অফিডিয়ান
ছোটবেলার এক প্রাণঘাতী দংশনের স্মৃতি ভুলে বহু বছর পর ফুফুর বাড়িতে পা রাখে রুমাইশা। কিন্তু চিলেকোঠায় স্বেচ্ছানির্বাসিত ফুফাতো ভাই সাফওয়ানের শীতল শাসন ও ভয়ঙ্কর রূপান্তরের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে উন্মোচিত হতে থাকে এক অভিশপ্ত জেনেটিক রহস্য। ভালোবাসার তীব্র উন্মাদনা কি পারবে মানুষ ও শ্বাপদের রক্তক্ষয়ী সীমানা মুছে দিতে?
উপন্যাসটি মোট ৭৯ পর্বে সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে। সম্পূর্ণ কাহিনীর প্রতিটি পর্ব অনলাইন পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত।
গল্পের বিশেষত্ব ও হাইলাইটস
জেনেটিক থ্রিলার ও ডার্ক রোম্যান্স
ল্যাব এক্সপেরিমেন্টের ফলে সর্প-মানবের সংমিশ্রণ এবং অস্তিত্ব রক্ষার তীব্র রক্তক্ষয়ী সংঘাতের রোমাঞ্চকর আখ্যান।
বিষ ও প্রতিষেধকের মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন
যার দংশনে শুরু হয়েছিল অভিশাপ, তারই স্পর্শ ও রক্তের মিউটেশনে খুঁজে পাওয়া মুক্তির অমর প্রেমের কাহিনী।
আমাজনের গভীর অরণ্য ও আন্তর্জাতিক সংঘাত
মাফিয়া চক্রের শিকারি ফাঁদ পেরিয়ে বুনো আমাজনের বুকে নিজস্ব সাম্রাজ্য গড়ার দুঃসাহসিক অভিযান।
প্রধান চরিত্রসমূহ
5সাফওয়ান আহমেদ
নায়ক (Male Lead)অস্বাভাবিক জেনেটিক মিউটেশনের শিকার এক রহস্যময় ও ক্ষুরধার যুবক। মারাত্মক বিষধর শারীরিক রূপান্তর ও হিংস্র পেশির আড়ালে রুমাইশার প্রতি অতল, পজেসিভ ও প্রতিরক্ষামূলক ভালোবাসা লালন করে।
রুমাইশা কাদের (রিমু)
নায়িকা (Protagonist)কোমল অথচ আত্মমর্যাদাসম্পন্ন তরুণী। শৈশবে সাফওয়ানের বিষাক্ত দংশন থেকে বেঁচে ফিরে নিজের অজান্তেই সাফওয়ানের অভিশপ্ত জীবনের একমাত্র প্রতিষেধক ও নিয়ামক হয়ে ওঠে।
শাফিন আহমেদ
সহায়ক চরিত্র (Brother)সাফওয়ানের অনুজ ও রুমাইশার বিশ্বস্ত বন্ধুসম ভাই। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও বড় ভাই ও প্রিয় রুমি আপুর পাশে নির্ভীক ঢাল হয়ে দাঁড়ায়।
রাফসান কাদের
সহায়ক চরিত্র (Cousin/Brother)রুমাইশার আপন বড় ভাই। বোনের নিরাপত্তা নিয়ে অতিসচেতন ও সাফওয়ানের অন্ধকার অতীত সম্পর্কে সর্বদা সন্দিহান।
রুনিয়া রহমান
মাতৃচরিত্র (Mother)সাফওয়ান ও শাফিনের স্নেহময়ী জননী এবং রুমাইশার ফুফু। সন্তানের অমানুষিক রূপান্তর ও বিরহের যন্ত্রণায় আজীবন ক্ষতবিক্ষত এক মা।
সূচিপত্র ও সিজনসমূহ
79 টি অধ্যায়
প্রথম খণ্ড: বিষাক্ত প্রণয় ও রূপান্তর
শৈশবের এক রক্তক্ষয়ী দংশনের স্মৃতি পেরিয়ে দুটি পরিবারের মধ্যে গড়ে ওঠা চরম রহস্য, নিষিদ্ধ প্রেম এবং রক্তচোষা ষড়যন্ত্রের হাত থেকে মুক্তির লড়াই।
স্মৃতির অচেনা ছায়া
ষোলো বছর পর ফুফুর পুরোনো বাড়িতে পা রাখতেই রুমাইশার মনে ভেসে ওঠে শৈশবের সেই বিভীষিকাময় দিন। কেন সাফওয়ানের এক কামড়ে তার জীবন মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়েছিল? ফুফুর চোখের কান্না কি কোনো লুকানো সত্যের ইঙ্গিত?
নিষিদ্ধ চিলেকোঠার হাতছানি
লিভিং রুমে ফুফার আক্ষেপ আর বাবার অনুতপ্ত কান্না শুনে স্তব্ধ হয়ে যায় রুমাইশা। সাফওয়ান কেন সবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে চিলেকোঠায় বন্দি? পরীক্ষার ছুতোয় ফুফুর বাড়িতে রাত কাটানোর সিদ্ধান্তে কি লুকিয়ে আছে কোনো অমোঘ বিপদ?
নিশাচর অবয়বের রহস্য
গভীর রাতে জানালার বাইরের আলো হঠাৎ নিভে যাওয়া আর অচেনা পতনের শব্দে কেঁপে ওঠে রুমাইশার মন। ছাদ কেন সবার জন্য নিষিদ্ধ? কলেজের তুখোড় লেকচারার সাফওয়ানের মুখ ঢেকে চলার আড়ালে কি শুধুই অ্যালার্জি, নাকি অন্য কিছু?
গহিন অরণ্যের সংকেত
জঙ্গলের নির্জন ডোবা পেরিয়ে এক অদ্ভুত খোলস দেখে ভয়ে নীল হয়ে ওঠে শাফিন ও রুমাইশা। কোনো শিকারি কি পিছু নিয়েছিল তাদের? রাতে ছাদে দাঁড়িয়ে বিশালাকার সুঠামদেহী সাফওয়ানের কঠোর কণ্ঠের জেরার মুখে কী জবাব দেবে শাফিন?
নিঃশব্দ রাতের তৃষ্ণা
রাত সাড়ে তিনটায় জঙ্গলের পথে দীর্ঘকায় এক অবয়বের অন্তর্ধান দেখে স্তম্ভিত রুমাইশা। পিপাসার্ত হয়ে নিঃশব্দে রান্নাঘরে নামতেই ফ্রিজের মৃদু আলোয় দৃশ্যমান হয় ফ্রিজের চেয়েও দীর্ঘ এক হিংস্র মানব। অন্ধকারের ভেতর থেকে কে ডাকল তার নাম?
বিষাক্ত শাসনের শুরু
গভীর রাতের অন্ধকারে সাফওয়ানের তীব্র ধমকে কেঁদে ফেলে রুমাইশা। পরদিন বাধ্য হয়ে সাফওয়ানের কালো মার্সিডিজে ওঠার পর শুরু হয় রূঢ় দূরত্বের শাসন। কলেজ গেটের অনেক আগেই গাড়ি থেকে নামিয়ে দিয়ে সাফওয়ানের এই নিষ্ঠুর উপেক্ষার কারণ কী?
শিকারি চোখের দ্যুতি
সাফওয়ানের অনাবৃত মুখ দেখার অদম্য কৌতূহলে দরজার ফাঁকে চোখ রাখে রুমাইশা। কিন্তু সিঁড়িতে আবছা আলোয় ধরা পড়ে এক দানবীয় ভয়াল রূপ! চোখের কোটরে সবুজ-ধূসর জ্বলজ্বলে শিকারি মণি আর শরীরে সাপের আঁশটে চামড়া দেখে কেন থমকে গেল রুমাইশার নিঃশ্বাস?
কুচকুচে আঁধারের বিভীষিকা
ধারালো ক্যানাইন বিষদাঁত আর লকলকে দ্বিখণ্ডিত দীর্ঘ জিহ্বা দেখে নিজের মুখে হাত চেপে কান্না আটকায় রুমাইশা। শৈশবের সেই ভয়াল কামড়ের ক্ষত কি তবে কোনো সাধারণ ক্ষত ছিল না? ছাদে নাস্তা দিতে গিয়ে কাঁপতে থাকা হাত কি ফাঁস করে দেবে তার লুকানো জ্ঞান?
মধ্যরাতের নিঃশব্দ পরোয়ানা
রুমাইশার হঠাৎ মনমরা ভাব কাটাতে মধ্যরাতে দরজায় কড়া নাড়ে স্বয়ং সাফওয়ান। অন্ধকার থেকে ভেসে আসে আদেশ—কালকের মধ্যেই জানতে চাই তোমার কষ্টের কারণ! ভয়ে কাঁপতে থাকা রুমাইশা কিভাবে আড়াল করবে তার সর্বনাশা সত্য?
আশঙ্কার চোখে নজরদারি
পরীক্ষার খারাপ ফলের ভুয়া অজুহাত দিয়ে সাফওয়ানকে মেসেজ পাঠায় রুমাইশা, কিন্তু সাফওয়ান কি এত সহজে তা বিশ্বাস করবে? সন্ধ্যায় নাস্তার ট্রে নিয়ে ছাদে পৌঁছাতেই থাই গ্লাসের ওপার থেকে তীক্ষ্ণ শিকারি চোখের পর্যবেক্ষণে কেন কেঁপে উঠল রুমাইশার শরীর?
লুকানো বিষের অভিশাপ
রুমাইশাকে দ্রুত বাড়ি ফেরত পাঠানোর জন্য মাকে তাগিদ দেয় সাফওয়ান। নিজের তৈরি খাবারের স্বাদে শৈশবের স্মৃতি উথলে উঠলেও চোখের সামনে ভেসে ওঠে আঠারো বছর আগের সেই অভিশপ্ত দিনের দৃশ্য। কেন নিজের অজান্তেই রুমাইশার নরম গলায় বারবার কামড়ে দিয়েছিল সাফওয়ান?
নিষিদ্ধ সীমানার সতর্কবাণী
জঙ্গলের ডোবা পেরিয়ে সাপের ঝুলন্ত আস্তানার নিচে সাফওয়ানের হারানো একটি বস্তু কুড়িয়ে নেয় রুমাইশা। রাতে ছাদে সাফওয়ানের মুখোমুখি হতেই শক্ত হাতে চিবুক চেপে শেষ সতর্কতা দেয় সাফওয়ান। এই স্পর্শ কি শুধুই ক্রোধ, নাকি অন্য কোনো অধিকারবোধ?
ভাঙা কাচের প্রতিধ্বনি
খোলা জানালায় দাঁড়িয়ে রাতে সাফওয়ানের জঙ্গলযাত্রা দেখার সময় হাত লেগে ভেঙে চুরমার হয়ে যায় কফি মগ। মুহূর্তে ঘুরে তাকায় সাফওয়ানের হিংস্র শিকারি চোখ! নিজের গোপন রূপ ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় সাফওয়ান কি এবার মেরে ফেলবে রুমাইশাকে?
কালবৈশাখীর রুদ্ধশ্বাস থাবা
ঝুম বৃষ্টির রাতে রুমাইশার দরজায় উগ্র করাঘাত। দরজা খুলতেই গলায় চেপে বসে সাফওয়ানের ইস্পাতকঠিন পাঞ্জা। বুকে হাত ঢুকিয়ে উদ্ধার করে নিজের হারানো পকেট ওয়াচ আর দেয় মৃত্যুর চরম হুমকি। রুমাইশা কি বাঁচবে এই দানবের হাত থেকে?
হরিণার বিলের অভিসার
অনুতপ্ত সাফওয়ান জানলা দিয়ে কোলে তুলে রুমাইশাকে রাতের আঁধারে নিয়ে যায় নির্জন হরিণার বিলে। সেখানে নিজের মুখ উন্মোচন করে নিজের ভয়ঙ্কর রূপ স্বাভাবিকভাবে মেনে নেওয়ার আদেশ দেয় ও। কিন্তু সাফওয়ানের বিষদাঁতের ঝলক দেখে কেন জ্ঞান হারাল রুমাইশা?
জ্বরের ঘোরে বিলাপ
তীব্র জ্বরে সংজ্ঞাহীন রুমাইশার পাশে এসে দাঁড়ায় ডাক্তার। গলায় স্পষ্ট আঙুলের দাগ দেখে তৈরি হয় নতুন সন্দেহ। বহুদিন পর সাফওয়ানকে পরিপূর্ণ পুরুষরূপে দেখে আয়েশা খানমের কেন মনে পড়ে গেল আঠারো বছর আগের রক্তক্ষয়ী স্মৃতি?
আঁধারে ফেরা অতীত
নিজের বাড়ি ফিরেও রুমাইশার মন শান্ত হতে পারে না। শেষ রাতের সেই তীব্র আলিঙ্গন আর বুনো স্পর্শের স্মৃতি কেন বারংবার তাড়া করছে তাকে? মাঝরাতে নীল ডিমলাইটের আবছা আলোয় নিঃশব্দে খুলে যাওয়া দরজার ওপাশে কে দাঁড়িয়ে?
জন্মলগ্নের কালিমাময় রহস্য
মা-বাবাকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে রুমাইশার ঘরে প্রবেশ করে সাফওয়ান। উন্মোচিত হয় মোস্তফা আহমেদের আত্মহত্যার চিঠি আর ল্যাবে টেস্টটিউব ভ্রূণে ব্ল্যাক মাম্বা ও ভাইপারের জিন প্রতিস্থাপনের হাড়হিম করা সত্য। সব শুনে কেন স্তব্ধ হয়ে গেল রুমাইশা?
রক্তস্নাত মহাসড়কের ত্রাতা
ঝড়ের সন্ধ্যায় নির্জন সাড়াপোলের মাঠে সিএনজির চালক পালিয়ে গেলে দুই নরপশুর লালসার শিকার হতে যায় অসহায় রুমাইশা। ঠিক অন্তিম মুহূর্তে বুলেটের গতিতে কালো মার্সিডিজ নিয়ে কে আছড়ে পড়ল সেখানে? সাফওয়ানের শকুনি চোখ কি ক্ষমা করবে এদের?
পৈশাচিক প্রতিশোধের সংবাদ
সকালে টিভিতে ভেসে ওঠে সাড়াপোলের মাঠে চোখ ও হাত উপড়ে ফেলা দুই ব্যক্তির বীভৎস লাশের খবর। ভয়ে রক্ত হিম হয়ে যায় রুমাইশার—সাফওয়ান কি তবে নিজের হাতে খুন করেছে ওদের? পুলিশ কি ধরে ফেলবে তার এই দানবীয় সত্য?
সন্দেহের বিষবাণ
শাফিনের সাথে ভাসমান ব্রিজে ঘুরে আসার আনন্দ মুহূর্তেই মাটিতে মিশে যায় রাফসানের ফোনকলে। বোরখা খুলে খালি গায়ের পুরুষের সাথে গাড়িতে ফেরার চরম নোংরা অপবাদে কেঁদে বুক ভাসায় রুমাইশা। এই অপমানের শেষ কোথায়?
উন্মত্ত পৌরুষের হুঙ্কার
রুমাইশার কান্নার খবর পেয়ে ল্যাবের বিকার নিজের হাতের মুঠিতেই চূর্ণ করে ফেলে সাফওয়ান। ফোন করে রাফসানকে জানিয়ে দেয় রক্তহিম করা হুশিয়ারি—'রুমাইশাকে আমি আমারই করব, ক্ষমতা থাকলে ঠেকাস!' কার জয় হবে এই দ্বন্দ্বে?
ভাঙা হৃদয়ের আর্তনাদ
রুমাইশার ঘরে এসে নিজের ভেঙে পড়া সত্তাকে আর ধরে রাখতে পারে না সাফওয়ান। প্রিয়তমার বুকে মাথা গুঁজে হাউমাউ করে কেঁদে বলে—'আমি বাঁচতে চাই রিমু, আমি বন্য পশু হয়ে মরতে চাই না!' রুমাইশার একটি গান কি পারবে তাকে শান্তি দিতে?
মাতৃক্রোড়ে ক্ষতবিক্ষত সত্য
ভোররাতে রুমাইশার কামরা ছেড়ে বাড়ি ফিরে নিজের সর্পিল চামড়া, বিষদাঁত আর লকলকে জিহ্বা মায়ের সামনে উন্মোচিত করে সাফওয়ান। কান্নায় ভেঙে পড়া মায়ের কাছে দাবি জানায় শেষ ইচ্ছা—'রিমুকে আমার বউ করে এনে দাও মা!'
চপেটাঘাতের তীব্র অপমান
রুমাইশার ঘরে সাফওয়ানকে ঢুকতে দেখে রাগে উন্মত্ত হয়ে ওঠেন আয়েশা খানম। সপাটে একের পর এক চড় বসিয়ে মেয়েকে চরিত্রহীনা বলে ধিক্কার দেন তিনি। সাফওয়ানের প্রতি রুমাইশার অটল স্বীকারোক্তি কি এই আগুন আরও উস্কে দেবে?
অনড় প্রেমের প্রতিরোধ
রুনিয়ার বিয়ের প্রস্তাব শুনে শামসুল কাদের গর্জে ওঠেন—'আমার মেয়ে কি বন্য পশুর সাথে বিয়ে দেওয়ার মতো ফেলনা?' বাবার সামনে দাঁড়িয়ে নির্ভীক কণ্ঠে সাফওয়ানকেই ভালোবাসার কথা জানায় রুমাইশা। পরিণতি কি শুধুই পারিবারিক ধ্বংস?
মধ্যরাতের রণহুঙ্কার
রুমাইশার গালে আঙুলের দাগ দেখে মার্সিডিজ নিয়ে মাঝরাতে মামার বাড়িতে হাজির হয় উন্মত্ত সাফওয়ান। সবাইকে কাঁপিয়ে মায়ের সোনার আংটি জোর করে রুমাইশার আঙুলে পরিয়ে দিয়ে ঘোষণা করে—'রিমু আমার বাগদত্তা!' কার সাধ্য এই বাধন ভাঙার?
নিভৃত রাতের গোপন চুক্তি
মধ্যরাতে ছাদের তালাবিহীন দরজা দিয়ে রুমাইশার ঘরে প্রবেশ করে সাফওয়ান। ঘাড়ের ভেতর প্রবেশ করিয়ে দেয় বিশেষ ট্র্যাকার ডিভাইস আর নিয়ে নেয় রক্তের নমুনা। কেন মৃত্যুর সাথে রুমাইশার জীবনকে এভাবে একসূত্রে বেঁধে দিল সে?
অন্ধকারের অলৌকিক নিরাময়
রুমাইশার রক্ত পরীক্ষায় সাফওয়ান আবিষ্কার করে অবিশ্বাস্য সত্য—তার শারীরিক অভিশাপের একমাত্র অ্যান্টিডোট রুমাইশার রক্তেই তৈরি! এদিকে ইতালিফেরত খালাতো ভাই জুবায়েরের কুনজর পড়ে রুমাইশার ওপর। কোন চরম ষড়যন্ত্র শুরু হলো আড়ালে?
আস্থার দোলাচল
বাবার কোমল আশ্বাসে আনন্দিত রুমাইশার ফোনে ভেসে আসে সাফওয়ানের সংশয়ী বার্তা—'আমি কিছু লুকিয়েছি জানলে কি ছেড়ে চলে যাবি?' আড়ালে জুবায়েরের সাথে বিয়ের শপিং সেরে এসে রুমাইশার জীবন নিয়ে কী ছক আঁকছেন আয়েশা খানম?
অশুভ লালসার থাবা
রুমাইশার হাত থেকে ফোন কেড়ে নিয়ে জুবায়েরের সাথে বিয়ের ঘোষণা দেয় পরিবার। নিজের ঘরে ঢুকে রুমাইশার হাত চেপে ধরে কানের কাছে নোংরা ইঙ্গিত দেয় জুবায়ের। চরম অপমানে ধাক্কা দিয়ে বাইরে ছুটে আসা রুমাইশার কি কোনো নিস্তার নেই?
অপমানের শেষ সীমা
মার খেয়েও জুবায়েরকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আত্মহত্যার হুমকি দেয় রুমাইশা। গভীর রাতে ইমাম ডেকে জোর করে বিয়ে পড়ানোর তোড়জোড়। ওদিকে ফোনে রাফসানের হুমকিতে অট্টহাসি দিয়ে সাফওয়ান গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়ে—'রিমু আমারই হবে!'
কবুল বলার অগ্নিপরীক্ষা
ইমাম সাহেবকে নিজের গাড়িতে তুলে নিয়ে ঠিক বিয়ের লগ্নে ঘরে ঢোকে দানবাকৃতির সাফওয়ান। জুবায়েরের সামনে দাঁড়িয়ে পঞ্চাশ লাখ টাকা দেনমোহরে রুমাইশার অনামিকায় হিরের আংটি পরিয়ে কবুল পড়িয়ে নেয় সাফওয়ান। এবার কার ওপর নামবে সাফওয়ানের ক্রোধ?
হিংস্র থাবার চূড়ান্ত শাস্তি
রুমাইশার গালে চড়ের দাগ আর জুবায়েরের নোংরা ইঙ্গিত শুনে ক্ষিপ্ত সাফওয়ান জুবায়েরের কলারবোন মচকে শূন্যে ঝুলিয়ে দেয়। দুই হাত ভেঙে দিয়ে নিথর জুবায়েরকে ফেলে রুমাইশাকে নিজের ঘরে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি নেয় সাফওয়ান। কে রুখবে এই বুনো পুরুষকে?
মাফিয়া চক্রের কালো ছায়া
রাফসানের ফোনে ফাঁস হয় সাফওয়ানের আসল পরিচয়—সে আন্ডারগ্রাউন্ডের দুর্ধর্ষ ইন্টারন্যাশনাল হিটম্যান! বিশ্বজুড়ে হন্যে হয়ে খুঁজছে তাকে মাফিয়া সিন্ডিকেট ও জেনেটিক রিসার্চ টিম। এমন এক খুনি দানবের হাতে নিজের মেয়েকে তুলে দিয়ে কি ভুল করলেন শামসুল?
প্রণয়ের নতুন প্রহর
সকালে গোসল সেরে ভেজা চুলে ওড়না না পেয়ে ঘরের মেঝে থেকে কামিজ তুলতে গিয়ে সাফওয়ানের সামনে পড়ে যায় রুমাইশা। গভীর কামনায় রুমাইশার কোমর জড়িয়ে ধরে সাফওয়ান দেয় রাতের চরম শাসনের ইঙ্গিত। বাজারে গিয়ে বধুবেশের উপহার কিনে সাফওয়ান কি প্রস্তুতি নিচ্ছে বাসর রাতের?
রজনীগন্ধার মায়াবী সুবাস
গোলাপ আর বেলির মালায় সাজানো চিলেকোঠার কামরা। মেরুন কাতানে নববধূর সাজে সেজে দরজায় এসে বুক ধুকপুক করে রুমাইশার। ভেতরে ঢুকে বুকশেলফের ডায়েরি ছুঁতেই পেছন থেকে গমগমে কণ্ঠে কে ডেকে উঠল তার নাম?
এক সমুদ্র তৃষ্ণার সমর্পণ
সাদা গোলাপের তোড়া বাড়িয়ে রুমাইশার কোলে মাথা গুঁজে সাফওয়ান বলে—'আমার এই রুক্ষ মরুভূমিতে তুমি এক পশলা বৃষ্টি!' নফল নামাজ শেষে মুক্ত চুলের মায়ায় ভেসে বাসর রাতের পূর্ণতায় একে অপরের মধ্যে বিলীন হয়ে যায় দুটি ক্লান্ত হৃদয়।
দূর দিগন্তের ডাক
রাফসানের আগমন ও ছোটবেলার রেসলিং স্মৃতির কোলাহল। কিন্তু মাঝরাতে ছাদে দাঁড়িয়ে রাফসানকে সাফওয়ান জানায় আমেরিকার লুকাস গ্যাংয়ের বাংলাদেশে পৌঁছানোর খবর। আমাজনের গহীন অরণ্যে পালানোর এই পরিকল্পনা কি বাঁচাতে পারবে রুমাইশাকে?
নিশুতি রাতের মরণচিৎকার
মাঝরাতে হঠাৎ তীব্র যন্ত্রণায় ঘুম ভাঙে সাফওয়ানের। বুকফাটা আর্তচিৎকার দিয়ে ছাদ থেকে লাফিয়ে বুনো গতিতে ছুটে যায় জঙ্গলের গোপন ল্যাবে। চোখ ও শরীর কালো হয়ে ছটফট করতে থাকা সাফওয়ানকে বাঁচাতে জঙ্গলে ছুটে আসা রুমাইশা কি পারবে ল্যাবের পাসওয়ার্ড ভেদ করতে?
পাতালপুরীর রুদ্ধশ্বাস লড়াই
লেজারের আগুনে ঝলসে গিয়েও কঙ্কালসার সাফওয়ানকে গভীর চুম্বনে শান্ত করে রুমাইশা। পরদিন ল্যাবের পেছনের গোপন কৃত্রিম অরণ্যে ঢুকতেই শত শত বিষধর সাপ ঘিরে ধরে সাফওয়ানকে। সাপের উন্মাদনায় মাতাল সাফওয়ান কেন শিকারির হাসিতে তাকাল রুমাইশার দিকে?
রক্তস্নাত বিষাক্ত দংশন
উন্মত্ত সাফওয়ান নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রুমাইশার গলায় আর বিউটিবোনের মাঝে মারাত্মক বিষদাঁত বসিয়ে দেয়! রক্তে ভেসে দেওয়ালে ছিটকে পড়ে সংজ্ঞাহীন রুমাইশা। নিজের প্রেয়সীর মৃত্যু নিশ্চিত জেনে নিজের সৃষ্টি সমস্ত বিষবাগান পুড়িয়ে ছারখার করে দেয় সাফওয়ান!
পুনর্জন্মের অলৌকিক ভোর
কম্পিউটার স্ক্রিনের সোজা দাগ আবার কেঁপে উঠে প্রমাণ দেয় রুমাইশার বেঁচে থাকার। সৃষ্টিকর্তার দরবারে ডুকরে কেঁদে ওঠে সাফওয়ান। নিজের সব প্রতিষেধক দিয়ে দিনরাত সেবা করার পর যখন রুমাইশা চোখ খোলে, ভালোবাসার স্পর্শে জেগে ওঠে পাতালপুরী।
ধেয়ে আসা কালো মেঘ
বাড়ি ফিরে আসলেও লুকাসের গ্যাং খুলনা সীমান্ত পেরিয়ে আসছে। রাতে ছাদের রেলিংয়ে দাঁড়িয়ে রুমাইশার চোখের দিকে তাকাতেই সাফওয়ানের চোয়াল শক্ত হয়ে যায়—রুমাইশার বাদামি চোখও এখন তার মতোই দ্যুতি ছড়াচ্ছে! তবে কি রুমাইশাও রূপান্তরিত হচ্ছে?
তপ্ত অভিমানের ঝড়
সব সত্য আড়াল করায় সাফওয়ানের ওপর অভিমান করে রুমাইশা। দড়াটানায় গাড়ি থামিয়ে আইসক্রিম আর গোলাপ দিয়েও মন গলে না। ক্ষিপ্ত সাফওয়ান নেকাব খুলে ঠোঁটে কামড় বসিয়ে কোলের ওপর বসিয়ে নেয় তাকে। কলেজে পৌঁছে কি অপেক্ষা করছে তাদের জন্য?
ভরা সভায় সিংহের আগমন
কলেজে মারিয়ার কটূক্তির জবাবে নিজেকে সাফওয়ানের স্ত্রী ঘোষণা করে রুমাইশা। পাতি মাস্তান মারুফ দলবল নিয়ে এসে রুমাইশার ওপর হাত তুলতে গেলে দরজায় এসে দাঁড়ায় দীর্ঘদেহী সাফওয়ান—'আমার স্ত্রীকে সম্মান দিয়ে কথা বলুন!' কার পতন হবে আজ?
মৃত্যুর তাণ্ডবলীলা
মারুফের দাঁত ভেঙে দিয়ে কলেজ ছাড়তেই জঙ্গল রোডে মঈনুদ্দিনের কুড়িজন লোক অস্ত্র নিয়ে ঘিরে ধরে সাফওয়ানের গাড়ি। শার্ট ও মাস্ক ছুড়ে ফেলে নিজের জ্বলজ্বলে রূপ ও টু-সাইডেড সোর্ড বের করে শুরু হয় সাফওয়ানের রক্তবন্যার তাণ্ডব। জানলার ওপার থেকে এ কী দেখল রুমাইশা?
রক্তনদীর বুক চিরে
লাশের ওপর গাড়ি চালিয়ে ফিরে এসে মাঝরাতে রুমাইশার তীব্র জ্বর। সিঙ্গাপুরের ডাক্তার জোনাসের নির্দেশে রুমাইশাকে কোলে তুলে ঠান্ডা শাওয়ারে ভেজায় সাফওয়ান। সকালে রাফসানের সতর্কবার্তা—লুকাস যশোর শহরে এসে পড়েছে! কোথায় লুকাবে তারা?
অদ্ভুত রূপান্তরের বিভা
ল্যাবের বিছানায় ঘুম ভেঙে রুমাইশার চোখ ধূসর-সবুজ আর শিকারি আলোয় রূপ নিয়েছে। দূর থেকে শুকনো পাতায় শিয়ালের চলার শব্দও শুনতে পায় সে। সম্মোহনী দৃষ্টিতে সাফওয়ানের দিকে তাকাতেই কেন হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে পড়ে গেল সাফওয়ান?
নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাস
রুমাইশার এমন অতিপ্রাকৃত পরিবর্তন দেখে অপরাধবোধে জর্জরিত সাফওয়ান সিদ্ধান্ত নেয় লুকাসের হাতে নিজেকে সঁপে দেবে, যাতে রুমাইশা বাঁচে। কিন্তু সাফওয়ানের পিঠে বুক চেপে রুমাইশার চিৎকার—'তোমাকে ছেড়ে আমি কোথাও যাব না!' এই আত্মত্যাগ কি বাঁচাবে তাদের?
বিশ্বাসের কাচ চূর্ণ
সাফওয়ানের কালো ডায়েরি পড়ে স্তব্ধ হয়ে যায় রুমাইশা—সে কি কেবলই সাফওয়ানের রোগমুক্তির ওষুধ? নিজেকে একটি গিনিপিগ ভেবে ঘৃণায় ল্যাব ছেড়ে ঝড়ের বেগে পালিয়ে যায় রুমাইশা। সাফওয়ানের সমস্ত কান্না আর আকুতি কি সত্যিই মিথ্যে ছিল?
আঁধারে একাকী ছায়া
রুমাইশাকে হারিয়ে টানা চার দিন অনাহারে কঙ্কালসার হয়ে পড়ে সাফওয়ান। রাতে জঙ্গলে সাফওয়ানকে খুঁজতে গিয়ে রাফসান ও শাফিন গাছের আড়ালে এক জোড়া জ্বলজ্বলে চোখ ও দীর্ঘ চুল দেখে আঁতকে ওঠে—সে কি রুমি? তবে কেন কাছে এসেও পালিয়ে গেল সে?
শিকারে পরিণত শিকারি
লুকাসের নির্দেশে দিয়েগো ও তার দলবল জঙ্গল থেকে শাফিনকে জিম্মি করে সাফওয়ানকে ডাকায়। ভাইকে বাঁচাতে কঙ্কালসার শরীরে টু-সাইডেড সোর্ড নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে সাফওয়ান, কিন্তু দুর্বল শরীরে ইলেকট্রিক শটের আঘাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ও। সাফওয়ান কি এবার বন্দী?
অপবাদের বিষবাষ্প
মিডিয়াতে সাফওয়ানের মার্ডারার ও বিষধর পরিচয় ফাঁস হওয়ায় পুরো পরিবার সমাজচ্যুত। ওদিকে আমেরিকার হার্ভার্ডের গোপন ল্যাবে শৃঙ্খলিত সাফওয়ানের বিষথলি কেটে কোটি কোটি ডলার কামানোর চক্রান্ত করছে হারবার্ট। সাফওয়ানের আয়ু কি তবে শেষ?
অন্ধকার থেকে প্রত্যাবর্তন
দুই মাস পর গভীর রাতে ছাদের রেলিংয়ে বসে থাকা শাফিনকে ইশারা করে ডাকে এক কালো অবয়ব। ঘাড়বাবরি চুল, কঠিন চাহনির রুমাইশাকে দেখে চমকে যায় শাফিন। শাফিনকে রুমাইশা জানায়—'সাফওয়ান বেঁচে আছে, কিন্তু আর বেশিদিন নেই!' কী করবে রুমাইশা?
লৌহশৃঙ্খলের মুখোমুখি
বোস্টনে নেমেই ডাক্তার জোনাসের সাথে দেখা করে রুমাইশা। সাফওয়ানের বন্দিশালার নকশা হাতে নিয়ে রাতের আঁধারে হার্ভার্ড ল্যাবের দিকে পা বাড়ায় ও। ওদিকে সাফওয়ানের কামরায় খোলামেলা পোশাকে ঢোকে নার্স অ্যাশলি। সাফওয়ান কি ফাঁদে পড়বে?
পুনর্মিলনের রক্তিম আলো
অ্যাশলি সাফওয়ানকে স্পর্শ করতে উদ্যত হতেই চাদরের নিচ থেকে বেরিয়ে তার গলা চেপে ধরে মেঝের সাথে মাথা আছড়ে নিথর করে দেয় রুমাইশা! দুই মাস পর নিভৃতে প্রিয়তমার বুকে মুখ গুঁজে সাফওয়ানের কান্না—'ক্ষমা করে দাও রিমু!'
পাতাল থেকে পলায়নের ছক
সাফওয়ানকে টু-সাইডেড সোর্ড ফিরিয়ে দিয়ে পালানোর পথ ঠিক করে রুমাইশা। রাতে মাইকেলের বুকে ভূত হয়ে চেপে বসে ভয় দেখিয়ে নিঃশব্দে ফ্লোর পার হয় ও। কিন্তু সকালে পুরো ল্যাবে হারবার্টের ভারী অস্ত্রধারী গার্ড মোতায়েন হলে কিভাবে বের হবে তারা?
খাঁচাভাঙা সিংহের হুঙ্কার
নিজের রুমে বেরিয়ে এসে সামনে থাকা প্রতিটা গার্ডকে দ্বিখণ্ডিত করতে থাকে শক্তিশালী সাফওয়ান। মাইকেলের সামনে দাঁড়িয়ে পৈশাচিক হাসি দিয়ে জানান দেয় নিজের উপস্থিতি। রুমাইশার সাহায্য চেয়ে ব্লুটুথে ডাক দেয় সাফওয়ান—'ক্লিয়ার দ্য ফার্স্ট ফ্লোর ওয়াইফি!'
বারুদের ধোঁয়ায় লড়াই
রুমাইশার মাথায় রিভলবার ঠেকিয়ে সাফওয়ানকে অস্ত্র ফেলতে বাধ্য করে এক গার্ড। কিন্তু হঠাৎ পেছন থেকে গুলি চালিয়ে গার্ডের খুলি উড়িয়ে দেয় ম্যাথিউ। বন্ধুর পাশে এসে দাঁড়ায় ম্যাথিউ—'বিপদে যে পাশে থাকে সেই তো আসল বন্ধু!'
গর্ভের অস্তিত্বের শপথ
ম্যানহোলের অন্ধকার টানেলে ছুটতে ছুটতে হঠাৎ মাটিতে পড়ে বমি করে রুমাইশা। সাফওয়ানের বুকে মুখ গুঁজে বলে ফেলে চরম গোপন সত্য—'সাফওয়ান, আমি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা!' সন্তানের অস্তিত্ব জেনে রুমাইশাকে নিজের সাথে বেঁধে ঝড়ের বেগে ছুটে চলে সাফওয়ান।
সাগরের নীল সীমান্তে
ম্যানহোলের নোংরা জল পেরিয়ে সমুদ্র সৈকতে রবার্টের প্রাইভেট জেটে ওঠে তারা। আকাশে ওড়ার পর রুমাইশাকে ভালোবেসে খাইয়ে দেয় সাফওয়ান। কিন্তু মাঝ আকাশে হঠাৎ বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে জেট—ফাইটার জেট থেকে হারবার্টের বুলেট ছুঁড়ে দিয়েছে ইঞ্জিনে!
আকাশ থেকে পতনের ঘূর্ণি
আকাশেই ধ্বংস হয়ে যায় প্রাইভেট জেট। রুমাইশাকে নিজের সাথে বেঁধে প্যারাস্যুট নিয়ে ঝাঁপ দেয় সাফওয়ান। মাটিতে পড়ে পায়ে জখম হলেও অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে বাঁচাতে এক স্থানীয় ব্যক্তির গাড়িতে চড়ে সোজা প্রবেশ করে আমাজনের সীমানায়।
দানবাকৃতির কালনাগিনী
আমাজনের গুহা থেকে বেরিয়ে আসে চল্লিশ ফুটি দানব পাইথন লিন্ডা! গার্ডদের তাড়া খাওয়া সাফওয়ানের আদেশে লিন্ডা একে একে গার্ডদের পিষে মেরে ফেলে। রাতে বিভীষিকা নদীর তীরে রুমাইশার কোলে মাথা গুঁজে সাফওয়ান জানায় লিন্ডার আসল কাহিনী।
এক যুগ পর নীড়ে
বারো বছর পর ল্যাম্বরগিনি উরুস চালিয়ে তিন সন্তানকে নিয়ে আহমেদ ভিলায় ফিরে আসে সাফওয়ান ও রুমাইশা। পরিচয় দেয় সাদ্দাত হুসেইন ও রাইয়ানা তাসনিম হিসেবে। মায়ের কোলজুড়ে জমজ নাতি আর ছোট নাতনিকে দেখে কেঁদে ফেলেন রুনিয়া।
অচেনা বিষের হাতছানি
ছাদে বসে সাফওয়ান শোনায় আমাজনে বিশাল ফার্মাসিউটিক্যাল ল্যাব তৈরি ও কোটি ডলারের ব্যবসার সফলতার গল্প। কিন্তু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়া রাফসানের স্ত্রী আফসানাকে কোলে তুলে কামরায় নিয়ে যেতেই সাফওয়ান টের পায় আফসানার এক অদ্ভুত অশুভ স্পর্শ!
কলুষিত অন্ধকারের ধাক্কা
ভোররাতে নিঃশব্দে সাফওয়ানের কামরায় ঢুকে ঠোঁটে চুম্বন করার চেষ্টা করে আফসানা। গর্জে উঠে সপাটে থাপ্পড় দিয়ে সোর্ড উঁচিয়ে সাফওয়ান বলে—'পাঁচ সেকেন্ডে বের না হলে ভুলে যাব তুমি কার স্ত্রী!' অনুতপ্ত সাফওয়ান কীভাবে নিজেকে পরিষ্কার করবে?
বিয়ের আসরে ক্রাশের ঝড়
শাফিনের বিয়েতে পার্পল পাঞ্জাবিতে সাফওয়ানকে দেখে আন্টিমহল সিনথিয়ার সাথে তার বিয়ের কথা তোলে। রাফসান গিয়ে সাফওয়ানকে অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে মজা শুরু করতেই ক্ষিপ্ত চোখে তাকায় সিল্ক কাতান পরা রুমাইশা। সাফওয়ানের কপালে কী অপেক্ষা করছে?
বক্ষপিঞ্জরে অধিকারের দাবি
ওয়াশরুমের আবছা আলোয় সাফওয়ানের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ঠোঁট দখল করে নেয় রুমাইশা। বাইরে সিনথিয়া এসে রুমাইশাকে 'বেহায়া সুগার বেবি' বলে অপমান করতেই রুমাইশা কড়া জবাব দেয়—'আমি তার তেরো বছরের বিবাহিতা স্ত্রী ও তিন সন্তানের মা!'
শীতল হাসির চরম শিক্ষা
কপাল ফেটে পড়ে থাকা আফসানার ঘরে গিয়ে বোস্টনে অ্যাশলিকে কীভাবে আছড়ে মেরেছিল সেই গল্প শোনায় রুমাইশা। উপহার দেয় চরিত্রের হেফাজত সংক্রান্ত ইসলামিক বই। ভয়ে থরথর করে কাঁপা আফসানার কি শিক্ষা হলো চিরতরে?
নরখাদকদের শ্বাপদ উপত্যকা
রাতে স্ত্রীকে নিয়ে নির্জন রাস্তায় লংড্রাইভে গিয়ে পুলিশের তিনখানা গাড়ি দেখে থামে সাফওয়ান। জঙ্গল থেকে ছুটে আসা রক্তাক্ত পুলিশের মুখে শোনে নরখাদকদের দ্বারা দুজন পুলিশকে বারবিকিউ করে খাওয়ার বীভৎস খবর। তীরের আঘাতে পুলিশটি কি বাঁচবে?
অন্ধকার অরণ্যের তাণ্ডব
বিশেষ পোশাকে সজ্জিত হয়ে লেন্স খুলে বেরিয়ে আসে রুমাইশা। মাটিতে হাত রেখে অদ্ভুত কম্পনে শত শত সাপ এনে জংলিদের বিভ্রান্ত করে পুলিশদের উদ্ধার করে সাফওয়ান। অন্ধকার অরণ্যে সাফওয়ান ও রুমাইশার যৌথ আক্রমণ কি শেষ করবে নরখাদকদের?
পৈশাচিক সাম্রাজ্যের পতন
স্পেশাল ফোর্স এসে হাতেনাতে নরখাদকদের জীবিত ও মৃত উদ্ধার করে। ওদিকে সকালে থানায় আফতাব হোসেনের দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী উদ্ধারকারী বীরের স্কেচ আঁকতেই সহকারী এসপি কবির হোসেন চমকে ওঠে—'এ তো আমার চেনা সাদ্দাত হুসেইন!'
ধামাচাপা সত্যের উদঘাটন
থানায় জেরার মুখে নরখাদক লিডার অবু হঠাৎ উচ্চারণ করে—'ওই বিষধর সাফওয়ান আহমেদই আমাকে ডুবিয়েছে!' এসপি আহনাফ হাসানের মাথায় পড়ে বাজ। তেরো বছর আগের সেই হারিয়ে যাওয়া প্রফেসর সাফওয়ানই কি তবে সাদ্দাত হুসেইন?
গোপন পরিচয়ের মুখোমুখি
সাফওয়ানের অতীতের কোনো খুনের প্রমাণ না পেয়ে তাকে জনসম্মুখে পুনর্বাসনের প্রস্তাব নিয়ে মধ্যরাতে আহমেদ ভিলায় হাজির হন এসপি আহনাফ হাসান ও কবির। পুরো জাতির সামনে নিজের কলঙ্কমুক্ত পরিচয় ফিরিয়ে নেওয়ার এই প্রস্তাবে কি রাজি হবে সাফওয়ান?
পুনর্জন্মের অগ্নিপরীক্ষা
হরিণার বিলের পাড়ে জ্যোৎস্নাস্নাত রাতে রুমাইশাকে কোলে নিয়ে গভীর অনুভবে গান ধরে সাফওয়ান। স্ত্রীর ভরসায় এসপিকে ফোন করে সম্মতি দেয় নিজের সত্য প্রকাশের—'আমি রিস্ক নিতে রাজি।' একটি প্রেস কনফারেন্স কি ফিরিয়ে দেবে তাদের সম্মান?
কলঙ্ক মোচনের মাহেন্দ্রক্ষণ
সরাসরি সম্প্রচারিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আহনাফ হাসান মিরাজ জাতির সামনে তুলে ধরেন বারো বছর আগের অন্ধকার ষড়যন্ত্র আর নরখাদকদের হাত থেকে দেশকে বাঁচানো বীর সাফওয়ান আহমেদের মহান আত্মত্যাগ। পুরো দেশ কি ক্ষমা করবে তাকে?
জনজোয়ারের মুখোমুখি নায়ক
সংবাদ প্রকাশের পর আহমেদ ভিলার সামনে হাজার হাজার মানুষের সমাগম। চিলেকোঠায় রুমাইশার কোলজুড়ে ক্ষত জুড়িয়ে অবশেষে জনসমক্ষে এসে দাঁড়ায় সুঠামদেহী সাফওয়ান। মানুষের ভুল বোঝার অবসান কি সত্যিই হলো?
অনন্ত প্রণয়ের নীড়
পরিবারের সবার আশীর্বাদ নিয়ে সন্তানদের সাথে আমাজনের গভীর অরণ্যের বিলাসবহুল রাজপ্রাসাদে ফিরে যায় সাফওয়ান ও রুমাইশা। মুক্ত বাতাসে সন্তানদের কাছে টেনে প্রিয়তমা স্ত্রীর উরুতে মাথা রেখে সাফওয়ানের চিরন্তন গানের মধ্য দিয়ে ইতি টানে এক বিষাক্ত প্রেমের অমর আখ্যান।
কোনো অধ্যায় খুঁজে পাওয়া যায়নি।
সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQs)
অফিডিয়ান (Ophidian) উপন্যাসটির মূল পটভূমি কী?
অফিডিয়ান উপন্যাসের মোট কয়টি পর্ব রয়েছে?
অফিডিয়ান উপন্যাসের লেখিকা কে?
উপন্যাসটি কি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অনলাইনে পড়া যায়?
সাফওয়ান চরিত্রের বিশেষ শারীরিক বৈশিষ্ট্য কী?
পাঠক রিভিউ ও রেটিং
0 টি রিভিউ · 0 জন পাঠক
0 টি রিভিউ