সিজন 1 অধ্যায় 4 কলেজ রোম্যান্স ড্রামা #খুনসুটি #বিপদ আরোহীআহানসায়রনিহামিতুনিশা

ক্যান্টিনের বকবক ও অপ্রত্যাশিত উদ্ধার

•10 মিনিট পড়া•1,512 শব্দ
ক্যান্টিনের বকবক ও অপ্রত্যাশিত উদ্ধার

আহানঃ ??????? কি মেয়েরে বাবা সব সময় দৌড়াতেই থাকে! আর আজকে ওর ভাই দিবস!!! ?????

নিহাঃ হেই আহান,, একা একা হাসছ কেন বেবি? ( এই হলো নিহা। বড়লোক বাবার একমাত্র মেয়ে। অনেক ইগো। আর আহানকে পছন্দ করে তবে আহান ওকে এক কথায় সহ্য করতে পারে না। )

আহানঃ না কিছু না [(মনে মনে) এই মেয়েটা আবার!! ??]

নিহাঃ চলো আহান আমরা কেন্টিনে যাই

আহানঃ ওকে। (কারণ আহান জানে এখন নিহাকে নিষেধ করলেও ও শুনবে না)

°°°

এইদিকে আরোহি এক দৌড়ে ক্যান্টিনে এসে পৌছে পর পর ২ গ্লাস পানি শেষ করল ?

মিতুঃ কি রে আজকাল কি তুই রেসে দৌড়ানোর প্রাকটিস করছিস নাকি? যখন দেখি তখনই দৌড়াচ্ছিস ?

আরোহিঃ আরেএএএএএ সকাল সকাল ওই লেজ কাটা বানরটার সাথে দেখা হলো। আজ আমার সারাদিনটাই খারাপ যাবে,, ধুর ধুর ধুর ??

নিশাঃ লেজ কাটা বানরটা আবার কে? ???

আরোহিঃ আরে ওই যে সায়র না কায়র ?

মিতু ও নিশাঃ ওহ ???

আরোহিঃ তার উপর আবার কালা কান কাটা কুমিরটা আবার আমি দৌড়ানোর সময়ই সামনে পড়েছে

মিতুঃ এইটা আবার কে রে?

আরোহিঃ আরে কালকের ঐ ছেলেটা,, কালা কুমির কোথাকার আমি দৌড় দিলেই সামনে হাজির হয়। মনে হয় ভুত-টুত হবে যেভাবে সব সময় সামনে হাজির হয়। ইচ্ছা করে কেটে কুচি কুচি করে আলু ভর্তা বানাই ?

নিশাঃ দোস্ত চুপ যা আর কিছু বলিস না

আরোহিঃ কেন রে? তোর এত গায়ে লাগছে কেন? ওহ তোদের তো আবার ক্রাশ হুহ? ঐ সাদা হাতিটাকে তো আমি জলে চুবিয়ে মারব। আমি জীবনে এত বার দৌড়াইনি যতবার ওর সামনে দৌড়েছি। সাদা হাতি কোথাকার, পঁচা ইঁদুর, কান কাটা তেলাপোকা, কালো বিড়াল, পঁচা ফুচকা, ছাগলের ৪ নম্বর বাচ্চা আর আর… ??? আর কি বলা যায় রে? ( এতক্ষণে আরোহি ওদের দিকে তাকাল)

মিতু ও নিশাঃ ???

আরোহিঃ কি রে? তোদের চেহেরা এমন দেখাচ্ছে কেন? ( বলে পিছনে ঘুরে যা দেখল তাতে আরোহির কান্না করার মতক অবস্থা।)

আরোহি দেখলো যে ????..আহান পকেটে হাত দিয়ে রাগি লুক দিয়ে তাকিয়ে আছে ?????????

আর এইদিকে আরোহিঃ??????

°°

আহান কিছু না বলে আরোহির হাত ধরে টেনে একটা রুমে নিয়ে গিয়ে দরজা আটকে দিলো

আরোহিঃ ক..ক.. ই.. কিক.. কি করছেন।। দ..দদ.. দরজজা লাগাচ্ছেন কে. কেন..নো?? ???

আহানঃ কেন? কি বলছিলে যেন? আমি সাদা হাতি? আমি কালা কুমির? like seriously?

আরোহিঃ ন..না.. নাহ মানে

আহানঃ তোমার না আমাকে কেটে কুচি কুচি করার ইচ্ছা?? আমি তো তোমার সামনেই আছি।। কুচি কুচি করে কাটো দেখি কেমন পার? ?

আরোহিঃ প্লিজ ছেড়ে দিন। আমি তো মজা করেছি। ( অযথা হাসার চেষ্টা করে ?) আপনি দেখি মজাও বুঝেন না?

আহানঃ তাই? এইটা মজা ছিল? তাহলে আমিও একটু মজা করি? কি বল? ( বলে সামনে এগিয়ে যেতে থাকে)

আরোহিঃ প্লিজ আমি একটা বাচ্চা,, অবুঝ একটা শিশু। একটা দুঃস্বপ্ন ভেবে ভুলে যান

আহানঃ তুমি বাচ্চা??? ? তবে অবুঝ তো বটে

আরোহিঃ ? আমাকে পচাচ্ছো!!

আহানঃ যা ভাব্বে তাই

আরোহী রেগে আহানকে ধাক্কা দিয়ে দৌড়ে রুম থেকে বের হয়ে গেল আর আহান আরোহির দৌড় দেখে হাসতে হাসতে পাগল???

°°°° নিহা সবটা খেয়াল করল। নিহা তো রেগে আগুন। নিহা ভাবতে থাকে কিভাবে একে আহানের কাছে থেকে দূরে সরানো যায় °°°°

আরোহিঃ বেটা বজ্জাত,, বুনো ওল,, বুড়ো বাঘ, ভিগি বিল্লি হুহ আমার সাথে ফাজলামি ? ৩২টা থাপ্পড় দিয়ে ১টা দাতঁ ভেংগে দিব ?

আহানঃ বলা শেষ?

আরোহিঃ আল্লাহ আবার শুনে ফেলেছে? দড়ি ফেলাও আমি উঠে যাই ??? ( চান্দু আমি আর ধরা দিচ্ছি না, এইবার আহান আমাকে ধরার আগেই আমি ফুড়ুৎ ??)

আহানঃ আমি কি এমন করলাম যে এই মেয়ে খালি আমার থেকে দূরে পালায়??

…

Next day at college,

আরোহিঃ আমি কলেজে ঢুকতেই সায়র আমাকে সিঁড়ির দিকে ডাকলো ?

সায়রঃ হেই কেমন আছো?

আরোহিঃ জি ভাইয়া ভালো। আর আপনি?

সায়রঃ আজকে আবার ভাইয়া বলছো কেন? ?

.

আরোহিঃ না আসলে ভাইয়া কালকে আম্মুকে ঐ জ্যোতিষির কথা বলার পর আম্মু আবার ঐ জ্যোতিষির কাছে গিয়েছিলো। তিনি বলেছেন, কালকে যাকে যাকে ভাইয়া ডেকেছি তাদের আজীবন ভাইয়া ডাকতে। নাহলে নাকি ঘোর অমঙ্গল ? (ডাহা মিথ্যা কথা?)

.

সায়রঃ (আরোহির হাত চেপে ধরে) আমার সাথে মজা কর? আমাকে কি তোমার বোকা মনে হয়?? কিসের ভাই হ্যাঁ?

আরোহিঃ ( আমার হাতটা অনেক জোরে চেপে ধরেছে জন্য আমার হাতে খুব পেইন হচ্ছে) ?? ভাইয়া সরি। আর এমন হবে না। আমার লাগছে

সায়রঃ কিহহ!! আবার ভাইয়া বলা? তোমাকে দেখছি ভালো কথায় কাজ হবে না ?

আরোহিঃ ( সায়র আমার হাতটা ক্রমশই জোরে চেপে ধরেছে আমার চোখ দিয়ে পানি পড়তে থাকে ??????) প্লিজ আমার হাতটা ছাড়ুন

______ হঠাৎ কেউ এসে আমার হাতটা সায়রের হাত থেকে মুক্ত করলো। আমার হাতে এতো পেইন হচ্ছিলো যে আমি সিঁড়িতে বসে পড়লাম ???

.

আহানঃ (আমি উপর তলা থেকে নামার সময় দেখলাম সায়র আরোহির হাতটা অনেক শক্ত করে ধরে রেখেছে। আরোহি অনেক কান্না করছে, হাতটা ছাড়াতে চাচ্ছে কিন্তু তবুও সায়র ওর হাতটা ধরে আছে। এইটা দেখে মাথাটা গরম হয়ে গেল। তাই গিয়ে হাতটা ছাড়ালাম। আর মাথা ঠান্ডা করে পরিস্থিতি সমলাতে বললাম) কি হচ্ছে? ও কান্না করছে কেন? এনি প্রবলেম?

সায়রঃ নো। ইটস ওকে। ( চলে আসলাম, কারণ আহানের বাবা কলেজের ট্রাস্টি)

°°°°°°°°° সায়র যাওয়ার পর

আহানঃ তুমি ঠিক আছো তো?

আরোহিঃ হ্যাঁ (কিন্তু আমার হাতে অনেক ব্যাথা করছে??)

আহানঃ সত্যি তো? ?

আরোহিঃ জি। থ্যাংকস ?

আহানঃ তোমার হাতটা দেখি???

আরোহিঃ কেন? আমার হাত দেখে কি হবে?? আহহহ ??

আহানঃ ( কিছু না বলে ওর হাতটা জোর করে দেখার জন্য টাচ করতেই ও আহ করে উঠে) হাতের অবস্থা তো খুব খারাপ। পুরো লাল হয়ে গেছে। আর তুমি বলছো ঠিক আছো!? ?

আরোহিঃ ????

আহানঃ চল

আরোহিঃ কোথায়?

আহানঃ ??? ( কোনো কথা না বলে ওকে গাড়িতে করে হসপিটালে নিয়ে গিয়ে ব্যান্ডিস করিয়ে নিলাম) এরপর ওর বাসায় দিয়ে এলাম

আরোহিঃ ( গাড়ি থেকে নেমে) আচ্ছা আসি

আহানঃ ওয়েট। তোমার নাম্বারটা দাও

আরোহিঃ ( বেটা ফাজিল, একটু হেল্প করে আবার নাম্বার নেওয়ার ধান্দা!! ? বেটা বজ্জাত, কালা ছাগল, ডাস্টবিনের পচা ময়লা, হাতির দিম, ছাগলের মোরব্বা…….)

আহানঃ হয়েছে মনে মনে গালি দেওয়া??

আরোহিঃ (হায় আল্লাহ!! ??? আমার মনের কথা বুঝলো কিভাবে!!?)

আহানঃ থাক আর ভেবো না। আমি তোমার মনের কথা বুঝলাম কি করে সেটা ঐ ছোট্ট মাথায় ঢুকবে না, এইবার নাম্বা….

আরোহিঃ ০১৭৭………… (উনাকে পুরো কথা বলতে না দিয়ে নাম্বার বলে বাসায় দিলাম দৌড়। কারণ উনি যে হারে আমার মনের কথা বুঝে যাচ্ছেন এতে আমার দিন ঘনিয়ে এসেছে)

আহানঃ ??? ????? ( হাসব না কাদব??) আজব মেয়ে

……. গাড়ি স্টার্ট দিয়ে বাসায় চলে আসলাম……..

.

.

.

রাতে,

আহানঃ ওকে একটা কল দিবো? না থাক ?

এইদিকে, আরোহিঃ কি ব্যাপার!! কল করে না কেন? ওইভাবে নাম্বার নিলো আর এখনও কল দেয় না!!?? ?? হুহ আমার কি!? ধুর ধুর ধুর ?

আহানঃ কলটা দিয়েই দিই ?

ক্রিং ক্রিং ক্রিং ??

আরোহিঃ হ্যালো ?

আহানঃ বলো ?

আরোহিঃ আজব তো আমি কি বলব!! আপনি কল করেছেন আপনি বলবেন ????

আহানঃ এইটা কি হলো!? ??? পাগল তোমার কি অবস্থা এখন সেটা বলো

.

আরোহিঃ তো সেটা বলেন। জি আমি ভালো আছি। আমার হাত- পা ভাংগেনি যে আমি এতক্ষন অসুস্থ থাকব ?

.

আহানঃ যেভাবে চলাফেরা কর তাতে হাটো কম দৌড়াও বেশি আর আমার উপর উল্টায় পাল্টায় পড় বেশি ????

.

আরোহিঃ আপনার উপর পড়তে আমার বয়েই গেছে

আহানঃ তাহলে পড় কেন?

আরোহিঃ আমি কি ইচ্ছা করে পড়ি নাকি। আচ্ছা এরপর থেকে সায়রের উপরে পড়ব??

.

আহানঃ হ্যাঁ then সায়রকে হাসপতালে পাঠাতে হবে

আরোহিঃ কেন?

আহানঃ তোমার যা ওজন ??????

আরোহিঃ হুহহহহহ ? আর জীবনেও আপনার উপর পড়বো না…. বাই ?

আহানঃ আরে শুনো.. টুট টুট টুট.. হাহাহা পাগল??

.

পরের দিন কলেজে,

আরোহিঃ উফফফ আজ অনেক লেট হয়ে গেছে। স্যার আমাকে আজ কাচা চিবিয়ে খেয়ে ফেলবে..

হঠাৎ… আম্মুউউউউউউ ??? এই কলেজে এত বস্তা কেন? আর সব বস্তা আমার উপরে পড়ে কেন!!? ?? (with lots of নেকা কান্না)

চোখ খুলে দেখি আমি আবার আহানের সাথে ধাক্কা খেয়েছি ?? ?

আহানঃ কি বললে??? আমি বস্তা!?

আরোহিঃ এত ভারী হলে বস্তা না বলে আর কি বলব? বুলডোজার!!?? ?

আহানঃ কালকে না বললে তুমি আমার উপর আর পড়বে না, তো আজ আবার কি হলো?

আরোহিঃ ???? হুহ আমার বয়েই গেছে আপনার উপর পড়তে ( বলেই উঠে পড়লাম)

আহানঃ তাহলে পড়লে কেন!?

.

আরোহিঃ আমার তো ক্লাসে লেএএটট…??? ( দিলাম এক দৌড় ????)

আহানঃ ??? হলোটা কি!?? এই মেয়ে এইভাবে সব সময় দৌড়ায় কেন!? সব মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে ?

আরোহিঃ [আরে বুঝলেন না তো? ওই ছেলেটার সাথে কথা বলতে গিয়ে আমি ভুলেই গিয়েছিলাম যে আমি লেট হয়ে গেছি। যেই মনে পড়লো দিলাম এক দৌড়। নয়তো স্যার আমার ১৩টা ২০ বাজিয়ে দিতেন ?]

°°°

ক্লাস শেষ করে বের হয়ে ক্যাম্পাসের দিকে যাচ্ছিলাম দেখলাম নিহা কয়েকজন ছেলের সাথে দাঁড়িয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। হঠাৎ,

নিহাঃ হেই ইউ, কাম হিয়ার

আরোহিঃ yes

নিহাঃ আমাদেরকে চিনো?

আরোহিঃ জি, আপনারা সিনিয়র

নিহাঃ তাহলে সালাম দিলে না কেন?

নিশাঃ সরি

নিহাঃ জানো তো সিনিয়ররা র‍্যাগিং করে ?

মিতুঃ জি ?

নিহাঃ তো তুমি একটা গান শোনাও

আরোহিঃ হোয়াট! এটা ঠিক না। আপনারা র‍্যাগিং করছেন এটা স্যাররা জানলে আপনাদের পানিশ করবেন

নিহাঃ how dare you!? ? তুমি আমাকে ভয় দেখাও? you bloody poor,,, (বলেই ওর হাত চেপে ধরলাম ??)

আরোহিঃ আহহহ??? ( সবাই আমার হাতটাকেই ধরছে কেন???)

.

আহানঃ নিহা কি হচ্ছেটা কি ???

নিহাঃ ওহ কাম অন বেবি। আমরা তো কতজনকে র‍্যাগিং করেছি। তাই ওদেরও করছিলাম। কিন্তু ঐ মেয়েটা কি না আমাকে ভয় দেখায় ওর এত বড় সাহস

.

আহানঃ শাট আপ নিহা। ওদের কেউ ডিস্টার্ব করবে না।

নিহাঃ কেন? তোমার কি?

আহানঃ আমার অনেক কিছু [বলেই পিছনে ঘুরে দেখি আরোহি নেই] আরোহি কোথায়?

মিতুঃ এখানেই তো ছিলো। মনে হয় ছাদে গেছে

আহানঃ ওকে.. তোমরা দাড়াও আমি ওকে নিয়ে আসছি

নিশাঃ ইয়াহ ইয়াহ টেক ইয়োর টাইম ?

আহানঃ ? [ ব্লাস করতে করতে চলে গেল]

°°°°°°°

…ছাদে গিয়ে দেখলো...

অধ্যায় 4 সমাপ্ত

আপনি এই অধ্যায়টি পড়া শেষ করেছেন। পরবর্তী পর্বে যান অথবা আপনার প্রতিক্রিয়া জানান!

মন্তব্যসমূহ

0

আলোচনায় যোগ দিন

মতামত জানাতে এবং পাঠকদের সাথে আলোচনায় অংশ নিতে লগইন করুন।

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

প্রথম মন্তব্যটি করে আলোচনা শুরু করুন!

রকমারি কালেকশন

বইপ্রেমীদের জন্য রকমারি বেস্টসেলার

অধ্যায় পাঠ শেষে সংগ্রহ করুন আপনার পছন্দের ঘরানার সেরা বই ও বিশেষ ডিসকাউন্ট

ক্যান্টিনের বকবক ও অপ্রত্যাশিত উদ্ধার

অনুচ্ছেদ 1 / 1 • চলছে
বিজ্ঞাপন