লাজুকপাতা
পলাশবাড়ীর শিকদার বাড়ির শান্ত মেয়ে জরী বিয়ে হয়ে আসে ঢাকার এক জটিল যৌথ পরিবারে। রাশভারী স্বামী নাবিদের যত্ন, শাশুড়ির নিত্য অসন্তোষ আর মাতৃহীন দুই ফুটফুটে ভাতিজিকে আগলে রাখার লড়াইয়ে সে কি খুঁজে পাবে নিজের একান্ত ঠিকানা, নাকি এক পুরোনো গোপন ছবির রহস্য এলোমেলো করে দেবে সব?
উপন্যাসটির প্রথম সিজন (২৪ পর্ব) সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে। গল্পের সমস্ত পর্ব অনলাইন পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত।
গল্পের বিশেষত্ব ও হাইলাইটস
যৌথ পরিবারের খাঁটি বাস্তবচিত্র
মধ্যবিত্ত একান্নবর্তী পরিবারের ভেতরকার ঈর্ষা, স্বার্থপরতা ও মান-অভিমানের এক নিরেট জীবন্ত আখ্যান।
মাতৃত্বের সীমানা পেরোনো আত্মত্যাগ
রক্তের সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও দুই মাতৃহীন শিশুকে নিজের স্নেহের আঁচলে আগলে রাখার এক মহীয়সী রূপান্তর।
ধীরগতির নিবিড় দাম্পত্য
অচেনা এক পুরুষের সাথে শুরু হওয়া বিয়ের সম্পর্ক কীভাবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস ও গভীর ভালোবাসায় পরিণতি পায়।
প্রধান চরিত্রসমূহ
5জেরিন জাহান জরী
নায়িকা (Protagonist)পলাশবাড়ীর শিকদার বাড়ির মিষ্টি, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও ব্যক্তিত্বময়ী তরুণী। অল্প বয়সে বিয়ে হলেও নিজের অধ্যবসায় ও স্নেহের শক্তিতে প্রতিকূল সংসারে নিজের জায়গা গড়ে তোলে।
নাবিদ
নায়ক (Male Lead)পরিবারের মেজো ছেলে, বেসরকারি চাকরিজীবী। গম্ভীর ও মুখচোরা স্বভাবের হলেও জরীর প্রতি তার টান অতল এবং স্ত্রীর প্রতিটি পদক্ষেপে সে নিঃশব্দ ছায়ার মতো নির্ভরযোগ্য।
টাপুর ও টুপুর
জরীর স্নেহের ভাতিজিদ্বয় (Twin Nieces)ভাসুর জামিলের জমজ দুই মেয়ে। মায়ের বিচ্ছেদে অনাদরে বেড়ে ওঠা এই দুই নিষ্পাপ শিশু জরীর মাঝেই খুঁজে পায় তাদের পরম আশ্রয়।
শাশুড়ি আম্মা
পরিবারের কর্ত্রী (Antagonist/Matriarch)নিত্য খুঁতখুঁতে ও অসন্তুষ্ট মেজাজের নারী। পরিবারের কর্তৃত্ব ও ছোটখাটো বিষয় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করাই যার নিত্যদিনের স্বভাব।
পরী আপা
জরীর বড় বোন (Confidante)মুন্সীগঞ্জে বসবাসরত জরীর বড় বোন। জরীর মানসিক শক্তি, জীবনের সুপরামর্শদাতা এবং বিপদের পরম সান্ত্বনা।
সূচিপত্র ও সিজনসমূহ
24 টি অধ্যায়
প্রথম খণ্ড: শিকড় ও ঠিকানা
পলাশবাড়ীর মায়া কাটিয়ে অচেনা ঢাকায় পদার্পণ, একান্নবর্তী পরিবারের তিক্ত-মধুর সংঘাত পেরিয়ে জরীর আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠার আবেগঘন পথচলা।
অচেনা বর ও নতুন শুরু
বিয়ের সানাই আর পোলাও-মাংসের সুবাসে মুখর পলাশবাড়ীর বাড়িটিতে হঠাৎই নেমে আসে থমথমে বিষাদ। বরপক্ষের দেরির আশঙ্কায় যখন বুক কাঁপছে জরীর, তখনই বাসরঘরে পা রাখা সেই গম্ভীর যুবকের প্রথম শর্ত কি ভবিষ্যতের কোনো কঠিন সংকেত?
বিদায়বেলা ও অচেনা পথ
চিরচেনা উঠোন পেছনে ফেলে অচেনা এক পুরুষের হাত ধরে অজানার পথে পা বাড়ায় জরী। বাবার চোখের অশ্রুবিন্দু আর অচেনা স্বামীর মুখে এক ফোঁটা পানির আকুতি—নতুন এই জীবনে জরী কি সত্যি নিজের অস্তিত্ব খুঁজে পাবে?
নতুন ছাদ ও চেনা সংশয়
দোতলার পুরোনো বাড়িটিতে শাশুড়ির গম্ভীর মেজাজ আর দুই ননদের বাঁকা চোখের মাঝে জরীর আশ্রয় হয়ে ওঠে দুই মাতৃহীন শিশু। এর মাঝেই নাবিদের বাড়িয়ে দেওয়া চারখানা নোট আর একটাই প্রশ্ন—জরীর জীবনের পুরোনো স্বপ্ন কি তবে সত্যি হতে চলেছে?
হাতের জাদুতে মন জয়
অসুস্থ শাশুড়ির থমথমে রান্নাঘরে নিজের জাদুকরী স্বাদের বিস্তার ঘটিয়ে সবাইকে চমকে দেয় জরী। কিন্তু টেবিলে প্রশংসার তোড়ে যখন আলোড়ন, তখনই ননদের মুখে ফাঁস হয়ে যাওয়া এক পুরোনো জেদ জরীর মনে কোন নতুন বিস্ময়ের জন্ম দেয়?
শীতের ভোরে উষ্ণ স্পর্শ
দূরত্বের কুয়াশা কাটিয়ে এক হিমেল ভোরে একই কম্বলের ওমে জড়িয়ে পড়ে দুটি দ্বিধান্বিত হৃদয়। দাড়িওয়ালা গালের স্পর্শে শিহরিত জরী কি পারবে নিজের ভেতর জমে থাকা সমস্ত লজ্জা আর দ্বিধাকে বিসর্জন দিয়ে নাবিদের ডাকে সাড়া দিতে?
নতুন প্রাঙ্গণে পা
তিতুমীর কলেজের দরজায় পা রাখার সুযোগ পেলেও শাশুড়ির বাঁকা কথা যেন কাটতেই চায় না। এর মাঝেই মাতৃহীন টাপুর-টুপুরের নীরব যাতনা আর নিখোঁজ টুম্পা ভাবীর ফেলে যাওয়া অতীতের ছায়া জরীকে কোন অমোঘ সত্যের মুখে দাঁড় করিয়ে দেয়?
ভরসার শক্ত হাত
ব্যস্ত ঢাকার রাজপথে শক্ত করে ধরা নাবিদের হাত জরীর সমস্ত ভয় দূর করে দেয়। কিন্তু উপহার পাওয়া গোলাপি স্মার্টফোনকে কেন্দ্র করে সংসারে যখন ঈর্ষার আগুন জ্বলে ওঠে, জরী কি পারবে সেই আগুনের আঁচ থেকে নিজের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতে?
মধ্যরাতের আর্তনাদ
জন্মদিনের আনন্দের রাত নিমেষেই নরকে পরিণত হয় জামিল ভাইয়ের মাতাল চিৎকার আর বুকফাটা কান্নাকাটিতে। অবুঝ টাপুর-টুপুরের চোখের জল মুছিয়ে দিতে দিতে জরী যখন পরম স্নেহে ওদের কাছে টেনে নেয়, তখনই কি শুরু হয় এক নিঃস্বার্থ মাতৃত্বের সংগ্রাম?
প্রথম উপার্জনের আনন্দ
টিউশনি করে পাওয়া জীবনের প্রথম উপার্জনের খামটা হাতে নিয়ে চোখ ভিজে ওঠে জরীর। কিন্তু সেই আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই পরিবারের নানা হাতের অন্যায় দাবি আর সন্ধ্যার অন্ধকারে বড় ননদ মনির রহস্যময় ঘোরাঘুরি কোন বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছে?
অপ্রত্যাশিত কলঙ্ক ও পলায়ন
টাকা আর একজোড়া জুতো চুরি করে মেছো ছেলের সঙ্গে পালিয়ে গিয়ে পুরো বংশের মুখে চুনকালি মাখায় মনি। পুলিশি অভিযানের পর বাড়ি ফিরে এসে যখন সে আকাশ-বাতাস সাক্ষী রেখে বিয়ের দাবি তোলে, পরিবারে তখন কোন মহাপ্রলয় শুরু হতে যাচ্ছে?
নাটকীয় আগমন ও অচেনা সতীন
এক দুপুরে ঘরে ঢুকে আম্মার পা জড়িয়ে সতীনের কান্নায় মাতম শুরু করে পাশা মিয়ার প্রথম স্ত্রী লাভলী। নিজের অধিকার আদায়ে নাটকীয় তামাশায় যখন তোলপাড় দোতলার প্রতিটি কোণ, জরী কি পারবে এই বিষাক্ত চক্রব্যূহ থেকে নিজেকে শান্ত রাখতে?
মহামায়া বিচ্ছেদ ও স্বস্তির নীড়
স্ট্যাম্পে সই করে সমস্ত বন্ধন ছিন্ন করে মনি চিরতরে বিদায় নেয়। বিষণ্নতার ধোঁয়াশায় দমবন্ধ হয়ে আসা জরী অবশেষে নাবিদের সম্মতিতে মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে মুন্সীগঞ্জে বোনের কাছে যায়। কিন্তু বিদায়বেলায় দিদির চোখের জলের আড়ালে কীসের আকুলতা?
কঠিন খোঁচা ও নীরব প্রতিরোধ
বোনের বাসা থেকে ফিরতেই শাশুড়ির বিষাক্ত খোঁটা চুরমার করে দেয় জরীর মন। কিন্তু এবার আর নিঃশব্দে সহ্য করা নয়, নিজের আত্মসম্মানের শক্তিতে দাঁড়িয়ে প্র্যাক্টিক্যাল খাতা লিখে ও ডিপিএস খুলে কীভাবে নিজের ভিত্তি শক্ত করে তুলল জরী?
আম-লিচুর সুবাস ও স্মৃতির টান
পলাশবাড়ী থেকে বাবা ও অরুর আগমনে অচেনা ফ্ল্যাটে একমুঠো তাজা বাতাসের সুবাস মেলে। বাবার সাথে বাপের বাড়িতে ফিরে গিয়ে চারপাশের মানুষের ভালোবাসা উপভোগ করতে করতেই জরীর মন কেন বারবার ধাবিত হয় ঢাকার সেই বারান্দার টবের কাছে?
না-জানিয়ে আগমন ও গভীর অনুরাগ
অস্থিরতায় টিকতে না পেরে রাতের ট্রেনে চেপে আচমকা পলাশবাড়ীতে হাজির হয় নাবিদ। একান্তে জরীর নাক টেনে ধরে শাসানোর মুহূর্তে প্রকাশ পায় জমে থাকা পাগলাটে ভালোবাসা। কিন্তু ফিরে এসে অসুস্থ জরীকে শাশুড়ির এমন নরম আচরণে আপ্লুত করার পেছনের রহস্য কী?
তেজী জবাব ও চোরের হুংকার
নিজের টাকায় কাজের লোক রেখে শাশুড়ির অযৌক্তিক খোঁটার মুখের ওপর যোগ্য জবাব দেয় জরী। কিন্তু রমজানের মুখে মনির পুরো পরিবার নিয়ে অপ্রত্যাশিত দখলদারি ও জামিল ভাইয়ের রণমূর্তি বাড়ির আবহাওয়াকে কোন চরম বিস্ফোরণের দিকে ঠেলে দেয়?
গয়নার দাবি ও চরম অভিমান
মুক্তার হঠাৎ বিয়ে ঠিক হতেই জরীর বিয়ের সব গয়না এমনকি বোনের দেওয়া কানের দুলটিও জোর করে ছিনিয়ে নিতে চান শাশুড়ি। অপমানের আগুনে জ্বলেপুড়ে ব্যাগ গুছিয়ে ঘর ছাড়ার মুহূর্তে নাবিদের হাত ধরে কোন অপ্রত্যাশিত গন্তব্যে রওনা হলো জরী?
পারিবারিক ঝড় ও মধ্যরাতের ফরমাশ
কক্সবাজার থেকে ফিরে এসে জরী দেখতে পায় বাপের বাড়ির মানুষ এসে শাশুড়িকে কড়া জবাব দিয়ে গেছে। কিন্তু নতুন জামাই জুয়েলকে নিয়ে মুক্তার দেমাগ আর মধ্যরাতে রান্না করার অসৌজন্যমূলক আবদারের মুখে দাঁড়িয়ে জরী কীভাবে ছুড়ে দিল পাল্টা চ্যালেঞ্জ?
প্রকাশ্যে ঘোষণা ও অতল একাকিত্ব
ক্লাসের ফাস্ট বয় শুভ্রের নাম জড়িয়ে বন্ধুদের আড্ডায় রঙ চড়াতেই ভরা ক্লাসরুমে সাহসের সঙ্গে নিজের বিবাহিত পরিচয় ঘোষণা করে জরী। কিন্তু কাজের সূত্রে নাবিদের দীর্ঘ অনুপস্থিতি জরীর জীবনে এমন কোন তৃষ্ণা জাগিয়ে তোলে যা কোনো ওষুধেই সারে না?
শীতের আমেজ ও অপ্রত্যাশিত আগমন
পলাশবাড়ীর পিঠাপুলির আমেজ কাটিয়ে ফিরতেই শুরু হয় মুক্তার সংসারে জুয়েলের মারধরের কানাঘুষা। কিন্তু এসবের মাঝেই সবাইকে হতভম্ব করে ভৈরব থেকে হঠাৎ নতুন এক বউ নিয়ে জামিল ভাইয়ের প্রবেশে কোন নতুন দুর্যোগের মেঘ ঘনিয়ে এলো?
নতুন গৃহিণী ও ভাঙা সংসারের সুর
কাজেকর্মে পারদর্শী হলেও লিপি ভাবীর অতীত জীবনের করুণ ভাঙনের সত্যটা ছুঁয়ে যায় জরীর হৃদয়কে। ওদিকে মুক্তার ওপর জুয়েলের লাগাতার অত্যাচার যখন তুঙ্গে, শাশুড়ির অহংকার কীভাবে নিজের মেয়ের জীবনেই কাল হয়ে দাঁড়াল?
কমলা খামের চিঠি ও গোপন ক্ষত
সন্ধ্যার নির্জনতায় শ্বশুরের হাত দিয়ে আসা এক অচেনা কমলা খাম খুলে জরী খুঁজে পায় নিখোঁজ টুম্পা ভাবীর চিঠি। এক আত্মাহুতি ও মাতৃত্বের বলিদান পেরিয়ে দেশ ছেড়ে যাওয়া এক নারীর সেই চিঠি জরীর চোখের সামনে কোন অমোচনীয় সত্য উন্মোচন করল?
বইয়ের ভাঁজে হারানো ছায়া
নাবিদের পুরোনো বই খুঁজতে গিয়ে একটি পুরোনো খামে নিজের লুকানো ছবি আবিষ্কার করে থমকে যায় জরী—যার পেছনে লেখা 'লাজুকপাতা'। অতীতের এক অচেনা তরুণের প্রেমপত্র আর নাবিদের চোখের গোপন অপরাধবোধ কি তাদের সম্পর্কের বন্ধনকে সংশয়ে ফেলে দিল?
কলাবাগানের নতুন নীড়
সংশয় ও ভুল বোঝাবুঝির কালো মেঘ সরিয়ে নাবিদ বুকভরা ভালোবাসায় জড়িয়ে নেয় জরীকে। কলাবাগানের নতুন ছোট্ট ছিমছাম ফ্ল্যাটে টাপুর-টুপুরকে পরম মমতায় বুকে টেনে নিয়ে জরী যখন বারান্দায় দাঁড়ায়, ফেলে আসা সেই নাম 'লাজুকপাতা' কীভাবে খুঁজে পায় জীবনের পরম সার্থকতা?
কোনো অধ্যায় খুঁজে পাওয়া যায়নি।
সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQs)
লাজুকপাতা (Lajuk Pata) উপন্যাসটির মূল কাহিনী কী?
লাজুকপাতা উপন্যাসের মোট কয়টি পর্ব রয়েছে?
লাজুকপাতা উপন্যাসটির লেখিকা কে?
লাজুকপাতা কি অনলাইনে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পড়া যায়?
উপন্যাসের নাম 'লাজুকপাতা' রাখার অন্তর্নিহিত কারণ কী?
পাঠক রিভিউ ও রেটিং
0 টি রিভিউ · 0 জন পাঠক
0 টি রিভিউ