
ফুলশয্যা
গায়ের রং কালো হওয়ায় বারবার অবহেলিত পল্লীগ্রামের মেধাবী মেয়ে নীলিমার জীবনে কি এক অদ্ভুত নিয়তি হয়ে আসে শিক্ষক আবির? বিয়ের প্রথম রাতের রূঢ় প্রত্যাখ্যান আর দীর্ঘদিনের মান-অভিমান পেরিয়ে এই অসম দাম্পত্য কি খুঁজে পাবে তাদের আজন্ম প্রতীক্ষিত পরম ফুলশয্যা?
ফুলশয্যা উপন্যাসটির দুটি সিজনই সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে (সিজন ১-এ ১১টি পর্ব এবং সিজন ২-এ ২৬টি পর্ব, সর্বমোট ৩৭টি পূর্ণাঙ্গ পর্ব)।
গল্পের বিশেষত্ব ও হাইলাইটস
বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে এক নারীর মানবিক যুদ্ধ
গায়ের রঙের কারণে সমাজের তীব্র কটাক্ষের মুখে দাঁড়িয়ে এক শ্যামলা মেয়ের চিকিৎসক হয়ে ওঠার আত্মপ্রত্যয়ী আখ্যান।
অভিমান, ত্যাগ ও খাঁটি প্রেমের মনস্তত্ত্ব
প্রথম রাতের তিক্ত প্রত্যাখ্যান থেকে শুরু করে দীর্ঘ ১৮ বছরের দাম্পত্য সাধনায় গড়ে ওঠা এক অতুলনীয় বন্ধন।
যৌথ পরিবারের দ্বন্দ্ব ও আত্মিক রূপান্তর
প্রতিহিংসার বদলে নিঃস্বার্থ ক্ষমার মাধ্যমে শাশুড়ি-বউয়ের সম্পর্ক ও পারিবারিক সংস্কারের হৃদয়স্পর্শী পুনর্নির্মাণ।
প্রধান চরিত্রসমূহ
6মাহমুদুল হাসান আবির
নায়ক (Male Lead)বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলার প্রভাষক। আপাতদৃষ্টিতে গম্ভীর ও রূঢ় মনে হলেও হৃদয়ে পুষে রাখে নীলিমার প্রতি অতল ভালোবাসা ও সীমাহীন সুরক্ষা।
নীলিমা (নীলি)
নায়িকা (Protagonist)পল্লীগ্রামের শ্যামবর্ণা কিন্তু অসম্ভব মেধাবী ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন তরুণী। বহু লাঞ্ছনা ও প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে চিকিৎসক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে।
আবিরের মা
প্রধান বৈরী চরিত্র (Antagonist)সামাজিক আভিজাত্য ও রূপের মোহে অন্ধ এক মা। নীলিমার গায়ের রঙের কারণে শুরু থেকেই তার ওপর পারিবারিক ও মানসিক নিপীড়ন চালান।
লিমা
সহায়ক চরিত্র (Sister)নীলিমার চঞ্চল ও বুদ্ধিমতী ছোট বোন। আবির ও নীলিমার মান-অভিমান ভাঙাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আদিবা
সহায়ক চরিত্র (Elder Sister)আবিরের মমতাময়ী বড় বোন। পরিবারের অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সবসময় সত্য ও নীলিমার পাশে অবস্থান নেয়।
সাইমা
সহায়ক চরিত্র (Cousin)আবিরের স্পষ্টভাষী কাজিন। অতীতের লুকানো সত্য এবং নীলিমার নিঃশব্দ আত্মত্যাগের কথা আবিরের সামনে প্রকাশ করে।
সূচিপত্র ও সিজনসমূহ
37 টি অধ্যায়
প্রথম খণ্ড: সূচনা ও আত্মমর্যাদার সন্ধান
শ্যামবর্ণা নীলিমার জীবনে আবিরের আগমন, প্রথম রাতের অস্বস্তি, ঢাকায় নতুন জীবন এবং অতীত রহস্যের দোলাচলে ভালোবাসার নতুন ভিত্তি স্থাপন।
লজ্জাবতীর ঘোরলাগা বাসর
পারিবারিক তীব্র অমত আর নিন্দুকের কটাক্ষ উপেক্ষা করে কালো মেয়ের গলায় মালা পরায় তরুণ শিক্ষক আবির। কিন্তু বাসরঘরের নিস্তব্ধতায় দীর্ঘ ঘোমটার আড়ালে গুটিসুটি মেরে থাকা বধূটির কাছে গিয়ে যখন সে অধিকারের হাত বাড়ায়, তখন কাঁপাকাঁপা ঠোঁটের জবাবে কি শুধুই পরাজয়ের স্বীকারোক্তি লুকিয়ে ছিল?
অগ্নিদগ্ধ পিঠের আর্তনাদ
রূপ নয়, মনের সৌন্দর্যের গভীর পাঠ দিয়ে বাসর রাতের দূরত্ব ঘুচিয়েছিল আবির। কিন্তু এক মাসের ছুটি পেয়ে আকস্মিক বাড়ি ফিরতেই দরজার আড়ালে কাজের মেয়ের কান্না আর নীলিমার রক্তবর্ণ ক্ষতবিক্ষত পিঠ দেখে স্তব্ধ হয়ে যায় সে। নিজের মায়ের এই নির্মম বর্বরতার মুখে দাঁড়িয়ে আবির এবার কী চরম পদক্ষেপ নেবে?
অপমানের জবাব ও বিদায়
খাবারের টেবিলে মায়ের করা গোপন অবিচার সবার সামনে উন্মোচন করে আবির এক অচিন্ত্যনীয় বিদ্রোহ ঘোষণা করে। পোড়া পিঠের যন্ত্রণা লুকিয়ে রাখা নীলিমাকে আঁকড়ে ধরে আবির যখন চিরতরে সেই বাড়ি ছেড়ে ঢাকার উদ্দেশে পা বাড়ায়, তখন কি রচিত হতে চলেছে পল্লীবালা থেকে এক সফল চিকিৎসকের অভাবনীয় ভবিষ্যৎ?
মেঠোপথের নিস্তব্ধ প্রত্যাখ্যান
মেডিকেল শেষ করে ডাক্তার হওয়া নীলিমা আকস্মিক আবিরকে উপেক্ষা করে অন্য এক যুবকের সাথে গ্রামে পাড়ি জমায়। বুকভাঙ্গা কান্না চেপে গ্রামের পুরোনো পুকুরপাড়ের আমগাছের নিচে দাঁড়িয়ে যখন আবির নীলিমার হাত চেপে ধরে আকুল মিনতি জানায়, তখন নীলিমার পাথুরে মুখ থেকে বেরিয়ে আসা নির্মম প্রত্যাখ্যানের আসল কারণ কী?
ছিঁড়ে ফেলা পাসপোর্টের সত্য
দেশ ছেড়ে চিরতরে পালিয়ে যাওয়ার আগে বন্ধুর বাসায় গিয়ে এক ভয়ংকর সত্যের মুখোমুখি হয় আবির। বার্থডে পার্টির সেই কালরাতের অকথ্য গ্লানি আর নীলিমার নিঃশব্দ কান্নার ইতিহাস শুনে যখন আবির নিজের পাসপোর্ট টুকরো টুকরো করে ছুটে যায়, তখন বন্ধ দরজার ওপাশে নীলিমা কি নিজেকে শেষ করে দেওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে?
এক বিছানার ছলনা
রক্তাক্ত আঙুল চুষে নিয়ে আবির যখন গভীর মমতায় নীলিমাকে নিজ হাতে খাইয়ে দেয়, তখন বহুদিনের দূরত্ব যেন এক পলকে থমকে দাঁড়ায়। কিন্তু একই ঘরে ঘুমানোর দাবি তুলে আবির যখন মিথ্যা সন্তানের আগমনবার্তা নিয়ে পরিবারকে ডেকে আনার অবিশ্বাস্য ফন্দি আঁটে, তখন নীলিমার আত্মসম্মান কি আবারও বিপন্ন হবে?
বৃষ্টিভেজা ছাদ ও অতর্কিত স্পর্শ
ঝুম বৃষ্টির রাতে ছাদের কোণে একাকী কাঁপতে থাকা নীলিমাকে কোলে তুলে ঘরে নিয়ে আসে আবির। ভেজা শাড়ির আড়ালে জমে থাকা তীব্র শীতের কাঁপুনি আর গভীর রাতের ল্যাপটপের দৃশ্য দেখে নীলিমার ভেতরের বাঁধভাঙা আকুলতা কি শেষমেশ আবিরের ঠোঁটে এক অবিশ্বাস্য সমর্পণ ঘটিয়ে দেবে?
বিবাহবার্ষিকীতে মুক্তির দাবি
বিবাহবার্ষিকীর রাতে আবিরের উপহার দেওয়া লাল শাড়ি আর পায়ের নূপুর ছুঁড়ে ফেলে দেয় নীলিমা। বুকভরা ভালোবাসা নিবেদনের পরিবর্তে নীলিমা যখন আবিরের পা জড়িয়ে ধরে একটাই আর্তনাদ তোলে—'আমায় মুক্তি দিন', তখন আকস্মিক চড়ের শব্দে সেই রাতের বাতাস কি চিরতরে স্তব্ধ হয়ে গেল?
নদীর পাড়ের লুকোচুরি
ভোরের আঁধারে পালিয়ে যাওয়া আবিরকে নদীর পাড়ে খুঁজে বের করে শ্যালিকা লিমা। এক লাজুক মেয়ের না-বলা ভাষার গোপন মনস্তত্ত্ব ব্যাখ্যা করে লিমা যখন আবিরের ভেঙে যাওয়া মনে নতুন আশার প্রদীপ জ্বালায়, তখন নীলিমাকে বশে আনতে দুই শ্যালিকা মিলে কী অভূতপূর্ব ষড়যন্ত্র ফাঁদে?
গোপন শর্ত ও ঢাকা যাত্রা
শালিকা ও বান্ধবীদের ঢাকা মেসে থাকার বিপদ দেখিয়ে নীলিমাকে নিজের সাথে যেতে বাধ্য করে ধূর্ত আবির। বন্ধ ঘরে কৌতুকপূর্ণ ভয় দেখানো আর গাড়ির পাশাপাশি সিটে বসে আসার পর, রাতের নিস্তব্ধ বিছানায় আবিরের এক অদ্ভুত কৌতূহলী প্রশ্নের মুখে পড়ে নীলিমা কী জবাব দেবে?
ডায়েরীর পাতা ও রক্তগোলাপ
গভীর রাতে আলমারি থেকে আবিরের গোপন ডায়েরী বের করে ছাদে নিয়ে পড়ে স্তব্ধ হয়ে যায় নীলিমা—যাকে সে আজীবন দূরবর্তী ভেবেছে, সে তো প্রথম দেখার শিমুল গাছতলার সেই পাগল প্রেমিক! অতীতের ডায়েরী খুঁজতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া নীলিমার সামনে দাঁড়িয়ে আবির যখন লাল গোলাপ বাড়িয়ে দেয়, তখন কি ঘুচবে সব দূরত্ব?
দ্বিতীয় খণ্ড: দহন, ত্যাগ ও পূর্ণতার ফুলশয্যা
কঠিন বৈবাহিক অভিঘাত, চরম ভুল বোঝাবুঝি, রক্তাক্ত আত্মত্যাগ এবং দীর্ঘ ১৮ বছরের সাধনায় অর্জিত এক অমর দাম্পত্য পূর্ণতা।
প্রথম রাতের নির্মম খোলস
বিয়ের আসরে বাবার জেদ রক্ষার পর বাসরঘরে ঢুকেই নীলিমাকে কর্কশ কণ্ঠে স্বামীসুলভ অধিকার না খোঁজার হুঁশিয়ারি দেয় আবির। শয্যার সুবাসিত ফুল ঝেড়ে ফেলে মেঝেতে চাদর বিছিয়ে শুয়ে থাকা কিশোরী বধূটি যখন শেষ রাতে তাহাজ্জুদের জায়নামাজে কেঁদে বুক ভাসায়, তখন ওপর থেকে কার অশ্রুসিক্ত চোখ তা প্রত্যক্ষ করে?
ভোরের আয়না ও শাশুড়ির বিষবাণ
সকালের ভেজা চুলে আয়নার সামনে দাঁড়ানো নীলিমাকে দেখে সন্দেহের সুরে বিদ্রূপ করে আবির। অন্যদিকে, শ্বশুরবাড়ির এত প্রাচুর্যের মাঝে রান্নাঘরে প্রথম পা রাখা মাত্রই মৃত বাবার নাম তুলে শাশুড়ির নিষ্ঠুর বাক্যবাণে স্তব্ধ হয়ে যায় কিশোরী নীলিমা—মুখ বুজে সহ্য করার এই অগ্নিপরীক্ষা কতদূর গড়াবে?
মেঝেতে ঘুমন্ত কুঁড়ি
বাথরুমে শাড়ির প্যাঁচে হোঁচট খেয়ে আবিরের ওপর পড়ে যাওয়ার অপ্রস্তুত লজ্জা কাটিয়ে রাতে আবারও মেঝের ধুলোয় বালিশ পাতে নীলিমা। বন্ধুর খোঁঁচামারা কথায় নিজের ভেতরের বর্ণবাদী অহংকার নিয়ে দগ্ধ হতে থাকা আবির যখন গভীর রাতে মেঝে থেকে অচেতন ঘুমন্ত নীলিমাকে কোলে তুলে বিছানায় শোয়ায়, তখন কি জাগছে অনুশোচনা?
লুডুর চাল ও ভাঙা চায়ের কাপ
লুডু খেলায় নীলিমার কাছে হেরে গিয়ে পরিবারের প্রশ্নের মুখে নিজের অপ্রাপ্তবয়স্ক বউকে নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেয় আবির। পরদিন সকালে হাত থেকে চায়ের কাপ ভাঙার অপরাধে শাশুড়ির অকথ্য গালাগালির মুখে নীলিমা যখন প্রথম প্রতিবাদ করে ওঠে, ঠিক তখনই আবিরের বজ্রকঠিন প্রবেশ তাদের জীবনে কী বিপর্যয় ডেকে আনবে?
নগরের রাজপথ ও অবুঝ সংশয়
এক কাপড়ে ঢাকায় পৌঁছে নীলিমা আবিরের কেনা নতুন বই দেখে আনন্দের কান্নায় ভেঙে পড়ে। কিন্তু পাশের ফ্ল্যাটের মেয়েদের গোপন প্রশ্নের মুখে বোকার মতো বাসর রাতের সব ফাঁস করে দেওয়া এবং হঠাৎ পেটে হাত দিয়ে 'বাবু আছে' বলে নীলিমার অবুঝ দাবি আবিরকে কোন চরম অস্বস্তিতে ফেলে দেয়?
শাড়ির কুঁচি ও রাতের কাতুকুতু
স্কুলের বিদায় অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য নীলিমার বায়নায় আবিরের বন্ধু শাড়ি-চুড়ি কিনে আনলে বাঁধে নতুন বিপত্তি—শাড়ি পরতে না পেরে আয়নার সামনে চিরুনি ছুঁড়ে মারে নীলিমা। আবির পরম যত্নে শাড়ির কুঁচি গুঁজে দিতে গিয়ে যখন রোমান্টিক অনুভূতি জানতে চায়, তখন নীলিমার এক চিমটি জবাবে আবিরের সব নেশা কি উবে যায়?
শ্রেণিকক্ষে অপমানের একশো কানমলা
এসএসসি পরীক্ষায় দেশসেরা ফলাফল করে আবিরের কলেজে ভর্তি হয় নীলিমা। কিন্তু বান্ধবীদের দেওয়া 'বাচ্চা হওয়ার গোপন ওষুধ' নিয়ে ক্লাসে আবিরের লাল চোখের তোপের মুখে একশো বার কান ধরে ওঠবসের যে নির্মম শাস্তি নীলিমাকে পেতে হয়, শত সহপাঠীর সামনে সেই অপমানের ক্ষত কি নীলিমাকে আজীবনের মতো বদলে দেবে?
দহনের জ্বর ও ডায়েরীর বিষাদ
অপমানের চরম গ্লানিতে নীলিমা মারাত্মক জ্বরে দগ্ধ হলে আবির অনুশোচনার কান্নায় ভেঙে পড়ে সারারাত সেবা করে। কিন্তু সেই রাতের পর নিষ্পাপ কিশোরী নীলিমা হারিয়ে গিয়ে জন্ম নেয় এক পাথরমানবী—মেডিকেল পাস করে হোস্টেল ছাড়ার দিনে আবিরের হাতে নীলিমার লেখা যে ডায়েরী পড়ে, তাতে কী নিষ্ঠুর প্রতিজ্ঞার সত্য লুকিয়ে ছিল?
ছিন্ন আঙুল ও রক্তিম রাগ
আবিরের ভালোবাসা প্রত্যাখ্যান করে নীলিমা চট্টগ্রামে পালিয়ে গেলে নিজ মায়ের মুখোমুখি হয়—মায়ের নির্মম চাকুর কোপে ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি বিচ্ছিন্ন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে নীলিমা! দুই বছর পর বসন্ত উৎসবের মঞ্চে রুগ্ন, খণ্ডিত হাতের নীলিমা যখন মাইক হাতে খালি গলায় গেয়ে ওঠে বিরহের গান, তখন আবিরের চোখের সামনে কী ঘোর নেমে আসে?
এক রাতের আশ্রয় ও বখাটের ভয়
কলেজের অনুষ্ঠান শেষে আবিরের গাড়ির সামনে পথ আগলে দাঁড়িয়ে এক রাতের জন্য স্টাডিরুমে আশ্রয়ের আকুতি জানায় নীলিমা। কিন্তু পরের দিন সকালেই অটোরিকশা বোঝাই করে নিজের সমস্ত জামাকাপড় আবিরের বাসায় তুলে আলমারি দখল করে বসা নীলিমার মতলবটা আসলে কী?
ঝাঁটা হাতে ঝগড়া ও গ্যাস্ট্রিকের রাত
আবিরকে 'বাচাল' আর 'খাটাশ' উপাধি দিয়ে তুলকালাম কাণ্ড বাধিয়ে দেয় ডাক্তার নীলিমা। কিন্তু গভীর রাতে অনাহারে থাকা নীলিমার পেটব্যথায় কাতরানো আর প্রচণ্ড শীতে তোষকের নিচে ঢুকে কাঁপতে দেখে আবির যখন নিজের উষ্ণ কম্বল জড়িয়ে দেয়, তখন অন্ধকারে কি তাদের পুরোনো অধিকার নতুন করে মাথাচাড়া দিচ্ছে?
বুকের লোম ও সতীন বধের হুংকার
আবিরের গভীর ঘুমে তার বুকে কান পেতে 'রাত্রি' নামের প্রাক্তন ভালোবাসার সন্ধান করতে গিয়ে ধরা পড়ে যায় নীলিমা। পরদিন আবিরের কাজিন সাইমা এসে আবিরের গালে চুমু দেওয়া মাত্রই সবুজ লেহেঙ্গা পরা নীলিমা সিংহীর মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে সাইমাকে আছড়ে ফেলে কী চরম অধিকারের বিস্ফোরণ ঘটায়?
প্রাক্তন রাত্রির ছায়া ও নবম তিথি
সাইমা আবিরকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় নীলিমার পাগলামির মূল শিকড়—অতীতের বিশ্বাসঘাতক প্রেমিকা রাত্রির কলঙ্কিত ইতিহাস আর নীলিমার খাঁটি ভালোবাসার গভীরতা। ৯ম বিবাহবার্ষিকীর রাতে সাজানো ঘরে নীলিমাকে বধূবেশে রেখে আদিবা বিদায় নিলে, পার্টি থেকে ফেরা মাতাল আবির কোন অচেনা ঘোরে পা বাড়ায়?
মাতাল চুম্বন ও ছিন্ন আঙুলের প্রদর্শনী
মাতাল আবিরের উন্মাদ ঘনিষ্ঠতায় সেই রাতের অন্ধকারে সব বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর, সকালে জেগে উঠে আবির নীলিমাকে 'কুকর্ম' করার অপবাদ দিয়ে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেয়। পায়ের কাছে ডিভোর্সের সাদা কাগজ রেখে নীলিমা যখন মোজা খুলে নিজের কাটা আঙুল মেলে ধরে বলে—'ভালোবাসার অপরাধে কাটা গেছে', তখন আবিরের পৃথিবীর মাটি কি কেঁপে উঠল না?
রক্তের ঋণ ও অনুশোচনার দাবানল
শ্যালিকা লিমার ফোনে মা কর্তৃক আঙুল কাটার লোমহর্ষক বর্ণনা এবং সাইমার মুখে মায়ের জীবন বাঁচাতে নীলিমার গোপনে তিন ব্যাগ রক্ত দেওয়ার সত্য শুনে অনুতাপের আগুনে দগ্ধ হয় আবির। নিজের অন্ধ অহংকারের কারণে যে দেবীকে সে পদাঘাত করেছে, কাঠফাটা রোদে ঢাকার অলিগলিতে তাকে খুঁজে পেতে আবির কি পারবে?
মনজমিনের শূন্যতা ও বধূ অপহরণ
রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে 'মনজমিনে বসত করার' আবিরের আকুল আরজি ফিরিয়ে দিয়ে নীলিমা জানিয়ে দেয়—সে একা বাঁচতে চায়। নীলিমাকে হারিয়ে আত্মহত্যার ব্যর্থ চেষ্টার পর আবির সোজা বোনের শ্বশুরবাড়ির অন্ধকার উঠোনে ঢুকে তারা গুনতে থাকা নীলিমার মুখ বেঁধে কাঁধে তুলে কোন পাগলাটে কাণ্ড ঘটিয়ে বসে?
কুয়াশার রাজপথ ও ট্রাফিক চেকপোস্ট
কঙ্কালের গেঞ্জি দেখে নীলিমার অজ্ঞান হওয়া, মাঝপথে ট্রাফিক পুলিশের হাতে ধরা পড়ে বন্ধু সজিবের সামনে রোমান্টিক জেরার মুখে পড়া—সব ঝঞ্ঝাট পেরিয়ে মাঝরাতে নীলিমাকে বাসায় এনে তোলে আবির। কিন্তু নিজের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার উন্মাদনায় বিছানার দিকে এগোতেই নীলিমা কেন ভয়ে কাঁপে?
লুঙ্গি পরা ডাক্তার ও স্যারের রিকশা
রাতের ঘনিষ্ঠতার পর সকালে নীলিমার পোশাকে তালা লেগে যাওয়ায় আবিরের পাঞ্জাবি-লুঙ্গি পরে বসে থাকার চরম হাস্যকর দৃশ্য দেখে আবির হাসিতে লুটিয়ে পড়ে। লজ্জায় ক্ষুব্ধ নীলিমা বাড়ি ছেড়ে অচেনা এক বৃদ্ধের রিকশায় চড়ে পালালে, সেই বৃদ্ধ যে আবিরের কলেজেরই সহকর্মী শিক্ষক—তা জেনে নীলিমার অবস্থা কী হয়?
ভাঙা চশমা ও মরিচপোড়া ঠোঁট
বাসায় ফিরে আবিরের শীতল উদাসীনতায় ক্ষেপে গিয়ে ঘরের বালিশ-তোশক চুবিয়ে, আবিরের চশমার কাঁচ কামড়ে নিজের ঠোঁট রক্তাক্ত করে ফেলে নীলিমা। চিৎকার শুনে রান্না ফেলে ছুটে আসা আবিরের হাতের গুঁড়ো মরিচ সেই ক্ষতে লাগতেই যন্ত্রণায় পাগল নীলিমার ঠোঁটে আবির কোন পাগলাটে নিরাময় ঢেলে দেয়?
ঝড়ের গর্জন ও ড্রিমলাইটের বাঁধন
সারাদিনের নিদারুণ উপেক্ষায় নীলিমার সাজগোজের সমস্ত আয়োজন ধুলোয় মিশে যায়। বাইরে যখন তুমুল কালবৈশাখীর তাণ্ডব, তখন স্টাডিরুমের আঁধারে এসে দাঁড়ানো আবিরের চোখে শুধুই ভালোবাসার আকুতি—রূপকথার রাজ্যের মতো সেই এক ঘণ্টার স্তব্ধতায় নীলিমা কি নিজেকে বিলিয়ে দেবে পরম তৃষ্ণায়?
ভোরের বমি ও গোপন সুসংবাদ
গ্রাম থেকে মা ও বোনকে ঢাকায় আনিয়ে নীলিমাকে আনন্দে ভরিয়ে দেয় আবির। কিন্তু কয়েকদিন পরই ভোরের খাবারের টেবিলে নীলিমার মারাত্মক বমি আর পরদিনের গোপন টেস্ট স্ট্রিপ ফার্মেসিতে পরীক্ষা করে আবির যখন ছুটে আসে, তখন পেছনের জড়িয়ে ধরা বাহুতে কোন অনাগত জীবনের পদধ্বনি বাজে?
মধ্যরাতের কলা ও কুসংস্কারের চোখরাঙানি
গর্ভবতী নীলিমাকে গ্রামে পাঠিয়ে একা ঢাকায় থাকতে না পেরে ছয় মাসের ছুটি নিয়ে গ্রামে ছুটে আসে আবির। কিন্তু পুষ্টিকর খাবার খাওয়ালে 'বাচ্চা বড় হয়ে মরবে' আর 'কালো মাছ খেলে বাচ্চা কালো হবে' বলে শাশুড়ির মধ্যযুগীয় কটূক্তির মুখে পড়ে রাতের অন্ধকারে চুপিচুপি কলা খাওয়া নীলিমাকে আবির কীভাবে আগলে রাখবে?
ফুলে ওঠা পা ও গোপন রান্না
সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা নীলিমার পা যখন ফুলে তালগাছ, তখন মায়ের চোখ ফাঁকি দিয়ে রান্নাঘরের মেঝেতে চেয়ার পেতে নীলিমাকে বসিয়ে নিজেই রাঁধুনী সাজে আবির। কিন্তু খানদানি বংশের অহংকার দেখিয়ে শাশুড়ি যখন নীলিমাকে উপবাসের মুখে ঠেলে দেয়, তখন এমবিবিএস ডাক্তার নীলিমা কেন মুখে কুলুপ এঁটে থাকে?
অস্ত্রোপচারের টেবিল ও জোড়া চাঁদের হাসি
আবির এয়ারপোর্টে যাওয়ার সুযোগে প্রসব যন্ত্রণায় ছটফট করা নীলিমাকে হাসপাতালে না নিয়ে দাই দিয়ে অপচিকিৎসার ব্যবস্থা করে শাশুড়ি। শেষ মুহূর্তে এসে দরজা ভেঙে নীলিমাকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া আবির যখন অপারেশন থিয়েটারের বাইরে দিশেহারা পায়চারি করছিল, তখন ডাক্তার এসে কী চমকপ্রদ খবর দিল?
কালো নাতনির অবহেলা ও মধ্যরাতের কান্না
একসাথে জন্ম নেওয়া দুই সন্তানের মধ্যে ফর্সা ছেলে নীলয়কে বুকে টেনে নিয়ে কালো মেয়ে আদিরাকে সোফায় ফেলে দেয় দাদী! দুই বছর পর ঢাকা থেকে ফিরে আবির যখন দেখে কালো হওয়ার অপবাদে তার নিষ্পাপ ছোট্ট মেয়েকে চরম লাঞ্ছনা সইতে হচ্ছে, তখন নিজের জন্মদাত্রী মায়ের বিরুদ্ধে আবির কী চরম বিস্ফোরণ ঘটাতে উদ্যত হয়?
প্রতিদানের জয় ও আঠারো বছরের ফুলশয্যা
শাশুড়ির ফর্সা হওয়ার ক্রিমের তাচ্ছিল্যের মুখে আবির যখন সম্পর্ক ছেদ করতে উদ্যত হয়, তখন জসীমউদ্দীনের 'প্রতিদান' কবিতার আদর্শে আঘাতের বদলে ভালোবাসার ঢাল হয়ে শাশুড়িকে অনুশোচনার কান্নার স্রোতে ভাসিয়ে দেয় নীলিমা। দীর্ঘ আঠারো বছর পেরিয়ে গলার সোনার হার আর পূর্ণিমার হাসিতে যে গান বেজে ওঠে, সেটাই কি তাদের জীবনের আসল ফুলশয্যা?
সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQs)
ফুলশয্যা (Fulshajja) উপন্যাসটির মূল বিষয়বস্তু কী?
ফুলশয্যা উপন্যাসের মোট কয়টি পর্ব ও সিজন রয়েছে?
ফুলশয্যা উপন্যাসের লেখিকা কে?
ফুলশয্যা উপন্যাসটি কি বিনামূল্যে অনলাইনে পড়া সম্ভব?
ফুলশয্যা উপন্যাসের সিজন ২ কি সমাপ্ত নাকি চলমান?
পাঠক রিভিউ ও রেটিং
0 টি রিভিউ · 0 জন পাঠক
0 টি রিভিউ