নারীর সৌন্দর্য থাকা যেন কোন পা*প। যেমনটা ফুলের থাকে। ফুলের অতিরিক্ত সৌন্দর্য আকর্ষণ করে মানবকে। কিন্ত তারা আকর্ষিত হলেও ফুলকে হৃদয়ে স্থান দিতে পারে না। যতক্ষণ ফুলটা সতেজ থাকে ততক্ষণ এটা হাতে শোভা পায় কিন্ত যখন ফুলের সতেজতা শেষ হয়ে যায় তখন তার স্থান হয় চরণ তলে। মেয়েদের সৌন্দর্যের পরিণতি টাও ঠিক পরিষ্ফুটিত পুষ্পের ন্যায়। সব পুরুষ সৌন্দর্য তেই বেশি আটকায়। মনটা সবাই দেখতে চায় না। আর না মায়ায় জড়ায়।
নাঈম সেই মায়ায় বোধহয় জড়াতে পারেনি। কারণ না দেখে কোন মেয়ের মায়ায় জড়ানো যায় কি না তা নাঈমের জানা নেই। আগে এই পরীকে স্বচোখে দেখার তীব্র আকাঙ্খা ছিল তার। কতই না ফন্দি এটেছিল সে। কিন্ত আজ সেই পরী তারই ঘরে অবস্থান করছে কিন্ত তার ইচ্ছা করছে না পরীর সামনে গিয়ে দাঁড়াতে। কারণ টা কি পরীর সৌন্দর্য? নাঈমের কেন জানি অস্বস্তিকর লাগছে সবকিছু। হাসপাতালেও পরীর পরীর সামনে সে যায়নি বাসায় আনার সময় ও থাকেনি। মোট কথা সে কিছুতেই পরীর সামনে যাবে না। অদৃশ্য এক দেওয়াল তাকে বাঁধা দিচ্ছে পরীর কাছে যেতে। তাই এই মুহূর্তে সে নিজ ঘরে অবস্থান করছে। একটা বুয়া রেখেছে সবসময় পরীকে দেখাশোনা করার জন্য।

নিজ ঘরে বসে ছটফট করছে পরী। শায়েরের জন্য তার চিন্তা হচ্ছে। নূরনগর গেলে আফতাব যদি শায়েরের কোন ক্ষতি করে দেয়? আফতাব তো চেয়েছিল শায়ের কে হ*ত্যা করতে। একথা ভেবে পরী অস্বস্তি অনুভব করছে।
বুয়া ঘরে আসতেই পাতলা কাপড় দিয়ে মুখটা আড়াল করে সে। তার বিভৎস চেহারা দেখলে এখন যে কেউ ভয় পাবে তাই এই চেহারা আড়াল করাই শ্রেয়। বুয়া পরীর এইরকম অবস্থা দেখে বলে,’কি হইছে আপা? আপনের কিছু লাগব?’

পরী বিড়বিড় করে বলতে লাগল,’আমি থাকব না এখানে। আমি নূরনগর যাব। মালি সাহেব কে বাঁচাতে হবে।’
বুয়া দ্রুত পদে গিয়ে খবরটা নাঈম কে জানাতেই সে ছুটে এল। নাঈম পরীর মুখোমুখি দাঁড়াতে সংকচ বোধ করছে তাই অন্যদিকে ফিরে দাঁড়াল বলল,’কেন এত উত্তেজিত হচ্ছেন পরী? আপনার শরীর এখন ভাল নয়।’

-‘আমি থাকব না এখানে। আমাকে যেতে হবে। ওনার খুব বিপদ।’
পরীর মুখে উনি শব্দ টা বেশ লাগল নাঈমের। সে হাসল,’কিছু হবে না। শায়ের খুব তাড়াতাড়ি চলে আসবে। আপনি কথা কম বলুন। নাহলে আপনারই ক্ষতি হবে।’

মৃদু চিৎকার করে পরী,’নাহ!! আমাকে যেতেই হবে। নাহলে আব্বা খুব বড় ক্ষতি করে দেবে ওনার। আপনি দয়া করে আমাকে নূরনগর নিয়ে চলুন।’

-‘পরী আপনি হয়ত ভুলে গেছেন এখন আপনি একা নন। আপনার শরীরে আরেকটি অস্তিত্ব আছে। তার দায়িত্ব শায়ের আমাকে দিয়ে গেছেন। আমাকে সেই দায়িত্ব পালন করতে হবে।’

-‘আপনি কি আমার স্বামী? তাহলে আপনি কেন আমার দায়িত্ব নিচ্ছেন? আমি আপনাকে আমার দায়িত্ব নিতে দেব না। আমাকে ফিরে যেতে দিন।’

নাঈম অপমানিত বোধ করল পরীর কথায়। কিন্ত পরী কথাটা তো ঠিকই বলেছে। সে তো পরীর স্বামী নয়। তাহলে এত দায়িত্ব সে কেন নিচ্ছে? শায়েরের কথায়? শায়ের তো ওর কেউ হয় না। তাহলে শায়েরের কথা শোনার কোন মানেই হয় না। নাঈম বলে উঠল,’আচ্ছা ঠিক আছে আমি নেব না আপনার দায়িত্ব। তবে আপনি এখন কোথাও যেতে পারবেন না। দরকার পড়লে আমি নিজে গিয়ে শায়ের কে নিয়ে আসব। কথা দিলাম শায়েরের কোন ক্ষতি আমি হতে দিব না।’

চাপা রাগ নিয়ে চলে গেল নাঈম। পরী খাটের উপর বসে পড়ল। শায়ের কে যাওয়ার সময় কেন বাঁধা দিল না! নাহলে এতোটা চিন্তা হতো না। আফতাব আখির ভ*য়া*নক। ওরা যেকোন সময় শায়ের কে হ*ত্যা করতে পারে। সারা শরীরে ব্যথা করছে কিন্ত মনের ব্যথাটা আরও তীব্র। নাঈম কি সত্যিই শায়ের কে আনতে গিয়েছে? পরী মুখটা ভাল করে ঢেকে আস্তে ধীরে ঘর থেকে বের হলো। বুয়াকে জিজ্ঞেস করতেই সে জানায় নাঈম নূরনগরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে গেছে।

শায়ের মাত্র জমিদার বাড়িতে পা রাখল। এদিক সেদিক তাকাতে তাকাতে বৈঠকে ঢোকে সে। আখির শায়ের কে দেখে চমকে গেল এবং প্রচন্ড রেগে গেল। সে শায়ের কে রাগন্বিত হয়ে বলে,’নবাবজাদা এসে গেছেন। ভাই আমি আগেই বলেছিলাম কুকুর কে মাথায় তুলবেন না। দেখছেন এখন হলো কি? এই কুকুরের বাচ্চা কুকুর আমাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে।’

আখিরের কথায় শায়ের জবাব দিল না। সে এগিয়ে গেল আফতাবের কাছে। তারপর বলে,’অন্দরের সবাই ঠিক আছে তো? নাকি তাদের উপর অত্যাচার করেছেন আবারও?’

-‘পরীকে তুমি কোথায় লুকিয়ে রেখেছো?’
-‘পরীজান আমার কাছেই আছে। এতে লুকানোর কি আছে?’
-‘তুমি আর পরী মিলে সিরাজ কে মেরেছো তাই না?
এখন তোমাকে কি করা উচিত?’
-‘সিরাজ যদি বেঁচে থাকতো তাহলে ওকে নিঃসন্দেহে
ভ*য়ংক*র মৃ*ত্যু দিতাম আমি। কিন্ত সে তার আগেই ম*রে গেছে।’

-‘তুমি বিশ্বাস ঘাতক শায়ের। আর বিশ্বাস ঘাতকের মৃ*ত্যুই শ্রেয়।’
শায়ের শব্দ করে হেসে উঠল,’ঠিক আপনাদের মতো।আপনারা যেমন স্বার্থ হাসিল হওয়ার পর বিশ্বাস ঘাতকতা করেন তেমনি আমিও করলাম। পরীজান কে আপনাদের থেকে অনেক দূরে নিয়ে গেছি আমি। চাইলেও আর খুঁজে পাবেন না তাকে। আমি শেষ বারের মত বলছি এইসব র*ক্তা*র*ক্তির ইতি টানুন।
আমাকে আমার মতো করে থাকতে দিন।’

-‘কি ভেবেছ তুমি এত কিছুর পরও পরীকে ছেড়ে দেব আমরা?’

-‘আপনার মত পিতা হাজারে একটা হয় জমিদার সাহেব। আর আপনি পিতা নামের ক*ল*ঙ্ক।’

শায়ের অন্দরে চলে গেল। আফতাব রাগে গজগজ করতে করতে বললেন,’শায়ের যেন জীবন্ত বের হতে না পারে। সেই ব্যবস্থা কর আখির।’

বারান্দায় উদাস হয়ে বসে আছে রুপালি। সেদিনের পর থেকে পিকুল আর জুম্মানের কোন খবর নেই। রুপালি চেয়েও পারেনি ওদের সাথে যোগাযোগ করতে। পরী শায়ের কে বিদায় জানিয়ে ওই রাতেই ফিরে আসে রুপালি। তার কিছুক্ষণ বাদে আফতাব তার দলসহ হাজির হয় অন্দরে। রুপালিকে জিজ্ঞেস করে পরী কোথায়? রুপালি চতুরতার সাথে নিজেকে আড়াল করে। এমন ভাব করে যেন সে কিছুই জানে না। সবাই সারা অন্দর খুঁজে কোথাও শায়ের পরীকে পায় না। রুপালিকে তেমন সন্দেহ কেউ করে না। কারণ সবাই তাকে ভিতু মনে করে।
তারপর থেকে পিকুলের জন্য ওর মন আকুপাকু করে। ওইটুকু ছেলেকে নিয়ে কোথায় গেছে জুম্মান কেমন আছে কে জানে?
শায়ের কে অন্দরে দেখে খুশিতে দৌড়ে গেল সে। পরীর জন্যও ভিশন চিন্তিত সে। তাই শায়ের কে দেখা মাত্রই জিজ্ঞেস করে,’পরী কেমন আছে? ও সুস্থ আছে তো? ভাল আছে পরী?’

-‘হ্যা ভাল আছে। আপনারা কি ঠিক আছেন? আপনার বাবা কি কোন প্রকার জুলুম করেছে আপনাদের উপর?’
-‘নাহ। আব্বা জানে এর পিছনে শুধু পরীর হাত রয়েছে কিন্ত সে এটা জানে না আমিও আছি।’

-‘আপনার বাবা যেন জানতে না পারে। সাবধান থাকবেন।’
-‘কিন্তু শায়ের আমার পিকুল? কতদিন ধরে ওকে দেখি না।’
রুপালির চোখে জল দেখা দিল ছেলের কথা আনতেই। শায়ের বলল,’চিন্তা করবেন না আপনার ছেলে ভাল আছে। আপনি চিঠি লিখে দেন আমি পৌঁছে দেব।’

জেসমিন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। মালার সাথে সে উঠোনে আসতেই শায়ের কে দেখতে পেল। দুজনেই ছুটে গেল শায়েরের কাছে। মালা কেঁদে কেঁদে জিজ্ঞেস করে,’আমার মাইয়াডা কেমন আছে শায়ের?’
-‘ভাল আছে।’
-‘ওরে তুমি আর এইহানে আইতে দিও না। তাইলে ওর বাপে ওরে বাঁচতে দিব না। তুমি ওরে তোমার কাছেই রাইখা দিও।’

জেসমিন বললেন,’আমার একটা কথা রাখো শায়ের। জুম্মান রে ও কোনদিন জমিদার বাড়িতে আইনো না। ওরে ভুইলা যাইতে কইবা ও একজন জমিদারদের পোলা। ওরে সব ভুলাইয়া দিবা তুমি।’

শায়ের কথা বলে না। এত কিছুর পরেও পরীর মত ওনারা শায়ের কে চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করছে। শায়ের আশ্চর্য হয়ে সবার দিকে তাকিয়ে আছে। রুপালি নিজ ঘর থেকে বের হয়ে এলো হাতে তার একটা কাপড়ের ব্যাগ। সেটা শায়েরের হাতে দিয়ে বলে,’এতে আমার সমস্ত গয়না আছে। এগুলো দিয়ে ওরা অনেক দিন ভাল ভাবে চলতে পারবে।’

শায়ের বিনয়ের সুরে বলে,’আপনিও চলুন আমার সাথে। আপনাকে আপনার ছেলের কাছে রেখে আসব। মা ছাড়া অতটুকু বাচ্চা থাকবে কীভাবে?’

রুপালি সাথে সাথেই রাজী হয়ে গেল। মালাও তাতে সায় দিলেন এবং তার সব গয়না শায়েরের হাতে তুলে দিলেন। ছেলের ভালোর জন্য জেসমিন ও নিজের জমানো সবকিছু দিয়ে দিলেন। শায়ের মনে মনে হাসল। সুখে থাকার জন্য অর্থের প্রয়োজন তা আজ আবারও প্রমাণ হয়ে গেল। ওর কাছে এখন যত গয়না আছে তা দিয়ে জুম্মান সারাজীবন ভাল ভাবে কাটাতে পারবে। রুপালির ছেলেও ভাল ভাবে বড় হতে পারবে।
রুপালি নিজের ব্যাগ পত্র গুছিয়ে নিল শায়েরের সাথে যাবে বলে। বৈঠকে আসতেই আফতাবের লোকেরা ওদের আটকে দিল। আফতাব বললেন, ‘তোমাকে আর বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব নয় শায়ের। অনেক করেছো তুমি আমাদের জন্য এবার নাহয় তোমার জন্য আমরা কিছু করি।’

আফতাব ইশারা করে শায়ের কে বেঁধে ফেলার জন্য। শায়ের সবাইকে থামিয়ে বলে,’আচ্ছা মানলাম আজকে আপনারা আমাকে মেরে ফেললেন। তারপর কি হবে? আপনাদের সব সত্য সবার সামনে চলে আসবে। সেই ব্যবস্থা তো আমি করেই রেখেছি। জমিদার এবং তার ভাই অর্থের জোরে ছাড়া পেয়ে যাবে। কিন্ত বাকি সবাই? আপনাদের কি হবে? আর জমিদার আফতাব কতটা স্বার্থ পাগল সেটা তো কারো অজানা নয় তাই না?’
শায়েরের কথায় সব রক্ষিরা থেমে গেল। সবার মাঝেই ভয় দেখা দিলো। এটা সত্য যে আফতাব স্বার্থ পাগল। সেটা সবাই জানে। কারণ যে রক্ষিরা পরীর কাছে পরাজিত হয়েছিল, যাদের পরী বাগান বাড়িতে বেঁধে রেখেছিল তাদের আফতাব হ*ত্যা করেছে। এখন বাকিদের মধ্যে কেউ ভুল করলে তাদের পরিণাম ও ওদের মতোই হবে। হিং*স্র পশুদের মিত্ররাও তাদের অবিশ্বাস করে। আফতাবের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। কোন রক্ষিরা শায়েরের কাছে আসতে সাহস পেল না। সবাই আফতাবের দিকে তাকিয়ে রইল। আফতাব নিজেও কোন কথা বলছে না। শায়ের বলল,’অন্দরের কোন মহিলার উপর যেন ফুলের টোকাও না পড়ে।’
এক প্রকার শাসিয়ে গেল সে। রুপালিকে সাথে নিয়ে শায়ের জমিদার বাড়ি ত্যাগ করে। গায়ের মেঠো পথ ধরে হাঁটতে থাকে দুজনে। পথেই নাঈমের সাথে দেখা হয় ওদের। শায়ের বিচলিত হয়ে বলে,’আপনি এখানে?’
-‘কি করব বলুন? আপনার স্ত্রী আপনার জন্য পাগল হয়ে গেছে। আমাকে সে বিশ্বাস করছে না। তাই আপনাকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে আসলাম।’

-‘পরীজান এখন একা আছে? আপনি শুধু শুধু কেন আসতে গেলেন?’
-‘আপনার স্ত্রী নিজেই চলে আসতো আপনার কাছে। তাকে আটকাতেই আমার আসা। ভালোই হলো আপনাকে পেয়ে গেলাম। চলুন যাওয়া যাক?’

-‘আমাকে আগে নবীনগর যেতে হবে। আপনি ফিরে যান আমি রাতের মধ্যেই চলে আসব।’
-‘আপনাকে সঙ্গে করে না নিয়ে গেলে আপনার স্ত্রী আমাকে ছাড়বে না। চলুন আমিও আপনার সাথে যাব।’

শায়ের আর দ্বিমত করে না। নাঈম কে সাথে নিয়েই নবীনগর যায়। সেখানে জুম্মান পিকুল কে নিয়ে খুসিনার কাছে ছিল। ছেলেকে কাছে পেয়ে তখনি তাকে বুকে জড়িয়ে নিল রুপালি। অজস্র চুমুতে ভরিয়ে দিল ছেলেকে। পিকুল যে ওর প্রাণ। এই প্রাণকে বাঁচাতে সে সবকিছুই করতে পারে। শায়ের খুসিনার হাতে তুলে দিল রুপালি আর জুম্মান কে। সাথে ওর সব গয়না গুলো দিয়ে দিল। কিন্ত রুপালি কিছু গয়না শায়ের কে দিয়ে বলে,’এগুলো নিয়ে যাও তোমার কাজে লাগবে।’
-‘আমি এসব নেব না। যার জন্য জীবন দিতে আমি সর্বদা প্রস্তুত তার ভাল থাকার জন্য আমি সবকিছু করতে রাজী আছি। এসব আমার লাগবে না। পরীজানের জন্য আমি আছি আর আপনাদের জন্য এই গয়না গুলো। তাই এগুলো আপনার থাক।’

নাঈম কে সঙ্গে করে শহরের উদ্দেশ্যে রওনা হয় শায়ের। নাঈমের মনে হচ্ছে কিছু একটা হয়েছে। নাহলে সবাই এমন আলাদা কেন হচ্ছে? তবে ওর মনে জমে থাকা প্রশ্ন গুলো বাসায় ফিরে গিয়ে করবে বলে ভেবে নিয়েছে। তবে সেই সুযোগ সে পেল না। শায়ের ফিরে গিয়েই পরীর ঘরে চলে গেল। পরী তখনও শায়েরের জন্য ছটফট করছিল। শায়ের কে দেখা মাত্রই তাকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরে। কিন্ত শায়ের আলতো করে ধরে। শরীরে ব্যথা থাকা সত্ত্বেও পরী শান্তি অনুভব করছে এখন।
সে রুঢ় কন্ঠে বলে,’আপনি কেন গেলেন? যদি আপনার কোন ক্ষতি হয়ে যেতো?’

শায়ের জবাব দেয় না পরীর কথায়। পুড়ে যাওয়া মুখটার দিকে তাকিয়ে রইল শুধু। পরী শায়েরের চাহনিতে কোন বিরক্ততা দেখে না। দেখে একরাশ মুগ্ধতা যা সে আগেও দেখেছিল। তবে সে মুখে বলে উঠল,’এখন আর সুন্দর লাগে না আমাকে তাই না? এই ঝলসে যাওয়া মুখটা দেখতে খুবই বিরক্তিকর?’

ঠোঁটে চওড়া হাসি টানে শায়ের,’আপনার ভালোবাসায় আমি বহুবার ঝলসেছি। ছাই হয়ে গিয়েছি তবুও আপনি এই ছাই কে ভালোবেসে বুকে টেনেছেন। তাহলে আমি কেন পারব না? আমি এখনও ঝলসে যাচ্ছি আপনার ভালোবাসাতে। এই জ্বলন বুঝি থামার নয়।’

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।