
পরিজান | পর্ব – ১
প্রতিদিন দুচারটে চড় না খেলে তার পেটের ভাত হজম হয় না তাও মায়ের হাতের। মুখে আঁচল দিয়ে কাঁশতে কাঁশতে মালা বলল,’কতবার কইছি মুখে মুখে তর্ক করবি না। তোর ছোট আম্মা হয়।’
প্রতিদিন দুচারটে চড় না খেলে তার পেটের ভাত হজম হয় না তাও মায়ের হাতের। মুখে আঁচল দিয়ে কাঁশতে কাঁশতে মালা বলল,’কতবার কইছি মুখে মুখে তর্ক করবি না। তোর ছোট আম্মা হয়।’
বড়সড় ঘোমটা টেনে বৈঠক ঘরে এলেন মালা। সাথে একটু আগে আসা মেয়েটি ও। মালা নিচু স্বরে বললেন,’কুসুম হেগোরে নাস্তা পানি দে।’
‘পরী আমাগো জমিদারের ছোট মাইয়া। আপনারা পরীগো বাড়িতেই গেছেন। পরীর মা বাপে অনেক শাসন করে ওরে। সবসময় ঘরের ভিতরে বইসা থাকে বাড়ি থেকে বাইর হয় না একটুও।’ মনোযোগ দিয়ে সম্পানের কথাগুলো শুনলো নাঈম তারপর বলল,’কেমন দেখতে পরী? তুমি কি কখনো ওকে দেখেছো?’ হাসলো সম্পান। হাত নাড়িয়ে বলল,’আমি ক্যান বাবু এই গাঁয়ের কোন বেডা মাইনষেও পরীরে দেহে নাই। আমি দেখমু কেমনে?’
নাঈমের চোখদুটো খুশিতে চকচক করছে পরীকে দেখে। এতক্ষণ ধরে মেয়েটার মধুর বানি শুনছিল সে। গলার স্বর টা সত্যি খুব সুন্দর। এখনও কানে বাজতেছে। কথা শুনে এখন পরীকে দেখার ইচ্ছা আরো প্রবল হচ্ছে। তবে পরীর কথাগুলো বেশি মুগ্ধ করেছে ওদের।
পরীর জন্ম যেন সবার কাল হয়ে দাঁড়ায়। যেখানে একটা ছেলেই জন্ম দিতে পারেনি মালা যেখানে রূপবতী মেয়ের জন্ম দিয়ে কি হবে?রূপ যেন অভিশাপ এনে দিয়েছে মালা ও তার মেয়েদের জীবনে।
‘পাগল নাকি কিছু কমু! আমার মনে হয় হেয় আমার কথা বিশ্বাস করে নাই। পরীরে হেয় দেখতে চায়।’ ‘কও কি?এই কথা তো পরীরে জানাইতে হইবো। পরী জানলে কি করব কে জানে?’
বিন্দু হুড়মুড়িয়ে উঠে বাইরে এলো সম্পানকে কথা শেষ করতে না দিয়েই জোরে বলল, ‘তোমারে না কইছি এমন কথা কইবা না? তারপরও ক্যান এমন কথা কও বারবার?আর মরার কথা কইবা না কইয়া দিলাম।’
পরী চুপ থেকে কথাগুলো শুনলো। ফিরে যেতে গিয়েও ঘুরে দাঁড়ালো বলল,’পাহারা বাড়ায়ে দেন। অন্দরে কেউ ঢুকেছিল। ভাগ্য ভালো আমার হাতে পড়ে নাই।’
ঘাড় ঘুরিয়ে রুমির দিকে তাকালো পালক। রুমি ঠোঁট টিপে হাসছে। তারমানে রুমি কিছুটা বুঝেছে। শায়েরের দিকে তাকিয়েই পালক বলল,’ভালো লাগাটা ধর্ম দেখে হয় না,মানুষ দেখে হয়।’ ‘বুঝি না এই গ্রামে এসে সবার হলো কি?নাঈম, শেখর,আসিফ তুই!!তবে তোর কথাটা আলাদা। এটা সম্ভব না।’
‘আপনার কি মনে হয়?মানে কাজটা কে করতে পারে?’ ‘আমার মনে হয় বিপক্ষ দল একাজ করেছে। আর নয়তো আপনার উপর কারো ক্ষোভ ছিল। আপনার সাথে কি কারো মনোমালিন্য হয়েছিল?’ নাঈম মাথা নেড়ে না বলল। ‘তাহলে বুঝতে পারছি না। বন্যার কারনে লোকজন ও লাগাতে পারছি না।’
মিষ্টি আর রুমি আসতেই পালক উঠে দাঁড়াল। পরীর দিকে ফিরে তাকিয়ে বলল,’ফিরে এসে তোমার সাথে অনেক গল্প করব পরী।’ জবাবে পরী মাথা দোলায় শুধু। ওরা চলে যেতেই জুম্মান হেসে বলে,’এই আপা অনেক ভালো তাই না আপা?’
নাঈমরা নিজেদের ব্যাগ গুছিয়ে নিয়েছে। পালক কে নিয়ে এখনই শহরে রওনা হবে সবাই। পালকের বাবা মা শহরে থাকেন। ওখানেই দাহ করা হবে পালককে।কোন মুখে ওরা পালকের বাবা মায়ের সামনে দাঁড়াবে তাই ভেবে পাচ্ছে না ওরা।
মালা কুসুম আর জেসমিন খাবার বেড়ে দিচ্ছেন। খাওয়ার মাঝে কবিরই প্রথম কথা তুলল পরীর বিষয়ে। আফতাব কে উদ্দেশ্য করে বলল,’আব্বা আমার একটা কথা আছে।’ -‘কি কথা??’ -‘নওশাদ খুবই ভাল ছেলে। শহরে বড় ব্যবসা করে। তাই আমি একখান প্রস্তাব আনছি। যদি পরীর সাথে ওর বিয়ে দেন তো পরী ভালো থাকবে।’
-‘আল্লাহ আপনে জানেন না?মেজো আপার দেওরের লগে আপনার বিয়া ঠিক। আহা কি সুন্দর পোলাডা। আপনের লগে অনেক মানাইবো।’ পরী চট করে দাঁড়িয়ে গেল।
নওশাদ এগিয়ে নিজেও খুজতে লাগল। কুসুম জুম্মান কে চোখ মেরে বলল,’পরী আপার কত শখের নূপুর টা। যে পাইয়া দিব তারে পরী আপা মনে হয় পুরস্কার দিবো। চল জুম্মান ভাল কইরা খুঁজি।’
-‘তোর সাহস তো কম না আমাকে শাসাস!!ভয় দেখাস আমাকে??সেদিনের পুচকে মেয়ে। জীব টেনে ছিড়ে ফেলব তোর বাপ ও কিছু বলবে না।’ -‘পরীর কলিজায় হাত দেবেন এতো বড় কলিজা আপনার??ওই কলিজায় তলোয়ার চালাতে পরীর হাত কাঁপবে না। সাবধান,আপনাকে কিন্ত পরী ছেড়ে দিবে না।’
মালা যে শায়ের কে খাইয়ে দিয়েছে তা পরীর কানে যেতে সময় লাগলো না। পরীর চামচা কুসুম গিয়ে বলে,’জানেন পরী আপা বড় মায় শায়ের ভাইরে খাওয়াইয়া দিছে আইজ। ভাইয়ের হাত নাকি পুইড়া গেছে। আমি নিজের চক্ষে দেইখা আইলাম।’
আফতাবের আগেই পরী এগিয়ে এসে জবাব দিল,’আপনার ভাইকে জবান সামলে কথা বলতে বলুন আব্বা। না জেনে ওনাকে কেন দোষ দিচ্ছেন? দোষ তো আপনাদের। কথা দিয়ে কথা রাখেননি আপনারা যার জন্য আমাদের বিপদে পড়তে হয়েছে। আর উনি না থাকলে আমাদের বেঁচে ফেরা সম্ভব হত না।’
আফতাব এবার কড়া চোখে মালার দিকে তাকিয়ে বলে,’পাগল হয়ে গেছে তোমার মেয়ে। সামলাও মেয়েকে।’ বলেই আফতাব অন্দর ছেড়ে চলে গেলেন। মালা পরীর গালে পরপর কয়েকটা থাপ্পড় বসিয়ে ওর ঘরে আটকে রাখলো।
আবার উচ্চস্বরে হেসে ওঠে বিন্দু। ওর হাসিতে মুখরিত হয় এই কুয়াশাময় সকাল। খেজুর গাছের উপর থেকে মহেশ মেয়ের হাসির শব্দ শুনে হাঁক ছাড়ে,’কি রে মা কার লগে কথা কইয়া হাসোস??’
ভুলে গেছেন নেকাব পরতে। ভুলে গেছে নিজের সৌন্দর্য লুকাতে। যে পরীর সৌন্দর্য পর্দার আড়ালে লুকানো ছিল আজ সেই পরী পর্দা ভেদ করে বের হয়েছে।
রাস্তা দিয়ে দৌড়ে আসছে পরী। গায়ের চাদরটা বৈঠকে পড়ে গেছে আসার সময়। গাঢ় কুয়াশার ভেতর দিয়ে দৌড়াতে দৌড়াতে ফর্সা শরীরে বিন্দু বিন্দু শিশির কণা জমেছে।
-‘পরী তুই খুন করলি!!’ -‘মরে গেছে!!সত্যি সত্যি!’ একটু অবাক হলো পরী। কারণ সে বাজে ভাবে জখম করতে চেয়েছিল। কিন্ত পরীর ধারণার চাইতে কোপ টা একটু জোরে হয়ে গেছে। রুপালি পরীর হাত ধরে ঝাঁকিয়ে বলে,’কি করলি পরী!!এখন কি হবে?’
শেখর সোজা হয়ে দাঁড়াল বলল,’কাজ ছিলো।’ -‘কাজ তো থাকবেই বিয়ে বলে কথা। আমাকে একবার জানালি না। আর তুই নাকি আমাদের সাথে সম্পর্ক রাখবি না।’
-‘আমাকে নিয়ে ভাবতে আপনাকে হবে না।’ -‘আপনাকে নিয়ে ভাবছি না আমি। নিজেকে নিয়ে ভাবছি। কেউ দেখে ফেললে আমারই বিপদ।’ -‘ওসব কথা থাক। বিন্দুকে কারা মেরেছে?’ -‘আমি সত্যিই জানি না। আমাকে জানার অধিকার আপনার বাবা দেয়নি।’ বিষ্মিত হলো পরী। বলে,’মানে?ভাল করে বলুন।’
জ্ঞান ফিরেছে পরীর। চোখ মেলে আশেপাশে তাকিয়ে পরী বুঝতে পারল সে নিজের ঘরে আছে। তাহলে কি পরী এতক্ষণ স্বপ্ন দেখছিলো? পরী চট করে উঠে বসলো।
-‘দেখতেই তো পাচ্ছি ভয়ে কাঁপছেন।’ -‘ভয়ে না শীতে কাঁপছি।’ বলতে বলতে শায়ের ওপর পাশ দিয়ে পালঙ্কে উঠে বসে। পরী মুখ ঘুরিয়ে শুয়ে পড়ল।
জ্বলন্ত তারা গুলোর দিকে তাকিয়ে হাসলো পরী। বিন্দুকে খুব মনে পড়ছে। কিন্ত ওই বিন্দু এখন ধরা ছোঁয়ার বাইরে। -‘চাদর ছাড়া ছাদে কেন এসেছেন আপনি? ঠান্ডা লাগছে না?’ শায়েরের গলার আওয়াজ চিনলো পরী। তাই পেছন ফিরে তাকালো না। পরী ওভাবেই বলল,’এই দায়িত্ব টা আপনার নিতে হবে না।’
কালবিলম্ব না করে চোখের পলকেই সে পরীকে কোলে তুলে নিলো। পরী ভেবেছিলো শায়ের তাকে কোলে নিবে না। কিন্ত সে পরীকে বিষ্মিত করে দিয়েছে।
চামেলি যেন আকাশ থেকে পড়ল। মাথায় হাত দিয়ে বলল,’আল্লাহ গো!!হেরে চিনো না তুমি? সালমান শাহ,অনেক বড় নায়ক হেয়।’
পরীর হাত ধরে টেনে কাছে এনে দুজনের দূরত্ব ঘুচিয়ে ফেলে শায়ের। কন্ঠ খাদে নামিয়ে বলে,’ক্ষমা তো চাইলাম পরীজান। আবারো চাইবো??’
পরী কথা বলল না। ওভাবেই রইল। কিছুক্ষণ পর পরী বলল,’শুনেছি সত্যিকারের ভালোবাসা নাকি কাঁদায়!! ভালোবাসায় চোখের পানি না ঝরলে সেই ভালোালোবাসা পরিপূর্ণ হয় না??’
পাঞ্জাবির পকেট থেকে ফুলগুচ্ছ বের করে পরীর হাতে দিলো। আবারও সেই বেলিফুল। সাদা রঙের এই ফুলটিতে মন মাতানো সুবাস থাকে। কেমন যেন নেশা ধরে যায় পরীর। নাকের কাছে ফুল নিয়ে ঘ্রাণ নিতেই মন ভাল হয়ে যায়।
-‘আমার থেকে তা আপনি ভালো জানেন। আপনার থেকেই তো ভালোবাসা শিখছি আমি। প্রতিদিন আপনার ভালোবাসার নতুন রূপের সাথে পরিচিত হই আমি। আপনিই বলুন।’
পরী জবাব দিলো,’আমার কেন জানি মনে হচ্ছে এই জমিদার বাড়িতে কিছু একটা হচ্ছে। যা আমার অজানা। কিন্ত আম্মা,আপা,কুসুম,শেফালি,দাদি এবং জুম্মান জানে। কি এমন হয়েছে সবার??’
পরী তৎক্ষণাৎ শায়েরের হাত মুঠোয় নিয়ে বলে, ‘আপনি ছাড়া আমি পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির কাছেও সুখি থাকতে পারবো না। তাই এই প্রশ্ন আপনি কখনোই করবেন না।’
পরী চোখ তুলে তাকালো শায়েরের দিকে। মুখটা কেমন মলিন হয়ে গেছে। -‘চম্পা শুধু এই কাজটাই করেনি। আরো একটা জঘন্য কাজ করেছে জানেন কি?’
ঘর থেকে বের হওয়ার আগে শায়ের চম্পাকে উদ্দেশ্য করে বলে,’যে মানুষ টা তোকে এতো কাছে টানলো তার এতোবড় ক্ষতি করতে তোর বুক কাঁপলো না? তোর মুখ যেন দ্বিতীয়বার আমি না দেখি।’
থমথমে গলায় জুম্মান বলে,’বড় আম্মার অসুখ করছে আপা। ডাক্তার কইছে বাঁচবো না। তোমারে নিয়া যাইতে কইছে। তুমি যাইবা না?’
-‘যদি পুরষত্ব দেখাতে হয় তাহলে আমার হাত খুলে দেখা।’ কবির আদুরে স্বরে বলে,’নাহ,বাঘীনিকে সবসময় খাঁচায় বন্দি করে রাখতে হয়। নাহলে যে আক্রমণ করে বসে। তুমি জানো না বুঝি?’
নওশাদ আফসোসের সুরে বলে,’তোমাকে এভাবে দেখে আমার খুব কষ্ট হচ্ছে পরী। কতো ভালোবাসলে তুমি শায়ের কে। কিন্ত সে তোমাকে ধোঁকা দিয়ে মোটেও ভালো করেনি।’ -‘আমি সব জানতে চাই??তারপর কি হয়েছিল?’
-‘মেয়ে হয়ে যদি বাবাকে খুন করার ইচ্ছা পোষণ করো তাহলে আমি বাবা হয়ে কেন পারবো না?’
-‘আমি তার সাথে লড়াই করিনি। তাকে তার প্রাপ্যটুকু দিয়েছি। ভালোবাসা নিয়ে নোংরা খেলা আমি পছন্দ করি না।’
পরী শায়েরের বুকে মাথা রাখে। আর শায়ের স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে নিজের তৃষ্ণা মেটায়। এ যেন বহুক্ষণের পিপাসা। -‘আমার হাতে যদি ছুরি থাকতো আর সেটা যদি আপনার বুকে গেঁথে দিতাম তাহলে কেমন হতো মালি সাহেব?’
-‘চুপ থাক পরী। অনেক হয়েছে,শুধু শায়েরের জন্য তোকে বাঁচিয়ে রেখেছি। তোকে তো তাড়াতাড়ি শেষ করে দেব।’ পরী গলা উচিয়ে বলে,’বের হন অন্দর থেকে নয়তো লা*শ পড়ে যাবে।’
শেফালি কাচুমাচু করে সামনে এসে দাঁড়াল,’বড় কর্তা আমি কুসুম রে দেখছি বিষ মিশাইতে।’ -‘দেখছেন ভাই আপনার মেয়ে এখনই আমাদের মা*রার পরিকল্পনা সেরে ফেলছে। শেফালি না বললে তো আমরা শরবত খেয়েই ম*রে যেতাম।’
ছু*রি*টা নিয়ে পালঙ্কের দিকে এগিয়ে গেল নওশাদ। ইচ্ছামতো ছু*রি চালালো শুয়ে থাকা ব্যক্তির শরীরে। নওশাদ ভাবছে নিশ্চয়ই পরীর শরীর এতক্ষণে ক্ষ*ত বি*ক্ষ*ত হয়ে গেছে।
শায়ের দম ফেলে পরীর দিকে তাকাল। পরী এখনও শায়েরের বুকে মাথা রেখে আছে। শায়ের বলল, ‘আপনি কি শুনছেন পরীজান?’ ‘হুম শুনছি। আপনিও তো টাকার জন্য খু*ন করেছেন।’
তিনদিন পর শায়েরের ফাঁ*সি!! এতকিছু কীভাবে হল? এর মধ্যে হয়তো কোন সত্য লুকানো আছে। সে জিজ্ঞেস করে,’কি বলছো তুমি নাঈম? সত্যি তার ফাঁ*সি? কিন্ত কেন?’
-‘দয়া করে বলুন না অতীতের সেই ঘটনা? আমি আপনাদের ভালোবাসার স্বাক্ষী হিসেবে থাকতে চাই।’ -‘আমি আপনাকে বলব সব। কিন্ত একটা কথা আপনাকে দিতে হবে। কাউকে কোনদিন সত্যিটা বলতে পারবেন না আপনি।’
এতক্ষণ যে শায়ের চোখের পানি ফেলছিল তা শায়েরের চোখ দেখেই নাঈম বুঝতে পেরেছে। ভেজা ভেজা গলায় শায়ের বলল,’পরীজান!!!’
মুসকান কে দেখে এগিয়ে এলো শায়ের। মুচকি হেসে বলল,’কি রহস্য ভেদ করে এলেন সাংবাদিক মেডাম?’ -‘আপনাকে বোঝার সাধ্য পরী ছাড়া কারো নেই। এজন্য আমি ঠিক বুঝতে পারছি না আপনাকে।’
নিজ ঘরে বসে ছটফট করছে পরী। শায়েরের জন্য তার চিন্তা হচ্ছে। নূরনগর গেলে আফতাব যদি শায়েরের কোন ক্ষতি করে দেয়? আফতাব তো চেয়েছিল শায়ের কে হ*ত্যা করতে। একথা ভেবে পরী অস্বস্তি অনুভব করছে।
-‘ভুল শেখর সেদিন জীবিত ফেরেনি নূরনগর থেকে। তার মানে শেখর আগেই আপনাকে ছাড়িয়েছে। সত্যি বলুন।’ -‘আপনি কীভাবে জানলেন শেখর মা*রা গেছে?’
শায়ের পুনরায় পরীর শরীর গামছা দিয়ে মুছে দিতে লাগল,’আপনি মৃ*ত্যুকে সহজ ভাবলেও মৃ*ত্যু কিন্ত এত সহজ নয়।’ -‘আমাকে মারা তো সহজ ছিল। তাহলে আমাকে কেন মারতে পারল না কেউ?’
-‘ভাই পরীর কথা শুনবেন না। ও এখন সবাইকে সারিয়ে নিচ্ছে যাতে পরে আমাদের উপর আ*ক্র*মণ করতে পারে। আমি সব বুঝতে পারছি। পরী তুই একবার যখন আমাদের জালে এসে পড়েছিস তাহলে তোকে আমরা যেতে দিব না।
-‘আপনিও কাজটা ঠিক করেননি। কেন নির্দোষ হয়েও দোষী হলেন? এখন আপনার এই খবর সারা দেশ জুড়ে ছড়িয়ে যাবে।’
সবকিছু একসাথে পাওয়া অসম্ভব। দুনিয়া কে তুমি যা দেবে দুনিয়াও তোমাকে তাই দেবে।’
পরী এত সহজেই জমিদার বাড়িতে চলে গেল? আর কতগুলো মানুষ কে খু*ন করে চলে এল? সবকিছু কি এতই সহজ?
এতকিছু শুধুমাত্র পরীর জন্য!! একটা মানুষ ঠিক কতটা ভালবাসলে এতকিছু করতে পারে!!! নিজের জীবন সংকটে ফেলতে পারে!!