে হলেও এক সাথেই খিলখিল করে হেসে ফেলে। শেষের পাতায় শুরু হল দুই মিলন পিয়াসী তৃষ্ণার্ত প্রানের।\n\n!!শেষের পাতায় শুরু!!\n\nসামনের একটা গাছের ডালে এক গাদা শালিক বসে অনেকক্ষণ ধরে একটানে কিচির মিচির করে যাচ্ছিল। আকাশে মেঘের ঘটা দেখে কারুর বলার জো নেই যে শরত কাল এসে গেছে। সেই সাদা পোজা তুলোর মেঘের জায়গায় কালো মেঘ ছেয়ে ছিল আকাশে। হয়ত কিছুক্ষনের মধ্যেই বৃষ্টি নামবে। আটান্ন বসন্ত পেরিয়ে আসা সুন্দরী আম্বালিকার মন চাপা উত্তেজনায় বড় অস্থির যায় আকাশের কালো মেঘের আনাগোনা দেখে। গত রাতে ঝম ঝম করে বৃষ্টি হয়েছিল। অন্ধকার থাকতেই ঘুমটা ভেঙ্গে গেছিল আদরের বড় বৌমা, ঝিনুকের প্রসব যন্ত্রণার চিৎকারে। বড় ছেলে, রিশু দিল্লীর এমসের চাকরি ছেড়ে কোলকাতায় এসএসকেএম কে চলে এসেছে পাঁচ বছর আগেই। ঝিনুক বাড়ি আসার পর থেকে ওর প্লে কলেজের সব ভার তুলে নিয়েছিল নিজের কাঁধে। ভীষণ অস্থির লাগছে, এখন কোন খবর এলো না।\n\nওর প্রিয় বান্ধবী, পিয়ালী ওর পাশে বসে বলে, “এত টেন্সান নিচ্ছিস কেন?”\n\nআম্বালিকা ওর দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে, “ঝিলিক কিছু বলল?”\n\nপিয়ালীর ছোট মেয়ে, ঝিলিক ডাক্তারি পড়ছে কোলকাতা মেডিকেল কলেজে। পড়াশুনায় বেশ ভালো মেয়েটা। ওর জিজুর দেখনো পথেই গেছে।\n\nমুচকি হেসে ফেলে পিয়ালী, যদিও ওর মনের মধ্যেও সমান অস্থিরতা। “সব ঠিক হয়ে যাবে।”\n\nআম্বালিকা ঘাড় ঘুরিয়ে নিজের মেয়ের দিকে তাকিয়ে দেখে। ফোনে কারুর সাথে কথা বলছে। ফোন নিয়েই ওর দিকে এগিয়ে আসে দিয়া। আম্বালিকা জিজ্ঞেস করে, “এতক্ষন কার সাথে কথা বলছিস?”\n\nএকমাত্র কন্যে, দিয়া ওর বাবার মতন যাদবপুর থেকে আর্কিটেকচার পাশ করে ওদের অফিসেই জয়েন করেছে। সেটার কৃতিত্ব ঝিনুকের। যদিও ওর ইচ্ছে ছিল মেয়েও ডাক্তার হোক, ঝিনুক বলেছিল যে যেটা করতে চায় সেটাই করতে দেওয়া হোক। বাধা দিতে পারেনি আম্বালিকা, তবে ভীষণ খুশি। বাবার সাথেই নিজেদের আর্কিটেকচার ফার্মের ভার তুলে নিয়েছে।\n\nদিয়া ফোন রেখে উত্তর দেয়, “রিতিকাদির ফ্লাইট ল্যান্ড করে গেছে, এই ট্যাক্সিতে উঠেছে।”\n\nমাথা দোলায় আম্বালিকা, “ওহ আচ্ছা। সুভাষ ছুটি পায়নি?”\n\nদিয়া মাথা নাড়ায়, “না, আজকে সুভাষদার ওপিডি।”\n\nঝিনুকের বান্ধবী রিতিকা, দিল্লীতেই থাকে। রিশু এক জুনিয়ার ডাক্তারের সাথে বিয়ে হয়েছে তিন বছর আগে। সুভাষ আর রিতিকার মধ্যে পরিচয়টা রিশুই করিয়ে দিয়েছিল।\n\nদিয়া চেঁচিয়ে বলে ভাইকে, “এই ভাই, ভিহানকে দেখ কোথায় যাচ্ছে।”\n\nওটির দরজার সামনে হাত মুঠো করে দাঁড়িয়েছিল দীপ, দেখতে দেখতে কত বড় হয়ে গেছে ছেলেটা। ঝিনুকের ত্বতাবধনে দীপ পড়াশুনায় বেশ উন্নতি করেছে। সামনের মাসে ইউএসএ চলে যাবে, একটা বড় ইউনাভারসিটিতে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং এ চান্স পেয়েছে। দিয়ার গলা শুনে দীপ দৌড় লাগায় শালিনীর একমাত্র পুত্র, কচি ভিহানের পেছনে। ভীষণ বদমাশ হয়েছে বিচ্ছুটা। গত দুইদিন ধরে বাড়ি মাথায় করে রেখেছে। ঝিনুক আসন্ন প্রসবা শুনেই শালিনী তিন দিন আগে ছেলে নিয়ে চলে এসেছে কোলকাতায়। দীপ ভিহানকে কোলে তুলে নিতেই ভিহানের রাগ। ছোট ছোট হাতে দীপের গালে সমানে চাঁটি মারছে। ঘোর প্রতিবাদের ঝড়, কেন ওকে কোলে তোলা হয়েছে, কেন ওর স্বাধীনতা খর্ব করা হয়েছে। কি সুন্দর মনের আনন্দে ম্যাগাজিনের পাতা ছিঁড়ছিল।\n\nএকটু বাদে দরজা খুলে বেড়িয়ে আসে ঝিলিক। মা আর আন্টির হাত ধরে মুচকি হেসে বলে, “এই একটু পরে দিদিকে বেডে দেবে। জিজু দিদির সাথেই আছে।”\n\nআম্বালিকা আর পিয়ালী এক সাথেই জিজ্ঞেস করে, “সব ঠিক তো? ভালো আছে তো।”\n\nখুশির হাসি ঝিলিকের ঠোঁটে, “হ্যাঁ সব ভালো।”\n\nঅদুরে দাঁড়িয়েছিল সোমনাথ আর নিলাদ্রী। ঝিলিককে বেড়িয়ে আসতে দেখে ওদের দিকে এগিয়ে আসে। উৎসুক সোমনাথ ছোট মেয়েকে জিজ্ঞেস করে, “কি হয়েছে?”\n\nমুচকি হাসে ঝিলিক, “এই আসছে।”\n\nসাদা নরম কাপড়ের মধ্যে মুড়ে সদ্যজাত কচি শিশুকে কোলে নিয়ে দরজা দিয়ে বেড়িয়ে আসে শালিনী। সবাই উন্মুখ। আনন্দে পিয়ালী কেঁদে ফেলে। শালিনী সদ্যজাত কচি শিশুকে আম্বালিকার হাতে তুলে দেয়, “এই নাও তোমার নাতনি।”\n\nআম্বালিকার চোখে আনন্দশ্রু। সদ্যজাত কচি শিশুটিকে কোলে নিয়ে বলে, “আমার ঝিনুকের মুক্তো।”\n\nশালিনী চোখের কোল মুছে হেসে বলে, “আমার বউমা।”\n\nওর কথা শুনে সবাই হেসে ফেলে।\n\n!!সমাপ্ত!!",
        "series": {
            "id": 70,
            "title": "শেষের পাতায় শুরু",
            "slug": "sehser-patay-shuru",
            "url": "https://golpohub.com/series/sehser-patay-shuru",
            "thumbnail_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/series-sesher-patay-suru-70-3cb003.webp",
            "progress_status": "completed"
        },
        "author": {
            "id": 22,
            "name": "পিনুরাম",
            "slug": "pinuram",
            "url": "https://golpohub.com/authors/pinuram",
            "avatar_url": "https://cdn.golpohub.com/avatars/pinuram-22-995484.webp",
            "bio": "পিনুরাম বাংলা কথাসাহিত্যের এক সংবেদনশীল ও মননশীল রূপকার। মানবজীবনের টানাপোড়েন, দায়িত্ববোধের কঠিন আত্মত্যাগ এবং সামাজিক শৃঙ্খলের ভেতর লুকিয়ে থাকা সূক্ষ্ম অনুভূতির রূপায়ণে তাঁর লেখনী অনন্য। তাঁর চরিত্ররা আবেগতাড়িত ভুলের ভেতর দিয়ে হেঁটে এসে অবশেষে গভীর আত্মোপলব্ধি ও দায়িত্বশীল মানবিকতায় পূর্ণতা পায়। বাস্তব জীবনের জটিল মনস্তত্ত্ব ও আত্মশুদ্ধির মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা তাঁর গল্পগুলো পাঠকদের চিত্তে শুভ ও ইতিবাচক চেতনার বিস্তার ঘটায়।",
            "series_count": 0,
            "meta": {
                "bio": "পিনুরাম বাংলা কথাসাহিত্যের এক সংবেদনশীল ও মননশীল রূপকার। মানবজীবনের টানাপোড়েন, দায়িত্ববোধের কঠিন আত্মত্যাগ এবং সামাজিক শৃঙ্খলের ভেতর লুকিয়ে থাকা সূক্ষ্ম অনুভূতির রূপায়ণে তাঁর লেখনী অনন্য। তাঁর চরিত্ররা আবেগতাড়িত ভুলের ভেতর দিয়ে হেঁটে এসে অবশেষে গভীর আত্মোপলব্ধি ও দায়িত্বশীল মানবিকতায় পূর্ণতা পায়। বাস্তব জীবনের জটিল মনস্তত্ত্ব ও আত্মশুদ্ধির মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা তাঁর গল্পগুলো পাঠকদের চিত্তে শুভ ও ইতিবাচক চেতনার বিস্তার ঘটায়।",
                "phone": null,
                "gender": "male",
                "address": {
                    "country": "India"
                },
                "birth_date": null,
                "social_links": [],
                "pen_name": "পিনুরাম",
                "aliases": [
                    "Pinuram",
                    "Pinu Ram"
                ]
            },
            "timestamps": {
                "created_at": null,
                "updated_at": null
            }
        },
        "navigation": {
            "previous_episode": {
                "id": 2527,
                "ep_number": 54,
                "title": "বৃষ্টির রাতে কঠিন চপেটাঘাত",
                "slug": "sehser-patay-shuru-s1-ep54",
                "url": "https://golpohub.com/episodes/sehser-patay-shuru-s1-ep54",
                "thumbnail_url": "https://golpohub.com/assets/images/og.jpg"
            },
            "next_episode": null
        }
    }
}