সিজন 1 অধ্যায় 32 রোমান্টিক আবেগঘন মুহূর্ত #পুনর্মিলন #গান আরোহীআহানতৌহিদমাহি

গিটারের সুর ও ভুল ভাঙার পূর্ণতা

•7 মিনিট পড়া•1,041 শব্দ
গিটারের সুর ও ভুল ভাঙার পূর্ণতা

আহানের গান শেষে আরও তিনজন গান গাইলো (তাদের গান শুনে আমাদের কি? ?) তাদের গান শেষে মিতু আরোহিকে গান গাইতে বলে,, এখানে শুধু মিতু আর নিশাই জানে আরোহি গান গাইতে পারে। মিতু একবার রিকুয়েস্ট করাতে আরোহি রাজী হয়ে যায় এতে মিতু আর নিশা বেশ অবাক হয়। কারণ এর আগে আরোহির পায়ে পড়েও ওকে গান গাওয়ানো যায় নি! কিন্তু আজকে একবারেই রাজী!! স্ট্রেঞ্জ ?

আরোহি একটা গীটার নিয়ে বাজাতে শুরু করলো। গীটারে হালকা সুর তুলে গান গাওয়া শুরু করলো আরোহি,

চোখ মেলে দেখো দূরের আকাশে ,

অভিমানী মেঘ ভাবছে একা।

কান পেতে শোনো গাছের পাতারা ,

মুখ লুকিয়ে কাঁদছে একা।

ঘুম ভাঙা কোনো পথের বাঁকে ,

শেষ বিকেলের সূর্যটা ডাকে।

তোমার আমার এই প্রিয় শহরে ,

ভালোবাসারা কোথায় হারিয়ে ,

ফেলে আসা সব স্মৃতির আড়ালে,

গল্পগুলো আমাদের খুব চেনা।

..

আরোহি পুরো গানটা আহানের চোখে চোখ রেখে গাইলো। সবাই আরোহির গান শুনে অবাক। আরোহি তার মিষ্টি কণ্ঠে গান গাচ্ছে তাও আবার গীটার বাজিয়ে। আর আহান! সে তো সবচেয়ে বেশি অবাক । কারণ এই গানটা শুনেই আরোহি আহানের জন্য প্রথম ফিল করেছিলো। তার উপর আহানের দিকে তাকিয়ে চোখে চোখ রেখে গাইছে। আহান অবাক না হয়ে পারছে না। আহান তো আজ প্রচন্ড খুশি কারণ সে আজ বুঝে গেছে আরোহি তাকে ক্ষমা করে দিয়েছে। আহান মনে মনে পণ করলো আর কখনও আরোহিকে কষ্ট দিবে না।

আরোহি গান শেষ করে আহানের দিকে তাকিয়েই একটা মিষ্টি হাসি দিলো। আগুনের লাল আভা যেন আরোহির হাসিটাকে আরও সুন্দর করে দিলো,,,,

গান শেষে সবাই সবার তাবুতে চলে গেলো, কারণ অনেক রাত হয়ে গেছে। কিন্তু আহান আর আরোহি একে অপরের সাথে কথা বলার জন্য উতলা হয়ে উঠেছে। কি আর করার দুজনেই অনেক কষ্টে নিজ নিজ তাবুতে রাতটা পার করলো

____________________

পরের দিন সকালে,

সবাই পাহাড় থেকে নেমে এলো,, পাহাড়ের নিচে বাজারে সবাই ব্রেকফাস্ট করছিলো। আহান ব্রেকফাস্ট শেষ করে দাঁড়িয়ে ফ্রেন্ডদের সাথে গল্প করছিলো আর আরোহিকে দেখছিলো। আর আরোহি মিতুর সাথে বসে খাচ্ছিলো আর আহানকে দেখছিলো । হঠাৎ মাহি আহানের কাছে গিয়ে কোনো কিছু নিয়ে কথা বলতে শুরু করলো, আর সেটা দেখে আরোহি তো রেগে একেবারে শেষ। আর অর্ণব? সে তো মাহিকে দেখলেই গুম হয়ে যাচ্ছে অরনির ভয়ে ?

আরোহিঃ (মনে মনে) নাহ এই মাহিটার জন্য অন্য একটা ক্রাশ খুজতে হবে, নয়তো এ আহানের পিছু ছাড়বেই না আর আহানকে ছাড়লে আবার অর্ণবের পিছু নিবে৷

আরোহি এদিক ওদিক তাকিয়ে মাহির জন্য ক্রাশ খুজতে লাগলো। হঠাৎ দেখলো মোটামুটি হ্যান্ডসাম একটা ছেলে একা দাঁড়িয়ে কফি খাচ্ছে। ছেলেটা আরোহিদের সাথেই এসেছে কিন্তু আরোহি তাকে সেভাবে চিনে না।

আরোহিঃ (মনে মনে) এর উপরে মাহিকে ক্রাশ করাই দিলে আমার আহান সেফ ?

আরোহি মাহিকে ডাকলো,,,

মাহিঃ হ্যাঁ বলো

আরোহিঃ আমার পেছনে ডানে যে ছেলেটা দাঁড়িয়ে আছে দেখ কি জোস না?? ?

মাহিঃ (ছেলেটাকে দেখেই) ?? হ্যাঁ, একে তো মনে হয় বাসে দেখেছিলাম, অন্নেক জোস দেখতে

আরোহিঃ (মাখন লাগিয়ে) তোমার সাথে না হেব্বি মানাবে,, আমার তো আহান আছে তাই একে তুমিই রাখো। আমার আহান না থাকলে আমি তো একেই পটাতাম

মাহিঃ ??? (মাহি এক ধ্যানে তাকিয়ে আছে ছেলেটার দিকে, ছেলেটা মাহিকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে সরে গেল )

আরোহিঃ (মাহিকে ধাক্কা দিয়ে) এই কোথায় হারিয়ে গেলে?

মাহিঃ এবার তো মনে হয় আমি শুধু ক্রাশড না, একেবারে প্রেমে পড়ে গেছি

আরোহিঃ তো যাও,, পটিয়ে নাও

মাহিঃ (লজ্জা পেয়ে) হিহি

মাহি লজ্জা পেয়ে আরোহির কাছে থেকে সরে গেলো, আর মাহিকে আহানের থেকে দূরে সরাতে পেরে খুশিতে খেয়ালই করেনি ওর আশেপাশে কেউ আছে। আরোহি পাশে ফিরতেই দেখে আহান দাঁড়িয়ে,, শুধু দাঁড়িয়ে নয় রেগে দাঁড়িয়ে আছে,

আরোহিঃ কি হলো, লাল বানরের মতো ফেস বানায় রাখছো কেন?

আহানঃ কি যেন বলছিলে মাহিকে?

আরোহিঃ কি বললাম?

আহানঃ (আরোহির মতো হাত নাড়িয়ে নাড়িয়ে অভিনয় করে বললো) ওহ মাহি দেখ না ছেলেটা কি জোস! ? আহান আমার না হলে আমি একেই পটাতাম আরও কতো কি!???

আরোহিঃ (আহানের কথা আর ভঙ্গি দেখে এতো হাসি পাচ্ছে তবুও হাসি আটকে বললাম) ঠিকই তো, ছেলেটা বেশ হ্যান্ডসাম

আহানঃ কিহহহহ ??

আরোহিঃ (ভয় পেয়ে) ন..না আমি তো আসলে

আহানঃ আসলে কি? ?

আরোহিঃ (ঠোট ফুলিয়ে) ? মাহি আপনার সাথে এতো কথা বলছিলো তাই রেগে ওকে অন্য ছেলের উপর ক্রাশ করে দিছি,, এই জন্যই তো ঐ ছেলেটাকে দেখতে হলো আমার ?

আহানঃ ??? এভাবে কেউ ক্রাশ হয় নাকি?

আরোহিঃ (জোর দিয়ে) হয় তো ?

আহানঃ ওহ আমি তো অবাক হয়ে গেছিলাম ভাবছিলাম তুমি কীভাবে!

আরোহিঃ আমি কি?

আহানঃ আ..(আহান বলার আগেই পেছন থেকে)

তৌহিদঃ (চিল্লিয়ে) হাই জানু

আহানঃ ???

আরোহিঃ ? (হাসার চেষ্টা করব) হি হি হা..ই

তৌহিদঃ কি করছিস?

আরোহিঃ ( আহানকে আর একটু রাগাতে ইচ্ছা করছিলো কিন্তু আহানের রাগ দেখে আর ঝামেলা বাড়ালাম না। আহান আর তৌহিদের মাঝে দাঁড়িয়ে) সো মিস্টার আহান মিট মাই কাজিন তৌহিদ এন্ড তৌহিদ বানর মিট মাই হ্যান্ডসাম উডবি হাসবেন্ড আহান মাহমুদ ?

আহান তো অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে, আর তৌহিদ বুঝলো অবশেষে ওদের মধ্যে সব সলভ হয়েছে ☺

তৌহিদঃ (হাত বাড়িয়ে দিয়ে) হাই, নাইস টু মিট ইউ

আহানঃ (হ্যান্ডসেক করে) হাই তৌহিদ, নাইস টু মিট ইউ টু

তৌহিদঃ আচ্ছা তোমরা টাইম স্পেন্ড করো, আমি বরং আসি (আরোহির দিকে তাকিয়ে) মনে হয় তোর জন্য একটা ভাবী পেয়েছি

আরোহিঃ ওহ আমার পিঠ পিছে আজকাল কতো কিছু হচ্ছে আমি জানতেও পারছি না ??

তৌহিদঃ কারণ তুই একটা ছাগল

আরোহিঃ কিহহহ! ? আর তুই হুতুম পেঁচা

তৌহিদ আর ঝগড়া না বাড়িয়ে আহানকে ইশারায় বেস্ট ওফ লাক বলে হেসে চলে গেলো

আহানঃ আমাকে এভাবে বোকা বানালে?

আরোহিঃ তুমিও তো আমাকে বোকা বানিয়েছিলে।

আহানঃ হুম, কিন্তু আমি তোমায় জাস্ট একবার শক দিয়েছিলাম কিন্তু তুমি তো আমায় দুইবার শক খাওয়ালে।

আরোহিঃ শক খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো ?

আহানঃ তাই না, পাজি

আহান আরোহিকে কাছে টেনে নিলো, আরোহির আঙুলের মধ্যে নিজের আঙুল ঢুকিয়ে বললো,, আই লাভ ইউ আরোহি, আই লাভ ইউ আ লট। প্লিজ কখনো আমার উপর রাগ হলে মারবে, বকবে কিন্তু প্লিজ ইগনোর করো না। খুব কষ্ট হয়।

আরোহিঃ (মৃদ্যু হেসে) আপনাকেও সেম উপদেশ দিলাম

আহান আরোহির কপালে কপাল লাগালো। একটুপর ছেড়ে,, আচ্ছা তাহলে আমাদের বিয়েটা কেন ভাঙলে?(আহান)

আরোহিঃ ভাঙিনি তো

আহানঃ (কপাল কুচকে) ? তাহলে ছোট মা যে আমাকে বললো

আরোহিঃ ওটা তো আমিই বলতে বলেছিলাম ??

আহানঃ ? আমার হার্ট এটাক হয়ে যেতো

আরোহিঃ আমি ছিলাম তো হসপিটালে নিয়ে যেতে

আহানঃ কিহহ!! তবে রে (বলেই আহান আরোহির পেছনে দৌড়াতে শুরু করলো আর আরোহি আহানের সামনে)

একটুপর আহান থেমে,, আচ্ছা চলো৷ সবাই মনে হয় আমাদের ছেড়ে চলেই গেলো৷ (আহান)

আরোহিঃ হুম চলো

দুইজন একসাথে সবার কাছে এলো, যেন একটু আগে কিছুই হয়নি,, সবাই মিলে একসাথে অন্যান্য জয়গায় অনেক ঘুরলো। আহান আরোহি একসাথে অনেক মজা করছিলো। আহান তো বার বার মুগ্ধ হয়ে আরোহির হাসি দেখছে,, আর আরোহির হাসি দেখতেই বার বার আরোহিকে মুগ্ধ করছে। কিন্তু নিহা আরোহিকে আহানের সাথে দেখে জ্বলে পুড়ে যাচ্ছে।

অধ্যায় 32 সমাপ্ত

আপনি এই অধ্যায়টি পড়া শেষ করেছেন। পরবর্তী পর্বে যান অথবা আপনার প্রতিক্রিয়া জানান!

মন্তব্যসমূহ

0

আলোচনায় যোগ দিন

মতামত জানাতে এবং পাঠকদের সাথে আলোচনায় অংশ নিতে লগইন করুন।

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

প্রথম মন্তব্যটি করে আলোচনা শুরু করুন!

রকমারি কালেকশন

বইপ্রেমীদের জন্য রকমারি বেস্টসেলার

অধ্যায় পাঠ শেষে সংগ্রহ করুন আপনার পছন্দের ঘরানার সেরা বই ও বিশেষ ডিসকাউন্ট

গিটারের সুর ও ভুল ভাঙার পূর্ণতা

অনুচ্ছেদ 1 / 1 • চলছে
বিজ্ঞাপন