আরোহি দৌড়ে রুমে এসে দরজা বন্ধ করে দরজার সাথে হেলান দিয়ে জোরে জোরে শ্বাস নিতে লাগলো। আহানের কাছে গেলেই কেমন নিশ্বাসটা ভারী হয়ে যায়,, আজও তাই হয়েছে,, কিন্তু অনুভুতটা ছিলো মারাত্মক। রুমের লাইটস ওফ করা আর মিতু, নিশা ওরা সবাই ঘুমিয়ে গেছে তাই আরোহি কোনো মতে নিজেকে রিল্যাক্স করলো৷
______________________
আহান আরোহি এরপরের দিনের ট্যুরগুলো একসাথেই এনজয় করলো। ১ তারিখ ওরা শুধু কক্সবাজারেই ঘুরেছে। অবশেষে আজ ২ তারিখ ভোরে তারা ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছে।
এবার আরোহি নিজেই আহানের পাশে বসেছে। সারা রাস্তা আহানের কাধে মাথা রেখে এসেছে। আর আহান আরোহির চুলের ঘ্রাণ চুপিচুপি অনুভব করেছে।
ঢাকা পৌছে যে যার বাসায় চলে গেলো। আহান চেয়েছিলো আরোহিকে বাসায় পৌঁছে দিতে কিন্তু এতো লং জার্নির পর আহানও টায়ার্ড তাই আরোহি জোর করে নিজেই বাসায় চলে আসে।।।
বাসায় এসেই অরনির হামলা,,
অরনিঃ (আরোহির ব্যাগ ঘেটে ঘেটে) এই আপিইই আমার জন্য কিছু আনিস নি?
আরোহিঃ ? হায় আল্লাহ আমি তো ভুলেই গেছিলাম তোর কথা ? ইয়েএএ মাম্মানে…
অরনিঃ (মুখ গোমড়া করে) হুহ এখন আমাকে মনে থাকবে কেন? আমি তোর ১০ টা না ৫ টা না একটা মাত্র বোন আর তুই আমাকেই ভুলে গেলি ? থাক লাগবে না কিছু আমার ??
আরোহিঃ (একটা শাল বের করে অরনি কে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে) আমার ১০টা না ৫টা না একটা মাত্র বোন। তার জন্য কিছু না এনে পারি??
অরনিঃ (খুশি হয়ে) সত্যি ?!!
আরোহিঃ হুম,, এই চাদরটা তোর
অরনিঃ থ্যাংক ইউ,, (মুখ গোমড়া করে) কিন্তু এমন বুড়িদের মতো চাদর নিয়ে আমি কি করবো,, এর থেকে চকলেট নিয়ে আসলে আমি বেশি খুশি হতাম ??
আরোহিঃ ? চকলেটও আছে বেবি
বলেই অরনিকে চকলেটের বক্স দিতেই অরনি খুশিতে লাফিয়ে উঠলো ❤
এতোটা জার্নির পর আরোহি এতো টায়ার্ড ছিলো যে সন্ধ্যাতেই ঘুমিয়ে গেলো,, আর অরনি বসে বসে আরোহির পিকনিকের ছবি দেখতে থাকলো
পরেরদিন,
অরনি অর্ণবের সাথে দেখা করতে আসে,,,আর অর্ণব লেট হয় (সো জাস্ট ইমেজিন অরনি অর্ণবের কি হাল করবে)
অর্ণবঃ ( দৌড়াতে দৌড়াতে হাজির হয়) হায় জানু কখন এলে?
অরনিঃ (কেদেই দিবে) এতোদিন দেখা হয়নি আর আপনি আজকেও লেট ??
অর্ণবঃ সরি জানু লেট হয়ে গেল
অরনিঃ লেট কেন হলো?
অর্ণবঃ আসলে একটা মেয়ে…
অরনিঃ ভ্যাএএএএ (অর্ণবের কথা শেষ হওয়ার আগেই অরনির কান্না শুরু)
অর্ণবঃ আরেএ কি হলো? কথা তো শোনো
অরনিঃ কি শুনবো? হ্যাঁ?? আমার সাথে ২দিন দেখা হয়নি আর এর মধ্যেই অন্য মেয়ে তোমার উপর লাইন মারতে শুরু করে দিলো ??? ঐ ডায়ান তোমার সাথে লাইন মারা শুরু করে দিলো ??? আমার অর্ণবটাকে বোকা ভদ্র পেয়ে সবাই খালি লাইন মারতে চায়। ওদের তো কেটে কুচি কুচিইইই করে ফেলবো। ওহ মেয়েটা মাহি ছিলো তাই না,, পাজি মেয়ে একটা, ওকে রাম ধোলাই দিবো,, কই কই ও? নিয়ে আসেননি? আজ আমার বয়সটা একটু বেশি হলে আপনাকে আজই বিয়ে করে নিতাম তারপর দেখতাম কে কিভাবে তোমাকে আমার কাছে থেকে নিয়ে নেয় ??? লুচু মহিলা, পল্টুর ফুপি, ডাইনি কোথাকার
অর্ণবঃ (অরনির কথা শুনে হাসবো না কাদবো বুঝতে পারছি না,, ও ক্ষেপে গেলে তুমি আপনি সব মিক্স করে দেয় ??) পল্টুর ফুপি মানে?
অরনিঃ আমাদের ছেলে পল্টু,, আর কালকেই মাহিকে আপনার বোন বানাবো তাহলে তো ও পল্টুর ফুপিই হলো
অর্ণবঃ ওওওওও
অরনিঃ কি ও হ্যাঁ?? আপনিও কম না,, হুহ আমি এতো নিষেধ করে দিলাম তবুও আপনি মাহিকে প্রশ্রয় দিলেন ভ্যাএএ আপনি একটা হুতুম পেচা,, আজ ওর জন্য আমার সাথে! আমার সাথে লেট করে দেখা করতে এলেন ? আপনি,, আপনি একটা পচা ছেলে,, এবার আমার কি হবেএএ,, আমি তো বিয়ের আগেই ডিভোর্সি হয়ে গেলাম ভ্যাএএএএএএ ???
অর্ণবঃ (ধমক দিয়ে) এই চুপ
অর্ণবের ধমক খেয়ে অরনি সাথে সাথে ২সেকেন্ডের জন্য চুপ,, তারপর আবার,, ভ্যাএএএএ
অর্ণবঃ (আবার ধমক) এই চুপ করতে বললাম না তোমাকে
অরনি এবার একেবারে চুপ
অর্ণবঃ (অরনির এমন ভয় পাওয়া দেখে অর্ণবের প্রচন্ড হাসি পাচ্ছে তবুও হাসি আটকে ধমক দিয়ে বললো) চোখ মুছো
অরনি ফট করে চোখ মুছে ফেললো
অর্ণবঃ (মনে মনে) মেয়েটা এতো বোকা কেন?
অর্ণবঃ একটা মেয়ে ওর বাচ্চাকে পার্কে খেলতে দিয়ে কোথাও চলে গেছিলো তখন বাচ্চাটা রাস্তায় চলে আসে আর আমার গাড়ির সামনে চলে আসে,, ওকে সেভ করে ওর মার কাছে ফিরিয়ে দিয়ে আসলাম তাই লেট হলো
অরনিঃ সরি ,, ?সবাই খালি আপনার গাড়ির নিচেই পড়ে ??
অর্ণবঃ হ্যা শুরুটা তুমিই করেছিলে ??
অরনিঃ ?
অর্ণবঃ কেমন আছো?
অরনিঃ ভালো, আপনি?
অর্ণবঃ এই একটু আগেই না তুমি করে বললে,, এখন আবার আপনি করে কেন বলছো?
অরনিঃ (অবাক হয়ে) আমি আবার কখন তুমি করে বললাম ?
অর্ণবঃ এই একদম কথা ঘোরাবে না,, আমার মনে আছে তুমি আমাকে ‘তুমি’ করে বলেছো
অরনিঃ (ভেঙচি কেটে) জ্বি না আপনি ভুল শুনেছেন
অর্ণবঃ আমি ভুল শুনিনি তুমি সব ভুলে গেছি,, ভুলাক্কার
অরনিঃ আমি মোটেও ভুলাক্কার না
অর্ণবঃ তুমি ভুলাক্কার
অরনিঃ (মুখ ফুলিয়ে) জ্বি না
অর্ণবঃ জ্বি হ্যা
অরনিঃ (একটা চিৎকার দিয়ে) আআআআআাাাা না,,
অর্ণবঃ ওকে ওকে,, তো আমাকে মিস করেছো?
অরনিঃ হুহ আপনাকে মিস করতে আমার বয়েই গেছে ?
অর্ণবঃ তাই? তাহলে আমি মাহির কাছে যাই
অরনিঃ (রেগে শেরনি হয়ে) কিহহহ আর একবার বলো
অর্ণবঃ এই যে তুমি আবার আমাকে তুমি করে বললা
অরনিঃ ? ভু…ভুল করে
অর্ণবঃ উহু ইচ্ছা করে
অরনি বোধ হয় এবার কেদেই দিবে,, অর্ণব যেভাবে ওর পেছনে লেগেছে ?
অর্ণবঃ আরে আরে কাদো কেন পাগলী? তোমার জন্য কিছু নিয়ে এসেছি
অরনিঃ আমার কিছু লাগবে না
অর্ণবঃ সত্যি তো
অরনিঃ হু (১সেকেন্ড ভেবে) শুধু চকলেট দিলেই হবে
অর্ণবঃ (হেসে দিলাম,, তারপর ওকে ওর চকলেটের বক্সটা দিলাম,, ও তো মহা খুশি,, তারপর অরনির জন্য কেনা মালাটা ওকে পরিয়ে দিলাম৷ অরনিকে মালা পরানোর সময় ও কেপে উঠলো)
অরনিঃ (অর্ণব কাছে থাকলে কেন যেন যেমন ভালো লাগে তেমনিই লজ্জাও লাগে, আর আজ যখন মালা পরিয়ে দিলো, ওর হাত আমার ঘাড়ে একবার টাচ হতেই আমি কেঁপে উঠি)
এরপর দুজন অনেক্ষন ঘুরে অর্নব অরনিকে বাসায় পৌছে দিয়ে যায়।।
পরেরদিন বিকালে অর্ণবের মা আর বাবা আসেন আরোহিদের বাসায়,, তারা বিয়ে ডেট ঠিক করেন। দুই বোনেরই ১ বছর পর একসাথে বিয়ে। বিয়ের তারিখ ২২জানুয়ারি, ২০২০ (সবার দাওয়াত রইলো)
