
অঙ্গারের নেশা
পাঁচ বছরের ভালোবাসার মানুষকে বিয়ের পিঁড়িতে বরণ করতে গিয়ে প্রানেশা মুখোমুখি হয় এক ভয়ংকর বহুরূপী সত্যের। যার স্পর্শে কম্পিত তার আত্মা, সে কি সত্যি রেয়ান নাকি ছদ্মবেশী কোনো উন্মাদ প্রেমিক? প্রতিহিংসা, পারিবারিক অন্ধকার ও অঙ্গারের মতো জ্বলে ওঠা এক পৈশাচিক প্রেমের বেড়াজালে প্রানেশা কি খুঁজে পাবে তার সত্যিকারের ভালোবাসাকে?
সিজন ১ সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে (মোট ৩১ পর্ব)। পাঠকদের জন্য সম্পূর্ণ উপন্যাসটি বিনামূল্যে অনলাইনে উন্মুক্ত রয়েছে।
গল্পের বিশেষত্ব ও হাইলাইটস
তীব্র মনস্তাত্ত্বিক ডার্ক রোম্যান্স
প্রেম, পজেসিভনেস এবং অন্ধ অধিকারবোধের চরম সংঘাতময় এক আবেগঘন আখ্যান।
মুখোশ ও বহুরূপীর জটিল রহস্য
একই চেহারার পেছনে লুকিয়ে থাকা ভিন্ন দুই ব্যক্তিত্ব এবং পাঁচ বছরের গোপন ষড়যন্ত্রের পর্দা উন্মোচন।
আত্মাহুতি ও ক্ষমার মেলবন্ধন
ঘৃণা ও প্রতিশোধের দাবানল ছাপিয়ে এক সত্য ভালোবাসার জয়গান।
প্রধান চরিত্রসমূহ
5সুফিয়ান তেহজিব
নায়ক (Male Lead)প্রতিভাবান হার্ট সার্জন ও প্রচণ্ড পজেসিভ প্রেমিক। গভীর আঘাত ও নীরব ত্যাগের আড়ালে প্রানেশার প্রতি তার রয়েছে আত্মাহুতির মতো সর্বগ্রাসী প্রেম।
প্রানেশা ইয়াসরার
নায়িকা (Protagonist)আবেগপ্রবণ, কোমল অথচ আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন তরুণী। কৈশোরের ফোনালাপের এক অচেনা ভালোবাসাকে আঁকড়ে ধরে যার জীবন আকস্মিক ঝড়ে বিপর্যস্ত হয়।
রেয়ান তেহজিব
দ্বিতীয় পুরুষ / ভাই (Secondary Lead)সুফিয়ানের ছোট ভাই। শৈশবের হীনমন্যতা ও পারিবারিক অবহেলার সুযোগে ইভানানের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে নিজের রূপ ও সত্তা বিসর্জন দেওয়া এক বিভ্রান্ত যুবক।
ইভানান তেহজিব
মূল প্রতিপক্ষ (Antagonist)রহস্যময় চিত্রশিল্পী। বোনের আত্মহত্যার প্রতিশোধ এবং প্রানেশাকে পাওয়ার উন্মাদনায় নিজের বন্ধু ও পরিবারকে এক বিধ্বংসী মানসিক খেলায় নামিয়ে দেয়।
মিসেস অদিতি তেহজিব
মাতৃচরিত্র (Supporting Cast)সুফিয়ান ও রেয়ানের মা। সংসারের বহু টানাপোড়েন ও আঘাত সহ্য করেও সন্তানদের আগলে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করেন।
সূচিপত্র ও সিজনসমূহ
31 টি অধ্যায়
প্রথম খণ্ড: ছদ্মবেশ ও অঙ্গারের টান
পাঁচ বছরের ভুল বোঝাবুঝি, চেহারার আড়ালে লুকিয়ে থাকা অন্ধ প্রেম এবং প্রতিহিংসার আগুন পেরিয়ে এক আত্মিক মিলনের গল্প।
অচেনা স্পর্শের শিহরণ
বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসা অতিপরিচিত মুখটিকে দেখে আনন্দে উদ্বেলিত হয় প্রানেশা। কিন্তু নির্জন কক্ষে সেই প্রেমিকের হিংস্র আচরণ আর বদলে যাওয়া চাহনি তাকে স্তব্ধ করে দেয়। বধূবেশে যখন বিদায়ের মুহূর্ত ঘনিয়ে আসে, তখন দূর দেশ থেকে আসা একটি ফোন কল কি প্রানেশার অস্তিত্বকেই চুরমার করে দেবে?
মৃত্যুভয়ের দরকষাকষি
সামনে দাঁড়ানো মানুষটির কণ্ঠ ও রক্তচক্ষু প্রানেশার মনে চরম ত্রাস সৃষ্টি করে। বাবার প্রাণনাশের নির্মম হুমকি দিয়ে জোর করে বিয়ের পিঁড়িতে বসিয়ে দেয় এই অচেনা বহুরূপী। অনুভূতিহীন পুতুলের মতো বিদায় নিয়ে কালো রঙের সেই অদ্ভুত অট্টালিকায় পা রেখে প্রানেশা কি কোনো মায়াজালে বন্দি হলো?
দাবানলের প্রথম ঘোষণা
বাসরকক্ষে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে নিজের আসল পরিচয় দেয় এক ক্ষমতাবান উন্মাদ। ছোট ভাইয়ের প্রেমে কুনজর দেওয়া এই পাষণ্ড প্রানেশার প্রিয় খাবার থেকে শুরু করে ভেতরের দুর্বলতা পর্যন্ত সবই জানে। 'অঙ্গারের নেশা' হয়ে ওঠার এই সাইকোপ্যাথিক দাবির মুখে প্রানেশা কি নিজের আত্মসম্মান রক্ষা করতে পারবে?
অধিকারের নিঃশব্দ শাসন
ডিভোর্সের দাবি তুলতেই সুফিয়ানের রুদ্ররূপ প্রানেশাকে এক চরম বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করায়। রাতের চরম জবরদস্তির পর সকালে পরিবারের সবার আচরণে সুফিয়ানের প্রভাব দেখে হতবাক হয়ে যায় সে। কিন্তু ডাইনিং টেবিলের সেই ভারী নিস্তব্ধতা ভেঙে দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটি কি নতুন কোনো ঝড়ের বার্তা বয়ে আনল?
নিষিদ্ধ আলিঙ্গনের খেসারত
রেয়ানের বুকে আছড়ে পড়ে প্রানেশার কান্না সুফিয়ানের ভেতরের দানবটাকে জাগিয়ে তোলে। নিজের চোখের সামনে স্ত্রীর পরপুরুষকে জড়িয়ে ধরা সুফিয়ান এক সেকেন্ডও বরদাস্ত করে না। বন্ধ বাথরুমে সুফিয়ানের চালানো সেই নির্মম উন্মাদনার হাত থেকে কি প্রানেশা আদৌ অক্ষত অবস্থায় বেরিয়ে আসতে পারবে?
মায়ার ছায়ায় মোড়া অতীত
নিষ্ঠুর নির্যাতনের পর সারা রাত জেগে সুফিয়ানের নিঃশব্দ সেবা প্রানেশাকে এক গভীর ধাঁধায় ফেলে দেয়। ডাইনিং টেবিলে মেহমানের কটু মন্তব্যের মুখে প্রানেশার সপাট জবাবে নতুন মুগ্ধতার জন্ম হয়। কিন্তু শাশুড়ির মুখে সুফিয়ানের হৃদয়বিদারক অতীতের আভাস পেয়ে প্রানেশা কি তার পাথুরে মনকে বদলাতে বাধ্য হবে?
দুই মাসের কঠিন শর্ত
ব্যালকনির দোলনায় ভোর হওয়ার পর সুফিয়ানের চোখের কোণে নেমে আসে তীব্র বিচ্ছেদের ভয়। প্রানেশা তার মুখোমুখি বসে এক চরম শর্ত জুড়ে দেয়—হৃদয়কে জানার জন্য চাই একান্ত দূরত্ব। এই দুই মাসের পরীক্ষা কি তাদের ভালোবাসা পূর্ণ করবে, নাকি চিরতরে বিচ্ছেদের ডাক দেবে?
অনিবার্য বিশ্বাসঘাতকতা
সকালে বালি ভ্রমণের খুশির আবহ আচমকা উধাও হয়ে যায় যখন নির্জন ঘরে রেয়ান উন্মত্তের মতো প্রানেশার ওপর চড়াও হয়। নিজের প্রথম প্রেমের এমন বিকৃত চেহারা দেখে প্রানেশার পায়ের নিচের মাটি সরে যায়। শাশুড়ির কঠোর সতর্কবার্তা ও চড় রেয়ানকে থামালেও, এই গোপন ক্ষত কি সুফিয়ানের কান পর্যন্ত পৌঁছাবে?
অনুতাপের পদতলে ফেরা
রেয়ান পায়ে পড়ে কান্নাকাটি করলেও প্রানেশা নিজেকে শক্ত বাঁধনে আটকে ফেলে। নিজের ঘরে ফিরে অশ্রুসজল প্রানেশাকে দেখে সুফিয়ানের বুকে অজানা ঝড় আছড়ে পড়ে। ভ্রমণের আগে ভালোবাসার সেই আকস্মিক উষ্ণ ছোঁয়া কি সুফিয়ান আর প্রানেশার দূরত্ব ঘুচিয়ে দিতে যথেষ্ট?
স্বর্গদ্বারে রক্তচক্ষুর ছায়া
বালির মনোরম দ্বীপে পৌঁছেও প্রানেশার স্বস্তি মেলে না সশস্ত্র দেহরক্ষীদের অস্বাভাবিক উপস্থিতিতে। সুফিয়ানের এক ইঙ্গিতে হোটেল ম্যানেজারের কাঁপাকাঁপি প্রানেশার মনে নতুন সন্দেহের বীজ বোনে। অন্যদিকে দূর অস্ট্রেলিয়ায় বসে নীল চোখের এক পুরুষ কেন প্রানেশার ছবির সামনে শপথ নেয় তাকে কেড়ে নেওয়ার?
লোভনীয় তিলের ফাঁদ
সকালের স্নিগ্ধ রোদে সুফিয়ানের মাদকতাময় দৃষ্টি ও কণ্ঠের মোহ প্রানেশার হৃদস্পন্দন থামিয়ে দেয়। কিন্তু সুফিয়ানের গলার তিল আর চেহারার অদ্ভুত মিল পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে প্রানেশা নিজেকেই হারিয়ে ফেলে। সুফিয়ান কি শুধুই তার স্বামী, নাকি এর চেয়েও গভীর কোনো সম্পর্কের টান জড়িয়ে আছে এই শরীরে?
উত্তাল সাগরের ত্রাস
পর্দা আর শালীনতার মর্যাদা শেখানোর গভীর ভঙ্গিতে সুফিয়ানের প্রতি প্রানেশার শ্রদ্ধা বহুগুণ বেড়ে যায়। কিন্তু দ্বীপের পথে দ্রুতগামী রুকিতে উঠতেই প্রানেশার পুরনো ভীতি তীব্র রূপ ধারণ করে। সাগরের গর্জন আর আতঙ্কে কাঁপতে থাকা প্রানেশাকে সুফিয়ান কি পারবে মৃত্যুর মতো ভীতি থেকে আগলে রাখতে?
নেশাগ্রস্ত রাতের সমর্পণ
অতীতের এলোকেশী নারীর স্মৃতি নিয়ে একবুক অভিমান জমে ওঠে প্রানেশার ভেতরে। কিন্তু নির্জন ভিলার মোমবাতির আলোয় মাতাল প্রানেশার অপ্রত্যাশিত আদর আর দাবি সুফিয়ানের সমস্ত প্রতিরোধ চূর্ণ করে দেয়। এই সর্বনাশা রাতের বাঁধভাঙা ভালোবাসা কি প্রানেশার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুলের সূচনা করল?
বিষাক্ত অচেনা ধ্বনি
নতুন ভোরের স্নিগ্ধতায় সুফিয়ানের ভালোবাসায় মুগ্ধ হয়ে সব মেনে নিতে চেয়েছিল প্রানেশা। কিন্তু এক অচেনা শুভাকাঙ্ক্ষীর ফোন কল সুফিয়ানের আসল নৃশংস পরিচয় প্রকাশের মুখে এনে দাঁড় করায়। কথা শেষ হওয়ার আগেই সুফিয়ানের চড়ে ফ্লোরে লুটিয়ে পড়ে প্রানেশা—কী সেই সত্য যা ঢাকতে এত রক্তচক্ষু?
রক্তাক্ত ইতিহাসের প্রারম্ভ
জ্ঞান ফিরতেই নিজেকে খাঁচায় বন্দি পেয়ে জানালার কিনারে মরণপণ পদক্ষেপে দাঁড়ায় প্রানেশা। ঠিক তখনই সুফিয়ানের আত্মক্ষত আর ব্যান্ডেজবাঁধা রক্তাক্ত হাত উন্মোচন করে তার আত্মাহুতির হাহাকার। সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের সামনে দাঁড়িয়ে সুফিয়ান কি এবার তুলে ধরবে চার বছর আগের সেই ডুবে যাওয়ার সত্য?
বিভ্রান্ত মনের মায়াজাল
'রেয়ান তোমাকে কোনোদিন ভালোবাসেনি'—সুফিয়ানের এমন অবিশ্বাস্য দাবিতে স্তব্ধ হয়ে যায় প্রানেশা। সুফিয়ানের ক্যাম্পাসের বর্ণাঢ্য দিনগুলো এবং ইভানান-রেয়ানদের মধ্যকার আত্মিক ও বৈষম্যমূলক অতীত যেন উন্মোচিত হতে থাকে। নিজের পরিবারের মধ্যেই অবহেলিত রেয়ানের মনে কোন বিষাক্ত হীনমন্যতা দানা বাঁধছিল?
নদীর জলে পোড়া অঙ্গার
কোকিলপাড়ার নদীর ঘাটে ভেসে ওঠা নিথর মেয়েটিকে বুকে তুলে নিয়েছিল সুফিয়ান। কিন্তু একই নিস্তব্ধ মুহূর্তে প্রানেশার শরীরে চোখ পড়েছিল আরও একজনের—তার নাম ইভানান। এক পুরুষ হৃদয়ে জন্ম দিয়েছিল এক পবিত্র মায়ার আর অন্যজন প্রতিশোধ ও লালসার; সেই নদীই কি তবে ধ্বংসের বীজ বুনেছিল?
নামহীন নেতার হুমকি
অজ্ঞাত পরিচয়ে প্রানেশার মোবাইল নম্বরে একটি মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে ফোন করে সুফিয়ান। প্রানেশার বোকামি আর মিষ্টি হাসির ছলে শুরু হয় সেই ঐতিহাসিক ফোনালাপ। কিন্তু যে মানুষটির কণ্ঠকে প্রানেশা নিজের জীবন ভেবেছিল, সে কেন তখনো তার আসল নাম গোপন রেখেছিল?
অঙ্গার ও রাণীর উপাখ্যান
বাবার বিশ্বাসঘাতকতা ও মায়ের অসহায় চোখের নীরব যন্ত্রণায় ক্ষতবিক্ষত সুফিয়ানের একমাত্র আশ্রয় ছিল সেই রাতের ফোনালাপ। প্রানেশার জন্য কবিতা আর ভালোবাসার আবদারে সুফিয়ান নিজেকে 'অঙ্গার' হিসেবে সঁপে দিতে চেয়েছিল। দেখা করার সেই প্রতীক্ষিত দিনের প্রাক্কালে কোন কালো ছায়া ঘনিয়ে আসছিল?
বিষবৃক্ষের বিষাক্ত চারা
রেয়ানের অবদমিত ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে ইভানান তার মাথায় ঢুকিয়ে দেয় চেহারা বদলানোর চরম প্ররোচনা। পরিবারের দায়িত্ব আর কনসার্টের সুসংবাদের মাঝে সুফিয়ান যখন প্রানেশার মুখোমুখি হওয়ার স্বপ্নে বিভোর, তখনই ঘটে সেই ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা। সেই রক্তাক্ত ট্রাকের চাকা কি দুটি হৃদয়ের সব স্বপ্ন চুরমার করে দিল?
হারানো কণ্ঠ ও নকল প্রতিচ্ছবি
গলায় রক্তক্ষরণের কারণে সুফিয়ানের চিরতরে গান বন্ধ হয়ে যাওয়ার সুযোগ নেয় রেয়ান। প্লাস্টিক সার্জারির জাদুতে বড় ভাইয়ের চেহারা ধারণ করে কনসার্টের মঞ্চ মাতায় সে। কিন্তু বটতলার নিচে দাঁড়িয়ে থাকা প্রানেশার সামনে যখন এই নকল সুফিয়ান রেয়ান পরিচয়ে হাজির হয়, তখন কি ভাগ্যের চাকা ঘুরে গেল?
পাঁচ বছরের কুয়াশাভাঙা ভোর
বালির সমুদ্রের কিনারে দাঁড়িয়ে প্রানেশা বুঝতে পারে গত পাঁচ বছর সে যাকে ভালোবেসেছিল, সে আসলে শুধুই এক অনুভূতিহীন পুতুল ছিল। আসল অঙ্গার তো দাঁড়িয়ে ছিল চোখের সামনেই, যার এক বিন্দু ভালোবাসা পেতে সে কত শতাব্দী ধরে পুড়ছে! নিজের স্বামীকে জড়িয়ে ধরা প্রানেশার এই কান্না কি সব অপরাধবোধ ধুয়ে দিতে পারবে?
অস্ট্রেলিয়ার নির্বাসিত দিনগুলো
হাসপাতাল থেকে ফিরে প্রানেশার নম্বর ব্লক দেখে সুফিয়ানের বুক ভেঙে গিয়েছিল। ইভানানের সাজানো দৃশ্যপটে মায়ামতী ঝিলে প্রানেশাকে রেয়ানের হাত ধরে বসে থাকতে দেখে দেশত্যাগ করে সে। কিন্তু বন্ধুত্বের আড়ালে ইভানান সুফিয়ানকে ক্যানবেরায় নিয়ে গিয়ে কোন গভীর চক্রান্তে ডুবিয়ে রেখেছিল?
ঝুলে থাকা লাশের অভিশাপ
ইভানানের এই উন্মত্ত প্রতিশোধের পেছনে লুকিয়ে ছিল এক মর্মন্তুদ পারিবারিক ট্র্যাজেডি। সুফিয়ানের কাছে প্রেমের প্রত্যাখ্যান সইতে না পেরে ফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করেছিল ইভানানের আদরের বোন ইনায়া। সেই দিন থেকেই কি সুফিয়ানের প্রতিটি ভালোবাসাকে পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়ার শপথ নিয়েছিল ইভানান?
ভালোবাসি অঙ্গার
ক্যানবেরার হাসপাতালে তনিমের নাটকীয় স্বীকারোক্তি ইভানানের সব নোংরা মুখোশ টেনে খুলে ফেলে। ক্ষিপ্ত সুফিয়ান ইভানানকে কড়া শিক্ষা দিয়ে ঢাকায় ফিরে প্রানেশাকে নিজের অর্ধাঙ্গিনী করে নেয়। আর বর্তমানের বালির সৈকতে সব শুনে কান্নায় ভেঙে পড়া প্রানেশা কি প্রথমবার সুফিয়ানের বুকে ভালোবাসা সঁপে দিতে পারল?
রক্তাক্ত ড্রেসিং টেবিলের পতন
নতুন প্রাণের আগমনের খবরে তেহজিব পরিবারে নেমে আসে আনন্দের জোয়ার। কিন্তু আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা প্রানেশার ফোনে অচেনা নম্বর থেকে আসা কিছু ঘনিষ্ঠ নগ্ন ছবি তার সমস্ত বিশ্বাস চুরমার করে দেয়। তীব্র মানসিক আঘাতে অজ্ঞান হয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়া প্রানেশা ও তার অনাগত সন্তানের পরিণতি কি হবে?
বিশ্বাসভঙ্গের অন্তিম সীমানা
যে ভালোবাসাকে নিজের স্বর্গ ভেবেছিল প্রানেশা, তা কি শুধুই এক বিকৃত ছলনা ছিল? মাথায় আঘাত আর রক্তাক্ত মেঝেতে পড়ে থাকা প্রানেশার চেতনার গভীরে জ্বলতে থাকে সুফিয়ানের সেই পুরোনো অন্ধকার দিনের ছবি। অনাগত শিশুর স্পন্দনের সাথে সাথে কি তবে এই সংসারের সব দরজাই চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে?
অঙ্গারের বুকে জমা ক্ষোভ
অপারেশন থিয়েটার ছেড়ে উন্মাদের মতো ছুটে এসে ব্যান্ডেজবাঁধা প্রানেশাকে দেখে সুফিয়ানের আত্মা শুকিয়ে যায়। প্রানেশা যখন সেই বিতর্কিত ছবিগুলো সুফিয়ানের মুখের সামনে তুলে ধরে, সুফিয়ানের স্বীকারোক্তি তাকে পাথর বানিয়ে দেয়। পাঁচ বছর আপন ভাইয়ের সাথে দেখার নরকযন্ত্রণা কি এবার প্রানেশাকে স্তব্ধ করে দেবে?
নীল চোখের আকস্মিক থাবা
অস্ট্রেলিয়ার নিঃসঙ্গ দিনগুলোতে নারী শরীর দিয়েও যে প্রানেশার স্মৃতি ভোলা যায়নি, সুফিয়ানের সে সত্য স্বীকার প্রানেশার সমস্ত দ্বিধা মুছে দেয়। কিন্তু পরীক্ষার শেষ দিনে হলের সামনে একা দাঁড়িয়ে থাকা অন্তঃসত্ত্বা প্রানেশাকে ঘিরে ফেলে ছয়টি ছায়ামূর্তি। নীল চোখের সেই যুবকের আকস্মিক থাবা কি প্রানেশাকে শেষ করে দিতে এসেছে?
নীলগিরির কাঁচকক্ষে গুলির শব্দ
ইনজেকশন দিয়ে অবশ করে ফেলা প্রানেশা নীলগিরির প্রাসাদে ইভানানের চরম উন্মাদনার শিকার হয়। রেয়ানের আকস্মিক প্রবেশ এবং রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের মাঝে সুফিয়ান হাজির হলেও পরিস্থিতি নাগালের বাইরে চলে যায়। ইভানানের পিস্তল থেকে ছুটে যাওয়া বুলেটটি কি প্রানেশার জীবন প্রদীপ চিরতরে নিভিয়ে দিল?
বসন্তের কৃষ্ণচূড়া ও অঙ্গার
চার বছর পর বসন্তের রক্তিম কৃষ্ণচূড়ার নিচে দাঁড়িয়ে থাকা পুতুলের মতো সায়েশা ও সাইরানের কলকাকলিতে মুছে যায় পুরনো সব অন্ধকার। চিকিৎসার পর ফিরে আসা মানসিক ক্ষত আর ক্ষমার মাঝে সুফিয়ানের বুকে মাথা রাখে প্রানেশা। সমস্ত পরাজয় আর দীর্ঘশ্বাস পেরিয়ে এই অঙ্গারের নেশা কি তবে এক অনন্ত পূর্ণতা পেল?
সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQs)
অঙ্গারের নেশা (Angarer Nesha) উপন্যাসটির মূল পটভূমি কী?
অঙ্গারের নেশা উপন্যাসের মোট কয়টি পর্ব রয়েছে এবং এটি কি সমাপ্ত?
অঙ্গারের নেশা উপন্যাসের লেখিকা কে?
অঙ্গারের নেশা উপন্যাসটি কি অনলাইনে বিনামূল্যে পড়া যায়?
অঙ্গারের নেশা উপন্যাসের পরবর্তী সিজন কি আসবে?
পাঠক রিভিউ ও রেটিং
0 টি রিভিউ · 1 জন পাঠক
0 টি রিভিউ