> **বিকল্প ফরম্যাটসমূহ:** [এইচটিএমএল](https://golpohub.com/episodes/tridhare-tarangalila-s1-ep25) | [জেসন](https://golpohub.com/episodes/tridhare-tarangalila-s1-ep25?format=json) | [আরএসএস ফিড](https://golpohub.com/episodes/tridhare-tarangalila-s1-ep25?format=rss) | [অ্যাটম ফিড](https://golpohub.com/episodes/tridhare-tarangalila-s1-ep25?format=atom)

# উৎসবের আড়ালে বিষাদের সুর

![উৎসবের আড়ালে বিষাদের সুর](https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-355-90c56b.webp)

---
*[জান্নাতুল নাঈমা](https://golpohub.com/authors/jannatul-naima)-এর [ত্রিধারে তরঙ্গলীলা](https://golpohub.com/series/tridhare-tarangalila) সিরিজ থেকে*\n*আনুমানিক পড়ার সময়: 15 মিনিট*
- **মোট শব্দ:** 2,315
- **প্রকাশিত:** Aug 27, 2026
---

সিমরান বেড়ে ওঠেছে একক পরিবারে। যেদিন থেকে সৌধদের যৌথ পরিবারের সঙ্গে পরিচয় ঘটেছে সেদিন থেকে এই পরিবারের প্রতি আলাদা ভালোলাগা তৈরি হয়েছে। এ পরিবারের মানুষ গুলোও তাকে খুব আপন করে নিয়েছে। নিজের পরিবার বলতে বাবা, মা, ভাইকেই দেখেছে সে। বাবা, মাকে পেয়েছে খুব কম সময়। পরিবার কী? পরিবার কেমন হয় জানত না। তেমন কোনো অনুভূতি ছিলই না পরিবার নিয়ে। চৌধুরী বাড়ির সঙ্গে তার বাবা, মায়ের বন্ধুত্ব সম্পর্কের সুবাদে এ বাড়ি আসা, যাওয়া শুরু হয়৷ তারপর থেকেই বুঝতে শুরু করে যৌথ পরিবারের মর্ম। একটি যৌথ পরিবারে শুধু হাসি, খুশি, আনন্দ, উল্লাস বা শুধু ভালোবাসাই থাকে না। থাকে দায়িত্ব, কর্তব্যবোধ এবং নিয়মানুবর্তিতা। সিমরান খোলা চোখে এ পরিবারে শুধু অঢেল ভালোবাসা আর আনন্দ টুকুই দেখেছে। বাদবাকি বিষয়ে খুব একটা খেয়াল করা হয়নি। তার মাধ্যে প্রচণ্ড পরিমাণে ম্যাচিওরিটির অভাব। বাবা, মায়ের সান্নিধ্য পায়নি বলেই শিশুকাল থেকে যা চেয়েছে তাই পেয়েছে। চাইতে দেরি কিন্তু পেতে দেরি হয়নি কখনো৷ বাবা, মায়ের অভাব বোধ অনুভব করলেও তারা দুই ভাই, বোন কখনো অভিযোগ করতে পারেনি। কেন করবে? ছোট্ট থেকেই তো শেখানো হয়েছে, বোঝানো হয়েছে , ‘ তোমরা যখন যা চাচ্ছ তাই পাচ্ছ। অন্যান্য পরিবারের বাচ্চারা তোমাদের মতো এত সুবিধা পাচ্ছে না। সবাই সবদিক দিয়ে পরিপূর্ণ থাকে না। একদিকে সেক্রিফাইস করলে অন্যদিকে পরিপূর্ণ ভাবে পাওয়া যায়। ‘ সেই শেখানো বুলি মস্তিষ্কে চেপেই বেড়ে ওঠা ওদের। অভিযোগ করার কারণ দাঁড় করাতে পারেনি কখনোই। সেই একক পরিবারের সন্তান হয়ে যৌথ পরিবারে মানিয়ে নেয়াও ভীষণ কঠিন৷ যতই ভালোলাগা থাকুক তবু কিছু জটিলতার সম্মুখীন তো হতেই হয়৷ হতেও হলো সিমরানের৷ গতকাল স্মৃতি আপুর মেহেদি অনুষ্ঠান ছিল। সে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল সৌধর বাবা-মা দু’দিকের আত্মীয় আর বন্ধু, বান্ধব। নিধি বাদে সব বন্ধুরাই উপস্থিত ছিল। নিধি গায়ে হলুদ, বিয়ে, বউভাত এই তিনদিন থাকবে কথা দিয়েছে। তাই মেহেদি অনুষ্ঠানে না থাকায় রাগ করেনি সৌধ। চুপচাপই ছিল সে। বড়ো বোনের মেহদি অনুষ্ঠানে আনন্দ করেছে খুব। নাচ, গান, গল্পআড্ডা সবশেষে কাজিন আর বন্ধুদের জোরাজোরিতে একটু মেহেদি লাগানো হাতে৷ সব মিলিয়ে সময়টা তার দারুণ কেটেছে। তাকে মেহেদি দিয়ে দিয়েছে সিমরান। কাজিনদের মধ্যে সবাই সৌধকে ভীষণ ভয় পায়৷ প্রচণ্ড সম্মান আর ভালোওবাসে। কিন্তু পাশাপাশি বসে তার হাত ধরে মেহেদি দিয়ে দেয়াতে সাহস সিমরান ছাড়া কারোরি বেশি ছিল না। প্রিয় মানুষটাকে একটু ছুঁয়ে হাত রাঙিয়ে দেয়ার সুযোগটুকুও হাত ছাড়া করতে চায়নি সিমরান, লুফে নিয়েছে তৎক্ষনাৎ। সৌধর দাদি আশায়রা বেগম। খুবই চতুরা নারী। সেকালের মেট্রিক পাশ । শিক্ষিতা নারী। এ-র ওপর বড়ো ঘরের বউ। ভীষণ দাপুটে। বর্তমানে বয়স পয়ষট্টি ছুঁয়েছে। মাথায় কাঁচা চুলের দেখা মেলে না। দেহের চামড়া ঝুলে বার্ধক্যের চিহ্ন ফুটে ওঠেছে। চোখের পাওয়ারও কম। চশমা ছাড়া চোখে দেখে না৷ তবু তেজ কমেনি এক চুল পরিমাণও। এই পরিবারে তার চোখে চোখ রেখে, তার কথার পৃষ্ঠে কথা বলতে পারো দু’জন ব্যক্তি। একজন তার বড়ো ছেলে সুজা চৌধুরী। আরেকজন ছোটো নাতি সৌধ চৌধুরী। আশায়রা বেগম ব্যক্তিগত ভাবে পছন্দ করে না সিমরানকে। তার কাছে সিমরান আর সুহাস দু’জনকেই অতিরিক্ত চঞ্চল, আর ঔদ্ধত্য মনে হয়৷ যাদের মধ্যে সাধারণ জ্ঞান নেই। ভদ্রতা, সভ্যতার লেশমাত্র নেই। বড়োদের সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করতে হয় এদেরকে পরিবার থেকে শিখানো হয়নি। সবচেয়ে বড়ো কথা আশায়রা বেগম উদয়িনীকে অপছন্দ করেন। তার পরিবারের সংস্কৃতির সঙ্গে মেলে না উদয়িনী এবং তার ছেলেমেয়েদের চলনবলন। সুজা কীভাবে এমন একটি পরিবারের সঙ্গে বন্ধুত্ব করল সৌধই বা কোন রুচিতে এদের সঙ্গে বন্ধু পাতালো বুঝে ওঠতে পারেন না তিনি। সিমরানের অতিরিক্ত হৈহৈ রৈরৈয়েও বিরক্ত তিনি। এই বিরক্তি ক্রোধে পরিণত হলো তার দুই মেয়ে অর্থাৎ সৌধর দুই ফুপু আর ফুপাত ভাই, বোনরা আসার পর৷ কারণ সৌধর ফুপাত ভাইদের মধ্যে দু’জনই তাগড়া যুবক। বাড়ি, ভর্তি আত্মীয়স্বজন, এদের মাঝে সিমরান বাচ্চাদের সঙ্গে ছুটোছুটি করে। কানামাছি, লুকোচুরি খেলে। পরনের ওড়না ঠিকভাবে রাখে না। রাতদুপুরে শুধু টিশার্ট আর প্লাজু পরে ঘুরে বেড়ায়। সব মিলিয়ে সিমরানকে তার নির্লজ্জ মনে হয়েছে। আর নির্লজ্জ নারীরা তার দুচোখের বিষ। গতকাল মেহেদি অনুষ্ঠানেও তার নাতনিদের সঙ্গে ঢলাঢলি করতে দেখেছে। শেষ পর্যন্ত সৌধকেও ছাড় দেয়নি। সর্ব সম্মুখে হাত টেনে নিজের পাশে বসিয়ে মেহেদি দিয়ে দিয়েছে। তার চোখ জহুরি। সিমরানের চোখ দু’টোর ভাষাও বুঝতে অসুবিধা হয়নি। তাই অনুষ্ঠান শেষে সিমরানকে একা ডেকে পাঠায় সে। দাদুনিকে আর সবার মতো সিমরানও ভয় পায় ভীষণ। হঠাৎ ডেকে পাঠানোতে বুকের ভেতর ধুকপুকানি নিয়েই উপস্থিত হয়। ঘরে ঢুকেই চোখে, মুখে হাসি ফুটিয়ে শুধায়,

---

[<< পূর্ববর্তী অধ্যায়](https://golpohub.com/episodes/tridhare-tarangalila-s1-ep24) | [সিরিজ সূচি](https://golpohub.com/series/tridhare-tarangalila) | [পরবর্তী অধ্যায় >>](https://golpohub.com/episodes/tridhare-tarangalila-s1-ep26)