
ডিভোর্স
বেকারত্বের অপবাদে বিচ্ছেদের পথ বেছে নেয় তানিশা, অথচ এক বছরের ব্যবধানে নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে বদলে যায় দৃশ্যপট। নিঃস্ব সাঈদের জীবনে স্নেহার নিঃস্বার্থ আগমন যখন নতুন ভোরের স্বপ্ন দেখায়, তখনই শুরু হয় অপহরণ, প্রতিশোধ ও রক্তের অন্ধকার খেলা। সাঈদ কি পারবে সব ষড়যন্ত্র ছিন্ন করে স্নেহার পাশে দাঁড়াতে?
ডিভোর্স উপন্যাসটির প্রথম সিজন মোট ২৭টি পর্বে সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে। সম্পূর্ণ কাহিনীর সকল পর্ব নিচে ধারাবাহিকভাবে পড়ার জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।
গল্পের বিশেষত্ব ও হাইলাইটস
অহংকার বনাম নিঃস্বার্থ প্রেম
অর্থের দম্ভে বিচ্ছেদের অপমান পেরিয়ে কীভাবে একজন নারীর নিখাদ ভালোবাসা ধ্বংসস্তূপ থেকে নতুন জীবনের সূচনা করে।
রোমাঞ্চ ও মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার
ভৌতিক বিভ্রম, অপহরণের রোমহর্ষক ফাঁদ এবং পারিবারিক ষড়যন্ত্রের একের পর এক চমকপ্রদ উন্মোচন।
পারিবারিক টানাপোড়েন ও প্রায়শ্চিত্ত
লোভের কারণে রক্তের সম্পর্কের বিচ্ছেদ এবং চূড়ান্ত সত্যের মুখোমুখি হয়ে সম্পর্কের পুনর্মূল্যায়ন।
প্রধান চরিত্রসমূহ
5সাঈদ
নায়ক (Protagonist)ধৈর্যশীল ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন তরুণ। বেকারত্বের দুঃসহ অপমান ও বিচ্ছেদ সহ্য করার পর নিজের মেধা এবং বাবার সম্পদে প্রতিষ্ঠিত হলেও ভালোবাসার খাতিরে নিঃস্বার্থ থাকতে ভালোবাসে।
স্নেহা
নায়িকা (Female Lead)গ্রামের সহজ-সরল ও স্পষ্টভাষী তরুণী। অর্থ-বিত্ত নয়, বরং সাঈদের সৎ ও কোমল হৃদয়ের প্রেমে পড়ে সমস্ত প্রতিকূলতার মুখেও ঢাল হয়ে দাঁড়ায়।
তানিশা
সাঈদের প্রথম স্ত্রী (Antagonist)অর্থলোভী ও চটুল চরিত্রের নারী। স্বামীর বেকারত্বকে মেনে নিতে না পেরে ডিভোর্স দিয়ে নতুন করে সচ্ছল নীলের সাথে সম্পর্কে জড়ালেও পরে অনুশোচনা আর বিপদে দিশেহারা হয়।
নীল
ব্যাংক অফিসার (Supporting/Antagonist)সাঈদের অধীনস্থ জুনিয়র ব্যাংক কর্মকর্তা এবং তানিশার দ্বিতীয় স্বামী। বাহ্যিক ভদ্রতার আড়ালে হিংস্র ও চরম সুবিধাবাদী রূপ লুকিয়ে রাখে।
মায়া
স্নেহার ছোট বোন (Antagonist)বিদেশফেরত উচ্চাভিলাষী তরুণী। অতি লোভ ও ঈর্ষার বশবর্তী হয়ে সাঈদের বিপুল সম্পদ আত্মসাৎ করতে রক্তক্ষয়ী ষড়যন্ত্রের জাল বোনে।
সূচিপত্র ও সিজনসমূহ
27 টি অধ্যায়
প্রথম খণ্ড: ভাঙাগড়া ও ভালোবাসার পরীক্ষা
বিচ্ছেদের তিক্ত অভিজ্ঞতা পেরিয়ে নতুন জীবনের পথে পা বাড়াতেই সাঈদ ও স্নেহা জড়িয়ে পড়ে লোভ ও রক্তের রুদ্ধশ্বাস ষড়যন্ত্রে।
অপমান ও বিদায়ের দলিল
বেকারত্বের কঠোর গঞ্জনা দিয়ে সাঈদকে অস্বীকার করে বসে তানিশা। বিচ্ছেদের দলিলে সই করে সাঈদ শপথ নেয় শহরের সবচেয়ে ধনী হয়ে ফিরে আসার। এক বছর পর ব্যাংক ম্যানেজারের বাগদত্তা হিসেবে তানিশা যখন রেস্তোরাঁয় বসে, ঠিক তখনই পরিচিত এক ছায়া তার চোখে পড়ে। কে ছিল সেই রহস্যময় মানুষটি?
দামি গাড়ির অচেনা অতিথি
নীলের সাথে বিয়ের চূড়ান্ত আয়োজন সেরে তানিশা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে তার ব্যাংক সিনিয়রের দর্শনের জন্য। দামি মার্সিডিজ গাড়ি থেকে রাজকীয় ভঙ্গিতে নেমে আসেন সেই বিশেষ অতিথি। তাঁর চেহারা দেখামাত্র তানিশার সমস্ত পৃথিবী থমকে যায় কেন? কে এই রূপকথার মতো ধনী কর্মকর্তা?
অচেনা গাঁয়ের ছায়াময়ী
বিয়ের আসরে প্রাক্তন স্বামীর এমন চমক দেখে তানিশার বাসর রাত রূপ নেয় চরম অশান্তিতে। তিক্ত স্মৃতি পেছনে ফেলে শহরের কোলাহল ছেড়ে দূর শান্ত গ্রামে আশ্রয় নেয় সাঈদ। সেখানে রাতের অন্ধকারে হঠাৎ এক চঞ্চল গ্রাম্য কিশোরীর মুখোমুখি হয় সে। প্রথম দেখাতেই সাঈদের মনে কীসের দোলা লাগে?
না-বলা কথার কান্না
সাঈদকে নিঃস্ব ও বেকার জেনেও প্রতিদিন পরম মমতায় নিজের হাতে খাবার পৌঁছে দেয় স্নেহা। ধীরে ধীরে গড়ে ওঠা অটুট বন্ধনের মাঝেই হঠাৎ একদিন বিয়ের পোশাকে কাঁদতে কাঁদতে হাজির হয় স্নেহা। পরিবার থেকে জোর করে বিয়ে ঠিক করায় স্নেহা কি সাঈদের কাছে নিজের অধিকার দাবি করতে চলেছে?
শহরের অচেনা রাজপ্রাসাদ
সাঈদের হাত ধরে অচেনা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের পথে পা বাড়ায় স্নেহা। সাঈদকে কপর্দকহীন ভেবে বাবার ঘর থেকে এনে রাখা টাকা পর্যন্ত তুলে দেয় তার হাতে। কিন্তু শহরে পা রাখতেই একের পর এক বিলাসিতার মুখোমুখি হয়ে স্নেহার চোখ ছানাবড়া হয়ে যায়। সাঈদের আসল রূপ দেখে সে কি সহ্য করতে পারবে?
অতিতের ক্ষত ও নতুন বন্ধন
বিশাল বাড়িতে স্নেহার সামনে অতীতের বিচ্ছেদ, বাবার রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার এবং নিজের শূন্যতা উজাড় করে বলে সাঈদ। স্নেহার নিখাদ ভালোবাসা পেয়ে সাঈদ তাকে চার দিনের মাথায় নিজের স্ত্রী হিসেবে বরণ করে। কিন্তু বিয়ের সানাই শেষ হতে না হতেই ফোনে ভেসে আসে তানিশার আর্তনাদ। কী ঘটেছে নীলের ঘরে?
বাসর রাতের জরুরি তলব
ফুলশয্যার রাত ফেলে রেখে স্নেহাকে সাথে নিয়েই হাসপাতালে ছুটে যায় সাঈদ। সেখানে তানিশা নিজের কৃতকর্মের জন্য ভেঙে পড়ে। সাঈদের পাশে নববধূর বেশে অন্য নারীকে দেখে তানিশার চোখের ভাষা বদলে যায়। স্নেহার জন্য একটি বড় রেস্তোরাঁ কেনার সিদ্ধান্ত নিতেই গ্রামের ওপাশ থেকে ভেসে আসে স্নেহার ছোট বোনের দেশে ফেরার খবর।
রেস্তোরাঁর মুখোমুখি আয়না
বিদেশফেরত মায়াকে নিয়ে স্নেহার মা-বাবা শহরের নামকরা এক রেস্তোরাঁয় খেতে বসে। সেখানেই রাজকীয় ভঙ্গিতে প্রবেশ করে নতুন মালিক ও তার অর্ধাঙ্গিনী। টেবিলের ওপাশে স্নেহাকে মূল্যবান অলংকারে ঝলমল করতে দেখে তার বাবার পা থরথর করে কাঁপতে থাকে। তাঁদের সামনে দাঁড়িয়ে সাঈদ কী পদক্ষেপ নেবে?
বাবার অহংকার ও বোনের আগমন
নিজের ভুল মেনে না নিয়ে রেস্তোরাঁতেই মেয়েকে ত্যাজ্য করার কঠোর ঘোষণা দেন স্নেহার বাবা। পরিবারের এই আঘাতে স্নেহা ভেঙে পড়লেও সাঈদ তাকে মমতায় আগলে রাখে। ঠিক তখনই কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই সাঈদের দরজায় এসে দাঁড়ায় মায়া। ভালোবাসার আড়ালে মায়া কি অন্য কোনো দুরভিসন্ধি নিয়ে এসেছে?
বৃষ্টিভেজা ছাদের প্রেম
দুই বোনের খোলামেলা কথার ফাঁকে মায়া তার গোপন সম্পর্কের জটিলতা জানায়। রাতে ঝড়ো হাওয়া আর অবিশ্রান্ত বৃষ্টির মাঝে ছাদে দাঁড়িয়ে স্নেহা ও সাঈদ ডুবে যায় অতল ভালোবাসায়। কিন্তু স্নেহার মিষ্টি আবদারের নিচে কি ঘনিয়ে আসছে কোনো অজানা দুর্যোগ?
পাঠকদের পছন্দের বই
পড়ার ফাঁকে রকমারি থেকে সংগ্রহ করুন আপনার পছন্দের বই
রাজপথের চরম অবমাননা
মায়াকে বিদায় দিয়ে অফিসের কাজে বেরোতেই সাঈদের পথ আগলে দাঁড়ায় তানিশা। পুরনো ভুল ভুলে সাঈদের কাছে ফিরে আসার নির্লজ্জ প্রস্তাব দেয় সে। সাঈদের তীব্র চড় আর অপমানের জবাব শেষ হতে না হতেই পেছন থেকে উন্মত্তের মতো ধেয়ে আসে নীল। রাস্তায় দাঁড়িয়ে কোন অনাকাঙ্ক্ষিত রক্তক্ষরণ ঘটতে চলেছে?
মধ্যরাতের অন্ধকার কবর
নীলের নিষ্ঠুর বেল্টের আঘাতে রক্তাক্ত হয়ে অচেতন তানিশা। সাঈদ বাধা দিতে গেলে নীল তাকে থামিয়ে দেয়। কিন্তু গভীর রাতে নীল কাঁদতে কাঁদতে ফোন করে সাঈদকে এক ভয়ংকর সত্য জানায়—তানিশার নিশ্বাস বন্ধ। নিজেকে বাঁচাতে বনের গভীরে যে লাশ তারা দাফন করে এলো, তার মাশুল কি সাঈদকে দিতে হবে?
মৃতদেহের ছদ্মবেশে জীবিত মুখ
নিজ হাতে যাকে জঙ্গলে কবর দিয়ে এলো, ঘরে ফিরে সাঈদ সেই তানিশাকেই রক্ত-মাংসের শরীরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আতঙ্কে জমে যায়। এ কি কোনো অতৃপ্ত আত্মা নাকি নীলের পাতানো সুগভীর কোনো ফাঁদ? তানিশার মুখ থেকে বের হয়ে আসা সত্য সাঈদের পায়ের তলার মাটি কেড়ে নেয় কেন?
উৎসবের আলোয় অশুভ ছায়া
স্নেহার জন্মদিনের স্মৃতিময় উৎসব শেষ করে গভীর রাতে যখন দুজনে পরম শান্তিতে শুতে যায়, তখনই বাড়ির নিচতলা থেকে ভেসে আসে এক লোমহর্ষক অলৌকিক চিৎকার। আলো নিভে পুরো বাড়ি যখন অন্ধকারে ছেয়ে যায়, সেই বিভীষিকাময় চিৎকারের উৎস খুঁজতে সাঈদ কি নামতে পারবে?
রক্তাক্ত মুণ্ডুর বিভ্রম
জ্বরের ঘোরে স্নেহা ছটফট করছে, আর সাঈদ রাত জেগে তার সেবা করে ক্লান্ত। গভীর রাতে আবার সেই দানবীয় আওয়াজ বেজে ওঠে। মনের সমস্ত সাহস নিয়ে সাঈদ অন্ধকার সিঁড়ি দিয়ে নামতেই তার চোখের সামনে ভেসে ওঠে এক ছিন্নমুণ্ড রক্তাক্ত দেহ। সাঈদের জ্ঞান হারানোর পেছনে কি আসলেই কোনো পৈশাচিক সত্য লুকিয়ে আছে?
প্রযুক্তির আড়ালের ষড়যন্ত্র
বিশেষজ্ঞের কাছে গিয়ে সাঈদ জানতে পারে যে কোনো ভূত নয়, বরং থ্রিডি রিফ্লেকশন দিয়ে তাকে হৃদরোগে মেরে ফেলার অপচেষ্টা চলছে। রাত নামতেই সাঈদ ঘরের অন্ধকারে ওত পেতে বসে থাকে। দেয়ালের আড়াল থেকে ভেসে আসা ফিসফিসানি কণ্ঠটি তার এতটাই পরিচিত মনে হয় কেন? কে পরিচালনা করছে এই নিপুণ খেলা?
দড়ির বাঁধনে বন্দি ভোর
রাতে ছাদে স্নেহার সাথে মিষ্টি স্মৃতি বুনে ঘুমাতে যাওয়ার পর সকালে সাঈদের চোখ খোলে এক নরককুণ্ডে। হাত-পা চেয়ারের সাথে লোহার মতো শক্ত করে বাঁধা, মুখে কাপড় গোঁজা। ওদিকে ঘরে সাঈদকে না পেয়ে স্নেহার ফোনে অচেনা এক নম্বরের কল আসে—১৫ কোটি টাকা না দিলে সাঈদকে আর জীবিত পাওয়া যাবে না। স্নেহা একা এই পাহাড়সম টাকা কোথায় পাবে?
মরিয়া ছুরিকাঘাত ও রক্তের দাগ
সম্পত্তি লিখে দেওয়ার চুক্তির ফাঁকে মেঝেতে পড়ে থাকা ছুরিটি সাঈদের হাতে এসে পৌঁছায়। এক নিমেষে দুই অপহরণকারীকে খতম করে সে রাজপথে পা বাড়ায়, কিন্তু সেখানে ঘটে অন্য বিপর্যয়। অন্যদিকে মুক্তিপণ না পেয়ে অপহরণকারীরা স্নেহাকে ডেকে পাঠায় চরম অবমাননাকর এক শর্তে। স্নেহার কাছে স্বামী না নিজের আত্মসম্মান, কোনটি বড় হবে?
ঝোপের আড়ালে ক্ষতের চিহ্ন
অন্ধকার জঙ্গলের ভেতর পা টেনে টেনে হাঁটতে গিয়ে রক্তাক্ত সাঈদের নিথর দেহের ওপর আছড়ে পড়ে স্নেহা। কোনো গাড়ি না থামায় নিজের ফোনটি অটোরিকশাওয়ালার হাতে তুলে দিয়ে সে স্বামীকে উদ্ধার করে আনে। ঘরে এনে ক্ষত মুছতে মুছতে স্নেহা বুঝতে পারে, জানোয়ারদের থাবা থেকে বাঁচতে এবার আর শহরে থাকা চলবে না।
পলাতক শিকার ও গোপন আস্তানা
গুন্ডাদের বস বুঝতে পারে সাঈদ পালিয়ে গেছে, আর পুরো শহরে ভাড়াটে খুনিদের দল নামিয়ে দেওয়া হয়। জ্ঞান ফিরলেও সাঈদের শরীর দিয়ে অবিরত ঝরছে রক্ত। কোনো উপায় না পেয়ে স্নেহা সিদ্ধান্ত নেয় কাউকে কিছু না জানিয়ে নিরাপদ দূরত্বের এক আত্মীয়ের বাড়ি চলে যাওয়ার। এই রাতে তারা কি নিরাপদে পালাতে পারবে?
পাঠকদের পছন্দের বই
পড়ার ফাঁকে রকমারি থেকে সংগ্রহ করুন আপনার পছন্দের বই
খালার উঠোনে আশ্রয়ের আলো
নিজের কান থেকে সোনার দুল খুলে দিয়ে ড্রাইভারকে বিদায় করে স্নেহা। রেস্তোরাঁ থেকে জমানো টাকা তুলে মাইক্রোবাস ভাড়া করে সাঈদকে সোজা নিয়ে যায় খালার আশ্রয়ে। সেখানে গ্রামীণ ডাক্তারের পরম যত্নে সাঈদের চিকিৎসা শুরু হয়। শহরের শকুনের দল কি তবে এই নিভৃত গ্রামের হদিস পেয়ে যাবে?
নেশার ঘোরে বিষাক্ত নাম
দীর্ঘ এক মাসের চিকিৎসায় সাঈদ অনেকটা সুস্থ হয়ে ওঠে। প্রতিবেশীর বিয়ের আসরে মনের ভুলে পান করা এক গ্লাস পানীয় সাঈদের ভেতর থেকে সব নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেয়। অবচেতন অবস্থায় সাঈদ বারবার কার নাম উচ্চারণ করে স্নেহার বুক চিরে ফেলে? সকালে স্নেহার কঠোর দৃষ্টির সামনে সাঈদ কোন নাম প্রকাশ করবে?
রক্তের বন্ধনে বিষের ছোঁয়া
সাঈদের মুখে নিজের আপন ছোট বোনের নাম শুনে স্নেহার পায়ের তলার মাটি সরে যায়। সাঈদ জানায়, তাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া এবং নীলের শেষ পরিণতির নেপথ্যে ছিল স্বয়ং মায়া। এরই মাঝে খবর আসে স্নেহার মা-বাবা ও মায়া এই খালার বাড়িতেই রওনা দিয়েছে। সাঈদ ও স্নেহা কি সেখানে দাঁড়িয়ে মায়ার মুখোমুখি হতে পারবে?
ধূলিমলিন ঘরের ছদ্মবেশ
মায়ার সাথে সরাসরি সংঘর্ষ এড়াতে গভীর রাতে খালার বাড়ি ছেড়ে শহরে ফিরে আসে সাঈদ ও স্নেহা। কিন্তু নিজেদের শোবার ঘরে ঢুকে তারা দেখে সবকিছু ভাঙচুর করে তছনছ করা হয়েছে। ওদিকে খালার বাড়িতে গভীর রাতে মায়াকে কারও সাথে ফোনে লাশ গুমের নির্দেশ দিতে দেখে স্তম্ভিত হন তার নিজের বাবা। এবার কি বাবার চোখ খুলবে?
পিতার অনুশোচনা ও অশুভ প্রবেশ
স্নেহার বাবা-মা সাঈদের শহরের বাসায় এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং অতীতের ভুলের জন্য ক্ষমা চান। স্নেহার বুকের ভেতর জমে থাকা অভিমান গলে যাওয়ার মুহূর্তে দরজায় ধাক্কা দিয়ে প্রবেশ করে মায়া। তার চোখের নির্লজ্জ চাহনি আর ব্যাঙ্গাত্মক হাসি দেখে সবাই বুঝতে পারে—বড় কোনো রক্তক্ষয়ী তাণ্ডব আসন্ন।
ট্রিগারের টানে বোনঘাতী গুলি
মায়া চারজন সশস্ত্র গুন্ডা নিয়ে এসে সাঈদের সমস্ত সম্পত্তি লিখে দেওয়ার দাবি তোলে। সাঈদ বুদ্ধি খাটিয়ে গুন্ডাদের দিকে বড় অঙ্কের টোপ ফেললে মায়া নিজের পিস্তল তাক করে স্নেহার বুকে। এক ঝটকায় গুলি ছুড়ে দিয়ে মায়া পালিয়ে যায়। রক্তাক্ত বোনকে নিয়ে সাঈদ যখন হাসপাতালে, তখন গ্রামে ফিরে বাবা-মা মায়াকে দেখে হতভম্ব কেন?
প্রায়শ্চিত্তের দহন ও শান্তির নীড়
গোডাউনে আটকে রেখে মায়াকে তার নির্মম কর্মের উপযুক্ত শিক্ষা দেয় সাঈদ। অহংকার চূর্ণ হয়ে মায়া অনুতপ্ত হয়ে নিজের ভুল স্বীকার করে চিরতরে দূরে সরে যায়। সুস্থ হয়ে স্নেহা যখন সাঈদের কাঁধে মাথা রাখে, পরিবারের আশীর্বাদ সাথে নিয়ে শুরু হয় এক অটুট বন্ধন। কেমন হলো তাদের সেই নতুন ভোরের পৃথিবী?
সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQs)
ডিভোর্স (Divorce) উপন্যাসটির মূল কাহিনী কী?
ডিভোর্স উপন্যাসের মোট কয়টি পর্ব রয়েছে?
ডিভোর্স উপন্যাসের প্রধান চরিত্র কারা?
ডিভোর্স উপন্যাসটি কি বিনামূল্যে অনলাইনে পড়া যায়?
ডিভোর্স উপন্যাসটির পরবর্তী সিজন কি আসবে?
পাঠক রিভিউ ও রেটিং
0 টি রিভিউ · 0 জন পাঠক
0 টি রিভিউ
রকমারি বেস্টসেলার: বইমেলা কালেকশন
পাঠকদের জন্য এই ঘরানার শীর্ষ ট্রেন্ডিং ও পছন্দের বইসমূহ সংগ্রহ করুন রকমারি থেকে