
বাইজি কন্যা
পাঁচফোড়ন গৃহের দাপুটে জমিদার পরিবারের পেছনে গড়ে ওঠা গোপন বাইজি গৃহের অভিশপ্ত ছায়ায় বড়ো হয়ে ওঠে কিশোরী শাহিনুর। জমিদারের দুর্বৃত্ত ছেলেদের কুদৃষ্টি থেকে তাকে রক্ষা করতে ঢাল হয়ে দাঁড়ায় ব্যক্তিত্ববান ডক্টর প্রণয় চৌধুরী। রক্তক্ষয়ী প্রতিশোধ, সামাজিক কলঙ্ক আর অগাধ প্রেমের এই দ্বন্দ্বে কে জিতবে শেষ পর্যন্ত?
বাইজি কন্যা উপন্যাসটি সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে (মোট ৬৭ পর্ব)। সকল পর্বের পূর্ণাঙ্গ পাঠ ও সূচিপত্র এখানে বিনামূল্যে উন্মুক্ত রয়েছে।
গল্পের বিশেষত্ব ও হাইলাইটস
জমিদারি আভিজাত্য ও গোপন বাইজি গৃহ
পাঁচফোড়ন গৃহের জৌলুসের আড়ালে অন্ধকার বাইজি গৃহের বাস্তব চিত্র ও সমাজের মুখোশধারী কর্তাদের নোংরা রূপ।
আত্মমর্যাদা রক্ষার রক্তক্ষয়ী লড়াই
কলঙ্কের তকমা পেরিয়ে একজন নারীর আত্মরক্ষা, প্রতিশোধ এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠার রোমহর্ষক আখ্যান।
আত্মত্যাগের একনিষ্ঠ প্রণয়গাথা
ভালোবাসার মর্যাদা রক্ষায় জমিদারের বিলাসী জীবন ও চিকিৎসকের পরিচয় বিসর্জন দিয়ে পঙ্গুত্ব বরণকারী এক মহাপুরুষের অমর ভালোবাসা।
প্রধান চরিত্রসমূহ
6শাহিনুর শায়লা
নায়িকা (Protagonist)বাইজি প্রধান শারমিন শায়লার রূপবতী ও অবুঝ কন্যা। কৈশোরের সারল্য থেকে শুরু করে আত্মসম্মান রক্ষায় তলোয়ার হাতে তুলে নেওয়া এক আপসহীন ও দৃঢ়চেতা নারী।
ড. প্রণয় চৌধুরী
নায়ক (Male Lead)জমিদার অলিওর চৌধুরীর তৃতীয় পুত্র। বংশের পাপ ও বিলাসিতা ত্যাগ করে একজন আদর্শবান চিকিৎসক। শাহিনুরকে রক্ষা করতে গিয়ে নিজের সর্বস্ব বিসর্জন দেওয়া এক নির্ভীক প্রেমিক।
শারমিন শায়লা
শাহিনুরের মা (Former Baiji Chief)জমিদারির নোংরা ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে ভদ্রঘরের কন্যা থেকে প্রধান বাইজিতে রূপান্তরিত হওয়া এক তেজস্বী ও প্রতিরোধী মা।
পলাশ চৌধুরী
খলনায়ক (Antagonist)জমিদারের মেজো পুত্র। অত্যন্ত কামুক, নিষ্ঠুর ও হিংস্র প্রকৃতির মানুষ, যার নজর পড়ে বাইজি কন্যার ওপর।
রঙ্গন চৌধুরী
সহকারী চরিত্র (The Flutist)জমিদারের কনিষ্ঠ পুত্র ও অরণ্যের বাঁশিওয়ালা। আপাতদৃষ্টিতে প্রাণোচ্ছল ও সরল হলেও অবচেতন প্রতিশোধস্পৃহা ও ভাইয়ের প্ররোচনায় জড়িয়ে পড়ে পাপের বেড়াজালে।
অঙ্গন চৌধুরী
সহকারী চরিত্রপ্রণয়ের অনুজ ভাই। রোমানার বিয়োগান্তক পরিণতিতে মানসিক ভারসাম্য হারালেও পরবর্তীতে প্রণয় ও শাহিনুরের সবচেয়ে বিশ্বস্ত অভিভাবক হিসেবে দাঁড়ায়।
সূচিপত্র ও সিজনসমূহ
67 টি অধ্যায়
প্রথম খণ্ড: অভিশপ্ত রক্ত ও মহাপ্রণয়
পাঁচফোড়ন গৃহের অন্ধকার বাইজি গৃহ থেকে শুরু করে রাজপথের রক্তাক্ত ষড়যন্ত্র ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসার অমর পরিণতি নিয়ে রচিত পূর্ণাঙ্গ গল্পগাথা।
নিশীথে অচেনা পদধ্বনি
হাসপাতালের নিস্তব্ধ রাতে প্রধান বাইজি ও এক অসুস্থ নারীকে দেখে চমকে ওঠে ডক্টর প্রণয়। অকাল গর্ভপাতের আড়ালে লুকিয়ে থাকা জমিদারের কোন গোপন পাপের সামনে সে দাঁড়াতে চলেছে?
অরণ্যে বাঁশির ব্যাকুল সুর
বাইজি গৃহের চারদেয়ালে বন্দি পনেরো বছরের শাহিনুরের হৃদয় দোলে গহীন অরণ্য থেকে ভেসে আসা বাঁশির সুরে। অন্যদিকে প্রণয়ের উদাসীন চোখের আড়ালে কোন অচেনা ঝড় দানা বাঁধছে?
চারদেয়ালের রুদ্ধ কান্না
আমোদপ্রমোদের নিচে মান্নাত বাইজির রক্তক্ষরণ আর মুনতাহার নীরব চোখের জল একাকার হয়ে যায়। সুরের টানে জানালার চৌকাঠে বসা নুর কি কোনো ঘোর বিপদে পড়তে চলেছে?
কাঁটাতারের রক্তাক্ত আঘাত
গভীর রাতে বাঁশের কুটির ছেড়ে আর্তনাদের সন্ধানে এসে কাঁটাবনে রক্তাক্ত কিশোরীকে আবিষ্কার করে তিন ভাই। সেই ক্ষতের ওপর হাত রাখতেই প্রণয়ের বুকের ভেতরে কীসের তোলপাড় শুরু হলো?
সুরের মায়ায় প্রথম পরিচয়
যন্ত্রণার মাঝেও নিজের বহুদিনের চেনা বাঁশিওয়ালার মুখোমুখি হয়ে মুগ্ধতায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে নুর। কিন্তু সেই মুগ্ধতার মাঝেই প্রণয়ের কঠোর শাসনে কোন চরম সত্য নিহিত রয়েছে?
মুখোশের আড়ালে চাপা ক্ষোভ
পাঁচফোড়ন গৃহের জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশের পেছনে বড়ো বউ আর ছোটো বউদের অদ্ভুত সমীকরণ। আর গোধূলিলগ্নে ছাদে দাঁড়িয়ে মুনতাহার মুখোমুখি হওয়া রঙ্গনের বাঁশিতে কীসের হাহাকার?
অন্ধকারের নির্মম লীলাখেলা
পলাশের পাশবিক নির্যাতনের মুখে মুনতাহার রুদ্ধ আর্তনাদ দেখে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারে না রঙ্গন। ভোরে ফুলচুরির ছলে জমিদার বাড়ির সীমানায় পা রাখা নুরের ভাগ্যে কী অপেক্ষা করছে?
অপমানের মুখে অবুঝ প্রতিবাদ
জমিদার বাড়ির বাগানে ফুল কুড়াতে গিয়ে জমিদার গিন্নির নিষ্ঠুর অপমানের মুখোমুখি হয় নুর। অবুঝ কিশোরীর সেই সপাট প্রশ্ন কি জমিদার গৃহের অন্ধ অহংকারকে চূর্ণ করবে?
ক্ষতের ওপর নির্মম করাঘাত
জমিদার গিন্নির মুখোমুখি হওয়ার অপরাধে মায়ের বেত্রাঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয় নুর। গভীর রাতে জানালার ওপাশে বাঁশিওয়ালার উপস্থিতিতে কোন নতুন বিপদের সূচনা হতে যাচ্ছে?
নিদ্রার ফাঁদে গোপন আকাঙ্ক্ষা
রঙ্গনের হাত ধরে রাতের আঁধারে প্রণয়ের কোয়ার্টারে হাজির হয় রক্তাক্ত নুর। ভাইয়ের হাতে তার হাত দেখে প্রণয়ের মনে জ্বলে ওঠা ভয়ংকর ঈর্ষার অনল কী ঘটাতে চলেছে?
পাঠকদের পছন্দের বই
পড়ার ফাঁকে রকমারি থেকে সংগ্রহ করুন আপনার পছন্দের বই
নিশুতি রাতের নিঃশব্দ পদচারণা
ঘুমন্ত কিশোরীকে কোলে তুলে রাতের নির্জনতায় বাইজি গৃহের উদ্দেশ্যে পা বাড়ায় প্রণয়। নুরের কেশগুচ্ছ থেকে চুল ছিঁড়ে নেওয়া এবং অস্ফুট ঘোষণার নেপথ্যে কোন তীব্র পাগলামি লুকিয়ে আছে?
সুরের আড়ালে প্রতিশোধের বিষ
রঙ্গন কি সত্যি নুরকে ভালোবাসে, নাকি বড়ো ভাইয়ের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার ঘৃণ্য অস্ত্র হিসেবে তাকে ব্যবহার করতে চায়? সত্য জানতে পেরে প্রণয়ের ক্রোধ কোন ধ্বংস বয়ে আনবে?
ধুলোবালি ওড়া অতীতের ক্ষত
শারমিন বাইজি কি স্বেচ্ছায় এই অন্ধকূপে পা দিয়েছিল? বহু বছর পর মান্নাতের সামনে ডক্টর শাহিনের মিথ্যা অপবাদ আর জমিদার অলিওরের নিকৃষ্ট ষড়যন্ত্রের যে ইতিহাস বের হলো, তা কি নুরের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে?
অপরাধীর মুখোমুখি এক বাঘিনী
জমিদার অলিওর চৌধুরীর কলার চেপে ধরে অতীতের বিবাহবিচ্ছেদের প্রমাণ দাবি করে শারমিন। স্বামীর মৃত্যু কি সাধারণ দুর্ঘটনা ছিল, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে ঠান্ডা মাথার খুন?
অপ্রকাশিত ভালোবাসার নীরব দহন
রোমানার একতরফা ভালোবাসায় যখন প্রণয়ের নিরুত্তাপ দৃষ্টি, তখন নিজের বুকে চেপে রাখা ভালোবাসার দহনে ছটফট করে অঙ্গন। কুটিরের আড্ডায় নুরকে আনার ইঙ্গিতে কীসের সূত্রপাত হতে চলেছে?
জন্মতিথির আলোয় নিষিদ্ধ আহ্বান
মধ্যরাতে কুটিরে রোমানার জন্মদিনের শুভেচ্ছার জবাব প্রণয় দেয় নুরের চোখে চোখ রেখে প্রেমের গান গেয়ে। প্রণয়ের সেই মোহনীয় চাহনি কি নুরের বুক কাঁপিয়ে নতুন অনুভূতির জন্ম দেবে?
ঝড়ে ভেঙে যাওয়া পবিত্রতার বাঁধ
ভুলবশত নেশাগ্রস্ত হয়ে ছাদ থেকে প্রণয়ের চড় খেয়ে অঙ্গনের বিছানায় এসে ভেঙে পড়ে রোমানা। অবচেতন মুহূর্তে দুই মাতাল মনের শারীরিক মিলন কোন চরম সর্বনাশের দ্বার উন্মোচন করল?
পাপের সকাল ও রক্তাক্ত তলোয়ার
ভোরের আলোয় নিজের পাপ দেখে নিজেকে শেষ করে দিতে প্রণয়ের তলোয়ার টেনে নেয় অঙ্গন। ক্ষোভে-ঘৃণায় জর্জরিত প্রণয়ের চরম সিদ্ধান্ত শোনার পর বাড়ি ফিরে রোমানা কী কাণ্ড ঘটাল?
মৃত্যুর ছায়ায় প্রচ্ছন্ন আতঙ্ক
ফাঁসির লাশ নামিয়ে পলাশ যখন ঘটনা সাজাতে ব্যস্ত, তখনই পুলিশের সামনে নুরের অবুঝ প্রশ্ন—'ফাঁসিতে মরলে চোখ তো উল্টে থাকে, এর চোখ উল্টায়নি কেন?' এই এক প্রশ্নে কার বুকে কাঁপন ধরল?
অপয়া লাশের অন্তিম গোসল
আত্মহত্যাকারীর লাশ গোসল করাতে যখন পুরো গ্রাম অস্বীকৃতি জানায়, তখন এগিয়ে আসে বাইজি প্রধান শারমিন। অন্যদিকে রোমানার মৃত্যুর খবর শুনে কার মানসিক জগতে নেমে এলো আজীবনের আঁধার?
পাঠকদের পছন্দের বই
পড়ার ফাঁকে রকমারি থেকে সংগ্রহ করুন আপনার পছন্দের বই
বদ্ধ ঘরে উন্মাদনার পদধ্বনি
অঙ্গনের উন্মাদ চিৎকারে কেঁপে ওঠে পাঁচফোড়ন গৃহ। মান্নাতকে নিজের দাসী বানিয়েও নুরের প্রতি লোলুপ দৃষ্টি অটুট রাখে পলাশ। রঙ্গন কি নুরের সুরক্ষার নাকি নিজের স্বার্থের কথা ভাবছে?
দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্বে এক মানবী
নুরকে ভালোবাসার নামে রঙ্গনের প্রতিশোধের ছক ধরে ফেলে সজোরে চড় বসায় প্রণয়। 'নুরকে ভাবি বল!'—প্রণয়ের এই বজ্রকঠিন ঘোষণার পর বাইজি গৃহে কোন প্রস্তাব নিয়ে যাবে সে?
তলোয়ারের ধার ও কঠিন প্রতিজ্ঞা
গভীর রাতে আলমারি থেকে পুরোনো তলোয়ার বের করে নুরের হাতে তুলে দেয় শারমিন। 'জান দিবি তবুও ইজ্জত নিতে দিবি না'—মায়ের এই চরম শিক্ষার জবাবে নুর কী প্রতিজ্ঞা করল?
মুখোশ উন্মোচনের রুদ্ধশ্বাস ক্ষণ
বাইজি গৃহে এসে স্বয়ং প্রণয় যখন নুরের বিয়ের প্রস্তাব দেয়, তখন অবিশ্বাসে ফেটে পড়ে শারমিন। কিন্তু বন্ধ ঘরের ওপাশে জমিদারের মুখে কোন পুরোনো হত্যাকাণ্ডের স্বীকারোক্তি ভেসে এলো?
রক্তের স্রোতে অন্ধকারের সমাপ্তি
তলোয়ার হাতে জমিদারের বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ে শারমিন বাইজি। কিন্তু সেই প্রতিশোধের মুহূর্তেই পেছন থেকে ছুটে আসা তরবারির ফলা কার বুক ভেদ করে এক যুগান্তকারী রক্তপাতের জন্ম দিলো?
কবরের পাশে কালসাপের থাবা
মায়ের রক্তে ভেসে যাওয়া নিথর দেহ জড়িয়ে আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে কাঁদে নুর। চারদিন পর রাতের অন্ধকারে নির্জন কবরের পাশে একা পেয়ে কার নোংরা থাবা এসে পড়ল তার কোমরে?
অন্ধকারের বুকে চরম আশ্রয়
পলাশের চোখে ধুলো ছিটিয়ে শাড়ি বিসর্জন দিয়ে দৌড়ে এসে কার বলিষ্ঠ বুকে আছড়ে পড়ল নুর? পুরো পরিবারের সামনে প্রণয়ের আকস্মিক বিয়ে করার ঘোষণা কী প্রলয় ডেকে আনবে?
কাঁচের ঘরে বন্দি এক পুতুল
কাঁচের ঘরের ভেতরে এক জীবন্ত পুতুলের মতো নিঃশব্দে বসে থাকে নুর। তার পাথর হয়ে যাওয়া মৌনতা ভাঙাতে প্রণয় কেন নিজের গম্ভীর ব্যক্তিত্ব বিসর্জন দিয়ে পরিহাসের সুর তুলল?
রাজকীয় দম্ভের বিরুদ্ধে হুংকার
'সে যদি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কলঙ্কিত নারীও হয় তবুও তাকে আমি বউ করব!'—ভোজনকক্ষে বড়ো ভাইদের অহংকারে আঘাত হেনে প্রণয়ের দেওয়া এই হুংকারের প্রতিদান নুর কীভাবে দেবে?
বজ্রপাতের শব্দে হারানো চেতনা
কালবৈশাখী ঝড়ের শব্দে যখন ঘরের ভেতর আঁতকে ওঠে নুর, তখন বিকট বজ্রপাতে জ্ঞান হারিয়ে কার বাহুডোরে নুয়ে পড়ল সে? সেই উষ্ণ স্পর্শে প্রণয়ের মনে কোন অনুভূতির ঢেউ জাগল?
পাঠকদের পছন্দের বই
পড়ার ফাঁকে রকমারি থেকে সংগ্রহ করুন আপনার পছন্দের বই
অমাবস্যায় মিষ্টি আনন্দের ছোঁয়া
মুনতাহার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবরে বাড়িতে আনন্দের জোয়ার বয়ে যায়। কিন্তু সেই আনন্দের মুহূর্তে নুরের মুখে বাঁশিওয়ালার নাম শুনে প্রণয়ের হিংস্র রোষানল কেন ফেটে পড়ল?
জোৎসনার আলোয় নিভৃত স্বীকারোক্তি
গভীর রাতে ঘুমন্ত নুরকে পাঁজাকোলে তুলে পুকুরঘাটে মান্নাত বাইজির কাছে নিয়ে যায় প্রণয়। ফেরার পথে জোৎস্নার রাতে নিজের বুকে নুরকে জড়িয়ে কোন অমর প্রেমকাব্য আওড়াল সে?
তাজা মাটির নিচে বীভৎস সত্য
বাসর রাতের ভোরে গোপনে গোরস্তানের তাজা মাটি খুঁড়তেই কোন বীভৎস দৃশ্যে স্তব্ধ হয়ে গেল নুর? রক্তে ভেজা লাল কাপড়ের পুটলি খুলে কার খণ্ডিত দেহ আবিষ্কার করল সে?
কামনার আগুনে জ্বলন্ত আক্রোশ
নুরের নরম হাতে সোনার বালা পরিয়ে প্রণয় যখন বলল 'তুমি আমার বউয়ের সিলমোহর', তখন আক্রোশে ফেটে পড়ে বৈঠকখানা গুঁড়িয়ে দেয় পলাশ। কিন্তু প্রণয়ের আড়ালে কোন বিষাক্ত দৃষ্টি ওত পেতে আছে?
সুপ্ত ঘাতকের বিষাক্ত প্ররোচনা
প্রণয় হাসপাতালে যেতেই নুরের ঘরে ঢুকে তাকে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেয় রঙ্গন। মান্নাতের খুনের পেছনে বড়ো ভাইয়ের নাম জড়িয়ে দিয়ে রঙ্গন কোন ভয়ংকর চাল চালতে চাইছে?
সন্দেহের মেঘে বিশ্বাসের বৃষ্টি
রঙ্গনের আসল মুখোশ ধরে ফেলে ঘরে ফিরে স্বামীকে লেবু-পানি বাড়িয়ে দিয়ে পরম নিশ্চিন্তে চেয়ে থাকে নুর। তাদের নিভৃত স্পর্শের মুহূর্তে দাসী ময়নার আকস্মিক প্রবেশ কোন অশান্তির পূর্বাভাস দিল?
গোপন লেন্সে আঁটকা অন্ধকার
পরিপূর্ণ মিলনের দ্বিতীয় রাতে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তে ড্রেসিংটেবিলের কোণে লাল আলোর অস্বাভাবিক ঝিলিক দেখে থমকে যায় প্রণয়। তাদের একান্ত শয়নকক্ষে কে পেতে রেখেছিল এই গোপন ক্যামেরা?
অরণ্যে উন্মোচিত কুৎসিত চাল
ক্যামেরার ফুটেজ দেখে মাঝরাতে বনের কুটিরে গিয়ে রঙ্গনের গলা চেপে ধরে প্রণয়। পলাশের ব্ল্যাকমেইল আর সবুর উদ্দিনের কুকীর্তি শোনার পর ভোরে বাইজি গৃহের সামনে কার খণ্ডিত লাশ মিলল?
চাঁদের গায়ে রক্তের দাগ
সবুর উদ্দিনের খুনের পেছনে কার হাত ছিল তা বুঝতে ডক্টর প্রণয়ের এক মুহূর্তও সময় লাগে না। গভীর রাতে প্রেয়সীকে জড়িয়ে ধরে কোন চরম ভুলের হাত থেকে তাকে রক্ষা করতে চায় সে?
থাপ্পড়ের প্রতিধ্বনি ও আদিম ক্ষুধা
চুরির অপবাদে বৈঠকখানায় ময়নাকে সজোরে চড় মারে নুর। কিন্তু নুরের এই তেজস্বী যৌবনশ্রী দেখে পলাশ চৌধুরীর কামুক চোখে কোন বীভৎস লালসার আগুন জ্বলে ওঠে?
পাঠকদের পছন্দের বই
পড়ার ফাঁকে রকমারি থেকে সংগ্রহ করুন আপনার পছন্দের বই
মুখোশের পতন ও প্রকাশ্য লাঞ্ছনা
অঙ্গনের ঘর থেকে বের হতেই নির্জন বারান্দায় নুরকে জাপটে ধরে পলাশ। ধস্তাধস্তির মাঝেই বড়ো আম্মা উপস্থিত হয়ে কার গালে কষিয়ে চড় বসিয়ে বাড়িছাড়া করার নির্দেশ দেন?
রক্তের সম্পর্ক ছিন্ন করার শপথ
স্ত্রীর সম্মানের ওপর আঘাত আসায় নিজের জন্মদাত্রীর মুখের ওপর বাড়ি ছাড়ার ঘোষণা দেয় প্রণয়। নতুন ঠিকানায় এসে আলমারির কাপড় ভাঁজ করতে গিয়ে নুরের হাতে কোন চিঠি ধরা পড়ল?
বুকফাটা চিঠি ও শুকনো বকুল
রোমানার শেষ চিঠির যন্ত্রণায় খাবার ত্যাগ করে কান্নায় ভেঙে পড়ে নুর। গভীর রাতে বারান্দায় দাঁড়িয়ে পুরোনো শুকনো বকুলের মালা জড়িয়ে প্রণয় কোন না-বলা আত্মকথা শোনাতে চলেছে?
এক চিকিৎসকের গোপন আত্মকথা
জমিদারির পঙ্কিলতা ছেড়ে সাধারণ এক নারীর সঙ্গে কুঁড়েঘরে শান্তির সংসার চেয়েছিল ডক্টর প্রণয়। সেই স্বপ্নের একমাত্র রানি হিসেবে কেন কেবল নুরকেই স্থান দিয়েছিল সে?
বিষাক্ত ফলের নীল পরিণতি
মুনতাহার গর্ভের সন্তান জন্মের আগেই মারা যাওয়ার পেছনে কোন মারাত্মক বিষের সন্ধান পেলো ডক্টর প্রণয়? এই পৈশাচিক সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে নুরের ভাগ্যে কী ঘটতে চলেছে?
বিষাক্ত অপবাদ ও বটির ধার
সখিনা যখন দাবি করে তার পেটের সন্তানের বাবা স্বয়ং ডাক্তারবাবু, তখন ক্ষিপ্ত বাঘিনীর মতো বটি হাতে তুলে নেয় নুর। গলার ওপর বটি চেপে ধরতেই কার আসল নাম বের হলো?
ধুতুরার বিষে কালান্তক প্রতিশোধ
মায়ের আসল খুনি রঙ্গন—এই সত্য জানার পর বনের কুটিরে ধুতুরার বিষাক্ত রস নিয়ে হাজির হয় নুর। মদ ভেবে বিষপান করা বাঁশিওয়ালার শেষ নিঃশ্বাসের সামনে নুর কোন হিসেব চুকালো?
শিকারির ফাঁদে অসহায় হরিণী
অঙ্গনের ফোন পেয়ে পাঁচফোড়ন গৃহে ছুটে যেতেই পলাশের সাজানো ফাঁদে আটকা পড়ে নুর। শাড়ি ছিঁড়ে নিয়ে নিজের লালসা মেটাতে উদ্যত হওয়া পিশাচের হাত থেকে বাঁচতে কোথায় ছুটবে সে?
রক্তমাখা রাতের শেষ পলায়ন
বাইজি গৃহে স্ত্রীর সম্ভ্রম বাঁচাতে বড়ো ভাইকে হত্যা করে রক্তাক্ত নুরকে নিয়ে ট্রেনের উদ্দেশ্যে পা বাড়ায় প্রণয়। পুলিশের বন্ধুকে সব জানিয়ে ট্রেনের জানালা দিয়ে সিম ফেলে দিয়ে কীসের ইতি টানল সে?
কুয়াশাভেজা ভোরের নতুন ঠিকানা
কার্তিকের বৃষ্টিভেজা স্টেশনে সুজন ও শায়লা ছদ্মনামে নেমে সামান্তা নামের মেয়ের সাহায্যে এক টিনশেড বাড়িতে ওঠে প্রণয় ও নুর। কিন্তু অপরিচিত মানুষের মাঝে এই নিরাপদ আশ্রয় কতক্ষণ টিকবে?
পাঠকদের পছন্দের বই
পড়ার ফাঁকে রকমারি থেকে সংগ্রহ করুন আপনার পছন্দের বই
অভাবের সংসারে ভালোবাসার নীড়
টাকা বাঁচাতে তিন কিলোমিটার পথ হেঁটে আসা স্বামীর ঘাম আঁচল দিয়ে মুছে দেয় নুর। মধ্যরাতে স্ত্রীকে শৌচাগারে পাহারা দেওয়া সুজনের গভীর ভালোবাসা কার চোখে ঘোর বিস্ময় নামিয়ে আনে?
দরজায় কড়া নাড়া বিপদসংকেত
সামান্তার পুলিশ ভাই সারিম বাড়ি ফিরতেই সুজনের আসল পরিচয় নিয়ে ঘনিয়ে আসে কালবৈশাখী। মধ্যরাতে দরজায় চুপিচুপি কড়া নেড়ে সামান্তা কোন বিপদের সতর্কবার্তা জানিয়ে দিলো?
হিংসার বহ্নিশিখা ও অভুক্ত পথচলা
মেয়ের মৃত্যুর বদলা নিতে দেশে ফিরে প্রণয়কে ধ্বংস করার শপথ নেয় রোমানার বাবা। ওদিকে পাহাড়ি পথে নিঃস্ব হয়ে এক টুকরো কুড়িয়ে পাওয়া কলায় পেট চালিয়ে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ে নুর ও প্রণয়।
মাটির ঘরে দেবদূতের আশ্রয়
সেগুন গাছের তলায় মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে থাকা দম্পতিকে নিজেদের মাটির ঘরে নিয়ে গিয়ে পান্তা ভাত খাওয়ায় বৃদ্ধ বুড়ো-বুড়ি। ব্লাউজ ছাড়া খাটো শাড়ি পরা নুরকে দেখে প্রণয়ের বুকে কোন মুগ্ধতা জাগল?
আগুনের ওমে সুরের মোহ
মাটির ঘরে আগুন জ্বালিয়ে স্ত্রীর শরীরে তাপ দেওয়ার সময় আবারও সেই পুরোনো গানের কলি গেয়ে ওঠে প্রণয়। স্বামীর চোখে নিজেকে বুড়ো বয়সের সঙ্গী হিসেবে কল্পনা করে নুরের বুক কেন কেঁপে উঠল?
নাড়ির টানে অশ্রুসিক্ত চিঠি
ছেলের পাঠানো বেনামী চিঠি বুকে চেপে অঝোরে কাঁদে প্রেরণা। অন্যদিকে গর্ভস্থ সন্তানের প্রথম নড়াচড়ার স্পর্শে কেঁদে ফেলা ডক্টর প্রণয়ের বাবার অনুভূতি কতটা স্বর্গীয় হয়ে উঠল?
অন্ধকারের ওত পাতা ছায়া
সখিনার কোলে জন্ম নেয় রঙ্গনের সন্তান, নাম রাখা হয় স্বপ্ন। কিন্তু মুনতাহা প্রেরণার ঘর থেকে প্রণয়ের চিঠি চুরি করে ফেলে। হাট থেকে লাল চুড়ি কিনে ফেরার পথে কার বিষাক্ত চোখ পিছু নিলো প্রণয়ের?
লাল রেশমি চুড়ির মায়াজাল
শার্ট ছাড়া ঘরে ফিরে স্ত্রীর হাতে লাল কাঁচের চুড়ি পরিয়ে দেয় প্রণয়। 'আমার এই বয়স্ক বরকে আমি ছাড়া কেউ বুড়ো বলতে পারবে না'—নুরের এমন আহ্লাদে প্রণয় কী মধুর প্রতিজ্ঞা করল?
প্রসবের যন্ত্রণা ও অন্ধকারের ফাঁদ
ঝড়ের রাতে নুরের অসহ্য প্রসব বেদনায় গাড়ি আনতে গিয়ে অপহৃত হয় প্রণয়। এদিকে কুটিরে একা একাই একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়ে নিথর হয়ে পড়ে নুর!
পিচঢালা রাজপথে পিশাচের উল্লাস
বাঁধা প্রণয়ের দু’পায়ের ওপর দিয়ে দুটি মাইক্রোবাস চালিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা! আঠারো দিন ধরে নামহীন মেয়েকে বুকে নিয়ে পথ চেয়ে থাকা নুরের সামনে হঠাৎ কাকে নিয়ে হাজির হলো অঙ্গন?
পাঠকদের পছন্দের বই
পড়ার ফাঁকে রকমারি থেকে সংগ্রহ করুন আপনার পছন্দের বই
শ্বেতবসনা ডাইনির বিষাক্ত বিষোদ্গার
পাঁচফোড়ন গৃহে ফিরে ভোরের আলোয় সাদা শাড়ি পরা মুনতাহার মুখের স্বীকারোক্তি শুনে শিউরে ওঠে নুর—'দুটি গাড়ি দিয়ে পিষে দিয়েছিলাম তোর বরকে!' সেই বিষবাষ্প এড়িয়ে নুর কোথায় পা বাড়াল?
শূন্যতার বুকচিরে চিঠির বার্তা
বাইজি গৃহের মেঝেতে পড়ে থাকা মায়ের রক্তমাখা তলোয়ার বুকে চেপে দিন কাটাতে থাকে নুর। দীর্ঘ তিন মাস পর অচেনা বাহকের দেওয়া চিঠিতে মেয়ের কী নাম খুঁজে পেলো সে?
কৃত্রিমতার অবহেলা ও গোপন রেকর্ড
নকল পা লাগিয়ে পরিবারের সামনে দাঁড়াতে অস্বীকার করে আত্মমর্যাদাবান প্রণয়। ওদিকে বাইজি গৃহে এসে এসিড ছোঁড়ার হুমকি দেওয়া মুনতাহার স্বীকারোক্তি কীভাবে গোপনে মোবাইলে রেকর্ড করে নিলো নুর?
একতারার সুরে বিরহের আরতি
মেয়ের শেষ চিঠি পড়ে অনুশোচনায় সমস্ত মামলা প্রত্যাহার করে দেশ ছাড়ে রোমানার বাবা। বাইজি গৃহের সিঁড়িতে বোষ্টমীদির একতারার গানে কার বিরহী আঁখি প্রণয়ের জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠল?
অশ্রুজলে অবিনশ্বর পুনর্মিলন
শিউলি গাছের নিচে হুইলচেয়ারে বসা পা-হীন ছেলেকে দেখে মূর্ছা যান মা প্রেরণা। বাইজি গৃহের ফটকে ছুটে এসে স্বামীকে অঙ্গহীন অবস্থায় দেখে কী বলে ডুকরে কেঁদে উঠল নুর?
আত্মসম্মানের শিখরে অনন্ত প্রেম
পঙ্গু স্বামীর সেবার খোঁটা দেওয়া সখিনাকে উপযুক্ত শিক্ষা দিয়ে তাড়িয়ে দেয় অঙ্গন ও নুর। বিদেশের বড়ো চিকিৎসার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে নিজের স্ত্রীর মাঝে কোন পূর্ণতা খুঁজে পায় প্রণয়?
ধ্বংসস্তূপের ওপর নতুন সূর্যোদয়
অভিশপ্ত বাইজি গৃহ ভেঙে সেখানে মাথা তুলে দাঁড়ায় গরীবের হাসপাতাল 'প্রীতি নার্সিং হোম'। সব ঝড়ঝাপটা পেরিয়ে হুইলচেয়ারে প্রণয়ের কোলে মাথা রেখে কোন চিরন্তন সুখের নীড়ে পৌঁছাল নুর?
সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQs)
বাইজি কন্যা (Baiji Konna) উপন্যাসটির মূল পটভূমি কী?
বাইজি কন্যা উপন্যাসের মোট পর্ব সংখ্যা কত এবং এটি কি সমাপ্ত?
বাইজি কন্যা উপন্যাসটির লেখিকা কে?
বাইজি কন্যা কি অনলাইনে বিনামূল্যে পড়া যায়?
বাইজি কন্যা উপন্যাসে নায়ক ও নায়িকা কে?
পাঠক রিভিউ ও রেটিং
0 টি রিভিউ · 1 জন পাঠক
0 টি রিভিউ
রকমারি বেস্টসেলার: বইমেলা কালেকশন
পাঠকদের জন্য এই ঘরানার শীর্ষ ট্রেন্ডিং ও পছন্দের বইসমূহ সংগ্রহ করুন রকমারি থেকে