অঙ্গনে হৃদরঙ্গন
ঋণের দায়ে বিক্রি হয়ে আসা এক অনাথ কিশোরী আর অন্ধকার চোরাবালিতে আটকে থাকা এক বেপরোয়া যুবকের অপ্রত্যাশিত বন্ধন। নির্মম বাস্তবতার কঠোর অনুশাসনে কি একটুখানি শান্তির নীড় খুঁজে পাবে শ্রাবণ, নাকি অতীতের অন্ধকার এসে পুড়িয়ে ছারখার করবে তাদের সাজানো সংসার?
উপন্যাসটির ১ম সিজন সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে (মোট ২০ পর্ব)। পূর্ণাঙ্গ কাহিনীর প্রতিটি পর্ব অনলাইন পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।
গল্পের বিশেষত্ব ও হাইলাইটস
রুক্ষ বাস্তবতা ও অন্তহীন মায়া
সমাজের অন্ধকার অলিগলিতে গড়ে ওঠা অসম পরিস্থিতির ভেতর নিখাদ আত্মিক নির্ভরতার রূপায়ন।
ভালোবাসা ও অনুশোচনার টানাপোড়েন
নিষ্ঠুর আঘাতের ক্ষতচিহ্ন ভুলে দুটি নিঃসঙ্গ প্রাণের একে অপরকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার আকুল প্রয়াস।
হৃদয়বিদারক পরিণতির পূর্ণাঙ্গ আখ্যান
এক তরফা সুখের সন্ধান নয়, জীবনের নির্মম ট্র্যাজেডি ও নিয়তির চরম সত্যের মুখোমুখি হওয়ার এক অবিস্মরণীয় গল্প।
প্রধান চরিত্রসমূহ
4সাদাফ
নায়ক (Male Lead)পরিবারবিচ্ছিন্ন, উদ্ধত ও অন্ধকার জগতের সঙ্গে জড়িয়ে পড়া ছন্নছাড়া যুবক। রুক্ষ কাঠিন্য আর বদমেজাজের অন্তরালে শ্রাবণের প্রতি অতল মায়ায় জড়িয়ে পড়ে।
শ্রাবণী (শ্রাবণ)
নায়িকা (Protagonist)অসহায়, ভাগ্যবঞ্চিতা এক অনাথ তরুণী। কাজের লোভ দেখিয়ে শহরে বিক্রি করে দেওয়া হলেও অসীম ধৈর্য ও সরলতায় সাদাফের শূন্য জীবনে আলোর পরশ আনে।
নুরু মিয়া
খলচরিত্র (Antagonist)ধূর্ত ও অর্থলোভী এক মধ্যস্থতাকারী। সাদাফের কাছে ঋণ পরিশোধের নামে অসহায় মেয়েদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলে।
দিশা
পার্শ্বচরিত্রধনাঢ্য পরিবারের কন্যা। সাদাফের রুক্ষ চেহারার পেছনের মায়াকে ভালোবেসেও সামাজিক বাস্তবতায় অন্যত্র ঘর বাঁধে এবং পারিবারিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়।
সূচিপত্র ও সিজনসমূহ
20 টি অধ্যায়
প্রথম খণ্ড: আঁধারের বুক চিরে আলো
ঋণের জালে জড়িয়ে পড়া অনাথ তরুণী শ্রাবণ ও অন্ধকার জগতের বাসিন্দা সাদাফের অপ্রত্যাশিত মিলন, সম্পর্কের উত্থান-পতন এবং এক মর্মস্পর্শী পরিণতি।
মধ্যরাতের কড়া নাড়া
পাওনা ত্রিশ হাজার টাকার তাগাদায় মাঝরাতে নুরু মিয়ার আস্তানায় হানা দেয় বেপরোয়া সাদাফ। কিন্তু সাতদিনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে হঠাৎ সকালে সাদাফের দরজায় অচেনা এক শ্যামলা যুবতীকে সাথে নিয়ে হাজির হয় নুরু মিয়া। ঋণ মেটানোর এই নোংরা প্রস্তাব সাদাফ কীভাবে গ্রহণ করবে?
অপ্রত্যাশিত আশ্রয়
টাকার বদলে মানুষ বিক্রির জঘন্য ফন্দি দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়ে সাদাফ। প্রতারণার শিকার অনাথ শ্রাবণের অশ্রুসিক্ত মুখ দেখে এক অদ্ভুত সিদ্ধান্তে পৌঁছায় সে। কিন্তু অচেনা এক ছন্নছাড়া পুরুষের আস্তানায় একাকী থাকার পরিণতি কী হতে পারে?
অচেনা ঘরের আলো
ধুলোবালি আর মাকড়সার জালে ঘেরা সাদাফের ঘরটিকে পরম যত্নে পরিচ্ছন্ন করে তোলে শ্রাবণ। নিজের সামান্য জমানো টাকায় রান্নার বাজার করেও সাদাফের কঠোর মেজাজ আর উদাসীনতার মুখোমুখি হতে হয় তাকে। এই রুক্ষ মানুষটার মনে কি কখনো মায়ার ছোঁয়া লাগবে?
দ্বিধাদ্বন্দ্বের দৃষ্টিপাত
জমির মধ্যস্থতার চুক্তি সেরে হায়দার সাহেবের বাড়িতে পা রাখে সাদাফ। বাবার সাথে দেখা করতে গিয়ে তার মুখোমুখি হয় হায়দারের ছোট মেয়ে দিশা। কোনো এক অস্পষ্ট মায়া আর কৌতূহল নিয়ে সাদাফের ব্যক্তিগত জীবনে উঁকি দিতে চায় দিশা। কী রহস্য লুকিয়ে আছে সাদাফের জীবনে?
না-বলা কথার ছায়া
রিকশায় পাশাপাশি বসে দিশা অকপটে প্রকাশ করে ফেলে সাদাফের প্রতি তার অবচেতন দুর্বলতা ও বিয়ের দাওয়াত। ওদিকে গভীর রাতে একা নির্জন ঘরে অচেনা ভয়ের সাথে লড়াই করে সাদাফের ফেরার প্রহর গোনে শ্রাবণ। সাদাফের ঘরের এই রহস্যময় মেয়েটির খবর কি বদলে দেবে দিশার মন?
অন্ধকার রাতের মাতলামি
দেরিতে বাড়ি ফেরা নিয়ে শ্রাবণের আকুল আবদারে সাদাফ সাড়া দিলেও মধ্যরাতে এক চরম আতঙ্ক নেমে আসে। মাতাল অবস্থায় টলমল পায়ে ঘরে ফিরে দরজায় আঘাত হানে সাদাফ। ভয়ে যার নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম, সেই শ্রাবণ কীভাবে সামলাবে এই হিংস্র নেশা?
কঠোর স্বভাবের আড়ালে
বিয়ের কনে হয়েও দিশা সাদাফের সাথে মেহমানদারির সুযোগ পায় না; তীব্র উদাসীনতায় কেবল কাজের কাগজ নিয়েই বেরিয়ে যায় সে। ওদিকে বাড়ি ফিরে অপ্রত্যাশিত উপহার হিসেবে নতুন বিছানার চাদর নিয়ে হাজির হয় সাদাফ। এই সামান্য যত্নের পেছনে কি কোনো লুকানো টান আছে?
উষ্ণ জিলাপির মিষ্টি রেশ
বেতনের টাকায় নিজের জন্য কেনাকাটা করতে গিয়ে মিষ্টির দোকানে জিলাপি দেখে লোভ সামলাতে পারে না শ্রাবণ। কিন্তু ভিড়ের মাঝে সাদাফের কাছে সংকোচে চাওয়া সেই বায়না কীভাবে বদলে যায় গভীর কৃতজ্ঞতায়? দ্বিধা আর বকুনি ভুলে কখন এক সুতোয় বাঁধা পড়ছে তাদের মন?
তপ্ত কপালে শীতল জল
তীব্র জ্বরে সাদাফ নিস্তেজ হয়ে পড়লে সব ভয় সংকোচ দূরে ঠেলে পরম মমতায় মাথায় পানি ঢেলে সেবা করে শ্রাবণ। অসুস্থতার ঘোরে তাদের মধ্যবর্তী দেয়াল যখন ভাঙতে শুরু করে, ঠিক তখনই বাইরে থেকে ভেসে আসে এক বীভৎস অগ্নিকাণ্ডের খবর! কিসের আগুনে জ্বলে উঠল সাদাফের চোখ?
অন্ধ ক্রোধের নির্মম প্রহার
আগুনের সংবাদে ক্ষিপ্ত সাদাফকে বাধা দিতে গিয়ে শ্রাবণ মুখোমুখি হয় এক পৈশাচিক আক্রোশের। এলোপাতাড়ি মার আর আঘাতে মেঝেতে রক্তাক্ত হয়ে পড়ে থাকে অসহায় তরুণী। ক্রোধের আগুন নিভিয়ে ঘরে ফিরে বিছানায় রক্তের দাগ দেখে স্তব্ধ হয়ে যায় সাদাফ—তার নিজের হাতেই কি শেষ হয়ে গেল শ্রাবণ?
লাল শাড়ির দেনমোহর
শ্রাবণের ক্ষতের ওপর বরফ ছোঁয়াতে গিয়ে অনুশোচনা আর অদ্ভুত আকর্ষণে সাদাফ বুঝে নেয় তার শূন্যতার হাহাকার। কিন্তু শ্রাবণের রক্ষণশীল বাধা কি তাকে আরও বেপরোয়া করে তুলবে? ভোরে ঘুম ভাঙতেই এক লাল টুকটুকে শাড়ির বায়নায় সম্পন্ন হওয়া এ কেমন আকস্মিক বিয়ে?
পবিত্র বন্ধনের প্রথম রাত
লাল শাড়ি জড়িয়ে এক লহমায় বদলে যাওয়া নিজের ভাগ্যের দিকে তাকিয়ে আবেগে ভাসে শ্রাবণ। বরফের স্পর্শে কাঁটা দেওয়া শিহরণ আর সাদাফের ক্লান্ত বাহুডোরে শুরু হয় তাদের নতুন সংসার। কিন্তু প্রতিবেশীর কটুকথা আর সন্দেহের বিষবাষ্প কি এই পবিত্রতাকে ম্লান করে দেবে?
ছোট বাক্সের মায়াজাল
স্ত্রীকে অন্যের ফ্রিজ ব্যবহার করতে না দেওয়ার জেদে সাদাফ ঘরে নিয়ে আসে এক পুরনো আইসক্রিমের বাক্স! দোতলার আম্মার কাছে ধর্মীয় শিক্ষার টান আর সাদাফের অতীত জীবনের না-বলা অন্ধকারের মধ্যে দাঁড়িয়ে শ্রাবণ। বাজারে নুরু মিয়ার বুক চেপে ধরে সাদাফের এই চরম হুমকি কিসের পূর্বাভাস?
আলমারির গোপন অন্ধকার
আম্মার দেওয়া কাঁথা সযত্নে তুলে রাখতে গিয়ে ড্রয়ারের চাবি দিয়ে সাদাফের আলমারি খোলে শ্রাবণ। কাপড়ের নিচে লুকানো ধাতব ঠান্ডা অস্ত্রের স্তূপ দেখে তার পায়ের নিচের মাটি সরে যায়। সে কি তবে কোনো ভয়ানক ডাকাত কিংবা সন্ত্রাসীর সাথে ঘর বাঁধছে?
কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরের পলায়ন
প্রাণভয়ে নির্ঘুম রাত কাটিয়ে কাকভোরে অচেনা পথে পালিয়ে যায় শ্রাবণ। আশ্রয়হীন পথচলায় স্টেশন আর ফ্লাইওভার ঘুরে ক্লান্ত দেহে যখন এক অন্ধকার গলিতে বসে, তখনই চোখে পড়ে এক অবৈধ অস্ত্রের আদান-প্রদান! মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে একদল সন্ত্রাসী তাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে?
চোরাবালির মাঝে আশ্রয়
মুখের কালো কাপড় সরাতেই আস্তানার প্রধান আসনে সাদাফকে বসে থাকতে দেখে স্তব্ধ হয়ে যায় শ্রাবণ। নিখোঁজের দুই দিনের ব্যাকুল হাহাকার প্রকাশ করে গভীর ভালোবাসায় তাকে বুকে জড়িয়ে নেয় সাদাফ। কিন্তু সকালে নুরু মিয়া টাকা ফেরত দিয়ে শ্রাবণকে দাবি করলে কী চরম রুদ্রমূর্তি ধারণ করবে সাদাফ?
ধোঁয়ার আড়ালে অভিমান
ধূমপান ও মদ্যপানের বদভ্যাস বন্ধ করতে গিয়ে সাদাফের লুকিয়ে রাখা সিগারেটের প্যাকেট চুলোয় পুড়তে চায় শ্রাবণ। ক্রোধে থাপ্পড় তুলতে গিয়েও শ্রাবণের ভয়ার্ত চোখে চোখ পড়তেই হাত নামিয়ে নেয় সাদাফ। ভাঙা প্লেটের অবশেষ আর এক লোকমা ভাতের মমতায় এই তীব্র অভিমান কীভাবে ভালোবাসায় রূপ নেবে?
দ্বিতীয় লাল শাড়ি ও আতঙ্কের ছায়া
লাল শাড়িতে শ্রাবণকে মানায় বলে আবারও ভালোবেসে এক টুকটুকে শাড়ি আর গরম হালিমের নিমন্ত্রণ নিয়ে আসে সাদাফ। কিন্তু পরদিন সাদাফের ঢাকার বাইরে যাওয়ার সুযোগে ঘরে ঢুকে পড়ে মুখোশধারী ডাকাতদল। রক্তাক্ত ক্ষত নিয়ে শ্রাবণ কি বাঁচাতে পারবে তাদের শেষ সম্বল?
ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়ে
হায়দার সাহেবের পুরো দলবল অস্ত্রসহ পুলিশের জালে ধরা পড়ার খবর পেয়ে এক ঠান্ডা প্রতিশোধের তৃপ্তি পায় সাদাফ। কিন্তু পরদিন সকালে বাড়ির দরজায় এসে দাঁড়ায় কান্নাভেজা ক্ষুব্ধ দিশা! মায়ের লাইফ-সাপোর্ট আর পুরো পরিবারের ধ্বংসের দায় সাদাফের ওপর চাপিয়ে কোন চরম সত্যের মুখে দাঁড় করাবে সে?
অপূর্ণ আবদারের অশ্রুধার
অতীতের পাপ ঝেড়ে ফেলে সুপথে ফিরে আসা সাদাফকে নিয়ে সন্তানের স্বপ্নে বিভোর হয়ে ওঠে শ্রাবণ। কিন্তু দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও বিষাক্ত ধোঁয়ার চূড়ান্ত ছোবল নেমে আসে হাসপাতালের আইসিইউতে। নিস্তেজ হয়ে যাওয়া হাতের স্পর্শ আর লাল শাড়ির স্মৃতি বুকে নিয়ে শ্রাবণের এই কান্নার শেষ কোথায়?
কোনো অধ্যায় খুঁজে পাওয়া যায়নি।
সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQs)
অঙ্গনে হৃদরঙ্গন (Angane Hridrangan) উপন্যাসটির মূল কাহিনী কী?
অঙ্গনে হৃদরঙ্গন উপন্যাসের মোট কয়টি পর্ব রয়েছে?
অঙ্গনে হৃদরঙ্গন উপন্যাসের লেখিকা কে?
অঙ্গনে হৃদরঙ্গন কি বিনামূল্যে অনলাইনে পড়া যায় নাকি PDF ডাউনলোড করতে হবে?
অঙ্গনে হৃদরঙ্গন উপন্যাসের পরবর্তী সিজন কি আসবে?
পাঠক রিভিউ ও রেটিং
0 টি রিভিউ · 0 জন পাঠক
0 টি রিভিউ