সিজন 1 অধ্যায় 18 ড্রামা সামাজিক সমস্যা #প্রকাশ্যে অপমান #ষড়যন্ত্র আরোহীআহাননিহাঅর্ণবঅরণী

অপমানের তিক্ততা ও গোপন হুমকি

•6 মিনিট পড়া•822 শব্দ
অপমানের তিক্ততা ও গোপন হুমকি

তখনই আরোহি রুমে ঢুকে,

অরনিঃ আপু এটা কে? এই ম্যাসেজের অর্থ কি?

আরোহিঃ ??? ( এখন কি বলি ?) না…..ন..না ক…কই কিচ্ছু ন..না তো আর তু.তুই আমার ফোন ধরেছিস কেন? ( বলেই ওর হাত থেকে ফোনটা কেড়ে নিলাম)

অরনিঃ ?? ( দাল ম্যে কুছ কালা জারুর হ্যায় ?) আমার বয়েই গেছে তোর ফোন ধরতে,, হুহ ( একটা ভেংচি কেটে চলে আসলাম)

আরোহি একটা প্রশান্তির নিঃশ্বাস ফেললো

_______________________

পরের দিন সকালে আরোহির কলেজে,

আরোহিঃ ( আজ কলেজে এসেই দেখি অহি আর নিহা একসাথে।) ওহ তাহলে সব ঠিক আছে ওদের। আমার জন্যই শুধু শুধু এতো দূরত্ব ছিলো ওদের মধ্যে ?

আহান একবার আরোহির দিকে তাকালো। আরোহি আহানের দিকে তাকাতেই আহান মুখ ঘুরিয়ে নিলো।

কলেজে ক্লাস শেষে আরোহি ক্যান্টিনে যায়, ক্যান্টিনে আগে থেকেই আহান নিহা আর আহানের ফ্রেন্ডরা ছিলো। অর্ণবও ছিলো। সবাই কথা বললেও আহান চুপ ছিলো। নিহা আরোহিকে দেখতে পেয়ে আরোহিকে শুনিয়ে আহানের সাথে কথা বলতে শুরু করে,

নিহাঃ [ আহানের হাত জাপটে ধরে] আহু বেবি,, তুমি আমাকে কতোটা ভালোবাসো?

আহানঃ ( আরোহিকে দেখেই আমি নিহার সাথে কথা বলা শুরু করে দিই) তা কি ভাষায় প্রকাশ করতে হবে?

নিহাঃ অউউউউ ??? তুমি আমার জন্য কি কি করতে পারবে বেবি?

আহানঃ ( আরোহির দিকে তাকিয়ে) একবার ভালোবেসে মুখ ফুটে যা চাইবে সব দিবো

নিহাঃ অউউউ বেবি লাভ ইউ সো মাচ ( আরোহি এইবার দেখো আমি কি করি, এখন তো আহানও আমার সাথে আছে ?)

আরোহি ওদের একসাথে দেখে সহ্য করতে না পেরে ওখান থেকে চলে যেতে নেয়। নিহা ওর এক ফ্রেন্ডকে ইশারা করতেই সে আরোহির পায়ে পা বাধিয়ে ফেলে দেয়। তখন আরোহির হাতে থাকা জুস নিহার পায়ে পড়ে যায়

নিহাঃ আআআআআআআআআআ হোয়াট দ্যা হেল ইজ দিস? এই মেয়ে আর ইউ ব্লাইন্ড? দেখে চলতে পারো না? আমার এতো দামী সু টা নষ্ট করে দিলা। এক্ষুনি পরিষ্কার করে দাও

আরোহিঃ সরি, আসলে আমি বুঝতে পারিনি

নিহাঃ কি বুঝতে পারোনি? এক্ষুনি পরিষ্কার করে দাও

আরোহিঃ আমি তোমার পায়ে হাত দিবো ??

নিহাঃ ইয়েস,, তাড়াতাড়ি

আরোহি আহানের দিকে তাকাতেই আহান কিছু বলতে যাবে তখনি

নিহাঃ বেবি তুমিই বলো ও তো দোষ করেছে, তাহলে কি ওর পানিশমেণ্ট পাওয়া উচিত না? পানিশমেন্ট না পেয়ে পেয়ে সবাইকে অনেক কষ্ট দিয়েছে, যেমন আমার প্রিয় সু টা নষ্ট করে

নিহার কথা গুলো শুনে আহানের সে দিনের কথা মনে পড়ে গেলো,, মনে পড়ে গেলো একটা মেয়ের কাছে কতবার রিজেক্ট হয়েছে। রাগে অভিমানে চুপ করে বসে থাকে। কাজটা করার কথা বলতে পারবে না তাই কিছু বলে না

নিহাঃ কি হলো? বসে আছো কেন? আর আহুর দিকে কি দেখো? ও আমার জন্য সব করতে পারে একটু আগেই তো বললো। এখন তাড়াতাড়ি পরিষ্কার করো

আরোহিঃ ( আমি অহির দিকে তাকালাম, আচ্ছা ও কি আমাকে এগুলো করতে বাধা দিবে না? আমাকে এখন এতোটা ঘৃণা করে? করারই কথা। আমি ওকে এতো অপমান করেছি,, চোখ থেকে কয়েক ফোটা জল পড়লো) আমি জুস ক্লিন করার জন্য টিস্যু হাতে নিলাম

আহানঃ[ না আমি এটা দেখতে পারবো না, তাই ওখান থেকে উঠে বাহিরে চলে গেলাম]

আরোহিঃ জুস পরিষ্কার করতে যাবো আর কেউ একজন আমার হাত ধরে নিলো

অর্ণবঃ [ আমার কল আসায় বাহিরে গেছিলাম, ভেতরে এসে দেখি আরোহি নিহার পায়ে হাত দিতে যাচ্ছে তাই ওর হাতটা ধরে নিলাম] কি হচ্ছে এখানে? আর অহি কই? ও থাকলে এগুলো হতে দিতো না

নিহাঃ [ শুভ কাজে এতো বাধা আসে কেন ??] ও আমার এতো দামী সু নষ্ট করে দিয়েছে তাই পরিষ্কার করে দিচ্ছে। আর আহু পারমিশন দিয়েছে ?

অর্ণবঃ স্ট্রেঞ্জ… আর সু পড়ে বের হলে তো কখনো না কখনো নষ্ট হবেই। নষ্ট না করতে চাইলে এরপর থেকে আর দামী সু পড়ে আসবি না। আর মানুষ মাত্রই ভুল হয়। তাই বলে তুই কাউকে তোর পা ছুতে বাধ্য করতে পারিস না। মানুষকে সম্মান করা শিখ [ বলেই আরোহির হাত ধরে টেনে বাহিরে নিয়ে এলাম]

নিহাঃ ?? এতো বড় সাহস। এই সামান্য মেয়েটার জন্য আমাকে আজ এতো কথা শুনতে হচ্ছে ? দেখে নিবো

অর্ণবঃ [ আরোহি এখনও কেদেই যাচ্ছে] কান্না বন্ধ করো। আর বাসায় যাও

আরোহিঃ থ্যাংকস [ কোনো মতে থ্যাংকস বলেই চলে এলাম ]

অর্ণবঃ [ আহানের কাছে গেলাম] আহান এগুলো কি শুনছি? ওরা একটা মেয়েকে ইনসাল্ট করছে আর তুই চুপ করে আছিস ?

আহানঃ নিশ্চুপ….

অর্ণবঃ একি তোর চোখে আবার পানি কেন??

আহানঃ [ অর্ণবকে সব খুলে বললাম ]

অর্ণবঃ হোয়াট!!!! ও তোকে এগুলো বলেছে!! [ আমার মাথায় কিছু ঢুকছে না। এই দুই বোনের মাথায় কোনো প্রব্লেম আছে নাকি ?? ] আচ্ছা আমি দেখছি। তুই মন খারাপ করিস না

আহানঃ আমি মনে হয় আজ অনেক খারাপ কাজ করে ফেলেছি, ওকে এভাবে অপমানটা না করলেও পারতাম [ হাজার হোক ভালোবাসে তো, তাই অন্যের অপমানটা সহ্য করতে পারে না]

অর্ণবঃ কিচ্ছু হয় নি,, আমি সব সামলে নিয়েছি

আহানঃ থ্যাংকস রে

অর্ণবঃ এইসব বাদ দে,, চল আজ দুজন মিলে অনেক ঘুরবো আগের মতো

আহানঃ ? হুম চল

_________________________

আরোহি বাসায় এসে কান্না করতে থাকে তা দেখে অরনি আরোহির রুমে আসে,

অরনিঃ আপু দেখ তুই এখনও আমাকে অনেক কিছু বলিস নি এটা বুঝতে পারছি। আমাকে বল কিছু করতে না পারি তোর মনটা একটু হালকা হবে,

আরোহিঃ [অরনিকে ধরে কেদে দিলাম,, সব বললাম আমি কি কি করেছি ]

অরনিঃ আপু আর ইউ mad?? কি করেছিস তুই আর কেন?

আরোহিঃ আমি এমন না করলে যে অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যেত রে?

অরনিঃ মানে?

অধ্যায় 18 সমাপ্ত

আপনি এই অধ্যায়টি পড়া শেষ করেছেন। পরবর্তী পর্বে যান অথবা আপনার প্রতিক্রিয়া জানান!

মন্তব্যসমূহ

0

আলোচনায় যোগ দিন

মতামত জানাতে এবং পাঠকদের সাথে আলোচনায় অংশ নিতে লগইন করুন।

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

প্রথম মন্তব্যটি করে আলোচনা শুরু করুন!

রকমারি কালেকশন

বইপ্রেমীদের জন্য রকমারি বেস্টসেলার

অধ্যায় পাঠ শেষে সংগ্রহ করুন আপনার পছন্দের ঘরানার সেরা বই ও বিশেষ ডিসকাউন্ট

অপমানের তিক্ততা ও গোপন হুমকি

অনুচ্ছেদ 1 / 1 • চলছে
বিজ্ঞাপন