> **বিকল্প ফরম্যাটসমূহ:** [এইচটিএমএল](https://golpohub.com/episodes/tomatei-purno-ami-s1-ep17) | [জেসন](https://golpohub.com/episodes/tomatei-purno-ami-s1-ep17?format=json) | [আরএসএস ফিড](https://golpohub.com/episodes/tomatei-purno-ami-s1-ep17?format=rss) | [অ্যাটম ফিড](https://golpohub.com/episodes/tomatei-purno-ami-s1-ep17?format=atom)

# বৃষ্টিভেজা অতীতের মোহ

![বৃষ্টিভেজা অতীতের মোহ](https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-chapter-3002-06a121.webp)

---
*[আসরিফা সুলতানা জেবা](https://golpohub.com/authors/asrifa-sultana-zeba)-এর [তোমাতেই পূর্ণ আমি](https://golpohub.com/series/tomatei-purno-ami) সিরিজ থেকে*\n*আনুমানিক পড়ার সময়: 14 মিনিট*
- **মোট শব্দ:** 2,108
- **প্রকাশিত:** Sep 23, 2026
---

তিতিশা কে পড়ানো শেষ করে ওদের ড্রইং রুমে বসে আছি। আরিয়ানা আপু নাকি আমাকে অপেক্ষা করতে বলেছেন। তিতিশা ও আমার পাশে বসে আছে। আর একটু পর পর চাচ্চু চাচ্চু বুলি আওড়াচ্ছে। এই মেয়ে কি চাচ্চু ছাড়া আর কিছুই বুঝে না? যেভাবে বলে মনে হয় যেন ওর চাচ্চু একদম সেরা। তিতিশার মাথায় হাত বুলিয়ে বললাম,,,, —এতো কথা বলতে নেই বাবু। —মিস আমি তো চাচ্চুর কথা বলছিলাম। তুমি জানো চাচ্চুর মোবাইলে না তোমার ছ,,,,, আরিয়ানা আপু কে আসতে দেখে একটু নড়েচড়ে বসলাম আমি । তিতিশা ও তার কথা অসমাপ্ত রেখে ছুটে গেল আরিয়ানা আপুর কাছে। ভালো করে খেয়াল করতেই দেখলাম আরিয়ানা আপুর সাথে সুদর্শন একটা লোক ও এগিয়ে আসছেন এদিকে। লোকটা কে আমার পরিচিত মনে হচ্ছে। একবার প্রিয়ুদের বাসায় নিউজে দেখেছিলাম তাকে। হম,,,ওনি তো বিখ্যাত রাজনীতিবিদ তোহাশ চৌধুরী। ওনি এখানে কি করছেন? তিতিশা লোকটা কে ঝাপটে ধরল ” বাবাই” বলে। বুঝতে আর বাকি রইল না ইনি তিতিশার বাবা। ভাবতেই পুরো শরীর অসার হয়ে আসছে এতো বড় একজন রাজনীতিবিদের বাড়িতে অবস্থান করছি আমি এ মুহুর্তে । নার্ভাস ফিল হচ্ছে খুব বেশি। তিতিশা কে কোলে নিয়ে সামনে র সোফায় বসলেন আরিয়ানা আপু ও তোহাশ চৌধুরী। আমার দিকে এক নজর তাকিয়ে ঠোঁট দুটো প্রসারিত করে বললেন,,,, —আসসালামু আলাইকুম। আমি তিতিশার বাবা। ওনার কথায় ভীষণ লজ্জায় পড়ে গেলাম আমি। সালাম টা আমার দেওয়া উচিত ছিল কিন্তু ঘাবড়ানোর জন্য হিতাহিতজ্ঞানশূন্য হয়ে পড়লাম। ঠোঁটে হাসি বজায় রেখেই তিনি বললেন,,, —এতোদিন বাড়ির বাহিরে ছিলাম আমি একটা কাজে। আজ বিকেলেই ফিরেছি। আরিয়ানার কাছে জানতে পারলাম তুমি তিতিশার নিউ টিউটর। আমার মেয়ে ও বিকেল থেকে তোমার বিষয়ে অনেক বার বলছিল। খুব পছন্দ হয়েছে ওর তোমাকে। আমার কাছে আবদার করল আর কারো কাছে কখনও পড়বে না সে। পড়লে শুধু তোমার কাছেই পড়বে। এ প্রথম কোনো টিউটর কে এতো পছন্দ হয়েছে তিতিশার। আমি ও আরিয়ানা একটা বিষয়ে ভেবেছি খানিক সময় আগেই। এখন দেখা যাক তোমার সিদ্ধান্ত কি হয়! —জ্বি বলুন স্যার।—(মৃদু কন্ঠে বললাম আমি) হেঁসে উঠল আরিয়ানা আপু্। ওনার এই হাসির কারণ আমি ঠাহর করতে পারছি না। হালকা হেসে স্যার বলে উঠলেন,,, —স্যার ডাকার প্রয়োজন নেই শ্রেয়সী। আমি তোমার বড় ভাইয়ের মতো। তুমি বরং আমায় ভাইয়া বলে ডেকো। চোখ দুটো ছলছল করে উঠল । এ বাড়ির মানুষগুলো এতো ভালো কেন? অপরিচিত একটা মেয়েকে অবলীলায় কেমন আপন করে নিয়েছে।ধরা গলায় বললাম,,, —বলুন ভাইয়া। — তুমি তো জানো শখের বসে আরিয়ানা একটা স্কুলে জব করে। মাঝে মাঝে স্কুল মিটিং বিভিন্ন কাজে তার বেশিরভাগ সময় বাহিরে কেটে যায়। তাছাড়া আমাদের অফিসের কাজে ও হেল্প করে অনেক যার জন্য তিতিশার সাথে খেলার অথবা ঘুরার সময় হয়ে উঠে না। অবশ্যই প্রত্যেক সপ্তাহে একবার ঘুরা হয় মেয়েটা কে নিয়ে তবুও ওর পাশে চায় কাউকে সারাক্ষণ। আমি খেয়াল করেছি মেয়েটা খুব মিশে গেছে তোমার সাথে অথচ অন্য কাউকে দেখলেই লুকিয়ে থাকতো । মেইন কথায় আসি। তোমার জন্য একটা জব অফার আছে। তোহাশ ভাইয়ার কথায় চমকে উঠলাম আমি।জব অফার মানে!! জব! একটা জবের তো ভীষণ প্রয়োজন আমার। সাবলীলভাব বজায় রেখে জিজ্ঞেস করলাম,,, —কেমন জব ভাইয়া? — আমার মেয়ের সাথে থাকার জব। মানে তিতিশার সাথে সাথে থাকবে। ওকে পড়াবে। ওকে নিয়ে মাঝে মাঝে ঘুরতে যাবে। আর তার জন্য তোমাকে চব্বিশ ঘন্টাই আমাদের বাসায় থাকতে হবে। স্টাডি করবে তাতে আমাদের কোনো প্রবলেম নেই। তিতিশা খুশি হলেই চলবে আমাদের। আরিয়ানা আপু ও মুচকি হেসে বললেন,,,, —রাজি হয়ে যাও শ্রেয়া। তুমি এ বাড়িতে থাকলে আমাদের মেয়েটা খুব খুশি হবে। সাথে এ বাড়ির বাকি মেম্বার ও। একটা আশ্রয়ের, একটা জবের খুব প্রয়োজন ছিল আমার।আজ সন্ধ্যার দিকেই জানতে পারলাম রীতি আপুর বিয়ে ঠিক হয়েছে। কালই চলে যাবেন ওনি বাসা ছেড়ে।ওনি চলে গেলে কিভাবে থাকব আমি একা বাসায় সেটা ভাবতেই খুব ভয় করছিল আমার। তার চেয়ে বড় কথা আমার একার পক্ষে পুরো ভাড়া টা দেওয়া কখনো পসিবল না। এমন সময় এতো ভালো একটা জব পাওয়া এতো ভালো একটা বাড়িতে থাকতে পারাটা আমার জন্য না চাইতেও বিরাট এক পাওয়া। তবুও মনে কিছুটা সংকোচ নিয়ে জবাব দিলাম,,,, –আমি ভেবে দেখব ভাইয়া। —ঠিক আছে। । । ক্যাম্পাসে বেলীফুল গাছটার নিচে পাতানো বেঞ্চ টা তে বসে আছি আমিও প্রিয়ু। এসাইনমেন্টের চিন্তায় মগ্ন দু’জন। এক গাদা এসাইনমেন্ট দিয়েছেন টিচার। ফিজিক্স সাবজেক্ট বরাবরই আমার শত্রু। কেন যে এই সাবজেক্ট টাই জুটল আমার কপালে। স্যার কড়া গলায় বলে দিয়েছেন কারো সাথে মিলতে পারবে না কারো এসাইনমেন্ট । এক তো সবকিছু এতো কঠিন কোনো প্রাইভেট ও পড়ি না আমি তার ওপর স্যারের দেওয়া এসাইনমেন্ট। প্রিয়ু ও হতাশ হয়ে বসে আছে। একদমই মানতে পারছে না সে এসব এসাইনমেন্টের প্যারা। গালে হাত দিয়ে বসে আছি দুজন। আচমকা কারো কন্ঠ শুনে হতাশার ভাবনা ছিঁড়ে বেরিয়ে এলাম দু’জন। চেয়ে দেখলাম সম্মুখে আয়ুশ ভাইয়া দাড়িয়ে।তার থেকে কিছু টা দূরে বাইকে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে তূর্য চৌধুরী। কাল আমায় জোর করে আইসক্রিম খাইয়ে কি সুন্দর করে সং সেজে দাড়িয়ে আছেন জনাব। এই লোক একদিন আমায় মেরেই হয়তো দম নিবেন। —কোনো সমস্যা জেরি? –বিশাল বড় সমস্যা ভাইয়া।–লাফিয়ে উঠে বলল প্রিয়ু। প্রিয়ুর কান্ডে হেসে দিল আয়ুশ ভাইয়া। প্রিয়ুর চেহারাতে দৃষ্টি নিবদ্ধ রেখে বলে উঠলেন,,, — তা কি সমস্যা ম্যাডাম? অভিশঙ্কায় পড়ে গেল প্রিয়ু। আমতা আমতা করে বলল,,, —ওই তো এসাইনমেন্টের প্যারা ভভভাইয়া। —ওহ আচ্ছা! এটা প্যারার কি হলো? —বিষয় টা খুব কঠিন তো। আমরা কিভাবে করবো বলুন।কেমন কঠিন কঠিন সবকিছু। –ঠোঁট উল্টিয়ে বলল প্রিয়ু। প্রিয়ুর কথার ধরনে হেসে উঠলাম আমি ও আয়ুশ ভাইয়া। দূর থেকে আমাদের দিকে ভ্রু কুঁচকে চেয়ে আছেন তূর্য। হাসি থামিয়ে ওনার দিকে তাকাতেই সেখান থেকে চলে গেলেন ওনি। কি হলো! এভাবে চলে গেলেন কেনো! প্রিয়ুর দিকে তাকিয়ে আয়ুশ ভাইয়া বলে উঠলেন,,, —ন্যাকা রাণী কান্না করার একদম দরকার নেই। চোখের জল গুলো এভাবে ছোট্ট একটা কারণে বিসর্জন দিলে চলে বলো? একদম চলে না। আপাতত এসাইনমেন্টের কথা একদম ভুলে যাও। হতে পারে কাল কোনো সারপ্রাইজ ও জুটতে পারে তোমার ভাগ্যে। কথাটা বলে সোজা চলে গেলেন আয়ুশ ভাইয়া। ওনার কথাগুলো বুঝা খুবই কষ্টকর। কেমন যেন রহস্য লুকিয়ে থাকে। আর কথা না বাড়িয়ে পরবর্তী ক্লাসের জন্য পা বাড়ালাম দু’জনে। সিড়ি বেয়ে উপরে উঠতেই তূর্য ভাইয়ার দেখা মিলল। বন্ধুদের সাথে আড্ডায় মত্ত জনাব। পাশ কাটিয়ে যেতে নিলে শুভ্রপরী বলে ডেকে উঠলেন তিনি।পা দুটো থমকে গেল মুহূর্তেই। কাছে এগিয়ে এসে মুখে হাসি টেনে প্রিয়ু কে উদ্দেশ্য করে বললেন,,,, —তুমি ক্লাসে যাও প্রিয়ুৃ। শুভ্রপরীর সাথে আমার কিছু কথা আছে। বুঝোই তো! আশা করি শালী হয়ে দুলাভাইয়ের বিরোধ হবে না তুমি। ফ্যালফ্যাল নয়নে তাকিয়ে রইলাম আমি ওনার দিকে। বলে কি এই লোক! সবার সামনে এমন পরিস্থিতিতে প্রচন্ড লজ্জা লাগছে আমার। প্রিয়ুর হাত ধরতেই আমার হাত থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে নিল প্রিয়ু্। উৎসাহিত কন্ঠে বলে উঠল,,, — অবশ্যই নিয়ে যাবেন ভাইয়া। এই নিন আপনার শুভ্রপরী। আপনার আর আপনার শুভ্রপরীর মাঝে আপনার ছোট্ট কিউট শালী টা কখনও আসবে না। আমি তাহলে চললাম ভাইয়া। কথাটা বলেই এক দৌড়ে প্রগাঢ়পাড় প্রিয়ু। কোনো উপায় না পেয়ে দ্বিধা নিয়ে থমকে রইলাম আমি। সামনে তাকাতেই দেখলাম ওনার বন্ধুরা ও নেই। উনি ঠোঁট দুটো প্রসারিত করে চেয়ে আছেন আমার দিকে। সাদা শুভ্র ওড়না টা টেনে মাথায় দিয়ে দিলাম ভালো করে। হাতটা ও কেমন কাঁপছে থরথর করে। কম্পনরত স্বরে মাথা নিচু রেখেই বললাম,,, —কিছু বলবেন? —অনেক কিছু বলব। চলো আমার সাথে। —কোথায়? —আমার প্রতি বিশ্বাস নেই শুভ্রপরী? —এখানে বিশ্বাসের কথা আসছে না। আমার ক্লাস আছে তো তাই বললাম। —আজ কোনো ক্লাস করতে হবে না। কথাটা বলেই তূর্য আমার হাত ধরে বাইকের কাছে নিয়ে এলেন। নিজে উঠে বাইক স্টার্ট দিয়ে ইশারা করলেন আমাকে উঠতে। আমি আজ পর্যন্ত বাইকে উঠি নি। ওনি আবার বলতেই কাঁপা কাঁপা হাতে ওনাকে ধরে বসলাম আমি কিছু টা দূরত্ব রেখে। তাচ্ছিল্য স্বরে বলে উঠলেন ওনি,, —এভাবে ধরলে তো পড়ে যাবেন। ভালো করে ধরুন। ওনার কথায় কোনো ভাবান্তর হলো না আগের মতোই ধরে রাখলাম। বাইক চলতেই ভয়ে তৎক্ষণাৎ ওনার কাঁধে খামচে ধরলাম আমি। বাঁকা হাসি দিয়ে বলল তূর্য,, —যতই চেষ্টা করো দূরে থাকার ততই নিজ থেকে সন্নিকটে আসবে আমার। । । বাইক বেরিয়ে আসল শহর থেকে। গ্রামের আকা বাঁকা রাস্তা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। মাঝপথে একবার ও বাইক থামান নি তূর্য। বসে থাকতে থাকতে আমার কোমড় টাও ব্যাথা করছে। মাথা এলিয়ে দিলাম তূর্যর পিঠে। বাতাস এসে ছুয়ে যাচ্ছে আমাদের শরীরে। ভালো করে তাকাতেই খেয়াল করলাম এটা আমাদের গ্রাম। দু বছর হয়ে গেছে এখানে আর আাসা হয় নি। কার সাথে আসতাম? বাবা যে আম্মুর মতো আমাকে ছেড়ে চলে গেছেন আমার বিয়ের এক মাসের মাথায়। তূর্য কেন আমায় এখানে নিয়ে আসলেন? জানার আগ্রহ টা নিজের মাঝে দমিয়ে আশ পাশ টায় চোখ বুলালাম আমি। গ্রাম টা আগের চেয়েও খুব সুন্দর হয়ে গেছে। বড় বড় সবুজ গাছপালা গুলো একদম চোখ জুড়ানোর মতো। বিশাল এক জাম গাছের নিচে এসে বাইক থামালেন তূর্য। এ দিক টা একদম খোলামেলা। আশেপাশে কোনো বাড়ি ঘর নেই। কাঁচা রাস্তা। জাম গাছ টা দেখেই মনের মধ্যে বছর দু খানেক আগের স্মৃতি জাগ্রত হলো। সেদিন বৃষ্টি ছিল। ঝুম ঝুম বৃষ্টিতে পাশের বাড়ির মণি খালার মেয়ে সিমা,,,মণি খালার ছোট ছেলে নাহিদের সাথে এসেছিলাম এই জামতলায়। আমি গাছের নিচে গিয়ে দাঁড়াতেই তূর্য বাইক এক সাইডে রেখে আমার নিকটে এসে দাঁড়ালেন। হাত বাড়িয়ে দিলেন আমার দিকে। অনায়াসে দ্বিধাহীন ভাবে ওনার হাতে নিজের হাতটা রাখলাম আমি। সাথে সাথেই মনের সবটা জুড়ে বয়ে গেল শীতল স্রোত। জাগ্রত হলো কঠিন বাস্তবতার ভিড়ে চাপা পড়ে থাকা অনুভূতিগুলো। হাঁটতে হাঁটতে অনেকটা দূরে চলে এলাম আমরা। দূর থেকেই দেখা যাচ্ছে গ্রামের ছোট্ট রিসোর্ট টা। গ্রামের প্রভাবশালী ব্যাক্তিরা মিলে এই রিসোর্ট টা দিয়েছেন যেন দূর থেকে কোনো মানুষ আসলে রাত টা অবস্থান করতে পারেন। এখন মানুষের আনাগোনা হয়তো তেমন একটা নেই। খুব কম সংখ্যকই পর্যটক এখানে আসেন গ্রামের প্রকৃতি উপভোগ করতে। বাবার সাথে এসেছিলাম রিসোর্টে। ওনার এক বন্ধুর ছেলে এখানকার মেনেজার ছিলেন তখন। রিসোর্টে প্রবেশ করতেই খুব অবাক হলাম আমি। আগের চেয়েও খুব সুন্দর করে সাজানো হয়েছে জায়গাটা। আমরা ঢুকতেই বাবার সেই কথিত বন্ধুর ছেলে সামনে এসে দাড়ালেন। তূর্যর সাথে হাত মিলিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বলে উঠলেন,, —কেমন আছেন ভাবী?আসতে কোনো সমস্যা হয় নি তো। ছেলেটার ভাবী ডাকে বুকে হাঁতুড়ি পিটা শুরু হলো প্রচন্ড জোরে জোরে। শব্দটা হৃদয়ে এসে বিঁধল প্রচন্ড বেগে । মনে হয় যেন স্বপ্নে আছি আমি। লজ্জায় তূর্যর টি শার্টের কোমড়ের কাছের কিছু অংশ হাতের মুঠোয় টেনে ধরলাম একটু জোরে। আমার মুখের দিকে এক পলক তাকিয়ে ছেলেটার দিকে তাকিয়ে বললেন,,, —তোর ভাবী খুব লজ্জা পাচ্ছে। ছোট তো। এতো দূর থেকে এসেছি খুব ক্লান্ত। রেস্ট নিতে চাই। তূর্যর এমন কথায় লজ্জা -শরম আঁকড়ে ধরল আমায় আরো তীব্র গতিতে। ওনার বন্ধু এক গাল হেসে বললেন,,, –অফ কোর্স দোস্ত। তোরা রুমে যা। আমি খাবার পাঠাচ্ছি। । । রুমে এসে হাত মুখ ধুয়ে খাটে বসে রইলাম আমি। রুমটা বেশ সুন্দর। কাঠের তৈরি এই ছোট রিসোর্ট টা দেখে মুগ্ধ হবে মানুষ। আসবাবপত্র গুলো সব কাঠের। কিন্তু আমরা কেন এখানে এসেছি? কেন তূর্য এখানে নিয়ে এলেন আমায়? তূর্য ফ্রেশ হয়ে বের হতেই আমি কিছু বলার জন্য প্রস্তুত হবো তখনই হুট করে আমার কোলে মাথা রেখে শুয়ে পড়লেন তূর্য। হতবাক হয়ে পড়লাম আমি। হাত দু’টো নাড়ানোর শক্তি হারিয়ে ফেললাম। আমার হাত দুটো নিয়ে মাথায় রাখলেন ওনি। ক্লান্ত স্বরে উচ্চারতি করলেন,,, –মাথা টা খুব ব্যাথা করছে শুভ্রপরী। একটু টিপে দিবা? সামান্য একটা আবদারে স্তব্ধতা ছেয়ে গেল আমার মন জুড়ে। ক্লান্ত স্বর অথচ তাতে ও কতো ভালোবাসার মিশ্রণ। আলতো হাতে ওনার কপালে টিপে দিতে লাগলাম আমি।উল্টো হয়ে আমার পেটে মুখ গুজে দিলেন তূর্য। নিমিষেই ড্রাম বাজার শব্দ করে উঠল আমার হৃদপিণ্ডে। আকস্মিক এমন এক হামলায় ঝিকে উঠল আমার মন -প্রাণ, দেহ। চোখ দুটো বন্ধ হয়ে এলো আবেশে। হারিয়ে ফেললাম কথা বলার শক্তিটুকুও। খাবার আসতেই আমাকে ছেড়ে দিয়ে উঠে পড়লেন তূর্য। দরজা মেলার আগে আমার মাথার ঘোমটা টা দিতে ইশারা করলেন তিনি। দরজা খুলতেই একজন লোক খাবার দিয়ে গেলেন রুমে। প্লেটে খাবার নিয়ে বিছানায় এসে বসলেন তূর্য । আমিও গুটি শুটি মেরে বসে রইলাম এক কোণায়। আমার ও খিদে লেগেছে খুব বেশি। সেই সকালে খেয়েছি এখন দুপুর গড়িয়ে বিকেল প্রায়। উঠতে নিব তখনই তূর্য ডেকে উঠলেন,,, —কোথায় যাচ্ছো শুভ্রপরী? থমকালাম আমি। ওনার দিকে তাকিয়ে সংকোচ নিয়ে বললাম,,, –খাবার আনতে। —এদিকে এসো। –জজজ্বি?? –এদিকে আসতে বলেছি। কাঁপা কাঁপা পায়ে ওনার থেকে কিছুটা দূরে বসতেই আমার মুখের সামনে খাবার তুলে ধরলেন ওনি। অশ্রু এসে ভীড় জমালো আমার চক্ষুতে। ওনার কেয়ার গুলো খুব পুড়ায় আমায়। যখন দূরে থাকি খুব মিস করি এই কেয়ার গুলো। ইচ্ছে করে কখনও দূরে না যাই। মিশে থাকি একদম ওনার সাথে যেন এই কেয়ার গুলো আমার নামে হোক প্রতিদিন প্রতিটা সময়। খাবার টা মুখে পুরে নিলাম আমি। কে বলবে এ মানুষ টা রুড বিহেভ করেছে আমার সাথে? অতিরিক্ত রাগী হলেও মানুষ টা অতিরিক্ত ভালোবাসে আমায় । তবুও একটা কষ্ট একটা আক্ষেপ থেকে যায় মনের কোণায়!!! আর পারছি না চেপে রাখতে মনের মধ্যে। এক ফোঁটা জল গড়িয়ে গেল গাল বেয়ে। । । বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আছি নীরবে। তূর্য নিচে গিয়েছেন কোনো একটা কাজে। সামনের দিকে তাকিয়ে আছি এক নজরে। এক জোড়া প্রেমিকযুগল হয়তো বা নতুন দম্পতি হাতে হাত রেখে বসে আছে দোলনায়। একটু পর পর হেসে উঠছে মেয়েটা। বেশ ভালো মানিয়েছে তাদের। এক উত্তপ্ত শ্বাস বেরিয়ে আসতেই পেটে কারো হাতের স্পর্শ পেতেই চমকে উঠলাম আমি। নিঃশ্বাস ভারি হয়ে আসতে লাগল ক্রমশ। মানুষটার গরম শ্বাস আঁচড়ে পড়ছে ঘাড়ে, কানে।কানের কাছে স্লো ভয়েসে বলে উঠল মানুষ টা,,, –এখানে কেন নিয়ে এসেছি জানতে চাও না শুভ্রপরী?( ঘোর লাগা কন্ঠে) —চাই।–একদম নিচু স্বরে জবাব দিলাম আমি । সাথে সাথেই আমাকে কোলে নিয়ে রুমে নিয়ে আসলেন ওনি। বিছানায় বসিয়ে ফ্লোরে হাটু মুড়ে বসে আমার কোলে মাথা রেখে বলে উঠলেন,,, –আজ এখানে নিয়ে এসেছি তোমায় পরিচয় করাতে আমার হৃদয়ে সুপ্ত অনুভূতি গুলোর সাথে। আজ জানাতে চাই এক বৃষ্টিস্নাত কন্যা কিভাবে মিশে গেছে আমার অস্তিত্বে। কথাটা বলেই আমার মুখের দিকে তাকালেন তূর্য। চোখ দুটো ছলছল। রক্তিম আভা ছেয়ে আছে দু নয়নে। উহু, রাগের নয় কোনো এক চাপা কষ্টের স্বাক্ষী এই লাল বর্ণ।

---

[<< পূর্ববর্তী অধ্যায়](https://golpohub.com/episodes/tomatei-purno-ami-s1-ep16) | [সিরিজ সূচি](https://golpohub.com/series/tomatei-purno-ami) | [পরবর্তী অধ্যায় >>](https://golpohub.com/episodes/tomatei-purno-ami-s1-ep18)