{
    "_links": {
        "html": "https://golpohub.com/episodes/songin-pronoyasokti-s1-ep11",
        "json": "https://golpohub.com/episodes/songin-pronoyasokti-s1-ep11?format=json",
        "markdown": "https://golpohub.com/episodes/songin-pronoyasokti-s1-ep11?format=md",
        "rss": "https://golpohub.com/episodes/songin-pronoyasokti-s1-ep11?format=rss",
        "atom": "https://golpohub.com/episodes/songin-pronoyasokti-s1-ep11?format=atom"
    },
    "seo": {
        "canonical_url": "https://golpohub.com/episodes/songin-pronoyasokti-s1-ep11",
        "title": "সঙ্গীন প্রণয়াসক্তি পর্ব ১১ - বৃষ্টিভেজা তপ্ত সমর্পণ | Songin Pronoyasokti Part 11",
        "description": "পড়ুন সঙ্গীন প্রণয়াসক্তি পর্ব ১১। ঝুম বৃষ্টিতে ক্রীতিক ও অরুর বাইক রাইড এবং অবাধ্য অনুভূতির সংঘাত।",
        "keywords": "সঙ্গীন প্রণয়াসক্তি পর্ব ১১, songin pronoyasokti porbo 11, songin pronoyasokti part 11, songin pronoyasokti 11, ক্রীতিক, অরু, জ্যাকসন, সায়নী",
        "image_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-1432-6f1c27.webp",
        "schema": {
            "@context": "https://schema.org",
            "@graph": [
                {
                    "@type": "Chapter",
                    "name": "বৃষ্টিভেজা তপ্ত সমর্পণ",
                    "position": 11,
                    "description": "রেসিং ট্র্যাকে মায়ের অপমানের প্রতিশোধ নিতে প্রতিপক্ষকে হকিস্টিক দিয়ে পিটিয়ে রক্তারক্ত করে তোলে জেকে। ঝুম বৃষ্টির মাঝে সেই উন্মাদকে থামাতে গিয়ে বাইকের পেছনে চড়ে বসা অরু কি বুঝতে পারছে তার রক্তে ক্রীতিক কোন নিষিদ্ধ নেশার বিষ ঢেলে দিচ্ছে?",
                    "url": "https://golpohub.com/episodes/songin-pronoyasokti-s1-ep11",
                    "inLanguage": "bn",
                    "timeRequired": "PT22M",
                    "datePublished": "2026-08-27T22:02:18+00:00",
                    "dateModified": "2026-09-06T01:34:10+00:00",
                    "wordCount": 3418,
                    "image": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-1432-6f1c27.webp",
                    "isPartOf": {
                        "@type": [
                            "BookSeries",
                            "CreativeWorkSeries"
                        ],
                        "name": "সঙ্গীন প্রণয়াসক্তি",
                        "url": "https://golpohub.com/series/songin-pronoyasokti"
                    },
                    "author": {
                        "@type": "Person",
                        "name": "সুরাইয়া রাফা",
                        "url": "https://golpohub.com/authors/suraiya-rafa"
                    }
                },
                {
                    "@type": "BreadcrumbList",
                    "itemListElement": [
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 1,
                            "name": "Golpo Hub",
                            "item": "https://golpohub.com"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 2,
                            "name": "সিরিজসমূহ",
                            "item": "https://golpohub.com/series"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 3,
                            "name": "সঙ্গীন প্রণয়াসক্তি",
                            "item": "https://golpohub.com/series/songin-pronoyasokti"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 4,
                            "name": "বৃষ্টিভেজা তপ্ত সমর্পণ",
                            "item": "https://golpohub.com/episodes/songin-pronoyasokti-s1-ep11"
                        }
                    ]
                }
            ]
        }
    },
    "filters": [],
    "data": {
        "id": 1432,
        "ep_number": 11,
        "title": "বৃষ্টিভেজা তপ্ত সমর্পণ",
        "slug": "songin-pronoyasokti-s1-ep11",
        "url": "https://golpohub.com/episodes/songin-pronoyasokti-s1-ep11",
        "reading_time": 22,
        "thumbnail_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-1432-6f1c27.webp",
        "yt_video_id": null,
        "yt_video_url": null,
        "timestamps": {
            "published_at": "2026-08-27T22:02:18+00:00",
            "updated_at": "2026-09-06T01:34:10+00:00"
        },
        "meta": {
            "word_count": 3418,
            "chapter_number": 11,
            "seo_title": "সঙ্গীন প্রণয়াসক্তি পর্ব ১১ - বৃষ্টিভেজা তপ্ত সমর্পণ | Songin Pronoyasokti Part 11",
            "seo_description": "পড়ুন সঙ্গীন প্রণয়াসক্তি পর্ব ১১। ঝুম বৃষ্টিতে ক্রীতিক ও অরুর বাইক রাইড এবং অবাধ্য অনুভূতির সংঘাত।",
            "keywords": "সঙ্গীন প্রণয়াসক্তি পর্ব ১১, songin pronoyasokti porbo 11, songin pronoyasokti part 11, songin pronoyasokti 11, ক্রীতিক, অরু, জ্যাকসন, সায়নী",
            "characters_involved": [
                "ক্রীতিক",
                "অরু",
                "জ্যাকসন",
                "সায়নী",
                "অনু"
            ]
        },
        "content": "<p>মেঘ আর কুয়াশার চাদরে ঢেকে আছে ধরনী।উদীয়মান সূর্যের নিয়ন আলোয় চারিপাশ একটু হলেও পরিষ্কার দেখাচ্ছে। নয়তো আজ মোটেই রোদ্রজ্জল কোন দিন নয়।\nসাভাবিক হাইওয়ে রাস্তার থেকেও কয়েকগুণ প্রসস্থ পিচ ঢালা কুচকুচে কালো রাস্তার মাঝ বরাবর এক নাগারে সাদা রঙের ব্রোকেন লাইন রোড মার্কিং টানা।ঠিক তার দুইপাশে পাহারাদারের মতো মাথা উঁচিয়ে দাড়িয়ে আছে ছোট বড় সারিসারি ম্যাপল গাছ।ম্যাপল গাছের ছোট ছোট বিশেষ আকারের রঙিন পাতাগুলি যেন একেক’টা শিল্পের নান্দনিক কারুকাজ। দেখলে মনে হবে রোদহীন মেঘে ঢাকা দিনে রাস্তার পাশের এই লাল কমলা ম্যাপল লিফ গুলোই আলো ছড়াচ্ছে পুরো রাস্তা জুড়ে,ইভেন উইথ আউট এনি সিঙ্গেল প্যানি…</p><p>পথচারীদের যাতায়াত সুবিধার্থে সুন্দর আকর্ষনীয় ম্যাপল গাছের অন্যপাশ দিয়ে চলে গিয়েছে আরও একখানা তকতকে সরু রাস্তা।\nসেই রাস্তা ধরেই পায়ে পায়ে এগুচ্ছে সায়নী আর অরু। চাশমিশ আর এক্সট্রোভার্ট সায়নী বরাবরের মতোই এক মনে কথার দোকান খুলে বসেছে, ওদিকে ওর একটা কথাও অরু ভালোমতো মন দিয়ে শুনছে কিনা সেটা বোধ করা দুষ্কর। সায়নীর কথা মন দিয়ে না শোনার অবশ্য যথাযথ কারন আছে বৈকি।\nধবধবে শুভ্র রঙা চিকনকারী চুড়িদার সেই সাথে গ্রে রঙের উলের পাতলা সোয়েটার পরে পুরোদমে বাঙালি সেজেই ঘুরে বেরাচ্ছে অরু। ওদিকে সায়নীর পরনে স্কিনি জিন্সের সাথে ভারী কালো কোর্ট।\nআজ রবিবার, মানে উইকএন্ড। এই মেঘলা শীতল উইকএন্ডের সকাল বেলা কম্ফোর্টার মুড়ি দিয়ে কেবলই এপাশ থেকে ওপাশ ঘুরে শুয়েছিল অরু। তখনই শুরু হয় সায়নীর একের পর এক কল। যেহেতু অরুর মোবাইলটা ক্রীতিক ভে’ঙে ফেলেছে তাই অনুর নাম্বারেই আপাতত কলের ঝড় তুলে ফেলেছে সায়নী।</p><p>শেষ মেশ না পেরে বিদেশী আদলের একমাত্র বাঙালী বান্ধবীর কথা রাখতেই সকাল সকাল ক্যাম্পাসে চলে এসেছে অরু। সায়নীর আর্জি একটাই আজ বাইক রেসিং ক্লাবে রাইডিং কম্পিটিশন আছে, জেকে ও থাকবে সেখানে। আর সায়নী অরুকে সাথে করে সেখানে নিয়ে তবেই যাবে।\nপ্রথমে একটু গাইগুই করলেও পরক্ষণে ক্যাম্পাসে এসে সায়নীর কথা রক্ষার সার্থকতাটা ধরতে পেরেছে অরু। মনে মনে অনেকটা খুশিও হয়েছে সায়নীর প্রতি, তার কারণ সকাল সকাল ক্যাম্পাসের গেইটেই দর্শন মিলেছে পছন্দের শ্যাম পুরুষের।অরুই নিখিল কে আগে দেখেছে, তবে কথা বলার সাহস পায়নি, কিন্তু নিখিল যখন অরুকে দেখলো, তৎক্ষনাৎ হাক পেরে নাম ধরে ডেকে উঠল সে,</p><p>— এই যে, অরোরা?\nঅরুকে আর পায় কে,দ্রুত পেছন ঘুরে সামনে গিয়ে দাড়ালো নিখিল ভাইয়ের,\nঅরু কাছে আসতেই নিখিল শুধালো,\n— অরোরা তুমি ঠিক আছো? না মানে কালকে ওভাবে।\nকালকের কথা মনে পরতেই,ওর দৃশ্যপটে ভেসে ওঠে নিখিল ভাই আর সেই বিদেশিনীর একান্ত ব্যাক্তিগত উপচে পড়া হাসিখুশি মূর্হুতের ঘটনা। কেন এতো হাসছিল ওরা দুজন?আর মেয়েটাই বা কে? নিখিল ভাইয়ের বন্ধু? শুধুই কি বন্ধু?</p><p>অপার্থিব কিছু অপরিপক্ক প্রশ্ন আর কিছু অনাকাঙ্খিত মূহুর্তের কথা মাথায় কড়া নাড়ছে বারংবার। যার দরুন অরুর হাস্যোজ্জল মুখটা চুপসে এইটুকুনি হয়ে গেলো মূহুর্তেই।নিখিল ভাইয়ের এতোটা আগ্রহী প্রশ্নের জবাবটাও আর মুখ ফুটে দেওয়ার ইচ্ছে জাগলো না মনে।\nকিন্তু নিখিলের পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য তখন একটুও প্রস্তুত ছিলোনা অরু। ও ভাবেনি,এরপর নিখিল যেটা বলবে তাতে ওর এসব অযাচিত ছেলেমানুষী দুশ্চিন্তা হাওয়ায় মিলিয়ে যাবে ক্ষনিকের মাঝে। তবে কথায় আছেনা বাস্তবের চেয়ে ভাবনারা একধাপ পিছিয়ে থাকে, সেসময় তাই হলো,\nঅরু কথার কোনো জবাব দিচ্ছে না দেখে নিখিল আগ বাড়িয়েই বললো,</p><p>—নেক্সট উইকএন্ডে আমাদের ব্যাচের একটা ছোটখাটো রিচার্জ টীম যাবে পাহাড়ে। বেশি দূরে নয় কাছেই এক দিনের ট্যুর। ফ্রিতে এডভেঞ্চার আর ঘোরাঘুরির সুযোগটা কেউ মিস করতে চাচ্ছে না তাই অনেক জুনিয়ররাও যাবে। তুমিও চাইলে যেতে পারো। আমি ব্যাবস্থা করে দেবো।\nলাজুক অরু ঠাস করে বলে দিতে পারলো না যে হ্যা হ্যা নিখিল ভাই, আমিও যেতে চাই আপনার সাথে। তার বদলে ছোট্ট করে হুম শব্দটা উচ্চারন করে শুধু একপাশে মাথা কাত করে সম্মতি জানালো ও ।\nঅরুর সম্মতি জানাতে যতক্ষণ, তারপর আর এক দন্ডও দাঁড়ালো নিখিল। প্রচন্ড বেগে একপ্রকার তাড়া দেখিয়ে তৎক্ষনাৎ যায়গা ত্যাগ করলো সে।</p><p>সেই তখন থেকে জেকে স্যারের গুনগান করে যাচ্ছে সায়নী, মাঝেমধ্যে নিজের কথার সামিল করতে দুএকবার অরুকেও বলছে,\n—তাই না বলো?\nঅরু সায়নীর কথা মতো হুম, হা করছে ঠিকই তবে ওর মনে চলছে অন্যকিছু। সেটাও অন্যকাউকে নয় সয়ং ক্রীতিককে নিয়েই। ও ভাবছে ট্যুরের কথাটা আপা জানলে যেমন তেমন, বকা ঝকা করে হলেও শেষমেশ যেতে দিতে রাজি হবে। কিন্তু ক্রীতিক? এই ঘার ত্যারা লোকতো জীবনেও রাজি হবেনা। উল্টে এমন ভাবে চোখ রাঙাবে,যে ভ’য়ে অরুর ছোট্ট হৃদপিন্ডটা ওখানেই কাজ করা বন্ধ করে দেবে। তাহলে সাধ করে নিখিল ভাই কে যে আশ্বাস দিয়ে এলো তার কি হবে??</p><p>—এ্যাই অরু, শুনতে পাচ্ছো আমার কথা??\nহুট করে সায়নীর কনুইয়ের গুঁতোয় সম্বিত ফিরে পেলো অরু, ও কাঠেল পুতুলের ন্যায় উপর নিচ হ্যা সূচক মাথা নাড়িয়ে বললো,\n— হ্যা হ্যা, শুনছি বলো বলো,তারপর?\nসায়নী ভ্রু কুচঁকে বিরক্তি ভাব প্রকাশ করে বলে,\n—কিসের তারপর?? দেখো আমরা চলে এসেছি, অলরেডি রেসিং শুরু হয়ে গিয়েছে তাড়াতাড়ি এসো।\nরাস্তার দু’ধারে থ্রি’লিং প্রিয় মানুষদের শ’য়ে শ’য়ে ভীর। সেই গাদাগাদি আর ভীরের ফাঁক গলিয়ে ওরা দুজনও যায়গা করে নিলো রাস্তার এক কোনে। ওরা যতক্ষণে এসেছে ততক্ষণে বাইকার’রা ইতিমধ্যে প্রতিযোগিতায় ব্যাস্ত।\nঅডিয়েন্সদের পাশে এসে দাড়াতে দাড়াতে অরু শুনতে পেলো জেকে নামের উচ্ছ্বাস। তারমানে সায়নী শুধু একা নয় এরাও রাইডার জেকের ভক্ত।\nআচ্ছা এরা কেন এতো পাগল ক্রীতিকের জন্য? এরা কি আদৌও জানে ক্রীতিক কতোটা নির্দ’য়? ক্রীতিক মোটেই এই জনপ্রিয়তা ডিজার্ভ করেনা, চারিদিকে জেকের জয়জয়কার শুনে এসব উল্টোপাল্টা কথায়ই ভাবছিল অরু। তখনই সায়নী আবারও অরুকে ডেকে বলে,</p><p>— ওমাই গড, ওমাই গড দেখো দেখো এ্যাগেইন চ্যাম্পিয়ন।\nঅরুও এবার সচকিত হয়ে বাইক গুলোর দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো। সকালের উরন্ত পেজা তুলোর মতো শুভ্র মেঘ এতোক্ষনে কালো মেঘে পরিনত হয়েছে।চারিদিকে মেঘ ভেজা দমকা হাওয়া আর ঝিরঝিরি বৃষ্টিতেই বাইক রাইডিং এর শেষ রাউন্ড শেষ হয়েছে মাত্র।রেচিংএর মেইন পয়েন্ট ওদের থেকে খানিকটা দুরে হবার কারণে চোখ উঁচিয়ে দেখতে হয় সেখানটা। তবে এতোটা দূর থেকেও স্ট্যান্ড করানো বাইক গুলোর মধ্যে সারির প্রথম বাইকটাতে বসা ব্ল্যাক লেদার জ্যাকেট আর ব্ল্যাক হেলমেট পরিহিত বাইকার টাই যে ক্রীতিক সেটা বুঝতে বাকি নেই অরুর।\nকারণ জেকের বডি স্ট্রাকচার সবার থেকে আলাদা। কাল্পনিক গ্রীক গডের বাস্তব চিত্র বলা চলে। এক ঝলকে দেখলে মনে হবে উপরওয়ালার শখের কারুকাজ এই জায়ান ক্রীতিক নামক সুদর্শন পুরুষটা। তবে ক্রীতিকের সৌন্দর্য নিয়ে অরুর এসব অগভীর ভাবনা বেশিক্ষণ স্থায়ী হলোনা, তার আগেই চোখের সামনে দৃশ্যমান হলো এক অপ্রীতিকর নি’ন্দনীয় ঘটনা। অরুদের থেকে বেশ অনেকটা দুরে রাস্তার ঠিক মাঝখানে ফেলে অন্য এক প্রতিযোগিকে হ’কিস্টিক দিয়ে ইচ্ছে মতো মার’ছে ক্রীতিক। ওর মা’রে’র গতিবেগ এতোটাই বেশি যে লোকটা উঠে দাঁড়ানোর সুযোগ টুকু পর্যন্ত পাচ্ছে না। কিন্তু এভাবে মা’রা’র কারন কি??</p><p>ঝিরিঝিরি বৃষ্টি ইতিমধ্যে মুশল বারিধারায় রূপ নিয়েছে । আশেপাশের জটলা পাকানো ভীর ছাড়িয়ে অনেকেই যায়গা করে নিয়েছে কোনো না কোন শুকনো ছাউনি অথবা ছাতার নিচে। তবে অরুর আপাতত বৃষ্টিতে খেয়াল নেই আর না আছে ক্রীতিকের ।\nঝুম বৃষ্টিতে কথা শোনার যো নেই মোটে,তবুও অরুকে উদ্দেশ্য করে সায়নী চেঁচিয়ে বললো,\n— অরু, দ্রুত চলো, ভিজে যাচ্ছি। কোন একটা ছাউনি খুজে তার নিচে গিয়ে দাঁড়াই।\nঅরুর কান অবধি সে কথা পৌঁছালো কি না সন্দেহ, আর না’তো ও কোন ছাউনির নিচে গিয়ে আশ্রয় নিলো। বরং ঝুম বৃষ্টির মাঝেই দ্রুত এগিয়ে গেলো সামনের প্রসস্থ রাস্তার দিকে। এগিয়ে যেতে শুনতে পেলো, অনেকেই বলাবলি করছে,\nজ্যাকসন নামক বাইকারটা জেকের মায়ের নাম করে কিছু একটা বাজে গা’লি দিয়েছে, আর তাই লোকটা সেই ছোট্ট একটা গা’লি দেওয়ার মাশুল চোকাচ্ছে গত আধঘন্টা যাবত এক নাগাড়ে হ’কিস্টিকের মা’র খেয়ে। আশ্চর্যের বিষয় হলো কেউ ক্রীতিককে থামাচ্ছে না পর্যন্ত। এইসব দৃশ্য কি এদেশের মানুষের কাছে এতোটাই সাভাবিক আর উপভোগ্য?\n— দয়ামায়’হীন নি’র্দয় আমেরিকান।\nনিজের আ’ক্রোশ দমিয়ে রেখে মনে মনে কথাটা ছাড়লো অরু।</p><p>.ওদিকে নিজের সর্ব সর্বশক্তি প্রয়োগ করে জ্যাকসনের শরীরে একের পর এক হ’কিস্টিক ভা’ঙছে ক্রীতিক।মা’রতে মা’রতে ওর নিজ হাতের অবস্থাও বেগতিক, কিন্তু সেইসবে বিন্দুমাত্র নজর নেই ওর। আপাতত নিজের দমিয়ে রাখা জি’দ আর তপ্ত মস্তিষ্কের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে ব্যাস্ত ও। কেন যেন মনে হচ্ছে এই মা’রটা জ্যাকসনের বহু দিনের পাওনা। রেসিং ক্লাবে ক্রীতিককে টেক্কা দেবার মতো রাইডার যদি কেউ থেকে থাকে সেটা জ্যাকসন। রাইডিং-স্ট্যান্ডিং সব কিছুতেই বেশ পারদর্শী জ্যাকসন। তবে এ যাবত কোন ম্যাচেই জেকে কে হারাতে না পারার জি’দটা ভেতরে ভেতরে ওর রয়েই গিয়েছে বরাবর । সামনা সামনি বুঝতে না দিলেওও,নিজ দেশের রেচিং ক্লাবে ফরেইনার একটা ছেলের এতোটা জনপ্রিয়তা জ্যাকসন মোটেই সহ্য করতে পারতো না, সেই যের ধরেই পেছনে পেছনে নানা কৌশলে বিভিন্ন ভাবে ক্রীতিকের ক্ষ’তি করার ফন্দি এঁটেছে বহুবার। তবে একটা স্ট্রং বন্ধু মহল আর ক্রীতিকের সুকৌশলী বুদ্ধিদীপ্ত মস্তিষ্কের কাছে সেগুলো বরাবরই ফে’ইল করে গেছে। ক্রীতিক ভালোভাবেই জানতো কাজ গুলো কে করছে, বা কার দ্বারা ঘটছে। তবে এসব খুব একটা গায়ে লাগাতো না ও। বরং পিঠ পিছনেই দিয়ে যেতো একের পর কৌশলী দাবার চাল।কারণ ক্রীতিকের কাছে ওর করা ফন্দি গুলো হাস্যকর ঠেকতো বরাবরই।সেইসাথে মা’রাত্নক ইনটারেস্টিং ও মনে হতো। কারন ক্রীতিক,অর্নব,এলিসা,আর সায়র এর থেকেও বড়বড় দাবার চাল চেলে অভ্যস্ত।\nতবে আজ এই মূহুর্তে জ্যাকসন অস্ফুটে যেই শব্দটা উচ্চারণ করেছে তার মূল্য তো ক্রীতিক ওকে হাড়েহাড়ে বুঝিয়েই ছাড়বে।</p><p>আজ মনটা বেশ ফুরফুরে ছিল ক্রীতিকের, ওই জন্যইতো ক্লাবের কল পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চলে এসেছিল জোস একটা রাইড করতে। সবার উচ্ছ্বাসে জোয়ার দিতে বাইক রাইডও করেছিল প্রায় দু’শো কিলোমিটারের আঁকাবাকা অমসৃণ রাস্তা এবং শেষমেশ প্রতিবারের মতো আজও চ্যাম্পিয়ন তকমাটাও ওর গায়েই লেগেছিল। সব কিছু সাভাবিক,ক্রীতিকের মুড ও ঠিকঠাক । তখনই ব্যাথর্তা হটাতে জ্যাকসনের মুখ ফুটে বেরিয়ে আসে অনাকাঙ্ক্ষিত দুটো শব্দ।</p><p>— মা*** ফা’কিং বা’স্টা’র্ড।\nজ্যাকসন নিজেও বুঝতে পারেনি যে ক্রীতিক কথাটা শুনে ফেলবে।\nতবে ওর ব্যাড লাক, ক্রীতিক কথাটা স্পষ্ট ভাবে শুনতে পায়,\nব্যাস, তৎক্ষনাৎ ক্লাবের মধ্যে থেকে হ’কিস্টিক এনে উইথ আউট এনি ওয়া’র্নিং ওকে ইচ্ছে মতো মা’রতে শুরু করে ক্রীতিক। না নিজে মুখ দিয়ে কোন একটা শব্দ করেছে আর না জ্যাকসনকে করতে দিয়েছে। একেএকে ওর পি’ঠে ভে’ঙে’ছে চারখানা সরু ধাঁচের মজবুত কাঠের হ’কিস্টিক। তবুও যেন মস্তিষ্কটা শান্ত হবার নাম নিচ্ছে মোটেই। তবে ওর অ’শান্ত মস্তিষ্ক খুব বেশিক্ষন আর অ’শান্ত রইলো না। বেশ খানিকটা পরেই চলমান উত্ত’প্ত রা’গের বহিঃপ্রকাশে খুব বড়সড় একটা বাঁধা প্রাপ্ত হলো ক্রীতিক।\nখুব পরিচিত আর আপন একটা রিনরিনে মায়াভরা কন্ঠস্বর ভেসে এলো ক্রীতিকের দুই’কর্ণকূহরে।\nওর আ’ক্রম’নাত্তক পেশিবহুল বাহুটা দুইহাত দিয়ে আগলে ধরে উদ্বিগ্ন হয়ে অরু বললো,\n— কি করছেন,মে’রে ফেলবেন নাকি লোকটাকে?</p><p>ক্রীতিক তরিৎ গতিতে ঘুরে তাকালো। কেবল পরিচিত নয়, শুধু আপনও নয়, বক্ষপিঞ্জনের গহীনে লুকিয়ে রাখা আকাশসম অনুভূতির ছড়াছড়ি, আর অজনা বেসামাল উন্মাদনা যে মেয়েটাকে নিয়ে, বয়স,সম্পর্ক সব কিছুর মাথা খেয়ে বছর ত্রিশের হৃদয়টা যার অনুপস্থিতিতে আনচান করে,যাকে দেখলে সবার অগোচরে অবাধ্য, অপ্রতিরদ্ধ ইচ্ছেরা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে বারংবার এখন এই মূহুর্তে সেই পিচ্চি অষ্টাদশীকে দেখেই, মস্তিষ্কে হলহলিয়ে বইতে থাকা জল’ন্ত আ’গ্নেয়গি’রির লাভাটা মূহুর্তেই দপ করে নিভে গেলো জায়ান ক্রীতিকের।\nধরনীতে ঝুম বৃষ্টি তখনও একই গতিতে বহমান। অরুর চোখ,নাক, ঠোঁট সব কিছু চুইয়ে চুইয়ে গড়িয়ে যাচ্ছে বৃষ্টি কনারা। সফেদ রঙা চুড়িদারটা ভিজে একাকার। ঠান্ডার তোপে তিরতির করে কাঁপছে সরু চিবুক আর গোলাপি রঙা ওষ্ঠাধর। বৃষ্টি ভেজা অরুকে দেখে কয়েকমূহুর্তের জন্য থমকে গেলো ক্রীতিক। সব ছেড়ে ছু’ড়ে হুট করেই রা’গ হতে লাগলো বহমান বৃষ্টি কনাদের উপর। যেগুলো ও আজ পর্যন্ত ছুয়ে দেখতে পারলো না।সেগুলো কিনা বৃষ্টি কনারা এতো সহজে ছুঁয়ে দিচ্ছে? আশ্চর্য ।</p><p>বৃষ্টির সাথে ক্রীতিকের ক্রো’ধ বেশিক্ষণ টিকলো না বৈকি। কারন তার আগেই অরু আবারও কথা ছু’ড়লো ওর পানে।\n— কেন এভাবে মা’রছেন ওনাকে? আপনার দয়ামায়া নেই?\nঅরুর কথায় ক্রীতিক পেছনে ঘুরলো, দেখলো একটা বি’শ্রী কপট হাসি ঝুলিয়ে অরুর দিকে তাকিয়ে আছে জ্যাকসন। জ্যাকসনের হাসিটা চোখে পরতেই এতোক্ষণের ভ্রম ছুটে গেলো ক্রীতিকের। ও তৎক্ষনাৎ ক্ষী’প্র দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো অরুর দিকে। যেন চোখ দিয়েই ঝ’লসে দেবে অরুকে। ক্রীতিকের অ’গ্নিমূর্তি দেখে অরু আড়ালে শুষ্ক ঢোক গিলে থেমে গেলো।\nক্রীতিক চোয়াল শক্ত করে বললো,\n— তুই এখানে কি করছিস? কে নিয়ে এসেছে তোকে?? ক্রীতিকের কপাল জুড়ে হাজারো চিন্তার ভাঁজ।\nঅরু এবার পুরোপুরি নিশ্চুপ, মানবতা দেখাতে গিয়ে যে নিজেই ফেঁ’সে গিয়েছে এতোক্ষণে তা বোধগম্য হলো ওর।\nক্রীতিক কিছু একটা ভেবে ক্লাবের একজন কে দিয়ে একটা হেলমেট আনালো, তারপর ওটা অরুকে পরিয়ে বাইক স্টার্ট দিতে দিতে বললো,</p><p>—দ্রুত বাইকে ওঠ।\nঅরু করুন দৃষ্টিতে জ্যাকসনের দিকে তাকিয়ে মিনমিনিয়ে বললো,\n— ওনাকে এভাবে, ফেলে রেখে, না মানে যদি কিছু হয়ে যায়।\n— ওর ব্যাবস্থা প্রত্যয় করবে, আমি বলে দেবো, তুই ওঠ।\nবৃষ্টির মাঝেই চারদিকে তাকিয়ে সবাইকে একবার পর্যবেক্ষন করে নিলো অরু। আশেপাশে যত মানুষ, যে যেখান থেকে পারছে ওদের দিকে তাকিয়ে আছে। সবাই নিশ্চয়ই অরুর উপর বেজায় চটে গিয়েছে, কিন্তু এই মূহুর্তে ওর হাতে কিছুই নেই, এখন কথা না শুনলে নির্ঘাত এখানে দাঁড়িয়েই ক্রীতিকের হাতে মা’র খেতে হবে, তাই অপারগ অরু, চুপচাপ উঠে পরে বাইকের ব্যাক সিটে। মেয়েদের মতো করেই কাঁচুমাচু হয়ে বসেছে ও। তখনই নিজে হেলমেট পরতে পরতে ক্রীতিক বলে,</p><p>—ধরে বস।\nঅরু, খুব সংকোচে ক্রীতিকের জ্যাকেটটা একটু খা’মচে ধরে।\nকিন্তু বাইক তার যায়গা পরিবর্তন করতেই ও এক প্রকার হুমড়ি খেয়ে পরলো ক্রীতিকের পিঠের উপর।\n— ধরে বসতে বলেছিনা?\nক্রীতিকের ধম’ক খেয়ে এবার সত্যিই ওর কাঁধে হাত রাখলো অরু। অরুর হাতের আর কানের ছোট্ট অলংকার গুলো থেকে রিনঝিন আওয়াজ হচ্ছে। খুব কাছাকাছি বসাতে সেই আওয়াজ সোজা গিয়ে ক্রীতিকের হৃদয়ে লাগছে, সেই সাথে অরুর বৃষ্টি ভেজা চুল আর শরীর থেকে ভেসে আসা মেয়েলী সুঘ্রানে কেন যেন ওর দমব’ন্ধ হয়ে আসছে। ইচ্ছে করছে অরুকে একান্তে কাছে পেতে খুব কাছে।যতটা কাছাকাছি এলে অরুর আর ক্রীতিকের মাঝে সেন্টিমিটার দূরত্ব ও ঘুচে যাবে, ঠিক ততটা। কিন্তু এই মূহুর্তে সেটা সম্ভব নয়, আর না অরুকে এতো কাছে বসিয়ে চুপচাপ বসে থাকা সম্ভব।তাই মনের মধ্যে একান্ত গোপনে বেড়ে ওঠা অবাধ্য বাসনা গুলোকে দূর করার উদ্দেশ্যে, রাইড করতে করতেই নিরবতা ভা’ঙে ক্রীতিক,একটু আগের সেই গমগমে রা’গি আওয়াজের পরিবর্তে নরম আওয়াজে অরুকে শুধায়,</p><p>— আচ্ছা অরু, আমি যে এতোগুলা বছর দুরে ছিলাম তোর আমাকে মনে পরেনি কখনো?\nক্রীতিকের কথার পিঠে অরু কি উত্তর দেবে ঠিক বুঝে উঠতে পারলো না, কারন ক্রীতিক যখন দেশ ছাড়ে তখন অরু নিতান্তই বাচ্চা মেয়ে, কতইবা বয়স হবে দশ কি এগারো।\nঅরু নিশ্চুপ দেখে ক্রীতিক আবারও শুধায়,\n— বাবার মৃ’ত্যুতে যখন গিয়েছিলাম, তুই আমাকে দেখেছিলি?\nএবার অরু সময় নষ্ট না করেই উত্তর দিলো।\n—কি করে দেখবো, আপনিতো বাড়িতে যাননি।\nক্রীতিক জবাবে একটু বাঁকা হেসে বললো,\n— আমি কিন্তু তোকে দেখেছি, ঠিক আজকের মতোই একটা সাদা ড্রেস পরেছিলি। তোর মা আমার বাবার জন্য কাঁ’দছিল খুব।তুই আর অনু তার পাশেই দাড়িয়ে ছিলি।\nক্রীতিকের কথায় অরু চমকালো, কারন ওর দেওয়া একটা বর্ননা ও ভুল নয়। অরুর জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে হলো,</p><p>—আপনি কি করে দেখলেন?\nকিন্তু ও জিজ্ঞেস করতে ভ’য় পাচ্ছে, পাছে না আবার ক্রীতিক রে’গে গিয়ে এই বৃষ্টির মাঝেই ওকে বাইক থেকে নামিয়ে দেয়।ওদিকে অন্তহীন কৌতুহল গুলো মাথার মধ্যে কিলবিল করছে অযথাই । তবুও জিজ্ঞেস করার সাহস নেই।কি বলতে কি বলবে আবার রেগে মেগে আ’গুন হয়ে যাবে।তার থেকে চুপচাপ থাকাই শ্রেয়।\nঅরুর কূলহীন ভাবনার মাঝেই মাঝ রাস্তায় বাইকের ব্রেক কষলো ক্রীতিক। ক্রীতিকের এহেন কান্ডে অরুর আত্মা শুকিয়ে কাঠ হয়ে এলো। মনে মনে ভাবছে,\n— এই রে চুপ থেকেও ভুল করলাম নাকি? এই ঝুম বৃষ্টিতে মাঝরাস্তায় গেট আউট বলে নামিয়ে দিলে , কোথায় যাবো আমি?</p><p>—কি হলো নাম! কাঁধ হালকা পেছনে ঘুরিয়ে বলে ওঠে ক্রীতিক।\nজবাবে অরু মুখ চোখ কালো করে বললো,\n— না মানে এই বৃষ্টির মাঝে…\nঅরু কথা শেষ করার আগেই ক্রীতিক বলে,\n— হ্যা বৃষ্টির জন্যই তো, সামনে কিচ্ছু দেখা যাচ্ছে না, তারউপর এতো ভিজলে জ্বর চলে আসবে নিশ্চিত।\n— না না আমি ঠিক আছি।\n— আমি তোর কথা বলিনি, আমার কথা বলেছি।\nএই বলে দ্রুত এগিয়ে গিয়ে একটা ক্যাফের করিডোরে গিয়ে আশ্রয় নিলো ক্রীতিক। অরু পেছন পেছন যেতে যেতে ঠোঁট উল্টে মিনমিনিয়ে বললো,</p><p>— আমার কথা কেনইবা বলবেন? নিজেকে ছাড়া আর কিছু বোঝেন নাকি আপনি? সা’র্থপর লোক।\nঅরু এগিয়ে গিয়ে ক্রীতিকের পাশেই দাঁড়ালো। বৃষ্টি আর বাতাসের গতিবেগ এতোই বেশি দেখলে মনে হবে দিন দুপুরে রীতিমতো ঝড় শুরু হয়ে গিয়েছে।\nকাচেঁর দরজার ভেতরে ঝিঁমুতে থাকা স্টাফ ছাড়া পুরো এরিয়াটাই ফাঁকা পরে আছে। চারিদিকে চোখ বুলাতে বুলাতে অরুর চোখ পড়লো ক্রীতিকের হাতের দিকে,বৃষ্টি আর র’ক্ত একাকার হয়ে টুপটুপ করে হাত দিয়ে ঝরে পরছে র’ক্ত ভেজা পানি।\nঅরু সেদিকে তাকিয়ে ভ্রুকুটি করে মনেমনে বললো,</p><p>— আশ্চর্য এই লোকের অনুভূতি শক্তি নেই নাকি? কতক্ষণ ধরে এভাবে র’ক্ত ঝরছে কে জানে??\nকিছু একটা ভেবে ব্যাগ থেকে নিজ হাতের নকঁশি কাজ করা শুকনো রুমালটা বের করে একটু সাহস করেই ক্রীতিকের র’ক্তা’ক্ত হাতে বেধে দিলো অরু। ব্যাথা যায়গাতে একটু আরাম অনুভব হতেই নিজ হাতের দিকে চোখ দিলো ক্রীতিক। দেখলো সুতোয় কাজ করা একটা মেয়েলি রুমাল ওর ক্ষ’তস্থানে খুব সাবধানে বেধে দিচ্ছে অরু।\nক্রীতিক বাধা দিলোনা, এমনকি টু শব্দ ও উচ্চারণ করলো না, বরং অরু নিজের কাজ শেষ করে উপরে মাথা তুলতেই চোখ রাখলো অরুর মায়াবী চোখ জোড়ায়।\nক্রীতিকের চোখের ভাষা আপাতত পড়তে পারছে না অরু, ক্রীতিক রে’গে গেলো কিনা সেটাই আপাতত ভাবছে ও। ক্রীতিক ধীর গতিতে নিজের মাথাটা অরুর মুখের সামনে নিয়ে এলো। অনেকটা কাছে, যতটা কাছে এলে অরুর শরীরের মিষ্টি সুঘ্রানটা ক্রীতিক খুব সহজে অনুভব করতে পারে।\nঅরু ভ’য় পেয়ে একটু অস্পষ্ট সুরে বললো,</p><p>—রর..র’ক্ত ঝরছিল তাই ভাবলাম। আপনার আনইজি লাগলে খুলে ফেলতে পারেন, ক..কোন সমস্যা নেই।\nঅরুর কথায় পাত্তা না দিয়ে চোখে একরাশ মাদকতা নিয়ে অরুর দু’চোখে চোখ রেখে, নিজের মুখটা অরুর কানের খুব কাছে নিয়ে ক্রীতিক হাস্কি স্বরে বললো,\n— এতো বেশি দূর্বল করে দিসনা অরু।নয়তো ক্ষ’তিটা তোরই হবে। আমার হাত থেকে নিজেকে বাঁচা’তে পারবি না। বিশ্বাস কর, আমি খুব করে চাইছি, আজকে অন্তত আমার হাত থেকে বেঁচে যা তুই।</p><p>ক্রীতিকের নেশা ধরা কন্ঠস্বর আর তপ্ত শ্বাস প্রশ্বাসের সাথে পাল্লা দিয়ে কাঁপছে অরু। কনকনে ঠান্ডার মাঝে হুট করেই কেমন গড়ম হয়ে উঠলো শরীরটা । জীবনে প্রথম কোনো ছেলে এভাবে এতোটা কাছাকাছি এসেছে অরুর যার দরুন ভেতরে তোলপার হয়ে যাচ্ছে অজানা অনুভূতির দল।এই মূহুর্তে অরুর জন্য মেয়েলী অনুভূতি গুলো সামলানো বেশ মুশকিল। এককথায় দূর্বিসহ।একটা নরম ভেজা অনুভূতি হৃদয় ছুয়ে যাচ্ছে বারংবার , এমন অনুভূতি গুলো আগে কখনোই হৃদয়ে অনুভব করেনি অরু। হুট করেই ক্রীতিকের কাছ থেকেই কেন? কই নিখিল ভাই সামনে এলেতো এমনটা হয়না। তলপেটে হুটহাট প্রজাপতি উড়াউড়ি করেনা। তাহলে জায়ান ক্রীতিকের মতো অপছন্দের লোকটার সান্নিধ্যেই কেন এমন হয়? এটাতো ঠিক নয়, মোটেই ঠিক নয়। ও এই নিস্তব্ধতা আর বেসামাল অনূভুতি গুলোকে মাথা থেকে ঠেলে সরিয়ে কাঁপা কাঁপা গলায় বললো,</p><p>— আপনি কেন আমাকে মা’রতে যাবেন, কি করেছি আমি??\n— কখন বললাম আমি তোকে মা’রবো?\n— এই যে বললেন, আপনার হাত থেকে নিজেকে বাঁ’চাতে পারবো না।\nঅরুর কথায় ক্রীতিকের ঠোঁটে খেলে গেলো একটা চমৎকার বাঁকা হাসি। ও অরুর থেকে নিজের দূরত্ব খানিকটা বারিয়ে হট করেই অরুকে হ্যাচকা টানে পেছনে ঘুরিয়ে দিলো, তারপর একটানে ওর লম্বা চুল থেকে গার্ডারটা খুলে নিলো নিজ হাতে। সঙ্গে সঙ্গে অরুর দীঘল কালো একঝাঁক ভেজা চুল আঁচড়ে পরলো সমস্ত পিঠ জুড়ে।\nঅরু সাবধানে পেছনে ঘুরে বললো,\n— চুল কেন খুললেন??\nক্রীতিক ভাবলেশহীন কন্ঠে জবাব দিলো,\n—বৃষ্টির দিনে সাদা কেন পরেছিস??\nক্রীতিকের কথার মানে বুঝতে পেরে প্রচন্ড লজ্জায় নিজের দু-হাত ভাঁজ করে নিলো অরু। তারপর বৃষ্টিতে ভিজে রাস্তার দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বললো,\n— আর অপেক্ষা করতে হবে না, চলুন বাসায় যাবো।\nক্রীতিক আর কিইবা করবে,মনে মনে ভাবলো, অরুকে এভাবে সরাসরি লজ্জা দেওয়াটা তার উচিৎ হয়নি, যতই হোক অরু ওর থেকে বয়সে অনেক বেশি ছোট।যা বলেছে বলেছে এখন আর করার কিছুই নেই, ব্যাপারটা বুঝতে পেরে ও নিজেও এগিয়ে গিয়ে বাইকে বসে পরলো।</p><p>বাড়িতে আসতেই অরু সোজা চলে গেলো নিজের রুমে। রুমে ঢুকতেই দেখতে পেলো অনু ব্যালকনিতে দাড়িয়ে বৃষ্টি দেখছে আর মুঠো ফোনে কারও সাথে কথা বলছে। অরু সেদিকে খুব একটা নজর দিলোনা, কারণ অরু জানে ফোনের ওপাশের লোকটা কে।তাই সোজা চলে গেলো ওয়াশরুমে।\nএকটা আরামদায়ক হট বাথ শেষে চুল মুছতে, মুছতে বের হয়ে দেখলো, মাত্রই কথা শেষ করে রুমে এসেছে অনু। আজ রবিবার তাই ওর পার্টটাইম নেই, তারউপর আবহাওয়ার জন্য হসপিটালেও যেতে পারেনি সকালে। তাইতো আজ অসময়ে বাসায় আছে অনু।\nঅরু বেরুতেই অনু শুধায়,</p><p>— এভাবে ভিজেছিস কিকরে?\nঅরু খাটে বসতে বসতে বললো,\n— সে অনেক কথা পরে বলবো। তার আগে তুই বলতো আপা, ক্রীতিক ভাইয়ার মা কোথায়??\nঅরুর অযাচিত প্রশ্নে অনুর চোখ বড়বড় হয়ে গেলো, ও সচকিত হয়ে অরুকে বললো,\n—- তুই হঠাৎ এসব কথা নিয়ে কেন পরলি, তারউপর ক্রীতিক ভাইয়া এখন বাড়িতেই আছেন, উনি ওনার মায়ের নামটাও শুনতেও পারেননা।\nঅরু মনে মনে বললো, সত্যিই কি শুনতে পারেননা না? তাহলে মাকে নিয়ে কথা বলায় আজ লোকটাকে ওভাবে মা’রলো কেন?</p><p>— কিরে কি ভাবছিস?\n— আপা, বলনা ওনার মা কোথায়?\nঅনু একটু ভাবুক হয়ে বললো,\n—- আমি খুব বেশি কিছু জানিনারে অরু, মায়ের কাছ থেকে যতটুকু শুনেছি, ওনার মা বাঙালি নন, আমেরিকান বংশভূত কোন বিদেশিনী। শুধু বিদেশিনীই নন শোবিজ জগতের কোন নামকরা তারকা।যৌ’বন কালে ক্রীতিক ভাইয়ার বাবা যখন বিদেশে পড়াশোনা করতে আসেন তখনই নাকি ভালোবেসে বিয়ে করেন তারা।\nঅরু কৌতূহল নিয়ে শুধালো,\n— তাহলে উনি চলে গেলেন কেন??\nঅনু দীর্ঘঃশ্বাস ছেড়ে বলে,\n— উনি ভালোবেসে বিয়ে সংসার করেছিলেন ঠিকই, কিন্তু নিজের ক্যারিয়ার কিংবা ফ্যান্সি লাইফস্টাইল কোনোটারই মায়া ছাড়তে পারেননি পরবর্তীতে, তাই খুব ছোট বেলাতেই ক্রীতিক ভাইয়াকে রেখে আবারও নিজ গন্তব্যে পারি জমান তিনি।\nঅরু, জ্ঞানীদের মতো মাথা দুলিয়ে বললো,</p><p>— ওই জন্যই ক্রীতিক ভাইয়া দেখতে পুরোপুরি বাঙালিদের মতো না।মনে হয় নানা বাড়ির চেহারা পেয়েছে ।\nঅনু ঠোঁট উল্টে বললো,\n— হবে হয়তো, কিন্তু তুই হঠাৎ এসব নিয়ে পরলি কেন??\nততক্ষনে বিড়াল ছানা ডোরা এসে অরুর পায়ের কাছে লেজ নারছে।\nঅরু ডোরাকে কোলে নিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে যেতে যেতে বললো,\n— তুই থাক আমি একটু আসছি।\n— আরে কোথায় যাচ্ছিস? চুল থেকে পানি ঝরছে তো, আয় মুছিয়ে দিই। ঠান্ডা লেগে যাবে তো।\nপেছন থেকে হাক পেরে যাচ্ছে অনু। তবে অরু আর তাতে কান দিলো না। দ্রুত পায়ে এগিয়ে গেলো সামনের দিকে।</p><p>ডোরাকে কোলে নিয়েই হল রুমে এলো অরু। কিন্তু যখন দেখলো হল রুমে কাউচের উপর ক্রীতিক বসে আছে,তৎক্ষনাৎ ডোরাকে কোল থেকে নামিয়ে অন্যদিকে ভাগিয়ে দিলো ও। ডোরাকে বিদেয় করতে করতে অরু খেয়াল করলো ফাস্টএইড বক্স নিয়ে নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে চুপচাপ বসে আছে ক্রীতিক।\nদেখে মনে হচ্ছে একটু আগেই শাওয়ার নিয়েছে, পরনে ব্লু হোয়াইট কম্বিনেশনে টিশার্ট আর থ্রী কোয়ার্টার। মাথার স্টাইলিস্ট চুলগুলো এলোমেলো হয়ে কপালে লেপ্টে আছে। একটু আগে আপার বলা কাহিনি আর ক্রীতিকের ক্ষ’তযুক্ত হাত দেখে কোথায় যেন বড্ড মায়া হলো অরুর। কেন যেন হুট করেই মনে হলো ক্রীতিকের এমন বেপরোয়া, র’গচটা, আর খামখেয়ালি সভাব গুলো নিতান্তই সাভাবিক।\nঅনেকক্ষণ ধরে অরুকে তাকিয়ে থাকতে দেখে নিজের গলায় ঝোলানো তোয়ালেটা ওর মুখের উপর ছু’রে মা’রলো ক্রীতিক, ভ্রকুঞ্চিত করে প্রশ্ন করলো,</p><p>—- এভাবে তাকিয়ে আছিস কেন, আমার কি রূপ বেরিয়েছে?\nঅরু মুখের উপর থেকে তোয়ালেটা সরিয়ে কয়েক কদম এগিয়ে গিয়ে ক্রীতিকের পাশে বসে হাত বাড়িয়ে বললো,\n—-দিন আমি অসুধ লাগিয়ে ব্যা’ন্ডেজ করে দিচ্ছি।\n— তোর অনেক সা’হস বেড়ে গিয়েছে অরু। আজকাল আমাকে ভ’য় পাসনা দেখছি।\n— তা বলতে পারেন।\nক্রীতিকের যা বলার ইচ্ছে হয় তাই বলতে দিয়ে, নিজের ছোট ছোট হাত দিয়ে ওর পুরুষালী হাতটাকে ধীরে ধীরে সফেদ রঙের ব্যা’ন্ডেজে মুড়িয়ে দিতে ব্যাস্ত হয়ে পরলো অরু।</p>",
        "series": {
            "id": 32,
            "title": "সঙ্গীন প্রণয়াসক্তি",
            "slug": "songin-pronoyasokti",
            "url": "https://golpohub.com/series/songin-pronoyasokti",
            "thumbnail_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/series-sngin-prnzaskti-32-5080de.webp",
            "progress_status": "completed"
        },
        "author": {
            "id": 29,
            "name": "সুরাইয়া রাফা",
            "slug": "suraiya-rafa",
            "url": "https://golpohub.com/authors/suraiya-rafa",
            "avatar_url": "https://cdn.golpohub.com/avatars/suraya-rafa-29-835bb6.webp",
            "bio": "সুরাইয়া রাফা বাংলা সমকালীন অনলাইন কথাসাহিত্যের এক শক্তিশালী ও স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর। মানবমনের গূঢ় অন্ধকার, তীব্র অধিকারবোধ, মানসিক দ্বন্দ্ব এবং উন্মাতাল ভালোবাসার দ্বিমুখী সংঘাতকে উপন্যাসের ক্যানভাসে জীবন্ত করে তোলায় তাঁর জুড়ি নেই। তাঁর লেখায় ডার্ক রোম্যান্স এবং পারিবারিক বাস্তবতার যে মেলবন্ধন ঘটে, তা পাঠকদের শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত মোহগ্রস্ত করে রাখে।\n\nপ্রেমের প্রথাগত রূপকে অতিক্রম করে ভালোবাসার মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তর, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং নিষিদ্ধ ভালোবাসার সমাজ-সংগ্রাম চিত্রায়নে তাঁর বিশেষ মুনশিয়ানা রয়েছে। 'সঙ্গীন প্রণয়াসক্তি' তাঁর বহুল আলোচিত ও জনপ্রিয় সৃষ্টিগুলোর অন্যতম, যা বিপুল পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করেছে।",
            "series_count": 0,
            "meta": {
                "bio": "সুরাইয়া রাফা বাংলা সমকালীন অনলাইন কথাসাহিত্যের এক শক্তিশালী ও স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর। মানবমনের গূঢ় অন্ধকার, তীব্র অধিকারবোধ, মানসিক দ্বন্দ্ব এবং উন্মাতাল ভালোবাসার দ্বিমুখী সংঘাতকে উপন্যাসের ক্যানভাসে জীবন্ত করে তোলায় তাঁর জুড়ি নেই। তাঁর লেখায় ডার্ক রোম্যান্স এবং পারিবারিক বাস্তবতার যে মেলবন্ধন ঘটে, তা পাঠকদের শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত মোহগ্রস্ত করে রাখে।\n\nপ্রেমের প্রথাগত রূপকে অতিক্রম করে ভালোবাসার মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তর, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং নিষিদ্ধ ভালোবাসার সমাজ-সংগ্রাম চিত্রায়নে তাঁর বিশেষ মুনশিয়ানা রয়েছে। 'সঙ্গীন প্রণয়াসক্তি' তাঁর বহুল আলোচিত ও জনপ্রিয় সৃষ্টিগুলোর অন্যতম, যা বিপুল পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করেছে।",
                "phone": null,
                "gender": "female",
                "address": {
                    "country": "Bangladesh"
                },
                "birth_date": null,
                "social_links": {
                    "facebook": "https://facebook.com/241950972332007"
                },
                "pen_name": "সুরাইয়া রাফা",
                "aliases": [
                    "Suraiya Rafa",
                    "রাফা"
                ]
            },
            "timestamps": {
                "created_at": null,
                "updated_at": null
            }
        },
        "navigation": {
            "previous_episode": {
                "id": 1431,
                "ep_number": 10,
                "title": "অধিকারের উন্মত্ত ঘোষণা",
                "slug": "songin-pronoyasokti-s1-ep10",
                "url": "https://golpohub.com/episodes/songin-pronoyasokti-s1-ep10",
                "thumbnail_url": "https://golpohub.com/assets/images/og.jpg"
            },
            "next_episode": {
                "id": 1433,
                "ep_number": 12,
                "title": "মায়াবী বল নাচের ঘোর",
                "slug": "songin-pronoyasokti-s1-ep12",
                "url": "https://golpohub.com/episodes/songin-pronoyasokti-s1-ep12",
                "thumbnail_url": "https://golpohub.com/assets/images/og.jpg"
            }
        }
    }
}