> **বিকল্প ফরম্যাটসমূহ:** [এইচটিএমএল](https://golpohub.com/episodes/shishir-bheja-rodudur-s1-ep49) | [জেসন](https://golpohub.com/episodes/shishir-bheja-rodudur-s1-ep49?format=json) | [আরএসএস ফিড](https://golpohub.com/episodes/shishir-bheja-rodudur-s1-ep49?format=rss) | [অ্যাটম ফিড](https://golpohub.com/episodes/shishir-bheja-rodudur-s1-ep49?format=atom)

# কুয়াশা সকালের ভাপা পিঠা ও প্রতিজ্ঞা

![কুয়াশা সকালের ভাপা পিঠা ও প্রতিজ্ঞা](https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-chapter-2600-6b6ac7.webp)

---
*[নোভা ইসলাম](https://golpohub.com/authors/nova-islam)-এর [শিশির ভেজা রোদ্দুর](https://golpohub.com/series/shishir-bheja-rodudur) সিরিজ থেকে*\n*আনুমানিক পড়ার সময়: 10 মিনিট*
- **মোট শব্দ:** 1,578
- **প্রকাশিত:** Sep 15, 2026
---

সকালের ধোঁয়া ওঠা চায়ের সাথে কমবেশি সবাই পরিচিত।অনেকে কুয়াশায় মোড়ানো সকালটাকে উপভোগ করে এক কাপ চা কিংবা কফির সাথে। কিন্তু সকালটা যদি হয় গরম গরম ধোঁয়া ওঠা ভাপা পিঠার সাথে তাহলে তো তার তুলনাই নেই। আম্মু মাটির চুলের পাশে বসে ভাপা পিঠা বানাচ্ছে। সাথে খালামণি ও বড় মামী সাহায্য করছে। আমি, নূর আপি, অনন্যা চাদর মুড়ি দিয়ে চুলোর কাছেই বসে আছি। ইভা,তন্বী, অর্থি এখনো উঠেনি। আজকে বেশ শীত লাগছে। মনে হচ্ছে কয়েকদিনে পুরো দমে শীত বুড়ি তার কার্যক্রম শুরু করবে। গরম ভাপা পিঠা মুখে দিতেই শীতে আসার আনন্দ উপভোগ করা যায়। যদিও শীত সবার জন্য সমান আনন্দের নয়। তবুও এর শাক-সবজি ও পিঠাপুলির কারণে একে একটু বেশি পছন্দ করি আমি। গরম ভাপা পিঠার থেকে একপাশ ভেঙে মুখে দিতেই তায়াং ভাইয়া ও এনাজের আগমন। তারা সকাল সকাল দোকানে গিয়েছিলো। কেন গিয়েছিল তা আমি আন্দাজ করে ফেলেছি। দুই বন্ধু গরুর জাবরকাটার মতো করে চুইংগাম চাবাচ্ছে। এনাজের হাতে মুঠ ভর্তি তাজা, সতেজ লাল শাক।তার মধ্যে থাকা শিশির বিন্দুগুলো প্রমাণ করে দিচ্ছে সদ্য তুলে আনা হয়েছে। আমাদের কাছে এসে এনাজ আম্মুকে বললো, — আন্টি, শাকগুলো কিরকম হয়েছে? আম্মু, খালামণি, মামী তিনজনেই শাকগুলো দেখে খুশি হয়ে গেলো। আসলেই শাকগুলো দেখতে টাটকা,তরতাজা দেখাচ্ছে। যে কাউকে আকর্ষণ করতে সক্ষম। আম্মু খুশি মনে বললো, — মা শা আল্লাহ। শাকগুলো তো টাটকা মনে হচ্ছে। কোথা থেকে আনলে? — ঐ তো দোকান থেকে আসার সময় জমি থেকে তুলতে দেখলাম। আমার এতো পছন্দ হয়েছে যে কিনেই নিয়ে আসলাম। জমির মালিক বললো কোন ধরনের ঔষধ ব্যাবহার করেনি। একদম নির্ভেজাল। — পাতাগুলোও টাটকা লাল। আমার কাছে শাক দিয়ে তোমরা হাত-পা ধুয়ে এসো। আমি গরম গরম পিঠা দিচ্ছি খেয়ে নিবে। — ভাপা পিঠা 😋! — তুমি পছন্দ করো না? — অনেক বেশি। আম্মু বেঁচে থাকতে প্রতি শীতে আমার জন্য কয়েকদিন পরপর বানাতো। এখন আম্মুও নেই কোন পিঠাও নেই। শেষের কথাগুলো বলতে বলতে এনাজের মুখটা কালো হয়ে আসছিলো। তার দিকে তাকিয়ে বুকটা মোচড় দিয়ে উঠলো। আম্মু হাড়ির ওপর ভাপে পিঠার ছাঁচটা টোকা দিয়ে পিঠা ফেলে দিয়ে বললো, — আম্মু নেই তো কি হয়েছে আমরা আছি তো। মন খারাপ না করে জলদী জলদী পিঠা খেতে এসো। খালামণি এনাজের হাত থেকে শাকের আঁটিগুলো নিয়ে বড় খাঁচিতে রেখে আম্মুর সাথে গলা মিলিয়ে বললো, —পুরনো কথা মনে করে মন খারাপ করিস না তো বাবা। যা ফ্রেশ হয়ে আয়। তায়াং তুইও যা। এনাজ মুখটাকে গম্ভীর করে বললো, — পুরনো কথা তো মনে করতে চাই না আন্টি। তবুও মনে পরে যায়। আব্বু সবেমাত্রই দালান থেকে বের হয়ে রান্নাঘরের সামনে এসেছিলো। এনাজের কথা শুনে মাথায় হাত বুলিয়ে বললো, — জীবন অনেক বড় বাবা। থেমে না থেকে চলতে থাকো। মনে রাখবে গতিতে জীবন, স্থিরতায় মৃত্যু। পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মানব, আমাদের নবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) ও কিন্তু এতিম ছিলেন। এনাজ মুখের চুইংগামটা দূরে ফেলে দিয়ে আব্বুকে বললো, — দোয়া করবেন আঙ্কেল। শেষ পর্যন্ত যেন সঠিক পথে চলতে পারি। — ইন শা আল্লাহ পারবে। এখন কথা না বলে পিঠা খেয়ে নাও। নোভার আম্মু, ওদেরকে পিঠা দাও। ওরা দাঁড়িয়ে আছে তুমি ওদের দিচ্ছো না।এটা কি ঠিক? বড় মামী বললো, — ওরা ফ্রেশ হয়ে আসুক। দোকান থেকে এলো। এখন হাত-পা ধুয়ে খেতে বসলে ভালো হবে। নোভার মা তুমি নোভার আব্বুকে পিঠা দাও। আব্বু মামীকে বললো, — আমার জন্য না ভাবী। ওদেরকে আগে দিন। মেহমান রেখে কি আমরা আগে খাবো? ওরা আগে খেয়ে নিক। যাও তোমরা দুইজন টিউবওয়েল থেকে হাত,মুখ ধুয়ে নাও। এনাজ আমার দিকে তাকিয়ে মিষ্টি করে একটা হাসি উপহার দিয়ে তায়াংকে বললো, — চল হাত-পা ধুয়ে নেই। তায়াং ভাইয়া মোবাইল চালাচ্ছিলো।এনাজের কথা শুনে মোবাইল থেকে চোখ উঠিয়ে চুইংগাম চাবাতে চাবাতে এনাজের দিকে তাকিয়ে বললো, — হুম চল। তায়াং ভাইয়া মুখে চল বললেও আবারো মোবাইলের দিকে তাকিয়ে কিছু একটা করতে মনোযোগী হয়ে গেলো। এনাজ একা গিয়ে টিউবওয়েলে হাত-পা ধুতে নিলে আমি আস্তে করে খাওয়া ছেড়ে উঠে তার সামনে চলে এলাম। তার সামনে গিয়ে টিউবওয়েলের হাতল ধরে বললাম, — আমি টিউবওয়েল চাপ দিয়ে দেই? যদি আপনার কোন অসুবিধা না হয়। এনাজ এক চোখ মেরে দুষ্টুমীর সুরে বললো, — কেউ আমার কাজে হেল্প করতে চাইলে আমি কি মানা করতে পারি? তাও আবার আমার প্রিয় মানুষ। আমি মুচকি হেসে টিউবওয়েলের হাতল ধরে চাপ দিতে লাগলাম। এনাজ উবু হয়ে হাত-পা ধুতে মন দিলো। খালামণি, আব্বু, মামী কথা বলছে। তাই এদিকে খেয়াল নেই তাদের। 💖💖💖 হেমন্তের আগমণের সাথে সাথে শীতবার্তা পাঠিয়ে দেয়৷ যার মানে হলো হেমন্তের পরের রুক্ষরাজ ঋতু শীতের আগমন ঘটবে। হেমন্ত শেষ না হতে হতেই শীত বুড়ি তার অস্তিত্ব গেড়ে বসে। এই সময় গ্রামে আমন ধান কাটার তোড়জোড় শুরু হয়ে যায়। ধান মাড়াই করার পর সকালবেলা কৃষক গিন্নি ঘোমটা টেনে ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত হয়ে পরে। রোদ ওঠার সাথে সাথে সিদ্ধ ধান রোদে শুকাতে দিতে হবে। ধান ঝাড়া, উড়ানো, রোদে শুকানো কত কাজ তার। শীতের আমেজটা তাদের উপভোগ করার সময় নেই। অনেকখন ধরে এদিক সেদিক তাকিয়ে এনজিও সংস্থাকে খুঁজছি। কিন্তু তার দেখা নেই। পিঠা খেয়ে এনামের সাথে কলে কথা বলতে বলতে কোনদিকে গেলো কে জানে! তায়াং ভাইয়া নূর আপির সামনে বসে আছে। ভাইয়া আপিকে নানা কথা বলে রাগাচ্ছে। সবার সামনে নূর আপি কিছু বলতেও পারছে না। আবার সহ্যও করতে পারছে না। আমি তাদেরকে ক্রস করে পুকুরপাড়ের দিকে চলে গেলাম। সেখানে গিয়ে দেখি মহাশয় পুকুরপাড়ে দুই পায়ে ভর দিয়ে বসে আরামচে মোবাইল চালাচ্ছে। আমি তার সামনে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম। — এখানে কি করছেন? আমার কন্ঠ পেয়ে সে পেছন দিকে তাকিয়ে মিষ্টি হেসে বললো, — রোদ পোহাচ্ছি। — তাই বলে পুকুরপাড়ে? — হুম মিষ্টি রোদ উঠেছে আজ। সকালে দোকানে যাওয়ার সময় আমি ঠকঠক করে কাঁপছি। বাপরে, যা শীত ছিলো। ঠান্ডায় জমে যাওয়ার জোগাড়। — হুট করে শীতটা পরে গেলো। — হ্যাঁ, একটা টি-শার্ট পরে বের হয়েছিলাম। দেখি শীতে আমাকে জমিয়ে ফেলছে।দ্রুত বড় হাতার শার্ট পরে তারপর বের হলাম। — কেন গিয়েছিলেন? — এমনি হাঁটতে। — মিথ্যে কথা কেন বলেন? — মিথ্যে কেন বলবো? — সিগারেট টানতে গিয়েছিলেন দুই বন্ধু। আমি জানি। এনাজ চোখ দুটো বড় বড় করে আমার দিকে তাকিয়ে বললো, — তোমাকে কে বললো? — আমি জানি তো এই কাজে গিয়েছিলেন। এটাই আপনাদের ইমপোর্টেন্স কাজ। — 😶😶 — কি আমি মিথ্যে বলছি? — না। — আম্মু,খালামণি আর মামীকে বলবো? উনি বসা থেকে উঠে আমার হাতদুটো তার হাতের মুঠোয় নিয়ে বললো, — প্লিজ কাউকে কিছু বলো না। তোমাকে আইসক্রিম খাওয়াবো। আমি দ্রুত টান মেরে আমার হাত সরিয়ে কঠিন গলায় বললাম, — এখন ঘুষ দেওয়া হচ্ছে? আমি তো কিছু শুনবো না।এবার সবাইকে বলে দিবো। লুকিয়ে লুকিয়ে সিগারেট খান আপনারা দুজন। তাছাড়া ড্রিংক করার ভিডিওতো আমার কাছে আছেই। — প্লিজ এমন করো না। তুমি যা বলবে আমি তাই করবো। দশবার কান ধরে উঠবস করতে বললে তাতেও রাজী আছি। — কান ধরে উঠবস করতে হবে না। — তাহলে কি মাফ করে দিছো? — জ্বি না। — তাহলে? —আমি যা বলবো তাই শুনবেন? — অবশ্যই। — এখন থেকে সিগারেট খাওয়া বন্ধ। — আমি তো সবসময় খাই না। মাঝে মাঝে দু-একটা খাই। যখন সবকিছু অশান্তি লাগে তখন। সকালে তায়াং বললো ওর ভালো লাগছে না। দোকান থেকে দুটো খেয়ে এসে পরবে। ওর কথায় রাজী হয়ে গেলাম। — ঐ মাঝে মাঝে দু-একটাও চলবে না। নয়তো আমি সারা বাড়িতে ঢোল পিটাতে গেলাম। আমার আব্বু সিগারেট পছন্দ করে না। উনি কোনদিন খাইনি। সে যদি জানতে পারে আপনি সিগারেট খান তাহলে আপনার কাছে আমাকে বিয়ে দিতে গেলে ঝামেলাও করতে পারে। — ওকে আমি ছেড়ে দিবো। — সত্যি তো? — হুম সত্যি। আমি ডান হাত বাড়িয়ে দিয়ে বললাম, — প্রমিজ করেন। উনি আমার হাতটা লুফে নিয়ে বললো, — প্রমিজ আর খাবো না। — যদি বন্ধুদের পাল্লায় পরে আবার খান তাহলে কিন্তু খারাপ হয়ে যাবে। মনে রেখেন কথাটা। উনি বাধ্য ছেলের মতো মাথা হেলিয়ে সম্মতি প্রকাশ করলো। আমি তার হাতের থেকে নিজের হাত সরিয়ে নিতেই সে নিজের হাত দুটো হালকা ঘষে বললো, — আমার হাত দুটো কি ঠান্ডা হয়ে আছে। কিন্তু তোমার হাতগুলো এতো গরম কেন? — আপনার হাতগুলো সত্যি অনেক ঠান্ডা। — আমার মনে হচ্ছে বরফ জমে আছে। এই যে দেখো। আমার দুটো গালে সে তার দুটো হাত ছোঁয়াতেই আমি লাফ দিয়ে পেছনে চলে গেলাম। তার হাত সত্যি বরফ হয়ে আছে। উনি নিঃশব্দে হাসলেন। তারপর কপাল কুঁচকে জিজ্ঞেস করলো, — আমরা দুজন যে সিগারেট খাই সেটা তুমি জানলে কি করে? আমি মেকি হেসে বললাম, — সিক্রেট। — প্লিজ বলো। — ভাইয়ার ওয়ারড্রবের ড্রয়ারে বহু আগে একদিন সিগারেটের খোসা পেয়েছিলাম। তখন থেকে জানি পাঠা সিগারেট খায়। সবসময় খেতো না বলে কাউকে বলিনি। আর সেদিন আপনার শার্ট ভাজ করতে গিয়ে সিগারেটের গন্ধ পেয়েছিলাম। তখুনি বুঝে গেছি আপনিও নিকোটিনের ধোঁয়া আসক্ত। আজ যখন দুজনের মুখে চুইংগাম দেখলাম আমি সিউর হয়ে গেলাম সিগারেট খেয়ে চুইংগাম চাবানো হচ্ছে। — ওরে আল্লাহ খি ঠেলেন্ঠেড🥵! — ইয়েস। — তুমি একটা কথা ভুল বলছো। — কি কথা? — আমি নিকোটিনের ধোঁয়ায় আসক্ত নই। আমি তোমাতে আসক্ত। এটা আমার না হলেও চলবে। কিন্তু তোমাকে আমার সারাজীবনের জন্য লাগবে। আমি লাজুক হেসে মাথা নিচু করে রাখলাম। এনাজ দুষ্টুমীর সুরে বললো, — ইস, আমার লজ্জাবতী লজ্জা পেয়েছে। আমি কোন কথা বললাম না। উনি কিছু সময় থেমে বললো, — বড়শী আছে? — কেন? — অনেকখন ধরে ঘাটের পাশে একঝাঁক পুটিমাছের আনাগোনা দেখছি। বড়শী থাকলে মাছ ধরতে পারতাম। — আপনি মাছ ধরতে পারেন? — এমন করে বলছো যেন জীবনে বড়শী দিয়ে মাছই ধরিনি। — না তা নয়। আমি এমনি জিজ্ঞেস করলাম। — বড়শী আছে কি না তাই বলো? — না নেই। মাছ এখন আর কেউ ধরে না। তাই বড়শীও রাখা হয় না। — এই দোকানে পাওয়া যাবে বড়শী? — হুম পেতে পারেন। — তাহলে নিয়ে আসি গিয়ে। এনাজ দ্রুত আমাকে সাইড কাটিয়ে চলে যেতে নিলে আমি বললাম, — আবার সিগারেট খাওয়ার জন্য দোকানে যেতে চাইছেন না তো? এনাজ থেমে আমার দিকে তাকিয়ে বললো, — আমি প্রমিজ করেছি খাবো না আর। তুমি আমার জীবনে যতদিন থাকবে ততদিন আর স্পর্শও করবো না। কিন্তু তুমি আমার জীবনে না থাকলে সিগারেট আবার ফিরে আসবে। আমি কপাল কুঁচকে, চোখ ছোট করে তার দিকে তাকাতেই সে হাত দিয়ে ঠোঁট স্পর্শ করে ফ্লাইং কিস দেখিয়ে তায়াং ভাইয়াকে খুঁজতে ছুটলো। তাকে নিয়ে এখুনি দোকানে যাবে। এর হাবভাব দেখে মনে হচ্ছে আজকে, এখুনি মাছ না ধরলে তাকে আমরা সকালের খাবার দিবো না। আমি তার যাওয়ার পানে কিছু সময় তাকিয়ে থেকে নিজের রুমে চলে গেলাম।

---

[<< পূর্ববর্তী অধ্যায়](https://golpohub.com/episodes/shishir-bheja-rodudur-s1-ep48) | [সিরিজ সূচি](https://golpohub.com/series/shishir-bheja-rodudur) | [পরবর্তী অধ্যায় >>](https://golpohub.com/episodes/shishir-bheja-rodudur-s1-ep50)