অনামিকা রহমান
অনামিকা রহমান

প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ মার্চ ২০২৫

মেইড ফর ইচ আদার | প্রেম আর বারবিকিউ

সমাপ্ত

মেইড ফর ইচ আদার | সিজন ১ | পর্ব - ১১

২৩ ভিউ
০ মন্তব্য
১ মিনিট

আরে আপনি কেনো দুঃখিত হবেন মিস তুলি।

তুলির ঠোঁটে হাসি। আসলে আমার সেদিন মেজাজ খুব খারাপ ছিলো। বাসায় এসে শুনি রহিমা আন্টি আসবে না। তাই মাকে সাহায্য করতে করতে হাপিয়ে গিয়েছিলাম। তাই তো সদর দরজায় আপনার সাথে অমন ব্যবহার করে ফেলেছি।

সানি মেয়েটাকে অবোলোকন করে। তুলির দাগড় দাগড় চোখেতে যেনো সানি আটকে গেছে।

দীগল কালো কেশ বিরাজমান। নরম মন মেয়েটার। কথায় সাথে সাথে মিষ্টি হাসি।

সানি জবাব দেয়,আমি কিছু মনে করি নি। আপনি শুধু শুধু নিজেকে দায়ী করবেন না। মানুষ মাত্রই ভুল।

তা পড়াশোনা কতদূর চলছে?

সানির প্রশ্ন করা মাত্রই তুলি জবাব দেয়, বিপিএটিসিতে একাদশে আছি। কথোপকথনে

দুজনের মাঝে কেটে গেলো কিছুসময়।

ডুপ্লেক্স বাড়িটার ছাদে বারবিকিউ এর আসর জমেছে। হালকা শীতের আমেজ ফুটে উঠেছে পরিবেশে। সবাই মিলে বারবিকিউ করছে। জ্বলন্ত শিখার তাপ অনুভত হচ্ছে চারপাশ। ছাদের এককোনের ছাউনী ছাতার তলে বসে আছে সকলে। নানা গল্প গুজব হচ্ছে। বিয়েতে কেমন মজা হবে প্রাসঙ্গিক যত কথা।

এর মাঝে সেহতাজ বলে উঠল, ভাই তোরা এমন নিরামিষ হলি কবে থাইক্কা, আমায় একটু বলবি। একটু তো বিনোদনের ও প্রয়োজন।

ওই বাংলার ওমর সানি। একটা গান কর বহুত দিন শুনি না। এই বলেই সেহতাজ পেছন থেকে সানির কাছে গিটার ফিক্কা মারে।

সানি দুঃখ পাওয়ার ভান করে বলে উঠল, গান গেয়ে কি লাভ, প্রেমিকাই যদি না জোটে।বাশ দেওয়ার মতো তোদের মতো বান্ধবি থাকলে, মনে হয় আমায় চিরকুমার হয়ে থাকতে হবে।

আবির সানির এই দুঃখ পাওয়ার অভিনয় দেখে নিজেকে আর আটকে রাখতে পারলো না। সানিকে শুধালো, ভাই তুমি দুঃখ কইরো না। কারন আমারোও বউ নাই। অপর দিকে সানি আর আবিরের নাটক দেখে মেয়েরা সকলে হেসে উঠল।

সানি গিটারের তার ঠিক করে গান শুরু করলো।

লা লালা লা লা লা

যদি বারে বারে একই সুরে প্রেম তোমায় কাঁদায়

তবে প্রেমিকা কোথায় আর প্রেমই বা কোথায়?

যদি দিশেহারা ইশারাতে প্রেমই ডেকে যায়

তবে ইশারা কোথায় আর আশারা কোথায়?

যদি মিথ্যে মনে হয় সব পুরোনো কথা

যদি চায়ের কাপেতে জমে নীরবতা

যদি মিথ্যে মনে হয় সব পুরোনো কথা

যদি চায়ের কাপেতে জমে নীরবতা

তবে বুঝে নিও চাঁদের আলো কত নিরুপায়

(তুলি সানির গান শুনে মুগ্ধ। অপলক সানির পানে তার দৃষ্টি স্থির।তুলির মনে যেনো ভালোলাগার লাড্ডু ফাটলো অগোছালো এই সানির৷ জন্য )

যদি প্রতিদিন সেই রঙিন হাসি ব্যথা দেয়

যদি সত্যগুলো স্বপ্ন হয়ে শুধু কথা দেয়

যদি প্রতিদিন সেই রঙিন হাসি ব্যথা দেয়

যদি সত্যগুলো স্বপ্ন হয়ে শুধু কথা দেয়

তবে শুনে দেখো প্রেমিকের গানও অসহায়

লা লালা লা লালা লা লা

যদি অভিযোগ কেড়ে নেয় সব অধিকার

তবে অভিনয় হয় সবগুলো অভিসার

যদি ঝিলমিল নীল আলোকে ঢেকে দেয় আঁধার

তবে কী থাকে তোমার, বলো কী থাকে আমার?

যদি ভালোবাসা সরে গেলে মরে যেতে হয়

কেন সেই প্রেম ফিরে এলে হেরে যেতে ভয়?

যদি ভালোবাসা সরে গেলে মরে যেতে হয়

কেন সেই প্রেম ফিরে এলে হেরে যেতে ভয়?

শেষে কবিতারা দায়সারা গান হয়ে যায়

যদি বারে বারে একই সুরে প্রেম তোমায় কাঁদায়

তবে প্রেমিকা কোথায় আর প্রেমই বা কোথায়?

যদি দিশেহারা ইশারাতে প্রেমই ডেকে যায়

তবে ইশারা কোথায় আর আশারা কোথায়?

যদি মিথ্যে মনে হয় সব পুরোনো কথা

যদি চায়ের কাপেতে জমে নীরবতা

যদি মিথ্যে মনে হয় সব পুরোনো কথা

যদি চায়ের কাপেতে জমে নীরবতা

তবে বুঝে নিও চাঁদের আলো কত নিরুপায়

বহু আড্ডার মাঝেই বারবিকিউ পার্টি শেষ হলে সকলে পা বাড়ায় কক্ষে যাওয়ার জন্য। একে একে যখন সকলে সিড়ি ভেঙে নিচে নামচে। তখনই আবির তার প্রেয়সীর ওড়না পাকড়ে ধরে। হতচকিয়ে উঠে তৃনা।

তৃনা পিছন ফেরে, ইশারায় শুধায় তার বিজ্ঞানী মশাইকে। কি হয়েছে?

আবির কোনো কথার জবাব না দিয়ে ধীরে ধীরে তৃনার নিকট আসে। প্রেয়সীর গালে আলতো করে হাত রেখে অধর ছুয়ে দেয় তার পুতুলের ললাটে।প্রেয়সীর চোখে চোখ রেখে বলে ওঠে,

❝তুমি আমার জীবনের প্রেমোনদী। আমার চিত্তচেতনায় যে তুমি। তোমাতে বিনা আমি অপূর্ন।আমার প্রতিটি সকাল হোক তোমার নামে। পৃথিবীর সকল সুখ হোক তোমার নামে,শুভ রাত্রী পুতুল। ❞

আবিরের পুতুল হেসে উঠে। আবিরের গাল টেনে বলে আপনাকেও শুভ রাত্রি বিজ্ঞানী মশাই।

সকালের নাস্তা করছে সবাই। খাওয়া শেষে প্লান হলো বরিশাল ৩০ গোডাউন ঘুরতে যাওয়া। সবাই তড়িখড়ি করে বের হলো বাসা থেকে। গাড়ি চলতে শুরু করলো তার আপন গতিতে। ১ঘন্টার মধ্যে তারা পৌছল ৩০ গোডাউন। বরিশাল শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এর বিপরীত এবং কীর্তণখোলা নদীর পাড়ে ৩০ গোডাউনের অবস্থান । গাড়ি থেকে নামলো সবাই।

সবার উদ্দেশ্যে মেহের বলে উঠল, এই জায়গা কত সুন্দর দেখেছ। এটা রিভার ভিউ পার্ক আর এখানে একটা মুক্তিযুদ্ধ সৃতি স্তম্ভ আছে । এই জায়গাটার অনেক নাম ডাক আছে। জানেন আবির ভাই এখানে শুটিং ও হয় ।আর ওই যে দেখতেছেন নৌকা। এতে চড়াও যায়।

আবিরের খুব ভালো লাগছে৷ তার পুতুলের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো চল সবাই নৌকায় চড়ি পুতুল। তৃনা হেসে জবাব দিলো চলুন।

তৃনা গিয়ে নৌকায় থাকা মামাকে শুধালো মামা ঘন্টায় নেন কত। মামা চেচানোর সুরে বলল তোমাগো লইজ্ঞা কমাইয়া লোমুয়ানে,আইয়া পড়, ৬০০ টাহা দিও।মেহের যেনো দর কষাকষি শুরু করলো, আরে মামা কোন কি, ৫০০ টাহা না ভাড়া, ৫০০ এই রাগবা আনে। সবাই মেহেরের বরিশালের ভাষার দর কষাকষি দেখে খিল খিল করে হেসে উঠল। সমঝোতা হয়ে ভাড়া ধরলো মাঝি ৫৫০ টাকা।

সবাই উঠে বসলো, নৌকোর পাটাতনে।

শুরু হলো নদী বিলাশের পালা।

আপনার মতামত শেয়ার করুন!

গল্পটি কেমন লাগলো? আপনার চিন্তা, অনুভূতি বা প্রশ্ন নিচে জানান। লেখক আপনার মতামতের অপেক্ষায় আছেন!