{
    "_links": {
        "html": "https://golpohub.com/episodes/valobashar-rajprashad-s1-ep2",
        "json": "https://golpohub.com/episodes/valobashar-rajprashad-s1-ep2?format=json",
        "markdown": "https://golpohub.com/episodes/valobashar-rajprashad-s1-ep2?format=md",
        "rss": "https://golpohub.com/episodes/valobashar-rajprashad-s1-ep2?format=rss",
        "atom": "https://golpohub.com/episodes/valobashar-rajprashad-s1-ep2?format=atom"
    },
    "seo": {
        "canonical_url": "https://golpohub.com/episodes/valobashar-rajprashad-s1-ep2",
        "title": "ভালবাসার রাজপ্রাসাদ পর্ব ২ - শীতল রাতের অগ্নিকণা | Valobashar Rajprashad Part 2",
        "description": "পড়ুন ভালবাসার রাজপ্রাসাদ পর্ব ২। বিয়ের রাতে নিভে যাওয়া মণ্ডপে অভিমন্যু ও পরীর বাঁধভাঙা প্রথম চুম্বন ও গভীর রাত।",
        "keywords": "ভালবাসার রাজপ্রাসাদ পর্ব ২, ভালবাসার রাজপ্রাসাদ ২, ২য় পর্ব, valobashar rajprashad porbo 2, valobashar rajprashad part 2, valobashar rajprashad episode 2, valobashar rajprashad 2 link, অভিমন্যু, পরী, সুব্রত",
        "image_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-1108-4bcd83.webp",
        "schema": {
            "@context": "https://schema.org",
            "@graph": [
                {
                    "@type": "Chapter",
                    "name": "শীতল রাতের অগ্নিকণা",
                    "position": 2,
                    "description": "বিয়ের রাতে নির্জন রাস্তায় অভির আকস্মিক স্পর্শে কেঁপে ওঠে পরী, ক্ষণিকের জন্য দূরে সরে গেলেও নিভে যাওয়া আগুনের মণ্ডপে তারা আবারও মুখোমুখি হয়। গভীর রাতে এক চাদরের নিচে উষ্ণ আলিঙ্গন আর গভীর চুম্বনে বাঁধ ভাঙা ভালোবাসা কি সমাজের কঠিন শাসনকে অস্বীকার করতে পারবে?",
                    "url": "https://golpohub.com/episodes/valobashar-rajprashad-s1-ep2",
                    "inLanguage": "bn",
                    "timeRequired": "PT21M",
                    "datePublished": "2026-08-27T22:02:05+00:00",
                    "dateModified": "2026-09-06T01:33:12+00:00",
                    "wordCount": 3344,
                    "image": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-1108-4bcd83.webp",
                    "isPartOf": {
                        "@type": [
                            "BookSeries",
                            "CreativeWorkSeries"
                        ],
                        "name": "ভালবাসার রাজপ্রাসাদ",
                        "url": "https://golpohub.com/series/valobashar-rajprashad"
                    },
                    "author": {
                        "@type": "Person",
                        "name": "পিনুরাম",
                        "url": "https://golpohub.com/authors/pinuram"
                    }
                },
                {
                    "@type": "BreadcrumbList",
                    "itemListElement": [
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 1,
                            "name": "Golpo Hub",
                            "item": "https://golpohub.com"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 2,
                            "name": "সিরিজসমূহ",
                            "item": "https://golpohub.com/series"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 3,
                            "name": "ভালবাসার রাজপ্রাসাদ",
                            "item": "https://golpohub.com/series/valobashar-rajprashad"
                        },
                        {
                            "@type": "ListItem",
                            "position": 4,
                            "name": "শীতল রাতের অগ্নিকণা",
                            "item": "https://golpohub.com/episodes/valobashar-rajprashad-s1-ep2"
                        }
                    ]
                }
            ]
        }
    },
    "filters": [],
    "data": {
        "id": 1108,
        "ep_number": 2,
        "title": "শীতল রাতের অগ্নিকণা",
        "slug": "valobashar-rajprashad-s1-ep2",
        "url": "https://golpohub.com/episodes/valobashar-rajprashad-s1-ep2",
        "reading_time": 21,
        "thumbnail_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/episodes/chapter-1108-4bcd83.webp",
        "yt_video_id": null,
        "yt_video_url": null,
        "timestamps": {
            "published_at": "2026-08-27T22:02:05+00:00",
            "updated_at": "2026-09-06T01:33:12+00:00"
        },
        "meta": {
            "word_count": 3344,
            "chapter_number": 2,
            "seo_title": "ভালবাসার রাজপ্রাসাদ পর্ব ২ - শীতল রাতের অগ্নিকণা | Valobashar Rajprashad Part 2",
            "seo_description": "পড়ুন ভালবাসার রাজপ্রাসাদ পর্ব ২। বিয়ের রাতে নিভে যাওয়া মণ্ডপে অভিমন্যু ও পরীর বাঁধভাঙা প্রথম চুম্বন ও গভীর রাত।",
            "keywords": "ভালবাসার রাজপ্রাসাদ পর্ব ২, ভালবাসার রাজপ্রাসাদ ২, ২য় পর্ব, valobashar rajprashad porbo 2, valobashar rajprashad part 2, valobashar rajprashad episode 2, valobashar rajprashad 2 link, অভিমন্যু, পরী, সুব্রত",
            "characters_involved": [
                "অভিমন্যু",
                "শুচিস্মিতা (পরী)",
                "সুব্রত",
                "সুমন্ত"
            ]
        },
        "content": "<p>অভি বাস থেকে নামতেই ওর মা ওকে এককোনে ডেকে নিয়ে যায়। মায়ের ডাক শুনে অভির ত আত্মারাম খাঁচা ছাড়া হয়ে যাবার যোগাড়। বুকের মাঝে এক ঝড় ওঠে, মা কি বুঝতে পেরে গেল নাকি ওর আর পরীর হৃদ্যতা?</p>\n<p>মা অভিকে বললেন যে রাতের খাবার যেন তাড়াতাড়ি খেয়ে নেয় অভি, বরযাত্রী নিয়ে বাস ফিরে যাবে রাত এগারোটার মধ্যে। অভিকে জিজ্ঞেস করলেন যে ও কি করতে চায়, থাকতে চায় না বরযাত্রীর দের সাথে ফিরে যেতে চায়। ওর অনেক দিনের সখ বাঙালি বিয়ে দেখার, তাই অভি জানিয়ে দেয় যে ও রাতে থাকবে এবং পরের দিন বরের সাথে বাড়ি ফিরবে। মা সম্মতি দিয়ে দিলেন।</p>\n<p>কনের বাড়িতে বরযাত্রী পৌঁছান মাত্রই চারদিকে হইহই রব উঠল, বর এসেছে বর এসেছে। বিয়ে বাড়ির ভিড়ে আবার অভি একা। এখানে পরীকে খোঁজা বোকামো। পরীর ছোটো দাদার বিয়ে আর সে মজা করবে না সেটা ভাবা উচিত নয়। ওই আত্মীয় সজ্জনের মাঝে পরী কোথাও হারিয়ে আছে। অভি বিয়ের মণ্ডপে একা বর, সুব্রতর সাথে বসে। ব্রাহ্মণ মন্ত্র পরে চলেছে।</p>\n<p>মাঝে মাঝে পরীর দেখা পায় অভি, এদিক ওদিক নাচা নাচি করছে, এমন দেখাচ্ছে যেন খুব ব্যাস্ত।</p>\n<p>ওর অর্বাচীন ব্যাস্ততার মধ্যেই পরী একবার অভির কাছে আসে, অভির বুক ধুকপুক করছে, এই বুঝি কিছু বলে ফেলে। পরী ওর দিকে না তাকিয়েই বলে “এই কি গো, এই রকম গাধার মতন একা বসে কেন? এস না আমার সাথে।”</p>\n<p>অভিও ওর দিকে তাকাতে পারছে না, গলা শুকিয়ে এসেছে অভির। তোতলাতে তোতলাতে উত্তর দিল, “না মানে, তোমার সাথে সবসময়ে মহিলারা থাকেন, আর মহিলাদের সঙ্গ আমার একটু অস্বস্তিকর।”</p>\n<p>পরী, “ঠিক আছে তাহলে, একা একা বসে ঠাক এখানে। যাই হক জানিয়ে গেলাম যে ডিনার খেতে ভুলে যেও না যেন। সবাই কিন্তু খাবার পরে চলে যাবে, শুধু মাত্র সুব্রতদার কয়েক জন বন্ধুরা রাতে থাকবে।”</p>\n<p>অভি, “আমি রাতে থাকছি, মা আমাকে পারমিসান দিয়ে দিয়েছে।”</p>\n<p>পরী এতক্ষণ পরে কৌতূহলী চোখ নিয়ে অভির দিকে তাকাল, “তুমি কি বলতে চাও যে আমিও রাতে থাকব?”</p>\n<p>অভি, “সেটা তোমার ব্যাপার, পরী।”</p>\n<p>পরী ওর কথা শুনে ঝাঁঝিয়ে উঠল, “ঠিক আছে, তোমাকে আমি দেখে নেব, আর তুমি অচিরেই জানতে পারবে আমি কি করতে পারি।” রেগে মেগে অখান থেকে চলে গেল পরী।</p>\n<p>রাতের খাবার পরে বরযাত্রী ফিরে যাবার জন্য তৈরি। অভি ওদের সাথে বাসের কাছে দাঁড়িয়ে। পরী ফিরে যেতে নারাজ।</p>\n<p>অভির মা বারংবার পরীকে বঝাতে চেষ্টা করে চলেছেন, “পরী, কোন মেয়েছেলেরা রাতে এই বাড়িতে থাকছে না। সেই মত অবস্থায় কিকরে তোমাকে আমি রেখে যাই বল। মাসিমা কি বলবে?”</p>\n<p>পরী মাকে জড়িয়ে ধরে আদর করে বলে, “কেন, তুমিও ত একসময়ে আমাকে নিজের মেয়ের মতন ভালবাসতে। তুমি অনুমতি দিলে ত আর কোন কথা থাকে না। প্লিস প্লিস প্লিস, আমাকে রাতে থাকতে দাও।”</p>\n<p>মা শেষ পর্যন্ত পরীর আব্দারের কাছে মাথা নোয়াল। অভিকে কাছে ডেকে বলল, “এই ছেলে, পরী রাতে এখানে থাকবে। ওর দিকে নজর রাখিস। ওর যদি কিছু হয় তাহলে আমি তোকে আস্ত রাখব না।”</p>\n<p>পরী রাতে থাকবে যেনে অভির মন খুশিতে ভরে উঠল। বাধ্য ছেলের মতন মাথা নাড়িয়ে জানিয়ে দিল যে ও পরীর খেয়াল রাখবে। পরী মায়ের গলা জড়িয়ে আদর করে বলল, “আমার সোনা দিদি – মা। আমি ভাল করে থাকব একদম দুষ্টুমি করব না।”</p>\n<p>বরযাত্রী প্রস্থান করার পরে অভি আবার বিয়ের মন্ডপে গিয়ে বসে পড়ল। পরী আবার ভিড়ের মধ্যে কোথাও হারিয়ে গেল। অভি মাঝে মাঝেই দেখা পায় যে পরী ওর শালখানি গায়ে জড়িয়ে এদিক ওদিকে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ওর চলন দেখে অভির মনের ভেতরটা আকুলি বিকুলি করে উঠল, মনে হচ্ছিল যেন এই উঠে গিয়ে জড়িয়ে ধরে আর ওই রাঙ্গা ঠোঁটে শত চুম্বন এঁকে দেয়।</p>\n<p>ধিরে ধিরে রাত গভীর হতে থাকে। কনের বাড়ির অনেক লোকজন চলে গেছে। বরের বাড়ি থেকে শুধু সুব্রতর দুই বন্ধু, সুব্রতর বড় দা, সুমন্ত মামা আর অভি আর পরী। বিয়ের লগ্ন মাঝ রাতে, ধিরে ধরে লগ্নের সময় ঘনিয়ে আসছে।</p>\n<p>এর মধ্যে কোন এক সময়ে পরী চুপিচুপি এসে অভির পাশে এসে গা ঘেসে দাঁড়ায়। হাতের ওপর হাতের স্পর্শ, মাঝে মাঝে কোমল আঙ্গুলের ছোঁয়া। কিন্তু কেউই কারুর দিকে তাকায় না, দু’জনেই চুপ করে দাঁড়িয়ে হোমের আগুনের দিকে এক ভাবে তাকিয়ে থাকে।</p>\n<p>এরই মাঝে একজন মহিলা এসে পরীকে জিজ্ঞেস করে যে ও শুতে যেতে চায় কিনা। বরযাত্রীর জন্য আলাদা করে রাতে থাকার ব্যাবস্থা করা হয়েছে। পরী মাথা নেড়ে জানিয়ে দেয় যে ও শুতে যেতে চায় না।</p>\n<p>অভি ওকে জিজ্ঞেস করল যে একটু হাটা যেতে পারে কিনা। কিছু উত্তর না দিয়ে চুপচাপ অভির পাশে হাঁটতে শুরু করল পরী। দু’জনে অন্ধকার রাস্তা ওপর দিয়ে হাঁটতে শুরু করে। শীতের রাত, নিজেকে গরম রাখার জন্য অভির শালটা গায়ের ওপরে জড়িয়ে রেখেছে। দুই হাত বুকের কাছে আড় করে, মাটির দিকে তাকিয়ে চুপ করে অভির পাশে হেঁটে চলেছে। দুজনেই একদম চুপ কারুর মুখে কোন কথা নেই। এই নিস্তব্ধতা বড় হ্রদয় বিদারক হয়ে দাঁড়ায় দু’জনার পক্ষে। অভি ভাবতে থাকে যে কাউকে ত শুরু করতে হবে।</p>\n<p>কিছু দোনামোনা ভাব নিয়ে জিজ্ঞেস করল, “এত চুপ করে কেন পরী? কিছু কি হয়েছে?”</p>\n<p>গলা কেঁপে ওঠে পরীর, “তুমি বলতে চাও যে কিছুই হয়নি।”</p>\n<p>অভি, “আমি কি করলাম?”</p>\n<p>পরী, “তুমি এই বলতে চাও যে তুমি কিছুই করনি। জান আমি যেন একটা বিদ্যুৎ ঝটকা খাই। আমি অনেকক্ষণ চুপ করে বসে ছিলাম সিটের ওপরে, নড়বার শক্তি টুকু হারিয়ে ফেলেছিলাম আমি, আর তুমি বলছ যে তুমি কিছু কর নি?”</p>\n<p>কাঁপা গলায় বলল অভি, “না মানে, হটাত করে কেন জানিনা খুব ইচ্ছে হল…”</p>\n<p>পায়ের দিকে তাকিয়ে হেঁটে চলেছে পরী, “চোখের সামনে সবকিছু কালো অন্ধকার হয়ে গেছিল। এমন টি মনে হয়েছিল যেন আমি বিদ্যুৎস্পষ্ট হয়ে স্থাণুবৎ হয়ে গেছি।”</p>\n<p>রাস্তার মাঝে পরীর কাঁধে হাত রেখে ওর সামনে দাঁড়িয়ে পড়ল অভি। মাথা নিচু করে পরীর মুখের দিকে তাকাল। তর্জনী দিয়ে পরীর চিবুক স্পর্শ করে উঁচু করে নিল ওর মুখ। পরীর দু’চোখ বন্ধ, অজানা এক আশঙ্কায় তিরতির করে কাপছে দু ঠোঁট। দু’চোখের বড়বড় পাতা কাপছে তার সাথে। গায়ের শালখানি আরও আস্টেপৃষ্টে নিজের গায়ের সাথে জড়িয়ে ধরল পরী। অভির ঠোঁট ধিরে ধরে নেমে এল, পরীর লাল ঠোঁটের কাছে। প্রেয়সীর গরম নিঃশ্বাস সারা মুখের ওপরে ঢেউ খেলে বেড়াচ্ছে। বুকের ভেতরে যেন হাপর টানছে। এক অনাবিল প্রত্যাশায় বুক কাপছে পরীর, নিঃশ্বাসে ঝরে পড়ছে আগুন।</p>\n<p>নাকে নাক ঠেকল প্রথমে। ডিসেম্বরের সেই শীতের রাতেও নাকের ডগায় ঘামের ফোঁটা অনুভব করল দু’জনেই। দুজনের ঠোঁট তিরতির করে কাঁপছে। ঠোঁটের মাঝে একচিলতে ব্যাবধান। এত কাছে আসার পরেও যেন সাহস কুলিয়ে উঠতে পারছে না অভি, কোন কিছু বলার ভাষাও যেন হারিয়ে ফেলেছে।</p>\n<p>এক গভীর নিঃশ্বাস ছেড়ে, কাজল কালো দুচোখ খুলল পরী। চোখে জল টলমল করছে। নাকের ডগা লাল হয়ে উঠেছে। অবশেষে দুজনের মাঝের নিস্তব্ধতা ভাঙলও পরী। অশ্রু ভরা নয়নে অভির দিকে তাকিয়ে কম্পিত স্বরে বলে উঠল, “না অভি না। আমি পারব না অভি। আমার চোখের সামনে থেকে দূর যাও।”</p>\n<p>কথাটা বলেই বিয়ে বাড়ির দিকে দৌড়ে চলে গেল।</p>\n<p>সেই শীতের রাতে একা অন্ধকার রাস্তার মাঝে দাঁড়িয়ে অভিমন্যু তালুকদার। বড় একা মনে হল নিজেকে, মনে হল কেউ নেই তার পাশে। একটা সিগারেট জ্বালিয়ে খুব বড় এক টান দিল। আকাশের দিকে তাকিয়ে নিজেকে জিজ্ঞেস করল, “আমি কে, আমি কি, কে এই অভিমন্যু?”</p>\n<p>বুকের কোন এক কোণ থেকে উত্তর এল, “তুমি বিধ্বস্ত পরাজিত এক নাবিক!”</p>\n<p>চোখে জল চলে এল অভির, নিজের মনকে বুঝাতে চেষ্টা করল যে চোখের জল সিগারেটের ধোঁয়ার জন্য এসেছে, কিন্তু পাপী মন মানতে চায় না সে কথা। অস্ফুট চিৎকার করে উঠল অভি, “না আমার কোন অধিকার নেই কাউকে আঘাত করার। শুচিস্মিতা কে আঘাত দেবার কোণ অধিকার আমার নেই।”</p>\n<p>যা কিছু ঘটে চলেছে বা ঘটে গেছে তা হয়ত ঘটা উচিত হয়নি। ওরা কি কোন পাপ করেছে? এই সমাজ ওদের দুজনকে সাংসারিক জীবনের বন্ধনে হয়ত বাঁধতে দেবে না ওদের দুজন কে। কিছু সম্পর্ক এই সমাজের কাছে অপবিত্র।</p>\n<p>মাথা নিচু করে এই সব ভাবতে ভাবতে বিয়ে বাড়ির দিকে হাটা দিল অভি। এক সময়ে দূর থেকে কেউ অভি কে ডাক দিল। মাথা তুলে তাকিয়ে দেখল সুব্রতর কোণ একজন বন্ধু অভিকে বিয়ের মন্ডপে ডাকছে। বিয়ের পালা শেষ, সবাই খেতে বসবে তাই অভির খোঁজ পড়েছে।</p>\n<p>বিয়ের মন্ডপে প্রবেশ করে অভি দেখতে পেল যে পরী মন্ডপের এক কোনায় চুপ করে বসে। থমথমে চোখ মুখ নিয়ে নিস্পলক দৃষ্টিতে এক ভাবে তাকিয়ে রয়েছে নিভে যাওয়া হোমের আগুনের দিকে। ফর্সা নাকের ডগা গোলাপের মতন লাল হয়ে উঠেছে। খানিক দূর থেকে অভি বুঝতে পারল যে ওর চোখের পাতা ভিজে, পিঠের ওঠা নামা দেখে বুঝতে পারল যে ফুঁফিয়ে ফুফিয়ে কঁদছে পরী।</p>\n<p>বড় ধাক্কা খেল অভি, কেন পরী কাঁদছে? এত একদম ভাল কথা নয়, কেউ জানতে পারলে সর্বনাশ হয়ে যাবে।</p>\n<p>কিছু পরে কনের মা এসে পরীর কাছে এসে জিজ্ঞেস করল, “কি হয়েছে সোনা পরীর? তোমার নতুন বৌদি তোমার জন্য খাবার টেবিলে অপেক্ষা করছে আড় তুমি এখানে একা একা বসে? কি ব্যাপার? যাও খেতে যাও, সবাই তোমার জন্য অপেক্ষা করে বসে আছে।”</p>\n<p>পরী চোখ মুছে ভদ্রমহিলার দিকে হেসে তাকিয়ে অনার সাথে খেতে চলে যায়।</p>\n<p>অভি চুপচাপ খাওয়ার জায়গায় ঢুকে পড়ে। লক্ষ্য করে যে পরী ওর নতুন বউদির পাশে বসে হাসি মুখ নিয়ে খাচ্ছে। অভি খাবারে টেবিলে এক কোনায় বসে চুপ করে খেয়ে উঠে চলে যায়। খাবার সারাটা সময়ে কেউ কারুর মুখের দিকে তাকায় না। না দেখেও অভি ঠিক অনুমান করতে পারে যে ওর প্রান প্রেয়সী পরীর সেই অনুনাদশীল মেজাজ যেন কোণ মেঘের আড়ালে লুকিয়ে পড়েছে।</p>\n<p>খাবার পড়ে যে বিশ্রাম নেবার পালা। তখন রাত দুটো বাজে। অভি চুপচাপ বিয়ের মন্ডপে এসে এক কোনে একটা চেয়ার টেনে নিয়ে বসে পড়ে আর হোমের নিভে যাওয়া আগুনের থেকে যে ধোঁয়া উদ্গিরন হচ্ছে তার দিকে নিস্পলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। মাথা শূন্য, কোন কিছু ভাবতে পারছে না অভি। সময়ের ঠিকানা ভুলে গেছে, কতক্ষণ কেটে যায় তার কোন ঠিকানা থাকেনা। কিছু সময় পরে মাথা ভার করে ঝিমুনি আসে অভির।</p>\n<p>অকস্মাৎ কাঁধের ওপরে নরম হাতের চাপ অনুভব করে। নাকে ভেসে আসে জুঁই ফুলের মনমাতান সুঘ্রাণ। অবশেষে পরী অভির কাছে এসেছে। ওর দিকে তাকিয়ে, একটা চেয়ার পাশে টেনে পরীকে বসতে বলে। পরী ওর সামনে ওর দিকে মুখ করে চেয়ারে বসে। অভি ভাবলেশহীন চোখ নিয়ে পরীর দুষ্টু মিষ্টি চোখের দিকে তাকাল।</p>\n<p>পরী জিজ্ঞেস করল, “তোমার ঠাণ্ডা লাগছে?”</p>\n<p>অভি মাথা নাড়ায়, “হ্যাঁ”</p>\n<p>ওর দিকে একটা শাল এগিয়ে দিলে বলে, “এটা গায়ে জড়িয়ে নাও।”</p>\n<p>অভি, “আমারটা আমাকে দিয়ে দাও।”</p>\n<p>পরী সুন্দর একখানি হাসি দিয়ে বলল, “না। এটা আজ থেকে চিরদিনের জন্য আমার।”</p>\n<p>অভি, “যথা আজ্ঞা রানী।”</p>\n<p>পরী, “আমি লক্ষ্য করছি যে তুমি অনেক সিগারেট খেয়েছ। কেন খেয়েছ?”</p>\n<p>অভি সিগারেটটা মাটিতে ফেলে নিভিয়ে দিয়ে বলল, “ঠিক আছে বাবা, এটাই শেষ সিগারেট।”</p>\n<p>পরী জিজ্ঞেস করল, “কেন থাকলে আজ রাতে?”</p>\n<p>অভি উত্তর দিল, “আমি কোনদিন বিয়ের পুর অনুষ্ঠান দেখিনি, দেখার খুব ইচ্ছে হল তাই থেকে গেলাম।”</p>\n<p>পরী অভিমান করে বলল, “আচ্ছা ঠিক আছে বুঝেছি। তুমি আমার জন্য থাকনি তাহলে।”</p>\n<p>অভি, “দেখ পরী, সেই সময়ে আমি জানতাম না যে তুমি থাকবে। কোন মহিলারা রাতে থাকবে না ত আমি কি করে জানব যে তুমি থাকতে?”</p>\n<p>পরী অভির হাতে আলতো করে একটা থাপ্পর মেরে বলল, “তুমি না একটা মস্ত গাধা। তুমি যখন থাকবে বলে ঠিক করেছিলে তাহলে আমাকে কে বার জানালে না কেন? তুমি একবারের জন্য এটা ভেবে দেখলে না যে এই রাতে বরযাত্রীর বাসে এমি একা একা কি করে বাড়ি ফিরব।”</p>\n<p>অভি, “যাঃ বাবা। সত্যি আমি তোমাকে একদম বুঝে উঠতে পারছিনা জানো। বাসে সব আত্মীয় সজ্জন, সবাই তোমার চেনা।”</p>\n<p>পরী, “তুমি না একটা খুব বড় গাধা। তুমি মেয়েদের মন কোনদিন বুঝবে না। কোনদিন বুঝবে না তুমি।”</p>\n<p>অভিমান করে উঠে যাবার উপক্রম করে পরী। অভি ওর দু’হাত নিজের হাতে নিয়ে অনুনয় করে বলে, “প্লিস চলে যেওনা।”</p>\n<p>পরী, “আমি কেন বসতে যাব তোমার পাশে? তুমি ত আমার জন্য রাতে থাকনি।”</p>\n<p>অভি, “আই এম সরি বাবা। সোনামনা আমার, এবারে’ত রাগ কমাও।”</p>\n<p>হাত ধরে পরী কে পাশে বসিয়ে দেয় অভি। পরী ওর কাঁধে মাথা রেখে ওর দুহাত নিজের হাতের মধ্যে নিয়ে আঙ্গুল গুলো নিয়ে খেলা শুরু করে।</p>\n<p>অভি বিড়বিড় করে বলে, “আমি জানিনা এই সম্পর্ক আমাদের কোথায় নিয়ে যাবে। এই পরিণতি কি হবে তাও আমি জানিনা।”</p>\n<p>পরী, “অভি, আমি জানতে চাইনা এই পরিণতি। আমি শুধু মাত্র বর্তমানে বাঁচতে চাই, বাঁচতে চাই তোমার সাথে। শুধুমাত্র এই টুকু জানি আমি।”</p>\n<p>অভি বাঁ হাতে পরীর পাতলা কোমর জড়িয়ে ধরে নিবিড় করে কাছে টেনে নিল। পরী ওর বাজুতে নাক ঘষে আলিঙ্গনের উষ্ণতায় নিজেকে ধিরে ধিরে সঁপে দিল। পরীর নিরাভরন কোমরের ওপরে হাত বুলাতে লাগল অভি। ওর ডান হাতখানি ঠোঁটের কাছে এনে ছোটো ছোটো চুম্বনে ভরিয়ে দিল। কোমল তর্জনী ঠোঁটের ভেতর নিয়ে আলতো করে চুষে দিল। উষ্ণ লালায় সিক্ত হয়ে ওঠে পরীর তর্জনী।</p>\n<p>কেঁপে ওঠে পরী, প্রেমঘন মৃদু কন্ঠে বলে ওঠে, “উম্মম্ম… প্লিস করো না সোনা। আমার সারা শরীরে কেমন যেন করছে। বুক কেঁপে উঠছে সোনা, প্লিস ছাড়।”</p>\n<p>ওর কবল থেকে নিজের আঙ্গুল ছাড়িয়ে নিতে চেষ্টা করে পরী, কিন্তু সাথে সাথে অভির ঘাড়ের ওপরে নাক ঘষতে থাকে পরী। ভিজে ঠোঁট ছুঁইয়ে দেয় অভির উষ্ণ ঘাড়ের ওপরে। ওদিকে অভি ওর তর্জনী মুখের মধ্যে পুরে চুষতে ছাড়ে না।</p>\n<p>আলিঙ্গনে বদ্ধ হয়ে বারংবার কেঁপে ওঠে পরী। ম্রিদুকনে কাতর স্বরে বলে, “প্লিস অভি দুষ্টুমি করে না, ছেড়ে দাও।”</p>\n<p>অভি নিজের চয়ালের ওপরে পরীর ভিজে ঠোঁটের স্পর্শ অনুভব করে। পরী থেমে থাকেনা, ছোটো ছোটো চুম্বনে ভরিয়ে দেয় অভির গাল আর গলা। দু’জনার মাঝে প্রেমের বহ্নিশিখা জ্বলে ওঠে।</p>\n<p>অভি পরীর তর্জনী ছেড়ে ওর দিকে তাকায়। গভীর আলিঙ্গনে বদ্ধ পরী, অভির পাঞ্জাবির কলার খামচে ধরে বুকের কাছে চলে আসে। কাজল কালো দু’চোখে প্রগাড় প্রেমের আগুন যেন অভির হৃদয়কে জ্বালিয়ে দিয়েছে। হাত দিয়ে কোমল গাল ছুঁয়ে ঠোঁট নামিয়ে আনল অভি, পরীর কপালের ওপরে। ভিজে উষ্ণ ঠোঁটের ছোঁয়ায় কেঁপে ওঠে পরী। ছোটো ছোটো চুম্বনে ভরিয়ে দেয় ওর সুন্দর মুখখানি। প্রথমে কপাল, তারপরে বাঁকা ভুরুর ওপরে, আরও নিচে নামে অভির ঠোঁট, চোখের পাতার ওপরে আলতো করে ঠোঁট ছুঁইয়ে দেয় অভি।</p>\n<p>দু’চোখ বন্ধ করে প্রেমের উষ্ণতায় নিজেকে সমর্পণ করে দেয় পরী। অভির ঠোঁট নেমে আসে পরীর নাকের ডগার ওপরে, বিন্দু বিন্দু ঘাম জমে উঠেছে নাকের ডগায়। অভি আলতো করে চুমু খায় নাকের ডগায়। অনাস্বাদিত ভালোলাগায় ভরিয়ে দেয় পরীকে।</p>\n<p>তিরতির করে কাপে পরীর ঠোঁট, কিছু পরেই যে দুই ঠোঁটের মিলন ঘটবে সেই প্রহর গোনে। কলার ধরে টেনে অভির ঠোঁটের ওপরে আলতো করে ঠোঁট ছুঁইয়ে দেয় পরী। অভি থাকতে না পেরে চেপে ধরে ঠোঁট। প্রথমে হালকা ছোঁয়া, তারপরে পাগলের মতন একে ওপরের ঠোঁট নিয়ে খেলা শুরু হয়ে যায়। জিব দিয়ে ঠোঁট চাটে কখন, কখন বা জিবের ডগা ঢুকিয়ে দেয় অভির উষ্ণ ঠোঁটের ভেতরে। দাঁতের ওপর দিয়ে আলতো করে বুলিয়ে দেয় জিবের ডগা। চুম্বনের ঘনত্ব পর্যায়ক্রমে বেড়ে ওঠে।</p>\n<p>অভি বা পরী কেউই এই প্রথম চুম্বনকে শেষ করে দিতে নারাজ। অভি হাত নিয়ে যায় পরীর মাথার পেছনে, ক্লিপে আঙ্গুল দিয়ে খুলে ফেলতে চেষ্টা করে খোঁপা।</p>\n<p>সুদীর্ঘ চুম্বনের রেশ কাটিয়ে উঠে পরী বল, “না সোনা, খোঁপা খুল না। কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে আমাদের এই অবস্থায় যদি কেউ দেখে ফেলে।”</p>\n<p>দু’জনেই প্রগাড় চুম্বনের খেলার পরে হাপাতে থাকে। যা ঘটে গেল মনে হল যেন সমুদ্র তীরে যেন বিশাল ঢেউ আছড়ে পরে সব কিছু ভেঙ্গে তছনছ করে দিয়ে চলে গেছে। পরীর গালে দেখা দেয় সেই পুরান লালিমা, ঠোঁটে ভেসে ওঠে হৃদয় কাঁপানো হাসি। ওর মুখে হাসি দেখে আনন্দে অভির বুক ভরে ওঠে। অভির ঠোঁটে লেগে থাকে পরীর ঠোঁটের রঙ।</p>\n<p>অভি, “উম্মম্মম্ম…… তোমার ঠোঁট দুটি ভারী মিষ্টি।”</p>\n<p>উলটো হাতের পাতা দিয়ে নিজের ঠোঁট মুছে বলে, “তুমি না একদম যাতা। পাগল করে ছেড়ে দিলে একেবারে…” পরী উঠে দাঁড়িয়ে অভির হাত ধরে তুলতে চেষ্টা করে, “এইজ কিগো, সকাল চারটে বাজে সেটা খেয়াল আছে তোমার? একটু বিস্রাম নেবার কথা কি মনে হয় না কখন?”</p>\n<p>অভি, “তুমি সাথে থাকলে কি আড় বিস্রাম নেবার কথা মনে হয়, সোনা।”</p>\n<p>পরী, “জানো বউদির মা বলছিল যে আমাদের জন্য একটা রুম দিয়েছে। দাদার বন্ধুরা ত বাসর জাগছে দাদার সাথে, রুমটা খালি ই হবে এখন। চলো না সেখানে গিয়ে দুজনে একটু গরিয়ে নেই।”</p>\n<p>অভি, “পাগল হলে নাকি। তোমার বড়দা দেখ সেই ঘর দখল করে ভোঁসভোঁস করে ঘুমুচ্ছে হবে।”</p>\n<p>পরী, “উফফফ… না দাদা কে নিয়ে আড় পারা গেল না। দাদার কথা আমি একদম গুলে খেয়ে নিয়েছিলাম। এখন কি কর্তব্য, এই ঠাণ্ডার রাতে ত এখানে বসে থাকা যায় না।”</p>\n<p>অভি আবার পরীকে কোলে ওপরে টেনে বসিয়ে দেয়, “তুমি যতক্ষণ আমার সাথে আছো, ততক্ষণ আমার ঠাণ্ডাও লাগবে না আড় ক্লান্তিও আসবেনা।”</p>\n<p>পরী, “তুমি না একদম পাগল। কেউ যদি আমাদের এই অবস্থায় দেখে ফেলে না, তাহলে মস্ত এক কেলেঙ্কারি কান্ড ঘটে যাবে। উম্মম… আমি চাইনা এই রাত শেষ হয়ে যাক…”</p>\n<p>অভি দুহাতে পরীর পাতলা কোমর জড়িয়ে ধরল। পরী অভির গলা নিজের বাহুপাসে নিয়ে নিল, ওর কোল থেকে ওঠার কোন তারা নেই যেন। একে ওপরের বাহুপাসে বদ্ধ হয়ে বসে আদর খেতে লাগল।</p>\n<p>আদর করে মাথার চুলে বিলি কাটতে কাটতে পরী অভিকে বলে, “একটা গান গাও।”</p>\n<p>অভি, “পাগলে গেলে নাকি তুমি? আমি গান গাইলে কুকুর গুলো মারতে শুরু করে দেবে আমাকে।”</p>\n<p>পরী, “বাঃরে, বাসে ত আমাকে দেখে বেশ গান বের হচ্ছিল, এখন কি হল…”</p>\n<p>অভি, “বাসের কথা আলাদা।”</p>\n<p>পুব আকাশে নবীন ঊষার ছটা দেখে অভি পরীকে বলল, “বাড়ির ভেতরে যাওয়া যাক।”</p>\n<p>পুব দিকে একবার তাকিয়ে মৃদু স্বরে উত্তর দিল, “হ্যাঁ চল, আমাদের বাড়ির ভেতর যাওয়া উচিত।”</p>\n<p>প্রত্যাবর্তন</p>\n<p>নবীন ঊষার সাথে সাথে এক নতুন দিনের আগমন ঘটে পরী আড় অভির জীবনে।</p>\n<p>একে একে কনের বাড়ির লোকজন জাগতে শুরু করেছে। সেই ভিড়ে পরী আবার হারিয়ে গেল। সুমন্ত মামা অভির কাছে এসে জিজ্ঞেস করল যে রাতে কোথায় ছিল। উত্তরে অভি জানিয়ে দিল যে সারা রাত ও বিয়ের প্যান্ডেলে বসে কাটিয়ে দিয়েছে। সেই শুনে মামা হেসে ওকে হাত মুখ ধুয়ে নিতে বলল। জানিয়ে দিল যে কয়েক ঘন্টা পরে বড় কনে কে নিয়ে বসিরহাটের উদ্দেশ্যে রওনা দেবে। ধিরে ধিরে বিয়ে বাড়ির লোকজন জেগে উঠে মেতে উঠেছে।</p>\n<p>গ্রামের হাওয়ায় এক বিশুদ্ধতার আমেজ, বুক ভরে সেই বিশুদ্ধ বাতাস বুকের মাঝে টেনে নিল অভি। কোলকাতায় এই বাতাস পাওয়া বড় কঠিন ব্যাপার। কিছু পরেই বরযাত্রীদের সকালের খাওয়ার ব্যাবস্থা হয়ে গেল। অভির চোখ থেকে থেকে শুধু পরীকে খুঁজে বেড়ায়, কিন্তু খুজলে কি হবে সেই কন্যের দেখা নেই।</p>\n<p>সবে মাত্র খেতে বসেছে অভি, ঠিক এমন সময়ে মাথার পেছনে চাটি মারে পরী।</p>\n<p>অভি “আউচ” করে পেছন ঘুরে তাকিয়ে দেখে রাতের পরী আর নেই। যে দাঁড়িয়ে সে যেন তরতাজা এক ফুল, সদ্য শিশিরে স্নান সেরে ওর কাছে দাঁড়িয়ে।</p>\n<p>অভিমানি সুরে বলে, “আমাকে ছেড়েই খেতে বসে গেলে? লজ্জা করে না তোমার।”</p>\n<p>অভি, “বাঃরে তোমার দেখা নেই। আড় আমার কি খিদে পায় না নাকি।”</p>\n<p>পরী, “কাউকে কি আমার কথা জিজ্ঞেস করা যেত না নাকি।”</p>\n<p>অভি, “আচ্ছা বাবা মাফ কর। এবারে বসে পরত, খেয়ে নাও। পেটে কিছু পরেনি বলে মনে হয় মাথাটা একটু গরম।”</p>\n<p>প্রাতরাশ সেরে পরী চলে গেল কনের কাছে। বিদায়ের সময় বর্তমান। এই সময়টা অভির একদম ভাল লাগে না। কান্না কাটি একদম সহ্য করতে পারে না ও। বাড়ির ভেতরে ক্রন্দনের রল উঠেছে, সেই শুনে বুঝে গেল যে কনে বিদায় নিতে সময় লাগবে।</p>\n<p>অভি চুপ করে উঠানের এককোণে দাঁড়িয়ে থাকে। ঠিক সেই সময়ে পাঞ্জাবির হাতায় টান লাগে, পেছনে তাকিয়ে দেখে যে পরী ওর পেছনে মুখ লুকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। দুই হাতে অভির হাত খানি শক্ত করে ধরে ঘন ঘন পিঠের ওপরে নাক ঘষছে। মনে হল যেন চোখের জল আটকানোর প্রবল চেষ্টা করে চলেছে।</p>\n<p>অভি, “আরে বাবা, বোকা মেয়ে কাঁদে নাকি। তোমার বৌদি তোমার বাড়ি যাচ্ছে আবার কি চিন্তা।”</p>\n<p>ফুঁপিয়ে ওঠে পরী, “তুমি বুঝবে না।”</p>\n<p>বাঁ হাতে ওকে জড়িয়ে ধরে কাঁধের গোলায় আলতো করে হাত বুলিয়ে অভি ওকে আসস্থ করতে চেষ্টা করে। পরী তখন অভির ঘিয়ে রঙের শাল খানি জড়িয়ে।</p>\n<p>ফিরে যাবার জন্য দুটি গাড়ি প্রস্তুত।</p>\n<p>পরী চোখ মুছে নিচু স্বরে বলে, “আমাকে বউদির গাড়িতে যেতে হবে। তুমি ওর বন্ধুদের গাড়িতে যেও। আমার সাথে গেলে কারুর নজরে চলে আসব আমরা।”</p>\n<p>কিছুক্ষণের মধ্যেই কনে কে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হল গাড়ি। অভি চাপল সুব্রতর বন্ধুদের গাড়িতে আর পরী অন্য গাড়িতে। অভি সামনের সিটে চুপ করে বসে, পেছনে সুব্রতর বন্ধুরা বসে। দুই বন্ধু নিজেদের মধ্যে কথা বার্তা বলছিল, অভি বিশেষ কান দেয়নি ওদের কথাবার্তার মধ্যে। একসময়ে ওর কানে ভেসে আসলো শুচিস্মিতার নাম।</p>\n<p>একজন, “কাল রাত থেকে শুচিস্মিতা কেমন যেন আলদা আলাদা মনে হচ্ছে।”</p>\n<p>দ্বিতীয় জন, “হ্যাঁ রে, ঠিক বলেছিস। আমারো সেটাই মনে হয়েছে। এমনিতে খুব হাসি খুশি থাকে মেয়েটা কিন্তু কাল রাতে বেশ গম্ভির ছিল। অনেক ক্ষণ ধরে ওর কোন পাত্তা পাইনি।”</p>\n<p>একজন, “ব্যাবহার টা কেমন যেন লাগল আমার, কি ব্যাপার কিছু জানিস নাকি?”</p>\n<p>অপর জন, “জাঃ বাবা আমি কি করে জানব।”</p>\n<p>অভির দিকে একজন প্রশ্ন করে, “তুমি উলুপি ম্যাডামের ছেলে তাই না।”</p>\n<p>মাথা নাড়িয়ে জবাব দেয় অভি, “হ্যাঁ” ওদিকে বুকের ভেতরে আশঙ্কায় কাপুনি ধরে, পরী আর ওকে একসাথে দেখে ফেলেনি ত ওরা, দেখে ফেললেই এক কেলেঙ্কারি কান্ড হয়ে যাবে।</p>\n<p>একজন, “ভাই তোমার মা আমাদের স্কুলের টিচার। আমাদের পড়াতেন আর খুব কড়া ম্যডাম ছিলেন।”</p>\n<p>হেসে ওঠে অভি, “বাড়িতেও ভীষণ কড়া আমার মা।”</p>\n<p>দ্বিতীয় জন, “সুব্রত তোমার মামা হন তাই না?”</p>\n<p>অভি, “হ্যাঁ, কিন্তু মায়ের চেয় অনেক অনেক ছোটো ওরা।”</p>\n<p>এর মধ্যে একজন একটা সিগারেট জ্বালিয়ে অভির দিকে বাড়িয়ে দেয়, “তুমি কলেজে পড় তার মানে সিগারেট খাওয়া চলে তোমার। আরে লজ্জা পেও না আমরা তোমার মামার বন্ধু হলে কি হবে, আমাদের দাদা বলে ধরে নিও।”</p>\n<p>অভি, “না, আমি কাল রাত থেকে সিগারেট খাওয়া ছেড়ে দিয়েছি।”</p>\n<p>একজন হেসে বলে, “কনের বাড়ির কাউকে মনে ধরে নিয়েছ নাকি। আচ্ছা তুই ড্রিঙ্ক করো?”</p>\n<p>মাথা নাড়ায় অভি, “হ্যাঁ, তবে ভদকা আর রাম।”</p>\n<p>একজন, “তাহলে বেশ জমবে। আজ রাতে বাড়ি ফিরে একসাথে বসা যাবে তাহলে। তুমিও চলে এসে আমাদের সাথে।”</p>\n<p>কথা বার্তার পরিপ্রেক্ষিতে জানা গেল যে একজনের নাম সমির আর একজনের নাম মৃগাঙ্ক। দুজনেই সরকারি চাকুরিরত এবং অবিবাহিত। এও জানা গেল যে সুব্রতর নাকি প্রেম বিবাহ আর কনের নাম মৈথিলী। মৈথিলীর বয়স পরীর মতন কিম্বা পরীর চেয়ে একদু মাসের ছোটো বড় হবে। সুব্রত আর মৈথিলী দেখা কোন এক পারিবারিক অনুষ্ঠানে হয়েছিল, সেই থেকে দু’জনের মাঝে প্রেম হয়। পরে সুব্রতর বড় দাদার মৈথিলীকে দেখে পছন্দ হয় এবং সুমন্ত মামা মৈথিলীর বাবার কাছে বিয়ের প্রস্তাব করেন। এই ভাবে এই দুই প্রেমিক যুগল বিয়ের বন্ধনে বেঁধে যায়।</p>\n<p>অভি মনে মনে ভাবে, “আমি খালি হাতে এসেছিলাম কিন্তু অনেক কিছু নিয়ে যাচ্ছি। আমার ভালবাসা, আমার পরী।”</p>",
        "series": {
            "id": 23,
            "title": "ভালবাসার রাজপ্রাসাদ",
            "slug": "valobashar-rajprashad",
            "url": "https://golpohub.com/series/valobashar-rajprashad",
            "thumbnail_url": "https://cdn.golpohub.com/covers/series-valbasar-rajprasad-23-03d714.webp",
            "progress_status": "completed"
        },
        "author": {
            "id": 22,
            "name": "পিনুরাম",
            "slug": "pinuram",
            "url": "https://golpohub.com/authors/pinuram",
            "avatar_url": "https://cdn.golpohub.com/avatars/pinuram-22-995484.webp",
            "bio": "পিনুরাম বাংলা কথাসাহিত্যের এক সংবেদনশীল ও মননশীল রূপকার। মানবজীবনের টানাপোড়েন, দায়িত্ববোধের কঠিন আত্মত্যাগ এবং সামাজিক শৃঙ্খলের ভেতর লুকিয়ে থাকা সূক্ষ্ম অনুভূতির রূপায়ণে তাঁর লেখনী অনন্য। তাঁর চরিত্ররা আবেগতাড়িত ভুলের ভেতর দিয়ে হেঁটে এসে অবশেষে গভীর আত্মোপলব্ধি ও দায়িত্বশীল মানবিকতায় পূর্ণতা পায়। বাস্তব জীবনের জটিল মনস্তত্ত্ব ও আত্মশুদ্ধির মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা তাঁর গল্পগুলো পাঠকদের চিত্তে শুভ ও ইতিবাচক চেতনার বিস্তার ঘটায়।",
            "series_count": 0,
            "meta": {
                "bio": "পিনুরাম বাংলা কথাসাহিত্যের এক সংবেদনশীল ও মননশীল রূপকার। মানবজীবনের টানাপোড়েন, দায়িত্ববোধের কঠিন আত্মত্যাগ এবং সামাজিক শৃঙ্খলের ভেতর লুকিয়ে থাকা সূক্ষ্ম অনুভূতির রূপায়ণে তাঁর লেখনী অনন্য। তাঁর চরিত্ররা আবেগতাড়িত ভুলের ভেতর দিয়ে হেঁটে এসে অবশেষে গভীর আত্মোপলব্ধি ও দায়িত্বশীল মানবিকতায় পূর্ণতা পায়। বাস্তব জীবনের জটিল মনস্তত্ত্ব ও আত্মশুদ্ধির মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা তাঁর গল্পগুলো পাঠকদের চিত্তে শুভ ও ইতিবাচক চেতনার বিস্তার ঘটায়।",
                "phone": null,
                "gender": "male",
                "address": {
                    "country": "India"
                },
                "birth_date": null,
                "social_links": [],
                "pen_name": "পিনুরাম",
                "aliases": [
                    "Pinuram",
                    "Pinu Ram"
                ]
            },
            "timestamps": {
                "created_at": null,
                "updated_at": null
            }
        },
        "navigation": {
            "previous_episode": {
                "id": 1107,
                "ep_number": 1,
                "title": "কুয়াশা ঘেরা প্রথম দেখা",
                "slug": "valobashar-rajprashad-s1-ep1",
                "url": "https://golpohub.com/episodes/valobashar-rajprashad-s1-ep1",
                "thumbnail_url": "https://golpohub.com/assets/images/og.jpg"
            },
            "next_episode": {
                "id": 1109,
                "ep_number": 3,
                "title": "উত্তাল আঁধার ও গোপন স্পর্শ",
                "slug": "valobashar-rajprashad-s1-ep3",
                "url": "https://golpohub.com/episodes/valobashar-rajprashad-s1-ep3",
                "thumbnail_url": "https://golpohub.com/assets/images/og.jpg"
            }
        }
    }
}