অতীতের কালো ছায়া ও মায়ের সম্মতি

•6 মিনিট পড়া•952 শব্দ
অতীতের কালো ছায়া ও মায়ের সম্মতি

আহান আরোহি নিজের নিজের বাসায় চলে যায়।

আহানের বাসায়,

অর্ণবের মাঃ আহান ফ্রি আছিস?

আহানঃ আরেএএ ছোট মা। তোমার জন্য তো আমি অলয়েজ ফ্রি

অর্ণবের মাঃ তা কি করছিলি?

আহানঃ তোমার বউমার কথা ভাবছিলাম

অর্ণবের মাঃ (খুশি হয়ে) ওমাাাা পেয়ে গেছিস? ? ( এবার একটু মন খারাপ করে) তাহলে আমার পছন্দের মেয়েটাকে বাদ দিতে হবে

আহানঃ তুমি কাউকে আমার জন্য পছন্দ করেছিলে ???

অর্ণবের মাঃ হুম, যাই হোক বাদ দে, তোর পছন্দের মেয়েটাকে তো দেখা

আহান আরোহির ছবি দেখালো। ছবিটা আহান আর আরোহি যখন নাচছিলো অনুষ্ঠানে তখন অর্ণব তুলেছিলো

অর্ণবের মাঃ ভারী মিষ্টি তো। একে তো আমি চিনি

আহানঃ ?? মানে?

অর্ণবের মাঃ—————- [top secret conversation,, কি কথা হলো তা পরে জানাবো ??]

আহানঃ ওহ লাভ ইউ ছোট মা। আচ্ছা ছোট মা তোমাদের যা ইচ্ছা হয় তা করো, তবে আর একটা কথা,,,, আরোহির ছোট বোনকে অর্ণব পছন্দ করে

অর্ণবের মাঃ ??? হায় খোদা আমার ছেলে কয়টার সাথে লাইন মারে!! আমি তো জানতাম আমার ছেলে গুলা মেয়েদের পাত্তাই দেয়না,, এখন অরনির কি হবে ?

আহানঃ ? আরে আরেএএ ছোট মা,, আরোহি অরনি ২ বোন। আরোহি বড় আর অরনি ছোট

অর্ণবের মাঃ এই ডিটেকটিভটাকে তো আমি মেরেই ফেলবো, আরোহি-অরনির সব খবর দিলো অথচ ওদের কোনো বোন আছে এইটাই বলেনি আমাকে ?

আহানঃ (অবাক হয়ে) ?? তুমি খোজ নিতে ডিটেকটিভ লাগিয়েছিলে ?

অর্ণবের মাঃ হুম আমার ছেলেদের বউ হবে বলে কথা। ওহ যাই হোক ? আমার ছেলে গুলা ঠিক আছে তাহলে ?

আহানঃ জ্বি মিসেস খান

অর্ণবের মাঃ তাহলে আমি এক্ষুনি তোদের বিয়ের সম্বন্ধ নিয়ে যাচ্ছি [ বলেই দরজার দিকে পা বাড়ালাম]

আহানঃ [ছোট মা যেতে নিলেই হাত ধরলাম ] আরেএ ছোট মাাাা এখন তো রাত, এই রাত ৮ টার সময় কেউ কারও বাসায় যায়?

অর্ণবের মাঃ আচ্ছা তাহলে কালকেই যাবো।

আহানঃ ?? ওকে

অর্ণবের মাঃ ( আহানের গালে হাত দিয়ে) আচ্ছা এখন ঘুমিয়ে পড়৷ তোর জন্য তাড়াতাড়িই বউ নিয়ে আসবো, তাই এখনই রাতের ঘুম হারাম করার দরকার নেই

আহানঃ (হেসে) ? ছোট মা, আমি অনেক লাকি তোমাদের মতো মা বাবা পেয়ে,, তোমাদের নিজের নই তবুও কতো ভালোবাসো, কখনও অর্ণবের থেকে কম করে দেখইনি আমাকে

অর্ণবের মাঃ (রেগে) ? কে বলেছে তুই আমাদের ছেলে না? লাকি তো আমরা কারণ তুই আমাদের উপর রাগ করিস না, অর্ণবকেও ভালোবাসিস, ওর ওপরও রাগ করিস না

আহানঃ ছোট মা তোমাদের কোনো দোষ ছিলো না, তাহলে রাগ কিসের। বরং তোমরা আমায় কতো ভালোবাসো

অর্ণবের মাঃ (ভাব নিয়ে) আমি দুই দুই জন সেলিব্রিটির মা বুঝতে হবে ?

আহানঃ ??

অর্ণবের মাঃ ( আহানের কপালে চুমু দিয়ে) ? এখন ঘুমা বাবা, গুড নাইট

আহানঃ গুড নাইট

কথাবার্তার পর আহান তার রুমের বারান্দায় চলে যায়। আকাশের তারার দিকে তাকিয়ে আরোহির কথা ভাবতে থাকে,

আহানঃ আরোহি, তুমি জানোই না তুমি ডাইরেক্টলি ইনডাইরেক্টলি আমাকেই ভালোবাসো ?? তোমায় আর কষ্ট দিবো না। আচ্ছা কিন্তু আরোহি হঠাৎ করে কেন ঐ কথাগুলো বলেছিলো? অরনিকে জিজ্ঞেস করা দরকার।

আহান অর্ণবের কাছে থেকে অরনির নাম্বার নিয়ে আসে

_____________________

অরনিকে কল দেয়,

আহানঃ হায় অরনি

অরনিঃ জ্বি কে?

আহানঃ আমি আহান

অরনিঃ ওহ ভাইয়া,, এক মিনিট ( অরনি বারান্দায় চলে আসে) জ্বি বলেন সব ঠিক আছে তো?

আহানঃ হ্যা সব ঠিক, আসলে আরোহির ব্যাপারে কিছু জানার ছিলো

অরনিঃ জ্বি

আহানঃ আরোহি কেন রিলেশন পছন্দ করে না?

অরনিঃ ওহ,, আচ্ছা তাহলে শোনেন,

এইটা আরোহি আপু যখন ক্লাস ৮ এ পড়তো তক্ষনকার ঘটনা। আরোহি আপু আগে থেকেই রিলেশনশিপ পছন্দ করতো না, আমার বোন কিন্তু এই বিষয়ে অনেক যুক্তিবাদী। আপু যখন ক্লাস ৮ এ পরতো তখন আপুর এক বেস্টফ্রেন্ড হয়, নাম আদিবা। মিতু আর নিশা আপু তখন আরোহি আপুর তেমন ক্লোজ ফ্রেন্ড ছিলো না। আদিবা আপুও অনেক ভালো মেয়ে ছিলো। আরোহি আপু আর আদিবা ২ জনের অনেক মিল ছিলো শুধু রিলেশন বিষয়টা ছাড়া। ওরা একে অপরকে ছাড়া থাকতেই পারতো না। একে অপরকে ফ্রেন্ডশিপ লেটারও লিখতো। আদিবা আপু ক্লাস ৮ এ ফার্স্ট রিলেশন করে, আরোহি আপু অনেক নিষেধ করে কিন্তু বলেনা টিন এজ,, তাই রিলেশনে জড়িয়ে যায়। অবশ্য ছেলেটা ভালো ছিলো তাই আরোহি আপুও আর নিষেধ করেনি। কিন্ত আদিবা আপু ওর বাবা মায়ের কাছে ধরা পড়ে যায় আর ওদের রিলেশন ভেঙ্গে যায়। আদিবা আপুর বাবা ছেলেটাকে পুলিশে দিবে বলে ওকে ভয় দেখায়। ওরা একে অপরকে অনেক ভালোবাসতো, কিন্তু ছেলেটার ভালোর জন্য আদিবা তাকে ছেড়ে দেয়। কিন্তু সমস্যাটা ছিলো অন্য জায়গায়। আদিবা ব্রেকআপের পর অনেক ভেঙ্গে পড়ে। ওদের ব্রেক আপের পর একটা বাজে ছেলে আদিবাকে ইমোশনালি কথা বলে তার সাথে রিলেশন করতে বলে। ছেলেটা তখন ইন্টার ২য় বর্ষে পড়তো। আদিবা আপুর প্রথম বয়ফ্রেডও নিষেধ করেছিলো। আর আদিবা আপু বোকার মতো জেদ করে আগের রিলেশনটা ভোলার জন্য নিউ রিলেশন করে। আরোহি আপু আনেক নিষেধ করতো তাই আদিবা আপু আর আরোহি আপুকে বলতো না ওদের রিলেশনের কথা। একদিন আদিবা আপু কাদতে কাদতে আমাদের বাসায় আসে। তখন আপু ক্লাস ৯ এ। আদিবা আপু বলে ছেলেটা নাকি ওকে ফাসিয়ে জোর করেছে। আর এখন আর রিলেশন রাখতে চায় না। তার উপর ওদের নাকি বাজে ভিডিও বানিয়েছে। আরোহি আপু আদিবার উপর ক্ষেপে যায় তাই আর কথা বলেনি ওর সাথে। একদিন খবর পাই আদিবা আপু সুইসাইড করেছে। আদিবা আপু আরোহি আপুর জান ছিলো। আরোহি আপু অনেক বেশি ভেঙ্গে পড়ে। আরোও ভেঙ্গে পড়ে যখন দেখে আদিবা আপুর মৃত্যুর পর ঐ বাজে ছেলেটা ভিডিওটা আদিবার বাবাকে দেখায়, এতে আদিবার বাবার হার্ট এটাক করে। আঙ্কেল আরোহি আপুকে নিজের মেয়ের মতো দেখতেন। এতো কিছুর পর আপু পুরো ক্লাস ৯ অনেক ডিপ্রেসড থাকতো। তারপর মিতু আপু আর নিশা আপু আরোহি আপুর ক্লোজ ফ্রেন্ড হয় আর ওকে স্বাভাবিক হতে সাহায্য করে

আহানঃ ? ওহ মাই গড ছেলেটাকে পুলিশে দেয় নি?

অরনিঃ (একটা দীর্ঘ নিশ্বাস ছেড়ে) তাকে মার্ডার করা হয়েছে

আহানঃ হোয়াট ? কে করেছে?

অরনিঃ মনে হয় আদিবা আপুর প্রথম বয়ফ্রেন্ড। আমরা সিওর না আবার সে ছাড়া আর কেউ হতে পারে না। আমরা কাউকে কিছু বলিনি তাই পুলিশও আর ধরতে পারেনি।

আহানঃ ওহ,,, বুঝেছি। আচ্ছা তোমাকে ধন্যবাদ, আর সরি এতো রাতে ডিসটার্ব করলাম

অরনিঃ না না ঠিক আছে

আহানঃ আর শোনো আর একটা কাজ করবে, কালকে তোমার বাসায় কিছু মহিলা যেতে পারেন, তুমি শুধু তাদের সাপোর্ট করবে। ওকে

অরনিঃ ওকে জিজু

আহানঃ ? ওকে শালী জি বাই

অরনিঃ বাই

অধ্যায় 22 সমাপ্ত

আপনি এই অধ্যায়টি পড়া শেষ করেছেন। পরবর্তী পর্বে যান অথবা আপনার প্রতিক্রিয়া জানান!

মন্তব্যসমূহ

0

আলোচনায় যোগ দিন

মতামত জানাতে এবং পাঠকদের সাথে আলোচনায় অংশ নিতে লগইন করুন।

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

প্রথম মন্তব্যটি করে আলোচনা শুরু করুন!

রকমারি কালেকশন

বইপ্রেমীদের জন্য রকমারি বেস্টসেলার

অধ্যায় পাঠ শেষে সংগ্রহ করুন আপনার পছন্দের ঘরানার সেরা বই ও বিশেষ ডিসকাউন্ট

অতীতের কালো ছায়া ও মায়ের সম্মতি

অনুচ্ছেদ 1 / 1 • চলছে
বিজ্ঞাপন