বিকালের দিকে রাওনাফ রোশনি আমার মেহেনূর শহর দেখবে বলে বেড়িয়েছে।যাওয়ার সময় অর্ককেও এক প্রকার জোর করেই নিয়ে আসা হয়েছে।অর্ক কিছুতেই আসতে চাইছিল না। কিন্তু রোশনি কি আর কম চালাক মেয়ে।দুপুরের ওইটুকু সময়ের মধ্যে ঠিক বুঝে গেছে মায়ের একদম বাধ্য ছেলে অর্ক।রোশনি অর্ককে যখন ফোনে বললো ওদের সাথে যাওয়ার জন্য তখন অর্ক কাজের বাহানা দিয়ে না করে দেয়।তখন আয়েশা বেগমকে দিয়ে অর্ককে বাধ্য করেছে ওদের সাথে বেরুনোর জন্য।
অর্ক ড্রাইভ করছে আর বার বার লুকিং গ্লাসের দিকে তাকাচ্ছে।পিছনে বসে থাকা রাওনাফ আর রোশনির মধ্যে চলা প্রেমালাপ ওর কানে আসছে।অর্কের কেন যেন বেশ আনইজি লাগছে।অর্কের পাশে বসে আছে মেহেনূর।কানে হেডফোন গুঁজে সিটে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে।অর্ক মেহেনূরের দিকে বিরক্তির চোখে বার বার তাকাচ্ছে।এখন ওর খুব বোরিং লাগছে।রাওনাফ রোশনি নিজেদের মতো প্রেম করছে।আর মেহেনূর কানে হেডফোন গুঁজে কে জানে কি করছে?হয়তো গানই শুনছে!মেহেনূর শান্ত শিষ্ট মেয়ে ঠিক আছে!কিন্তু তার সাথেসাথে ও যে এতটা বোরিংও এটা অর্কের জানা ছিল না।অবশ্য না জানাটাই স্বাভাবিক।ওকে জানার চেষ্টা বা আগ্রহ কোনোটাই অর্কের মধ্যে নেই।তাও একটা মানুষ পানশে মুখে কতক্ষণ বসে থাকতে পারে?এবার নিজেকে সত্যি সত্যি ড্রাইভার মনে হচ্ছে অর্কের।নিজের কাজ ফেলে রেখে এসে এইভাবে বোরিং হওয়ার কোনো মানেই হয় না।চোয়াল শক্ত হয়ে আসে অর্কের।গাড়ির ব্রেক কষার সাথে সাথে চমকে উঠল পিছনের সিটে বসে থাকা রাওনাফ আর রোশনি।চোখ খুলে হুড়মুড় করে উঠে বসে মেহেনূরও।রাওনাফ লুকিং গ্লাসের দিকে তাকাতেই দেখে অর্ক ওর দিকেই চোখ মুখ শক্ত করে তাকিয়ে আছে।অর্কের রাগের কারণ বুঝতে সক্ষম হয় রাওনাফ।চোখ সড়িয়ে বাহিরের দিকে তাকিয়ে দেখে অদূরেই চিরপরিচিত লেকের দেখা পেল।রাওনাফের দৃষ্টি ফিরে গাড়ির দরজা লাগানোর শব্দে।অর্ক গাড়ি থেকে নেমে ওর রাগটা বোধহয় দরজাটার উপরই ঝাড়লো।বিস্মিত হয়ে তাকিয়ে আছে মেহেনূর।অর্ক যে রাগী এটা ও জানে কিন্তু এখন আকস্মিক এই রাগের কারণ বুঝতে পারছে না।রোশনি বিস্মিত হয়ে বললো,
– অর্কের কি হয়েছে?
রাওনাফ মুচকি হেসে বললো,
– একটি সুদর্শন যুবককে ড্রাইভার বানিয়ে দিয়ে আবার জিজ্ঞাস করছো “ওর কি হয়েছে?”
রাওনাফের কথা মানে বুঝতে না পেরে রোশনি ভ্রু কুঁচকে তাকায়।রাওনাফ গলায় স্বর উঁচু করে বললো,
– হয়তো একটু বেশিই বোরিং হচ্ছিলো।তাই হয়তো চলে গেছে!
রোশনি কপাল প্রশস্ত করে অস্পষ্ট স্বরে বললো,
– ওহ!
মেহেনূর গাড়ি থেকে নেমে লেকের দিকে এগোলো।রোশনি আর রাওনাফও গাড়ি থেকে নেমে মেহেনূরের পিছন পিছন যাচ্ছে।কিছুটা পথ যেতেই অদূরে অর্কের দেখা পেলো মেহেনূর।মুখে স্মিথ হাসি ফুটে উঠে।হাসির কারণটা হয়তো অর্কের রাগের বাহার দেখে!লেকের পাড় ঘেঁষে পেতে রাখা বেঞ্চটাতে বসে লেকের পানিতে আপন মনে ঢিল ছুড়ছে অর্ক।গলা খাঁকারির শব্দ শুনতেই হালকা নড়েচড়ে উঠলো অর্ক তবে চমকায় নি।আরেকবার গলা খাঁকারির শব্দে মাথা ঘুরিয়ে পাশ ফিরে এক পলক তাকিয়ে ফের নিজের কাজে ব্যস্ত অর্ক।রোশনি এসেছে!বেঞ্চের অবশিষ্ট জায়গাটা দখল করে নিলো।অর্কের হাত থেকে এক টুকরো পাথর নিয়ে রোশনিও ঢিল ছুড়লো লেকের পানিতে।আরেকটা পাথর নিতে নিতে শীতল কন্ঠে বললো,
– সেদিন তোমার দেখাটাই শেষ দেখা ছিল না অর্ক!
অর্ক বিস্ফোরিত চোখে রোশনির দিকে তাকায়।রোশনির হাতে থাকা পাথরটা লেকের পানিতে বিলীন করে দিয়ে ক্ষুদ্র একটা শ্বাস ছাড়ে।অর্কের প্রশ্নসূচক দৃষ্টি দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো,
– পনেরো বছর আগে,সবে টিনএজ এ পা দিলে তোমরা।তখন চোখে রঙিন চশমা!কলেজ লাইফে দুজনেই জীবনের প্রথম প্রেমে পরলে তাও আবার একই মেয়ের!দুজনের কেউই জানতে না তোমাদের ভালোবাসার মানু….না ভালোবাসার মানুষ বলে ভালোবাসাটাকে আর ছোট করতে চাই না!যদিও তোমরা তখনো ভালোবাসার আসল সঙ্গাটাই বুঝতে শিখো নি!ওই যে বললাম টিনএজ!চোখ তখন চাকচিক্যময় সামগ্রীতে ঠাঁসা!যাইহোক বাদ দাও।তো কি যেন বলছিলাম?ও হ্যাঁ মনে পরেছে।দুজনের কেউই জানতে না তোমাদের পছন্দের মানুষটি একজনই।শুধু জানতে রাওনাফ কারোর প্রেমে পরেছে আর রাওনাফ জানতো তুমি কারোর প্রেমে পরেছো।দুজনের কেউই কাউকে সেই ব্যাক্তির নাম বা পরিচয় বলো নি।ভালোবাসার দিবস হিসেবে বরাদ্দ দিনটাকেই বেচে নিলে তোমরা।বলেছিলে ওইদিনই একজন আরেক জনের সাথে তোমাদের প্রিয় মানুষটিকে পরিচয় করিয়ে দেবে।বহুল প্রতিক্ষিত দিনটি যেদিন এলো সেদিন দুজনেই বাসা থেকে বের হলে একই সময়ে একই সাজে, সাদা পাঞ্জাবীতে!তবে দুজন চলে গেলে দুই রাস্তায়।রাওনাফ ওর প্রেমিকাকে নিয়ে…..
এতটুকু বলেই থেমে যায় রোশনি।চারপাশে চোখ বুলিয়ে বললো,
– আ’ম নট শিওর!বাট রাওনাফের মুখে বর্ণনা শোনে যা মনে হচ্ছে সম্ভবত এই লেকের ধারেই ওইদিন রাওনাফ ওর প্রেমিকাকে নিয়ে এসেছিল?
আবার থামে রোশনি।জিজ্ঞাসুক দৃষ্টিতে তাকায় অর্কের দিকে।অর্ক বুঝতে পেরেছে রোশনি ওদের অতীত সম্পর্কে অবগত।তাচ্ছিল্যে হাসে অর্ক।রোশনি উত্তর পেয়ে গেছে।একটু দম টেনে নিয়ে বললো,
– তোমারো এই লেকের ধারেই আসার কথা ছিল।তুমি এসেও ছিলে!কিন্তু যখন তোমাকে বলা হলো,মুনমুনকে রাওনাফ জোড় করে কিস করেছে তখন তুমি ওই মেয়েটার কথা বিশ্বাস করলে আর প্রথম বারের মতো নিজের প্রানপ্রিয় বন্ধুর গায়ে হাত তুললে!রাওনাফের বলতে চাওয়া কথাগুলো শুনতেই চাও নি!তোমাকে ভুল বোঝানো হলো আর তুমি ভুলই বুঝলে?ওকে ভুল বুঝে চলে গেলে?বরাবরের জন্য!
অর্ক আরো একবার বিস্ফোরিত চোখে তাকায় রোশনির দিকে।ভুল?কি ভুল ছিল?মুনমুন যেটা বলেছিল সেটা?নাকি যেটা ও নিজের চোখে দেখেছিল সেটা?অর্ক উৎকন্ঠিত স্বরে বললো,
– কোনটা ভুল ছিল?যেটা আমি…..
– দুইটাই!
অর্ককে বলতে না দিয়ে রোশনি বললো।অর্ক হতভম্ব হয়ে শুধু তাকিয়ে রইলো।রোশনি আবার বললো,
– ওইদিন রাওনাফ কোনোভাবে জানতে পেরে গিয়েছিল শুধু ও না তুমিও মুনমুনকেই পছন্দ করো।আর এটাও জেনে গিয়েছিল মুনমুন একসাথে তোমাদের তুই বন্ধু সাথেই গেইম খেলছে।বন্ধুদের সাথে বাজি ধরে এই খেলায় মেতে উঠেছিল ও।কিন্তু অভিনয় করতে করতে মুনমুন সত্যি সত্যি রাওনাফকে ভালোবেসে ফেলে।তোমার ভালোবাসার মানুষটিকে ছিনিয়ে নেওয়ার মতো দুঃসাহস রাওনাফ কখনোই দেখাতে পারতো না।তাই মুনমুনের এই নোংরা খেলার সমাপ্তি ঘটাতে ওকে বলেছিল তোমার কাছে ফিরে যেতে।কিন্তু মুনমুনকে কিছুতেই রাজি করাতে পারলো না।মুনমুন রাওনাফকে জড়িয়ে ধরে অনেক কান্নাকাটি করে।কিন্ত তাঁতেও রাওরাফের মন নরম হলো না।রাওনাফ চলে আসতে নিলেই মুনমুন হঠাৎ করেই আর্তনাদ করে উঠে।রাওনাফ ব্যাতিব্যস্ত হয়ে ওর কাছে গিয়ে জানতে চাইলো হয়ে কি হয়েছে?তখন মুনমুন উতলা হয়ে বলল ওর চোখে কিছু একটা পরেছে।ব্যাস!পরমুহূর্তেই তোমার আগমন ঘটে।কিন্তু ওই দিন তোমার দেখা বা মুনমুনের বলা কোনোটাই সত্যি ছিল না!তুমি ওখান থেকে চলে যাওয়ার পর মুনমুন রাওনাফকে বলেছিল,
– আমার প্ল্যান সাকসেসফুল হয়েছে রাওনাফ!অর্ক আমাদের পথের কাঁটা ছিল না?তুমি ওর জন্যই আমাকে অস্বীকার করছিলে না?নাও এখন রাস্তা ক্লিয়ার।তোমার আর আমার মাঝখানে ও আর জীবনেও আসবে না!এবার আমায় স্বীকার করো।
সপাটে চড় পরলো মুনমুনের গালে।মুনমুন গালে হাত দিয়ে অশ্রুসিক্ত নয়নে তাকিয়ে আছে রাওনাফের দিকে।রাওনাফের চোখ দিয়ে যেন আগুন ঝড়ছে।চোখের দৃষ্টি দিয়েই যেনো ওকে ভস্ম করে দেবে। চোয়াল শক্ত করে কঠোর গলায় বললো,
– তোর সাহস কি করে হয় এটা বলার?এতকিছুর পরেও আমি তোকে স্বীকার করে নেবো?তুই ভাবলি কি করে যে,তুই একটা মিথ্যাবাদী বিশ্বাসঘাতক ছলনাময়ী এটা জানার পরেও আমি তোকে মেনে নেবো?তাও আমি শুধু অর্কের জন্যই চুপ ছিলাম!কিন্তু তোর এই নোংরা মানসিকতার পরিচয়ের পরে তো আমিই তোকে ওর জীবনে ফিরে যেতে দেবে না।তুই তো আমার বা ওর কারো জীবনেই স্থান পাবি না।মাঝখানে আমাকে কলঙ্কিত করে দিলি?ওর চোখে আমাকে দোষী বানিয়ে দিলি?এই বুঝি তোর আমার প্রতি ভালোবাসা ছিল?তোর ভাষায় এটাকেই বুঝি ভালোবাসা বলে?তুই যদি আমাকে সত্যিই ভালোবাসতি তাহলে তো তুই চাইলে সত্যিটা অর্ককেই বলে দিতে পারতি।আমি যেমন সরে আসতে চেয়েছি?ঠিক তেমনি অর্কও সরে যেতো কোনো বাক্য ছাড়াই!
মুনমুনের অন্যগালেও থাপ্পড় পড়ে রাওনাফের।কিন্তু আশ্চর্য!মুনমুনের মধ্যে কোনো পরিবর্তন দেখা গেল না।কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে তাচ্ছিল্যের সুরে বলে উঠে,
– এই বুঝি তোমাদের একে অপরের প্রতি ভালোবাসার অন্ধবিশ্বাস?এই বন্ধুর জন্য তুমি আমায় গ্রহণ করতে পারছো না?যে বন্ধ কদিনের পরিচিত একটা মেয়ের কথা বিশ্বাস করে এত দিনের বন্ধুত্ব ছিন্ন করে চলে যাতে পারে সে আর যাইহোক কখনো পরমবন্ধু হতে পারে না!
রাওনাফ নিরুত্তর ছিল।মুনমুনের কথার প্রত্যুত্তর করার মতো কোনো শব্দই ও খুঁজে পেলো না।তোমাদের নিজেদের মধ্যকার ভুল বুঝাবুঝির কেন্দ্র বিন্দুতে থাকা সেই নোংরা ঘটনার কথা কিভাবে বলতো সবাইকে?কাউকে মুখ ফুটে কিচ্ছু বলতে পারে নি।হয়তো বুকের চাপা কষ্টটা বুকে চাপা দিয়েই সহ্য করে নিয়েছিল!নিজের শরীরে সূর্যের আলোটা অব্দি পড়তে দেয় নি।নিজেকে সম্পূর্ণ ঘরবন্ধি করে নেয় যতদিন না কানাডার ভিসা পাচ্ছে ততদিন!বাবা মা ওর এমন ব্যবহারের কারণ জানতে চাইলে বলতো, বিদেশের মাটিতে পড়াশোনার ভিত্তিটা শক্ত করে নিচ্ছে!অবশেষে ও সব ছেড়ে চলে গিয়েছিল ওই অচেনা শহরে।মেহেনূরের বয়স তখন আর কত ছয় কি সাত।ভাইকে ছাড়া থাকতে পারে না বলে ওকেও সাথে করে নিয়ে যায় রাওনাফ।এতবছরে একটা বারের জন্যও দেশে আসতে চায় নি!যখন বাবা মায়ের জন্য মন বেশি উতলা হয়ে উঠতো তখন উনাদেরকেই নিয়ে যেতো কানাডায়।মেহেনূর মাঝে মাঝে আসে।তবে ভাইয়ের এই বিষাদের শহরে ওরো মন বিষিয়ে যায়!ওরো নাকি এই শহরের মানুষদের বড্ড বেশি স্বার্থপর মনে হয়।যে শহরে ওর ভাইকে বুঝার মতো শেষ মানুষটিও অবশিষ্ট রইলো না সেই শহরে ফিরতে ওউ বিমুখী।তবে এবার কিন্তু রাওনাফ আমার প্রেমে পড়ে নি!আমি পড়েছি বারংবার!
একনাগাড়ে কথাগুলো বলে থামলো রোশনি।অর্কের দিকে করুন চোখে তাকায়।অর্কের চোখ থেকে বিরামহীন অশ্রু ধারা গড়িয়ে পড়ছে।রোশনি বুঝতে পারছে ওর অগোচরে থাকা অনেক বড় একটা সত্যের মুখোমুখি হয়েছে অর্ক।নিজেকে সামলানোর জন্য ওর একটু সময় প্রয়োজন!ক্ষুদ্র একটা শ্বাস ফেলে উঠে দাঁড়ায় রোশনি।
– কলঙ্ক তো আমি করেছি।
কদম ফেলতে গিয়ে থেমে যায় রোশনি।ফিরে অর্কের দিকে।অর্ক তাচ্ছিল্যে হেসে বললো,
– কলঙ্ক করেছি আমি,দোষী আমি!অথচ শাস্তি পেলো ও।
অর্ক একটু থেমে হতাশার সুর টেনে বললো,
– আমিও পুড়েছি এতগুলো বছর,প্রতিমুহূর্তে।কিন্তু ওইদিনের ঘটনার কথা মনে পড়তেই জন্মানো অনুভূতি গুলো ঘৃণায় পরিনত হতো।অথচ সেই ঘৃণ্য বর্বরোচিত ব্যক্তিটি ছিলাম আমিই!
শেষ কথাটা বলতে বলতে চোয়াল শক্ত হয়ে আসে অর্কের।রক্তিম দৃষ্টি দিয়ে রাওনাফকে আবিষ্কার করলো ঠিক ওর অপজিটে একটু দূরে।রোশনি কিছু বুঝে উঠার আগেই হনহনিয়ে চলে গেল অর্ক।এক পলক অর্কের দিকে তাকিয়ে রোশনি আবার বেঞ্চে বসে পড়ে।আপন মনে অর্কের করা কাজের রিপিট করতে লাগলো।বিষয়টা বেশ ভালোই লাগছে ওর কাছে।রোশনির টনক নড়ে পানিতে কিছু পড়ে যাওয়ার শব্দে।

চলবে…

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।