সিজন 1 অধ্যায় 38 পারিবারিক রোমান্টিক #বিয়ে #বাসর রাত আরোহীআহানঅরণীঅর্ণবআম্মু

লাল বেনারসি ও বাসর রাতের পূর্ণতা

•8 মিনিট পড়া•1,149 শব্দ
লাল বেনারসি ও বাসর রাতের পূর্ণতা

অরনি-অর্ণব আর আরোহি-আহান এদের প্রেম গুলো ভালোই যাচ্ছিলো। অরনি-অর্নবের দুষ্টু মিষ্টি প্রেম আর আরোহি-আহানের মান-আভিমানের প্রেম। সবার অধীর অপেক্ষার পর অরনি জুলাই মাসে ১৮ তে পা দেয়….

১বছর পর,,,

২১ জানুয়ারি,,

আজ ওদের গায়ে হলুদ ,, আরোহি পড়েছে হলুদ রঙের শাড়ি আর সাথে হলুদ ফুলের মালা,, মালাটায় সাদা মুক্তও রয়েছে আর অরনি পড়েছে হলুদ রঙের শাড়ি এর আচঁল গোলাপী রঙের সাথে সাদা হলুদ রঙের ফুলের জুয়েলারি,, দুজনেরই মাথা টায়রা,, আজ দুজনকেই কোনো অপ্সরির থেকে কম লাগছে না ? দুবোনকে সাজানো শেষ হলে মাহি ওদের ছবি তুলে আহান আর অর্ণবকে পাঠিয়ে দেয়। আর আহান তো আরোহিকে দেখে নিজেই এবার ক্রাশড আর অর্ণব তো অরনিকে দেখে আবার পাগল হয়ে গেছে।। ওহ ভালো কথা,, মাহি বিয়ে কিন্তু সামনেই।। বেচারির এরেঞ্জ ম্যারেজ,, আর মজার কথা হলো মাহি কক্সবাজারে যার উপর ক্রাশ খেয়েছিলো, তার সাথেই মাহির বিয়ে,, ছেলেটার নাম তূর্য. মাহি অনেক চেষ্টা করেও ওকে পটাতে পারেনি, মাহির বাবা আর তূর্যর বাবা নাকি ফ্রেন্ড হন তাই পারিবারিকভাবে বিয়েটা ঠিক হয়েছে। মাহি তো মহা খুশি।

আজ আহান আর অর্ণবকেও কম সুন্দর লাগছে না,, আহান পড়েছে সাদা পাঞ্জাবি সাথে হলুদ রঙের ওরনার গলায় প্যাচানো,, আর অর্ণবও সাদা পাঞ্জাবি পড়েছে তবে অর্ণবের গলায় গোলাপী রঙের ওরনা প্যাচানো।

দুজনেরই বাসায় ধুম ধাম করে হলুদের অনুষ্ঠান হয়।

২২জানুয়ারি,,

দুই বাড়িতেই চলছে জমপেশ আয়োজন। আরে দুই বাড়িরই দুই ছেলে দুই মেয়ের বিয়ে বলে কথা,, হইহুল্লোড় না হলে চলে??? আহানদের পুরো বাড়ি একেবারে প্রাসাদের মতো করে সাজানো হয়েছে। সাদা বাড়িটাই কত শত লাইটিং,,,

আরোহির মা ও কোনো কমতি রাখেননি,, নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী যতটুকু পারা যায় সর্বোচ্চ করছেন। আর আড়ালে আরোহির বাবাকে স্বরণ করে চোখের জল ফেলছেন। আগের দিন রাতে আরোহি আর অরনি এসে উনার পায়ের উপর মাথা রেখে শুয়ে অনেক রাত পর্যন্ত গল্প করেছিলো। মা কে একা ফেলে যেতে কোনোভাবে ইচ্ছে করছে না ওদের। আহান অবশ্য উনাকে ঐ বাড়িতে নিয়ে যেতে চায়। তবে উনি রাজি হননি।

সকাল থেকে দুবোনের মনে অন্য রকমের ভয় কাজ করছে,, এক দিকে যেমন খুশি হচ্ছে তেমনি ও বাড়িতে মানিয়ে নিয়ে চলতে পারবে কি না ভেবে ভয় হচ্ছে। তার উপর অরনি ছোট, অভিমান বেশি। যদি কোনো ভুল করে ফেলে। মা মেয়ে মিলে এইসব চিন্তাই করছে।।

দুপুর ৪টায় আরোহি অরনিকে পার্লারে পাঠানো হয়।

বিয়ে হচ্ছে Destination Community Centre এ। (নাও এডড্রেস দিলাম,, চলে আসো সবাই) কনে পক্ষের সবাই বিকাল থেকেই আসা শুরু করেছে। বরপক্ষ ৭ টার দিকেই চলে এসেছে। আহান অর্ণব একসাথে গেট দিয়ে ঢুকতেই ফুলের ছোট খাটো বন্যা বয়ে গেলো। আহান পড়েছে হোয়াইট শেরওয়ানি আর অর্ণব পড়েছে অফ হোয়াইট কালারের শেরওয়ানি। অর্ণব মাথায় পাগড়ি পড়ে ঢুকলো আর আহান বাম হাতে পাগড়ি নিয়ে ডান হাত দিয়ে চুল উচু করতে করতে ঢুকছে। ওদের এটিটিউড দেখে অন্য মেয়েরা হা হয়ে আছে ? দুজনকে স্টেজে বসানো হলো। কিন্তু কনে দুজন এখনও পার্লারে ?? এদিকে এখনও কনে আসেনি শুনে আহান আর অর্ণব তো ব্যাপক হারে অবাক ? প্রতিটা সেকেন্ড যেন ওদের কাছে এক এক বছর। বিয়ে বাড়িতে বর বেশি কথা বলে না কিন্তু টাইম পাস করতে বেচারারা নিজেদের মধ্যেই কথা বলা শুরু করেছে।

আহানঃ এদের সাজতে এতো সময় লাগে কেন!? ?

অর্ণবঃ আমারও মাথায় ঢুকছে না। অরনিকে ম্যাসেজ দিলাম চেক পর্যন্ত করেনি

আহানঃ কে জানি এতো কি সাজছে

অর্ণবঃ হুম

অবশেষে ৭:৩৫ মিনিটে কনে আসলো। কনের গাড়ি এসে গেটের সামনে থামলো। গেটটা ফুলে সাজানো। লাল সাদা ফুল,, সাথে অর্কিডও রয়েছে। গাড়ির সামনে থেকে স্টেজ পর্যন্ত লাল কার্পেট বিছানো,, চারপাশে ফুল নিয়ে অনেকে দাঁড়িয়ে আছে। দু বোন একই গাড়ি থেকে নামলো। গাড়ি থেকে নামতেই ওদের উপর লাইটে আলো ফেলা হলো। সবাই তো কনেদের দেখে অবাক ?? দুজনকে দেখে যে কেউ পাগল হয়ে যাবে। না না এসব হেভি মেকআপের কামাল না। আজ দুজনকে এই শাড়িতে মানিয়েছে অনেক। দুজনেই পড়েছে লাল বেনারসি। শুধু গহনা আর মেকআপের পার্থক্য। ওরা ভেতরে আসতেই ফুল পড়তে থাকলো ওদের উপর। আরোহির ডান হাত দিয়ে আর অরনি বাম হাত দিয়ে একে অপরের হাত ধরে আছে,, আর অন্য হাত দিয়ে শাড়ি ধরে ভেতরে প্রবেশ করছে। স্টাজের কাছে যেতেই আহান অর্ণব দুজনে দাঁড়িয়ে গেলো ? দুজনের চোখে পলকই পড়ছে না। সবার সামনে এভাবে তাকিয়ে থাকায় দুই বোনই প্রচন্ড লজ্জা পাচ্ছে। আহানদের স্টেজের পাশেই কনের জন্য আলাদা স্টেজ। সবাই চাচ্ছে ওদের পাশাপাশি বসাতে,, কিন্তু আগে বিয়েটা হবে।

৮টা ২০মিনিটে ওদের বিয়ে হয়। আরোহি কবুল বলার আগে ওর মায়ের দিকে একবার আর একবার আহানের দিকে তাকিয়ে কবুল বলেছে। আহান কবুল বলার সময় আরোহির দিকে তাকিয়ে কবুল বলেছে। অরনি অর্ণবের দিকে তাকিয়ে কবুল বলেছে। আর অর্ণবকে তো জিজ্ঞেস করার সাথে সাথেই কবুল বলে দিয়েছে ? ওদের কবুল বলার পর বিয়ে সম্পন্ন হতেই আরোহির মায়ের চোখ দিয়ে দু ফোটা জল গড়িয়ে পড়লো।

এরপর ওদের জোড়ায় জোড়ায় বসানো হয়। আহান-আরোহি আর অরনি-অর্ণব। অর্ণব অরনি হাত ধরে আছে। আরোহির লজ্জায় সবার সামনে হাত ধরছে না তাই আহান জোড় করে আরোহির এক হাত ধরে বসে আছে।

আহানঃ এতো লেট করলে কেন? জানো সব বিয়েতে বর পক্ষ পরে আসে আর এখানে আমরা আগে এসেছি ?

আরোহিঃ (হেসে) তো কি হয়েছে? মাঝে মাঝে কিছু নিয়ম পাল্টানো ভালো ☺

আহানঃ এতো লেট কেন করলে? এতো না সাজলেও বিয়ে তো আমিই করতাম

আরোহিঃ মোটেও এতো সাজিনি। শাড়ি পড়া অনেক ঝামেলা। তাই লেট হলো

আহানঃ ???

আরোহিঃ ???

আহানঃ ??

আরোহিঃ ?

আহানঃ ?

অনেক ছবি উঠানো হলো। সবাই ওদের সাথে ছবি তুললো। আর আরোহির কাজিনগুলো জিজুদের অনেক জ্বালাতন করার চেষ্টা করলো। কিন্তু আহান আর অর্ণবের কথার সাথে পেরে না উঠে স্থান ত্যাগ করে।

অবশেষে নিজের বাড়ি ছাড়ে শ্বশুড় বাড়ি যাওয়ার সময় এলো। দু বোন মাকে ধরে আঝোরে কান্না শুরু করলো। কান্না যেন থামেই না। অনেক কষ্টে ওদের গাড়িতে বসানো হলো। আহান-আরোহি এক গাড়িতে। আর অর্ণব-অরনি এক গাড়িতে। সারা রাস্তা কান্না করল ওরা। আহান আরোহিকে বুকে জড়িয়ে নিলো। আর অর্ণব অরনিকে সান্তনা দেওয়ার অনেক চেষ্টা করলো। কিন্তু যখন তাতেও কাজ হচ্ছিলো না তখন অরনির গালে একটা ?? করে দিলো। অরনি প্রথমে কিছু না বুঝলেও পরক্ষনেই টের পেল। বেচারি লজ্জায় কান্নাই ভুলে গেছে। অবাক চোখে তাকিয়ে আছে। আর অর্ণব অরনির এমন অবস্থা দেখে হেসে দেয়।

গাড়ি গুলো বাসায় ঢুকলো। বাসাটা আজ আরো সুন্দর করে সাজানো হয়েছে। এমনিতে বাসাটা সুন্দর। রাজ প্রাসাদ না হলেও আজ একে রাজ প্রাসাদের মতোই লাগছে আরোহি অরনির কাছে। এই বাসার যে জিনিসটা আরোহির ভালো লাগে তা হলো এখানে অনেক সুন্দর একটা বাগান আছে। বাগানটি অতিকায় বড় নয় আবার অনেক ছোটও নয়।

গাড়ি থেকে নামার সময় সবাই চিৎকার করে উঠলো বউদের কোলে নিয়ে ঢুকতে। বলতে দেরি কিন্তু আহানের আরোহিকে কোলে নিতে দেরি না। ও বোধ হয় এই সুযোগেরই অপেক্ষা করছিলো। আহানের এভাবে তাড়াতাড়ি কোলে নেওয়াই সবাই হেসে ফেলে। অর্ণবও হেসে অরনিকে কোলে নিয়ে ভেতরে গেলো।

রাত ১১ঃ৩৫ বাজে,,

আরোহি আহানের রুমে বসে আছে। বুকটা কেমন ধুকপুক ধুকপুক করছে। আহানের রুমে বারান্দাটায় থাই লাগানো। কাচের দরজা। আরোহি ধীর পায়ে উঠে গ্লাসটায় হাত রেখে চাঁদের দিকে তাকিয়ে আছে। হঠাৎ আরোহির হাতের উপর কেউ হাত রাখলো। বুঝতে বাকি নেই এটা আহানের হাত। দরজাটা খোলা ছিলো। আহান দরজাটা ঠেলে লক না করে ভেতরে এসেছে। হাতে হাত রাখতেই কেপে উঠলো আরোহি। আহান আরোহির কানের কাছে ফিসফিসিয়ে বললো,

আহানঃ আজ আমার সাথে আমার কাধে মাথা রেখে জোছনা বিলাস করবে প্লিজ?

আরোহি চোখটা আলতো করে বন্ধ করে খুলো। অর্থাৎ চোখ দিয়ে সম্মতি প্রকাশ করলো। আহান আরোহির হাত ধরে বাহিরে এনে বারান্দার পাটা বিছিয়ে বসে একসাথে চাঁদ দেখতে লাগলো। আহানের কাছে মনে হচ্ছে তার পাশের চাঁদটা ঐ আকাশের চাঁদ অপেক্ষা অধিকতর সুন্দর। আর অরনি?? অরনি অর্ণবের বুকের মাঝে ঠাই খুজে নিয়েছে।

অধ্যায় 38 সমাপ্ত

আপনি এই অধ্যায়টি পড়া শেষ করেছেন। পরবর্তী পর্বে যান অথবা আপনার প্রতিক্রিয়া জানান!

মন্তব্যসমূহ

0

আলোচনায় যোগ দিন

মতামত জানাতে এবং পাঠকদের সাথে আলোচনায় অংশ নিতে লগইন করুন।

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

প্রথম মন্তব্যটি করে আলোচনা শুরু করুন!

রকমারি কালেকশন

বইপ্রেমীদের জন্য রকমারি বেস্টসেলার

অধ্যায় পাঠ শেষে সংগ্রহ করুন আপনার পছন্দের ঘরানার সেরা বই ও বিশেষ ডিসকাউন্ট

লাল বেনারসি ও বাসর রাতের পূর্ণতা

অনুচ্ছেদ 1 / 1 • চলছে
বিজ্ঞাপন