{
    "_links": {
        "html": "https://golpohub.com/episodes/sindurshuddhi-s1-ep3",
        "json": "https://golpohub.com/episodes/sindurshuddhi-s1-ep3?format=json",
        "markdown": "https://golpohub.com/episodes/sindurshuddhi-s1-ep3?format=md",
        "rss": "https://golpohub.com/episodes/sindurshuddhi-s1-ep3?format=rss",
        "atom": "https://golpohub.com/episodes/sindurshuddhi-s1-ep3?format=atom"
    },
    "seo": {
        "canonical_url": "https://golpohub.com/episodes/sindurshuddhi-s1-ep3",
        "title": "সিঁদুরশুদ্ধি পর্ব ৩ - অমাবস্যার নাগিনী সংকেত | Sindurshuddhi Part 3",
        "description": "পড়ুন সিঁদুরশুদ্ধি পর্ব ৩। বিদ্যার পরিবারে সাপের অভিশাপ এবং বনে ডানাওয়ালা বামনের সাথে ভয়ংকর লড়াইয়ের সূচনা।",
        "keywords": "সিঁদুরশুদ্ধি পর্ব ৩, sindurshuddhi porbo 3, sindurshuddhi part 3, sindurshuddhi 3, বিদ্যা, অপু, সাধনা, শ্যামল, নাগিনী অভিশাপ",
        "image_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-chapter-2691-27d7b0.webp",
        "schema": {
            "@context": "https://schema.org",
            "@graph": [
                {
                    "@type": "Chapter",
                    "name": "অমাবস্যার নাগিনী সংকেত",
                    "position": 3,
                    "description": "বৌদির ছদ্মবেশে এক বিশাল বিষাক্ত সাপের আক্রমণ থেকে রক্তিম নারী অবয়ব বিদ্যাকে রক্ষা করলেও শ্যামল দম্পতির উপর নেমে আসে অভিশপ্ত সর্পদংশনের দুঃস্বপ্ন। শেষ রাতে জানালার ফাঁক দিয়ে চাঁদের আলোয় ভাসমান ডিম ও ডানাওয়ালা বামনের ধ্বংসলীলা দেখে বিদ্যা কি পারবে নিজেকে ধরে রাখতে?",
                    "url": "https://golpohub.com/episodes/sindurshuddhi-s1-ep3",
                    "inLanguage": "bn",
                    "timeRequired": "PT13M",
                    "datePublished": "2026-09-16T00:34:00+00:00",
                    "dateModified": "2026-09-16T00:37:38+00:00",
                    "wordCount": 2022,
                    "image": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-chapter-2691-27d7b0.webp",
                    "accessibilityFeature": [
                        "readingOrder",
                        "structuralNavigation",
                        "displayTransformability",
                        "uncontracted"
                    ],
                    "accessibilityControl": [
                        "fullKeyboardControl",
                        "fullTouchControl"
                    ],
                    "accessibilityHazard": [
                        "none"
                    ],
                    "potentialAction": {
                        "@type": "ReadAction",
                        "target": "https://golpohub.com/episodes/sindurshuddhi-s1-ep3"
                    },
                    "isPartOf": {
                        "@type": [
                            "BookSeries",
                            "CreativeWorkSeries"
                        ],
                        "name": "সিঁদুরশুদ্ধি",
                        "url": "https://golpohub.com/series/sindurshuddhi"
                    },
                    "author": {
                        "@type": "Person",
                        "name": "নাফিসা মুনতাহা পরী",
                        "url": "https://golpohub.com/authors/nafisa-muntaha-pori"
                    }
                },
                {
                    "@type": "BreadcrumbList",
                    "itemListElement": [
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 1,
                            "name": "Golpo Hub",
                            "item": "https://golpohub.com"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 2,
                            "name": "সিরিজসমূহ",
                            "item": "https://golpohub.com/series"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 3,
                            "name": "সিঁদুরশুদ্ধি",
                            "item": "https://golpohub.com/series/sindurshuddhi"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 4,
                            "name": "অমাবস্যার নাগিনী সংকেত",
                            "item": "https://golpohub.com/episodes/sindurshuddhi-s1-ep3"
                        }
                    ]
                }
            ]
        }
    },
    "filters": [],
    "data": {
        "id": 2691,
        "ep_number": 3,
        "title": "অমাবস্যার নাগিনী সংকেত",
        "slug": "sindurshuddhi-s1-ep3",
        "url": "https://golpohub.com/episodes/sindurshuddhi-s1-ep3",
        "reading_time": 13,
        "thumbnail_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-chapter-2691-27d7b0.webp",
        "yt_video_id": null,
        "yt_video_url": null,
        "timestamps": {
            "published_at": "2026-09-16T00:34:00+00:00",
            "updated_at": "2026-09-16T00:37:38+00:00"
        },
        "meta": {
            "word_count": 2022,
            "seo_title": "সিঁদুরশুদ্ধি পর্ব ৩ - অমাবস্যার নাগিনী সংকেত | Sindurshuddhi Part 3",
            "seo_description": "পড়ুন সিঁদুরশুদ্ধি পর্ব ৩। বিদ্যার পরিবারে সাপের অভিশাপ এবং বনে ডানাওয়ালা বামনের সাথে ভয়ংকর লড়াইয়ের সূচনা।",
            "keywords": "সিঁদুরশুদ্ধি পর্ব ৩, sindurshuddhi porbo 3, sindurshuddhi part 3, sindurshuddhi 3, বিদ্যা, অপু, সাধনা, শ্যামল, নাগিনী অভিশাপ",
            "characters_involved": [
                "বিদ্যা",
                "অপু",
                "সাধনা",
                "শ্যামল"
            ]
        },
        "content": "কাজলে ওলা ভোলা, ওজনে এক তোলা\n\nকেন হে কন্যা, এত রাতে গাছতলা……?\n\nএমন কণ্ঠ শুনেই হচকিয়ে উঠে বিদ্যা পিছন দিকে তাকালো। এ যে তার বড় বৌদি। বৌদি বলেই বিদ্যা দৌড়ে গিয়ে ওর বৌদিকে জড়িয়ে ধরতেই এক তীব্র আলোর ঝালকানি এসে বিদ্যাকে আঘাত করে। সাথে সাথে বিদ্যা মা বলে দুরে ছিটকে গিয়ে পরে। বিদ্যার পুরো শরীর রক্তাক্ত হয়ে যায়। বিদ্যা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। মহিলাটি বিশাল একটা সাপের আকার ধারন করে বিদ্যাকে ছুটে আসে খেতে।\n\nএমন সময় কোথা হতে সেই লাল আলোর ঝলকানি বিদ্যার দিকে ছুটে আসতে লাগল। সেটা দেখে সাপটি রাগে ফুসতে ফুসতে চলে গেল।\n\nলাল আলোর ঝলকানি বিদ্যার পাশে এসেই একটা মহিলার রুপ ধারন করলো। মহিলাটির পুরো শরীর সহ চোখমুখ রক্তের মত টুকটুকে লাল। কোন স্বাভাবিক মানুষ তাকে দেখলে তার ভবলিলা শেষ হয়ে যাবে। মহিলাটি গলা ফাটিয়ে একটা চিৎকার দিয়ে উঠল। সাথে সাথে গাছপালা সহ পুরো মাটি কেঁপে উঠলো।\nপ্রচন্ড রাগে মহিলাটি বিদ্যাকে তুলে অপুদের বাসার উঠানে ছুড়ে ফেলে দিল। উঠানে কয়েকটা মাটির বড় বড় মটকা ছিল। সেগুলোর কাছে গিয়ে একটা লাঠি দিয়ে বিকট শব্দে ভেঙ্গে ফেলল।\n\nশব্দগুলো এতটাই বিকট ছিল যে সবার রাতের ঘুম ভেঙ্গে গেল। আসে-পাশে সহ সকল বাড়ির মানুষদের ঘুম ভেঙ্গে গেল। অপুও বিছানা থেকে ধড়পড় করে উঠতেই কিছু একটা ওর শরীরে প্রবেশ করলো। অপু বিদ্যা বলেই প্রানপনে ছুটল।\n\nরঘুনাথ বাবু রুম থেকে বের হতেই দেখলো অপু সিড়ি দিয়ে দৌড়ে নামছে।\nএই অপু কি হয়েছে রে?\n\n” বাবা, বিদ্যা…. বলেই অপু এক দৌড়ে চলে গেল বাসার বাহিরে।”\n\nঅপু বাহিরে এসে দেখে আশেপাশের সমস্ত জিনিসপত্র ভেঙ্গে পড়ে আছে। চাঁদের আলোয় দুরে দেখতে পেল কেউ একজন পড়ে আছে। কাছে গিয়ে দেখে বিদ্যা। বিদ্যা…. তুই এখানে কেন? বিদ্যার নিথর দেহ দেখে অপুর বুকের ভিরতটা মোচড় দিয়ে উঠল।\n\nততক্ষনে পাশের বাসার হরনাথ কাকাও চলে এসেছে। অপু ওর কি হয়েছে রে?\n\nজানিনা কাকা বলে অপু বিদ্যাকে নিয়ে বাসায় চলে গেল। বাসায় এসে হট্টগল শুরু হল। বিদ্যার শরীর মুছে দিয়ে ওর জামা বদলিয়ে অপু ওর ডাক্তারি সরঞ্জাম বের করে বিদ্যার চিকিৎসা করতে লাগল। অপুর মনে সন্দেহ জাগল, এসব অনুরাধার কাজ নয় তো?\n\nবাসায় এক প্রকার চিল্লাচাটি শুরু হয়ে গেল। এ কোন ভূতে ধরা মেয়েরে বাবা। রাত দুপুরে এমন লীলা শুরু করে দিছে।\n\nঅপু রাগে চিৎকার দিয়ে বলল,” আমার জিনিস আমি সামলিয়ে নিব। এখানে কারো থাকার দরকার নেই।”\nঅপু রুমে আর কাউকে থাকতে দিলনা। সবাইকে বের করে দিল। এরা সবাই পেয়েছেটা কি! কিছু বলিনা বলে দেখছি মাথায় চড়ে সবাই নাচছে।\n\n♥\n\nতিন দিন পর বিদ্যার জ্ঞান ফিরে। অপু এই তিন দিনে অনেক চেষ্টা করেছে বিদ্যার জ্ঞান ফেরানোর কিন্তু কোন কাজ হয়নি। আজ বিদ্যার জ্ঞান ফিরতেই অপুর স্বস্তি ফিরে এসেছে।\nবিদ্যা…. বাহিরে তুই কিভাবে গেলি ?\n\nআমার বৌদি আসছিল দাদা। বৌদিকে জড়িয়ে ধরতেই……. আর মনে নেই।\n\nঅপু এসব কথা বিশ্বাস করেনা কিন্তু রঘুনাথ বাবু বিদ্যার কথা ফেলে দিলোনা। তিনি সেখান থেকে চলে গেলেন।\n\nঅপু বিদ্যাকে আর কিছু না বলে ওকে নিয়ে খাবার রুমে চলে গেল। তিনদিন হল মেয়েটার পেটে কিচ্ছু পড়েনি।\n\n♥\n\nআট দিন পরে,\nভর সন্ধ্যায় শ্যামল বাবু আর তার স্ত্রী সাধনা ত্রিবেদী অপুদের বাসায় আসল। অঞ্জনা দেবী কি তাদের আপ্যায়ন করবেন, তা না করে শ্যামল বাবুর সাথে ঝগড়া করতে শুরু করলেন। এত ছোট মেয়েকে বিয়ে দিতে তাদের লজ্জা করেনা? কোন বেক্কেলে তাদের মেয়েকে অপুর ঘাড়ে গছিয়ে দিয়েছে।\n\nশ্যামল বাবু মুখ না খুললেও বিদ্যার মায়ের মুখ ছুটল। আপনার স্বামীকে বলেন, সেদিন উনি আমার বোকা স্বামীকে পেয়ে ওর সাথে কি ঘটিয়েছিলেন। দেখেন, আমি এত কথা বলতেও চাইনা আর শুনতেও চাইনা। আমার মেয়েকে দিন আমি ওকে এখুনি নিয়ে যাব।\n\nবাসার চিৎকার চেচামিচিতে অপু সহ সবাই সেখানে হাজির হল। আজ অপু কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। বিদ্যা এখান থেকে ওর বাবা মায়ের সাথে চলে গেলে সকল সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।\n\nবিদ্যা কোথা থেকে যেন মা বলে দৌড়ে আসল। সাধনা সাথে সাথে তার মেয়েকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলে। কত সাধনার পর এই বয়সে এসে তার এই একমাত্র মেয়ে। তার স্বামী তাকে না জানিয়ে এত বড় দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে। মেয়েকে পেয়েছে তাই সাধনা আর একমুহুত্ত্বও এখানে থাকবেনা। বিদ্যার কপালে সিঁদুর দেখে সাধনা রেগে যায়। কিসের বিয়ে আর কিসের সিঁদুর বলে বিদ্যার মা সবার সামনে বিদ্যার সিঁদুর মুছতে লাগলো। আমার ছোট মেয়েকে পেয়ে যা ইচ্ছা তাই করা হয়েছে? আমি এসব মানিনা।\n\nঅপুর মায়ের বুকের ভিতর কেমন জানি হুহু করে উঠলো বিদ্যার সিঁদুর মোছা দেখে। দৌড়ে এসে সাধনার হাত ধরে বলল,” দিদি, বিনিয়ের সাথে বলছি আপনি এমন কাজ করেননা। অপুর অকল্যান হবে।”\n\nকার কল্যান হবে আর কার অকল্যান সেটা আমার দেখার বিষয় নয়। আমি আমার মেয়েকে নিয়ে এখুনি চলে যাবো।\n\nএমন সময় রঘুনাথ বাবু আর রমেশ বাসায় এল। এমন পরিস্থিতে উনি পড়বেন সেটা ভাবতেও পারেননি। বাসায় এক প্রকার ঝড় বয়ে গেল। রঘুনাথ বাবু মোটেও রাজি নন বিদ্যাকে তাদের কাছে একবারে দিতে। সাথে এসে যোগ দিল রমেশ সহ রাঘব দু’জনেই। জিবনে একটা ঋন শোধ করার সুযোগ এসেছে সেটা তারা কিছুতেই হাত ছাড়া করতে চায়না। তারা তিন ভাই মিলে শ্যামল আর সাধনার সেবা করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। কিন্তু সাধনা ভোলার পাত্র নয়। শেষে যখন ওদের সাথে পেরে উঠতে পারলোনা তখন সাধনা চিৎকার করে কেঁদে উঠে বলল,” আজ যেমন করে আমার বুকের কলিজা আপনারা টেনে ছিড়ে নিলেন ঠিক এমনই একদিন আপনাদের বুকের ধন কেউ কেড়ে নিবে।”\nসাধনা তার স্বামীকে নিয়ে চলে গেল সেদিনই রাতে। সবাই বারন করা সত্ত্বেও সাধনা কারো কথা না মেনে চলে আসলো।\n\nকলকাতার একটা বড় হোটলে তারা রাত্রি যাপন করার জন্য উঠল। সাধনা সেই কখন থেকে কেঁদেই চলছে। শ্যামল শান্ত গলায় বলল,” সাধনা কাঁদছো কেন? দেখছোনা, ওরা বিদ্যাকে কত ভালো রাখছে? বিদ্যা পর্যন্ত আমাদের সাথে আসতে চাইলোনা।”\n\nওরা আপনাকে ভূল বুঝিয়েছে। আপনি জানেন, আমরা আমাদের মেয়েকে আর কোনদিন জিবিত অবস্থায় ফেরত পাবোনা। ওদের বাড়ীর দোষ আছে। অপুর দোষ আছে। এই জন্য অপুকে দুরে রেখে মানুষ করেছে। ওরা আমাদের বিদ্যাকে ঐ দোষের কাছে ভোগ হিসেবে দিয়েছে। ওরা আর বিদ্যাকে বাঁচতে দিবেনা। হে আমার প্রভূ, আমাকে সন্তান দিয়ে আবার কেন কেড়ে নিলে?\n\nশুধু আপনার জন্য আর আপনার ভূল সিদ্ধান্তের জন্য ওরা এই কাজটা করার সুযোগ পেল। আমি এখন কিভাবে আমার মেয়েকে বাঁচাবো? সব কিছু এখন আমাদের হাতের বাহিরে।\n\nবিদ্যার মা সাধনা কিছু টুকটাক জানে। সেই ক্ষমতার মাধ্যমে ও সব কিছু জানতে পেরেছে। এতদিন তারা ইন্ডিয়াতেই ছিল। স্বামীকে এতবার বলেছে বিদ্যা কোথায় কিন্তু তিনি মুখ খোলেননি। তাই সাধনা দেশ ছেড়েও যায় নি। কিন্তু আজ যখন শ্যামলের মন আর মানলোনা তখন সে, সাধনাকে অপুদের বাসায় নিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। ওদের উঠানে পা দিয়েই সাধনা সব কিছু বুঝতে পারে, বিদ্যার সাথে কিছুদিন আগে কি ঘটেছে।\n\nশ্যামল এতকিছু ভেবে উঠতে পারেনি। উপকারের এতবড় প্রতিদান রঘুনাথ তাকে দিবে সেটা শ্যামল জানতো না। শ্যামলের বুকের ভিতর তোলপাড় হয়ে যাচ্ছে। এতবড় ভূল সে কিভাবে করলো। নিজের মেয়ের থেকে রঘুনাথ তার কাছে বড় হয়ে গেল?\n\nনানা দুঃশ্চিন্তার কারনে তারা স্বামী-স্ত্রী আজ দু’জনই বিদ্ধস্ত। অনেক রাত হয়ে যায়। সাধনার চোখটা কেবল লেগে আসছে এর মধ্য ও খুব ভয়ঙ্কর একটা স্বপ্ন দেখে। ওর পাঁচটা ছেলেকে সাপে কেটেছে। শেষে সাপটা ওর স্বামীর পুরো শরীর পেঁচিয়ে ধরে বুকে ফোনা তুলে ফোস ফোস করছে।\nসাথে সাথে সাধনার ঘুম ভেঙ্গে যায়। সাধনা চোখ খুলতেই ওর পিলে চমকে গেল। সত্যি সত্যি এক বিশাল সাপ শ্যামলের পুরো শরীর পেঁচিয়ে আছে।\n\nসাধনা উঠতেই সাপটা ঘুরে তাকালো সাধনার দিকে। সাপটি সাথে সাথে সাধনার দিকে বিষ ছুড়ে মারলো। বিষ এসে সাধনার শরীরে পড়তেই সেখানে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে লাগলো। সাধনা চিৎকার দিয়ে আগুন নিভাতে ব্যস্ত হয়ে গেল। চামড়া সহ মাংস ধলসে যেতে লাগল।\n\nসাধনার চিৎকারে শ্যামল জেগে উঠেই অনুভব করলো ওকে কিছু আবদ্ধ করে রেখেছে। এদিক ওদিক তাকাতেই বুঝতে পাড়লো বিশাল একটা সাপ ওকে জড়িয়ে আছে আর সাধনা পাগলে মত দাঁপিয়ে চলছে।\n\nসাধনা ঐ জলন্ত হাত নিয়েই ফ্লোরে বসে পড়ল। একসময় আগুন নিভে গেল। হাত আগের মত হল কিন্তু ভিতরের জ্বালা থামলোনা। সাধনা বসে থেকেই কাটা মুরগির মত ছটপটাতে লাগলো।\n\nএবার সাপটি মুখ খুলল, কালকের মধ্যই এই দেশ ছেড়ে চলে যাবি। যতক্ষন না দেশ ছেড়ে চলে যাবি, ততক্ষন পর্যন্ত এই যন্ত্রনা উপভোগ করবি। এর পর তোর স্বামী আর তোর পাঁচ সন্তান উপভোগ করবে। এবার ভাব, তোর মেয়ে চাই, না স্বামী-সন্তানের জিবন চাই। বিদ্যা এখন শুধুই আমার বলেই উধাও হয়ে গেল সাপটি।\n\nশ্যামল থর থর করে কেঁপেই চলছে। দু’জনের উপর দিয়ে আজ বিশাল ঝড় বয়ে গেল।\n\n♥\n\nশেষ রাত্রির দিকে, অপু ঘুমাচ্ছে আর বিদ্যার ঘুম ভেঙ্গে গেছে খানিকক্ষন আগে। বিদ্যা বিছানা ছেড়ে উঠে জানালার কাছে দাড়ালো। অন্ধকার রুম তবুও ভয় লাগছেনা। আকাশের দিকে তাকাতেই মনে হচ্ছে চাঁদ ভিষন জোড়ে দৌড়াচ্ছে। চাঁদ মামা কখনো দৌড়াই? চাঁদ মামা এত দৌড়াচ্ছে কেন? দাদাকে ডাকবো?\n\nচাঁদের নিচ দিয়ে মেঘ ছুটে চলছে তাই বিদ্যার মনে হচ্ছে চাঁদ দৌড়াচ্ছে। বাড়ির পিছনে অনেক জঙ্গল। বিদ্যাকে ওদিকে যাইতে নিষেধ করেছে অপু। ওদিকটার আরও উত্তর দিকে বিশাল বাঁশ ঝাড়। তার নিচে চাষাবাদ করার জমি আছে। এবার বর্ষায় সব ডুবে গেছে।\n\nএমন সময় খুব জোড়ে বাতাস বইতে লাগলো। বিদ্যা দোতলার রুম থেকে জানালা দিয়ে বাহিরের পুরো আবছা অন্ধকার পরিবেশ দেখছে। বাতাসে ওর চুলগুলো উড়ছে সেটা ওর ভালো লাগছে। এমন সময় জোড়ে বিকট শব্দে কোথায় যেন হঠাৎ বাজ পড়লো। বিদ্যা কেঁপে উঠল। জানালা থেকে দৌড়ে চলে আসবে এমন সময় চোখ পড়ল একটা ঝোপের দিকে। চাঁদটা যখন মেঘ দিয়ে ঢেকে যাচ্ছে তখন একটা নারী ছায়া সেখানে বসে থাকতে দেখাচ্ছে। আবার যখন চাঁদের নিচ থেকে মেঘ সরে যাচ্ছে তখন সেখানে চাঁদের আলো পড়তেই ছায়া মূর্তি অদৃশ্য হয়ে যায়। তার পাশে একটা বিশাল সাপ কুন্ডলী পাকিয়ে মাথা নিচু করে ঝিমুচ্ছে। তার পাশে অনেকগুলো সাদা সাদা ডিম জ্বল জ্বল করে জ্বলছে।\n\nবিদ্যা চোখ ফিরাতেই পারছেনা। এক ধ্যানে সেদিকে চেয়ে রয়েছে। এমন সময় মুষুল ধারে বৃষ্টি নামতে লাগল আকাশ হতে। বৃষ্টির ছিটা এসে বিদ্যাকে ভিজিয়ে দিচ্ছে। বিদ্যা যেন কিছুই অনুভব করতে পারছেনা।\n\nপ্রচন্ড বৃষ্টির জন্য সাপটি বিশাল ফনা তুলে সেই নারী ছায়া এবং উজ্জ্বল ডিমগুলোর ছাতা হয়ে দাড়াল। যখনই বাজ পড়ছে সাথে সাথে সাপ, ছায়া, ডিম সবগুলোই অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে। খানিক পর আবার দৃশ্যমান হচ্ছে।\n\nঅদুরে আবার বাজ পড়ল আর সাথে সাথে অদৃশ্য হয়ে গেল তারা। কিন্তু খানিকপড় আবার দৃশ্যমান হতেই একটা পাখা ওয়ালা বামুন আকৃতির কালো প্রানী এসেই সাপের মাথায় আঘাত করলো।\n\nসাপটি ছিটকে দুরে গিয়ে পড়ে। তারপর বামনটি হা করতেই সাদা ধবধবে কাঠপেন্সিলের মত কিছু একটা তার মুখ দিয়ে বের হতে লাগল। প্রতিটা কাঠপেন্সিলের ছোট ছোট দুটো পাখা রয়েছে। কিছু পেন্সিল গিয়ে নারী ছায়াকে আবদ্ধ করে ফেলল আর কিছু পেন্সিল সাপটির চারদিকে ঘুরতে লাগল।\n\nবামনটি দুই হাত মেলিয়ে দিল। তারপর দুই হাত একসাথে নিচে নামিয়ে ইশারা করল। সেখান থেকে দশটি পেন্সিল শূণ্যতে ভাঁসতে লাগল। তাদের মালিকের আদেশ পেতেই ওরা ওদের পাখা নিমিষেই গুটিয়ে নিয়ে ঐ উজ্বল ডিম গুলোর দিকে ছুটতে লাগল। সাথে সাথে ঐ নারী অবয়কটি আর্ত্বনাদে চিৎকার দিয়ে উঠলো। পেন্সিল গুলো ঐ সাপ আর নারী অবয়ককে কাবু করে ফেলল। দুজনেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। দু’চোখ মেলে শুধু পেন্সিলগুলোর ধ্বংসাত্মক খেলা দেখতে লাগলো। তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার মত অবশিষ্ট শক্তি আর রইলোনা।\n\nএদিকে ১০টি পেন্সিল ডিমের উপর দাড়িয়ে ওদের পাখা মেলে দিল। তারপর আবার শক্তি সঞ্চয় করে পাখা নিচের দিকে গুটিয়ে নিয়েই প্রচন্ড শক্তিতে ডিমের উপর ঘুরতে লাগল। এমন করে ঘুরতে লাগলো যেন মনে হয়, কোন দেয়ালে ইলেক্ট্রিক ড্রিল মেশিন দিয়ে পেরক পুতছে।\nপেন্সিলগুলো ডিম স্পর্শ করতেই সেই ডিমগুলো উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হতে লাগলো। ডিম আর পেন্সিলের ঘর্ষনে ৬টা পেন্সিল বিকট শব্দে ধংস হয়ে গেল।\n\n৪টা পেন্সিল সাফল্য পেয়ে ঘুরতে ঘুরতে ডিমের ভিতর গেঁথে গেল। সাদা পেন্সিল গুলো সাদা থেকে আস্তে আস্তে লাল হতে লাগল। ডিমের ভিতর পুরোটা শ্বসন করে সেই বামনের কাছে গিয়ে ওর শরীরের সাথে মিশে গেল। বামনটি আবার হা করতেই হাজার হাজার সাদা পেন্সিল বের হয়ে বাঁকি ৬টা ডিমের দিকে ছুটে গেল।\n\nবিদ্যা এসব দেখে আর স্থির হয়ে থাকতে পারলোনা। বিদ্যা এসে অপুর সাত ব্যাটারির টর্চ লাইটটা পাগলের মত খুজতে লাগল। শেষে ড্রেসিংটেবিলের ড্রয়ার থেকে টর্চটা নিয়ে রুম থেকে বের হল। কিন্তু বাহিরের দরজায় এসে থেমে যেতে হল। অত উঁচুতে কিভাবে উঠে দরজা খুলবে। অবশেষে বুদ্ধি খাটিয়ে, দুইটা টুল জোড়া দিয়ে তার উপর উঠে দরজার লাঠিটা খুলল। বিদ্যা টুল থেকে নেমে লাইটটা নিয়ে বাহিরে ছুটল।\n\n♥\n\nসাপ আর ছায়া অবয়কটি যখন দেখল আর তাদের রক্ষা নেই তখন তারা আশে-পাশের সাহায্যর জন্য চিৎকার দিয়ে অদ্ভুদ আওয়াজ করতেই ওদের মুখ থেকে ৬টা উজ্জ্বল আলোর বলয় চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল।\n\nবিদ্যা লাইট জ্বালিয়ে প্রানপনে ছুটছে বাসার পিছনে জঙ্গলের দিকে। জঙ্গলের কাছে আসতেই একটা আলোর বলয় রশ্মি এসে বিদ্যাকে আঘাত করে ওর ভিতর মিশে গেল। তারপর এক এক করে ৫টা বলয় রশ্মি বিদ্যার সামনে হাজির হল। এক এক করে সবাই মিশে গেল বিদ্যার শরীরে। সাথে সাথে বিদ্যার শরীরের অর্ধেক অংশ মানে বুকের নিচ থেকে পা অবদি অদৃশ্য হয়ে গেল। শুধু বিদ্যার বুক অবদি দৃশ্যমান হল।\n\nবিদ্যা এক নিমিষেই ঐ বামনের কাছে গিয়ে হাজির হল। ততক্ষনে ঐ পেন্সিলগুলো আর একটা ডিম আধা ভেঙ্গে ফেলতে সক্ষম হয়। বামনটি দু’পাখা মেলে শূন্যতে ভেঁসে আছে আর পেন্সিলগুলো তাদের কাজ করছে।\n\nবিদ্যা গিয়ে বামনের এক পাখা ধরে পাশের লম্বা কাঁটাযুক্ত অদ্ভুদ সিমল গাছে একটা আছাড় মারে। বামনের শরীর সাথে সাথে কাঁটার মধ্য গেঁথে গেল। সমস্ত পেন্সিল ওখানেই স্থির হয়ে গেল। কিন্তু মহা বিপদ ঘটল সিমল গাছকে নিয়ে। বামনের রক্তের স্বাধ পেয়ে সে এবার হাজার বছর পর জেগে উঠল। ওর লম্বা লম্বা শেকড় দিয়ে বিদ্যাকে ধাওয়া করলো…..",
        "series": {
            "id": 74,
            "title": "সিঁদুরশুদ্ধি",
            "slug": "sindurshuddhi",
            "url": "https://golpohub.com/series/sindurshuddhi",
            "thumbnail_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/series-sinndursuddhi-74-bfe384.webp",
            "progress_status": "completed"
        },
        "author": {
            "id": 37,
            "name": "নাফিসা মুনতাহা পরী",
            "slug": "nafisa-muntaha-pori",
            "url": "https://golpohub.com/authors/nafisa-muntaha-pori",
            "avatar_url": "https://cdn.golpohub.com/avatars/nafisa-muntaha-pree-37-9f7c4d.webp",
            "bio": "নাফিসা মুনতাহা পরী সমসাময়িক বাংলা অনলাইন সাহিত্যের একজন অন্যতম জনপ্রিয় ও রহস্য-রোমাঞ্চ ঘরানার শক্তিশালী লেখিকা। মানবিক আবেগের জটিল রসায়ন, চিরায়ত প্রেমের অবিনাশী টান এবং অতিপ্রাকৃত অলৌকিক আখ্যানের মেলবন্ধনে তিনি একের পর এক সৃষ্টি করেছেন পাঠকপ্রিয় সব উপন্যাস। তাঁর লেখনীতে প্রতিটি চরিত্রের মানসিক দ্বন্দ্ব, নিঃশব্দ আত্মত্যাগ এবং সামাজিক বাস্তবতার নিখুঁত প্রতিফলন ঘটে।\n\n'সিঁদুরশুদ্ধি' উপন্যাসে তিনি চিরাচরিত রোম্যান্সের গণ্ডি পেরিয়ে পুনর্জন্ম, অতিপ্রাকৃত পিশাচলোক ও অমল বিশ্বাসের যে রূপরেখা নির্মাণ করেছেন, তা বাংলা ওয়েব ফিকশনের জগতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পাঠকদের ধরে রাখার তীব্র সাসপেন্স ও হৃদয়স্পর্শী সংলাপ তাঁর লেখার প্রধানতম শক্তি।",
            "series_count": 0,
            "meta": {
                "bio": "নাফিসা মুনতাহা পরী সমসাময়িক বাংলা অনলাইন সাহিত্যের একজন অন্যতম জনপ্রিয় ও রহস্য-রোমাঞ্চ ঘরানার শক্তিশালী লেখিকা। মানবিক আবেগের জটিল রসায়ন, চিরায়ত প্রেমের অবিনাশী টান এবং অতিপ্রাকৃত অলৌকিক আখ্যানের মেলবন্ধনে তিনি একের পর এক সৃষ্টি করেছেন পাঠকপ্রিয় সব উপন্যাস। তাঁর লেখনীতে প্রতিটি চরিত্রের মানসিক দ্বন্দ্ব, নিঃশব্দ আত্মত্যাগ এবং সামাজিক বাস্তবতার নিখুঁত প্রতিফলন ঘটে।\n\n'সিঁদুরশুদ্ধি' উপন্যাসে তিনি চিরাচরিত রোম্যান্সের গণ্ডি পেরিয়ে পুনর্জন্ম, অতিপ্রাকৃত পিশাচলোক ও অমল বিশ্বাসের যে রূপরেখা নির্মাণ করেছেন, তা বাংলা ওয়েব ফিকশনের জগতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পাঠকদের ধরে রাখার তীব্র সাসপেন্স ও হৃদয়স্পর্শী সংলাপ তাঁর লেখার প্রধানতম শক্তি।",
                "phone": null,
                "gender": null,
                "address": [],
                "birth_date": null,
                "social_links": [],
                "pen_name": "নাফিসা মুনতাহা পরী",
                "aliases": [
                    "Nafisa Muntaha Pori",
                    "পরী",
                    "Nafisa Muntaha"
                ]
            },
            "timestamps": {
                "created_at": null,
                "updated_at": null
            }
        },
        "navigation": {
            "previous_episode": {
                "id": 2690,
                "ep_number": 2,
                "title": "অলৌকিক আলোর আর্তনাদ",
                "slug": "sindurshuddhi-s1-ep2",
                "url": "https://golpohub.com/episodes/sindurshuddhi-s1-ep2",
                "thumbnail_url": "https://golpohub.com/assets/images/og.jpg"
            },
            "next_episode": {
                "id": 2692,
                "ep_number": 4,
                "title": "অগ্নিবলয়ের রুদ্র পাহারা",
                "slug": "sindurshuddhi-s1-ep4",
                "url": "https://golpohub.com/episodes/sindurshuddhi-s1-ep4",
                "thumbnail_url": "https://golpohub.com/assets/images/og.jpg"
            }
        }
    }
}