অগোচরে তুমি
ভোরবেলার একঘেয়ে রেওয়াজে বিরক্ত হওয়া যুবক আর রহস্যময়ী এক তরুণী—যাদের চলার পথ সম্পূর্ণ বিপরীত। কিন্তু যখন অচেনা এক রকস্টারের সুর যুবকের সমস্ত সত্তা নাড়িয়ে দেয়, তখন কি সে বুঝতে পারবে তার কাঙ্ক্ষিত মানুষটি আসলে কতটা কাছে? নাকি চোখের সামনে থেকেও সে চিরকাল রয়ে যাবে অগোচরে?
উপন্যাসটির প্রথম সিজন মোট ৩৭টি পর্বে সম্পূর্ণ সমাপ্ত হয়েছে। সকল পর্ব বিনামূল্যে পড়ার জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।
গল্পের বিশেষত্ব ও হাইলাইটস
দ্বৈত পরিচয় ও লুকানো সুরের মোহ
একটি সাধারণ চুপচাপ মেয়ের আড়ালে বিশ্বখ্যাত রকস্টারের গোপন সত্তা এবং সেই মোহে অন্ধ এক যুবকের ছুটে চলার মনস্তাত্ত্বিক আখ্যান।
ভাঙা বন্ধুত্ব ও সত্যের উন্মোচন
পনেরো বছর ধরে জমে থাকা ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে গভীর সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের আবেগময় পুনর্মিলন।
আত্মসম্মান ও অনুশোচনার দ্বন্দ্ব
প্রত্যাখ্যানের পর আত্মসম্মান রক্ষায় অবিচল থাকা নারী এবং সত্য জানার পর হৃদয়ে রক্তক্ষরণ নিয়ে যুবকের মরিয়া প্রায়শ্চিত্ত।
প্রধান চরিত্রসমূহ
6মেহেনূর / কিরণ চৌধুরী
নায়িকা (Protagonist)বাইরে অতি শান্ত, অন্তর্মুখী ও নম্র স্বভাবের তরুণী; কিন্তু রাতের আলোয় লাখো তরুণের হৃদস্পন্দন থামিয়ে দেওয়া আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন রহস্যময়ী রকস্টার।
অর্ক
নায়ক (Male Lead)নীতিবান, রাশভারী ও মানবদরদী এনজিও পরিচালক। রকস্টার কিরণ চৌধুরীর উন্মাদ ভক্ত, তবে নিজের তীব্র আবেগের কারণে চেনা হিরের আলো চিনতে পদে পদে ভুল করে।
রাওনাফ
মেহেনূরের ভাই ও অর্কের বন্ধুঅর্কের ছেলেবেলার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। পুরনো এক ষড়যন্ত্র ও ভুল বোঝাবুঝির বোঝা বুকে চেপে দীর্ঘ বছর প্রবাসে নির্বাসিত জীবন কাটানো এক সহনশীল যুবক।
রোশনি
রাওনাফের স্ত্রীবুদ্ধিমতী, প্রখর ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ও আধুনিক তরুণী। দুই পুরনো বন্ধুর মাঝের ভুল বোঝাবুঝি ভেঙে সত্য উন্মোচনে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
দিহাদ
অর্কের ঘনিষ্ঠ বন্ধুবন্ধুমহলের দায়িত্বশীল বন্ধু। কলির প্রতি আজন্ম নিঃশব্দ ভালোবাসায় নিজেকে উজাড় করে দেয়।
কলি
বান্ধবীঅনাথ হয়েও কঠোর আত্মসম্মান নিয়ে বেঁচে থাকা আত্মপ্রত্যয়ী তরুণী। সমাজের ভীতি ও নিজের অতীত লুকিয়ে নীরব ভালোবাসার বেদনা সহ্য করে।
সূচিপত্র ও সিজনসমূহ
37 টি অধ্যায়
প্রথম খণ্ড: মায়াজাল ও অগোচরের সুর
মেহেনূরের শান্ত চোখের অন্তরালে থাকা রকস্টার কিরণের মোহময় সুর, অর্কের অন্ধ উন্মাদনা এবং পরিচয়ের জটাজাল উন্মোচনের আকুল আখ্যান।
ভোরের সুর ও অনাকাঙ্ক্ষিত বিরক্তি
ভোর হতে না হতেই বাবার অনুশাসনে অনিচ্ছা সত্ত্বেও সেতার নিয়ে রেওয়াজে বসতে হয় মেহেনূরকে। পাশের বাড়ির ব্যালকনিতে কান চেপে ধরে ঘুম ভাঙার তীব্র ক্ষোভ ঝাড়ে অর্ক। কিন্তু মায়ের কাছে মেহেনূরের প্রশংসায় ত্যক্ত যুবকটি যখন বন্ধুদের কাছে এক অবিশ্বাস্য রকস্টারের খবর পায়, তখন তার জীবনে কোন অচেনা ঝড়ের আভাস মেলে?
অন্ধকার স্টেডিয়াম ও নীল চোখের আগুন
হুডিতে মুখ ঢেকে স্টেডিয়ামের মঞ্চে দাঁড়ায় লাখো তরুণের উন্মাদনা কিরণ চৌধুরী। এক পলক সেই রহস্যময়ীকে দেখার জন্য সব নিরাপত্তা ফাঁকি দিয়ে গলিপথে ছুটে যায় অর্ক। কিন্তু চেনা মানুষকে ছায়ার আড়ালে ধরতে গিয়ে এক অচেনা আক্রমণের মুখোমুখি হলে তার ভাগ্যে কী অপেক্ষা করে?
নিষ্পাপ উপহারে অবহেলার ক্ষত
আহত অর্কের জন্য মায়ের দেওয়া প্রিয় পায়েসের বাটি হাতে নিয়ে হাজির হয় মেহেনূর। কিন্তু ঘরে ঢোকার আগেই অর্কের রুক্ষ ও অপ্রীতিকর বাক্যবাণ বিঁধে যায় তার হৃদয়ে। নীরবে অপমান সয়ে মেহেনূর ফিরে গেলে মায়ের প্রশ্নে অর্কের ভেতরে কেন এক অজানা অনুশোচনার দহন শুরু হয়?
মঞ্চের আর্তনাদ ও অচেনা হাতের জাদু
লাইভ শোয়ের মঞ্চে দাঁড়িয়ে ধোঁকা আর আত্মহত্যার বিরুদ্ধে এক নির্মম সত্যি উচ্চারণ করে কিরণ চৌধুরী। তার গাওয়া ব্যথাতুর সুর অর্কের হৃদয়কে অস্থির করে তোলে। সেই অপরাধবোধ মেটাতে মেহেনূরদের বাড়ি গিয়ে অর্ক যখন পায়ের জাদুর পেছনের আসল রাঁধুনিকে আবিষ্কার করে, তখন তার অহংবোধ কোন ফাঁদে পড়ে?
আচমকা লাঠি ও হাসির আড়ালে মায়া
হাতে বিশাল লাঠি নিয়ে মেহরাব সাহেবকে ধেয়ে আসতে দেখে ভয়ে তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ক্ষমা চাইতে থাকে অর্ক। কিন্তু পুরো ঘটনার আসল সত্য যখন এক হারিয়ে যাওয়া বিড়ালের পেছনে এসে থামে, তখন দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে কার দমফাটা হাসি অর্কের বুকে আগুন ধরিয়ে দেয়?
সূর্যের কিরণ ও নিশীথ ব্যালকনির ধোঁয়া
এনজিওর ডেস্কে বসে কিরণের অচেনা ছায়া খোঁজার চেষ্টা করে অর্ক। কিন্তু রাতে ঘরে ফিরে মায়ের মুখে নিজের বিয়ের প্রস্তাবের কথা শুনে সব আলো নিভে যায় তার চোখে। যার নাম ছাড়া আর কোনো পরিচয় নেই, সেই মানবীকে পাওয়ার জন্য অর্ক কোন অন্ধ মায়ায় নিজেকে পুড়িয়ে ছারখার করে?
বিদেশি গাড়িতে সুদর্শন ড্রাইভার
কানাডা ফেরত পুরনো বন্ধু রাওনাফ ও তার বাগদত্তাকে আনতে মেহেনূরকে সাথে নিয়ে অনিচ্ছা সত্ত্বেও বিমানবন্দরে যেতে হয় অর্ককে। কিন্তু গাড়িতে ওঠার পর হবু ভাবীর মুখে হ্যান্ডসাম ড্রাইভারের তকমা শুনে কড়া ব্রেক কষে অর্ক। এই অস্বস্তিকর যাত্রার পেছনে কী গভীর অতীতের কাঁটা লুকিয়ে আছে?
লুকানো অভিমান ও চাবির দূরত্ব
বাড়ি ফিরেও রাওনাফের মুখোমুখি হতে চায় না অর্ক, এমনকি গাড়ির চাবিটিও ফেরত আসে দারোয়ানের হাত দিয়ে। মায়ের পীড়াপীড়িতে উপহার দিতে গিয়ে অর্কের ড্রাইভার পরিচয়ের জট খুললে সারা বাড়ি হাসিতে ফেটে পড়ে। কিন্তু মেহেনূরের শান্ত দৃষ্টির আড়ালে অর্ক কোন অজানা রহস্যের ছায়া দেখতে পায়?
লেকের তীরে পনেরো বছরের সত্য
বিকালে ঘুরতে বের হয়ে লেকের পাড়ে পাথরের টুকরো ছুড়ে ক্ষোভ মেটাচ্ছিল অর্ক। তখনই রোশনি এসে উন্মোচন করে পনেরো বছর আগের মুনমুন নামের সেই ছলনাময়ী মেয়ের নোংরা চক্রান্তের ইতিহাস। নিজের প্রাণের বন্ধুকে দোষী ভেবে দূরে ঠেলে দেওয়ার সত্যটা জেনে অর্কের পায়ের নিচের মাটি কি সরে যায়?
জলের স্রোতে দাবানলের নির্বাপণ
তীব্র রাগে রাওনাফকে কলার চেপে ধরে লেকের জলে ঝাঁপিয়ে পড়ে অর্ক। ভিজে জবজবে দুই বন্ধুর বুকফাটা কান্নায় পনেরো বছরের বরফ গলে মিশে যায় একাকার হয়ে। অতীতের ক্ষত ভুলে নতুন শুরুর স্বপ্নে রাওনাফ যখন রোশনির ভালোবাসার গল্প শোনায়, তখন তাদের বাড়ি ফেরার স্টিয়ারিং কার হাতে ওঠে?
কিল-ঘুষি ও বন্ধুদের তাণ্ডব
একসাথে ঠাণ্ডা লাগিয়ে চোরের মতো মুখ লুকিয়ে ডিনারে বসে অর্ক আর রাওনাফ। পরদিন সকালে দরজার ওপার থেকে ছুটে আসা বন্ধুদের বেদম কিল-ঘুষিতে শুরু হয় এক এলাহী কাণ্ড। কিন্তু কানাডায় বড় হওয়া রোশনির বাঙালি আচার-আচরণ আর মেহেনূরের কার্টুন প্রীতির আড়ালে কী গভীর স্নেহ লুকিয়ে থাকে?
মধ্যরাতের নীল চত্বর ও ফুচকার বাটি
রাত দেড়টায় মেহেনূর ও রোশনি নিখোঁজ হওয়ায় উৎকণ্ঠায় শহর চষে বেড়ায় অর্ক ও রাওনাফ। কিন্তু নীল চত্বরে গিয়ে গাড়ির বনেটে বসে মনের সুখে মেহেনূরকে ফুচকা খেতে দেখে মাথায় রক্ত উঠে যায় অর্কের। মুখে ফুচকা পুরে দিয়ে অর্ক যখন এএম আর পিএমের পাঠ পড়ায়, তখন কার দামি গাড়ির রহস্য অর্ককে ভাবিয়ে তোলে?
কাচের ওপারে ক্লান্তি ও ফেলে যাওয়া কাগজ
গাড়ির সীটে মাথা এলিয়ে ঘুমিয়ে পড়া মেহেনূরকে নিঃশব্দে আগলে রাখে অর্ক। পরদিন সকালে মেহরাব সাহেবের টাকার প্রশ্নের মুখে মেহেনূরের কিস্তির অজুহাত অর্কের খটকা বাড়িয়ে দেয়। ড্রয়িংরুমে মেহেনূরের ফেলে যাওয়া এক টুকরো কাগজ কুড়িয়ে পেয়ে অর্কের হাতে কোন নতুন সূত্র এসে পৌঁছায়?
নীল চোখের জ্যোতি ও বিশ লাখের চেক
হাসপাতালের করিডোরে মেহেনূরের হারিয়ে যাওয়া সিরিয়াল নিয়ে হাজির হয় অর্ক। অপারেশনের পর মেহেনূরের দুর্লভ নীল চোখের অপরূপ রহস্য যখন চিকিৎসকের কথায় স্পষ্ট হয়, ঠিক তখনই এনজিওর টেবিলে কিরণ চৌধুরীর বিশ লাখ টাকার ডোনেশন চেক অর্কের মস্তিষ্কে কোন মহাবিস্ফোরণ ঘটায়?
ব্যালকনির বাঁক ও চশমাহীন হাসির ঢেউ
বিয়ের তারিখ নির্ধারণের রাতে ব্যালকনির আধখোলা দরজার ফাঁক দিয়ে মেহেনূরকে দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে যায় অর্ক। সেই চিরচেনা ভারী ফ্রেমের চশমা নেই, নেই গুমোট নীরবতা; খোলা চুলে হাসির মুক্তো ছড়ানো এক অনিন্দ্য রূপসী। চোখ বন্ধ করলেই কেন সেই মায়াবী রূপ অর্কের নির্ঘুম রাতের তীব্র নেশা হয়ে দাঁড়ায়?
মইয়ের দোলাচল ও নীল আঁখির আবেশ
ডেকোরেশনের কাজ করতে গিয়ে মই থেকে সোজা অর্কের কোলে ছিটকে পড়ে মেহেনূর। ভয়ার্ত সেই নীল চোখের তীব্র চাহনিতে কয়েক মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে যায় অর্কের শ্বাসপ্রশ্বাস। দেড় কোটি টাকার ক্যাশ মেমো আর মেহেনূরের সাজানো প্রাসাদের হিসাব কি অর্ককে কোনো সুপ্ত সত্যের দ্বারে নিয়ে যায়?
ছাদের কার্নিশ ও আত্মসম্মানের সীমানা
ছাদের কোণে মেহেনূরের পথ আটকে দাঁড়িয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে অর্ক। কিন্তু আঘাত পাওয়া মেহেনূর যখন আত্মসম্মানবোধের স্পষ্ট দেয়াল তুলে দেয়, তখন অর্ক নিজের ভুল বুঝতে পেরে হাত ধরে ক্ষমা চায়। কিন্তু সন্ধ্যায় হলুদে আসার প্রশ্নে কেন মিলিয়ে যায় মেহেনূরের মুখের হাসি?
হলুদের মঞ্চে ভাবী সম্বোধনের বিপদ
হলুদের অনুষ্ঠানে অর্কের প্রিয় বিবিজানের মুখোমুখি হয় মেহেনূর। অর্ক বিবিজান বলে নানুকে জড়িয়ে ধরলে চরম বিভ্রান্তিতে পড়ে মেহেনূর তাকে 'ভাবী' বলে ডেকে বসে! হাসির রোল আর লজ্জার মাঝে আমেনা বেগমের মনে যখন নাতিবউয়ের সংকল্প পাকা হয়, তখন কোন নতুন জটিলতার সূত্রপাত ঘটে?
বোরিং তকমা ও সুরের যুদ্ধ
গায়ে হলুদের একঘেয়েমি কাটাতে মঞ্চে উঠে নিজেকে নিজেই 'বোরিং' বলে খোঁচা মারে মেহেনূর। অর্ক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে ছেলে বনাম মেয়েদের নাচের প্রতিযোগিতা শুরু করে। শর্ত একটাই—যে দল হারবে তাদের মেনে নিতে হবে যেকোনো শাস্তি। কিন্তু অতি আত্মবিশ্বাসী অর্ক কি জানে কার মুখোমুখি সে দাঁড়িয়েছে?
মঞ্চের ঝড় ও অপরাজিত নৃত্য
প্রতিযোগিতার মঞ্চে একের পর এক গানের সাথে টানা নেচে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেয় মেহেনূর। অর্ক আপ্রাণ চেষ্টা করেও এই ঝড়ের সামনে পরাস্ত হয়। কিন্তু ব্যালকনির ঝুড়িতে পাওয়া সেই ইউকুলেলে আর কিরণ চৌধুরীর নামের মিল অর্কের মনে কোন চরম খটকা তৈরি করে?
অন্ধকার ছাদ ও বুকভাঙা নিঃসঙ্গতা
বিয়ের রাতে চাঁদের আলোহীন ছাদে দাঁড়িয়ে নিজের অনাথ জীবনের মর্মান্তিক সত্য প্রকাশ করে কান্নায় ভেঙে পড়ে কলি। ভালোবাসা সত্ত্বেও দিহাদকে ফিরিয়ে দিয়ে নিজেকে নিঃস্ব ভাবা মেয়েটির সামনে এসে মেহেনূর যখন তার চোখে চোখ রাখে, তখন কোন জাদুতে বদলে যায় দিহাদের ভাগ্য?
কাজী অফিসের লাল শাড়ি ও চিরকুট
সকালে ঘুম ভাঙিয়ে সবাইকে কাজী অফিসে নিয়ে আসে মেহেনূর। লাল শাড়ি পরা কলিকে দেখে চমকে ওঠে দিহাদ আর অর্ক। পুরো বিয়ে সম্পন্ন করে নতুন জুটিকে সুসজ্জিত বাসর আর কক্সবাজারের টিকিটের উপহার দিয়ে মেহেনূর যখন বিদায় নেয়, তখন অর্কের বিস্ময়ের সীমা কোথায় গিয়ে ঠেকে?
টায়ারের আলপিন ও নিশীথ আরজি
ফাঁকা রাস্তায় গাড়ি চালানো মেহেনূরকে চুপিচুপি বাইকে ফলো করতে গিয়ে চুইংগাম আর আলপিনে ফেঁসে যায় অর্ক। ছাদে কোকের বোতল হাতে সেই পারফিউমের গন্ধ ধরিয়ে দিয়ে অর্ককে ধরাশায়ী করে মেহেনূর। কিন্তু ঘরে ফিরে নানুর কোলে মাথা রেখে অর্ক কার জন্য বিরহী কবিতা আওড়ায়?
গাঙিনীর ঢেউ ও কাজীর মোহ
গাঙিনীপাড়ে বসে তনিমা স্বীকার করে সে কাজীর প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে! কিন্তু যাকে কাজী ভেবেছে সে যে মেরিন ইঞ্জিনিয়ার শান্ত, তা জেনে তনিমার চোখ কপালে ওঠে। এদিকে মেহেনূর বাড়ি ফিরে দেখে অর্কের মামা তাদের ড্রয়িংরুমে বসে মেহেনূরের বিয়ের প্রস্তাব চূড়ান্ত করতে ব্যস্ত!
পাক্কা গৃহিণী ও ভুলের সূত্রপাত
সকালে উঠে সবাইকে সুস্বাদু নাস্তা বানিয়ে তাক লাগিয়ে দেয় মেহেনূর। অন্যদিকে এনজিওর কাজে ব্যস্ত অর্ক হঠাৎ অয়নের কাছে শোনে যে তার নিজের বাড়িতেই মেহেনূরের সাথে বিয়ের তোড়জোড় চলছে। মাথায় আকাশ ভেঙে পড়া অর্ক কার ভুলের মাশুল গুনতে হন্তদন্ত হয়ে বাড়ি ছোটে?
প্রত্যাখ্যানের বিষাদ ও অসম তুলনা
ছাদে কানামাছি খেলার মাঝে মেহেনূরকে একা পেয়ে নিজের বিয়েতে তীব্র অস্বীকৃতি জানায় অর্ক। মেহেনূর অত্যন্ত শান্ত কণ্ঠে অর্কের মনস্তত্ত্ব উন্মোচন করলেও, অর্ক তাকে সরাসরি কিরণ চৌধুরীর সাথে তুলনা করে তাচ্ছিল্য করে প্রত্যাখ্যান করে। এই নির্মম অপমানের পর মেহেনূর কি সত্যিটা জানাবে, নাকি নিজেকে গুটিয়ে নেবে?
ক্যাফের মানভঞ্জন ও ভাগ্যের পরিহাস
গাঙচিল ক্যাফেতে শান্তর মুখে তার দাদাজানের পছন্দের মেয়েকে বিয়ের কথা শুনে বুক ভেঙে যায় তনিমার। ক্ষোভে ফোন রেখে চলে যেতে নিলেই মেহেনূরের ফোনের স্পিকারে তনিমা ঝাড়ে এক চরম ধমক। কিন্তু পূর্ণিমার রাতে ছাদের কার্নিশে দাঁড়িয়ে কে এসে তনিমার পেছনে ফিসফিস করে বলে ওঠে 'কংগ্রেচুলেশন'?
কাশবনের ক্ষোভ ও বিদায়ের অশ্রু
শরতের কাশফুলের মাঝে দাঁড়িয়ে কিরণ চৌধুরীর অহংকারী তুলনা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেয় মেহেনূর। বন্ধুদের সাথে শেষবারের মতো দেখা করে কানাডার ফ্লাইটে ওঠার জন্য প্রস্তুত হয় সে। কিন্তু মেয়ের অপমানের ক্ষত মেহরাব সাহেবের বুকে যে আগুন জ্বেলেছে, তার প্রতিশোধ কি কখনো অর্ককে স্পর্শ করবে?
অভিমানের দেয়াল ও খাঁটি সোনার মূল্য
মেহেনূর কানাডায় ফিরে গেছে শুনে স্তম্ভিত হয়ে যায় অর্ক। ঘরে ঢুকে বন্ধুরা যখন আয়েশা বেগমের বুকচাপা কান্না আর মেহেনূরের হিরের মতো গুণাবলীর কথা মনে করিয়ে দেয়, তখন অর্কের আত্মপক্ষ সমর্থনের সব যুক্তি কি ধূলিসাৎ হয়ে যায়?
বারমুডার ছায়া ও কানাডার টিকিট
বাসর রাতে উদ্ধার অভিযানে চলে যাওয়া শান্ত যখন বিধ্বস্ত চেহারায় ফিরে তনিমাকে জড়িয়ে ধরে বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের বিভীষিকার গল্প শোনায়, তখন কান্নাভেজা আলিঙ্গনে দূর হয় সব অভিমান। কিন্তু কানাডার বিমানে একসাথে ওঠার সময় অর্ক কেন হঠাৎ নিজেকে বড্ড একা আবিষ্কার করে?
টরেন্টোর ল্যাম্পপোস্ট ও অনুগত প্রহরী
টরেন্টোর নিঝুম রাতে মাউথ অর্গানে সুর তুলে হেঁটে ফেরে এক নিঃসঙ্গ কিশোরী। ঘরে ফিরে স্নেহের পোষ্য কুকুর ডগিরাকে নিয়ে যখন সে ভালোবাসার গভীর তৃপ্তি খোঁজে, তখন বাইরে এসে গাড়ি থামার শব্দে ডগিরার তীব্র ঘেউঘেউ দরজার ওপারে কার পদধ্বনির জানান দেয়?
অচেনা দরজায় নীরব দৃষ্টি ও ডগিরার অভিমান
দরজার মুখে হঠাৎ অর্ককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে চমকে ওঠে মেহেনূর। ডাইনিং টেবিলে ওহির হাসির তোড়ে তিন্নির অপমানে কষ্ট পেলে মেহেনূর গভীর মমতায় বোনকে সান্ত্বনা দেয়। কিন্তু বিছানা ভাগ করার সময় ডগিরার চোখের নীরব অভিমানী জল মেহেনূরকে কোন প্রতিজ্ঞার বাঁধনে বাঁধে?
লেক মুসকোকা ও প্রধানমন্ত্রীর আগমন
লেকের পানিতে পা ডুবিয়ে নিঃসঙ্গতার হাহাকার ডগিরাকে শুনিয়ে বাড়ি ফেরে মেহেনূর। কিন্তু জন্মদিনের সন্ধ্যায় কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো স্বপরিবারে মেহেনূরদের ড্রয়িংরুমে এসে কেক কাটলে দূরে দাঁড়িয়ে থাকা অর্কের চোখ কপালে ওঠে। এই মেয়ের পরিচয় আসলে কতটা গভীর?
গুপ্ত লিফট ও কিরণের দুনিয়া
সবার অগোচরে মেহেনূরের ঘরে ঢুকে ডগিরাকে লুকাতে গিয়ে আলমারির গুপ্ত লিফটে আটকা পড়ে অর্ক। মাটির নিচে এক চোখ ধাঁধানো মিউজিয়ামে 'Welcome to Kiran’s World' ধ্বনি শুনে স্তম্ভিত অর্ক যখন দেয়ালের ছবিতে মেহেনূর ও কিরণকে একই সত্তায় আবিষ্কার করে, তখন কেন নিভে যায় তার জ্ঞান?
হাসপাতালের কাচ ও চিরকুটের উপহার
জ্ঞান ফেরার পর নিজের অপকর্মের তীব্র ক্ষোভে হাসপাতালের কেবিন ভাঙচুর করে হাত কেটে ফেলে অর্ক। এদিকে ওহির ভাঙা ফোনের জায়গায় মেহেনূরের নতুন ফোন ও মমতাময়ী চিরকুট পেয়ে ওহির চোখে পানি চলে আসে। কিন্তু যে হিরে অর্কের এত কাছে ছিল, তাকে নিজের ভুলে হারিয়ে অর্ক কীভাবে তার প্রায়শ্চিত্ত করবে?
রক্তাক্ত সেলাই ও সজোর চড়
অসুস্থ অর্কের জন্য খাবার নিয়ে এসে তার ব্যান্ডেজ করা রক্তাক্ত হাত আবিষ্কার করে মেহেনূর। রাগের মাথায় অর্কের গালে সজোরে চড় বসিয়ে দিলে অর্ক তাকে আকুল হয়ে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ে। কিন্তু মেহেনূরের পাথরের মতো শক্ত মনের সামনে অর্কের আকুতি কি কোনো জায়গা পাবে?
অন্তিম স্বীকারোক্তি ও অদৃষ্টের নীরব দাগ
মধ্যরাতে লেকের পানিতে পা ডুবিয়ে থাকা মেহেনূরের সামনে এসে ভালোবাসার সব আকুলতা ঢেলে দেয় অর্ক। কিন্তু আত্মসম্মান নিয়ে মেহেনূর দূরে সরে যেতে চাইলে অর্কের ফোনে আসে এক মরণব্যাধির রিপোর্ট। মৃত্যুর পরোয়ানা হাতে নিয়ে শেষবারের মতো মেহেনূরকে ছুঁয়ে দেখার মিনতিতে কী চরম পরিণতি পায় এই প্রেম?
কোনো অধ্যায় খুঁজে পাওয়া যায়নি।