সন্ধ্যা হয়ে গেছে,, আহান আরোহির হাতটা অতি আদরে ধরে আছে,, সবাই মিলে পাহাড়ের উপর দাঁড়িয়ে মুগ্ধ হয়ে সূর্যাস্ত দেখছে। কিন্তু সবার থেকে আহান আর আরোহির ফিলিংসটা আলাদা। কারণ তারা তাদের ভালোবাসার মানুষের হাত ধরে একসাথে সূর্যাস্ত দেখছে।
সূর্যাস্ত দেখা শেষে সবাই মিলে হোটেলে যাওয়ার জন্য রওনা হয়। কাছেই হোটেল তাই সবাই হেটে যাবে। আহান অর্ণবের সাথে কিছু কথা ছিলো তাই সে আরোহিকে মিতুদের কাছে যেতে বলে অর্ণবের কাছে যায়। আরোহি আশেপাশে দেখতে দেখতে মিতুদের দিকে এগোচ্ছিলো। হঠাৎ করে নিহা সামনে চলে আসায় আরোহি চমকে উঠে। আর একটু হলেই পড়ে যেত
নিহাঃ ভয় পেয়েছো? ?
আরোহিঃ (স্বাভাবিক হয়ে) তোমাকে ভয় কেন পাবো? তুমি কি নিজেকে জিন, ভুত অথবা পেত্নি ভাবছো নাকি?
নিহাঃ ?? হোয়াট!
আরোহিঃ হুম, বাই দ্যা ওয়ে তুমি আমায় ভয় পাবে, আমার সামনে আসতে লজ্জা পাবে কারণ তুমি আমায় এতোদিন আহানের বিষয়ে মিথ্যা বলেছো
নিহাঃ Shut up, I love Ahan so you just stay away from him
আরোহিঃ And we love each other . So you better stay away from us. আর আহানের সাথে আমার বিয়েও ঠিক হয়ে গেছে, সো একটু লজ্জা করো অন্যের উডবি-র দিকে নজর দিতে
নিহাঃ ইউ ? (বলে আরোহিকে হালকা করে ধাক্কা দিতেই আরোহি পাহাড় থেকে পড়ে যেতে নেয় আর কেউ একজন আরোহির হাত ধরে টান দেয়। আসলে আমি আরোহিকে ফেলতে চাইনি। আমি খেয়াল করিনি আরোহি পাহাড়ের কিনারায়)
আহানঃ (আমি অর্ণবের সাথে কথা বলতে আসছিলাম আর তখনই অরনি আরোহির ফোনে কল দেয়। আরোহির ফোনটা আমার কাছে ছিলো, সেটা ফেরত দিতে আসছিলাম তখনই দেখি আরোহি একদম পাহাড়ের কিনারায় দাঁড়িয়ে আছে, আর একটু পেছালেই পড়ে যাবে। এই মেয়েটা এতো কেয়ার লেস কেন?? ?আমি দৌড়ে ওর কাছে যাই। আর নিহা ওকে ধাক্কা দিবে তখনই ওকে টান দিয়ে নিজের কাছে নিয়ে আসি)
আরোহিঃ ( আমি এখনো কাউকে আকড়ে ধরে আছি। যাকে আকড়ে ধরে আছি তার হার্ট বিট শুনেই বুঝলাম এটা আহান, আর তখনি
ঠাসসসসসসসসসস
আরোহিঃ (আহান আমাকে থাপ্পড় মারলো)
আহানঃ (আমি রেগে আরোহিকে টেনে একটা চড় মারলাম) এই মেয়ে নিজের খেয়াল রাখতে পারিস না? পাহাড়ের কিনারায় কে দাড়াতে বলেছে তোকে? আর জায়গা ছিলো না দাড়ানোর?? আমার কাছে থেকে চলে যেতে সবার ভালো লাগে তাই না? এরপর থেকে নিজের খেয়াল রাখবি নয়তো তোকে নিজ হাতে মারবো আর আমিও মরবো ???
আরোহিঃ (আহানের রাগ দেখে আমি একেবারে চুপ হয়ে গেছি। ঠিকই তো। ও যদি না আসতো তাহলে?)
নিহাঃ সরি আসলে আহান…
ঠাসসসসসসসসসসসসসস
এবার আহান রেগে নিহাকে আর একটা চড় মারলো।
আহানঃ ফারদার যদি আমার ভালোবাসার মানুষের ক্ষতি করা তো দূরে থাক যদি ওর দিকে তাকিয়েছিস, তাহলে তোকে খুন করে ফেলবো
নিহাঃ (এতো কান্না পাচ্ছে, দৌড়ে চলে গেলাম)
আরোহিঃ (আহানের রাগ দেখে আমি কিছুই বলতে পারছিনা। আসলে নিহা আমাকে ধাক্কা দেওয়ার আগেই আমি পড়ে যাচ্ছিলাম। ওকে মারাটা ঠিক হয়নি)
__________________
কিছুক্ষণ পর সবাই এক ধাবাতে খাবার খাওয়ার জন্য যায়। তখন,
আহানঃ (আরোহির কাছে গিয়ে) সরি
আরোহিঃ (অবাক হয়ে) এ্যা?
আহানঃ খুব লেগেছে?
আরোহিঃ (নিজের কান কে বিশ্বাস করতে পারছিনা) হ্যা?
আহানঃ (রেগে) কি তখন থেকে ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চার মতো ভ্যা ভ্যা করছো
আরোহিঃ (হেসে দিলাম) ? আপনি আবার অরনির মতো কথা বলা কিভাবে শিখলেন?
আহানঃ (আরোহির হাসিতে মনে হয় কোনো জাদু আছে। ওর হাসি দেখে মনটা ভালো হয়ে গেলো) অরনির বোনের কাছে থেকে
আরোহিঃ ইশশশ বললেই হলো? আমি একদম গালি দেই না
আহানঃ হ্যা খালি স্বাভাবিক মানুষদের পশুপাখি বানিয়ে দাও
আরোহিঃ ??
আহানঃ খুব জোরে লেগেছে? ?
আরোহিঃ আপনার শক্তি আছে বলতে হবে
আহানঃ (ওর গালে একটা কিস করে দিলাম)
আরোহিঃ ??? এটা কি হল
আহানঃ আর কোনো মেডিসিন আমার জানা নেই। ???
আরোহিঃ (আমি লজ্জায় একেবারে শেষ) ??
আহানঃ এই পাটকাঠি এতো লজ্জা পাচ্ছো কেন?
আরোহিঃ ? নায়িকারা রেগে গেলে হিরোরা গোলাপী, লাল পরী আরো করো সুন্দর নামে ডাকে। আর তুমি আমাকে পাটকাঠি ডাকো ??
আহানঃ ? হিহি তাইলে বেশি বেশি খাবা। আর পাটকাঠি বলে ডাকবো না
আরোহিঃ wah বেশি খাওয়ানোর কি ট্রিক??
আহানঃ ??
ঠিক সেই সময় নিহা ওদিক দিয়ে যাচ্ছিলো,, নিহা জুস নিয়ে আরোহির পাশে দিয়ে যাচ্ছিলো, এমন সময় আহান অর্ণবকে ইশারা করতেই অর্ণব নিহার পায়ের সাথে পা বাধিয়ে দেয়। আর নিহার হাতের জুস আরোহির স্যান্ডেলে পড়ে।
আহানঃ ঠিক মতো দেখে চলতে পারো না নাকি?
নিহাঃ আমার দোষ নেই। কেউ আমার পায়ে…
আহানঃ (নিহাকে বলতে না দিয়েই) তুমি ইচ্ছা করেই করেছো। আরোহি সেদিন ক্যান্টিনে তোমার পায়ে ভুল করে জুস ফেলেছিলো সেইজন্য তুমি রিভাঞ্জ নিচ্ছো তাই না
নিহাঃ মোটেই না, আমি ইচ্ছা করে করিনি। ভুল করে পড়ে গেছে
আহানঃ তা ভুল যখন করেছোই, প্রায়শ্চিত্ত করো
নিহাঃ মানে?
আহানঃ হয় আরোহিকে সরি বলো আর নয়তো ওর পায়ে যেখানে জুস পড়েছে, সে জায়গাটা মুছে দাও
নিহাঃ হোয়াট ?? ইমপসেবল
আহানঃ যা বললাম তাড়াতাড়ি করো
আশেপাশে সব স্টুডেন্ট জমা হয়ে গেছে,,
আরোহিঃ আহান বাদ দাও, ভুল করে ফেলেছে ও
আহানঃ তুমি চুপ করো আরোহি (ধমক দিয়ে)
আরোহি ভয় পেয়ে চুপ হয়ে যায়,,,, আরোহি ভয় পেয়েছে দেখে আরোহিকে স্বাভাবিক করতে,
আহানঃ আরে আরোহি জানো হুমায়ুন আহমেদ কি বলেছেন?? তিনি বলেছেন, “কেউ তোমাকে যন্ত্রণা দিলে তুমিও তাকে যন্ত্রণা দিবে,,, তোমাকে একটা চড় দিলে তুমিও একটা চড় লাগাবে,, যদি তোমার বাঁ পায়ে লাথি বসায়, তুমি বসাবে ডান পায়ে। ফ্রি স্টাইল পদ্ধতি” ?
আহানের কথা শুনে আশেপাশে সবাই হাসতে শুরু করেছে।
আরোহি মুচকি হাসলো
আহানঃ ওহ সরি আরোহি তুমি তো সায়েন্সের স্টুডেন্ট। তাহলে নিউটনের তৃতীয় সূত্রটা মনে করো। (নিহার দিকে তাকিয়ে) তো নিহা কাজে লেগে পড়ো
নিহা রেগে আরোহিকে সরি বলে চলে গেলো ?
নিহা চলে যেতেই অর্ণব আহানের কাছে গিয়ে বললো,
অর্ণবঃ ? হুমায়ুন আহমেদের হাস্যকর সুন্দর বাণীটা নিয়ে যেভাবে বললি, আমার তো হাসতে হাসতে পেট ব্যাথা করছে ??
আহানঃ ??
