আহান আরোহি একে অপরকে জড়িয়ে ধরে আছে আর হোটেলটা সমুদ্রের পাশে হওয়ায় সমুদ্রের শীতল বাতাস ওদের গা ছুয়ে দিচ্ছে।
আহানঃ [ আরোহিকে নিচে নামিয়ে দিয়ে ] তুমি একটু ওয়েট করো আমি আসছি
বলেই আহান কোথায় যেন গেলো। আর আরোহি ফুল আর বেলুন গুলোর মাঝে দাঁড়িয়ে আছে।
একটুপরেই গিটারের টুং টাং আওয়াজ শোনা গেলো,, আর সাথে আহানের কন্ঠ। আহান গাইছে,,
hooo hooo hoooo oooo
yeh raatein ab nehi dharakti din bhi,,
Saasein nehi lete ab to,, aa jao mere soneyaaa,
baatein reh gayi adhuri mere,,
labon pe zaroori aake,,
sun jao mere soneyaaaaa
TERE BIN NAHI LAAGE JIYA,, TERE BIN
AB TO AAJA PIYA
TERE BIN NAHI LAAGE JIYAAA
এইটুকু গেয়ে আহান গান বন্ধ করলো। আরোহি গানটা শুনে লাল লাল হয়ে গেছে,, গানের লিরিক্স গুলো একেবারে আহানের মনের কথা বলেছে।
আরোহিঃ থামলে কেন? গানটা গাও প্লিজ
[আহানের কন্ঠে যে কোনো গানই ভালোলাগে তার উপর এত ভালোবেসে গান করছে,, ভালো না লেগে উপায় আছে??]
আহান আবার শুরু করলো,, এবার আরোহির চারপাশে ঘুরে ঘুরে গান গাচ্ছে আহান,,
Pehle jaise mousaam bhi aate nehi hay
baarishon mai pehle jaisi baatein nehi hai (2)
sookhe sookhe aaLfaz khaLi,, khaLi mere haathon ki,, Lakirein bulawen soneyaaa
[আরোহির পাছনে দাঁড়িয়ে আরোহির কানের কাছে গিয়ে বললো,]
TERE BIN NAHI LAAGE JIYA,, TERE BIN
AB TO AAJA PIYA
TERE BINNN NAHI LAAGE JIYAA tere bin
tere binnn tere bin
আরোহির কানের কাছে এসে বলায় আরোহি যেন একেবারে জমে গেছে,, তারউপর এই ঠান্ডা বাতাস।
আহানঃ এই পাটকাঠি এইভাবে কাপছো কেন? ?
পাটকাঠি শুনে আরোহি রেগে আহানের দিকে তাকালো ??
আহানঃ যাক এবার তোমার একটু গরম লাগবে ?
আরোহিঃ [কি আজব ঠাণ্ডায় কাপছি বলে রাগিয়ে ঠান্ডা কমাচ্ছে ???? একটু জড়িয়েও ধরে না, আর আমি কি শুধু ঠান্ডায় কাপছি নাকি?? এতো ভালোবেসে গান শোনালো, আমি এতেই জমে গেছি ?]
আহান নিজের জ্যাকেটটা খুলে আরোহির গায়ে দিয়ে দিলো।
আহানঃ (কানের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে) এবার আর ঠান্ডা লাগবে না,, আচ্ছা চলো নিচে যায়
কথাটা বলেই আহান পকেটে হাত ঢুকিয়ে এক পা বাড়াতেই আরোহি আহানের বাহু এক হাত দিয়ে ধরে ফেলে।
আহানঃ (পেছনে ঘুরে) কি হলো? আরও থাকবা? ঠান্ডা লাগবে তো
আরোহিঃ আমি তোমায় সেদিন ঐ কথা গুলো বলেছিলাম তাই তুমি আমার কাছে আসো না তাই না
আহানঃ (আরোহির কাছে গিয়ে ওর গালে হাত দিয়ে) ধুর বোকা মেয়ে,, একটু আগেই তো জড়িয়ে ধরেছিলাম। সেদিনের ঐ কথাগুলোই আমি মোটেও রাগ করিনি। সেদিনের কথা গুলো প্রমাণ করেছে তুমি কতোটা স্বচ্ছ, কতোটা পবিত্র।
আরোহিঃ তাহলে আমাকে আর একবার জড়িয়ে ধরো প্লিজ
আহানঃ [আরোহির হাত ধরে ছাদের রেলিং-এর কাছে নিয়ে গিয়ে ওকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরলাম]
বাতাসে আরোহির চুল উড়ছে,, আর আহান আরোহিকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে আছে। এই ঠান্ডায় আহানের উষ্ণতা আরোহির ভালোই লাগছে
আরোহি আহানের বুকের সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। দুজনে ছাদ থেকে সমুদ্র বিলাস করছে,, সাথে জোছনা বিলাসও। আরোহি যখন ছাদে এসেছিলো তখন খুব একটা জোছনা না থাকলেও এখন কেন যেন জোছনার আলোটা বৃদ্ধি পেয়েছে মনে হচ্ছে। আহান ইশারা করতেই ছাদের লাইট গুলোর আলো কমে গেলো কিন্তু তা আরোহির চোখে পড়েনি। আরোহি নিজের হাত পেটের উপরে রেখেছে আর আহান আরোহির হাতের উপর হাত রেখেছে। আরোহি আহানের বুকে মাথা রেখেছে আর আহান আরোহির মাথার উপর থুতনি দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
রাতের জোছনার আলোয় সমুদ্রের পানি গুলো মুক্তোর মতো জ্বলছে। শান্ত পরিবেশ। আরোহি বরাবরই জোছনা বিলাস করতে পছন্দ করতো। কিন্তু আজ মনে হচ্ছে এর আগে এতো ভালো জোছনা বিলাস আর কখনও করেনি।
আরোহিঃ আহান
আহানঃ হু
আরোহিঃ (আহানকে ছাড়িয়ে আহানের সামনে হাটু গেড়ে বসে)
আহানঃ আরে কি করছো?
আরোহিঃ (হাটু গেড়ে বসে নিজের হাতের একটা আংটি খুলে আহানের সামনে ধরে) প্রতিবার তুমি আমায় প্রোপোজ করেছো কিন্তু আমি গাধীর মতো প্রতিবার রিজেক্ট করেছি। প্লিজ সেজন্য রাগ করে থেকো না। আজ আমি তোমায় প্রোপোজ করতে চাই। আহান !! তুমি কি আমার সাথে প্রতিরাতে জোছনা বিলাস করবে? সমুদ্র হোক, নদী হোক, খাল হোক, বিল হোক বা পুকুর হোক আমায় সাথে নিয়ে পানিতে পা ভেজাবে? যদি মাঝরাতে হঠাৎ বৃষ্টিতে ভিজতে ইচ্ছে করে, আমার হাতে হাত রেখে ভিজবে? যদি কোনো ভুল করে ফেলি তাহলে বকা দিয়ে ভুল গুলো শুধরে দিবে? আমার ভুল গুলো, আমার দুষ্টুমি গুলো, আমার তোমাকে ইরিটেট করা এগুলো সব সহ্য করে আমার বার বার ক্ষমা করে দিবে কি? আমার যখন খারাপ লাগবে দিবে কি তোমার বুকে একটু জায়গা? হবে কি আমার? সারাজীবনের জন্য? এভাবে বাসবে কি আমায় ভালো? যদি আমার এই সব শর্তগুলো কবুল হয় তাহলে তাহলে আমার এই আংটিটা গ্রহন করো প্লিজ। জানি আংটিটা ছোট কিন্তু তবুও
আহানঃ (খুশি হয়ে আরোহিকে উঠিয়ে) ☺☺ তোমার সব ইচ্ছা গুলো কবুল করলাম। সব সময় আমার পাশে থেকো প্লিজ কখনও ছেড়ে যেও না
আরোহিঃ কখনও না
আহান আরোহির গালে হাত দিয়ে আরোহির কপালে একটা ভালোবাসার পরশ একে দেয়। আরোহির দেওয়া আংটিটা কনিষ্ঠা আঙুলে পরে নিলো। আরোহির এই আংটিটা আরোহি বৃদ্ধা আঙুলে পরতো তাই আহানের ছোট আঙুলটাই এটা ফিট হলো।
আহানঃ আচ্ছা তুমি তো আমাকে শাস্তি দিতে তো ছোট মা কে বলেছিলে বিয়ে করবে না। এখন তো ক্ষমা করে দিয়েছো। তাহলে চলো না বিয়েটা করে ফেলি
আরোহিঃ উহু,, সাথে আরও একটা কারণ আছে
আহানঃ (বিদ ্ধস্ত হয়ে) হোয়াট ?
আরোহিঃ আমার ইচ্ছা আমার আর অরনির একসাথে বিয়ে হোক, ও তো আমার থেকে ছোট। ওর বয়স ১৮ হতে দাও। তখন বিয়ে হবে
আহানঃ আচ্ছা নকল সার্টিফিকেট বানাবো?? ???
অর্ণবঃ ( পেছন থেকে) আমি রাজি
আরোহিঃ (অবাক হয়ে পেছনে ঘুরে) তু…তুমি
অর্ণবঃ ইয়ে মানে
আহানঃ আসলে ও আমাদের এই স্পেশাল মোমেন্টের ছবি তুলছিলো। (অর্ণবকে) আরেএ ইয়ার আমার রোমান্টিক মোমেন্টটা স্পয়েল্ড করে দিলি ?
অর্ণবঃ সরি সরি ক্যারি ওন (বলেই মাথা চুলকাতে চুলকাতে চলে গেলো)
আরোহিঃ (অবাক হয়ে) তার মানে এতোক্ষন অর্ণব আমাদের দেখছিলো ??
আহানঃ আরে ও জাস্ট পিক তুলছিলো। আর লাইট গুলো ঠিক ঠাক ইউজ করছিলো আর কিছু না। আর ওর ও তো দিন আসবে অরনি সাথে। সো ডোন্ট ফিল শাই
আরোহিঃ (মনে মনে) আমি আসলেই বিটিভি চ্যানেল ?? এতো এরেঞ্জমেন্ট যে আহানের পক্ষে একা ঠিকঠাকভাবে মাইন্টেইন করা পসিবল না এটা আমার মাথায়ই আসে নি ??
আহানঃ দেখলে অর্ণবও কতো উৎসুক বিয়েটা তাড়াতাড়ি করার জন্য,, শুধু তুমিই উৎসুক নও ??
আরোহিঃ সবুরে মেওয়া ফলে ??
আহানঃ আই ডোন্ট লাইক মেওয়া ফল
আরোহিঃ (হুট করে আহানের গালে একটা কিস করে দিয়ে) ?? বাই বাইইই (বলেই দৌড়) ??
আহানঃ (থ হয়ে দাঁড়িয়ে) ? এটা কি হলো? এতো সুন্দর একটা গিফট দিলো কিন্তু এভাবে ?? [? হেসে আহানও নিজের রুমে চলে গেলো]
আর এই চাঁদ এদের পবিত্র ভালোবাসার সাক্ষী হয়ে থাকলো...
