{
    "_links": {
        "html": "https://golpohub.com/episodes/songin-pronoyasokti-s1-ep46",
        "json": "https://golpohub.com/episodes/songin-pronoyasokti-s1-ep46?format=json",
        "markdown": "https://golpohub.com/episodes/songin-pronoyasokti-s1-ep46?format=md",
        "rss": "https://golpohub.com/episodes/songin-pronoyasokti-s1-ep46?format=rss",
        "atom": "https://golpohub.com/episodes/songin-pronoyasokti-s1-ep46?format=atom"
    },
    "seo": {
        "canonical_url": "https://golpohub.com/episodes/songin-pronoyasokti-s1-ep46",
        "title": "সঙ্গীন প্রণয়াসক্তি পর্ব ৪৬ - বাসরের স্বপ্ন ও উপহার | Songin Pronoyasokti Part 46",
        "description": "পড়ুন সঙ্গীন প্রণয়াসক্তি পর্ব ৪৬। অনু-প্রত্যয়ের বাসর এবং নীলিমার জীবনের অন্ধকার সত্যি প্রকাশের দৃশ্য।",
        "keywords": "সঙ্গীন প্রণয়াসক্তি পর্ব ৪৬, songin pronoyasokti porbo 46, songin pronoyasokti part 46, songin pronoyasokti 46, প্রত্যয়, অনু, সায়র, নীলিমা",
        "image_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-1467-420bd5.webp",
        "schema": {
            "@context": "https://schema.org",
            "@graph": [
                {
                    "@type": "Chapter",
                    "name": "বাসরের স্বপ্ন ও উপহার",
                    "position": 46,
                    "description": "অনুর গায়ে হলুদের পর প্রত্যয়ের সাথে তার বাসর রাতে যখন পড়াশোনার আইডি কার্ড উপহার পেয়ে অশ্রুসিক্ত ভালোবাসা পূর্ণতা পায়, তখন পুরান ঢাকার ছাদে দাঁড়িয়ে নীলিমার মুখে কোন ভয়াল ব্ল্যাকমেইলের সত্যি শুনে ক্ষোভে ফেটে পড়ল সায়র?",
                    "url": "https://golpohub.com/episodes/songin-pronoyasokti-s1-ep46",
                    "inLanguage": "bn",
                    "timeRequired": "PT25M",
                    "datePublished": "2026-08-27T22:02:19+00:00",
                    "dateModified": "2026-09-06T01:34:10+00:00",
                    "wordCount": 3978,
                    "image": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-1467-420bd5.webp",
                    "isPartOf": {
                        "@type": [
                            "BookSeries",
                            "CreativeWorkSeries"
                        ],
                        "name": "সঙ্গীন প্রণয়াসক্তি",
                        "url": "https://golpohub.com/series/songin-pronoyasokti"
                    },
                    "author": {
                        "@type": "Person",
                        "name": "সুরাইয়া রাফা",
                        "url": "https://golpohub.com/authors/suraiya-rafa"
                    }
                },
                {
                    "@type": "BreadcrumbList",
                    "itemListElement": [
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 1,
                            "name": "Golpo Hub",
                            "item": "https://golpohub.com"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 2,
                            "name": "সিরিজসমূহ",
                            "item": "https://golpohub.com/series"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 3,
                            "name": "সঙ্গীন প্রণয়াসক্তি",
                            "item": "https://golpohub.com/series/songin-pronoyasokti"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 4,
                            "name": "বাসরের স্বপ্ন ও উপহার",
                            "item": "https://golpohub.com/episodes/songin-pronoyasokti-s1-ep46"
                        }
                    ]
                }
            ]
        }
    },
    "filters": [],
    "data": {
        "id": 1467,
        "ep_number": 46,
        "title": "বাসরের স্বপ্ন ও উপহার",
        "slug": "songin-pronoyasokti-s1-ep46",
        "url": "https://golpohub.com/episodes/songin-pronoyasokti-s1-ep46",
        "reading_time": 25,
        "thumbnail_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-1467-420bd5.webp",
        "yt_video_id": null,
        "yt_video_url": null,
        "timestamps": {
            "published_at": "2026-08-27T22:02:19+00:00",
            "updated_at": "2026-09-06T01:34:10+00:00"
        },
        "meta": {
            "word_count": 3978,
            "chapter_number": 46,
            "seo_title": "সঙ্গীন প্রণয়াসক্তি পর্ব ৪৬ - বাসরের স্বপ্ন ও উপহার | Songin Pronoyasokti Part 46",
            "seo_description": "পড়ুন সঙ্গীন প্রণয়াসক্তি পর্ব ৪৬। অনু-প্রত্যয়ের বাসর এবং নীলিমার জীবনের অন্ধকার সত্যি প্রকাশের দৃশ্য।",
            "keywords": "সঙ্গীন প্রণয়াসক্তি পর্ব ৪৬, songin pronoyasokti porbo 46, songin pronoyasokti part 46, songin pronoyasokti 46, প্রত্যয়, অনু, সায়র, নীলিমা",
            "characters_involved": [
                "প্রত্যয়",
                "অনু",
                "সায়র",
                "নীলিমা"
            ]
        },
        "content": "<p>রয়েল প্যালেসের ন্যায় লাইট গোল্ডেন থীমে সাজানো হয়েছে পুরো ক্রীতিক কুঞ্জ। সকাল সকাল ভৃত্যরা কাজে লেগে পরেছে। গেইট থেকে শুরু করে ব্যাক ইয়ার্ড পর্যন্ত এমন কোন যায়গা নেই যেখানে সৌন্দর্যের কৃত্রিম ছোঁয়া পরেনি। চারিদিক গোল্ডেন ফেইরী লাইট আর হ্যাজাকের আলোয় ঝিকমিক করছে।\nগায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে কোনো ড্রেসকোর্ট থীম না থাকলেও বিয়েতে বর কনের সঙ্গে মিলিয়ে ড্রেসকোর্ট থীম দেওয়া হয়েছে বেবি পিংক কালারের যে কোন দেশীয় পোশাক।\nঅতিথিদের বহুলাংশই রাতে আসবেন। তবে সন্ধ্যা নাগাদই বাড়িতে মানুষের কলরব শুরু হয়ে গিয়েছে। বিয়ে বাড়ির স্বাদ আস্বাদনে সবাই ব্যস্ত,সেই সাথে হাতে হাতে কোমল পানীয় তো আছেই। সায়র,অর্ণব এলিসা,ক্যাথলিন ওরা একসাথে দাড়িয়ে আড্ডা দিচ্ছে, একই রঙের বিভিন্ন কারুকাজের জাঁকজমক পোশাকে বিয়ে বাড়ির সবার নজর কাড়তে সক্ষম ওরা ক’জন।</p><p>সবাইকে বলে দেওয়া হয়েছে তারা ক্রীতিক কুঞ্জের ছোট সাহেবের বিলেত ফেরত বন্ধুবান্ধব। এক কথায় আজকের অতিথিদের মধ্যে সবচেয়ে বড় আকর্ষন তারাই।\nএছাড়াও মামির বাড়ির সবাই এসেছে আজ, এমনকি রেজাও, আজ রেজাকে বেশ হাসি খুশি লাগছে,চোখেমুখে গম্ভীরতা কপটতা কোনো কিছুর লেশমাত্র নেই ওর। রুপা আজ শাড়ি পরেছে, আর মোখলেস চাচা পাঞ্জাবি। বিয়ে উপলক্ষে ওদের জন্য আলাদা ভাবে এই উপহার গুলো পাঠিয়েছিল ক্রীতিক নিজেই।\nমোখলেস চাচা কিছুটা হাসিখুশি থাকলেও রুপার চোখ মুখ থমথমে,সমগ্র মুখশ্রীতে মলিনতা বিরাজমান। হয়তো এখনো বিয়েটা স্বাভাবিক ভাবে নিতে পারছে না মেয়েটা।অবশ্য নিতে পারার কথাও নয়।\nতবে তাতে যায় আসেনা জাহানারার, তিনি চাবির গোছা কোমড়ে ঝুলিয়ে বেশ খুশিতেই দিব্যি ঘুরে ঘুরে এর ওর সাথে গল্প করে বেড়াচ্ছেন।</p><p>সন্ধ্যা নাগাদ তিথিও এসেছে নিজেকে দামি দামি শাড়ি গহনায় মুড়িয়ে পটের বিবি টি সেজে। সাথে তার বিলোভড হাসবেন্ড খন্দকার সাহেব ও আছেন। বড় বড় ভিআইপি গেস্টরা এখনো অনুপস্থিত। হয়তো সময়ের সাথে সাথে তাড়াও চলে আসবেন।\nযে সকল টুকটাক ভিআইপি অতিথিরা উপস্থিত হয়েছেন, তাদেরকেই আপাতত সময় দিচ্ছেন আজমেরী শেখ।\nবেশ কয়েকজন অফিস ক্লায়েন্টদের সাথে কুশল বিনিময় করায় তিনি যখন বেশ ব্যস্ত, ঠিক সে সময় হুট করেই একজন প্রতিবেশি এসে তাদের কথার মাঝখানে ঢুকে কিছুটা উৎসুক হয়ে আজমেরী শেখকে জিজ্ঞেস করলো ,\n—– আচ্ছা আপা, আপনার ছোট মেয়েটাকে তো দেখলাম না, ওকে দেখার খুব ইচ্ছে জানেন? আমাদের ছেলে আছে ভালো ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে।যদি বিয়ে দিতেন….</p><p>মহিলা কথা শেষ করার আগেই আজমেরী শেখ অপ্রস্তুত হয়ে এদিক ওদিক তাকিয়ে নিজের এসিসট্যান্ট কে শুধালেন,\n—- ক্রীতিক কোথায়? এখানে নেইতো? আমি চাইনা অনুর বিয়েতে কোনোরূপ ঝামেলা ঝাটি হোক।\nআজমেরী শেখের এহেন অগ্রাহ্য ভঙ্গিমায় মহিলাটি হতবাক, অপমান ও বোধ করলেন কিছুটা, মনেমনে ভাবলেন, তিনি কি জিজ্ঞেস করলেন আর আজমেরী শেখ কেমন বিরূপ প্রতিক্রিয়া করলো, এ আবার কেমন আতিথেয়তা? আজিব!\nনীলিমা সেজেগুজে এসে মাত্রই অরুর রুমে প্রবেশ করলো। দরজা খোলাই ছিল, খাটের উপর বসে লেজ নাড়ছে ডোরা। ওকে একটা সুন্দর বার্বি ড্রেস পরিয়ে বসিয়ে রাখা হয়েছে।\nনীলিমা রুমে এসে প্রথমে ডোরাকে একটু আদর করে অরুর দিকে চাইলো, অরু এখনো কানে টানা ঝুমকো পড়া নিয়ে বেশ কসরত করে যাচ্ছে।</p><p>নীলিমা এগিয়ে গিয়ে অরুর হাত থেকে দুলটা নিয়ে ওকে পড়িয়ে দিতে দিতে ওর প্রশংসা করে বললো,\n— তোকে মাত্রাতিরিক্ত সুন্দর লাগছেরে অরু। আর এই লম্বা চুল গুলো, ইশ কি সুন্দর! কারও নজর না লাগুক।\nতারপর একটু দুষ্টমি করে বললো,\n— অবশ্য যার নজর লাগার, সে অলরেডি লাগিয়ে দিয়েছে।\nঅরু মৃদু হেসে নীলিমাকে অভিবাদন জানিয়ে বললো,\n— তোকে বুঝি কম সুন্দর লাগছে? হবু দুলাভাই তোর রূপের আ’গুনে ঝ’লসে গেলো বলে।\n—- যাক, ঝ’লসে বারবিকিউ হয়ে যাক হাতে আমার কি?\nকথাটা বলে, নীলিমা একফালি মুঁচকি হাসি ফেরত দেয় , পরক্ষণেই ভাবুক হয়ে অরুকে শুধায়,\n—- হ্যারে নিচে সবাইকে দেখলাম কিন্তু তোর বর মহাশয়কে তো দেখলাম না। সে কোথায়?\nপ্রতিউত্তরে অরু ঠোঁট উল্টে কিছুটা অন্য মনস্ক হয়ে বলে,\n—- উনিতো সকাল বেলা অফিসে গিয়েছে কি দরকারি কাজ আছে বলে, বলেছিল তো সন্ধ্যার আগেই ফিরে আসবে, কি জানি এখনো আসলোনা কেন?\nনীলিমা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললো,</p><p>—- বুঝলাম, কিন্তু অনু আপা কোথায় বলতো?\nঅরু ঘুরে দাঁড়িয়ে ডোরাকে কোলে তুলে নিয়ে বলে,\n—- আপাকে তো সেই বিকেল বেলায় মেয়েরা সাজাতে এসেছিল, তারপর তো আর বের হলোনা, চল গিয়ে দেখে আসি। তাছাড়া এমনিতেও আপা সেই সকাল থেকে কা’ন্নাকাটি করছে, আমি সামনে গেলে আমারও কেমন কা’ন্না পেয়ে যাচ্ছে।\nনীলিমা অরুর সাথে আর মন খারাপের নদীতে জোয়ার দিলোনা, উল্টো স্বাভাবিক কন্ঠে বললো,\n—- চল গিয়ে দেখে আসি, আপাকে নিশ্চয়ই অনেক সুন্দর লাগছে, বর যাত্রী এলো বলে।</p><p>নীলিমা আর অরু করিডোর পেরিয়ে অনুর রুমে প্রবেশ করতে যাবে ঠিক তখনই হন্তদন্ত হয়ে রুম থেকে বেরিয়ে এলো অনু।\nঅকস্মাৎ বেরিয়ে আসায় ওরা তিনজন ধাক্কা খেতে খেতেও সামলে নিলো। অনুর পরনে ভারী বিয়ের সাজ, বেবি পিংক ভারী লেহেঙ্গাটা দু’হাতে ধরে উদ্বিগ্ন মুখে দাড়িয়ে আছে অনু। সাজানো গোছানো প্রতিমার মতো মুখটায় ভর করেছে অযাচিত আ’ত’ঙ্ক। তীব্র শ্বাস-প্রশ্বাসের তালে তালে হাপরের ওঠানামা করছে ওর বুক।\nঅনুকে এমন বিভ্রান্ত চেহারায় দেখে, ভাঁজ পড়লো অরুর কপালে। নীলিমাও আশ্চর্য বনে গিয়ে শুধালো,\n—- কি হয়েছে অনু আপা? তুমি ঠিক আছো?\nনীলিমার কথার জবাব দেয় না অনু, উল্টো শুষ্ক ঢোক গিলে অরুকে জিজ্ঞেস করে,\n—- অরু মা কোথায়?</p><p>অরু ঠোঁট নাড়িয়ে কিছু জবাব দিতে যাবে, তখনই পেছন থেকে আজমেরী শেখ পেছন থেকে কথা ছো’ড়েন ফের,\n—- কি প্রয়োজন? বর যাত্রী এসে পরেছে তোমাকে নিচে যেতে হবে।\nঅনু ওদের দুজনকে পাশ কাটিয়ে, এগিয়ে এসে আজমেরী শেখের দু বাহু ধরে গলা খাদে নামিয়ে কাঁপা কন্ঠে বললো,\n—- ম…মা, আমার মনে হলো আমি ওই লোকটাকে দেখেছি। জানালা দিয়ে দেখেছি, অতিথিদের মাঝে দিব্যি দাঁড়িয়ে আমার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল। হুট করে দেখে আমার আত্মা কেঁপে উঠেছে। আর..\nআজমেরী শেখ মেয়েকে তৎক্ষনাৎ থামিয়ে দিয়ে গম্ভীর গলায় বললেন,\n—- অযথা কথা রাখো অনু, এমন একটা শুভ দিনে একটা শ’য়তা’নের কথা মুখে আনলে কোন আক্কেলে? তাছাড়া পুরো বাড়ি বডিগার্ড দ্বারা সুরক্ষিত, স’ন্দেহভাজন কেউ এলে নিশ্চয়ই আমাকে ইনফর্ম করা হতো। শুধু শুধু এসব ভেবে নিজের স্পেশাল দিনটাকে মাটি করোনা তো। আমি আসছি নিচে অতিথিরা অপেক্ষা করছেন।\nআজমেরী শেখ সামনে কয়েক কদম পা বাড়িয়ে ফের ঘুরে তাকিয়ে অরু আর নীলিমাকে উদ্দেশ্য করে বললো,\n—-অনুকে নিয়ে জলদি এসো।</p><p>প্রত্যয় বসে আছে ফুল সজ্জিত স্টেজে। চারিদিকে বিয়ে বাড়ি বিয়ে বাড়ি আমেজ, অতিথিরা সবাই কনেকে দেখার জন্য অধীর আগ্রহে বসে আছে,অমিত ও হাজির, তাকে কিঞ্চিৎ ক্লান্ত দেখালেও মুখে লেগে আছে এক চিলতে প্রানোচ্ছল হাসি।\nকালকে সবাই নাচ গান করলেও আজকে কেমন মনমরা হয়ে বসে আছে ক্রীতিকের বন্ধু মহল। বউ সাজে কনেকে দেখার চেয়েও দ্বিগুণ আগ্রহ নিয়ে সামনের দিকে উঁকি ঝুঁকি দিচ্ছে সায়র, হয়তোবা প্রিয় মানবীকে এক ঝলক দেখার উদ্দেশ্যে, তার রাগীনির চাহনীতে আরও একবার ভ’স্ম হতে হতে প্রানে বেঁচে যেতে।</p><p>সায়র নিজেও বুঝতে পারছে না, এইটুকু হাঁটুর বয়সী মেয়েটার সাথে মজার ছলে ঝগড়া করতে করতে কখন যেন তী’রের ফলার মতোই হুট করে মনে গেঁথে গেলো পুরান ঢাকার এই শ্যামলতা রাগীনি। এখন তো আমেরিকা ফিরে গিয়েও শান্তি নেই, বারবার মনে হবে রাগীনিটা থাকলে ভালো হতো একটু ঝগড়া করে সময় কাটানো যেত।\nসবার মাঝে থেকেও শুধুমাত্র নীলিমাকেই দেখতে চাইছে সায়রের তৃষ্ণার্থ ব্যাকুল দু’চোখ। অবশেষে সেই মাহেন্দ্রক্ষন ঘনিয়ে এলো, সকল জল্পনা কল্পনা শেষে স্টেজের দিকে পা বাড়ালো, আজকের মোক্ষম চরিত্র। সবার দৃষ্টি যার দিকে নিক্ষিপ্ত, আজকের অনুষ্ঠানের সবচেয়ে সুন্দর রমনীটি,প্রত্যয়ের হবু স্ত্রী, ওর মনের রানী, ওর হৃদয় হরনী মিসেস অনন্যা এহসান।</p><p>অরু আর নীলিমা সাথেই ছিল অনুর। সেই সাথে আরও ছিল প্রত্যয়ের বোন আর আত্মীয় স্বজনরাও। অনু ধীর পায়ে লেহেঙ্গা সামলে প্রত্যয়ের নিকট এগিয়ে আসছে, ফিনফিনে দোপাট্টা দিয়ে মাথায় একহাত ঘোমটা টানা,তার আড়াল থেকেই অপার সৌন্দর্য ঠিকরে পড়ছে মেয়েটার। প্রত্যয় দাঁড়িয়ে আছে অধীর আগ্রহে, অনুর একেকটা পদধ্বনি যেন প্রত্যয়ের বুকে আনন্দ আর উত্তেজনার ঝড় বইয়ে দিতে সক্ষম।\nঅবশেষে প্রত্যয়ের ঝড়ো হাওয়া মনে ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টি নামিয়ে স্টেজে উঠে আসে অনু। প্রত্যয় নিজের একহাত বাড়িয়ে তাকে সাদরে আমন্ত্রণ জানায়। অনু তা গ্রহন করে এগিয়ে গিয়ে প্রত্যয়ের পাশের রাজকীয় ডিভানে বসে পরে। যদিও বা ওদের দুজনার মাঝে ফুলের এক বিস্তার পর্দা ঝুলানো, কেবল তিন কবুলের পরই তা তোলা হবে আর বর তখনই বউয়ের মুখ দেখবে। তার সত্যিকারের বউয়ের মুখ।</p><p>ক্যাটারিং এর এদিকে সুস্বাদু খাবারের গন্ধে ম ম করছে চারিপাশ । ওদিকে এই মূহুর্তে কনের মুখ দেখা নিয়ে বরের বাড়ির সবাই ব্যস্ত। আর এদিকে বরের একপায়ের জুতোটা আঁচলের তলায় লুকিয়ে চোরের মতো চারিপাশে উঁকি ঝুঁকি দিচ্ছে নীলিমা।\nনীলিমা এককোণে দাড়িয়ে অনবরত দাঁত দিয়ে নখ কাটছিল, তখন হুট করেই কে যেন নিঃশব্দে কাঁধে হাত রাখলো ওর।অকস্মাৎ ঘটনায় চকিতে লাফিয়ে উঠে পেছনে চোখ ঘোরালো নীলিমা।দেখতে পেলো, ওর দিকে সন্দিহান দৃষ্টিতে চেয়ে আছে সায়র।\nসায়র কে দেখা মাত্রই নীলিমা ঝাঁজিয়ে ওঠে, তৎক্ষনাৎ দাঁত খিঁচিয়ে বলে,\n—- এখানে কি চাই?\nসায়র নিজ গ্রীবাটা আরেকটু সামনে বাড়িয়ে নীলিমার ডাগর চোখের পাতায় সন্দিহান চোখ দুটো রেখে শুধালো,\n— কাউকে খুজঁছো?\nনীলিমা ঠোঁট বাকিয়ে জবাব দিলো,</p><p>—-জ্বি না, আর খুঁজলেও আপনাকে খুঁজিনি, যান তো, আজাইরা।\nনীলিমার কথা গায়ে মাখালো না সায়র, মেয়েরা এমন একটু আধটু ঝাঁজিয়ে কথা বলে ওতে বেশ কিছু অসুবিধা নেই, অর্ণব কত শুনেছে এমন। থা’প্পড় খেতে খেতে ওর গালটাই বোধ হয় বেঁকিয়ে গিয়েছে , তবুও তো শেষমেশ এলিসাকেই পেয়ে গেলো। নীলিমা আর যাই হোক থা’প্পড় মা’রার সাহস নিশ্চয়ই দেখাবে না,উহুম কখনোই না।\nযায়গাটা সরু এদিক দিয়ে ক্যাটারিং এর লোকজন আসা যাওয়া করছে হরদম। নীলিমা সেখানেই ঘাপটি মে’রে দাড়িয়ে আছে সেই সাথে সায়র ও। নীলিমা চুপচাপ শান্ত মস্তিষ্কে দাঁড়িয়ে আছে দেখে সায়র ওর কানের কাছে মুখ নিয়ে নরম স্বরে শুধালো,</p><p>— এ্যাই মেয়ে, আমেরিকা যাবে আমার সাথে?\nনীলিমা নিজ ভ্রু জুগল কুঞ্চিত করে বললো,\n— কিহ!\nসায়র ফের আওড়ালো,\n— বলেছি আমার সাথে নিয়ে যাবো তোমায়, নয়তো এতো রাগ কাকে দেখাবে তুমি হ্যা?\nতুমিতো রীতিমতো আমাকে মিস করবে, দেখা যাবে আমার উপর রাগ ঝাড়তে না পেরে তোমার বদ হজম হয়ে গেলো, তারপর ব’মি, আর পর ডি’সি’ন্ট্রি।\nকথাটুকু শেষ করে চকিতে দাঁত দিয়ে জিভ কাটলো সায়র, পরক্ষণেই এদিক ওদিক না সূচক মাথা নাড়িয়ে মুখমন্ডলে কৃত্তিম গম্ভীর ভাব টেনে বললো,</p><p>— নো ওয়ে, আমার জন্য কারও ডি’সিন্ট্রি হবে?সেটা তো হতে পারে না, পুরো আমেরিকা জানে আমি ভারী সদয় হৃদয়ের মানুষ,তাহলে এই নি’র্দয় কাজটা কি করে করবো আমি? কিছুতেই না, তোমাকে এমন ঘোর ডি’সিন্ট্রি আ’শঙ্কার মধ্যে রেখে আমি তো কখনোই ও দেশে গিয়ে শান্তি পাবো না রাগীনি। তার চেয়ে তুমি বরং আমার সাথে…..\nসায়র টেপরেকর্ডারের মতো এক নাগাড়ে কথা বলছে তো বলছেই, থামা থামির নামই নিচ্ছে না, এই পর্যায়ে এসে ওকে মাঝ পথে থামিয়ে দিলো নীলিমা, ওর দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করে কটমটিয়ে বললো,\n—– চুপ করবেন আপনি? তখন থেকে ডি’সিন্ট্র ডিসি’ন্ট্রি বলে আমার পেট খারাপ করে দিলেন, বলি এসব বলতে আপনার কি মুখে বাঁধে না একটু ও?\nসায়র বলতে চাইলো,</p><p>—- ডি’সিন্ট্রি একটা প্রাকৃতিক সমস্যা, সেটা আবার মুখে বাঁধার কি আছে?\nতবে কথা এগোতে পারলো না আর, তার আগেই ক্যাটারিং এর লোকের ধা’ক্কা খেয়ে নিজেকে সামলাতে না পেরে আচমকা পা ফসকে উল্টে পরলো নীলিমার শরীরের উপর। অ সাবধানতায় ওর হাতটা গিয়ে ঠেকলো নীলিমা মেদহীন লতানো উন্মুক্ত কোমড়ের ভাঁজে।\nনীলিমা সায়রকে সামলালো ঠিকই, কিন্তু পরক্ষণেই চরম সাহসীকতা আর জিদের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে সায়রের গালে ঠাটিয়ে চ’ড় বসালো ও। আচমকা চ’ড় খেয়ে সায়র অ’গ্নিদৃষ্টি নিক্ষেপ করলো নীলিমার পানে,কিন্তু তার চেয়েও বেশি অ’ঙ্গার দেখা গেলো নীলিমার চোখে মুখে।\nএকপর্যায়ে সায়রের দিকে তাকিয়ে রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে কেঁদে উঠলো নীলিমা।\nকিছু মানুষ আছে রাগ দেখাতে গিয়ে কা’ন্না পেয়ে যায়, নীলিমা বোধ হয় ওই ক্যাটাগরিতেই পরে।\nনীলিমা কাঁদছে দেখে চোখমুখ কিছুটা স্থীর করলো সায়র, চারিদিকে চোখ বুলিয়ে নরম কন্ঠে প্রশ্ন ছুড়লো,</p><p>—- কাঁদছো কেন, কি হয়েছে? আ’ম সরি এটা ইচ্ছে করে হয়নি,আমি ইচ্ছে করে তোমার ওখানে…\nসায়রের কথা না শুনে মাঝপথেই চোখ মুছতে মুছতে গটগট পায়ে ওখান থেকে চলে গেলো নীলিমা। নীলিমা চলে যেতেই কোথা থেকে যেন অরু এসে চারিদিকে উঁকি ঝুঁকি দিয়ে বলে ওঠে,\n—- আরেহ জুতোটা তো এখানেই পরে আছে তাহলে নীলিমা কাঁদতে কাঁদতে ওদিকে কোথায় যাচ্ছে?\nসায়র তখনো সেখানেই দাড়িয়ে এক ধ্যানে নীলিমার যাওয়ার পানে তাকিয়ে ছিল , অরু জুতোটা হাতে নিয়ে সায়রের দিকে তাকিয়ে অসহায় সুরে বললো,\n—- আর বলবেন না ভাইয়া, বিয়ে ঠিক হওয়ার পর থেকেই মেয়েটা শুধু শুধু কাঁদে। আশ্চর্য!\nঅরুর কথায় যেন আকাশ থেকে পরলো সায়র, তৎক্ষনাৎ চোখ বড়বড় করে শুধালো,\n—- কি বললে তুমি? নীলিমার বিয়ে ঠিক হয়েছে? কবে, কোথায়, কখন?\nঅরু ঠোঁট উল্টে ভাবলেশহীন কন্ঠে জানালো,</p><p>— এইতো আাপার বিয়ের দুই তিন দিন পরেই আকদ হবে, পরবর্তীতে পড়াশোনা শেষ হলে তুলে দেওয়া হবে।\nসায়রের গলাটা ধরে এসেছে,অরুর কথার পাছে ও আর দ্বিতীয় প্রশ্নটা করে উঠতে পারলো না সাহস দেখিয়ে। কেমন যেন পুরো দুনিয়া দুলছে ওর চোখের সামনে।\nতাই অরুও আর দাঁড়ালো না জুতোটা নিয়ে হেলেদুলে চলে গেলো অন্দর মহলের দিকে।</p><p>অন্দরমহলের ভেতর প্রবেশ করে, সিঁড়ি ছাপিয়ে দোতলার করিডোরে পা রাখতেই থমকে গেলো অরু। পা দুটো আটকে রইলো সেখানেই, দক্ষিণের বাতাসে দোদুল্যমান জানালার দিকের মোমবাতি গুলো সব নিভে পরে আছে, সেখানেই সটান দাঁড়িয়ে নিকোটিনের ধোঁয়া ছাড়ছে এক দীর্ঘদেহী পুরুষ। লোকটা উল্টো হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, তবে অরুর তাকে চিনতে অসুবিধে হলোনা খুব একটা । তাই খুব বেশি না চিন্তা করেই সহসা এগিয়ে গিয়ে পেছন থেকে লোকটাকে ডেকে উঠলো অরু,</p><p>—- অমিত ভাই?\nঅমিতের বন্ধুত্বসুলভ আচরণে বরাবরই বিমোহিত অরু। কখনো এমন কোন ঘটনা কিংবা আচরণ ওর নজরে পরেনি যার কারনে অমিতকে এরিয়ে যেতে হবে কিংবা ঘৃ’ণ্য নজরে দেখতে হবে। তবুও সেদিনের ঘটনার পর থেকে ক্রীতিকের ভয়ে বলা চলে অমিতকে একপ্রকার এরিয়েই চলেছে অরু।\nকিন্তু আজ তো সে বাড়ি বয়ে এসেছে, তারউপর বহুদিনের অসু’স্থতা ছাপিয়ে একটুখানি সুস্থ হয়েছে লোকটা, সেই সুবাদেই অমিতের সাথে নিজ থেকে কথা বলার জন্য এগিয়ে গেলো অরু।অমিত ঘুরে তাকালে অরু আন্তরিক হেসে শুধালো,</p><p>— অমিত ভাই এখন ঠিক আছেন? পায়ের কি অবস্থা?\nঅরুর প্রশ্নে একটুকরো হাসি ঠোঁটের আগায় খেলা করে গেলো অমিতেরও, অতঃপর হেসে’ই জবাব দিলো অমিত,\n—- এখন ঠিক ঠাক। তোমার কি খবর?\nনোবেলটা কতদূর এগোলে?</p><p>অমিতের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার সুযোগ হলোনা অরুর, তার আগেই ওর চোখ গেলো দমকা হাওয়ায় নিভে যাওয়া মোমবাতি গুলোর দিকে, ও তাড়াহুড়ো করে অন্যপাশ থেকে আরেকটা জ্বলন্ত মোম নিয়ে এসে লম্বা চুল গুলোকে কাঁধের একপাশে রেখে , জানালার কাছে আয়েশ করে বসে নতুন উদ্যমে জ্বালাতে শুরু করলো মোমবাতি গুলো।\nকাঁচা হাতে মোম জ্বালাতে জ্বালাতে অরু আর খেয়ালই করেনি অমিত এখনো আছে না চলে গিয়েছে। চুল সরানোর দরুন মোমের নরম আলোটুকু ঠিকরে পড়ছে অরুর ধবধবে কোমল পৃষ্ঠদেশে, নতুন লেহেঙ্গার এই ব্লাউজের গলাটা বেশ বড়, এতোই বড় যে ক্রীতিকের হলুদ লাগানো অংশ স্পষ্ট দৃশ্যমান।\nএরকম অপ্রত্যাশিত অথচ আকাঙ্খিত দৃশ্য দেখেই চোখ আটকে গেলো অমিতের। লোভাতুর কামুক চোখ দুটো ঘুরে ফিরে আটকে যাচ্ছে ওই একই যায়গাতে। অরুর প্রতি খারাপ আগ্রহ, লালসিত কিংবা দু’শ্চরিত্র মনোভাব কোনোকালেই ছিলোনা অমিতের।</p><p>বরাবরই মনের এক কোনে অরুকে নিজের সহধর্মিণী, নিজের অর্ধাঙ্গিনী বানানোর ক্ষুদ্র প্রয়াস করেছে আড়ালে আবডালে। কিন্তু এই মূহুর্তে নিস্তব্ধ রাতে ওর সভ্য পুরুষ সত্তাটা কোথায় যেন যাচ্ছে ক্রমশ, অমিত নি’র্লজ্জের মতো অরুর দিকে তাকিয়ে আছে,আর শুষ্ক ঢোক গিলছে বারে বারে।\nশুধু ভাবছে অরুর ওই নরম তুলতুলে শরীর অবধি পৌঁছাতে গেলে কতটা বাঁধা অতিক্রম করতে হতে পারে, ঠিক কতটা? অমিত যখন অরুর দিকে তাকিয়ে আবেশিত ঘোরে বিভোর, সেই ঘোরের মাঝেই হুট করে কপাল কুঁচকে গেলো ওর,অস্ফুটেই অমিত অরুর পিঠের দিকে হাত বাড়িয়ে বলে ওঠে,\n—- কি লেগে আছে হলুদ হলুদ? এখানে হলুদ কে লাগালো?\nঅমিতের হাতটা অরুর পিঠে ছুঁই ছুঁই হয়তোবা মেগা সেন্টিমিটার দূরত্ব এখনো অবশিষ্ট,আবার তার কমও হতো পারে,ঠিক তখনই, হুট করে, একদম অকস্মাৎ ঝ’ড়ের গতিতে, বাঁজপাখির মতো ছো মে’রে ওর হাতের কব্জিটা শক্ত করে চেপে ধরলো কেউ।</p><p>আচমকা ঘটনাতে অপ্রস্তুত হয়ে গেলো অমিত, সেই সাথে কিছুটা ভয় ও পেলো। ভ্রম কেটে যেতেই অরুর থেকে চোখ সরিয়ে হাতের চাপে ওর কব্জিটা ভা’ঙার জন্য উদ্যত হওয়া লোকটাকে দেখার উদ্দেশ্যে সামনে দৃষ্টিপাত করলো অমিত।\nপিঠের উপর অচেনা হাতের আলতো স্পর্শ অনুভব হতেই ভয়ে সিটিয়ে গিয়ে তাড়াহুরো করে চুল গুলো পিঠে ছেড়ে দিলো অরু। তারপর হকচকিয়ে পেছনে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাতেই অজানা ভয়ে হৃদয় নেড়ে উঠলো ওর।\nতৎক্ষনাৎ শুকনো ঢোক গিলে কয়েক কদম পিছিয়ে গেলো অরু, দেখলো ওরই সামনের অমিতের কব্জিটা চে’পে ধ’রে চোয়াল শক্ত করে দাড়িয়ে আছে সয়ং ক্রীতিক।</p><p>পুরো বাড়ি ভর্তি সকলে বেবি পিংক থীমের জামা কাপড় পড়ে থাকলেও ক্রীতিকের পড়নে এখনো ব্ল্যাক স্যুট, একহাতে কিছু ফাইল। দেখেই বোঝা যাচ্ছে মাত্রই অফিস থেকে ফিরেছে সে। আর এই মূহুর্তে আ’গ্নেয়গিরির দা’বানলের মতোই হুর হুর করে আ’গুনের লে’লিহান জ্ব’লে উঠেছে ওর সবগ্র মস্তিষ্কে জুড়ে ।\nকিন্তু ক্রীতিক সুকৌশলি,যার ফলসরূপ নিজের মেজাজ টাকে সুকৌশলেই সামলালো ও। কয়েক মূহুর্ত বাদে অমিতের হাতটা আস্তে করে ছেড়ে দিয়ে গভীর অথচ মসৃণ আওয়াজে প্রশ্ন ছুড়লো অমিতকে,\n—- কি করছিলে তুমি এখানে? অতিথিরা তো সব নিচে অপেক্ষা করছে।\nক্রীতিকের কথার পেছনে অমিত আমতা আমতা করে মাথা চুলকে বললো,\n— এইতো স্মোক করতে এসেছিলাম, তারপর হুট করেই অরুর সাথে দেখা হয়ে গেলো, তাই না অরু?\nঅরুর দিকে তাকিয়ে ফিকে হাসলো অমিত।\nপরক্ষণেই ক্রীতিকের দিকে তাকিয়ে পুনরায় অমিত বলে,</p><p>—- আমি নিচে গিয়ে দেখছি কাজি সাহেব এলো কিনা, তোমরা ও চলে এসো।কেমন?\nঅপ্রস্তুত ভঙ্গিতে কথাটুকু শেষ করে দ্রুত পদধ্বনিতে দোতলা ত্যাগ করে অমিত। অমিত চলে গিয়েছে কি যায়নি, নিজের ঘাড় ফুটিয়ে অরুর সামনে এসে কোনোরূপ কথা, কিংবা জবাবদিহিতা ছাড়াই ওর গালে নিজের সর্ব শক্তি প্রয়োগ করে চ’ড় বসালো ক্রীতিক। চ’ড়টা এতো জোরেই ছিল যে অরুর চুলের পাঞ্চ ক্লিপটা ছি’টকে পরলো অদূরে। থা’প্পড় খেয়ে গালে হাত দিয়ে কাঁপা গলায় কাই কুই করে অরু বলে,\n—আ..আম..আমি..\n—এই চুউউপ.. শাট ইউর ফা’কিং মাউথ।\nক্রীতিকের র’ক্তিম চোখ আর কঠোর ধমকে আরেক দফা কেঁপে উঠল অরুর ছোট্ট শরীরটা।\nএই মূহুর্তে জবাব দেওয়া কিংবা ক’ষ্টে নয়,বরং ভয়ে কাঁপছে অরু। তবে ওর তো কোন দোষ নেই,সেটা ক্রীতিককে বোঝাতে হবেতো।</p><p>কিন্তু ক্রীতিক বুঝলো না, উল্টো অরুর চোয়ালটা শক্ত হাতে চেপে ধরে দাঁতে দাঁত পিষে বললো,\n— ওই বা’স্টা’র্ড টা তোর শরীরের দিকে হাত বাড়ানোর সাহস কোথায় পেলো? জবাব দে?\nওই নোং’রা হাতটা আমার জিনিসকে স্পর্শ করেছে, আমিতো তোকে আজ মে’রেই ফেলবো অরু। তুই জানতিস আমি কতোটা খারাপ, তাহলে কলিজায় এতো সাহস কোথা থেকে এলো? হাউ ফা’কিং ডেয়ার ইউ টু টক উইথ সামওয়ান লাইক অমিত?\nগলা উঁচিয়ে চিৎকার করে উঠলো ক্রীতিক।\nঅরু ব্যথায় জর্জরিত সেই সাথে ভয়ে তটস্থ, কথা বলার কোনো পরিস্থিতি অবশিষ্ট রাখেনি ক্রীতিক, তাই উপায়ন্তর না পেয়ে ফোপাঁতে ফোপাঁতে চোখের জল ফেলছে মেয়েটা।\nহৃদয়টা ওর ভে’ঙে টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছে, শেষ পর্যন্ত কিনা অমিত ও এমন একটা কাজ করে বসলো?\nক্রীতিক দমলো না, একই ভাবে অরুর গালটা চেপে ধরে বললো,</p><p>—- আমি জানি তুই কিছু করিসনি, তুই বুঝতেও পারিসনি এমন কিছু হবে, কিন্তু তুই অন্যা’য় করেছিস অরু, ঘোর অ’ন্যায় করেছিস। আমি বারণ করা সত্ত্বেও অমিতের সাথে কথা বলার স্পর্ধা দেখিয়েছিস, তোকে আমি কতবার স’তর্ক করেছি আপন ভাই ছাড়া আর কোনো ভাই’ই আদতে ভাই নয়, বলিনি বল?আন্সার মি!\nরাগে আক্ষেপে অরুকে ঝাঁকিয়ে কথাটা জিজ্ঞেস করলো ক্রীতিক।\nঅরুর কা’ন্নার আওয়াজ জোড়ালো হলো, ক্রীতিক তীব্র রা’গে অরুকে সামান্য ধা’ক্কা মে’রে দূরে সরিয়ে দিয়ে পরনের ব্লেজার আর ফাইল গুলো করিডোরের মেঝেতেই ছু’ড়ে মা’রলো। পুরো অন্দলমহল খাঁ খাঁ করছে, এদিকে একটা কাক পক্ষি ও নেই। বাইরে সবার আনন্দ উল্লাসের শোরগোল শোনা যাচ্ছে, হয়তো বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। এটার জন্যই তো এতোক্ষণ অপেক্ষা করছিল ক্রীতিক। বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে ব্যাপারটা বুঝতে পেরে অরুকে ওর রুমে আটকে রেখে,হাতে একটা হ’কিস্টিক নিয়ে নিজের সফেদ রঙা শার্টের হাতাটা গুটাতে গুটাতে নিচে চলে যায় ক্রীতিক, যাওয়ার আগে অরুকে উদ্দেশ্য করে তীর্যক কন্ঠে বলে,\n— আমি ফেরার আগ পর্যন্ত এখান থেকে এক পা ও ন’ড়লে তোর খবর আছে, এই দেহে প্রা’ন থাকবে না।</p><p>ক্রীতিক হকি’স্টিক সমেত নিচে এসে সরাসরি প্রত্যয়ের মাকে জিজ্ঞেস করলো,\n— অমিত কোথায়?\nপ্রত্যয়ের মা বিয়ে বাড়িতে ব্যস্ত সময় পার করছেন, তাই কোনো কিছু খেয়াল না করেই তিনি বললেন,\n— ও তো বাবা মাত্রই বেরিয়ে গেলো, কি জরুরি কাজ আছে বললো।\nক্রীতিক ও আর দাড়ালো না সেখানে, বড় বড় পা ফেলে বাইক নিয়ে সোজা বেড়িয়ে গেলো ক্রীতিক কুঞ্জ থেকে।\nআর কেউ খেয়াল না করলেও এই পুরো ঘটনাটা খেয়াল করলো ক্রীতিকের বন্ধুরা। ক্রীতিক বেরিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এলিসা তরিঘরি করে বলে উঠলো,\n—- অর্ণব, সায়র ওকে আটকা জলদি, নয়তো যাকে মা’রতে যাচ্ছে তাকে আজ মে’রেই ফেলবে।\nঅর্ণব সায়র আর ঘটনা বোঝার জন্য অপেক্ষা করেনা,কোনোকিছু না ভেবেই ওরাও বাড়ির গাড়িটা নিয়ে দ্রুত গতিতে বেরিয়ে পরে ক্রীতিকের পিছু পিছু।</p><p>জোস্ন্যা মাখা রাত, অমিত কে পাওয়ার জন্য খুব বেশিদূর যেতে হলোনা ক্রীতিকের, মহল্লা ছাড়ানোর আগেই অমিতের সাদা টয়োটা গাড়িটা ধরে ফেললো ও।\nক্রীতিকের চোখে গাড়িটা পরার সঙ্গে সঙ্গে কোনোকিছুর আশ’ঙ্কা না করেই একেবারে অমিতের গাড়ির সামনে গিয়ে স্ট্যান্ড করালো বাইক, মাথার হেলমেট টা খুলে বাইকের পেছন থেকে হকি’স্টিক নিয়ে গাড়ির জানালায় কড়া নাড়তেই জানালার কাচ নামালো অমিত, জানালার কাচ নামাতেই ক্রীতিকের থমথমে মুখটা দেখে কিছুটা হতবাক চাহনি নিক্ষেপ করে অমিত বলে ওঠে,</p><p>—- ক্রীতিক তুমি এখানে?\n— গাড়ি থেকে নামো আগে, বলছি।\nঅমিত কিছু না ভেবেই ধীর পায়ে গাড়ি থেকে নেমে এলো অতঃপর ক্রীতিকের হাতের হকি’স্টিকি’কের দিকে তাকিয়ে আশ্চর্য হয়ে বললো,\n—- কি হয়েছে?\nক্রীতিক জবাব দিলো ,\n—- আ’ম সরি অমিত।\nএরপর আর কোনো কথা নয় সরাসরি অমিত কে হ’কিস্টিক দিয়ে আ’ক্রম’ন করে বসলো ক্রীতিক। কয়েক ঘাঁ শক্ত প্র’হার শরীরে আঁচড়ে পরতেই কিছুটা টলে পরলো অমিত। কিন্তু ও নিজেও তো ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নয়,যথেষ্ট বলবান পুরুষ অমিত।</p><p>কিছুদিন আগের এ্যা’ক্সিডে’ন্টের কারনে শক্তির কিছুটা ক্ষয় হলেও এতোটাও দূর্বল নয় যে,ক্রীতিকের হ’কিস্টি’কিকের প্র’হারের বিপরীতে ও চুপচাপ হাত গুটিয়ে বসে থাকবে।\nএবং সে-ই শক্তিরই বহিঃপ্রকাশ ঘটালো অমিত, উঠে গিয়ে শক্ত হাতের ঘু’ষি ছাড়লো ক্রীতিকের নাক বরাবর, তৎক্ষনাৎ নাক ফে’টে র’ক্ত বেরিয়ে এলে ওর।\nক্রীতিক সেটা আলগোছে মুছে নিয়ে, ঠোঁট কামড়ে আঙুলের ইশারায় অমিত কে বললো,\n— গুড জব,জাস্ট হিট মি। নাহলে তোমাকে মা’রতে আমার অনুশোচনা হচ্ছে।\n—- ইউ ফা’কিং সাই’কো’প্যাথ,\nকথা টা আওড়ে ওকে মা’রতে গিয়েও মা’রলো না অমিত, থেমে গিয়ে উল্টো চিল্লিয়ে উঠে বললো,\n—- কেন মা’রছো তাহলে? কিসের শ’ত্রু’তা আমার সাথে তোমার?\nক্রীতিক অমিতকে পুনরায় হ’কি’স্টিক দিয়ে মা’র’তে মা’র’তে বললো,\n—- আ’ম সরি অমিত, বাট তুমি খুব বড় মিসটেক করে ফেলেছো, জানতে চাও সেটা কি?\nঅমিতের শরীর ফেটে র’ক্ত বেরোচ্ছে, তবুও চোখে মুখে একরাশ কৌতুহল নিয়ে ক্রীতিকের পানে চাইলো অমিত।\nক্রীতিক চোয়াল শক্ত করে বললো,\n—- আজ যে মেয়েটার দিকে তুমি নোং’রা চোখে চেয়েছিলে, যার শরীরে লালসা করে হাত বাড়িয়ে ছিলে, ওই মেয়েটা আমার বিয়ে করা বউ!!</p><p>আমার সম্পত্তি, আমার হার্টবিট, ইভেন সি ইজ মাই এভ্রিথিং, বা’স্টা’র্ড।\nক্রীতিকের কথা শুনে চমকে ওঠে অমিত, এই তাহলে ক্রীতিকের রা’গের কারণ? কিন্তু এটা কি করে সম্ভব? অমিতের জানা মতে অরুর মা ক্রীতিকের ও সৎ মা, তাহলে সৎ বোন কি করে বউ হয়?ও এম জি! ইটস আ হিউজ ব্লা’ন্ডার। কিন্তু এখন? ক্রীতিক নিশ্চয়ই এতো বড় ভুলের জন্য অমিতকে ছে’ড়ে দেবেনা?\nঅমিত চুপচাপ শুষ্ক ঢোক গিলছে দেখে ক্রীতিক পুনরায় বলে,\n— আগের বার সতর্ক বার্তা হিসেবে শুধু গাড়ি এ্যা’ক্সি’ডেন্ট করিয়ে ছেড়ে দিয়েছিলাম, তারপরেও ক্রমাগত একই ভুল করে গিয়েছো তুমি অমিত।\nক্রীতিকের শেষ কথাটা শোনা মাত্র অমিত হতবিহ্বল হয়ে পরে, মনেমনে ভাবে আগের বারও অরুর ব্যাপারে কথা বলে যাওয়ার সময়ই অনা’ঙ্ক্ষিত দূর্ঘ’টনা’র স্বীকার হতে হয়েছিল ওকে। আর এখনও।\nনিজের কথা শেষ করে ক্রীতিক পুনরায় অমিতকে হকি’স্টিক দিয়ে প্রহার করতে যাবে, ঠিক তখনই কোথা থেকে যেন ছুটে এসে সায়র অর্ণব দুজন মিলে তাড়াহুড়ো করে ধরে ফেললো হকি’স্টি’কটা। সেই সাথে সামলাতে ব্যস্ত হয়ে পরলো উ’গ্র মেজাজী ক্রীতিক কেও।</p><p>অন্দরমহল এখনো নিস্তব্ধ, কারও কোনো সারাশব্দ নেই, হয়তো এখনো সবাই বাইরে স্টেজের ওখানে বর কনে নিয়ে মেতে আছে, অথচ অরু এখানে একা রুমে বসে বসে হাঁটুতে মুখ গুঁজে চোখের জল ফেলছে।\nলম্বা পরিপাটি চুলগুলো এলোমেলো হয়ে আছে, থা’প্প’ড়ের আ’ঘা’তে গালটা জ্বলে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে হা করলেও ব্যথায় টনটন করে উঠছে। ক্রীতিকের মুখের আগেই হাত উঠে যায় শরীরে, যা অরু প্রচন্ড ভ’য় পায়, ওই জন্যই তো সবসময় ওইসব কাজ এরিয়ে চলে যেগুলো ক্রীতিকের অপছন্দ, কিন্তু আজ না চাইতেও সেই একই কাজ করলো ও।\nআর অমিত? যে মানুষটাকে অরু চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করলো, ভাইয়ের মতো ভরসা করলো, এমনকি ক্রীতিকের সাথে পর্যন্ত যাকে নিয়ে ত’র্ক করলো, সে কিনা এভাবে সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করলো ছিহ, ভাবলেই গা গিনগিন করে উঠছে অরুর।</p><p>কাঁদতে কাঁদতে মাথাটা ধরে এসেছে ওর,একটু ঘুমাতে পারলে ভালো হতো, তারউপর নিচে আপা কি করছে কে জানে?\nঅরুর মস্তিষ্কে প্রবাহমান হাজারো ভাবনার ছেদ ঘটলো ক্রীতিকের আগমনে, ক্রীতিক রুমে প্রবেশ করতেই ঝকঝকে লাইটের আলোয় অরু দেখলো ওর নাকে মুখে র’ক্ত লেগে আছে, নিজের স্বামীর এহেন অবস্থা দেখে অরু উদ্বিগ্ন হলো বটে, কিন্তু মুখ ফুটে কিছুই জিজ্ঞেস করলো না তীব্র অভিমানে। ক্রীতিক কোনো কিছু জিজ্ঞেস করার ফুরসত ও দিলোনা, এগিয়ে এসে অরুর হাতটা ধরে টা’নতে টা’নতে নিয়ে নিয়ে গেলো রুমের বাইরে অতঃপর কোলে তুলে সিঁড়ি ভেঙে একে বারে নিচে বিয়ের আসরে।\nবিয়ে বাড়িতে তখনো ওদের দুজনকে কেউ খুব একটা খেয়াল করেনি , কিন্তু যখন ক্রীতিক অরুকে টেনে এনে সবার মাঝে দাড় করিয়ে ওর সমগ্র মুখ মন্ডলটা চুমুতে চুমুতে ভিজিয়ে দিতে শুরু করলো, ঠিক তখনই পায়ের তলার মাটি কেঁপে উঠল উপস্থিত সকলের।\nছোট বড় সবাই উপস্থিত এখানে, অথচ সবার মাঝখানে দাড়িয়ে দ্য গ্রেট অ’সভ্য খ্যাত জায়ান ক্রীতিক অরুর সমস্ত মুখে টুকরো টুকরো চুমু খেয়ে তবেই থামলো।</p><p>ওদিকে আজমেরী শেখের লজ্জায় মাথা কাটা যাচ্ছে, অনু প্রত্যয়কে আয়না দেখানো হচ্ছিলো এতোক্ষন, কিন্তু এই মূহুর্তে আয়না দেখা বাদ দিয়ে ওরা ক্রীতিক অরুকে দেখায় ব্যতিগ্রস্থ হয়ে পরলো।\nঅরুর অবস্থা ম’রি ম’রি, চারিদিকের জোড়া জোড়া কৌতুহলী আর সন্দিহান চোখ গুলো এড়াতে নিজের চোখ দুটোই খিঁচিয়ে বন্ধ করে মাথাটা নুয়িয়ে রেখেছে অরু।\nক্রীতিক প্রথমে অরুর আঙুলের ভাঁজে আঙুল ঢুকালো, তারপর শক্ত গলায় বললো,\n—- মাথা উঁচু কর অরু, রাইট নাও।\nচারিপাশের সকলে এখনো কিংকর্তব্যবিমূঢ়, তা দেখে ক্রীতিক সবার উদ্দেশ্যে বলে ওঠে ,\n—- এভরি ওয়ান এটেনশন প্লিজ, ফর ইউর কাইন্ড ইনফরমেশন ইটস আ বিগেস্ট মিসটেক কি আমি সবাইকে জানিয়ে শুনিয়ে ধুমধাম করে বিয়ে করতে পারিনি।\nবাট আ’ম নট সিঙ্গেল এনি মোর, আই হ্যাভ আ ওয়াইফ।আর এখন, এই মূহুর্তে আমি সবাইকে জানাচ্ছি, আমার পাশে যে মেয়েটা দাঁড়িয়ে আছে সে আমার বিবাহিতা স্ত্রী, মিসেস জায়ান ক্রীতিক চৌধুরী।</p><p>হ্যা জানি, এখনো অনেকের মনে অনেক প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে , আমি সেটাও ক্লিয়ার করছি, আমার স্ত্রী আমারই সৎ মায়ের আগের পক্ষের সন্তান। এবং আমি জেনে শুনেই তাকে বিয়ে করেছি, উই আর হ্যাপিলি ম্যারেড নাও।\nআশা করছি আমাদের সম্পর্ক নিয়ে কারোর মাঝে আর কোনো সন্দেহ কিংবা জটিলতা নেই এখন আর। যদি থেকে থাকে তাতে আমার কিচ্ছু যায় আসেনা, কারন জেকে কখনো সোসাইটির ধার ধারেনা। নেভার এভার।\nএক নাগাড়ে কথা শেষ করে গলা কিছুটা খাদে নামিয়ে ক্রীতিক পুনরায় বলে,</p><p>—- থ্যাংকস ফর ইউর ভ্যালুয়েবল টাইম গাইস, নাও ইউ ক্যান এনজয় দ্য ওয়েডিং পার্টি।\nশেষ বাক্যটার ইতি টেনে অরুকে এক প্রকার ফেলে রেখেই হনহনিয়ে ভেতরে চলে গেলো ক্রীতিক। আজ বোধ হয় আর অরুর উপর থেকে রা’গ কমবে না ওর।</p>",
        "series": {
            "id": 32,
            "title": "সঙ্গীন প্রণয়াসক্তি",
            "slug": "songin-pronoyasokti",
            "url": "https://golpohub.com/series/songin-pronoyasokti",
            "thumbnail_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/series-sngin-prnzaskti-32-5080de.webp",
            "progress_status": "completed"
        },
        "author": {
            "id": 29,
            "name": "সুরাইয়া রাফা",
            "slug": "suraiya-rafa",
            "url": "https://golpohub.com/authors/suraiya-rafa",
            "avatar_url": "https://cdn.golpohub.com/avatars/suraya-rafa-29-835bb6.webp",
            "bio": "সুরাইয়া রাফা বাংলা সমকালীন অনলাইন কথাসাহিত্যের এক শক্তিশালী ও স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর। মানবমনের গূঢ় অন্ধকার, তীব্র অধিকারবোধ, মানসিক দ্বন্দ্ব এবং উন্মাতাল ভালোবাসার দ্বিমুখী সংঘাতকে উপন্যাসের ক্যানভাসে জীবন্ত করে তোলায় তাঁর জুড়ি নেই। তাঁর লেখায় ডার্ক রোম্যান্স এবং পারিবারিক বাস্তবতার যে মেলবন্ধন ঘটে, তা পাঠকদের শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত মোহগ্রস্ত করে রাখে।\n\nপ্রেমের প্রথাগত রূপকে অতিক্রম করে ভালোবাসার মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তর, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং নিষিদ্ধ ভালোবাসার সমাজ-সংগ্রাম চিত্রায়নে তাঁর বিশেষ মুনশিয়ানা রয়েছে। 'সঙ্গীন প্রণয়াসক্তি' তাঁর বহুল আলোচিত ও জনপ্রিয় সৃষ্টিগুলোর অন্যতম, যা বিপুল পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করেছে।",
            "series_count": 0,
            "meta": {
                "bio": "সুরাইয়া রাফা বাংলা সমকালীন অনলাইন কথাসাহিত্যের এক শক্তিশালী ও স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর। মানবমনের গূঢ় অন্ধকার, তীব্র অধিকারবোধ, মানসিক দ্বন্দ্ব এবং উন্মাতাল ভালোবাসার দ্বিমুখী সংঘাতকে উপন্যাসের ক্যানভাসে জীবন্ত করে তোলায় তাঁর জুড়ি নেই। তাঁর লেখায় ডার্ক রোম্যান্স এবং পারিবারিক বাস্তবতার যে মেলবন্ধন ঘটে, তা পাঠকদের শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত মোহগ্রস্ত করে রাখে।\n\nপ্রেমের প্রথাগত রূপকে অতিক্রম করে ভালোবাসার মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তর, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং নিষিদ্ধ ভালোবাসার সমাজ-সংগ্রাম চিত্রায়নে তাঁর বিশেষ মুনশিয়ানা রয়েছে। 'সঙ্গীন প্রণয়াসক্তি' তাঁর বহুল আলোচিত ও জনপ্রিয় সৃষ্টিগুলোর অন্যতম, যা বিপুল পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করেছে।",
                "phone": null,
                "gender": "female",
                "address": {
                    "country": "Bangladesh"
                },
                "birth_date": null,
                "social_links": {
                    "facebook": "https://facebook.com/241950972332007"
                },
                "pen_name": "সুরাইয়া রাফা",
                "aliases": [
                    "Suraiya Rafa",
                    "রাফা"
                ]
            },
            "timestamps": {
                "created_at": null,
                "updated_at": null
            }
        },
        "navigation": {
            "previous_episode": {
                "id": 1466,
                "ep_number": 45,
                "title": "নিষিদ্ধ বাঁধন ও রক্তের তৃষ্ণা",
                "slug": "songin-pronoyasokti-s1-ep45",
                "url": "https://golpohub.com/episodes/songin-pronoyasokti-s1-ep45",
                "thumbnail_url": "https://golpohub.com/assets/images/og.jpg"
            },
            "next_episode": {
                "id": 1468,
                "ep_number": 47,
                "title": "পলাতক বধূ ও উড়াল ডানা",
                "slug": "songin-pronoyasokti-s1-ep47",
                "url": "https://golpohub.com/episodes/songin-pronoyasokti-s1-ep47",
                "thumbnail_url": "https://golpohub.com/assets/images/og.jpg"
            }
        }
    }
}