আহান আরোহির এক হাত ধরে আরোহিকে টানতে টানতে নিয়ে যাচ্ছে,, আর আরোহি নিজেকে ছাড়াতে আহানের হাতে চিমটি দিচ্ছে আরও কত কী! কিন্তু আরোহি শত চেষ্টা করেও নিজেকে ছাড়াতে পারছে না, সবই বৃথা। আহানের ঐ বিশাল স্টিল মত বডির সাথে আরোহি নিজের পাটকাঠির মতো শরীরের শক্তি দিয়ে থামাতে পারছে না,, অবশেষে আরোহি সামনে একটা গাছ দেখতে পেয়ে এক হাত দিয়ে গাছটাকে আকড়ে ধরলো,, এবার আহান একটু থেমে পেছনে তাকিয়ে দেখে, আরোহি সব শক্তি দিয়ে গাছকে আকড়ে ধরে আছে,,
আহানঃ (রেগে) ?? গাছ ধরে আছো কেন?
আরোহিঃ (একটা শান্তির নিশ্বাস ফেলে) ? নয়তো কি করব??? সেইইইই কখন থেকে হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করছি কিন্তু আপনার সাথে পারাই মুশকিল
[আহান এবার রেগে আরোহির হাত চেপে ধরে ওকে নিজের দিকে টান দিয়ে আরোহির হাত পেছনে ঘুরিয়ে নিজের সাথে চেপে ধরলো]
আহানঃ কেন? আমি তোমার হাত ধরলে সমস্যা কিসের? ঐ ছেলেটা যখন ধরলো তখন সমস্যা হয়নি তো! ?
[এটা শুনে আরোহি রেগে আহানকে ধাক্কা দিলো,, যদিও আরোহির ধাক্কায় আহানকে সেভাবে নড়াতে পারেনি]
আরোহিঃ তুমি নিহার সাথে ঘেষে ঘুরাঘুরি করার সময় কোনো সমস্যা যখন ছিলো না, তাহলে আমিও তৌহিদের সাথে হাত ধরাধরি করলে সমস্যা হওয়ার কথা না মি.আহান ?
(আহান আরোহির হাত চেপে ধরার কারনে ব্যাথায় আরোহির চোখটা ছলছল করে উঠলো,, কিন্তু আরোহির আপ্রাণ চেষ্টায় চোখের পানি গড়িয়ে নিচে পড়লো না)
আহানঃ (এবার আরোহির হাতটা সামনে এনে হাতে একটা ? দিয়ে আরোহির হাতটা নিজের দুই হাত দিয়ে আলতো করে ধরলো,, হয়তো আরোহির চোখ দেখে ওর কষ্ট টা বুঝতে পেরেছে) দেখো আরোহি নিহার সাথে আমার কখনও কোনো রকম সম্পর্ক ছিলো না,, আমি তো তোমাকে জেলাস করতে নাটক করেছিলাম,, আম সরি প্লিজ
আরোহিঃ তাহলে এখন প্রায়শ্চিত্ত করেন
আহানঃ (খুশি হয়ে) তার মানে তুমি আমায় ক্ষমা করে দিয়েছো!!? ?
আরোহিঃ (হতবম্ভ হয়ে) ? আমি সেটা কখন বললাম!! আজিব তো হুহ সরুন আমার সামনে থেকে [বলেই এবার আহানকে জোরে ধাক্কা দিয়ে হোটেলের দিকে চলে আসলাম ] (মনে মনে) আহান তোমাকে এতো তাড়াতাড়ি মাফ করবো না,, তুমি আমায় অনেক কষ্ট দিয়েছো,, আমিও তোমাকে তেমন কষ্ট দিবো তবে বেশি না, কারণ আমি জানি প্রিয় মানুষের এমন কাজে কেমন কষ্ট হয়, তোমায় শুধু একটু করে ফিল করাবো আমি কেমন কষ্ট পেয়েছি ]
আহানঃ (আরোহির চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থেকে মনে মনে) জানি অভিমান করেছো, এই অভিমান আমি ভাঙাবো,, কিন্তু প্লিজ সবার মতো আমাকে ছেড়ে চলে যেও না
___________________
হোটেলে,
হোটেলে প্রতিটা রুমে ৪ জন করে থাকবে,, আরোহিদের রুমে রয়েছে, আরোহি, মিতু, নিশা আর মাহি,,, এই মাহি মেয়েটা আহানের উপর অনেক আগে থেকেই ক্রাশড,, এমনকি অর্ণবের উপরেও, আহানের আগে মাহি গুণে গুণে আরো ২৬ জনের উপর ক্রাশ খেয়েছিলো ??? মাহির ইচ্ছা সে বিয়ের আগে এ বিষয়ে হাফ সেঞ্চুরি করবে ??
আরোহিদের পাশের রুমেই আহান আর অর্ণব সাথে ওদের আরও ২ জন ফ্রেন্ড উঠছে,,, আপাতত আরোহি সেটা জানে না (জানার বিষয় গুলোই জানতে পারে না এটা জানা তো দূরের কথা ??)
রাতে,
আরোহিঃ ( অনেক্ষণ ধরে দেখছি মাহি বারান্দায় দাঁড়িয়ে পাশের বারান্দায় উঁকি দিয়ে কিছু দেখার চেষ্টা করছে, কেন যেন বিষয়টা দেখতে ইচ্ছা করলো তাই মাহির কাছে গেলাম) মাহি!
মাহিঃ (চমকে) ? ওহ তুমি! ?
আরোহিঃ কি করছিলে?
মাহিঃ আমার ক্রাশদের দেখার চেষ্টা করছিলাম
আরোহিঃ ক্রাশদের!!
মাহিঃ (লজ্জা পেয়ে) ?? হুম আসলে ওরা বেস্ট ফ্রেন্ড তো,, আমার একটাকে পেলেই চলবে
আরোহিঃ (মজা করে) বাব্বাহ!! মেয়ে তো দেখ লজ্জা পাচ্ছে,, তা আমাকেও দেখাও কে সে
মাহিঃ আরে তোমাকে দেখালে তুমিও ক্রাশ খাবে,, তখন যদি তোমার পছন্দ হয়! মেইবি চেনো তুমি
আরোহিঃ [(মনে মনে) আমার তো একজনকেই পছন্দ] আরে ডোন্ট ওয়ারি, তোমার ক্রাশ তোমারই থাকবে,, তুমি যেন তোমার ক্রাশকে পাও আমি দুয়া করে দিবো
মাহিঃ owww so sweet of you
[? আরোহি ভুলেও এই দোয়া করিস না পাগলি ??]
আরোহিঃ তা কে সে?
মাহিঃ ঐ যে দেখো, বারান্দায় এসেছে
আরোহিঃ [পাশের বারান্দায় তাকাতেই আরোহি অবাক ?] আ..আহ..হান
মাহিঃ বলেছিলাম না তুমিও নিশ্চয় চেনো
আহানঃ (আমি ফোনে কথা বলতে বলতে বারান্দায় এসে দেখি আরোহি আর সাথে একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে, আমি আরোহিকে দেখে হাত নাড়িয়ে হাই ?দিলাম ]
মাহিঃ (খুশি হয়ে ফিসফিস করে) আরোহি মনে হয় তোমার দোয়া কবুল হয়েছে,, দেখো আহান আমাকে হা..হাই দিলো ??
এদিকে আরোহি তো রেগে বোম্ব
আরোহিঃ ??? (আহানের দিকে রাগী চোখে তাকিয়ে মনে মনে) বেটা বজ্জাত, চোর বিড়াল, বানরের মালিক, বদের হাড্ডি আমার সামনে অন্য মেয়ের সাথে ফ্লার্ট করা!! ? তুই জীবনে ঠিক হবি না ? ( মাহির দিকে তাকিয়ে আরোহি তো রেগে মনে হয় এবার ফেটেই যাবে) লুচ্চু মাইয়া, আমার হবু বর উপর নজর দেয় ? আর আমি কি না কি সব দোয়া করবো বলছি!! ?? লুচু মাইয়া তোর বর জুটবে না হুহ ( মাহির হাত ধরে টেনে ঘরে নিয়ে এলাম)
মাহিঃ কি ব্যাপার এভাবে নিয়ে এলে কেন?
আরোহিঃ ???? তুমি আহানের সামনে যাবা না
মাহিঃ কেন? ??
আরোহিঃ ওর বিয়ে ঠিক হয়েছে
মাহিঃ তো? ওর তো আর বিয়ে হয়নি এখনও, আর তুমি কিভাবে জানো?
আরোহিঃ আ..আমার পরিচিতার সাথে বিয়ে
মাহিঃ ওহ
আরোহিঃ তোমার না আর একটা ক্রাশ আছে,, ওকে নিয়ে এগিয়ে যাও
মাহিঃ ওহ অর্ণব
আরোহিঃ (অবাক হয়ে) অ..অর্ণব!! ?
মাহিঃ হুম, ডোন্ট টেল মি যে এবার অর্ণবেরও বিয়ে ঠিক হয়েছে
আরোহিঃ আ..আসলে..
মাহিঃ যাই হোক অর্ণব বা আহান আমার তো একজনকে হলেই চলবে,, আহানের বিয়ে হলেও সমস্যা নাই। আচ্ছা আমার ঘুম পেয়েছে,, বাই (বলেই মাহি কিছু না শুনে ঘুমাতে চলে গেলো)
আরোহিঃ ??? (মনে মনে) লুচু মাইয়া আমার আহান রে কাইরা নিতে চায় ?? OMG!! এই মেয়ে তো অর্ণবের পিছনেও পরেছে,, অরনিকে বলা লাগবে এ বিষয়ে,,,
___________________
আরোহির মনটা খারাপ হয়ে আছে,, তাই উপরে হোটেলের বড় বারান্দায় গিয়ে দাঁড়িয়ে রাতের ঠান্ডা বাতায় উপভোগ করছে,, বারান্দাটা ১২ তলায়,, এটা অনেক বড় বারান্দা,, সবার জন্য,, হোটেলের একটা সাইড জুড়ে বারান্দাটা,,,
আরোহিঃ (হঠাৎ কাধে কারও ছোয়া পেয়ে ভয়ে চিৎকার দিয়ে উঠতে নিলেই কেউ একজন মুখ চেওএ ধরলো)
কেউ একজন ফিসফিসিয়ে বললো,
– ভয় পেয়ো না, আমিই তো (বলেই মুখ থেকে হাত সরাতেই)
আরোহিঃ আহান!
আহানঃ হুম,, আর কে হবে?
আরোহিঃ হুহ, এখানে কি করছেন? যান মাহির কাছে গিয়ে ওর সাথে ফ্লার্ট করেন
আহানঃ মাহি কে?
আরোহিঃ কে মানে? একটু আগেই যাকে হাই দিলেন আমার সামনে ?
আহানঃ আরেএ আমি তো তোমাকে হাই দিয়েছি
আরোহিঃ মিথ্যা কথা
আহানঃ মিথ্যা কেন বলবো?
আরোহিঃ (ফুপিয়ে ফুপিয়ে) কা..কারণ আমি ভুল করে প্রে ক..করে ফেলেছি মাহি যেন ওর ক্রাশকে পায়, আর ওর ক্রাশ আপনি, আর আমার ভুল প্রেয়ার কবুল হয়ে গেছে আমি বুঝতে পারছি ???? ( বলেই কাদতে লাগলো)
আহানঃ (ওর কথা শুনে এতো হাসি পাচ্ছে কিন্তু অনেক কষ্টে হাসি ধরে রেখে ওর চোখে পানি মুছে বললাম) আরে পাগলি আমি তো তোমারই আছি,, আর তোমারই থাকবো,, ভয় পেয় না,, আর আমি অনলি আরোহির।
আরোহিঃ ??
লজ্জায় আরোহির গাল দুটো লাল হয়ে গেছে,, এই চাদের আলো সাথে এই লজ্জা মাখা চেহারা দেখে আহান মুগ্ধ হয়ে আরোহির দিকে তাকিয়ে আছে,, হঠাৎ আরোহির কি যেন মনে হতেই আহানকে ধাক্কা দিয়ে দৌড় দিয়ে চলে গেলো,,
আহানঃ (একটা নিশ্বাস ফেলে পকেটে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে চাদের দিকে তাকিয়ে) আরোহি আমি জানি তুমি আমায় অনেক ভালোবাস কিন্তু আমি ভুলে তোমায় অনেক কষ্ট দিয়েছি তাই তুমি আমায় এতো তাড়াতাড়ি ক্ষমা করতে পারছো না,, ইটস ওকে,, আ’ম ওয়েট ফর দ্যা ডে হোয়েন ইউ উইল ফরগিভ মি
