সিজন 1 অধ্যায় 30 রোমান্টিক ভ্রমণ #আবেগঘন মুহূর্ত #প্রকৃতি আরোহীআহানমাহিমিতুনিশা

পাহাড়চূড়ায় সূর্যাস্ত ও ক্যাম্পফায়ার

•6 মিনিট পড়া•811 শব্দ
পাহাড়চূড়ায় সূর্যাস্ত ও ক্যাম্পফায়ার

আহান আরোহিকে নিয়ে পাহাড়ে উঠে যাচ্ছে আর সবাই অবাক হয়ে ওদের দিকে তাকিয়ে আছে…. আরোহি ভাবতেই পারেনি আহান এমন কিছু করবে, আরোহির অবশ্য ভালোই লাগছে, তবুও বললো,

আরোহিঃ আহান, নামাও আমাকে,, নামাও [বলেই হাত পা ছোড়াছুড়ি করতে লাগলো ]

আহান কিছু বলছেই না, আরোহিকে কোলে করে নিয়ে হেটে উপরে উঠেই যাচ্ছে,

আরোহির ইচ্ছা করছে আহানের বুকে মাথা রেখে ওর গলাটা জাড়িয়ে ধরে থাকতে,, আরোহি এতোক্ষন আহানের শার্টের কাধটা খামচে ধরে ছিলো, কিন্তু এখন আহানের গলাটা জড়িয়ে ধরলো, আর হাত পা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করলো, এতক্ষনে মনে হয় আহানের রাগটা কমলো,, আরোহির স্বাভাবিক হয়ে গলা জড়িয়ে ধরায় মনে মনে একটু মুচকি হাসলো

.

এখন প্রায় ৫ টা বাজে,,আহান এখনও আরোহিকে কোলে নিয়ে পাহাড়ে উঠছে,,সবাই ক্লান্ত হয়ে বসে পড়েছে আর অবাক চোখে ওদের দেখছে, আর অর্ণব তো অগণিত বার আল্লাহকে ধন্যবাদ দিলো অরনি এখানে না থাকায়,, কারণ অরনি থাকলে ওকে নিয়ে অর্ণবকে পাহাড়ে উঠতে হতো ???

পাহাড়ে উঠার সময় কিছু উঁচু নিচু জায়গায় আহানের একটু কষ্ট হলেও আরোহিকে নামায়নি, আরোহির এতে খুব খারাপ লাগছে,, আরোহি অনেকবার ওকে নামিয়ে দিতে বলেছে কিন্তু আহান ওকে নামায়নি, এবার আরোহি রেগে বললো,

আরোহিঃ আচ্ছা আপনি আমাকে নামাবেন নাকি আমি জোর করে নেমে যাবো?আর বোবা হয়ে গেলেন না কি আমাকে কোলে নিয়ে? কথা বলেন না কেন?

আহান এতোক্ষনে কথা বললো,

আহানঃ এতোক্ষন তো কতো চেষ্টা করলে জোর করে নামার, কোনো লাভ হয়েছে?

আরোহিঃ (মুখ ফুলিয়ে) হুহ,, আপনার ওমন হাতির মতো শক্তির সাথে আমি পারবো না যখন জানেন তখন দয়া করে এই বাচ্চার উপর মেহেরবানি করে স্বেচ্ছায় নামিয়ে দেন

আহানঃ উহু,, তোমার যে ওজন এতে সারাদিন কোলে রাখতেও সমস্যা নেই,ভাবছি তোমাকে ফার্স্ট প্রাইজ টা পাইয়ে দিবো, তোমাকে নামালে তুমি ২ মিনিটে টায়ার্ড হয়ে যাবে, আর একটুপরই সুর্যাস্ত হবে

আরোহিঃ (অবাক হয়ে) আপনি আমাকে প্রাইজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য এতো কষ্ট করছেন? ?

আহানঃ (একটু ভেবে) উউউমম ??? না, আসলে তোমাকে খুশি দেখতে, তোমার মুখের হাসি দেখতে ???

আরোহিঃ (আমি অবাক হয়ে চেয়ে আছি ওর দিকে,, ও আমায় এতো ভালোবাসে! এই মুহুর্তে ওকে জাপটে ধরে গালে একটা কিস করে দিতে ইচ্ছা করছে ? কিন্তু কেন যেন পারছিনা,, মনে হয় এর আগে কখনও করিনি তাই লজ্জা, সংকোচ হচ্ছে)

অবশেষে আহান আরোহিকে নিয়ে একদম পাহাড়ের উপরে যে বাধানো সমান জায়গাটা আছে ওখানে পৌছে গেছে, আহানকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে সে ভীষন টায়ার্ড,, আসলে নরমালি আরোহিকে কোলে নিয়ে এতো টায়ার্ড হতো না, কিন্তু পাহাড়ে উঠা বড্ড কষ্টকর

এখনই সূর্যাস্ত হবে, অলরেডি ভাস্কর মামা গিরিমন্ডলীর পেছনে চলে যাওয়া শুরু করেছেন, মানে সূয্যিমামা পাহাড়ের পেছনে নেমে যাচ্ছেন,, চারিদিকে লাল হলুদ আভা ছড়িয়ে পড়েছে, সবুজের উপর লাল হলুদ আভা!! যেন কোনো শিল্পী তার নিপুন হাতে শিল্পকর্ম করেছেন,, আহান আরোহিকে কোলে নিয়েই মুগ্ধ চোখে সূর্যাস্ত দেখছে,, সুর্যাস্ত দেখার সময় আরোহি আহানের গলা জড়িয়ে আহানের কাধে মাথা রাখলো, এই মূহুর্তে আরোহির মনে হচ্ছে সে যেন স্বর্গে আছে।

যখন সূর্যাস্ত প্রায় শেষ আহান আরোহিকে নামিয়ে দিলো৷ দুজন পাশাপাশি পাহাড়ের উপর বসে পড়লো, আহান তার পা দুটো মেলে দিলো, আহান একবার সূর্যাস্ত দেখছে একবার আরোহির হাস্যোজ্জ্বল মুখটা দেখছে, আহানের মনে হচ্ছে সময়টা যদি এখানেই থেমে যেত!? ইশশ! আহানের কাছে এই মূহুর্তে পায়ের ব্যাথাটা কিছুই না

অনেক্ষনপর সবাই এলো, আর সবার শেষে টিচাররা পৌছালো ? (লেজি টিচারস) এসেই টিচারগুলো সবাইকে জিজ্ঞেস করতে লাগলো প্রথম কে হয়েছে, কারণ তারা এতোটাই স্লো ছিলো যে কে আগে এসেছে / আহান আরোহিকে কোলে নিয়েছে এগুলোর কিছুই দেখেইনি ??

অবশেষে আহান আর আরোহিকে প্রথম নির্বাচন করলো আর আরোহিদের পুরষ্কার স্বরূপ জাফর ইকবালের ‘শুকনো ফুল রঙিন ফুল’ বইটা দেওয়া হলো,, বইটা পেয়ে তো আরোহি অনেক খুশি,, আর আহান প্রাণ ভরে আরোহির খুশিতে ভরা চেহারা দেখছে, যদিও পুরষ্কারটা টা দুজনের কিন্তু আহান সেটা আরোহিকে দিয়ে দিলো

রাতে আর পাহাড় থেকে না নেমে ওরা উপরেই ক্যাম্প বানালো,,, ক্যাম্পের মাঝখানে আগুন জ্বালিয়ে সবাই চারপাশে গোল করে বসলো,, আরোহি একপাশে মিতু, নিশা এবং আরও অনেকের সাথে বসে হাত নাড়িয়ে নাড়িয়ে কথা বলছে৷ আর আহান আগুনের আলোয় তার চঞ্চল আরোহিকে দেখতে ব্যাস্ত,, আর অর্ণব ফোনের অরনির সাথে চ্যাটিং করে,, হঠাৎ মাহি গিয়ে আহানের পাশে বসলো, এতোক্ষন আরোহি আহানকে খেয়াল না করলেও কেন যেন এই মূহুর্তেই আহানের দিকে তাকালো, আর মাহিকে ওর পাশে বসতে দেখে রাগে ফুলছে।

মাহিঃ হাই আহান

আহানঃ হাই

মাহিঃ একা একা বসে আছো যে

আহানঃ একা কোথায়?সবাই তো আছে [ আহান আরোহির দিকে তাকিয়েই কথা বলছে]

মাহিঃ হুম৷ জানো……[অতঃপর মাহি ননস্টপ বকবক শুরু করে কিন্তু আহান কিছুই বলছে না, সে তো তার আরোহিকে দেখতে ব্যাস্ত ]

মাহিঃ [আহানকে আরোহির দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে ] আহান, তোমার আর আরোহির মধ্যে কি কিছু চলছে?

আহানঃ (মুচকি হেসে) অনেক কিছু

মাহিঃ ???

আর আরোহি তো আহানকে মাহির সাথে হেসে হেসে কথা বলতে দেখে রাগে শেষ ???,, একটুপর মাহি আহানের পাশে থেকে উঠে আসতেই আরোহি মাহির কাছে গেলো,

আরোহিঃ এই তোমাদের কি কথা হচ্ছিলো?

মাহিঃ আমাদের আর কোথায়? আমি একা বক বক করছিলাম

আরোহিঃ তা কি কথা বলছিলে?

মাহিঃ তোমাদের মধ্যে যে কিছু চলছে আমাকে বলোনি কেন?

আরোহিঃ মা..মানে?

মাহিঃ মানে কিছু না, (কাদোকাদো হয়ে) আহান আমাকে বলেছে তোমাদের মধ্যে কিছু চলছে,, আহান তোমার

আরোহিঃ (স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে) যাক এবার আহান আমার হাত থেকে বাচঁলো

মাহিঃ কি?

আরোহিঃ না কিছু না, আসি বাই, ভালো থেকো ?

মাহিঃ ??

আরোহি সাইডে আসতেই আরোহির ফোনে একটা কল আসলো…

অধ্যায় 30 সমাপ্ত

আপনি এই অধ্যায়টি পড়া শেষ করেছেন। পরবর্তী পর্বে যান অথবা আপনার প্রতিক্রিয়া জানান!

মন্তব্যসমূহ

0

আলোচনায় যোগ দিন

মতামত জানাতে এবং পাঠকদের সাথে আলোচনায় অংশ নিতে লগইন করুন।

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

প্রথম মন্তব্যটি করে আলোচনা শুরু করুন!

রকমারি কালেকশন

বইপ্রেমীদের জন্য রকমারি বেস্টসেলার

অধ্যায় পাঠ শেষে সংগ্রহ করুন আপনার পছন্দের ঘরানার সেরা বই ও বিশেষ ডিসকাউন্ট

পাহাড়চূড়ায় সূর্যাস্ত ও ক্যাম্পফায়ার

অনুচ্ছেদ 1 / 1 • চলছে
বিজ্ঞাপন