হৃদ রোগ
বাসের ভিড়ে প্রথম দেখায় অচেনা এক যুবকের বাদামি চোখে হারিয়ে যায় চঞ্চল তরুণী সুদেষ্ণা। কিন্তু সেই ভালোলাগার কথা জানাতে গিয়ে যখন জুটল চরম অবহেলা ও উপহাস, তখন কি একতরফা প্রেম পরিণত হবে চিরস্থায়ী অভিমানের ক্ষততে?
সিজন ১ সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে (মোট ২৫ পর্ব)। সকল পর্ব অনলাইনে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পড়ার জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।
গল্পের বিশেষত্ব ও হাইলাইটস
প্রথম দেখায় হৃদরোগ ও অদ্ভুত টান
বাসে ক্ষণিকের চোখের দেখায় শুরু হওয়া একতরফা ভালোলাগা, যা রূপ নেয় আজন্ম ভালোবেসে যাওয়ার একগুঁয়ে জেদে।
কলেজ ক্যাম্পাস ও খাঁটি বন্ধুত্বের মেলবন্ধন
চন্দননগর কলেজের স্ট্যান্ড, ক্লাসরুমের আড্ডা আর বিপদে-আপদে একজোট হয়ে লড়াই করা নিবিড় বন্ধুত্বের প্রাণবন্ত গল্প।
অভিমান ও প্রচ্ছন্ন অধিকারবোধের সংঘাত
কঠিন পুরুষের নীরব শাসন এবং কোমল হৃদয়ের নিঃশব্দ প্রেম নিবেদনের এক মন ছুঁয়ে যাওয়া রসায়ন।
প্রধান চরিত্রসমূহ
6সুদেষ্ণা (সু)
নায়িকা (Protagonist)চন্দননগর কলেজের গণিত বিভাগের প্রথম বর্ষের শান্ত ও কল্পনাবিলাসী ছাত্রী। হিমাদ্রর প্রতি তীব্র ভালোবাসা ও আত্মমর্যাদাবোধে আপসহীন।
হিমাদ্র রায় চৌধুরী
নায়ক (Male Lead)কলেজ প্রিন্সিপালের জ্যেষ্ঠ পুত্র ও মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। রাশভারী, গম্ভীর ও আপাতদৃষ্টিতে কঠিন হৃদয়ের হলেও গভীর অনুভূতির অধিকারী।
অনুরীমা (অনু)
সুদেষ্ণার ঘনিষ্ঠ বান্ধবীচঞ্চল, চটপটে ও হাসিখুশি স্বভাবের মেয়ে। যে কোনো সংকটে সুদেষ্ণার পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়ায়।
স্নেহা
সুদেষ্ণার ঘনিষ্ঠ বান্ধবীশান্ত, বুদ্ধিমতী ও বাস্তববাদী তরুণী। সুদেষ্ণার আবেগ ও বাস্তবতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে সাহায্য করে।
আকাশ
বন্ধুমহলের সদস্যআনন্দপ্রিয় ও মজাদার তরুণ, যার রসিকতা ও খুনসুটি পুরো দলের প্রাণশক্তি জোগায়।
সুতৃষ্ণা
সুদেষ্ণার বড় বোনসংসারী ও দায়িত্বশীল দিদিভাই, যার অতীতের এক না-বলা বিচ্ছেদ হিমাদ্র ও সুদেষ্ণার সম্পর্কের সমীকরণ বদলে দেয়।
সূচিপত্র ও সিজনসমূহ
25 টি অধ্যায়
প্রথম খণ্ড: সূচনা ও আত্মনিবেদন
বাসের এক অচেনা দৃষ্টি থেকে শুরু হওয়া ভালোবাসার প্রকাশ, চন্দননগর কলেজ ক্যাম্পাসের খুনসুটি এবং অভিমানী হৃদয়ের মিলনগাঁথা।
বাদামি চোখের ঘোর
কলেজ ক্যাম্পাসের ওপারে সবুজ বেঞ্চে বসা এক যুবকের দিকে তাকিয়ে হঠাৎ থমকে দাঁড়ায় সুদেষ্ণা। এক মাস আগে চুঁচুড়ার বাসে বসা সেই ক্ষণিকের চাহনি কি সত্যিই তার সমস্ত সত্তা কাঁপিয়ে দেওয়া কোনো কালান্তক সর্বনাশ ছিল?
নির্ঘুম রাতের অনুরণন
বাসের পাশের শূন্য আসনটার দিকে তাকিয়ে এক অচেনা হাহাকার গ্রাস করে সুদেষ্ণাকে। যে মেয়ে কখনো ভালোবাসায় বিশ্বাস করেনি, বান্ধবীদের সামনে তার ঝরে পড়া অশ্রু কি তবে সেই না-জানা পরিচয়ের চরম আত্মসমর্পণ?
অচেনা যুবকের পিছুটান
অনুর বাড়ির গেট পেরিয়ে বের হতেই মরুভূমির মাঝে এক পশলা বৃষ্টির মতো সামনে উদয় হয় সেই কাঙ্ক্ষিত মুখ। নামহীন এই যুবকের দিকে ছুটে যাওয়ার আগেই বাইকের ধোঁয়া কি তবে চিরতরে মুছে দেবে সাক্ষাতের সম্ভাবনা?
নামহীন ব্যথার ডাক
কলেজ স্ট্যান্ডের বটতলায় যখন বন্ধুদের হাসি-ঠাট্টা চলছে, সুদেষ্ণার বুকের ভেতর তখন তোলপাড় করছে এক নামহীন যন্ত্রণা। বান্ধবীদের হাত ছাড়িয়ে সে যখন দলের ভিড়ে এক পা বাড়ায়, সেই পুরুষালি কণ্ঠ কি তার অপেক্ষার অবসান ঘটাবে?
আত্মমর্যাদার নির্মম আঘাত
কাঁপাকাঁপা কণ্ঠে এক নিশ্বাসে ভালোবাসার কথা জানিয়েই হিমাদ্রর ঠোঁটে দেখতে পায় তাচ্ছিল্যের হাসি। ১৮ বছরের কিশোরীর পবিত্র অনুভূতিকে যখন আবেগ বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়, তখন কি অষ্টাদশী ফিরে যাবে নাকি জ্বালিয়ে দেবে জেদের আগুন?
গোপনীয় চিঠির দুঃসাহস
সামনে না আসার শপথ নিলেও হিমাদ্রর বাড়ির লেটারবক্সে এক নিঃশব্দ চিঠি ফেলে দিয়ে আসে সুদেষ্ণা। বান্ধবীদের কৌতূহলী চোখের সামনে তার রহস্যময় হাসি কি কোনো আসন্ন ঝড়ের পূর্বাভাস বয়ে আনবে?
খামে মোড়ানো নিষিদ্ধ বার্তা
লিপস্টিকের দাগ দেওয়া এক রহস্যময় খাম নিয়ে রায় চৌধুরী ভিলা তোলপাড় করে তোলেন প্রিন্সিপাল হেমন্ত রায় চৌধুরী। বাবার তর্জন-গর্জনের সামনে নির্লিপ্ত দাঁড়িয়ে থাকা হিমাদ্র কি জানবে এই ডাক কোথা থেকে এসেছে?
হৃদ মাঝারে গোপন অসুখ
'কঠিন পুরুষ' সম্বোধনে লেখা চিঠি পড়ে মা রেখা রায় চৌধুরী যখন বৌমা করার স্বপ্নে বিভোর, ক্লাসের জানালায় অন্য মেয়ের দিকে হিমাদ্রকে তাকাতে দেখে সুদেষ্ণার ভেতর জ্বলে ওঠে অসহ্য দাবানল। এই হিংসা কি বড় কোনো কাণ্ড ঘটাবে?
দূরত্বের অচেনা মঞ্চ
নবীনবরণের নাচের তালিকায় জোর করে নিজের নাম ওঠার পর ক্ষোভে ফেটে পড়ে সুদেষ্ণা। কিন্তু মিটিংয়ের হলরুমে কালো শার্ট পরা হিমাদ্রকে দেখে তার সমস্ত দ্বিধা কি আবার এক অনির্বচনীয় আকর্ষণে থমকে যাবে?
নীল ও কালোর টানাপোড়েন
হিমাদ্রর জন্য ভালোবেসে কেনা কালো পাঞ্জাবিটা কি সে গায়ে জড়াবে? কলেজ গেটে অন্য রঙের পোশাকে তাকে ঢুকতে দেখে সুদেষ্ণার বুকের এক কোণে জেগে ওঠে শূন্যতা, কিন্তু মঞ্চে নিজের নাম উঠতেই বুক কেন ঢাকের মতো বাজে?
চঞ্চল চোখের অদ্ভুত দ্যুতি
রবীন্দ্রসংগীতের ছন্দে সুদেষ্ণার চঞ্চল নৃত্য স্তব্ধ করে দেয় পুরো ক্যাম্পাসকে। অনুষ্ঠান শেষে অচেনা এক সুদর্শন তরুণের মোহমুগ্ধ প্রশংসা যখন সুদেষ্ণাকে ঘিরে ধরে, স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকা হিমাদ্রর নিথর শান্ত চোখে কি লুকিয়ে ছিল তীব্র কোনো ক্রোধ?
গোধূলির আলোয় না-বলা কথা
ছাদের রেলিংয়ে বিষণ্ণ দাঁড়িয়ে থাকা সুদেষ্ণার চোখে যখন কাউকে না পাওয়ার ভয়, তখনই দিদিভাই সুতৃষ্ণা উচ্চারণ করে জীবনের নির্মম এক সত্য। ভালোবেসেও কি সবকিছু ছেড়ে দিতে হয়, নাকি এই সমর্পণের আড়ালে রয়েছে অন্য কোনো রহস্য?
পথরোধের অতর্কিত সীমানা
কলেজ ক্যান্টিনে বন্ধুদের সাথে অয়নের আড্ডার রেশ কাটিয়ে একা বাড়ি ফিরছিল সুদেষ্ণা। নিস্তব্ধ রাস্তায় হঠাৎ সামনে এসে দাঁড়ায় সেই পাষাণ মানব হিমাদ্র—স্বপ্ন নাকি বাস্তবের মুখোমুখি দাঁড়াল অষ্টাদশী?
শাসনের আড়ালে প্রচ্ছন্ন অধিকার
'তোমাকে যেন আর অয়নের সাথে না দেখি'—হিমাদ্রর এমন তীব্র শাসনে কেঁপে ওঠে সুদেষ্ণার অস্তিত্ব। যে মানুষ তাকে প্রত্যাখ্যান করেছিল, সে কেন এত অধিকার নিয়ে সামনে দাঁড়াল? তবে কি হিমাদ্র সত্যি কোনো অনুভূতি লুকিয়ে রেখেছে?
বিয়ের খবরে বুকভাঙা নিঃশব্দতা
পরীক্ষা শেষে যখন সুদেষ্ণা আবার হিমাদ্রকে একপলক দেখার দিন গুনছিল, অনিকের এক নির্মম সংবাদে পুরো ক্যাম্পাসের আকাশ যেন ভেঙে পড়ে তার মাথায়। প্রিন্সিপালের বন্ধুর মেয়ের সাথে সত্যি কি হিমাদ্রর বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে?
পারিবারিক চাপের অগ্নিপরীক্ষা
রায় চৌধুরী ভিলায় হেমন্ত রায় চৌধুরীর ক্রমাগত বিয়ের চাপের মুখে দাঁড়িয়ে নীরব হিমাদ্র কেন দাবি করল কিছুটা সময়? সে কি অন্য কারও স্মৃতি হৃদয়ে লালন করছে, নাকি এই বিয়ে ভাঙার পেছনে রয়েছে কোনো গোপন সংকল্প?
শীতের আমেজে আনন্দ মেলা
ডিসেম্বরের ফ্যামিলি পিকনিকে বাসের গানে গানে যখন সবার মুখে উপচে পড়া আনন্দ, সুদেষ্ণা তখন নিজের ক্ষতস্থান লুকানোর চেষ্টায় ব্যস্ত। পার্কের কোলাহলে সেই আনন্দ কি টিকবে, নাকি তার ভাগ্যে অপেক্ষা করছে এক অনাকাঙ্ক্ষিত মোড়?
প্রচ্ছন্ন বার্তার নতুন সংকেত
পিকনিকের ভিড়ের মাঝে হঠাৎ কারোর চেনা গম্ভীর ডাকে বুক কেঁপে ওঠে সুদেষ্ণার। মুখ ফিরিয়ে চলে যেতে চাইলেও হিমাদ্রর শান্ত ঘোষণা—'তোমাকে এখন ছাড় দিচ্ছি, পুরো ছেড়ে দিচ্ছি না'—এর অর্থ কী হতে পারে?
অশ্রুসিক্ত পাত্র দেখার সকাল
দিদিভাই আর ভাগ্নি সুদিতি আসায় খুশিতে ডানা মেললেও ছাদের রোদে এক নির্মম বজ্রপাতে স্তব্ধ হয়ে যায় সুদেষ্ণা। আজই তাকে পাত্রপক্ষ দেখতে আসবে—নিজের পড়াশোনা ও হিমাদ্রর স্মৃতি বিসর্জন দিয়ে সে কি বাধ্য হবে মেনে নিতে?
আকস্মিক ছোঁয়া ও গোপন শিহরণ
ব্যালকনিতে একা দাঁড়িয়ে থাকা অভিমানী সুদেষ্ণাকে দুই বাহুতে জড়িয়ে ধরে হিমাদ্র। কান্নারত অষ্টাদশীর অভিযোগের মাঝেই যখন সে হঠাৎ কেড়ে নেয় অধরের ছোঁয়া, তখন কি সমস্ত অবহেলা রূপ নিল উন্মত্ত ভালোবাসায়?
পদ্মফুলের গভীর আকর্ষণ
থার্টি ফার্স্ট নাইটের কোলাহলে হিমাদ্রর বারংবার ফোন ও রহস্যময় বার্তা পেয়ে নিচে নেমে আসে সুদেষ্ণা। গাড়ির বন্ধ কাচের আড়ালে 'পদ্মফুল' সম্বোধনে ডাক দিয়ে হিমাদ্র কোন ভালোবাসার হিসাব চুকিয়ে নিতে চায়?
অতীতের ক্ষত ও রক্তক্ষরণ
গাড়ির নিস্তব্ধতায় হিমাদ্র ফাঁস করে তাদের দুই পরিবারের এক চাপা সত্য—তার দাদা হিমালয় ও সুদেষ্ণার দিদি সুতৃষ্ণার পুরোনো প্রেম ও বিচ্ছেদের হাহাকার। এই অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতাই কি হিমাদ্রকে এত পাষাণ বানিয়ে রেখেছিল?
ভাঙা কাঁচের জোড়া লাগা
দিদিভাইয়ের কাছে অতীতের সত্য ও নিরুপায় ত্যাগের কাহিনী শুনে সমস্ত ভুল বোঝাবুঝি মিলিয়ে যায় সুদেষ্ণার মন থেকে। বিয়ের দিনক্ষণ পাকা হয়ে যাওয়ার পরেও প্রিয় মানুষটার দেখা না পেয়ে কেন আকুল হয়ে ওঠে নববধূর মন?
পূর্ণিমার আলোয় যুগল শপথ
বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ব্যালকনিতে শীতের চাদরে হিমাদ্রর বুকে মাথা রাখে সুদেষ্ণা। বহুদিনের প্রতিক্ষিত একটি বাক্য—'ভালোবাসি আমার পদ্মফুল'—কি তাদের নতুন জীবনের অনন্ত বন্ধন লিখে দিল?
কুয়াশাভেজা রাতের স্বীকারোক্তি
মাঝরাতের চন্দননগর ঘাটে ধোঁয়া ওঠা গরম চায়ের কাপ হাতে দাঁড়িয়ে এক অবিশ্বাস্য সত্য জানতে পারে সুদেষ্ণা। সেই প্রথম বেনামী চিঠি আর কালো পাঞ্জাবি সিসিটিভিতে দেখার অনেক আগে থেকেই কি হিমাদ্র তাকে মনে মনে ভালোবাসত?
কোনো অধ্যায় খুঁজে পাওয়া যায়নি।
সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQs)
হৃদ রোগ (Hrid Rog) উপন্যাসটির মূল কাহিনী কী?
হৃদ রোগ উপন্যাসের মোট কয়টি পর্ব রয়েছে এবং এটি কি সমাপ্ত?
হৃদ রোগ উপন্যাসের লেখিকা কে?
হৃদ রোগ উপন্যাসটি কি বিনামূল্যে অনলাইনে পড়া যায় নাকি PDF ডাউনলোড করতে হবে?
হৃদ রোগ উপন্যাসের দ্বিতীয় পর্ব বা পরবর্তী সিজন কি আসবে?
পাঠক রিভিউ ও রেটিং
0 টি রিভিউ · 0 জন পাঠক
0 টি রিভিউ