লাভার নাকি ভিলেন | সিজন – ২ | পর্ব – ১৩

মেঘলার কথার কি জবাব দিবে আকাশ বুঝতে পারছে না… আকাশ বুঝল এই সমস্যার সমাধান করা তার পক্ষে সম্ভব না তাই মেঘলাকে বলল নাবিল কে ডাকতে।

মেঘলাঃ ভাইয়াকে ডাকব? মাথা ঠিক আছে? ভাইয়া আমাকে মেরে ফেলবে যদি শুনে আমি আপনার সাথে কথা বলেছি। আকাশ আর কোন কথা বলে মেঘলাকে টানতা টানতে নাবিলের ঘরে নিয়ে গেল।

মেঘলাঃ আরে এই লোক ত ভিষন খারাপ আমাকে ফাঁসানোর কি মানে? ছাড়েন বলছি…যাব না আমি।

নাবিল আকাশ আর মেঘলাকে দেখে অবাক হল।

নাবিলঃ সালাকে এতক্ষন কি বুঝালাম আর কি বুঝল? সেই মেঘলাকে জানিয়ে দিল।নাবিল কিছুটা রাগি ভাব নিয়ে বলল,
কি হয়েছে সমস্যা কি?
তোরা আসলে চাস টা কি আমাকে বলবি প্লিজ?

আকাশঃ আমি মেঘলাকে চাই

মেঘলাঃ আমি আকাশ কে চাইনা।

নাবিলঃ বাহ ভাল ২ জনের চাওয়া ২ রকম এবার আমার কি করা উচিত?

মেঘলাঃ তোর উচিত আকাশের এই অত্যাচারের হাত থেকে আমাকে রক্ষা করা। নিজের ঘরেও শান্তি নেই হুটহাট কোথা থেকে চলে আসে।

আকাশঃ চুপ কর মাথা মোটা কোথাকার… নাবিল তোর উচিত মেঘলাকে একটু চালাক বানানো অথবা এই ভুল বুঝাবুঝি মিটিয়ে দেওয়া।

নাবিলঃ হ্যা আমি তো চাকরি নিয়েছি প্রতিদিন তোরা ঝামেলা করবি আর আমি খাওয়া,ঘুম ছেড়ে সেসব মিটাব।
আচ্ছা একটা কথা বল তোরা কি ভুলে যাস আমি সম্পর্কে তোদের কি হই? আমাকে তোদের একটু লজ্জা পাওয়া উচিত।বড় ভাই নাকি বোনের প্রেম করিয়ে দিবে কি কপাল…
আচ্ছা যাক গে সমস্যা কি হয়েছে সেটা বল।

আকাশঃ আমি তোকে কখনই মেঘলার ভাইয়ের চোখে দেখি নি দেখতে পারবও না যাক সেসব কথা মেঘলার ধারনা আমি ইরার সাথে প্রেম করছি এ ব্যাপারে তোর বক্তব্য কি?

নাবিলঃ তাই নাকি সুখবর কিন্তু মিষ্টি কোথায় যাক গে সেই উপলক্ষে আমাকে আর মেঘলাকে একটা ট্রিট দিয়ে দে তাহলেই ঝামেলা মিটে গেল কি বলিস মেঘলা? আকাশ খাওয়া দেয় নি তাই তুই রাগ করেছিস তাই না?

নাবিলের কথায় মেঘলা তো অবাক হলই সাথে আকাশও।

আকাশঃ কি বলছিস নাবিল?পাগল হয়ে গেছিস?

নাবিলঃপাগল কেন হব? কি রে মেঘলা বল..ট্রিট দিলেই সমস্যা সমাধান হবে না?

মেঘলাঃ ও আমার বয় ফ্রেন্ড, বেস্ট ফ্রেন্ড না যে ট্রিট দিলে খুশি হব।

নাবিলঃ ওমা তাই নাকি? আমি তো ভাবলাম ফ্রেন্ড বয়ফ্রেন্ড কে এত সন্দেহ করলে সেটা বয়ফেন্ড হয় কি করে?

মেঘলাঃ আমি সন্দেহ করি নি ও সত্যি সত্যি প্রেম করে…

নাবিলঃ কি সর্বনাশ এখন দেখছি আমাকেও সন্দেহ করছিস..

মেঘলাঃ মানে কি?

নাবিলঃ আমি তো সারাদিন আকাশের সাথেই থাকি ও প্রেম করলে আমি দেখতাম তাই না?আর আমার মাথায় এত সমস্যাও নেই যে যেনে বুঝে দুশ্চরিত্র কোনো ছেলের সাথে বোনের বিয়ে দিব না তাই না?

মেঘলা কেঁদে ফেলেছে…

মেঘলাঃ আ আ আ….

নাবিলঃ হয়ে গেল….মেঘলাকে টেনে নিজের কাছে নিয়ে বলল কি হয়েছে খুলে বল তো…

মেঘলাঃ আ আ আ…

আকাশঃ এখন আর কান্না থামবেও না বলতেও পারবে না আমি বলছি। আমি কেন ইরার নামে ফেসবুক একাউন্ট চালাই এটা তার প্রথম সমস্যা
২য় সমস্যা কেন আশে পাশে মেয়েরা থাকে আর প্রধান সমস্যা আমি কেন দুর্গাপুরে যাচ্ছি।

নাবিলঃ হায়রে পাগলি আমরা যেসব উন্নয়নমুলক কাজ করি সেসব তো নিজের মুখে বলা যায় না মানে নিজেই নিজেকে নিয়ে কিভাবে গর্ব করব তাই ইরার নামে একাউন্ট চালায় আর সেখানে শুধু আকাশ আর ইরার না আমাদের সবার ছবিই আপলোড দেওয়া হয় ।

মেঘলাঃ তাহলে ইরার নামে কেন আমার নামেও তো একাউন্ট খোলা যেত।

আকাশঃ তুই আসলেই গাদা ঘরের বউকে কেউ বাজারে তুলে নাকি?তোর নামে মার্কেটিং করব কেন ওখানে কত মানুষ গালি দেয় জানিস? তুই সেসব একটা কমেন্ট দেখলে কেঁদে সমুদ্র বানিয়ে দিবি।

নাবিলঃ আকাশ ঠিক বলেছে দেখ মেঘলা ইরা অনেক আগে থেকেই আমাদের রাজনীতির সাথে যুক্ত তাই ও আমাদের সাথে থাকে।

মেঘলাঃ আমিও রাজনীতি করব…

আকাশঃ আচ্ছা করিস আগে পরিক্ষাটা দে।

নাবিলঃ না মেঘলা রাজনীতি করবে না ওর কোন হের্টাস থাকবে না। সবাই ওকে ভালবাসবে এক নামে চিনবে।
মেঘলআ আমার খুব ইচ্ছা তুই খুব ভাল একটা রেজল্ট করবি । আমি সবাইকে ডেকে ডেকে বলব আমার বোন এমন রেজাল্ট করেছে। কিরে মেঘলা পারবি না আমার স্বপ্ন পূরন করতে?

মেঘলাঃ মাথা নাড়ল।

আকাশঃ মেঘলা তুই তো ইরাকে চিনিস ও তোকে বানিয়ে বানিয়ে অনেক কিছুই বলবে তাই বলে তুই সেগুলোই বিশ্বাস করবি? ওকে যদি দল থেকে বের করে দেওয়া যেত সবার আগে আমি ওকে বের করে দিতাম কিন্তু ইরার বাবা দলে বহুদিন ভাল একটা পদের দায়িত্বে ছিলেন তার অধিকার আছে তাই সরাতে পারব না।
তুই বাচ্চাদের মত এমন করলে কি করে হবে বল তো।

নাবিলঃ ইরাকে যে শুধু সরানো যাবে না তাই না।ইরা মোটেও ফালতু কোন সদস্য না দলে ওর ভাল অবস্থান আছে ইরা আমার কম্পিটিটর ছিল সবাই ওকেই পদ টা দিতে চেয়েছিল কিন্তু আকাশ সবার বিরুদ্ধে গিয়ে আমাকে পদ দিয়েছে তাই ওর আমাদের উপড় এমনেতেই রাগ আছে শুধু মাত্র একেই দলের তাই উপড়ে উপড়ে আমাদের সাথে ভাল ব্যবহার করে ভিতরে ভিতরে আমাদের বিরুদ্ধে কাজ করে।

মেঘলাঃ যতসব ফাউল তোদের রাজনীতি শুনে আমি কি করব সর সামনে থেকে আমি ঘুমাব গিয়ে।

আকাশঃ এখনো রাগ…??

নাবিল গিয়ে আকাশের রক্তে মাখা বেন্ডেজের কাপড় টা নিয়ে বলল মেঘলা এটা একটু ফেলে দিস তো।

মেঘলা হাতে নিয়ে চমকে উঠল।
মেঘলাঃ ওমা এত রক্ত… কে ব্যাথা পেয়েছে রক্ত দেখে তো মনে হচ্ছে টাটকা রক্ত এটা কার?

নাবিল ইশারা করে আকাশ হাত দেখাল।

আকাশ হাত লুকানোর চেস্টা করে নাবিলকে বলল কি করলি এটা…???

মেঘলাঃ আমার জন্য এমন হয়েছে তাই না..???
মেঘলার কান্না আবার শুরু হয়ে গেছে আ আ আ আ আ…

আকাশঃ নাবিলের বাচ্চা তোকে যে আমি কি করব এটা কি করলি? এখন এই কান্না তো আর সারারাতেও থামবে না।

নাবিল মুচকি হেসে বলল তোর জিনিস তুই কিভাবে সামলাবি তুই বুঝ গিয়ে আপাতত আমার রুম থেকে বের হ… আমি ঘুমাব বলে ২ জনকেই বের করে দিল।

আকাশঃ কান্না বন্ধ কর মেঘলা কিছুই হয় নি আর তোর জন্যে এসব হয় নি বাইক চালাতে গিয়ে ব্যাথা লেগেছে।

মেঘলাঃ আ আ আ…..

আকাশঃ কান্না থামা প্লিজ অনেক আদর করব সত্যি বলছি যা চাইবি তাই দিব তবু কাঁদিস না।প্লিজ থাম আংকেল আন্টি জেগে যাবে আর কাঁদিস না মনা। আকাশ মেঘলাকে শান্ত করার চেষ্টায় ব্যাকুল এটা ওটা কত কি বলছে। চোখ মুছে দিচ্ছে মাথায় হাত বুলাচ্ছে নাবিল ঘর থেকে সেসব দেখছে।

নাবিলঃ এ যেন এক অন্যরকম প্রশান্তি ওদের ভালবাসা দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়… তবে ২ টারেই মাথায় সমস্যা আছে একটা কিছুই বুঝে না আর একটা এতই বেশি বুঝে যে অন্য কেউ সেটা বুঝতে পারে না।

মেঘলাকে শান্তনা দিতে দিতে আকাশ ঘরে নিয়ে গেল তারপর মেঘলাকে শুয়িয়ে দিল মেঘলা কেঁদেই চলেছে।আকাশ মেঘলার এই গুনের ব্যাপারে জানে।আকাশ ব্যাথা পেলে মেঘলা ছোট বেলা থেকেই কাঁদে। এখনও কাঁদছে আর মেঘলাকে এখন শান্ত করা তার পক্ষে সম্ভব না সেটা আকাশ জানে যতক্ষন না ক্লান্ত হয়ে ঘুমাবে ততক্ষন মেঘলআ কাঁদবেই তাই আকাশ মেঘলার মাথায় হাত বুলিয়ে দিল কিছুক্ষন পর মেঘলা ঘুমিয়ে পড়ল। তারপর নাবিলের কাছে বিদায় নিয়ে আকাশ চলে গেল।

সকালে নাবিলের ঘুম ভাংগল ইরার ফোনে।

নাবিলঃ কি হয়েছে..???

ইরাঃ কি হয়েছে মানে? কোথায় তোমরা?নাতো আকাশ এসেছে নাতো তুমি? আমাদের আজ দুর্গাপুরে প্রোগ্রাম আছে ভুলে গেছো?আমরা সবাই অপেক্ষা করছি তাড়াতাড়ি এসো।

নাবিলঃ হুম আসছি।

ইরাঃ আকাশ কেও নিয়ে এসো ওকে ফোনে পাচ্ছি না।

নাবিলঃ হুম নিয়ে আসব।

নাবিল উঠে মেঘলার ঘরে গেল।

নাবিলঃ ঘুম ভেংগেছে..???

মেঘলাঃ সেই কখন…. আমি প্রতিদিন ভোরে উঠে পড়তে বসি।

নাবিলঃ খুব ভাল মন দিয়ে পড়িস একটা কথা মনে রাখবি এই পড়ার জন্যই তুই আজ এখানে

মেঘলাঃ হ্যা রে ভাইয়া ভাল রেজাল্ট না করলে আংকেল আমাকে শহরেও আনতো না আর এত কিছুও ঘটত না তোদেরকেও ফিরে ফেতাম না।
যাক সেসব কথা তুই কেন এসেছিস বল চা খাবি করে দিব?

নাবিলঃ আমি একটু দরকারে এসেছি

মেঘলাঃ হ্যা বল না কি দরকার..???

নাবিলঃ দেখ মেঘলা দুর্গাপুরের প্রোগ্রাম টা আমাদের জন্য খুব জরুরি আমাদের যাওয়া উচিত এখন তুই যেহেতু রাগ করেছিস তাই আকাশ হয়ত যাবে না।

মেঘলাঃ কেন সব তো মিটে গেছে ও গেলে আমি রাগ করব না তো আর রাগ করবই বা কেন তুই তো যাচ্ছিস।

নাবিলঃ এই তো আমার লক্ষিবোন এবার বুঝেছে ঠিক আছে তাহলে চল আমার সাথে আকাশ কে তুই না বললে যাবে না তুই আকাশের বাসা হয়ে তারপর ক্লাসে যাস।

মেঘলাঃ আচ্ছা চল যাই এমনেতেও আমার যেতে হত এখানে তো আমার বই নেই। সব ওই বাড়িতে আমি ওখানেই থাকব পরিক্ষার আগে বাসা বদলানো উচিত হবে না।

নাবিল আর মেঘলা মিলে আকাশের বাসায় গেল।

মেঘলাঃ আন্টি আকাশ কোথায়?

আকাশের মাঃ উঠে নি এখনো। সারারাত বাসায় ছিল না একটু আগে এসে শুয়েছে।কি যে করিস না তোরা দেখ তো শুধু শুধু রাগারাগি করিস।সকাল থেকে এখন পর্যন্ত কম হলেও ১৫ বার কল করেছে পার্টি থেকে।কিন্ত আমি ডাকার সাহস পাইনি যা তুই গিয়ে ডেকে তুল।

নাবিলঃ তুই যা আমি আন্টির হাতে এক কাপ চা খাই..
মেঘলা আকাশের ঘরে গেল।

আকাশ বাচ্চাদের মত উপর হয়ে ঘুমাচ্ছে দেখতে ঘুম সুন্দর লাগছে আকাশ কে।

মেঘলা গিয়ে প্রথমেই আকাশের মাথায় হাত বুলাল এটা তার প্রতিদিনের রুটিন।

মেঘলা হাত রাখতেই আকাশ চমকে উঠল।

মেঘলাঃ কি হল..???

আকাশঃ না মানে প্রতিদিন তুই হাত বুলাস আজ তুই নেই তাই কে হাত বুলাল ভেবে একটু চমকে গেছি।

মেঘলাঃ ওমা আমি হাত বুলাই তুমি সেটা টের পাও? কই কোনদিন তো বল নি আর দেখে তো মনে হয় ঘুমাচ্ছো।

আকাশঃ আমি সব সময়েই টের পাই।আদর পেতে কার না ভাল লাগে তাই নরাচড়া করি না।
ছাড় এসব তুই এখন এসেছিস কোচিং এ যাস নি?

মেঘলাঃ না।

আকাশঃ কি…?? কেন যাস নি অনেক জোরে ধমক দিয়ে বলল আকাশ।

মেঘলাঃ ভাইয়া আ আ ….

নাবিল তাড়াতাড়ি রুমে আসল আবার কি হয়েছে? উফফ তোদের নিয়ে আর পারিনা।

আকাশঃ আরে তুই ও আসছিস কিন্তু এটা কোচিং এ যায় নি কেন?

মেঘলাঃ একদিন না গেলে কি হয়..??

আকাশঃ অনেক কিছু হয়।
শোন যাই হয়ে যাক পৃথিবী উল্টে গেলেও তোর ভাল রেজাল্ট করতে হবে বুঝেছিস?

মেঘলাঃ কেন ভাল রেজাল্ট দিয়ে কি হবে.?

আকাশঃ কারন এটা নাবিলের স্বপ্ন তাই করতে হবে।তুই তো জানিস না নাবিল তোকে কত ভালবাসে।

নাবিলঃ আকাশ কি শুরু করলি এসব থাক না…

আকাশঃ না থাকবে কেন?ওর জানা উচিত, মেঘলা তুই জানিস নাবিলের ফিক্সড ডিপোজিট এর সমস্ত ব্যালেন্স তোর নামে ট্রান্সফার করে দিয়েছে।ওর নিজের নামে একটা টাকাও ব্যাংকে নেই।

মেঘলা অবাক হয়ে বলল কিন্তু কেন ভাইয়া আমি টাকা দিয়ে কি করব?

আকাশঃ কি করবি জানে না তবে তোকে ভালবাসে জন্যে দিয়েছে। যে ভাই তার বোন কে এত ভালবাসে সেই ভাই বোনের কাছে একটা ভাল রেজাল্ট চেয়েছে তুই সেটা দিতে পারবি না?

নাবিলঃ হ্যা মেঘলা আমার খুব ইচ্ছা ছিল তাক লাগানোর মত রেজাল্ট করব কিন্তু রাজনীতির জন্য পারিনি তাই আমি চাই তুই আমার স্বপ্ন পূরন করবি পারবি না তুই?

মেঘলাঃ পারব ভাইয়া আমি অবশ্যই পারব।

আকাশঃ এভাবে ফাঁকি দিলে কচু পারবি।

নাবিলঃ না আর ফাঁকি দিবে না আজ আমিই ওকে নিয়ে এসেছি।

আকাশঃ আমরা তো এখনি চলে যাব তাহলে ওকে আনলি কেন?পার্টি থেকে অনেক বার ফোন দিয়েছে আমি বলেছি যাচ্ছি।

কথাটা শুনে নাবিল অবাক হল।

নাবিলঃ তুই যাবি..???

আকাশঃ হ্যা অবশ্যই রাতে সব তো খুলে বল্লাম মেঘলাকে তারপরেও যদি আপত্তি করে তাহলে তো কিছু বলার থাকতে পারে না তাই না।প্রফেশন প্রফেশনের জায়গায় আর সংসার সংসারের জায়গায় মেয়েদের কথামত চললে রাস্তায় থালা নিয়ে বসতে হবে।

আকাশের এই কয়েকটা কথাতে নিমিষেই মেঘলার মুখের হাসিটা বিলিন হয়ে গেল।

আকাশঃ কিরে মেঘলা তোর কোন আপত্তি আছে নাকি?
মেঘলার ইচ্ছা করছে নিষেধ করতে কিন্ত রাগে নিষেধ করতে পারল না
মেঘলা হাসির ভান করে বলল,না আমার কোন আপত্তি নেই।আর ভাইয়া তো সাথে যাচ্ছেই তাহলে আপত্তি করব কেন?

আকাশঃ মানে কি? নাবিল না গেলে তুই আমায় যেতে দিতি নাকি?শোন মেঘলা আমার উপড়ে আর কোনদিন জোর করতে আসবি না কাল প্রথম দিন ছিল তাই তোর ন্যাকামি সহ্য করেছি এরপর যদি কোনদিন এমন করিস বাঁচানো তো দূর চোখের সামনে ছটফট করে মরবি তাও হাসপাতালে নিব না বুঝেছিস?মরার সময় যদি এক ফোঁটা পানি চাস সেটাও দিব না।আমাকে কি ভাবিস তুই আমি তোর গোলাম যে তোর কথায় উঠব তোর কথায় বসব..

মেঘলাঃ আমি সেটা বলি নি।

আকাশঃ তাহলে কি বলেছিস? আমি কোথায় যাব কোথায় যাব না তার পারমিশান কি তোর কাছ থেকে নিতে হবে? এতক্ষনে বুঝলাম তুই কেন এসেছিস কি ভেবেছিলি তুই আমাকে বলবি তার পর আমি যাব না হলে যাব না।

মেঘলা ছল ছল চোখে নাবিলের দিকে তাকাল

নাবিলঃ আহ আকাশ এভাবে বলছিস কেন?

আকাশঃ তোর বোন বলে কি সাত খুন মাফ নাকি?কাল কতটা বাড়াবাড়ি করেছে ভুলে গেছিস? আমাকে না থামিয়ে ওকে বল এরকম ইগো কমাতে।আমাকে নিয়ে ও বাজি ধরবে কেন?মানুষ কে দেখাতে হবে যে আমাকে গোলাম বানিয়ে রেখেছে আজ আমি না গেলে ইরা সবাই কে বলবে আমি প্রেমিকার আঁচলে মুখ লুকাই ভালবাসা বাইরের মানুষকে দেখানোর কি আছে?ও প্রেমিকা বলে কি মাথা কিনে নিয়েছে নাকি?
ছেলে মেয়ের জীবন এক রকম না সেটা মানতে শিখতে হবে।আর আমার সাথে এত জেদ দেখানো যাবে না। আমি কারোর কথামত চলতে পারব না তাতে যদি মেঘলা আমাকে ছেড়ে চলে যেতে চায় যেতে পারে।নিজেকে এত বড় ভাবার কিছু নেই।ওর মত হাজারটা মেয়ে আকাশের পায়ের নিচে থাকে আর ও আমাকে পায়ের নিচে রাখার প্লেন করছে কি আজব। কথাগুলি বলে আকাশ ওয়াশরুমে চলে গেল।

মেঘলা প্রায় কেঁদে ফেলেছে।

নাবিল কি বলবে বুঝতে পারছে না মনে মনে নিজেই নিজেকে বকা দিচ্ছে।

নাবিলঃ ধুর মেঘলাকে কেন যে নিয়ে এসেছিলাম না আসলে তো এগুলি শুনতে হত না।

মেঘলাও বুঝল নাবিল মনে মনে অপরাধবোধ করছে তাই নাবিলের মন রাখতে নিজের খারাপ লাগাটাকে আড়াল করে বলল ভাইয়া চা খাবি বলছিলি আমি করে আনছি বলে মেঘলা চোখের জল লুকাতে নিচে চলে গেল।

আকাশ রেডি হয়ে বাইরে এসে বলল চল দেরি হয়ে যাচ্ছে।

আকাশ আর নাবিল নিচে নামছে আর মেঘলা চা নিয়ে উপড়ে যাচ্ছে সিড়ির মাঝখানে মুখোমুখি হল তারা।

আকাশঃ এখন চা খাওয়ার সময় নেই অন্য কাউকে দিয়ে দিস।

মেঘলাঃ ভাইয়া খেতে……মেঘলার সম্পুর্ণ কথা না শুনে আকাশ মেঘলাকে থামিয়ে দিয়ে ধমক দিয়ে বলল

আকাশঃআজব মেয়ে একটা সবকিছুতেই ভেজাল করিস একটা দরকারি কাজে যাচ্ছি সামনে থেকে সর বলে আকাশ মেঘলাকে সরিয়ে দিয়ে নাবিলকে টানতে টানতে চলে গেল।

নাবিলের মন খারাপ হলেও আকাশের তাড়াহুড়োতে কিছু বলতে পারল না।

নাবিল আর আকাশ সবাই যেখানে অপেক্ষা করছে সেখানে গেল।

আকাশকে আসতে দেখে ইরার মুখে হাসি ফুটে উঠল।

আকাশ আর নাবিল যেতেই আবির এগিয়ে এসে বলল ভাই আপনারা এত দেরি করলেন সবাই কতক্ষন ধরে অপেক্ষা করছে।

আবির দলে নতুন যোগ দিয়েছে। সে আকাশ নাবিলের চেয়ে বয়সে ছোট আকাশ কে আবির আইডল মনে করে সে নাবিলেরো ভক্ত। ২ জনকেই খুব সম্মান করে আবির।

নাবিল আর আকাশ আবিরের সাথে কথা বলছে

সেই ফাঁকে ইরা একটু দুরে গিয়ে মেঘলাকে ফোন দিল।

মেঘলাঃ হ্যা আপু বলুন…

ইরাঃ ইস মেঘলা কত শখ করে ভয়েজ পাঠিয়েছিলে ভেবেছিলে নাটক করে আকাশ কে আটকে দিবে কিন্তু আফসোস শেষ পর্যন্ত জয়টা আমারেই হল আর তুমি হেরে গেলে।

মেঘলাঃ আপনি ভুল করছেন আপু আকাশকে আমিই পাঠিয়েছি।

ইরাঃ হা হা হা চাপা কম মারো তুমার মত মেয়েকে আকাশ পাত্তাও দেয় না। রাতে বিছানায় শুয়ে ছেলেদের দিয়ে সব কিছুই বলানো যায়।আন্টির কাছে সবি শুনেছি সকালে উঠে নাকি আবার গিয়েছিলে আকাশের মাথা চিবিয়ে খেতে, কিন্তু বিছানার কথা যে বিছানাতেই সীমাবদ্ধ থাকে সেটা হয়ত তুমি যানতে না।

মেঘলাঃ এসব কি ধরনের জঘন্য কথা বলছেন আপনি ?আমাদের মধ্যে এমন সম্পর্ক নেই।

ইরাঃ তোমাদের মত মেয়েদের আমি ভাল করেই চিনি।যাক এবার তো বুঝেছো আকাশ তোমাকে শুধু ব্যবহার করছে ও তোমাকে কোনদিন ও বিয়ে করবে না।নাবিল ওর ডান হাত আর তুমি নাবিলের বোন তাই তোমাকে বিদায় করতে পারছে না।না হলে কবেই লাথি মেরে বিদায় করে দিত। তুমাদের ২ জনকই আকাশ ব্যবহার করছে আর কিছুই না আকাশের কাছে মেঘলা কি আর ইরা কি সেটা আরো বুঝতে পারবে ধীরে ধীরে? বলে ইরা ফোন কেটে দিল।

আকাশের কথায় মেঘলার মন এমনেতেই খারাপ ছিল আর এখন ইরার কথাগুলি শুনে চোখের জল ছেড়ে দিল মেঘলা।

মেঘলা কাঁদতে কাঁদতে নিজের সব জিনিসপত্র আর বই গুছিয়ে নিয়ে নাবিলের বাসায় চলে গেল।

এদিকে,
আবিরঃ সবাই তো চলে এসেছে ভাইরাও এসে গেছে এবার যাওয়া যাক তাহলে।

আকাশঃ দাঁড়া আবির আমি যাওয়ার জন্য এখানে আসি নি একটা দরকারি কাজ আছে তাই এসেছি।বলে আকাশ ইরার দিকে এগিয়ে গিয়ে
সবাই অবাক করে দিয়ে আকাশ ইরাকে ঠাস করে একটা থাপ্পড় মারল।

নাবিলঃ পাগল হয়ে গেছিস নাকি সবার সামনে এগুলি কি করছিস আকাশ?

আকাশঃ আমার জীবনে কিসের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি সেটাই বুঝাচ্ছি।এই মেয়েটার সাহস হয় কি করে আমার বউ কে চ্যালেঞ্জ করার ও জানে না মেঘলা আমার কি?তারপরেও আমাদের মাঝে ঝামেলা লাগানোর সাহস পায় কি করে?আমি তো শুধু থাপ্পড় মেরেছি ইচ্ছা করছে এখানেই মেরে পুঁতে দেই ওর মিথ্যা কথার জন্য মেঘলার কত কষ্ট পেয়েছে সেটা মনে হলেই মেজাজ গরম হয়।

আকাশ ইরার দিকে তাকিয়ে বলল এই ন্যাকামির কান্না বন্ধ করে আমার দিকে তাকা।
কি ভেবেছিলি মিটিং টা জরুরি জন্যে আমি সেখানে যাবই আর তুই সেটার সুযোগ নিয়ে মেঘলাকে বলবি আমি তোর কথায় যাচ্ছি।
কিন্তু তুই হয়ত জানিস মেঘলার এক কথায় আমি শুধু পদ কেন পার্টিও ছেড়ে দিতে পারি আর এটাতো সামান্য একটা মিটিং মাত্র।

তারপর একটা ছেলেকে ডেকে আকাশ একটা কাগজে সাইন করে বলল
সবাই একটু শোনোন প্লিজ আমি আমার পাওয়ার অফ এর্টনি নাবিল কে করে দিলাম।যতক্ষন না নাবিল সেটা উড্রো করছে আমার সমস্ত সিধান্ত নাবিল নিতে পারবে আমি আজ দুর্গাপুরে যাচ্ছি না নাবিল যাবে আর ও যেটা ভাল বুঝবে সেটাই সিধান্ত নিবে।আমার সমস্ত পাওয়ার এখন থেকে নাবিলের।

নাবিল হতবাক হয়ে গেল।
আকাশ কাগজ টা নাবিলের হাতে দিয়ে বলল এভাবে তাকানোর কি আছে তুই আর আমার মাঝে কোন পার্থক্য আছে নাকি?

নাবিলঃ এই এগ্রিমেন্ট বানাতে তো সময় লেগেছে তাই না?তারমানে তুই সকালেই জানতি তুই যাবি না?

আকাশঃ হ্যা অবশ্যই জানতাম মেঘলা মানা করছে সেখানে আমি যাব আজব কথা বলছিস।যে কারনে মেঘলা এত কষ্ট পেল আমি সেই কাজতাই করব তুই ভাবলি কি করে?

নাবিলঃ তাহলে আসার সময় মেঘলার সাথে এমন করলি কেন?

আকাশঃ কষ্ট দেওয়ার জন্য করেছি।আরে এই ন্যাকাটাকে মানুষ করতে হবে না?এখন নিশ্চুই বসে বসে কান্না করছে খুব মন খারাপও হয়েছে তবে এখন আমি যখন ফিরে যাব মন ভাল হয়ে যাবে কিন্তু এই খারাপ ব্যাবহার গুলি ওর মাথায় থাকবে এরপর আর কোনদিন ও আর আমার প্রফেশনের ব্যাপারে কথা বলবে না।কোথাও যাওয়ার সময় আপত্তি করবে না বুঝবে সব বিষয়ে কথা বলা ঠিক না।

নাবিলঃ হুম ঠিক বলেছিস।

আকাশঃ ভালবাসি খুব ভালবাসি ওকে আমার কোন ভুলের জন্য যদি ও নিজের ক্ষতি করে ফেলে আমি সেটা মানতে পারব না। আস্তে আস্তে ওকে কষ্ট হজম করা শিখতে হবে এত ইমোশান নিয়ে সমাজে চলা যায় না। দেখিস না বার বার এদের মত মানুষ মেঘলার ইমোশান নিয়ে খেলা করে। কবে যে অন্যদের কথায় নিজের ক্ষতি করে ফেলবে কে জানে?আমি ওকে কতক্ষন দেখে রাখব বলতো।

নাবিলঃ হুম সত্যিই মেঘলা অনেক বোকা আর দুর্বল।

আকাশঃ হুম ওকে মানুষ করার দায়িত্ব আমারেই আচ্ছা দোস্ত এখন আমি যাইরে ওদিকে মনে হয় চোখের জলের বন্যা হয়ে গেছে।

নাবিলঃ হুম যা।আমি এসে উড্রো পেপারে সাইন করে দিব।

আকাশ ইরার দিকে তাকিয়ে বলল আজ থাপ্পড় মারলাম আর কোনদিন মেঘলার দিকে তাকালে চোখ ২ টি তুলে নিব বুঝেছো?বলে আকাশ চলে গেল।

আবিরঃনাবিল ভাই কে এই ম্যাডাম মেঘলা?যাকে আকাশ ভাই এত ভালবাসে।

নাবিলঃ আছে একটা পাগলি একদিন না হয় পরিচয় করিয়ে দিব।

আবিরঃআকাশ ভাইয়ের ভালবাসা দেখে খুব হিংসা হচ্ছে তারউপর। সেই ভাগ্যবতীকে তো দেখতেই হবে।

নাবিলঃ সত্যিই সে ভাগ্যবতী…!!!

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।