অরনি আহানের সাথে কথা বলে রুমে চলে আসে,,
পরেরদিন,
আরোহিকে কলেজে যেতে দেওয়া হয়নি,, আরোহি জানেও না কেন,,,,,, দুপুরে আরোহির মা আরোহির রুমে এসে কিছু জুয়েলারি দিয়ে আর একটা নিউ শাড়ি দিয়ে চলে যায়,,, সব কিছু আরোহির মাথার উপর দিয়ে যায় । ?
হঠাৎ অরনি বলে,
অরনিঃ আপু এখন যদি তোর আহানের সাথে বিয়ে হয় তাহলে তুই অনেক খুশি হবি তাই না
আরোহিঃ ( অবাক হয়ে অরনির দিকে তাকিয়ে থাকে,, কারণ সে যে অহিকে ভালোবেসে ফেলেছে, সেটা তো অরনি জানে)
অরনিঃ ( আরোহির কাছে গিয়ে ওর হাত ধরে) আপু আমাকে একটা কথা দে প্লিজ
আরোহিঃ কি?
অরনিঃ আজকে যা যা হবে চুপচাপ মুখ বুজে সহ্য করবি ওকে?
আরোহিঃ ?? মানে?
অরনিঃ [(মনে মনে) মানে তোমারে এপ্রিল ফুল বানাবো] মানে কিছু না, দেখ তুই কিন্তু আমাকে কথা দিলি
আরোহিঃ (অবাক হয়ে) আমি আবার কখন তোকে কথা দিলাম?
অরনিঃ এই যে আমার হাতে হাত রেখে হ্যাঁ বললি
আরোহিঃ (অবাক হওয়ার চরম পর্যায়) আমি কখন হ্যাঁ বললাম ?
অরনিঃ আপু তুইও না আজকাল কতো কিছু ভুলে যাস হুহ, বাই দ্যা ওয়ে তুই কিন্তু কথা দিয়েছিস
আরোহিঃ ??
,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
বিকালে আরোহিদের বাসায় দুইজন মহিলা আর একজন বৃদ্ধা মহিলা আসেন,,, অরনি আরোহিকে সাজিয়ে দেয়, কিন্তু অরনির মাথায় এটা আসলো না মা কেন অরনিকেও সাজতে বললো?? আর আরোহি এটা ভাবছে ওরা কি কোথাও ঘুরতে যাচ্ছে? ?? [যার চিন্তা ভাবনাকে বলে গাধার চরম পর্যায়]
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
কিছুক্ষন পর আরোহির মা রুমে আসে,, দুই মেয়েকে কোনো হুরের থেকে কম লাগছে না, অরনি এমনিতেই ফর্সা আর সুন্দর, আর আরোহি মোটামুটি ফর্সা, একেবারে সাদা না তবে একেবারে শ্যামও না,, তবে কিউট ফেস, আরোহি আর অরনিকে দেখলে দুইজনকে সেম এজ মনে হয়, কারণ আরোহিকে কিউটনেস-এর জন্য ছোট মনে হয়,,
দুইবোনকেই সেম ড্রেস পড়ানো হয়েছে,,, মেরুন এবং গোল্ডেন কালারের শাড়ি, হাতে চুরি, খোপা করা, খোপায় স্টোন লাগানো, হালকা মেকআপ, ঠোটে রেড লিপস্টিক আর কানে বড় দুল৷ তবে বড় দুল পড়ার কারনে মালা পড়েনি ওরা,,,,
আরোহির মা ওদের ডাকতে এসে হা হয়ে তাকিয়ে থাকে, ওদের থুতনিতে হাত দিয়ে চুমু খেয়ে বলে,
আরোহির মাঃ মাশাল্লাহ!! আমার মেয়ে দুইটাকে তো অনেক সুন্দর লাগছে,,, ??
আরোহি আর অরনিঃ ☺☺
আরোহির মাঃ আচ্ছা শোন জুসের ট্রে টা অরনি নিবি আর পায়েসের ট্রে টা আরোহি নিবি, নে ধর,,, এবার দুইজন আমার সাথে আয়, আর উনাদের সামনে খবরদার অসভ্যতামী করবি না
অরনিঃ আম্মু!!!! ইহা তুমি কি বললা? আমরা অসভ্য? ?
আরোহির আম্মুঃ সেটা না আবার তোরা পুরোপুরি ভদ্রও না, এবার তাড়াতাড়ি চল, আর অরনি পাকামো করবি না,, সুন্দর করে কথা বলবি
অরনিঃ ? [ তারমানে যা ভেবেছিলাম সেটাই কি?]
আরোহি আর চুপ থাকতে পারলো না তাই অরনিকে জিজ্ঞেস করেই বসলো,
আরোহিঃ অরনি এসব কি হচ্ছে?? ?
অরনিঃ (ভাবুক হয়ে) তোর সাথে কি হচ্ছে তা আমি জানি কিন্তু আমার সাথে কি হচ্ছে সেটাই তো বুঝলাম না ??
আরোহিঃ ??
_________________
আরোহি আর অরনি খাবার নিয়ে রুমে ঢুকলো,, খাবার টেবিলে রাখতেই এক মহিলা বলে উঠলো,
– মাশাল্লাহ, ভাবি তোমার ছেলেদের পছন্দ আছে,
– হুম, আমার ছেলে বলে কথা
আরোহি ও অরনিঃ ( মনে মনে) মানে আমাকে দেখতে এসেছে ??
২য় মহিলা আরোহিকে টেনে ডান পাশে বসালো এবং অরনিকে বাম পাশে বসালো,, আর বললো,, “আমি হলাম পাত্রের মা, আর ও হলো পাত্রের ফুপি, আর ইনি হলেন আমার শ্বাশুড়ি মা,, অর্থাৎ ইনারা হলেন, আহান অর্ণবের মা, ফুপি এবং দাদি,,,আরোহির মা ইশারা করতেই অরনি আর আরোহি বৃদ্ধাকে সালাম করলেন,
আরোহি বৃদ্ধাকে সালাম করলাম এরপর পাত্রের মাকে সালাম করে তার দিকে মুখ তুলে তাকাতেই,
অর্নবের মাঃ (আরোহিকে নির্দেশ করে) আমাকে চিনতে পেরেছো?
আরোহিঃ না সুচক মাথা নাড়ালাম
অর্ণবেরঃ (মৃদু হেসে) না চেনারই কথা,, তুমি আমায় দেখনি কিন্তু আমি তোমায় দেখেছি,,,প্রায় এক বছর আগে, একদিন তুমি রিক্সায় করে যাচ্ছিলে, হঠাৎ তোমার রিক্সার সাথে আমার গাড়ি ধাক্কা খায়, দোষটা অবশ্য আমার ড্রাইভারেরই ছিলো কিন্তু তুমি কোনো রকম রিয়েক্ট না করেই চলে এসেছিলে,, সেদিন তোমাকে আমার দেখেই ভালো লেগেছিলো,, তারপর ডিটেকটিভ লাগিয়ে সব খোজ খবর নিই
আরোহিঃ (মনে মনে) ? তাইলে এরপর থেকে সামান্য বাতাস লাগলেও চিৎকার কইরা দুনিয়া উল্টায় ফেলবো যাতে আমারে আমার অহি ছাড়া আর কেউ পছন্দ না করে ?? হুহ,, আমার অহির কি হবে এখন ??
অরনিঃ (মনে মনে) আমার তো জীবনে অর্ণবের গাড়ি ছাড়া আর কারও সাথে ধাক্কা লাগেনি,, তাইলে??? ???
অর্ণবের মাঃ আর তুমি,,[অরনি কে] তুমি আমার গাড়ির সাথে ধাক্কা খাওনি কিন্তু আমার ছেলের গাড়ির সাথে ধাক্কা খেয়েছো? , আমি সবটাই দেখেছি আর আসলিয়াতটা তখনই বুঝে গেছি ( বলেই চোখ টিপ মারলাম)
অরনিঃ ইশশশ কি লজ্জা ?? ( ইনি চোখ টিপ মারলেন ?)
অর্ণবের মা এরপর সব কথা বার্তা বলে ওদের দুইজনকে হার পরিয়ে দিলেন আর বললেন
অর্ণবের মাঃ অরনি তো এখনও ছোট তাই ওর যখন ১৮ হবে তখনই ওর বিয়ে হবে আর আরোহি তো নেক্সট ইয়ারেই ১৮ হবে,,, তখন একটা ডেট ঠিক করবো,,, তবে এরা আমার বাড়িরই বউ হবে সেজন্য এদের এখনই হায়ার করে রেখে গেলাম ☺ ,,,, এরপর উনারা চলে যান।
এদিকে আরোহি তো শোকে শেষ হয়ে যাচ্ছে,,,
রুমে,
অরনিঃ ( মেকআপ তুলতে তুলতে) আপু তুই কতো লাকি!! তোর ক্রাশই তোর বর হবে ওয়াও [ (ইনার অরনি) আমারও ???]
আরোহিঃ মানে? ?
অরনিঃ মানে উনার ছেলের নাম আহান,,, তোর ক্রাশ আহান ?
আরোহিঃ ( আমি খুশি হবো না কাদবো?? হায় আল্লাহ!!! ) কিন্তু তুই তো জানিস আমি অহিকে…… তাহলে কেন তুই সব মেনে নিলি? ?
অরনিঃ (মজা করে) ? বারেএএএ,, তুমিই তো বলেছো অহির গফ আছে,,, আর আহান তো তোকে লাভ করে
আরোহিঃ আরেএএ অহির গফ নাই,, ওয়েট ওয়েট হোয়াট!! আহান আমায় লাভ করে মানে?
অরনিঃ (এই রে কি বলে ফেললাম) না মা….মানে আহানের তো কোনো গফ নাই আর তুই ওর বউ হবি তাই….
আরোহিঃ আমি এই বিয়ে কিছুতেই করতে পারবো না
অরনিঃ (? ওহ শিট আটকাতেই হবে, এখন কি করি!!) এই আমার একটা কল করার আছে থাম (বলেই বারান্দায় এসে আহান ভাইয়াকে কল করলাম)
ফোনে ✆,,,,,
আহানঃ জ্বি বলেন শালী জি
অরনিঃ আপনার হবু বউ আবার আপনার জন্য আপনাকেই রিজাক্ট করতে চাচ্ছে
আহানঃ ??? আজকে আমি রেডিওতে আসবো, ওকে আমার গান শুনতে বলো, আর বাকিটা আমি সামলে নিবো ?
অরনিঃ ওকে জিক্স,,, বাই
আহানঃ বাই
এবার অর্ণবকে কল দিলো,
অর্ণবঃ বলো জান
অরনিঃ এই জান বলবানা,, আজ আমাকেও দেখতে আসবে আমাকে আগে বলোনি কেন?
অর্ণবঃ আমি তো সারপ্রাইজ দিতে চেয়েছিলাম,, কেন? তুমি খুশি হউনি?
অরনিঃ হয়েছি কিন্তু আগে বললে আমি আরও একটু মেকআপ করতাম ?
অর্ণবঃ ?? তুমি এমনিতেই সুন্দর বাবু,, তোমাকে।মেকআপ করা লাগিবে না, আর মা তোমাকে আগেই দেখেছিলো,,
অরনিঃ উম ???
অর্ণবঃ আচ্ছা আমি পরে কথা বলছি,, আজকে শো আছে জানোই তো
অরনিঃ ওকে বাই ☺
অর্ণবঃ বাই ?
টুট টুট
_____________
অরনি রুমে আসতেই,
আরোহিঃ বোন কিছু কর প্লিজ, নয়তো আমি পালাবো
অরনিঃ ফর গড সেক এখন একটু চুপ কর প্লিজ আর আজকে রেডিওতে আহান আসবে,, সো ওর গান শোন
আরোহিঃ তুই কিভাবে জানলি? ??
অরনিঃ ই..য়ে.. মা…মানে,, আরে আম্মু ডাকছে আমি আসছি,,,,, (বলেই নিচে দৌড়)
আরোহিঃ ???
