সিজন 1 অধ্যায় 27 ভ্রমণ রোমান্টিক কমেডি #ঈর্ষা #খুনসুটি আরোহীআহানতৌহিদমিতুনিশা

পাহাড়ের বাঁকে ভয় ও ঈর্ষার আগুন

•8 মিনিট পড়া•1,211 শব্দ
পাহাড়ের বাঁকে ভয় ও ঈর্ষার আগুন

আরোহিদের কলেজ থেকে ২৯ ডিসেম্বর পিকনিকে নিয়ে যাওয়ার হবে৷৷ এটা ৫ দিনের ট্যুর,, বান্দরবান স্পটেই নিউ ইয়ার উদযাপন করা হবে ,,, আর ওদের সাথে ৩জন টিচার যাবে,,২ জানুয়ারি ওরা ব্যাক করবে।

২৯ তারিখ,

আজ আরোহির কলেজের সবাই বান্দরবানের জন্য রওনা দিবে,, রওনা দেওয়ার সময় হলো ভোর ৪ টা, সবাই তো জানেনই আরোহি ঘুমাতে কত্ত পছন্দ করে,, তাই আজকে আরোহি সবাই থেকে লেট,, অলরেডি ভোর ৪ টা ১০ বাজে,, সবাই চলে এসেছে,, কিন্তু আরোহি নেই,, আহান তো প্রচন্ড টেনশনে পড়ে গেছে আরোহি আসবে কি না ভেবে ভেবে,,

অবশেষে ৪ঃ১৮ মিনিটে আরোহি পৌঁছালো,, লেট আসার জন্য স্যারদের কাছে অনেক বকা খেলো,,,, বাসে উঠে দেখে একমাত্র আহানের পাশের সীটটাই ফাঁকা,, দেখেই আরোহির রাগ উঠে যায়,, তাই আরোহি গিয়ে নিহাকে বলে আহানের পাশে বসতে,, নিহা তো সেদিন থাপ্পড় খেয়ে আর আহানের সামনে যাওয়ার সাহস করেনি,, তারপরও আরোহির কথা শুনে যেই আহানের পাশে বসার জন্য উঠতে যায় আহান নিহার দিকে রাগী চোখে তাকিয়ে আছে দেখেই ভয়ে নিজের সীটে বসে পড়ে,, পরে আরোহিকে বাধ্য হয়ে আহানের পাশেই বসতে হয়,, কারণ আরোহি আবার সীট নিয়ে সমস্যা করলে স্যার ওকেই বকবে,, অলরেডি স্যাররা ওকে একবার বকেছে,, তাই বাধ্য হয়ে আহানের পাশে বসে পড়লো,, আরোহি জানালার পাশে বসলো।

বাস নিজের মতো চলতে শুরু করে,, সবাই অনেক আনন্দ করছে ৷৷ আরোহিরও ইচ্ছা করছে সবার সাথে মজা করতে কিন্তু আহানের পাশে বসেছে তাই ওদের সাথে তাল দিতেও পারছে না,, তাই রেগে মিতু, নিশা আর আহানকে কয়েক দফা গালি দিয়ে দিলো, অরনিরই বোন,, তাহলে ভাবুন গালিগুলো কেমন হবে,,

আরোহিকে চুপ থাকতে দেখে আহান বুঝতে পারলো আহানের পাশে ও কমফোর্টেবল না,, তাই উঠে সামনের সীটের সাথে হেলান দিয়ে অন্যদের সাথে দাঁড়ায়,,

আরোহিঃ ( একটা নিশ্চিন্তের প্রশ্বাস ছেড়ে,, উফফ এতক্ষনে একটু দম নিতে পারলাম,, আহান পাশে বসার কারনে আমার হার্ট বিট যতো জোরে লাফাচ্ছিলো,, তার উপর ওর উপর রাগ দেখাতে গিয়ে আমার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে গেছে)

আহানঃ ( আরোহিকে দেখে মনে মনে) কি ব্যাপার ম্যাডাম এতো দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন কেন? তার মানে আমি পাশে থাকায় নিশ্চয় কিছু হয় ? তার মানে আমার জন্য এখনও ফিল করে

সবাই একসাথে হাত তালি দিয়ে গান করছে ,,, আরোহিও এনজয় করছে,, আহান ফ্রেন্ডদের সাথে দাড়ানোর কারনে আরোহি দুই সীটে একাই রাজ করছে,, সবার সাথে এনজয় করতে আরোহি সরে এসে আহানের সীটে বসে,,

সবাই এক এক করে গান করছে, এবার আহানকে গান গাইতে বলা হলো,, আহান ওর গিটার নিয়ে এসেছিলো,, আহান গীটার নিয়ে একটা সীটের হ্যান্ডেলে বসলো,, গীটার টুং..টাং বাজাতে বাজাতে জাস্টিন বিবারের ‘বয়ফ্রেন্ড ‘ গান ধরলো,, আরোহির প্রিয় সিংগার জাস্টিন বিবার,, এটা অরনি আহানকে আগেই বলে দিয়েছিলো ,, আহান গান শুরু করতেই সবাই একসাথে র‍্যাপ করে শুরু করলো,

If I was your boyfriend, I’d never let you go

I can take you places you ain’t never been before

Baby, take a chance or you’ll never ever know

I got money in my hands that I’d really like to blow

Swag, swag, swag, on you

Chillin’ by the fire while we eatin’ fondue

I don’t know about me but I know about you

So say hello to falsetto in three, two, swag

এবার আহান আরোহির দিকে তাকিয়ে একা গাইতে লাগলো,

I’d like to be everything you want

Hey girl, let me talk to you

If I was your boyfriend, never let you go

Keep you on my arm girl, you’d never be alone

I can be a gentleman, anything you want

If I was your boyfriend, I’d never let you go, I’d never let you go

আরোহি এই প্রথম আহানকে সামনাসামনি গাইতে শুনছে তার উপর ওর ফেভারিট গান,, এক দিকে যেমন আরোহির ভালো লাগছে অন্যদিকে ওর গা শিউরে উঠছে,, লোমগুলো সোজা হয়ে গেছে,, যেন লোম কূপ থেকে ছুটে যাবে,, একদিকে আহানের গান অন্যদিকে গানের লিরিক্স গুলো,, আরোহি পুরো জমে গেছে,, গান শেষ হতেই সবার হাত তালিতে আরোহির ধ্যান ভাঙ্গে,, আরোহি আহানের দিকে এভাবে চেয়ে ছিলো ভাবতেই নিজেই লজ্জা পায়,, আহানের সীট থেকে সরে এসে নিজের সীটে বসে,, আহানও নিজের সীটে ফিরে আসে,,

আরোহি মুখটা জানালার দিকে ঘুরিয়ে রেখেছে,, নিজের কাজে বড্ড লজ্জা পেয়েছে ও,, আহান একটা ছোট্ট মুচকি হাসি দিয়ে কানে ইয়ার ফোন গুজে সীটে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করে গান শুনতে থাকে,, বাসে প্রায় সবাই নিজের নিজের সীটে বসে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য উপভোগ করছে

একটুপর আরোহি হুট করে আহানের হাত জাপটে ধরে,,,

আহানঃ (হঠাৎ করে আমার হাত ধরায় চমকে উঠি,, চোখ খুলে দেখি আরোহি আমার হাত ধরে চোখ বন্ধ করে আছে) আরোহি,৷ আর ইউ অলরাইট?

আরোহিঃ (অনেক কষ্টে বললো) আ..আমার উচুতে ভ..ভহ লাগে

আহানঃ আরে এটা তো সামান্য উচু,, এক্ষুনি আবার নিচুতে নেমে যাবো

আরোহিঃ উচুতে উঠতে না উচু থেকে নামতে ভয় লাগে,, মনে হয় এই বুঝি পড়ে যাবো,, প্লিজ,, কিছু মনে কোরো না, তোমার হাতটা একটু ধরে রাখি

আহানঃ ওকে (আমি তো চাই তুমি সারাজীবন আমার হাতটা ধরে রাখো)

আরোহি সারা রাস্তা আহানের হাত ধরে রেখেছে,, যখন উঁচু রাস্তায় উঠে তখন মজা পায় কিন্তু যখনই উঁচু থেকে নিচে নামতে যায় তখনই আরোহি আহানের হাতটা শক্ত করে ধরে ফেলে,,, এভাবে হঠাৎ আরোহি আহানের কাধে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ে,, আর আহান মুগ্ধ হয়ে আরোহিকে দেখতে থাকে আর আফসোস করে,, ” যদি আরোহিকে আগেই সব বলে দিতো তাহলে আজ আরোহি ওর থেকে দূরে থাকতো না ”

অবশেষে সবাই বান্দরবান পৌঁছায়,, আহান আরোহিকে ঘুম থেকে উঠায়,, আরোহি ঘুম থেকে উঠে নিজেকে আহানের হাত জড়িয়ে থাকতে আবিষ্কার করে,, লজ্জায় তো বেচারির মাটির নিচে ঢুকে যেতে ইচ্ছা করছে,, আহানের দিকে অনেক কষ্টে মুখ তুলে তাকাতেই আহান আরোহির দিকে একটা টেডি স্মাইল দিয়ে বাস থেকে নেমে যায়,, এরপর আরোহিও বাস থেকে নেমে যায়,,,

আহানঃ [বাস থেকে নেমে একটুপর পেছনে ঘুরে দেখি আরোহি একটা ছেলের সাথে বেশ হেসে কথা বলছে, ভালো করে খেয়াল করে দেখি এটা সেদিনের ছেলেটা যে আরোহিকে কলেজ গেট থেকে গাড়িতে করে নিয়ে গেছিলো, আরোহিকে অন্য ছেলের সাথে কথা বলতে দেখে আমার রাগ উঠে যায়, কিন্তু আরোহিকে এদিকে নিয়ে আসবো কিভাবে? ] ??

আরোহিঃ [বাস থেকে নামতেই তৌহিদের সাথে দেখা হয়,, তৌহিদ আমার কাজিন,, আমার থেকে জাস্ট ৭মাসের বড়,, কিন্তু ক্লাসের দিক থেকে ১ বছরের বড়। আমরা অনেক ভালো ফ্রেন্ডও হয়,, আহানকে ঠিক করতে তৌহিদ আমাকে সাহায্য করবে বলেছে তাই এখানে এসেছে,,]

তৌহিদঃ আরোহি,, তোর ক্রাশ তো আমাকে তোর সাথে দেখে রেগে গেছে,, মনে হয় জেলাস

আরোহিঃ (হেসে হেসে) ভালো হয়েছে,, এটা তো কেবল শুরু, ,, ওকে নিহার সাথে দেখে আমার কেমন লাগতো ওর ও বোঝা উচিত

তৌহিদঃ হুম,, সব ঠিক আছে কিন্তু তুই এমন ব্যাক্কলের মতো অযথা হাসছিস কেন? ?

আরোহিঃ আরে ছাগলের ঠ্যাং,, আমাকে তোর সাথে হাসতে দেখলে ও আরও বেশি জেলাস ফিল করবে,, আরও হাস আরও হাস ??

তৌহিদঃ ?? তা তো ঠিক আছে হাসছি, কিন্তু অযথা এতো হাসতে গিয়ে আমার মাড়ি ব্যাথা করছে ? এখন তো হাসির সাথে কাদতেও ইচ্ছা করছে ????

আরোহিঃ হুহ তুই কোনো কাজেরই না,, থাক তুই (বলেই চলে যেতে নিলে তৌহিদ আমার হাত ধরে নিলো)

তৌহিদঃ আরে বোন দাঁড়া, সরি আর হবে না, যা বলবি তাই শুনবো

আহানঃ ( হঠাৎ ছেলেটা আরোহির হাত ধরলো, দেখেই আমার মেজাজটা চরম পর্যায়ে চলে গেলো,, তার আর থাকতে না পেরে ওদের দিকে এগোতে লাগলাম)

আরোহিঃ এই এখানে বোন বলে ডাকিস না,, আহান শুনে ফেলতে পারে,, জানু বলে ডাকবি

তৌহিদঃ ওকে জানু

আহান শুধু “ওকে জানু” কথাটা শুনলো ,, শুনে তো আহান মনে হয় এখনই তৌহিদকে মেরে ফেলবে ?,, হাত শক্ত করে মুট বেধে আরোহির পাশে দাঁড়িয়ে বললো,

আহানঃ আরোহি স্যার আমাদের ডাকছে

আরোহিঃ [আমাকে আর তৌহিদ কে দেখিয়ে] আমাদের?? ?

আহানঃ [ দাঁতে দাঁত চেপে ] আমাদের মানে আমরা স্টুডেন্টদের

আরোহিঃ ওহ,, (তৌহিদকে) ওকে জানু, বাই উম্মম্মাহ (ফ্লাইং কিস দিয়ে)

তৌহিদঃ ??? বা..বাই

আহানঃ ? ??[ আরোহির হাত ধরে টেনে নিয়ে আসলাম, এসব আর সহ্য হচ্ছে না]

তৌহিদঃ ( বোন আজ তো তুই শেষ ? তোর ৪০শা তে দাওয়াত দিস)

অধ্যায় 27 সমাপ্ত

আপনি এই অধ্যায়টি পড়া শেষ করেছেন। পরবর্তী পর্বে যান অথবা আপনার প্রতিক্রিয়া জানান!

মন্তব্যসমূহ

0

আলোচনায় যোগ দিন

মতামত জানাতে এবং পাঠকদের সাথে আলোচনায় অংশ নিতে লগইন করুন।

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

প্রথম মন্তব্যটি করে আলোচনা শুরু করুন!

রকমারি কালেকশন

বইপ্রেমীদের জন্য রকমারি বেস্টসেলার

অধ্যায় পাঠ শেষে সংগ্রহ করুন আপনার পছন্দের ঘরানার সেরা বই ও বিশেষ ডিসকাউন্ট

পাহাড়ের বাঁকে ভয় ও ঈর্ষার আগুন

অনুচ্ছেদ 1 / 1 • চলছে
বিজ্ঞাপন