> **বিকল্প ফরম্যাটসমূহ:** [এইচটিএমএল](https://golpohub.com/episodes/shishir-bheja-rodudur-s1-ep20) | [জেসন](https://golpohub.com/episodes/shishir-bheja-rodudur-s1-ep20?format=json) | [আরএসএস ফিড](https://golpohub.com/episodes/shishir-bheja-rodudur-s1-ep20?format=rss) | [অ্যাটম ফিড](https://golpohub.com/episodes/shishir-bheja-rodudur-s1-ep20?format=atom)

# অতীত জীবনের বিষাদ গাঁথা

![অতীত জীবনের বিষাদ গাঁথা](https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-chapter-2571-04e925.webp)

---
*[নোভা ইসলাম](https://golpohub.com/authors/nova-islam)-এর [শিশির ভেজা রোদ্দুর](https://golpohub.com/series/shishir-bheja-rodudur) সিরিজ থেকে*\n*আনুমানিক পড়ার সময়: 11 মিনিট*
- **মোট শব্দ:** 1,740
- **প্রকাশিত:** Sep 15, 2026
---

—আরেকটু খেয়ে নে।নয়তো শরীর খারাপ করবে তো।সুস্থ হতে হলে ঠিকমতো খাবার খেতে হবে।মাত্র এক বাটি স্যুপ শেষ করতে পারবি না।আরেকবার নাক সিটকালে থাপ্পড় খাবি।তোর নাকে গন্ধ লাগে বলে ডিমও দেইনি। গত দুই দিন ধরে আমার ওপর দিয়ে খাবারের অত্যাচার যাচ্ছে। একটা খেতে না চাইলে আরেকটা, সেটাও খেতে না চাইলে অন্যটা।আম্মু আমাকে বোধহয় খাইয়ে খাইয়ে আবারো অসুস্থ করে দিবে।দুদিন হসপিটালে থেকে আজই রিলিজ পেয়েছি। আব্বু গতকাল নবাবগঞ্জ তার কাজে ফিরে গেছে। কিন্তু আম্মু ছুটি নিয়ে রয়ে গেছে।বিকেলে চলে যাবে।আগামীকাল থেকে আবার স্কুলে গিয়ে ক্লাশ করাতে হবে।তাই যাওয়ার আগে আমাকে খাইয়ে খাইয়ে কুমড়ো পটাস বানানোর চিন্তায় আছে। তার সাথে যোগ দিয়েছে তায়াং ভাইয়া, তন্বী ও খালামণি।একটু আগে হসপিটাল থেকে সকালের খাবার খেয়ে বাসায় এসেছি। এসে বিছানায় বসতে না বসতেই আম্মু স্যুপ নিয়ে হাজির।এখন সেগুলো গুঁতিয়ে গুঁতিয়ে আমাকে খাওয়াচ্ছে। আম্মু আরেক চামচ স্যুপ আমার দিকে বাড়িয়ে দিতেই আমি চোখ,কপাল,নাক কুঁচকে এক হাতে মুখ চেপে ধরে বললাম, —আম্মু আর খাবো না। সরাও এগুলো।আমার বমি বমি লাগছে।তারপরেও যদি জোর করে খাওয়াও তাহলে পেটে যা আছে তাও বের হয়ে যাবে। —বমি এলেও খাবি।সব যদি বের হয়ে যায় তাহলে আবার খাওয়াবো।তুই খাবার নিয়ে যে কতটা অনিয়ম করিস তা আমার থেকে ভালো অন্য কেউ জানে না। তোর খালামণিও বলেছে তুই খেতে চাস না।তায়াং বাসায় থাকলে ওর ভয়ে একটু খাস।আর ও না থাকলেই ফাঁকিবাজি দিস। —আম্মু প্লিজ আর না।বমি আসবে। —আসুক।বমি আসলে বমি করে দিবি।তবুও পুরোটা তোর খেতে হবে। খেয়ে ঔষধ খাবি।আমি তো আজ চলে যাবো।যাওয়ার আগে যতক্ষণ থাকবো ততক্ষণ তোকে খাওয়ার ওপরই রাখবো। —গন্ধ আসছে।প্লিজ এখনকার মতো মাফ করো। আম্মু কোন কথা শুনলো না।জোর করে পুরোটা স্যুপ খাইয়ে তবেই ছাড়লো।আমার এখন সত্যিই বমি বমি লাগছে।হসপিটালে দুইদিন থেকে আমার অবস্থা খারাপ। সারাক্ষণ শুয়ে, বসে থাকতে কার ভালো লাগে। আবার মোবাইলটাও ধরতে দেয় না।এমনি কি সময় কাটে বলুন তো।তাই চেচামেচি করে আজ রিলিজ নিয়ে চলে এসেছি। ডক্টর বলেছিলো আজকের দিনেও থাকতে।পাগল নাকি যে আজও থাকবো।আজকে থাকলে আমি সুস্থ হওয়ার বদলে আরো অসুস্থ হয়ে যেতাম।”ভালো লাগে না বাসায় চলো, ভালো লাগে না বাসায় চলো” বলে গান শুরু করেছিলাম।অবশেষে আমার গানে বিরক্ত হয়ে হসপিটাল থেকে রিলিজ নিয়ে বাসায় চলে আসতে বাধ্য হয়েছে সবাই। গতকাল তায়াং ভাইয়ার অনেক বন্ধু এসেও দেখা করে গেছে। ইমরান হাশমি ভাইয়া, রায়হান ভাইয়া, শাহেদ ভাইয়া আরো অনেকে।প্রত্যেকে গাদা গাদা করে ফল নিয়ে এসেছে। এনাজও একগাদা ফল কিনে তার এক বন্ধুকে দিয়ে গতকাল হসপিটালে পাঠিয়ে দিয়েছিলো।এখন আমাকে সেগুলো খাইয়ে গুলুমুলু বানিয়ে ফেলবে।কি কষ্ট করে ডায়েট করে ৩ কেজি কমেছিলাম।এবার বোধহয় ৯ কেজি বেড়ে যাবো। —নে ধর এই ফলগুলো শেষ করতো। ফলের কথা ভাবতে না ভাবতেই আম্মু এক প্লেট ভর্তি বাহারি ফল কেটে এনে মুখের সামনে হাজির।এখন আমার অবস্থা জ্ঞান হারাবো,হারাবো।শুকনো মুখে একবার আম্মুর দিকে তাকালাম আরেকবার প্লেটের দিকে।তখুনি রুমে তায়াং ভাইয়া ও তার বন্ধু তওহিদ ভাইয়ার প্রবেশ। তওহিদ ভাইয়া আম্মুকে সালাম দিয়ে কুশলাদি জিজ্ঞেস করলো। —-আসসালামু আলাইকুম আন্টি।কেমন আছেন? —আলহামদুলিল্লাহ ভালো।তোমাকে তো চিনলাম না। —আন্টি আমি তওহিদ। তায়াং-এর বন্ধু। —ওহ্ আচ্ছা। তা ভালো আছো? — জ্বি আলহামদুলিল্লাহ। আপনাদের দোয়ায় ভালো আছি। —একি দাঁড়িয়ে আছো কেন বসো? —বসছি আন্টি। আপনি ব্যস্ত হয়েন না। তায়াং ভাইয়া আমার পাশে বসে আম্মুকে জিজ্ঞেস করলো, —কি হয়েছে খালামণি? —দেখ না ফলগুলো কেটে এনেছি বলে আমার দিকে কিভাবে তাকাচ্ছে।আমি ওর সুস্থতার জন্য মরিয়া হয়ে যাচ্ছি। আর ও আমার দিকে চোখ পাকিয়ে তাকায়। কত কষ্ট করে এক বাটি স্যুপ খাইয়ে দিলাম।এখন আবার তোর আম্মু ফলগুলো কেটে দিয়ে বললো ওকে খাওয়াতে।আমি তাই নিয়ে এলাম। —ও ভালো কথার মানুষ নয়। ওকে ভালো করে কিছু বললে কখনো কোনকিছু করবে না। ধমক আর মারের ওপর রাখবেন তাহলে দেখবেন নোভা ঠিক। আমি নাক কুঁচকে হাসের মতো ঠোঁট করে বিরক্তি মাখা চাহনিতে তায়াং ভাইয়ার দিকে তাকালাম।যার মানে হলো, “দিন তোর একা যাবে না,আমারও দিন আসবে।তখন সবকিছু উসুল করবো।” তওহিদ ভাইয়ার হাতেও মনে হচ্ছে ফলের স্তুপ। ভাইয়া তার হাতের ফলগুলো আম্মুর হাতে ধরিয়ে দিয়ে আমার সামনের চেয়ারে বসলো।আম্মু কিছুটা,ইতস্তত হয়ে তওহিদ ভাইয়াকে বললো, —এসবের কি দরকার ছিলো?ও তো কিছু খেতেই চায় না।ওর খাবার খেতে যা কষ্ট লাগে। —বোন অসুস্থ। ভাই ওকে দেখতে আসবো আর কিছু আনবো না তা কি মানায় বলুন?অসুস্থ বোনের জন্য তো কিছু নিয়ে আসতেই হয়। —এখন এসব ফলমূল আর রোগের হাত থেকে বাঁচায় না।বরং এগুলো খেলে মানুষ অসুস্থ হয়ে যায়।ফল ব্যবসায়ীরা যে পরিমাণ ফরমালিন মেশায় তাতে সুস্থ হওয়ার বদলে অসুস্থ মানুষ আরো অসুস্থ হয়ে যায়।টাকা দিয়ে এই বিষ না খাওয়ায় ভালো। —তা ভুল বলেননি আন্টি। তওহিদ ভাইয়া আম্মুর সাথে একমত প্রকাশ করে আমার দিকে তাকালো। তারপর বললো, —কেমন আছো নোভা? —আলহামদুলিল্লাহ ভালো আপনি? —আলহামদুলিল্লাহ। সরি তোমাকে হসপিটালে দেখতে যেতে পারিনি।আর্জেন্ট কাজ পরে গিয়েছিলো।সেটা সামলাতে গিয়ে দুই দিন পার।তাই ভাবলাম তোমায় বাসায় আনলে তারপর দেখে যাবো। আম্মু তায়াং ভাইয়াকে উদ্দেশ্য করে বললো, —তায়াং দেখিস তোর উড়নচণ্ডী বোনটাকে একটু ফলগুলো খাইয়ে দিস।আমি বরং তওহীদের আপ্যায়নের ব্যবস্থা করি।তুই ওকে জোর করে একটু খাইয়ে দিস। তওহিদ ভাইয়া বললো, —আন্টি ব্যস্ত হবেন না।আমি আছি তো।চলে তো যাচ্ছি না। —কোন কথা শুনছি না। তোমরা কথা বলো আমি আসছি। আম্মু ফলের প্যাকেটগুলো নিয়ে কিচেনে চলে গেল।ইভা খালামণিকে রান্নায় সাহায্য করছে।তন্বী কলেজে গেছে। ওর আসার সময়ও হয়ে গেছে। ঘড়ির কাটা দুপুর বারোটা পেরিয়ে একটার দিকে এগুচ্ছে। আর তায়াং ভাইয়া জোর করে আমার ওপর ফল খাওয়ানোর অত্যাচার চালাচ্ছে। কিছু বলতেও পারছি না। খাবো না বলে একটু মুখটাকে বাঁকা করেছিলাম।তারপর যে একটা রামধমক দিয়েছে তাতে আমার হাত-পা কাঁপা-কাঁপি শুরু হয়ে গিয়েছিলো।তাই চুপচাপ খেয়ে নিচ্ছি। 💖💖💖 তওহিদ ভাইয়ার মোবাইলে একটা কল আসতেই সে মোবাইল নিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো।তায়াং ভাইয়া বা-হাতে মোবাইল গুতাচ্ছে আর ডান হাতে আমাকে ফল খাইয়ে দিচ্ছে। এনাজকে গত দুদিন ধরে আমার ধারের কাছেও দেখি না।এমনকি আজও এলো না।সেদিন কপালে তার ঠোঁটের পরশ পেতেই আমি দ্রুত চোখ বন্ধ করে খিঁচে শুয়ে ছিলাম।যাতে সে বুঝতে না পারে আমি জাগ্রত। প্ল্যানে সাকসেসফুলও হয়েছিলাম।এনাজ ধরতে পারেনি যে আমি জেগে আছি।যদি সে জানতো আমি জেগে আছি তাহলে দুজনেই লজ্জার মুখে পরতাম।তাই এটাই ভালো হয়েছে কেউ লজ্জা পাইনি।কিছুটা ভয়ে ভয়ে তায়াং ভাইয়াকে এনাজের কথা জিজ্ঞেস করলাম। —তায়াং ভাইয়া। —হুম বল। —এনজিও সংস্থা কোথায়রে?গতকাল থেকে দেখি না যে? কোথাও গিয়েছে নাকি? ভাইয়া মোবাইলের থেকে মুখ উঠিয়ে বিস্মিত চোখে বললো, —হঠাৎ ওর খোঁজ খবর নিচ্ছিস যে? —এমনি জিজ্ঞেস করলাম। কেন জিজ্ঞেস করতে পারি না? —তুই তো আমার কোন বন্ধুর কথা জিজ্ঞেস করিস না।তাই বললাম। —যা জিজ্ঞেস করেছি তার উত্তর দে। —গতকালও তো এসেছিলো।রাতে হসপিটালে ছিলো। —বলিস কি😮? কিন্তু আমি দেখি দেখলাম না। —একবার না দুইবার তোর সাথে দেখা করতে গিয়েছিল। কিন্তু মহারাণী আপনি ঘুমে ছিলেন। —ওহ্। আজ আসবে না? —কেন আসবে? —এমনি জিজ্ঞেস করছি। —বললো তো দুপুরে আসবে।সকালে ওর একটা ইন্টারভিউ আছে। তাই সকালে আসতে পারেনি। —আচ্ছা ভাইয়া একটা কথা জিজ্ঞেস করি।কিছু মনে করিস না। —ওকে। —এনজিও সংস্থার পরিবারে কে কে আছে রে? ওর বাবা-মায়ের কথাও তো কখনো কিছু বলে না। —ছোট ভাই এনাম ছাড়া ওর আর কেউ নেই। —মানে? —ওর বাবা-মা মারা গেছে। কথাটা শুনে অলরেডি আমার মুখটা হা হয়ে গেলো।তার বাবা-মা নেই শুনে অনেক খারাপ লাগলো।ভাইয়াকে তার বাবা-মা মৃত্যুর কারণ জিজ্ঞেস করলাম, —কিভাবে মারা গেছে? —এনাজের বয়স যখন ৮ বছর তখন ওর আব্বু লিভার ক্যান্সারে মারা যায়। তারপর ওর বয়স যখন ১৫ তে পরলো তখন হঠাৎ করে একদিন ওর আম্মু ঘুমের মধ্যে স্ট্রোক করে ওদেরকে একা করে পরপারে চলে গেলেন।তারপর থেকে জীবনযুদ্ধে একাই ভাইকে নিয়ে এতদূর এসেছে। — ও তো কোন কাজ করে না।আমার জানামতে সে বেকার।তাহলে ওদের দুই ভাইয়ের চলে কি করে? —বহু আগে গ্রামে ওদের ভিটেমাটি বিক্রি করে এই শহরে ছোট্ট একটা দুই রুমের ফ্ল্যাট ও একটা দোকান কিনেছিলো।সেই ফ্ল্যাটে থাকে।আর দোকানটাকে ভাড়া দিয়েছে। সেই দোকান থেকে যা ভাড়া আসে তা দিয়ে দুই ভাইয়ের আলহামদুলিল্লাহ ভালো চলে যায়।এখন এনাজ চাইছে ব্যবসা শুরু করতে।তার সাথে একটা জব করতে।এনামকে দেশের বাইরে পাঠাবে হাই স্টাডির জন্য। তার জন্য অনেক টাকা প্রয়োজন।গত কয়েকদিন ধরে বেশ কয়েকটা ইন্টারভিউ দিয়েছে। কিন্তু রেজাল্ট ভালো আসছে না।তাই প্রচুর মানসিক চাপে আছে। — ওহ আচ্ছা। —তা হঠাৎ এনাজের বিষয় এতো কৌতুহল কেন? —আশ্চর্য, তুই যে কি বলিস না ভাইয়া! একটা মানুষের বিষয় আমি জানতে চাইতে পারি।তার জন্য এত সন্দেহের চোখে দেখার মতো কিছু হয়নি। ভাইয়া আর আমি এসব নিয়ে কথা বলছিলাম।হঠাৎ বাইরে কিছু একটা পরার শব্দ পেতেই আমি ও ভাইয়া একসাথে জিজ্ঞেস করলাম, —কি হয়েছে? ভাইয়া মোবাইল পকেটে রেখে প্লেটটা বিছানার ওপর রেখে বাইরে চলে গেলো।যাওয়ার আগে আমাকে বিছানা থেকে নামতে নিষেধ করে গেছে। কিছু সময় পর হাসতে হাসতে মাথা ধরে রুমের ভেতর শারমিন ঢুকলো।কপালের কাছটায় ডলতে ডলতে আমার পাশে বসলো।আমি বিস্মিত চোখে বললাম, — কিরে শারু তুই!! —হ্যাঁ আমি।ও আল্লাহ গো আমার কপালটা জ্বলে গেল।ঐটা কি মাথা ছিল নাকি লোহা। —কি হয়েছে? আমাকে কি বলবি? —আর বলিস না।তোর রুমে ঢুকতে গিয়ে একটা দামড়া ছেমরার মাথার সাথে ডুশ খেলাম।বেচারা উবু হয়ে প্যান্টের নিচটা ঠিক করতে গেছিলো।আর তখনই আমি ফ্লোরে পিছল কেটে বেচারার মাথার সাথে ডুশ খেলাম।আমার কপালটা জ্বলে যাচ্ছে। পানি কই? পানি দে আমারে। —টেবিলের জগে পানি আছে। শারমিন উঠে জগের থেকে কিছুটা পানি নিয়ে ওর কপালে ডলতে লাগলো।আমার এতক্ষণ তওহিদ ভাইয়ার কথা মনে ছিলো না।হঠাৎ মনে হতেই জিজ্ঞেস করলাম, — যেই ছেলেটার সাথে ধাক্কা খেয়ে কপাল ফুলিয়েছিস সে কি লেমন কালার টি-শার্ট পরেছে। —হুম লেমন কালার টি-শার্ট আর গ্রে কালার প্যান্ট। —ওহ আমি ঠিক ধরেছি।তুই তওহিদ ভাইয়ার সাথে ধাক্কা খেয়েছিস।তা চোখ কোথায় রেখে হাঁটিস? —আমি কি খেয়াল করছি নাকি?উহ, আমার কপাল। —ভালো করে ডলতে থাক।বরফ ধরবি? —না থাক।আগে বল তুই কেমন আছিস? —এতক্ষণ পর? —তাও শুকরিয়া আদায় কর যে জিজ্ঞেস করছি। —আলহামদুলিল্লাহ ভালো। তা তুই কার সাথে এলি? —তন্বীর সাথে। তোর যে এই অবস্থা তা আমি গতকাল তন্বীর থেকে জানছি।তোর মোবাইলে কল দিয়েছি।কিন্তু কল ঢুকেনি। —ওফস সরি।মোবাইলে এরোপ্লেন মোড অন করা ছিলো। —তোর মোবাইল এরোপ্লেন মোডই অন থাকবে।আমি এদিকে চিন্তায় শেষ।হসপিটালে তো যেতে পারি নাই।তাই আজকে চলে এলাম। —ভালো করেছিস।নে আবার গিয়ে একটু ফ্রেশ হয়ে আয়। —আচ্ছা। শারমিন ওয়াশরুমে ফ্রেশ হতে চলে গেলো।দুপুরে সবাই একসাথে খাবার খেলো।আমার তো রুম থেকে বের হওয়া নিষেধ। তাই আমি রুমেই বসে ছিলাম।আম্মু একটু আগে খাইয়ে দিয়ে গেছে। শারমিনকে জোর করে রেখে দিয়েছি। দুপুরে না খেয়ে ওকে কেউ যেতেই দিবো না। বিকেলে অব্দি রাখার জন্য ওর আম্মুকে কল দিয়ে পারমিশন নিয়ে নিছি।শারমিন আসার পর থেকে তওহিদ ভাইয়ার হাব-ভাব আমার ভালো ঠেকছে না। সে শারমিনের আশেপাশেই ঘুরঘুর করছে।আর আমার বন্ধবী তো পুরো আমার কার্বন কপি।এসব দেখেও না দেখার ভান করে আছে।একদমি পাত্তা দিচ্ছে না বেচারাকে। হাই পাওয়ারের এন্টিবায়োটিক খাওয়ার দরুন আমার শুধু ঘুম পায়।দুপুরের ঔষধ খাওয়ার পর টেনেও চোখ মেলতে পারছিলাম না।ইচ্ছে ছিলো এনাজ এলে ওকে এক নজর দেখবো।কিন্তু ঘুম বাবাজী তা হতে দিলো না। কাঁথা মুড়ি দিয়ে ঘুমিয়ে পরলাম। হঠাৎ ঘুমের ঘোরে কানের কাছে কারো উষ্ণ নিঃশ্বাস পেতেই বেশ কয়েকবার নড়েচড়ে উঠলাম।কিন্তু ঔষধের কার্যকরিতার কারণে চোখ মেলে তাকাতে পারছিলাম না।সে আলতো করে তার ঠোঁট জোড়া আমার কানে ছুঁয়ে মৃদুস্বরে ডাকলো, —টিডি পোকা! তার মানে হলো উনি এনাজ।আমার ঘুম ভেঙে গেলো ঠিক কিন্তু চোখ খুললাম না।চোখ, মুখ খিঁচে কাঁথা মুঠ করে ধরে ঘুমের ভান করে শুয়ে রইলাম। তখুনি আম্মুর কন্ঠ পেলাম, —নোভা আমরা আরেকটু পর চলে যাবো।আর কত ঘুমাবি?একটু উঠ। মনে হচ্ছে আম্মু কথা বলতে বলতে এদিকেই আসছে।কিন্তু এনাজের সরার নাম নেই। সে এখনো আমার কানে তার অধর যুগল ছুঁয়ে বসে আছে। তারপর যে অঘটন ঘটলো তার জন্য আমি কিংবা এনাজ কেউ প্রস্তুত ছিলাম না। আজকে বিশাল বড় এক পার্ট দিয়েছি।আপনারাও বিশাল বিশাল কমেন্ট করে দিয়েন।নয়তো আগামীকাল থেকে ১০০০ শব্দের এক শব্দও বেশি দিবো না।

---

[<< পূর্ববর্তী অধ্যায়](https://golpohub.com/episodes/shishir-bheja-rodudur-s1-ep19) | [সিরিজ সূচি](https://golpohub.com/series/shishir-bheja-rodudur) | [পরবর্তী অধ্যায় >>](https://golpohub.com/episodes/shishir-bheja-rodudur-s1-ep21)