> **বিকল্প ফরম্যাটসমূহ:** [এইচটিএমএল](https://golpohub.com/episodes/sindurshuddhi-s1-ep22) | [জেসন](https://golpohub.com/episodes/sindurshuddhi-s1-ep22?format=json) | [আরএসএস ফিড](https://golpohub.com/episodes/sindurshuddhi-s1-ep22?format=rss) | [অ্যাটম ফিড](https://golpohub.com/episodes/sindurshuddhi-s1-ep22?format=atom)

# বৃষ্টির রিকশায় আধফোটা গোলাপ

![বৃষ্টির রিকশায় আধফোটা গোলাপ](https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-chapter-2710-251347.webp)

---
*[নাফিসা মুনতাহা পরী](https://golpohub.com/authors/nafisa-muntaha-pori)-এর [সিঁদুরশুদ্ধি](https://golpohub.com/series/sindurshuddhi) সিরিজ থেকে*\n*আনুমানিক পড়ার সময়: 15 মিনিট*
- **মোট শব্দ:** 2,246
- **প্রকাশিত:** Sep 16, 2026
---

বিদ্যা অভির বুকের উপর মাথা রেখে বলল, -” স্যার, আপনার কি রাগ ভেঙ্গেছে?” -” নো।” -” তা আমি কি করলে স্যারের রাগ ভাঙ্গবে? তিনি আমার কাছে কি চান?” -” যা চাইবো তুমি কি তা দেবে?” বিদ্যার অভির কথার জবাব না দিয়ে অভির বুকে একটা কিস করলো। ♥উমমমম্মাহ্…….♥ তারপর আবার কিস করলো। এবার শার্টের বোতাম খুলে পরপর কয়েকটা গভীর কিস করলো। বিদ্যা হঠাৎই অভির দিকে তীক্ষ্ণ ভাবে তাকাতেই অভি অবাক হয়ে বলল, -” কি হয়েছে?” বিদ্যা অভির বুক সম্পূর্ন উন্মুক্ত করলো। তারপর অভিকে একটু জাগিয়ে একটা হাত থেকে শার্টটা খুলে বলল, -” ভেরি নাইস?” -” কি?” -” তোমার ট্যাটু।” অভি ওর হাতের দিকে চেয়ে বলল, -” অহ্ ট্যাটু! ট্যাটু দ্যাটস্ মাই সেকেন্ড হবিস্। আই অ্যাম ট্যাটু আর্টিষ্ট।” বিদ্যা আরও ভাল করে অভির বাহুর দিকে চাইলো। তারপর বলল, -” আমাকে ট্যাটু বানিয়ে দিবে?” অভি মুখে দুষ্টমি হাসি টেনে বলল, -” হুম দিব, তবে ফুলসজ্জার রাতে দিব। নিবে…!” বিদ্যা অভির দিকে ড্যাপ ড্যাপ চোখে চাইল। তারপর অভিমানী সুরে বলল, -” সেদিন তুমি আমাকে কষ্ট দিতে চাও?” নাহ্, এত অপেক্ষা কি কষ্টের হয় নাকি? অভি বিদ্যার থিতিতে একটা কিস করল তারপর আবার করলো। এভাবে আরো কয়েকটা কিস করে বলল, -” তা এখানে কি মতলবে এসেছ?” বিদ্যা অভির উপর থেকে উঠে বিছানায় বসে বলল, -” রেডী হও, তোমায় নিয়ে বের হব।” -” অহ্ মাই গড, আমি কি স্বপ্ন দেখছি!” বিদ্যা বিছানা থেকে উঠে অভির হাত ধরে টেনে তুলল বিছানা থেকে। তারপর আদেশসূচক কণ্ঠে বলে উঠলো, -” তা কিছু স্বপ্নই দেখছ, দ্রুত রেডী হও। ৩ মিনিট সময় দিলাম।” -” থ্রী মিনিটে কেউ রেডী হতে পারে?” কেউ পারেনা কিন্তু তোমাকে পারতে হবে বলে বিদ্যা অভির পাশে এসে বসলো। তারপর বলল, -” আমি তোমাকে খুব মিস করছিলাম তাই আসলাম। বাহিরে যাওয়া তো শুধু মাত্র বাহানা ছিল।” অভি ভ্রু কুচকে বললো, -” বিদ্যা অভিকে কবে থেকে মিস করতে শিখেছে! বিদ্যা অভির পাশে আরো চাপল তার পর ওর দু’পা অভির পায়ের উপর তুলে দিয়ে বলল, -” হুম শিখেছে তো! আর বিদ্যা তার অভিকে এভাবেই মিস করে থাকো।” অভি বিদ্যার দিকে চেয়ে ওর দু’হাত দিয়ে বিদ্যাকে আরো কাছে টেনে বলল, -” তোমার মিস করার ধরনটা দেখছি একদম আলাদা।” হুম আমি মানুষটাই এরকম স্বভাবের ওয়ান পিস মাত্র। এবার বিদ্যা অভিকে প্রায় ঠেলেই ওয়াশরুমে পাঠিয়ে দিল। তারপর অভির ফোনটা হাতে নিল। কনক নাস্তা নিয়ে অভির রুমে এসে দেখল, বিদ্যা অভির ফোন নিয়ে ঘাটাঘাটি করছে। কনক কিছুটা সন্দেহ প্রবন হয়ে বলে উঠলো, -” আপনিতো ভারী অবাধ্য আর অসভ্য একটা মেয়ে! আপনি অভিদার অনুপস্থিতিতে ওনার ফোনে হাত দিয়েছেন কেন? আপনার কি কমনসেন্স বলতে কিছু নেই!” বিদ্যা কনকের কথায় হচকিয়ে ওঠে। কারন, কনক যে এই রুমে ঢুকেছে সে সেটা দেখতে পায়নি। বিদ্যা কনকের দিকে চেয়ে স্বাভাবিক কণ্ঠে বলল, -” আমার পারমিশন আছে ওর ফোনে হাত দেওয়ার।” কনক নাস্তার ট্রে, ট্রী টেবিলের উপর রেখে বলল, -” অভিদা আপনার কে হয় সেটা তো বললেন না?” এমন সময় অভি ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে বলল, -” হেই কনক, তুমি নাস্তা নিয়ে আসছো কেন? আমি তো এখন বাহিরে যাব।” আপনি বাহিরে যাবে! আমি আপনাকে নিয়ে সপিং এ যেতে চাইলাম আর আপনি বললেন আজ আপনি বাসা থেকে বের হবেননা। কিন্তু ঠিকি এখন বের হচ্ছেন। আপনার কি এমন কাজ বাঁধল যে, এক মুহুত্ত্বেই ডিসিশন চেঞ্জ করে ফেললেন! এটা কিন্তু খুব খারাপ হয়ে গেল অভিদা বলে কনক বাঁকা চোখে বিদ্যার দিকে চাইল। বিদ্যা ব্যাপারটা বুঝতে পারলো। এখানে ওর উপস্থিতি কনকের মোটেও পছন্দ না। তাই বিদ্যা অভিকে জোড় দিয়ে বলল, -” অভি জলদি করো। আমার হাতে টাইম নেই।” অভিও কিছুটা অনুভব করেছে তাই ঐ অবস্থায় বিদ্যার হাত ধরে বলল, -” আমি জানতাম না আমার জন্য গড স্পেশাল কাজের আয়োজন করে রেখেছে। একটু আগেই জানতে পারলাম। তোমাকে নিয়ে অন্যদিন যাব কনক।” অভি কথা শেষ করে ফোন আর ওয়ালেট হাতে নিয়ে রুম থেকে বের হয়ে গেল। পিছু পিছু বিদ্যাও চলে গেল। এই মেয়ের মতলব ঠিক না। যদি দেখেছি ওকে অভিদার পাশে কুমতলবে ঘেঁষাঘেষি করা তাহলে ওকে খুন করে ফেলব। অভিদা মাই ক্রাস এ্যান্ড লাভ। ♥♥ অভি নিচে এসে মিসেস. শায়লাকে বলল, -” আন্টি আমি একটু বাহিরে যাচ্ছি।” -“কখন ফিরবে বাবা! দুপুরে তোমার পছন্দের খাবার রান্না করবো।” অভি মাথা চুলকিয়ে অপরাধী চাহোনিতে মিসেস. শায়লাকে বলল, -” স্যরি আন্টি, আমি কখন ফিরবো জানিনা। ম্যাডামের মর্জি হলে ফিরতে পারবো।” অভি কথাগুলো বলতেই সবাই বিদ্যার দিকে চাইলো। বিদ্যাকে একের পর এক ভয়ংকর পরিস্থিতে ফেলে দিচ্ছে অভি। বিদ্যা অপ্রস্তুত অবস্থায় বলে উঠলো, -” আপনি রান্না করেন। ও দুপুরেই ফিরবে এবং আপনাদের নিয়ে এক সাথেই খাবার খাবে। আমি বেশি সময় নিবনা।” তুমিতো সম্পর্কের দিক থেকে আমাদের বেয়ান হচ্ছো তাই না! কথাগুলো কাবিরের বাবা বিদ্যাকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলো। জ্বী বলে মুচকি হাসলো বিদ্যা। এমন ইয়াং বেয়ান পাওয়া আমাদের জন্য সৌভাগ্যর বিষয় কি বল শায়লা? কাবিরের মা কিছুটা চোখ গরম করে বলল, -” কাবির, তুই অভির সাথে যা। ছেলেটা এখানে নতুন এসেছে। কিছুই চিনেনা। তাছাড়া বিদ্যাও তো নতুন এখানে। তুই বরং ওদের সাথে যা।” -” স্যরি মা, আমি কাবারের মধ্য হাড্ডি হতে চাইনা। তাছাড়া অভি এখন খুব ভাল করে ঢাকা শহর চিনে। তাই কোন সমস্যা হবেনা।” -” তুই যেতে না চাইলে কনককে পাঠিয়ে দেই! কনক যাবি অভির সাথে?” কনক খুশিতে ডগমগ হয়ে কেবল বলবে সে যাবে কিন্তু এর মধ্য কাবির ওর বাড়া ভাতে ছাই ফেলে বলল, -” অভি যা তো! মা শুধু শুধু তোকে নিয়ে ভয় পাচ্ছে। যাওয়ার সময় গাড়ী নিয়ে যাস।” অভি আর কারো কথা না শুনে বিদ্যার হাত ধরে পা বাড়ালো বাহিরে যাওয়ার জন্য আর বিদ্যা কঠোর চোখে কনকের দিকে একবার চেয়েই অভির হাত শক্ত করে ধরল। অভি বাহিরে এসে কেবল গাড়ীতে চড়তে যাবে তখনই বিদ্যা ওর হাত চেঁপে ধরে বলল, -” আমরা রিক্সাতে যাচ্ছি।” অভি শুধু মাথা নাড়িয়ে বিদ্যার হাত ধরে হেটে গেটের বাহিরে চলে গেল। কনকও অভিদের পিছনে পিছনে এসেছিল। অভির এমন কান্ড দেখে কনক ক্ষেপে গেল। রাগে ভিতরে চলে গিয়েই বাসায় লঙ্কা কান্ড শুরু করলো। দাদা, অভিদার সাথে ঐ মেয়েটার কি সম্পর্ক! অভিদাকে মেয়েটা যা বলছে উনি তাই শুনছে? কোন কালো জাদুকর নয়তো! বিদ্যা মেয়েটাকে আমার ঠিক লাগছেনা। কি বলিস সব! অভি বিদ্যাকে লাভ করে। অভি নাকি ওকে আগে থেকেই চিনতো। আমি UK থাকতে রিয়া আমাকে ওর পুরো পরিবারের পিক দিয়েছিল। সেখানে অভি বিদ্যাকে দেখে। তারপর থেকে ও বিদ্যাকে বাংলাদেশে নিয়ে আসার অনেক ট্রাই করে। পরে ও নিজে কলকাতায় গিয়ে বিদ্যাকে নিয়ে আসে। আসলে অভি এতসব কাজ কি করে করেছে আমার জানা নেই। অভি বাংলাদেশে আসার মত ছেলে নয়। ওতো বাংলাতে কথায় বলতে পারতোনা। ছোট্ট বিদ্যার পিক দেখে ওর মাথা গোলমাল হয়ে গেছে। ও শুধু বিদ্যার জন্য এখানে এসেছে। অনেক কষ্টে বিদ্যার সাথে ও বন্ধুত্ব করেছে। আমি চাই অভি ওকে নিয়ে সুখে থাক। আমি অভিকে এত খুশি কোনদিনও দেখিনি যেদিন ও প্রথম ছোট্ট বিদ্যার পিক দেখেছিল। ২৫ বছর পর বিদ্যা নিজের দেশে ফিরেছে। আমি ওর সম্পর্কে এতটুকুই জানি। কাবিরের কথা শুনে কনক বলল, -” বৌদি আর বিদ্যা কত বছরের ছোট বড়?” -” রিয়া ওর ৯ বছরের ছোট।” -” তার মানে বিদ্যার বয়স ৩১ বছর! ওহ্ মাই গড, তার চেহারা আমাদের থেকেও ইয়াং কিভাবে হয়? আর অভিদা তো ২৫। এত পার্থক্য! একটা রুচি বলেও তো কিছু আছে?” -” তোর সাথে বিদ্যাকে দাড় করালে আমি নিঃশ্চিত ওকেই তোর থেকে ছোট বলবে সবাই। আর তাছাড়া বয়স কোন ফ্যাক্ট না। মনটাই আসল ফ্যাক্ট।” তুমি দাদা হয়ে আমাকে এমন কথা বলতে পারলে? তুমি তো দেখি আমার থেকে ঐ বিদ্যার টান টানছো। ঘরের শত্রু বিভিষণ। মামুনি, দাদা এখনই এমন করছে বিয়ে হলে না জানি শশুড় বাসার গোলাম হয়ে যায়। আমার তো মনে হচ্ছে দাদা আমাদের মনগড়া কথা শুনাচ্ছে বলেই কনক ওর রুমে চলে গেল। কাবির এবার ওর মাকে বলল, -” মা আমি সত্যি বলছি অভি আগে থেকেই বিদ্যাকে চিনতো। ও শুধু বিদ্যার জন্যই এখানে এসেছে।” মিসেস. শায়লার সাজানো পরিকল্পনা যেন এক নিমিষেই দুমড়ে মুচড়ে গেল। উনি এত কিছু আশা করেননি। অভি আর তার মেয়েকে নিয়ে তিনি অনেক স্বপ্ন বুনেছিলেন। সব স্বপ্ন যেন ধুলিসাৎ হয়ে গেল। উনি কোন কথা না বলে চিয়ার থেকে উঠে গেলেন। এদিকে কাবির বুঝতে পারছেনা ও কি এমন কথা বললো যে পুরো বাসা একদম সাইলেন্ট হয়ে গেল। ♥♥ বিদ্যা আর অভি ছাতা মাথায় একসাথে রাস্তায় দাড়িয়ে আছে। ঝির ঝির করে বৃষ্টি পড়ছে। কি বাদল লাগলো যে কয়েকদিন ধরে আকাশ শুধুু কেঁদেই চলছে। থামার কোন নামই নেই। অভি ছাতা ধরে আছে আর বিদ্যা একটা রিক্সা ওয়ালাকে ডেকে বলছে, -” মামা, গুলিস্তানে যাবেন?” -” এই বৃষ্টির মধ্য এতদুর যাবনা মামা।” বিদ্যা কিছু একটা ভেবে বলল, -” ওকে, কাছেই যাব চলেন! যা ভাড়া চাইবেন তাই দিব। এক টাকাও কম দিবনা।” রিক্সা ওয়ালা বেশ খুশি হল। এক কথায় রাজি হয়ে গেল। বিদ্যা রিক্সাই উঠতেই অভি উঠে পড়ল। বৃষ্টির জলে যেন ওরা না ভিজে তাই রিক্সা চালক ওদের পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিতে চাইতেই বিদ্যা বলল, -” মামা এসবের দরকার নেই।” অভি এমন সময় ছাতাটা রিক্সা চালকের মাথায় ধরে বলল, -” আর ভিজবেন না।” অভির এমন কাজে বিদ্যা মুগ্ধ হয়ে অভির পানে চাইল। যে ছেলে একটা ভাতের প্লেট তুলে খায়নি সে কিনা আজ বড় দায়িত্ব নিয়ে কাজটা করছে! কি অদ্ভুদ ব্যাপার। রিক্সা চলছে আর বিদ্যা ছলছল নয়নে অন্য দিকে চেয়ে আছে। আজ যে কাজ সে করতে যাচ্ছে সেটা কি ঠিক করছে? কি করবে সে! মনের শান্তি আর সত্যটা জানার জন্য বিদ্যাকে একাজ করতেই হবে। কিন্তু এতে অভির বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যাবে। বিদ্যা কিছুতেই হিসাব মিলাতে পারছেনা যে তাকে কি করা উচিত। হঠাৎ রিক্সা থেমে গেল। সামনে অনেক যানজট। গাড়ীগুলো খুব ধীরে ধীরে এগুচ্ছে। এমন সময় বিদ্যা বলে উঠলো, -” কাবিরদের বাসায় থাকাটা তোমার ঠিক না। তুমি যতদিন এখানে আছ ততদিন না হয় কোন হোটেল বা অন্য কোন ফ্লাটে থাকো। কারন ওদের আমার ভাল লাগেনি ।” অভি সব কিছু বুঝতে পেরে বলল, -” মম যদি জানে আমি একা আছি তাহলে আমাকে মুহুত্ত্বেই তার কাছে নিয়ে যাবে। তাছাড়া কাবির বা আন্টি আঙ্কেল খুব কষ্ট পাবেন। ওনারা আমাকে খুব ভালবাসে।” -” তোমার কি কোন ক্লোজ ফ্রেন্ড নাই? যারা ট্রাভেল করতে ভালবাসে? তাদের কয়েকজন কে এখানে ডাকো। ওদের জন্য তখন তুমি আলাদা বাসায় থাকতে পারবে। আর তোমার যে লুক এমনি যেকোন মেয়েকে ক্ষেপিয়ে তুলবে। তাই তোমার ঐ বাসায় না থাকাটাই উচিত।” আমার রুপ কি তোমাকে ক্ষেপিয়ে তোলে নাহ্ বিদ্যা! কথাটা বলতেই ঝম ঝম করে বৃষ্টি নামতে লাগলো। বিদ্যা এই ফাঁকে চট করে রিক্সা থেকে নেমে পড়লো। দুরে একটা আট বছর বয়সী মেয়ে হাতে ফুল নিয়ে জলো ভিজছে। সাথে তার চার বছর বয়সী ছোট বোনও চুপচাপ দাড়িয়ে ভিজছে। বিদ্যা ওদের কাছেই দৌড় দিল। ওদের কাছে গিয়ে বলল, ” আজ বুঝি ফুল বিক্রি হয়নি? এটা কি তোর ছোট বোন?” মেয়েটির মুখে এবার হাঁসি ফুটলো। কারন মেয়েটি বিদ্যাকে খুব ভাল করে চিনে। বিদ্যা এই পথে যেতেই ওদের সাথে দেখা হত। সেখান থেকেই পরিচয়। বড় মেয়েটি বলল, -” আপু, আজ কোন ফুলই বিক্রি হয়নি। কাল এদিক দিয়ে যাওনি কেন?” -“কাজ ছিল তাই আসা হয়নি। তোর বোনের নাম কি তমা!” -” ওর নাম টুনি আপু।” বিদ্যা টুনিকে কোলে নিয়ে তমার হাত ধরে প্রতিটা গাড়ীর কাছে গিয়ে গ্লাসে নক করে বলল, -” স্যার ফুল নিবেন! আজ এই বর্ষার দিনে আপনার প্রিয় মানুষকে আপনার অপ্রকাশিত ভালবাসা প্রকাশ করুন। তাদেরকে জানার সুযোগ করে দিন তাদের আপনি কত ভালবাসেন।” লোকটি বিদ্যার দিকে চেয়ে দেখল, খুব দামী পোষাক পড়া মেয়েটা নিজের সম্মানের কথা না ভেবে ওদের সাহার্য্য করার জন্য কাজ করছে। উনি কিছু ফুল নিলেন। এভাবে অনেকে ফুল কিনে নিল। ৫ মিনিটে সব ফুল বিক্রি হয়ে গেল। ঝুড়িতে একটি মাত্র আধা ফোটা গোলাপ ফুল রইল। এমন সময় একটা লোক ডাকতেই বিদ্যা বলে উঠলো, -” দুঃখিত দাদা, আর ফুল নেই।” তমা অবাক হয়ে বলল, -” আপু একটা ফুলতো আছে।” এটা আমি তোর থেকে কিনে নিব তাই এটা বিক্রি হয়ে গেছে। বিদ্যা ওদের ওখানে দাড়িয়ে রেখে আবার রিক্সার কাছে এসেই পার্স থেকে টাকা বের করে চলে গেল ওদের কাছে। তমার হাতে টাকা দিয়ে ফুলটা নিয়ে বিদ্যা বলল, -” একটা কথা সবসময় মনে রাখবি, কারো দয়ার দান নিবিনা। খেতে হলে পরিশ্রম করে খাবি। পরিশ্রমের একটা ভাতের দানাও অনেক সম্মানজনক।” বাসায় যা তোরা বলে বিদ্যা অভির কাছে এসে গোলাপ ফুলটি অভির হাতে গুজিয়ে দিয়ে বলল, -” এটা শুধু তোমার জন্য।” অভি এতক্ষন ধরে বিদ্যার সব কাজ মুগ্ধ হয়ে দেখছিল। বিদ্যার আধা ফোটা গোলাপ হাতে নিয়ে অভি বলল, -” তুমি আমাকে এখনো পুরোপুরি ভালবাসতে পারোনি তাইনা বিদ্যা!” বিদ্যা একটু হাসার চেষ্টা করলো কিন্তু হাসতে গিয়েও থেমে গেল। তারপর চয়াল শক্ত করে বলল, -” সেটার জবাব না হয় কালকের জন্যই তোলা রইল।” অভির কিছু ভাল লাগছেনা। কিছুতো একটা ঘটতে চলেছে। মন বলছে বিদ্যা ঠান্ডা মাথায় কিছু পরিকল্পনা করছে। আমি সবার মনের কথা পড়তে পারলেও কেন যে বিদ্যার মনের কথা কেন পড়তে পারিনা সেটা আমি কিছুতেই বুঝতে পারিনা। অহ্ গড আমায় সাহার্য্য কর। বিদ্যা অভির ধ্যান ভাঙ্গিয়ে বলল, -” স্যার আপনি এখন বাসায় ফিরে যান। আজ কোথাও আর যাবোনা। মোডটা ঠিক নেই। মামা, ওনাকে যেখান থেকে নিয়ে এসেছেন সেখানেই রেখে আসুন।” আমি বাসায় যাচ্ছি অভি বলেই বিদ্যা ওর পার্সটা নিয়ে রাস্তার একপাশ দিয়ে চলতে লাগল। বিদ্যার আচরন মোটেও স্বাভাবিক নয়। এসব ভাবতেই রিক্সা চালক বলে উঠলো, -” মেয়েটা বড্ড ভাল। এমন দরদি মনা মেয়ে খুব কম দেখা যায়। হেই কি আপনের প্রেমিকা?” ও প্রেমিকা না, ও আমার বউ বলে অভি রিক্সা থেকে নেমে রিক্সা চালককে একটা হাজার টাকার নোট দিয়েই বিদ্যার পিছন গেল। বৃষ্টি স্নাত রাস্তায় ভিজতে ভিজতে বিদ্যা চলছে। আজ অনেক কাজ বিদ্যার। মাকে কল দিতে হবে। তারপর বিজয় দাদার মামার সাথে কথা বলতে হবে। তাছাড়া আরো অনেক অনেক কাজ রয়েছে, যেগুলো সন্ধ্যা হওয়ার আগেই জোগাড় করতে হবে। আমি মেয়ে মানুষ হয়ে আর কত কি জোগাড় করবো? কিন্তু আজই সব জোগাড় করতে হবে। ভগবান, আমি তোমার কাছে কোনদিনও কিছু চাইনি। এই জিবনের প্রথম চাওয়াকে তুমি অপূর্ন রেখনা। বিদ্যা কথাগুলো চিন্তা করছিল আর অন্যমনস্ক হয়ে হেঁটে চলছিল। এমন সময় কেউ যেন ওকে জোড়ে টান দিয়ে পিছন টেনে নিল। হঠাৎই এমন কান্ডে বিদ্যা চোখ বন্ধ করেই কেঁপে উঠলো। তারপর চোখ মেলে দেখলো, অভি রাগী লুক নিয়ে ওরই দিকে চেয়ে আছে। -” চোখ আর মন খুলে কি পথ চলতে লাগছো! আর একটু হলেই তো ম্যানহলে পড়ে যেতে। যদি আমি না তোমায় আটকাতাম তাহলে কি হত?” বিদ্যা সামনের দিকে চেয়ে দেখে বৃষ্টির জল রাস্তা থেকে নেমে যাওয়ার জন্য ম্যানহলের ঝাপনি গুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। সত্যই অভি না থাকলে এতক্ষনে ম্যানহলের নোংরা জলে হাবুডুবু খেতে হত। কথা গুলো ভাবতেই বিদ্যার শরীর শিউরে উঠলো। বিদ্যার কোন রেসপন্স না পেয়ে অভি ছাতাটা মেলে বিদ্যার হাত ধরে হাটতে শুরু করলো। বিদ্যা কথা বলছেনা কিন্তু ওর চোখ দিয়ে অঝোড়ে জল গড়িয়ে পড়ছে। মনে শুধু একটাই চাওয়া, প্রভু যেন ওকে হতাশ না করে।

---

[<< পূর্ববর্তী অধ্যায়](https://golpohub.com/episodes/sindurshuddhi-s1-ep21) | [সিরিজ সূচি](https://golpohub.com/series/sindurshuddhi) | [পরবর্তী অধ্যায় >>](https://golpohub.com/episodes/sindurshuddhi-s1-ep23)