অপেক্ষা
এতিম কিশোরী হাফসা কি পারবে নিজের দ্বীনি বিশ্বাস ও আত্মসম্মান টিকিয়ে রেখে এক কঠিন বহুবিবাহের সংসারে নিজের স্থান গড়ে নিতে? আরহামের গম্ভীর অনুশাসন আর মাইমুনার গোপন ঈর্ষার দ্বন্দ্বে কার ভালোবাসার অপেক্ষা পূর্ণতা পাবে?
সিজন ১ সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে (মোট ৫৬ পর্ব)। লেখিকার ঘোষণা অনুযায়ী সিজন ২ সম্পর্কিত যেকোনো আপডেট এখানে সরাসরি প্রকাশ করা হবে।
গল্পের বিশেষত্ব ও হাইলাইটস
দ্বীনি অনুশাসন ও আত্মিক প্রেম
হারাম আকর্ষণ এড়িয়ে কীভাবে হালাল পন্থায় নিখাদ প্রেম ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন সম্ভব—তার অনন্য প্রকাশ।
বহুবিবাহ ও ন্যায়বিচারের জটিল সমীকরণ
ইসলামি শরিয়তে একাধিক স্ত্রীর অধিকার, সুবিচার এবং মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েনের বাস্তবধর্মী প্রতিফলন।
উৎসর্গ ও আত্মোপলব্ধির চরম শিক্ষা
অভিমান, ভুল বোঝাবুঝি ও বিচ্ছেদের মাঝেও কীভাবে অটুট ধৈর্য ও ক্ষমা পরিবারকে টিকিয়ে রাখে।
প্রধান চরিত্রসমূহ
5হাফসা (উমায়ের)
নায়িকা (Protagonist)কোরআনে হাফেজা ও অত্যন্ত পর্দাশীল এতিম তরুণী। প্রচণ্ড আত্মসম্মানী, ধৈর্যশীল এবং আরহামের প্রতি নিঃশর্ত দ্বীনি ভালোবাসায় সমর্পিত।
আব্দুল্লাহ আল আরহাম তাজওয়ার
নায়ক (Male Lead)তরুণ ইসলামিক স্কলার, সফল ব্যবসায়ী ও মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল। বাইরে রাশভারী ও গম্ভীর হলেও স্ত্রীদের প্রতি সুবিচার ও ভালোবাসায় আপসহীন।
মাইমুনা
প্রথম স্ত্রী (Wahida)আরহামের অসুস্থ ও প্যারালাইজড প্রথমা স্ত্রী। আরহামের প্রতি অগাধ ভালোবাসা থাকলেও সতীন ও সংসারের জটিলতায় চরম ঈর্ষার দোলাচলে আক্রান্ত।
আদওয়া (শ্যামাপাখি)
তৃতীয় স্ত্রী (Sulasa)চঞ্চল ও অবুঝ স্বভাবের তরুণী। একরোখা প্রেমের টানে আরহামের জীবনে এসে জড়িয়ে পড়ে এক মর্মান্তিক নিয়তির খেলায়।
রাদ আনসার
কাজিন (Supporting Lead)হাফসার মামাতো ভাই। ছোটবেলা থেকে হাফসাকে মনে মনে ভালোবেসে একতরফা অপেক্ষার যন্ত্রণায় দগ্ধ তরুণ বিজ্ঞানী।
সূচিপত্র ও সিজনসমূহ
56 টি অধ্যায়
প্রথম খণ্ড: সূচনা, প্রণয় ও অপেক্ষা
এতিম হাফসার আকস্মিক পরিণয়, আরহামের সংসারে অধিকারের লড়াই, ঈর্ষার চক্রান্ত এবং ত্যাগ ও বেদনার মধ্য দিয়ে খাঁটি প্রেমের পরিণতি।
অচেনা সুরের আহ্বান
মাহফিলের শেষ বক্তার হৃদয়স্পর্শী তিলাওয়াত শুনে কিশোরী হাফসার অন্তরে জন্ম নেয় অদ্ভুত আলোড়ন। পরপুরুষের আকর্ষণকে পাপে রূপ না দিয়ে এক সাহসী চিঠির মাধ্যমে সে কি ছুঁড়ে দেয় এক অবিশ্বাস্য প্রস্তাব? নীরব প্রস্থানে কি তবে সবকিছু শেষ হতে চলেছে?
হারিয়ে যাওয়া চিঠির সূত্র
দীর্ঘ দুই বছর ধরে যে আহ্বান অনাদরে পড়ে রইল, সেই ক্ষতে প্রলেপ দিতে মামাতো ভাই রাদের সাথে পাকা হতে চলে বিয়ের কথা। ঠিক তখনই ঝড়ের মতো ফিরে আসা সেই চেনা কণ্ঠ কি তবে নতুন কোনো বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দেবে?
পর্দার আড়ালের প্রস্তাব
পর্দার ওপাশ থেকে উচ্চারিত একটিমাত্র প্রশ্ন পাথর করে দেয় হাফসার মন—‘আপনি কি আমার মাসনা হবেন?’ পুরুষটির গোপন সত্য জেনেও কি সে পারবে ভাগাভাগির সংসারে পা বাড়াতে, নাকি রাদের উন্মত্ত হুমকি সব চুরমার করে দেবে?
আকস্মিক অঙ্গীকারের ভোর
রাদের ভয়ানক প্রতিশোধের ছায়ায় এক রাতের জরুরি সিদ্ধান্তে বদলে যায় জীবনের গতিপথ। মসজিদের নিরিবিলি আঙিনায় নিকাহনামায় কাঁপা হাতের দস্তখত কি হাফসার জীবনে নিরাপত্তা আনবে, নাকি ডেকে আনবে তীব্র ঝড়?
রক্তগোলাপের ঘোমটা
গোলাপ সাজানো গাড়ির নির্জনতায় প্রথমবারের মতো আলগা হয় নিকাবের বন্ধন। শুভ্র রূপের ঔজ্জ্বল্যে মুগ্ধ স্বামীর দৃষ্টির সামনে দাঁড়িয়ে কি হঠাৎ অন্ধকার নেমে আসে হাফসার চোখে? নতুন সংসারে পা রাখতেই কেন এই অঘটন?
রক্তাক্ত কাচ ও মোহরানা
একদিকে রাদের হিংস্র আক্রোশে আরহামের রক্তাক্ত ক্ষত, অন্যদিকে মধ্যরাতে হাফসার হাতে তুলে দেওয়া পঁচিশ লাখের দেনমোহরের চেক। কঠোর ব্যক্তিত্বের অন্তরালে লুকিয়ে থাকা এই অদ্ভুত অধিকারের অর্থ কী?
তাহাজ্জুদের অশ্রুকণা
শেষরাতের নিস্তব্ধতায় দুই জোড়া হাতের মোনাজাত মিলেমিশে একাকার। ‘আল্লাহর জন্য ভালোবাসতে চাই’—এই গভীর স্বীকারোক্তির পরেও কেন হাফসার বুকের ভেতর কাঁটা হয়ে বিঁধে থাকে হুইলচেয়ারে বসা আরেক নারীর ছায়া?
দ্বিমুখী পৃথিবীর মুখোমুখি
সকালের নাস্তার টেবিলে যখন প্রথম স্ত্রী মাইমুনার মুখোমুখি এসে দাঁড়ায় হাফসা, তখন সৌহার্দ্যের আড়ালে জেগে ওঠে সতীনভাগ্যের গোপন কষ্ট। এক স্বামীর ভালোবাসা কি সত্যি দুজন নারীর মাঝে সমানভাবে ভাগ হতে পারে?
লুকানো বেদনার ইতিহাস
রিসিপশনের আড়ম্বরে যখন বাড়ি মুখরিত, তখন আড়ালে বসে থাকা হাফসা জানতে পারে মাইমুনার অতীত জীবনের হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডি। আরহামের এই কৃচ্ছ্রসাধন ও সহানুভূতির মহত্ত্ব কি হাফসাকে আরও অপরাধবোধে ফেলে দেবে?
লাইব্রেরির লাল ডালিম
আরহামের বিশাল লাইব্রেরির কোণে বসে নিভৃত ভালোবাসার মধুর খুনসুটি। কিন্তু রাতের ডিনারে মাইমুনার কোলে মাথা রাখা আরহামের প্রতিচ্ছবি হাফসার অন্তরে কোন চরম ঈর্ষার দাবানল উসকে দেয়?
সিঁড়ির বাঁকে মিথ্যা অপবাদ
বাগানের চত্বরে হুইলচেয়ার উল্টে যাওয়ার এক সাধারণ দুর্ঘটনা মুহূর্তেই রূপ নেয় বিষাক্ত নাটকে। নিজের পা ক্ষতবিক্ষত করেও যে হাফসা রক্ষা করতে চাইল, আরহাম কি উল্টো তাকেই স্বার্থপরতার কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে?
কারাগারের ছবি ও অন্ধকারের ছায়া
জেলে বন্দি রাদের বুকে আগলে রাখা চৌদ্দ বছরের পুরনো একটি ছবি আর গভীর রাতে তাজওয়ার ভিলার বারান্দায় ভেসে ওঠা এক রহস্যময় কালো অবয়ব। ঝড়ের রাতে একাকী হাফসার আর্তচিৎকারে কে এসে দাঁড়াল পাশে?
কঠোর বিধিনিষেধের বেড়াজাল
মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল আরহামের বাড়ির কড়া নিয়মের বেড়াজালে বন্দি হাফসা। কিন্তু নিজের একান্ত অধিকারের রাতে কেন স্বামী অন্য ঘরে মাথা ঠেকায়? অবহেলার এই নীরব ক্ষত সইতে পারবে কি ষোড়শী মন?
দাগযুক্ত আবায়ার আগুন
ওয়াশরুমের দুষ্টুমিভরা স্পর্শ নিমিষেই ধূলিসাৎ হয়ে যায় রশিতে শুকানো আবায়ার কালো দাগের অপবাদে। অন্যের অপরাধ নিজের কাঁধে নেওয়া হাফসাকে কি আরহাম ক্ষমা করার বদলে আরও রূঢ়ভাবে ছুড়ে ফেলবে?
পোড়া আঙুল ও ঝড়ো রাত
কঠিন শোধ নিতে মাইমুনার নির্দেশে পেঁয়াজ ব্লেন্ড করতে গিয়ে রক্তাক্ত আঙুল, আর কাপড়ে ইস্ত্রি করতে গিয়ে হাত পুড়ে যাওয়া। চরম যন্ত্রণার ওপর গভীর রাতে হঠাৎ আকাশের প্রলয়ঙ্করী গর্জনে হাফসার নিথর হয়ে যাওয়ার কারণ কী?
অপ্রত্যাশিত আঘাতের প্রতিধ্বনি
ভাঙা প্লেটের মিথ্যা অভিযোগে মেজাজ হারিয়ে আরহামের হাত উঠে যায় নিরপরাধ এতিম স্ত্রীর ওপর। রক্তে ভেসে যাওয়া গালে হাত রেখে নিথর দাঁড়িয়ে থাকা হাফসার আত্মসম্মান কি এই আঘাত সহ্য করতে পারবে?
অশ্রুভেজা আমানত
ছাদে বসে আরহামের বুকফাটা হাহাকার আর নিচের ঘরে ব্যাগে কাপড় গোছানো হাফসার অনড় সিদ্ধান্ত। চাচার বুকে মুখ লুকিয়ে ‘আর আসব না’ বলে ফিরে যাওয়ার পর আরহাম কি পারবে তার ভাঙা আমানত ফিরিয়ে আনতে?
উন্মোচিত সত্যের দহন
গৃহকর্মীদের সাহসী স্বীকারোক্তি আর সিসিটিভি ক্যামেরার নির্মম ফুটেজে যখন আরহামের সামনে মাইমুনার প্রতিটি চক্রান্ত উন্মোচিত হলো, তখন অপরাধবোধে বিদীর্ণ পুরুষটির সামনে কী শাস্তি অপেক্ষা করছে?
স্মৃতির ছায়া ও নিঃশব্দ বিদায়
বাপের বাড়ির ছাদে একা দাঁড়িয়ে থাকা হাফসার সামনে হঠাৎ রাদের গোপন আকুলতা—‘তুমি ভালো না থাকলে আমার কাছে চলে এসো।’ কিন্তু যে হৃদয় আরহামের মোনাজাতে বাঁধা, সে কি পারবে অন্য কারও আশ্রয়ে যেতে?
ক্ষমার দুয়ারে বিচ্ছেদের দাবি
অনুতাপের আগুনে পুড়ে মাঝরাতে হাফসার ঘরের চৌকাঠে দাঁড়িয়ে ক্ষমা ভিক্ষা চাইলেন আরহাম। কিন্তু সেই নীরব ক্ষমার বিনিময়ে হাফসার মুখ থেকে উচ্চারিত ‘ডিভোর্স’ শব্দটি কি আরহামের অস্তিত্বে বজ্রপাত ঘটাবে?
পিতার শাসন ও অশ্রুর নদী
স্পেন থেকে ফিরে আসা শ্বশুরের গম্ভীর অনুশাসনের মুখে মাথা নত করতে বাধ্য হলেন আরহাম। এতিম মেয়ের গায়ে হাত তোলার কঠিন সত্য জেনে পুত্রকে নিয়ে পিতা কি হাফসাকে ফিরিয়ে আনতে পারবেন?
প্রথম সাহরির উষ্ণ বাহুডোর
তীব্র জ্বরের ঘোরে আরহামের বুকে মাথা রেখে হাফসার অবচেতন আর্তনাদ। প্রথম সাহরির আলো-আঁধারিতে অসুস্থ স্ত্রীর সমস্ত দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে আরহাম কি তবে জীবনের শ্রেষ্ঠ ভালোবাসার প্রমাণ দিলেন?
জোছনা রাতের মানভঞ্জন
রোজার শেষে মিষ্টি খুনসুটি আর ছাদের ওপর পূর্ণ চাঁদের নিচে হাত ধরা নিবিড় সময়। ক্ষোভ-অভিমান পেছনে ফেলে হাফসা কি সত্যিই ক্ষমা করে দিল তার সর্বস্ব কাড়তে চাওয়া প্রিয়তম মানুষটিকে?
অপরিচিতার দুষ্টু বিচার
বাবার বাল্যবন্ধুর বাড়ি গিয়ে অপ্রত্যাশিত এক চঞ্চল কিশোরী আদওয়ার মুখোমুখি আরহাম। সামান্য ধমকে পিতার কাছে ‘ছেলের বিচার’ চাওয়ার এই অদ্ভুত নাটকীয়তা কি ভবিষ্যতে অন্য কোনো ঝড়ের পূর্বাভাস?
কালো শাড়ির মায়াজাল
ফুপির বাড়ি দাওয়াত উপলক্ষে কালো শাড়িতে আবৃত হাফসার অপার্থিব সৌন্দর্য দেখে নিজেকে ধরে রাখতে পারেন না আরহাম। কিন্তু অন্যদিকে মাইমুনার বুকের নীরব অভিমান কি নতুন কোনো দূরত্বের জন্ম দিচ্ছে?
কু-নজরের বিষাক্ত জাল
তাজওয়ার ভিলায় মাইমুনার মামা রুদ্রের অনাহূত প্রবেশ এবং পর্দাশীল হাফসার দিকে তার লোলুপ দৃষ্টি। দোতলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা এই বহিরাগতের অসৎ উদ্দেশ্য কি আরহাম যথাসময়ে রুখতে পারবেন?
অন্ধকার ঘরের ফাঁদ
মাইমুনার ভুয়া চিৎকারের ফাঁদে পা দিয়ে অন্ধকার গেস্টরুমে ঢুকতেই হাফসার মুখ চেপে ধরে রুদ্র। অপবিত্র স্পর্শ আর ক্যামেরার ফ্রেমবন্দি সাজানো ষড়যন্ত্র কি আরহামের বিশ্বাসে চিরতরে ফাটল ধরাবে?
অপমানের চরম দহন
ক্যামেরার মিথ্যা ছবির প্রভাবে আরহামের মুখে উচ্চারিত ‘ঘৃণা করি আপনাকে’। বিনা অপরাধে চরিত্রহননের এমন বিষাদময় বোঝার পর হাফসার সামনে কি নিজের জীবন ছিন্নভিন্ন করে নেওয়া ছাড়া পথ নেই?
নির্জন ঘরের নির্বাসন
রুদ্রকে ফ্ল্যাট থেকে বের করে দেওয়ার পরেও আরহামের মনের সন্দেহ কি তাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে? খাবার ফিরিয়ে দেওয়া আর চোখের জল গোপন করা হাফসা কি আর কোনোদিন আগের আরহামকে খুঁজে পাবে?
চোখের জলের নীরব ফরিয়াদ
কাকামণির ফোনে কথা বলতে বলতে বুকচাপা আর্তনাদ লুকানোর চেষ্টা। আরহামকে ভালোবাসার শেষ পরিণতি কি তবে অবিশ্বাসের কালিমায় ঢেকে বাপের বাড়ির স্থায়ী নির্বাসনেই ইতি টানবে?
বৃষ্টিভেজা একাকী ছাদ
২৭শে রমজানের রাতে হাফসার বাপের বাড়ির ছাদে হঠাৎ মুষলধারে নামা বৃষ্টি। শীতল বৃষ্টির জলে হাত বাড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়া হাফসার কাছে কি আরহামের দেওয়া কথাগুলোর কোনো অর্থ বাকি রইল?
নিষ্প্রদীপ ঘরের বন্দিনী
ঈদের আগে বাপের বাড়ির গেটের সামনে থেকে হঠাৎ গায়েব হয়ে যায় হাফসা। অন্ধকার অচেনা কক্ষে চেয়ারে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় যখন রুদ্রের অশুভ কণ্ঠ ভেসে ওঠে, তখন কে বাঁচাবে এই নিষ্পাপ ফুলকে?
উদ্ধারের রুদ্রমূর্তি
পুলিশের তদন্ত ও নিজস্ব নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে রুদ্রর আস্তানায় ঝড়ের মতো আছড়ে পড়লেন আরহাম। কলিজায় হাত দেওয়ার অপরাধে শান্ত আলেমটির ভেতরে লুকিয়ে থাকা কোন ভয়ংকর রূপ প্রকাশ পেল?
ঈদের চাঁদের উপহার
চাঁদ রাতের বরকতময় নফল সালাত শেষে দুই স্ত্রীর সম্মানে আরহামের অনন্য হাদিয়া। কিন্তু লাভ শেপের তালার চাবি পেতে আরহামের দেওয়া তিন অক্ষরের কঠিন শর্ত কি হাফসা পূরণ করতে পারবে?
তৃতীয় মোহ ও বিষাদময় প্রস্তাব
ড্রয়িংরুমে আয়বীর সাহেবের আকস্মিক আগমন আর তাঁর অষ্টাদশী মেয়ে আদওয়ার জন্য আরহামের সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব। ‘আমি দুই স্ত্রী নিয়ে সন্তুষ্ট’ বলার পরও আদওয়ার আত্মহননের হুমকি কোন অন্ধকারের সৃষ্টি করবে?
সিগন্যালের আলো ও বমির অস্বস্তি
গাড়ির ট্রাফিক জ্যামে আরহামের ঘনিষ্ঠ হওয়ার টানটান উত্তেজনা, আর ঠিক তখনই শুরু হওয়া হাফসার তীব্র বমিটিং ও অসুস্থতা। এই অজানা অসুস্থতার আড়ালে কি তবে নতুন কোনো অধ্যায়ের আগমন বার্তা লুকিয়ে আছে?
চ্যাটলিস্টের বিষাক্ত আবিষ্কার
ভাগ্নে ফাইয়াজের সাথে খুনসুটির ফাঁকে হুট করে মাইমুনার হোয়াটসঅ্যাপে খুলে যাওয়া রুদ্রর চ্যাটলিস্ট। নিজের স্ত্রীই কি তবে হাফসার সম্ভ্রমহানির সহযোগী ছিলো? দেয়ালে আছড়ে পড়া ফোনের মতোই কি বিশ্বাস ভেঙে চুরমার হলো?
কাঁচের ভাঙা টুকরো ও অভিমানী প্রস্থান
অনুতাপহীন মাইমুনার অহংকারী বাপের বাড়ি প্রস্থান, আর নিজের ঘরে আরহামের রাগে কাঁচের টি-টেবিল আছড়ে ভাঙার শব্দ। প্রচণ্ড ভীতিতে হাফসা জ্ঞান হারাতেই আরহামের হৃদয় কি পুনরায় অনুশোচনায় ফেটে পড়বে?
রিপোর্টের সবুজ দাগ ও আনন্দের অশ্রু
হাসপাতালের টেস্ট রিপোর্টে সবুজ কালিতে ভেসে ওঠা ‘পজিটিভ’ সংকেত। এত বড় সৌভাগ্যের সামনে দাঁড়িয়েও ভালোবাসার প্রেয়সীকে হারানোর কোন অজানা ভয় আরহামের চোখের কোণ ভাসিয়ে দিল অশ্রুতে?
ডুপ্লিকেট গান ও অনিচ্ছার কবুল
রাস্তায় বখাটেদের হাত থেকে ডুপ্লিকেট গান দেখিয়ে আদওয়াকে উদ্ধার করার সাহসী পদক্ষেপ। কিন্তু হসপিটালের বেডে রক্তে ভেজা আত্মহত্যার হুমকির মুখে আরহাম কি বাধ্য হলেন তৃতীয় নিকাহতে সম্মতি দিতে?
তিন তারার নতুন সীমানা
সবুজ গাউনে নববধূর বেশে তাজওয়ার ভিলায় আদওয়ার প্রবেশ। হাফসা ও মাইমুনার বোনসুলভ বরণডালা পাওয়ার পরও মধ্যরাতে নিজের কামরা ছেড়ে আরহাম কেন অন্য ঘরে মুখ গুজে কাঁদে?
দোলনার আবদার ও পূর্ণিমা চাঁদ
ছাদের বাতি জ্বেলে আদওয়ার অনাড়ম্বর ইচ্ছের পূর্ণতা এনে দেওয়া আরহামের সহৃদয় মন। কিন্তু শেষরাতের তাহাজ্জুদে ডাকার পর আদওয়ার অবহেলা ও ঘুমের ভান কি দুজনের মধ্যকার দূরত্ব বাড়িয়ে দেবে?
কটুক্তির বিষ ও অপমানের ঝড়
সকালের শান্ত সংসারে মাইমুনার মায়ের আকস্মিক আক্রমণ ও আরহামের চরিত্রে কলঙ্ক লেপন। শ্বশুরবাড়ির কঠোর অপমানের মুখে মাথা নত করে দাঁড়িয়ে থাকা শান্ত মানুষটির জন্য আদওয়া কেন স্বেচ্ছায় বিচ্ছেদের প্রস্তাব দিল?
রক্তাক্ত বেসিন ও গোপন ব্যাধি
ফিরানির শাড়ি কুঁচি করে দেওয়ার মিষ্টি আবদার নিমেষেই ফিকে হয়ে যায় ভোরের আলো ফোটার লগ্নে। বেসিনের সাদা টাইলসে আদওয়ার কাশির সাথে ভেসে ওঠা তাজা রক্তের দাগ কোন ভয়াবহ গোপন ব্যাধির বার্তা দিল?
কাঁচা বাজারের অস্বস্তি
পিতার সাথে কাঁচাবাজার করতে গিয়ে অনভিজ্ঞ আরহামের হাস্যকর হেনস্তা। অন্যদিকে হাফসার বমির মুখে আনাড়ি হাতে অদ্ভুত স্বাদের সবজি রান্না করে আরহামের সেই খাবার গিলিয়ে দেওয়ার করুণ চেষ্টা কার মন গলাবে?
ফুচকার মোড় ও কানমলা
গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে ফুচকা খাওয়ার অপরাধে তিন স্ত্রীকে একসাথে কানে ধরে দাঁড় করিয়ে রাখার অদ্ভুত শাস্তি। কিন্তু হঠাৎ আব্বুর আগমনে খোদ আরহামকেই যখন কান ধরে ক্ষমা চাইতে হলো, তখন কে কাকে বাঁচাবে?
মধ্যরাতের ইনহেলার
আইসক্রিম খেয়ে কাশির চোটে দম বন্ধ হয়ে আসার পর মধ্যরাতে আরহামের বুকে মাথা রেখে গ্যাস নেওয়ার স্বস্তি। ‘আমি যদি আপনার আগে মরে যাই, কাঁদবেন?’ আদওয়ার এমন আকস্মিক প্রশ্ন কেন আরহামকে স্তব্ধ করে দিল?
শিশুর ট্রেনের উল্লাস
তিন স্ত্রীকে নিয়ে পার্কের খেলনা ট্রেনে আরহামের অনিচ্ছাকৃত সফর ও আনন্দঘন দিন। কিন্তু বাড়িতে ফিরতেই হাফসার বাপের বাড়ি যাওয়ার অভিমানী বায়না স্বামী-স্ত্রীর হাসিখুশি পরিবেশে কোন দূরত্বের ইঙ্গিত দিল?
টিনের চালে বৃষ্টির গান
বাপের বাড়ি যাওয়ার পথে গভীর জঙ্গলে দুর্যোগের কবলে পড়ে অচেনা কুটিরে আশ্রয় গ্রহণ। টিনের চালের নিচে ডিমভাজি-ভাতের পরম তৃপ্তি আর কনকনে শীতে কাঁথার নিচে আরহামের উষ্ণ স্পর্শ কি হাফসার সব দুঃখ মুছে দেবে?
ক্যান্সারের নির্মম বার্তা
ডাক্তারের চেম্বারে স্তব্ধ আরহামের সামনে রাখা রিপোর্ট—‘লাং ক্যান্সার’। নিজের চঞ্চল শ্যামাপাখির এই অমোঘ পরিণতির সত্য জানার পর আরহাম কি পারবে মাইমুনার পাঠানো ডিভোর্স নোটিশের আঘাত সহ্য করতে?
ফিরে আসা পিতা ও মধ্যরাতের চিঠি
ছেলের অশান্তি টের পেয়ে এয়ারপোর্টের প্লেন ছেড়ে ফিরে এলেন পিতা। সিঙ্গাপুরে দ্রুত আদওয়াকে নেওয়ার পরিকল্পনার মাঝেও কোর্টের আইনি জটলা কি আদওয়ার শেষ চিকিৎসার পথ রুদ্ধ করে দেবে?
আইসিইউর দরজায় শেষ দৃষ্টি
কোর্টে দাঁড়িয়ে মাইমুনার মুখের ওপর বিচ্ছেদের সম্মতিপত্র ছুঁড়ে দিয়ে যখন হসপিটালে ছুটলেন আরহাম, তখন আইসিইউর দরজায় স্ট্রেচারে শোয়ানো আদওয়ার অশ্রুভেজা চোখজোড়া আরহামের বুকে কী চরম হাহাকার রেখে গেল?
নিভে যাওয়া শ্যামাপাখি
‘আমাকে একটু জড়িয়ে ধরবেন?’ নিভে আসা কন্ঠে শেষ আবদার জানিয়ে আরহামের বুকের উষ্ণতায় নিঃশ্বাস ত্যাগ করল আদওয়া। এই চরম সত্য জেনে হাফসা কীভাবে সামলাবে নিজের ভেতর ভেঙে টুকরো হওয়া স্বামীটিকে?
উমারের আলো ও রক্তের শপথ
আট মাস পর আদওয়ার রেখে যাওয়া মর্মস্পর্শী চিঠি আর অপারেশন থিয়েটার থেকে সদ্যজাত পুত্র উমারের কান্না। একদিকে জীবনাবসানের তীব্র শোক, অন্যদিকে নতুন প্রাণের উষ্ণতা—আরহামের চোখের পানিতে কোন শুকরিয়া লেখা হলো?
অনুতাপের জোয়ার ও মানভঞ্জনের রাত
মামলা প্রত্যাহার করে মাইমুনার অনুতপ্ত হয়ে ফিরে আসার আকুতি, আর হাফসার না বলে বাপের বাড়ি যাওয়ায় আরহামের দীর্ঘ বিরহ। শ্বশুরবাড়িতে গিয়েও গম্ভীর মুখে বসে থাকা আরহামের রাগ ভাঙাবে কীভাবে হাফসা?
কাবাঘরের ডাক ও অনন্ত অপেক্ষা
এক বছরের জমানো দ্বিধা ভেঙে অবশেষে হাফসার মুখে ‘ভালোবাসি’ ধ্বনি। কালো কা’বা স্পর্শের যৌথ টিকেট উপহার দিয়ে আরহাম যখন জান্নাতে আদওয়াসহ তিন তারার মিলনের প্রার্থনা করেন, তখনই কি শেষ হয় এই সুদীর্ঘ অপেক্ষার অধ্যায়?
কোনো অধ্যায় খুঁজে পাওয়া যায়নি।
সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQs)
অপেক্ষা (Opekkha) উপন্যাসটির মূল কাহিনি কী নিয়ে?
অপেক্ষা উপন্যাসের মোট পর্ব সংখ্যা কত এবং এটি কি সমাপ্ত?
অপেক্ষা উপন্যাসটির লেখিকা কে?
অপেক্ষা উপন্যাসটি কি বিনামূল্যে অনলাইনে পড়া যায় নাকি PDF ডাউনলোড করতে হবে?
অপেক্ষা সিজন ২ (Season 2) কি প্রকাশিত হবে?
পাঠক রিভিউ ও রেটিং
0 টি রিভিউ · 0 জন পাঠক
0 টি রিভিউ