অরনিঃ বাই দ্যা ওয়ে আপু,, তোমার আর আহান ভাইয়ার সম্পর্কের ক্ষতি কিন্তু আসলে নিহা করতে চেয়েছে
আরোহিঃ মানে?
অরনিঃ মানে সায়র তো জাস্ট একটা গুটি ছিলো৷ কিন্তু সব কিছুর মাস্টার মাইন্ড তো নিহা
আরোহিঃ এই মেয়ে এতো প্যাচ নিয়ে ঘুমায় কেমনে? ?
অরনিঃ ? তুই ঘুম থেকে উঠে আবার ঘুমের চিন্তা করছিস ?
আরোহিঃ না,, না,, আচ্ছা তোকে এসব কে বললো?
অরনিঃ আমার আগে থেকেই নিহার উপর ডাউট ছিলো তাই অর্ণব খোঁজ নিয়েছে, আজ সকালেই অর্ণব ম্যাসেজ দিলো সায়র মাইরের ভয়ে সব স্বীকার করেছে, ভিতুর ডিম একটা
আরোহিঃ ?? এই নিহা কে তোওওও
অরনিঃ হুম,, ওর ও একটা ব্যাবস্থা করতে হবে কিন্তু তুই এখন কলেজে যা,, আর মনে থাকে যেন ভাইয়াকে রাগ দেখাতে হবে
আরোহিঃ হুম,, I will try ?? (অরনি আরোহির দিকে রেগে তাকাতেই) আচ্ছা আচ্ছা শাস্তি দিবো
______________
আরোহি কলেজে গেলো,,
আরোহিঃ (কলেজে গিয়েই দেখি আহান ওর ফ্রেন্ডদের সাথে আড্ডা দিচ্ছে,, আমাকে দেখে আমার দিকে আসতে নিলেই দেখি নিহা আহানের হাত ধরে জড়িয়ে ধরলো,, এতোকিছুর পরও আমি আহানের উপর তেমন রেগে থাকতে পারিনি কিন্তু নিহা আমার সাথে এতো কিছু করার পরও আহান নিহার সাথে, এটা দেখে মাথা পুরো গরম হয়ে গেলো, তাই চলে আসলাম) ??
আহানঃ (নিহা আমার হাত ধরতেই আমার মাথা গরম হয়ে গেলো, হাত ছুটিয়ে নিয়ে) হোয়াট ইজ দিস নিহা? তোর সাহস কি করে হয় আমার হাত ধরার? ?
নিহাঃ আমরা ফ্রেন্ড হই, সো আমি তোমার হাত ধরতেই পারি আহু ?
আহানঃ স্টপ কলিং মি আহু,, আর তুই আরোহিকে ফেক ম্যাসেজ কেন দিয়েছিস? তোর আর আমার কখনও রিলেশন ছিলো না ?
অর্ণবঃ (ওদের কাছে গিয়ে বললাম) শুধু তাই না, সায়রকে দিয়ে সব কাজ নিহাই করিয়েছে, সব কিছুর পেছনে নিহার হাত ছিলো ?
আহানঃ হোয়াট ???
নিহাঃ কজ আই লাভ ইউ আহান, আমি তোমাকে সত্যি অনেক ভালোবাসি আহা……
ঠাসসসসসসসস……
নিহা লাভ কনফেশন শেষ করার আগেই আহান নিহার গালে একটা জোরে চড় মারলো, এতোটাই জোরে যে পুরো ক্যাম্পাস কেপে উঠলো,, আহানকে কেউ এতো রাগ করতে এর আগে কখনো দেখেনি,, নিহা মাটিতে পড়ে গেছে,, আহান নিহার দিকে রাগী চোখে তাকিয়ে
আহানঃ আমি সব মেনে নিবো কিন্তু আমার ভালোবাসার মানুষগুলোকে যে আমার কাছে থেকে আলাদা করতে আসবে তাকে ছাড়বো না, গট ইট নিহা?
নিহা গালে হাত দিয়ে রাগে ফুলছে, ? , আহান রেগে চলে গেলো,,,
আহান আরোহিকে অনেক্ষন ধরে খুজছে কিন্তু পাচ্ছেই না,, হঠাৎ আরোহিকে দেখতে পেলো, দৌড়ে আরোহির কাছে গেল,
আহানঃ হাই আরোহি
আরোহিঃ ——–
আহানঃ হেই? আমি তোমার সাথে কথা বলছি
আরোহিঃ সরি, আমি আপনাকে চিনি না
আহানঃ হোয়াট?
আরোহিঃ হ্যা,, আমার তো অহি নামের একটা ফ্রেন্ড ছিলো কিন্তু সে তো আর আমার ফ্রেন্ড নেই,,
আহানঃ আরোহি আমি বুঝতে পারছি তুমি রাগ করে আছো, কিন্তু প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দাও, আমি বুঝতে পারিনি,
আরোহিঃ হ্যা তা কেন বুঝবেন? কষ্ট তো আমি পেয়েছি৷ আপনি তো শুধু মজা নিয়েছেন,, প্লিজ নাউ লিভ মি আলোন,, নিহার কাছে যান,, যে আমার এতো ক্ষতি করলো তাকে জড়িয়ে ধরেন যান
আহানঃ আরোহি বিলিভ মি আমি এসবের কিছুই জানতাম না , যখন জানতে পারলাম আমি নিহাকে সবার সামনে সজোরে থাপ্পড় মেরেছি
আরোহিঃ আহান আমার লেট হয়ে যাচ্ছে সামনে থেকে সরো
আহানঃ আম্ সরি আরোহি
আরোহিঃ (অনেক কষ্টে ওর সামনে থেকে চলে এলাম, ওকে এখন কষ্ট না দিলে ও যে বুঝবে না আমার কষ্ট টা)
আহানঃ (আরোহিকে অনেক বার আটকানোর চেষ্টা করলাম কিন্তু সে থামলোই না)
————————
আরোহির বাসায়,
আরোহিঃ মা, তোমার সাথে একটু কথা ছিলো
আরোহির মাঃ হ্যা বল,,
আরোহিঃ আমি এখন বিয়ে করতে পারবো না
আরোহির মাঃ মানে?
আরোহিঃ মানে আমি এখন বিয়ে করবো না,, আমার আর অরনির একসাথে বিয়ে হবে, সেজন্য আমার বিয়ের ডেট টা পিছিয়ে দাও
আরোহির মাঃ ওহ ভয় পাইয়ে দিয়েছিলি
আরোহিঃ ভয় পেয়ো না,, আর আমার শ্বাশুড়ি মার নাম্বারটা দাও তো
আরোহির মাঃ কেন?
আরোহিঃ দাও তো
আরোহির মাঃ হুম,, ধর
আরোহিঃ (মার কাছে থেকে নাম্বার নিয়ে কল দিলাম)
ওপাশ থেকে কেউ একজন ফোনটা ধরলো,
– হ্যালো
আরোহিঃ আসসালামু আলাইকুম, আমি আরোহি বলছি
অর্ণবের মাঃ হ্যা মা বলো, আমি তোমার শ্বাশুড়ি মা,, তা সব ঠিক আছে তো
আরোহিঃ জ্বি ঠিক আছে, আসলে একটু কথা ছিলো
অর্ণবের মাঃ বলো (চিন্তিত হয়ে)
আরোহিঃ আসলে আমি চাই বিয়েটা যেন পিছিয়ে দেওয়া হয়, আমার আমার অরনির বিয়ে যেন একসাথে একই দিনে হয়
অর্ণবের মাঃ মাহশাল্লাহ,, এতো ভালো কথা
আরোহিঃ জি কিন্তু মা আপনার কাছে একটা আবদার আছে
অর্ণবের মাঃ কি? বল?
আরোহিঃ আপনি আহানকে বলবেন আমি বিয়ে করতে চাইছি না,, পরে বিয়ে করবো এটা বলবেন না
অর্ণবের মাঃ কিন্তু কেন?
আরোহিঃ মা প্লিজ, কিছু জিজ্ঞেস করবেন না, আমার এটুকু সাহায্য করবেন প্লিজ
অর্ণবের মাঃ ওকে
আরোহিঃ আচ্ছা মা নিজের খেয়াল রাখবেন, আল্লাহ হাফেজ
অর্ণবের মাঃ আল্লাহ হাফেজ
অর্ণবের মায়ের মাথায় কিচ্ছু ঢুকলো না,, তবে এটা বুঝলেন এদের মান- অভিমান চলছে তাই তিনি আরোহির কথা মতো আহানকে বললেন আরোহি বিয়ে করতে চায় না,, আর এটা শুনে তো আহানের পাগল প্রায় অবস্থা,, আহান আরোহিকে কত ফোন করে কিন্তু আরোহি রিসিভ করে না,, কত ম্যাসেজ দিচ্ছে বাট নো রিপ্লাই ,,,
কলেজেও আহান আরোহির সাথে কথা বলতে চায় কিন্তু আরোহি ইগনোর করে,,,, একদিন আহান বাধ্য হয়ে,,,,,
আরোহি ক্লাস শেষে রুম থেকে বের হয়ে অন্য রুমে যেতে নেয় তখনই আহান আরোহিকে ধরে একটা খালি ক্লাস রুমে নিয়ে যায়,,
আরোহিঃ (ক্ষেপে) কি সমস্যা কি আপনার? এভাবে নিয়ে আসলেন কেন??
আহানঃ দেখো আমি চাইনি বিয়ের আগে তোমাকে টাচ করতে, কিন্তু আজ বাধ্য হয়ে ধরে নিয়ে এসেছি,, আরোহি প্লিজ আমার উপর রাগ করে থাকলে আমাকে মারো বকো, কিন্তু এভাবে ইগনোর কোরো না প্লিজ
আরোহিঃ আমি কিভাবে রাগ দেখাব সেটাও কি আপনি ঠিক করে দিবেন নাকি?
আহানঃ এখন আপনি করে কেন বলছো?
আরোহিঃ আপনি করেই বলবো,, সরুন আমার সামনে থেকে (বলেই ওকে ধাক্কা দিয়ে চলে এলাম)
আহানঃ ( চোখের পানি মুছে নিচে এসে দেখি আরোহি কার সাথে যেন গাড়িতে করে চলে গেলো,,, দেখে আমার মাথা ঘুরার উপক্রম) (মনে মনে) আরোহির সাথে ছেলেটা কে? আরোহি ওর সাথে কেন গেলো? না না আমি এসব কি ভাবছি, হয়তো ওর পরিচিত কেউ হবে, আরোহি শুধু আমাকে ভালোবাসে,, আমাকে ( এরপর আহান নিজেকে নিজে কন্ট্রোল করে)
____________________
পরের দিন কলেজে এনাউন্সমেন্ট হয় তাদেরকে নাকি ট্যুরে নিয়ে যাবে বান্দরবন,,আরোহি তো খুব এক্সাইটেড কিন্তু যখন শুনলো ৩য় বর্ষের ছাত্রদের নাকি ট্যুরটা হয়নি তাই তারাও যাবে,, এটা শুনে আরোহি যেতে চায় না, কিন্তু মিতু আর নিশার জোরাজুরিতে রাজী হয়,, এটা দেখে আহান খুশি হয় এবং আরোহির অভিমান কিভাবে ভাঙাবে সেটার প্লানিং করা শুরু করে দেয়,,,,,,
