> **বিকল্প ফরম্যাটসমূহ:** [এইচটিএমএল](https://golpohub.com/episodes/shishir-bheja-rodudur-s1-ep41) | [জেসন](https://golpohub.com/episodes/shishir-bheja-rodudur-s1-ep41?format=json) | [আরএসএস ফিড](https://golpohub.com/episodes/shishir-bheja-rodudur-s1-ep41?format=rss) | [অ্যাটম ফিড](https://golpohub.com/episodes/shishir-bheja-rodudur-s1-ep41?format=atom)

# পুকুর ঘাটের উল্লাস ও ঠান্ডা জ্বর

![পুকুর ঘাটের উল্লাস ও ঠান্ডা জ্বর](https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-chapter-2592-f4f806.webp)

---
*[নোভা ইসলাম](https://golpohub.com/authors/nova-islam)-এর [শিশির ভেজা রোদ্দুর](https://golpohub.com/series/shishir-bheja-rodudur) সিরিজ থেকে*\n*আনুমানিক পড়ার সময়: 13 মিনিট*
- **মোট শব্দ:** 2,043
- **প্রকাশিত:** Sep 15, 2026
---

পরের দিন….. সব মিলে সকাল সাতটায় জোর করে উঠালো। এমনভাবে উঠিয়েছ মনে হচ্ছে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ লেগে গেছে আর আমি শেষ সৈনিক হিসেবে বেঁচে আছি।চোখ টেনে মেলতে পারছি না। নামাজ পরে একটু ঘুমিয়েছিলাম। তাও এদের সহ্য হলো না। এখন আমার মাথাব্যথা না উঠলেই চলে। ঘুম ঘুম চোখে বাইরে আসতে দেখি সব টেবিলে গোল করে খেতে বসেছে। আমাকে দেখে সামাদ ভাইয়া বললো, — বোইনা খেতে আয়। — এত সকালে খেতে ভালো লাগে না। দশটার সময় সব হজম হয়ে যাবে। তখন আমাকে কে খেতে দিবে? — তখন আবার খাবি। — আমাকে রেখে সব বসে পরছে। আবার কত কথা। যা খাবো না তোদের সাথে। তায়াং ভাইয়া মুখ বাঁকিয়ে বললো, — তোর খেতে হবে না। যা গিয়ে পরে পরে ঘুমা। তুই তো ঘুমাতে এসেছিস। আমি তায়াং ভাইয়াকে একটা ভেংচি কেটে জোরে চেয়ার টেনে বসলাম। আমি বসতেই এনজিও সংস্থা তায়াং ভাইয়ার সাথে থেকে প্লেট নিয়ে আমার পাশের খালি চেয়ারে বসে পরলো। এর কান্ড দেখে আমি রেগে তাকালাম। বেচারা বোকা ফেস করে এক হাসি দিতেই আমিও ফিক করে হেসে উঠলাম। তায়াং ভাইয়া এনাজকে টম্পনি কেটে সামাদ ভাইয়াকে বললো, — বুঝছেন ভাই, আজকালের পিচ্চি পোলাপাইন গুলাও বেশি এডভান্স হয়ে গেছে। বড় সমন্ধিরা যে সামনে আছে তাও কোন লাজ শরম নেই। সব বোধহয় প্রেমে পরার সাথে সাথে খেয়ে ফেলেছে। এমন ছেলের কাছে বোনের বিয়ে দিতে চাই না। এনাজ এক ভ্রু উঁচু করে একগালে হেসে বললে, —আমাকে পিচ্চি পোলাপাইন বললে ইফাত কিরে ভাই? আর শালা কি বললি তুই? আমার কাছে তোর বোনের বিয়ে দিবি না? এই বড় ভাইকে সাক্ষ্যি রেখে বলছি যদি তোর বোন মানে তোর খালাত বোনকে আমার কাছে বিয়ে না দিস তাহলে সোজা উঠিয়ে নিয়ে কাজী অফিস চলে যাবো। বিয়ের পর কল দিয়ে বলবো তোর বোনকে বিয়ে করে ফেলছি। দেখি এখন তুই কি করিস? এভাবে মান-সম্মান খোয়ানোর থেকে ভালো চুপচাপ আমার হাতে তুলে দিস।আমি কিছু করবো না। তায়াং ভাইয়া তরকারির বাটি থেকে কাঁচামরিচ তুলে নিয়ে এনাজকে ছুঁড়ে মেরে বললো, — তোর এত সাহস আছে নাকি? সাহস থাকলে আমার সামনের থেকে তুলে নিয়ে যাস। — সাহস নিয়ে প্রশ্ন তুলিস না তায়াং। তাহলে ভালো কিছু হবে না। আমি এনাজের দিকে কপাল কুঁচকে তাকালাম। সে আমার দিকে তাকিয়ে মুখটাকে কুচোমুচো করে বললো, — তুমি এভাবে তাকিয়ে না। আমার তেমন কিছু করার ইচ্ছে নেই। তবে যদি পরিস্থিতি খারাপ হয় তাহলে করতেও পারি। আমাকে দিয়ে বিশ্বাস নেই। আমি তার কথা শুনে ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে শব্দ করে মুখ ভেংচি দিয়ে অন্য দিকে তাকালাম। সামাদ ভাইয়া আমাদের কান্ড দেখে হাসছে। সামাদ ভাইয়াকে হাসতে দেখে আমি জিজ্ঞেস করলাম, — তোর বউয়ের সাথে কথা হইছে ভাইয়া? — না রাতে একটু হইছিলো। — তুই জিতলি ভাই। মামাতো বোনকে ছোট থেকে একতরফা পছন্দ করে তাকে বিয়ে করে এখন ঘরে তুলবি। তোরা বিদেশি ছেলেরাই জিতিস। বুড়ো বয়সে কচি মেয়ে বিয়ে করতে পারিস। — ঐ আমি কি করছি? — কি করিস নি তাই বল? আবার বড় গলায় কথা বলিস? তোকে যদি জিজ্ঞেস করতাম তখন বলতি না মারিয়া আমার মামাতো বোন। ওকে আমি কেন পছন্দ করবো? এখন তাহলে বিয়েটা কি আমার ফুফাতো বোনের সাথে হচ্ছে সালাদ😤? তোর বয়স ৩৩ আর তোর বউয়ের মাত্র ১৮। আমার থেকে তিন বছরের ছোট। আগে নাম ধরে ডাকলেও এখন তো নাম ধরে ডাকতে পারি না। অবশ্য ওর জামাইকে সামাদের বদলে সালাদ বলি তাহলে ওকে কি প্রথম প্রথম ভাবী বলতে পারবো? তবুও কিচ্ছু করার নাই। ভাবী বলেই ডাকতে হবে। তুই তলে তলে রেলগাড়ী চালিয়ে এখন বলছিস কি করছি? সামাদ ভাইয়া আমার কথার উত্তর না দিয়ে হাসতে লাগলো। মারিয়া মানে সামাদ ভাইয়ার বউ সম্পর্কে ভাইয়ার আপন মামাতো বোন। সে বহু আগের থেকে ওকে একতরফা পছন্দ করে। অনেক চড়াই-উতরাই পার করে এক বছর আগে ওদের কাবিন (আকদ) হয়েছে। এখন শুধু অনুষ্ঠান করে উঠিয়ে নিয়ে আসবে।ভাইয়া জানে একতরফা ভালোবাসাটা কতটা কঠিন।তাই হয়তো এনাজের বিষয়টা জেনেও কিছুই বলেনি। ভাইয়া এখনো হাসছে।তাতে আরো রাগ উঠলো। আমি রেগে বললাম, — একদম দাঁত কেলাবি না। ডালের চামচ ফিইক্কা মারমু। শয়তান ছেমরা। একটাও ভালো না। সব তলে তলে রেলগাড়ী চালায়। তায়াং ভাইয়া ফোঁস করে রেগে বললো, — কি করেছি তোর সাথে? — তোকে কিছু বলছি আমি? তুই ফোঁস করে উঠিস কেন? আমি তো কাউকে মিন করে বলিনি। যেহেতু তোর গায়ে ফোস্কা পরেছে তাহলে তোকেই বলছি। আমাদের ভাই-বোনের ঝগড়া দেখে মনে হচ্ছে এনাজ হাসতে হাসতে চেয়ার থেকে পরে যাবে। শাহিনুর আপু রান্নাঘর থেকে এসে ভাতের বোল টেবিলে রেখে বললো, — কি হয়েছে তোদের? ঝগড়া করিস কেন? আমি আপুর উত্তর না দিয়ে উল্টো জিজ্ঞেস করলাম, — অন্যা,অর্থি, ইভা কোথায়? — মেজু কাকা আসতাছে। তাদের আনতে গেছে। — দুই আপু আসবে না? — হুম জামাই নিয়ে আসবে। এর মধ্যে বোধহয় চলেও আসছে। আমার আব্বু, চাচ্চুরা মিলে তিন ভাই। ভাইদের মধ্যে আব্বু ছোট।বোন চারটা ছিলো। কিন্তু এখন মাত্র একজন বেঁচে আছে। যে বেঁচে আছে সে আবার আব্বুর ছোট। বড় চাচ্চুর চার ছেলে-মেয়ে।মেজু চাচ্চু ঢাকায় থাকে। তার তিন ছেলে-মেয়ে। দুই মেয়ে আর এক ছেলে। মেয়ে দুটোর বিয়ে হয়ে গেছে। কিন্তু ছেলেটা আবার আমার ছোট। তাই ওকে নাম ধরেই ডাকা হয়।আর আমার আব্বুর আমরা দুই মেয়ে। শাহীনুর আপু আমাকে জিজ্ঞেস করলো, —বড় মামীরা কবে আসবে? — কারা নূর আপিরা? — হুম, নূরদের কথাই বলছি। — হ্যাঁ, বিকালে আসবে। — তন্বী, খালামণি কোথায়? — আসলেই তো তারা কোথায়? তায়াং ভাইয়া বললো, — আম্মু, তন্বী খালামণির সাথে ঐ পাশের বাসার এক আন্টির বাসায় গিয়েছে। সামাদ ভাইয়ার খাওয়া হতেই সে উঠে গিয়ে আমাদের বললো, — আচ্ছা থাকো তাহলে তোমরা। আমার আবার ডেকোরেশনের লোকদের সাথে কথা বলতে হবে। হলুদের স্টেজ কবে করবে কে জানে? উনাদের হাবভাব দেখে মনে হচ্ছে আগামীকাল করবে। শাহীনুর আপুর সাথে কিছু টুকটাক কথা বলে সামাদ ভাইয়া চলে গেল। আপু তায়াং ভাইয়াকে জিজ্ঞেস করলো, — তায়াং কিছু দিবো? আমি তায়াং ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে শয়তানি হাসি দিয়ে বললাম, — আপু, মুলার তরকারি আছে? থাকলে ভাইয়াকে দিয়ে যাও। ভাইয়ার মুলার তরকারি ভীষণ পছন্দ। এটা হলে আর কিছু লাগে না। শাহীনুর আপু বললো, — মুলার তরকারি রান্না করি নাই। সিমের তরকারি আছে তা দিবো? দুপুরে না হয় তোমার জন্য আলাদা করে মুলার তরকারি রান্না করবোনি। তায়াং ভাইয়া চেচিয়ে বললো, — না আপু। আমি মুলার তরকারি পছন্দ করি না। এই শাঁকচুন্নি মিথ্যে বলছে। এনাজ মুখ টিপে হেসে বললো, — তোর পছন্দ তায়াং তা বলতেই পারিস। এতো লজ্জা পাওয়ার কি আছে? — শালা, এখুনি আমার বোনের আইন টানিস? আর তো দিন পরেই আছে। তুই বউয়ের আঁচল ধরেই ঘুরবি। শাহীনুর আপুকে ফুপি ডাক দিতেই সে রান্নাঘরের দিকে ছুটলো। তায়াং ভাইয়া আমার দিকে কটমট করে তাকিয়ে বললো, — তোর ভিটামিন মাইরের অভাব আছে। ভিটামিন মার খেলে তুই ঠিক হবি। আমি প্লেটের খাবার শেষ করে গ্লাস নিয়ে একটু দূরে হাত ধুয়ে এলাম। গ্লাসটা টেবিলের ওপর রেখে হাতে থাকা পানি তায়াং ভাইয়ার মুখে ছিটা মিরে বললাম, — কম করে খা পাঠা, কম করে খা। দিনকে দিন যে ফুলছিস সেই দিকে খেয়াল আছে তোর? চিন্তা করতেছি সামনের কুরবানির পশুর হাটে তোকে উঠাবো। তাতে আমার বেশ লাভই হবে। চড়া দামে তোকে বিক্রি করা যাবে। ভাইয়া চেয়ার থেকে উঠে আমার দিকে আসতে নিলেই আমি দৌড়ে রান্নাঘরের সামনে গিয়ে সবার সাথে বসে পরলাম। এখানে ভাইয়া আসবেও না। আর আমাকেও ধরতে পারবে না😝। 💖💖💖 দুপুরে…. আমাদের বাড়ির পুকুরে সব গোসল করতে নেমেছে। তায়াং ভাইয়া, এনাজ, সামাদ ভাইয়া সাথে দুই দুলাভাই। ঐশী, মেজু ভাইয়ার বড় মেয়ে আশা, ফুপাতো বোনের দুই ছেলে-মেয়ে। ইচ্ছে মতো ডুবচ্ছে আর শুধুই জোরে জোরে চিৎকার করে সারা বাড়ি তুলে ফেলছে। এখন মনে হচ্ছে আসলেই এই বাড়িতে বিয়ে। আমি, অন্যা,অর্থি,ইভা,তন্বী পুকুরের পাড়ে দাঁড়িয়ে ওদের হৈচৈ দেখছি। আমি মোবাইলে ভিডিও করে নিচ্ছি। তায়াং ভাইয়া ডুব দিয়ে কিছুটা কাদামাটি উঠিয়ে এনে আমার দিকে ছুঁড়ে দিলো। অর্থি আমাকে অন্য দিকে টেনে নিয়ে যেতেই রক্ষা হয়েছে। তায়াং ভাইয়া শয়তানি হাসি দিয়ে বললো, — ইস একটুর জন্য বেঁচে গেলি। তুই ঐখানে দাঁড়িয়ে থাকিস। আমি তোকে কাদা দিয়ে ভুত বানাবো। আমি দাঁতে দাঁত চেপে বললাম, — সাহস থাকলে দিয়ে দেখাস। তুই যখন আগামীকাল জামাই সেজে কনের বাড়ি যাওয়ার জন্য তৈরি হবে তখন শোধ তুলবো। — ঘন্টা করবি তুই আমার। ভাইয়া আবার ডুব দিয়ে অন্য দিকে চলে গেল। এনাজ জোরে চেচিয়ে বললো, — টিডি পোকা গোসল করবে নাকি? — জ্বি না। আপনারাই করেন। তা এনজিও সংস্থা আপনি সাঁতার জানেন তো? নাকি ঘাট ধরে বসে থাকবেন? — এভাবে অপমান🙁? সাঁতার না জানলে পুকুরে নামতাম আমি? আমি এখন পুকুরের মাঝখানে আছি। আর তুমি আমাকে ঘাট ধরে বসে থাকতে দেখছো। এগুলো কোন কথা? তায়াং ভাইয়া এনাজকে বললো, — আরে আমাদের পানিতে নামতে দেখে ওর হিংসে হচ্ছে। তাই এসব কথা বলছে। — জ্বি না। আমার কাউকে দেখে হিংসে হচ্ছে না। অনন্যা শয়তানি হেসে বললো, — ঐ যে এলো সাপ এলো। ঐদিকে দেখো মামা। সামাদ ভাইয়া ভাবলো সত্যি সাপ। উনি অনন্যাকে জিজ্ঞেস করলো — কোথায় সাপ? আমরা পাঁচজন পেয়ে গেলাম শয়তানি করার উপায়। একে অপরের দিকে তাকিয়ে ক্লোজ আপের এড দিলাম। অর্থি চেচিয়ে বললো, — ছোট মামা তোমার ঐদিক দিয়ে দেখলাম। উঠে আসো। নয়তো সাপে কামড় দিবে। ইভাও মুখটাকে সিরিয়াস মুডে নিয়ে বললো, — ভাইয়া কামড় দিলে কিন্তু আপনার আর বিয়ে করতে হবে না। আমি চেচিয়ে বললাম, — লুঙ্গি সাবধানে রাখিস। সবগুলো তো লুঙ্গি পরে নেমেছিস। সাপের ধাওয়া খেয়ে যেন আবার লুঙ্গি খুলে না যায়😷। তাহলে কিন্তু আরেক সর্বনাশ। পানিতেই থাকতে হবে। তন্বী মুখে হাত দিয়ে বললো, — ভাইয়ারা সাবধান। সাপে কামড় দিয়ে আবার লুঙ্গি টেনে নিয়ে না যায়। ভালো করে গিট দিয়ে নে। আমাদের কথা শুনে সবাই আমাদের দিকে চোখ বড় বড় করে তাকালো। আর পাড়ে দাঁড়িয়ে আমরা পাচজন হাসতে হাসতে লুটোপুটি খেতে বাকি।তায়াং ভাইয়া আমাকে ধমক দিয়ে বললো, — তোদের যদি পুকুরে গোসল করতে হয় তাহলে নেমে পর। পাড়ে দাঁড়িয়ে আমাদের দেখে জ্বলতে,পুড়তে হবে না। আমি কিছু বলার জন্য মুখ খুলতে নিলেই অনন্যা বললো, — আমাদের এত শখ নাই মামা। আমরা এখন বড় হয়েছি। পুকুরে ডুবিয়ে গোসল করার বয়স চলে গেছে। আমি মুখ ঝামটা মেরে বললাম — তোর মাথার ঘিলু কি গলে পরে গেছে রে পাঠা? কি বলিস এসব? পুকুরে নেমে ডুবানোর বয়স আমাদের আছে? তোরাই বেশি করে ডুবা। যদি একটারো জ্বর আসে কিংবা ঠান্ডা লাগে তাহলে খবর আছে। তায়াং ভাইয়া আমার কথা গায়ে না মেখে মাঝখানের দিকে চলে গেল। তারা পাঁচজন ইচ্ছে মতো ডুবাচ্ছে। পুঁচকেগুলো ঘাটের সামনেই সাঁতার কাটছে। ভাইয়াদের দেখে মনে উনিও আজ ওরাও পুঁচকেদের মতো ছোট হয়ে গেছে। টানা দুই ঘন্টা ডুবিয়ে তারপর সবগুলো উঠলো। একেকটার চোখ লাল টকটকে হয়ে গেছে। ফ্রেশ হয়ে সবাই একসাথে আবার খেতে বসলো। আমি, অনন্যা, অর্থি,ইভা আর দুই ভাবী মিলে ওদের সবাইকে খাবার সার্ভ করে দিচ্ছি। শাহীনুর আপু সবাইকে বিনা ডিটারজেন্টে ধুচ্ছে। আমি বেশ ইনজয় করছি। আমার হেব্বি লাগছে। শাহীনুর আপু একটু থেমে আবার শুরু করলেন, — সবগুলো ছোট বাচ্চাদের মতো করে দুই ঘন্টা ডুবিয়ে আসলো। চোখগুলো এখনো লাল হয়ে আছে। যদি একটারো ঠান্ডা লাগে তাহলে খবর আছে। জ্বর আসলেও একটারও সেবা করবো না। কাউকে সেবা করতে দিবো না। এই বুড়ো বয়সে কেউ এতো ডুবায়। চোখের দিকে তাকানো যাচ্ছে না। অন্যার আব্বু তুমিও ওদের সাথে জোড়া বেঁধে গেছো। জ্বর আসলে আমি একটুও সেবা করবো না। যেমন তোমার ছোট মেয়ে ডুবাইছে তেমন তুমিও। ফুপাতো বোনও সবাইকে ঝারছে। তার দুই ছেলে-মেয়ের পিঠে কতগুলো তাল ফেলেছে। তিনি বললেন, — পুকুরে গোসল করতে নেমে একদম ছোট বাচ্চা হয়ে গেছে। যদি কেউ একজন অসুস্থ হও তাহলে সরকারি হসপিটালে কোরনার রোগী বলে ভর্তি করে রেখে আসবো। আমি সবার দিকে তাকিয়ে শয়তানি হাসি দিলাম। তারপর আপুদের সাথে সুর মিলালাম। — একদম ঠিক বলছো আপু। একটাকেও ধরবো না। জ্বর,ঠান্ডা লাগা তো দূরে থাক। যে একটা হাঁচি দিবে তাকে ঐ পশ্চিম দিকের বাঁশবাগানে ফেলে দিয়ে আসবো। নয়তো চ্যাংদোলা করে ছাদের ওপর রোদে শুকাতে দিবো। রোদের তাপে শুটকি হলে এরা ঠিক হবে। তার আগে নয়। আমার কথা শেষ হতেই এনাজ হাঁচি দিয়ে মুখ ঢেকে ফেললো। সবাই ওর দিকে তাকিয়ে জোরে হেসে উঠলো। বেচারা শুকনো মুখে আমার ও আপুর দিকে তাকালো। চোখ দুটো লাল হয়ে আছে। আমি আপুকে উদ্দেশ্য করে বললাম, — এই তো পেয়ে গেছি। এটাকে আগে ধরো। বাঁশ বাগানে ফেলে রেখে আসি। তারপর রোদে শুকাতে দিবো। তোমরা চাইলে সরকারি হসপিটালে করোনার রোগী বলে ভর্তি করে রেখে আসতে পারো৷ (এনাজের দিকে তাকিয়ে) তা ভাইয়া চোখ দুটো তো লাল করেছেন। জ্বালা করছে না। এনাজ দাঁতে দাঁত চেপে বিরবির করে বললো, — কে ভাইয়া? কার ভাইয়া? আমাকে ভাইয়া বলতে বারণ করেছি টিডি পোকা। আমি তার কানের কাছে মুখ নিয়ে বললাম, — সবার সামনে ভাইয়া বলবো না তো কি জামাই বলবো? এনাজ একগালে হাসি দিয়ে বললো, — খারাপ নয়। বলতে পারো। আমি কিছু মনে করবো না। তবে ভাইয়া বলবা না। — চুল টেনে ছিঁড়বো। এখন যদি ঠান্ডা, জ্বর আপনাকে ধরে তাহলে আমি একটুও আপনার সামনে ভিড়বো না। ইচ্ছে করে ওদের দাওয়াত দিলেন। — এমন করো কেন? কত বছর পর পুকুরে গোসল করলাম। সবার সাথে মজা করতে করতে কখন যে এত সময় চলে গেল বুঝতেই পারিনি🥺। উনার ছোট বাচ্চাদের মতো ঠোঁট উল্টানো কথাগুলো শুনে আমার ভীষণ হাসি পাচ্ছে। কিন্তু না হেসে মুখটাকে কঠিন করে বললাম, — আপনি অসুস্থ হলে এখন আমিও বুঝবো না। এটাই আপনার শাস্তি। আমাকে এনাজের কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে মেজু ভাবী বললো, — কি ফুসুরফাসুর করছো নোভা? — কিছু না ভাবী। আমি তরকারির বাটি নিয়ে রান্নাঘরের দিকে চলে গেলাম। ভাবীর চোখে আমি সন্দেহ দেখতে পেয়েছি। এখন ধরে ফেললে ভেজালেও পরতে পারি। তারচেয়ে মঙ্গল এখান থেকে ভালোই ভালোই কেটে পরি।

---

[<< পূর্ববর্তী অধ্যায়](https://golpohub.com/episodes/shishir-bheja-rodudur-s1-ep40) | [সিরিজ সূচি](https://golpohub.com/series/shishir-bheja-rodudur) | [পরবর্তী অধ্যায় >>](https://golpohub.com/episodes/shishir-bheja-rodudur-s1-ep42)