সিজন 1 অধ্যায় 35 রোমান্টিক আবেগঘন মুহূর্ত #সারপ্রাইজ #প্রেম নিবেদন আরোহীআহাননিহাঅর্ণবমাহি

নববর্ষের প্রহর ও ছাদের সারপ্রাইজ

•6 মিনিট পড়া•878 শব্দ
নববর্ষের প্রহর ও ছাদের সারপ্রাইজ

আরোহিঃ এরপর যদি তোকে আহানের আশেপাশে দেখেছি তাহলে ওখানের তোর চুল গুলো টেনে টেনে ছিড়ে ফেলবো ??? শাকচুন্নি কোথাকার

ঠাসসসসসসসসসসসসসস

(কথা শেষ হতে দেরী কিন্তু আরোহির থাপ্পড় মারতে দেরী নেই,, কথাটা বলার সাথে সাথেই নিহার গালে আরও দুইটা থাপ্পড় বসিয়ে দিলো আরোহি)

আরোহির দ্বিতীয় বারে থাপ্পড় দুইটা খেয়ে নিহার ঠোঁট কেটে রক্ত বের হচ্ছে,, গালগুলো লাল হয়ে গেছে। কিন্তু এখনো আরোহির রাগ কমেনি। যেন নিহাকে নিজ হাতে খুন করতে পারলে তবেই ওর শান্তি হবে (কিন্তু নায়িকা খুন করে জেলে গেলে আহানের কী হবে??)

আর আহান আরোহির রাগ দেখে মিটমিট করে হাসছে। নিহার উপর রাগ থাকলেও আরোহি ওকে কতোটা ভালোবাসে সেটা দেখেই আহানের ভালো লাগছে৷

নিহা আরোহির রাগ দেখে ভয়ে একেবারে চুপ হয়ে গেছে। আহান দূর্বল ছিলো তবুও উঠে আরোহির কাছে গেলো।

আহানঃ (নিহার দিকে তাকিয়ে) আমাকে কেন মারতে চেয়েছিলে? ইনসাল্ট করেছিলাম বলে?

নিহাঃ —— ( কোনো কথাই বলতে পারছে না)

আহানঃ (চিল্লিয়ে) বলো

নিহাঃ আমি তোমাকে ভালোবেসেছিলাম কিন্তু তুমি!

আহানঃ এখনো ঐ মুখে ভালোবাসার নাম নিচ্ছো? যে ভালোবাসা একদিনের অপমানেই খুনি বানিয়ে দেয়, সেটা কি আদৌ ভালোবাসা? আর তোমাকে তো একদিনের দোষে অপমান করিনি,, তুমি দিনের পর দিন আরোহির সাথে অন্যায় করেছো। সে অন্যায়ের তুলনায় তোমার শাস্তি অনেক কম

নিহাঃ (আহানের দিকে তাকিয়ে মিনতি করে) আহান.. আহান দেখো আমি তো আগে তোমায় ভালোবেসেছি বলো। ও আমাদের মাঝখানে এসেছে, তুমি কেন ওর সাপোর্ট নিচ্ছো?

আহানঃ (নিহার তর্ক করা দেখে আহান প্রচন্ড ক্ষেপে গেছে তবুও নিজেকে কন্ট্রোল করে বললো) নিহা তাহলে তোমার ভালোবাসা প্রুভ করতে আমাকে কয়েকটা এন্সার দাও

নিহাঃ (খুশি হয়ে) হ্যাঁ বলো

আরোহি অবাক হয়ে আহানের দিকে তাকিয়ে আছে

আহানঃ তো নিহা তুমি আমাকে কেন ভালোবাসো?

নিহাঃ এটা কেমন প্রশ্ন? তোমাকে ভালো না বাসার তো কোনো কারন নেই। তুমি ভালো ঘরের ছেলে, তুমি দেখতেও অনেক হ্যান্ডসাম, অনেক রিচ আর তুমি অনেক popular, আর কি চায়।

আহানঃ (তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে) তোমার কাছে এমন এন্সারই আশা করেছিলাম,,, তুমি আসলে জানোই না ভালোবাসা কি? আমার নাম, যশ, খ্যাতি এগুলোর জন্য আমাকে ভালোবাসো। জানো আরোহি কেন আমাকে ভালোবাসে? কারণ সে আমার প্রতি তার ভালোবাসা ফিল করতে পারে আর আমিও। কিন্তু তোমার ক্ষেত্রে আমি কখনো তেমন টান অনুভব করিনি আর আমি সিওর তুমিও আমার প্রতি কিছুই ফিল করো না। ভালোবাসার মানে ত্যাগ ; ধবংস করে দেওয়া নয়। ভালোবাসা মানে ভালোবাসার মানুষের জীবনটা সুন্দর করে গড়ে দেওয়া, ছিনিয়ে নেওয়া নয়। আর তুমি যা করেছো সব হলো হিংসা। তোমায় তো পুলিশে দেওয়া উচিত।

নিহাঃ না আহান প্লিজ আমাকে মাফ করে দাও। আমার ভুল হয়ে গেছে। আম সরি প্লিজ,, আরোহি প্লিজ

আহানঃ নিহা খবরদার আরোহির মন গলানোর চেষ্টা করবে না। তোমাকে পুলিশে দেওয়াই উচিত

ততক্ষনে সব শিক্ষকরা চলে এসেছিলো। পুলিশে দিলে কলেজের নাম খারাপ হতে পারে তাই সব টিচাররা আহান আর আরোহিকে অনেক বোঝায়। অতঃপর আহান আরোহি নিহাকে এবারের মতো ছেড়ে দেয়। কক্সবাজারে সবার জন্য হোটেল বুক করে ছিলো। সবাই যে যার মতো রুমে চলে যায়।

___________________________

আজ ৩১ ছিলো। সন্ধ্যা হয়ে গেছে। সমুদ্রের পাশেই একটা বাজার আছে ঝিনুকের অলংকার ও অন্যান্য সামগ্রী বিক্রি করে। সেখানে যাওয়ার জন্য সবাই মিলে রওনা দিয়েছে।

আরোহি পড়েছে লেগিন্সের সাথে হোয়াইট কালারের লং টপ আর গলায় শাটিনের স্কার্ফ। আর আহান একটা থ্রি কোয়াটার প্যান্টের সাথে হোয়াইট কালারের একটা টি-শার্ট পড়েছে। আহান তো ৫.১১ ফিট আর আরোহি জাস্ট ৫.৩। ভাবুন দুজনকে একসাথে কতো কিউট কাপল লাগছে ?? [সব আমার ক্রিয়েটিভিটি ?]

আরোহি আহানের হাত ধরে রেখেছে। সমুদ্রের শীতল বাতাস দুজনকে ছুয়ে দিচ্ছে। সামনেই বাজারটা দেখতে পায়। ছোট দোকান গুলোর বেশির ভাগ দোকানে নিয়ন বাতি জ্বলছে। বড্ড সুন্দর লাগছে দোকানগুলোকে। সবাই মিলে যে যার মতো দোকানে ঘুরছে। আর আরোহি ঝিনুকের মালা দেখছে, কিন্তু বুঝতে পারছে না কোনটা নিবে। হঠাৎ আহান একটা মালা এনে আরোহির গলায় পরিয়ে দিলো। মালাটা বেশ সুন্দর। আর তার থেকে বড় কথা মালাটায় আরোহিকে মানিয়েছে। মালাটা বেশ লম্বা। আর নিচে একটা পেন্ডেন্টের মতো শামুক ডিজাইন করা। টপসের সাথে মালাটা মানিয়েছে। আরোহি তো ভীষণ খুশি। আর অর্ণব অরনির জন্য একটা মালা আর শামুকের একটা বড় খোলশ নিলো। তারপর সবাই একসাথে হোটেলে ফিরে এলো।

রাত ১১ঃ৫২

আরোহির ফোনে হঠাৎ আহানের ম্যাসেজ এলো,,

“রুমের বাহিরে বের হউ”

কিন্তু এদিকে মিতু, নিশা, মাহি সবাই জেগে আছে।। কিভাবে কি করবে বুঝতে পারছে না। হঠাৎ মাহি বললো,

মাহিঃ [আরোহিকে অস্থির দেখে] আরোহি সব ঠিক আছে?

আরোহিঃ হ..হ্যাঁ

সাথে সাথেই ফোনে আরো দুইওটা ম্যাসেজ এলো

মাহিঃ ওওওওও আহান ইজ মিসিং ইউ ?

আরোহিঃ (লজ্জা পেয়ে) ন..না আ..সলে

মাহিঃ থাক আর কিছু বলতে হবে না। যেতে পারো আমরা কিছু দেখবো না ?

নিহা & মিতুঃ যা যা

আরোহি ধীরে ধীরে রুমের দরজা খুলে বের হচ্ছিলো তখনই,

মাহিঃ (একটু জোরে) আমরা কিন্তু কিছু দেখছি নায়ায়া

আরোহি লজ্জা পেয়ে তাড়াতাড়ি রুম থেকে বের হলো। আরোহি বের হতেই আহান আরোহির চোখ কালো কাপড় দিয়ে বাধলো।।। আরোহি কিছু বলার আগেই,,

আহানঃ জাস্ট ৫ মিনিট। আমার সাথে এসো,,,,,,

আহান আরোহিকে ছাদে নিয়ে এলো। ছাদে নিয়ে এসেই আরোহির চোখ খুলে দিয়েই আরোহির কাছে থেকে সরে এলো।।।

আরোহি চোখ খুলে আশেপাশে অন্ধকার দেখছে,, শুধু চাদের আলোয় হালকা হালকা বোঝা যাচ্ছে। হঠাৎ লাইট জ্বলে উঠলো,,,

আরোহি তাকিয়ে দেখলো ছাদের মাঝখানে সুন্দর করে গোলাপের পাপড়ি দিয়ে সাজানো। আর সাথে অনেক গুলো বেলুন। সেই ফুল আর বেলুনের মাঝে আহান দাঁড়িয়ে আছে,,

আহানঃ Happy New Year My Lady,,, সব দুঃখ কষ্ট ভুলে আমার জীবন আসবে কি প্লিজ? চলো না সব নতুন করে সাজাই। প্রমিস করছি আর কোনো ভুল নয়,, আর কোনো লুকোচুরি নয়। I Love You Arohi

আরোহি দৌড়ে গিয়ে আহানের গলা জড়িয়ে ধরলো। আহান লম্বা তাই আহানও আরোহিকে জড়িয়ে উপরে তুলে নিজের সমান করলো। আরোহি বললো,

I Love You Too Ahan,, সব ভুলে, নিহা মাহি সায়র সবাইকে ভুলে এই বছরটা শুরু করবো। একসাথে ☺ Happy New Year…

অধ্যায় 35 সমাপ্ত

আপনি এই অধ্যায়টি পড়া শেষ করেছেন। পরবর্তী পর্বে যান অথবা আপনার প্রতিক্রিয়া জানান!

মন্তব্যসমূহ

0

আলোচনায় যোগ দিন

মতামত জানাতে এবং পাঠকদের সাথে আলোচনায় অংশ নিতে লগইন করুন।

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

প্রথম মন্তব্যটি করে আলোচনা শুরু করুন!

রকমারি কালেকশন

বইপ্রেমীদের জন্য রকমারি বেস্টসেলার

অধ্যায় পাঠ শেষে সংগ্রহ করুন আপনার পছন্দের ঘরানার সেরা বই ও বিশেষ ডিসকাউন্ট

নববর্ষের প্রহর ও ছাদের সারপ্রাইজ

অনুচ্ছেদ 1 / 1 • চলছে
বিজ্ঞাপন