পরিজান

পরিজান - এর সবগুলো পর্ব একসাথে

পর্ব – ১

পরিজান | পর্ব – ১

প্রতিদিন দুচারটে চড় না খেলে তার পেটের ভাত হজম হয় না তাও মায়ের হাতের। মুখে আঁচল দিয়ে কাঁশতে কাঁশতে মালা বলল,’কতবার কইছি মুখে মুখে তর্ক করবি না। তোর ছোট আম্মা হয়।’

পর্ব – ৩

পরিজান | পর্ব – ৩

‘পরী আমাগো জমিদারের ছোট মাইয়া। আপনারা পরীগো বাড়িতেই গেছেন। পরীর মা বাপে অনেক শাসন করে ওরে। সবসময় ঘরের ভিতরে বইসা থাকে বাড়ি থেকে বাইর হয় না একটুও।’ মনোযোগ দিয়ে সম্পানের কথাগুলো শুনলো নাঈম তারপর বলল,’কেমন দেখতে পরী? তুমি কি কখনো ওকে দেখেছো?’ হাসলো সম্পান। হাত নাড়িয়ে বলল,’আমি ক্যান বাবু এই গাঁয়ের কোন বেডা মাইনষেও পরীরে দেহে নাই। আমি দেখমু কেমনে?’

পর্ব – ৪

পরিজান | পর্ব – ৪

নাঈমের চোখদুটো খুশিতে চকচক করছে পরীকে দেখে। এতক্ষণ ধরে মেয়েটার মধুর বানি শুনছিল সে। গলার স্বর টা সত্যি খুব সুন্দর। এখনও কানে বাজতেছে। কথা শুনে এখন পরীকে দেখার ইচ্ছা আরো প্রবল হচ্ছে। তবে পরীর কথাগুলো বেশি মুগ্ধ করেছে ওদের।

পর্ব – ৫

পরিজান | পর্ব – ৫

পরীর জন্ম যেন সবার কাল হয়ে দাঁড়ায়। যেখানে একটা ছেলেই জন্ম দিতে পারেনি মালা যেখানে রূপবতী মেয়ের জন্ম দিয়ে কি হবে?রূপ যেন অভিশাপ এনে দিয়েছে মালা ও তার মেয়েদের জীবনে।

পর্ব – ৬

পরিজান | পর্ব – ৬

‘পাগল নাকি কিছু কমু! আমার মনে হয় হেয় আমার কথা বিশ্বাস করে নাই। পরীরে হেয় দেখতে চায়।’ ‘কও কি?এই কথা তো পরীরে জানাইতে হইবো। পরী জানলে কি করব কে জানে?’

পর্ব – ৭

পরিজান | পর্ব – ৭

বিন্দু হুড়মুড়িয়ে উঠে বাইরে এলো সম্পানকে কথা শেষ করতে না দিয়েই জোরে বলল, ‘তোমারে না কইছি এমন কথা কইবা না? তারপরও ক্যান এমন কথা কও বারবার?আর মরার কথা কইবা না কইয়া দিলাম।’

পর্ব – ৯

পরিজান | পর্ব – ৯

ঘাড় ঘুরিয়ে রুমির দিকে তাকালো পালক। রুমি ঠোঁট টিপে হাসছে। তারমানে রুমি কিছুটা বুঝেছে। শায়েরের দিকে তাকিয়েই পালক বলল,’ভালো লাগাটা ধর্ম দেখে হয় না,মানুষ দেখে হয়।’ ‘বুঝি না এই গ্রামে এসে সবার হলো কি?নাঈম, শেখর,আসিফ তুই!!তবে তোর কথাটা আলাদা। এটা সম্ভব না।’

পর্ব – ১০

পরিজান | পর্ব – ১০

‘আপনার কি মনে হয়?মানে কাজটা কে করতে পারে?’ ‘আমার মনে হয় বিপক্ষ দল একাজ করেছে। আর নয়তো আপনার উপর কারো ক্ষোভ ছিল। আপনার সাথে কি কারো মনোমালিন্য হয়েছিল?’ নাঈম মাথা নেড়ে না বলল। ‘তাহলে বুঝতে পারছি না। বন্যার কারনে লোকজন ও লাগাতে পারছি না।’

পর্ব – ১১

পরিজান | পর্ব – ১১

মিষ্টি আর রুমি আসতেই পালক উঠে দাঁড়াল। পরীর দিকে ফিরে তাকিয়ে বলল,’ফিরে এসে তোমার সাথে অনেক গল্প করব পরী।’ জবাবে পরী মাথা দোলায় শুধু। ওরা চলে যেতেই জুম্মান হেসে বলে,’এই আপা অনেক ভালো তাই না আপা?’

পর্ব – ১২

পরিজান | পর্ব – ১২

নাঈমরা নিজেদের ব্যাগ গুছিয়ে নিয়েছে। পালক কে নিয়ে এখনই শহরে রওনা হবে সবাই। পালকের বাবা মা শহরে থাকেন। ওখানেই দাহ করা হবে পালককে।কোন মুখে ওরা পালকের বাবা মায়ের সামনে দাঁড়াবে তাই ভেবে পাচ্ছে না ওরা।

পর্ব – ১৩

পরিজান | পর্ব – ১৩

মালা কুসুম আর জেসমিন খাবার বেড়ে দিচ্ছেন। খাওয়ার মাঝে কবিরই প্রথম কথা তুলল পরীর বিষয়ে। আফতাব কে উদ্দেশ্য করে বলল,’আব্বা আমার একটা কথা আছে।’ -‘কি কথা??’ -‘নওশাদ খুবই ভাল ছেলে। শহরে বড় ব্যবসা করে। তাই আমি একখান প্রস্তাব আনছি। যদি পরীর সাথে ওর বিয়ে দেন তো পরী ভালো থাকবে।’

পর্ব – ১৫

পরিজান | পর্ব – ১৫

নওশাদ এগিয়ে নিজেও খুজতে লাগল। কুসুম জুম্মান কে চোখ মেরে বলল,’পরী আপার কত শখের নূপুর টা। যে পাইয়া দিব তারে পরী আপা মনে হয় পুরস্কার দিবো। চল জুম্মান ভাল কইরা খুঁজি।’

পর্ব – ১৬

পরিজান | পর্ব – ১৬

-‘তোর সাহস তো কম না আমাকে শাসাস!!ভয় দেখাস আমাকে??সেদিনের পুচকে মেয়ে। জীব টেনে ছিড়ে ফেলব তোর বাপ ও কিছু বলবে না।’ -‘পরীর কলিজায় হাত দেবেন এতো বড় কলিজা আপনার??ওই কলিজায় তলোয়ার চালাতে পরীর হাত কাঁপবে না। সাবধান,আপনাকে কিন্ত পরী ছেড়ে দিবে না।’

পর্ব – ১৭

পরিজান | পর্ব – ১৭

মালা যে শায়ের কে খাইয়ে দিয়েছে তা পরীর কানে যেতে সময় লাগলো না। পরীর চামচা কুসুম গিয়ে বলে,’জানেন পরী আপা বড় মায় শায়ের ভাইরে খাওয়াইয়া দিছে আইজ। ভাইয়ের হাত নাকি পুইড়া গেছে। আমি নিজের চক্ষে দেইখা আইলাম।’

পর্ব – ১৮

পরিজান | পর্ব – ১৮

আফতাবের আগেই পরী এগিয়ে এসে জবাব দিল,’আপনার ভাইকে জবান সামলে কথা বলতে বলুন আব্বা। না জেনে ওনাকে কেন দোষ দিচ্ছেন? দোষ তো আপনাদের। কথা দিয়ে কথা রাখেননি আপনারা যার জন্য আমাদের বিপদে পড়তে হয়েছে। আর উনি না থাকলে আমাদের বেঁচে ফেরা সম্ভব হত না।’

পর্ব – ১৯

পরিজান | পর্ব – ১৯

আফতাব এবার কড়া চোখে মালার দিকে তাকিয়ে বলে,’পাগল হয়ে গেছে তোমার মেয়ে। সামলাও মেয়েকে।’ বলেই আফতাব অন্দর ছেড়ে চলে গেলেন। মালা পরীর গালে পরপর কয়েকটা থাপ্পড় বসিয়ে ওর ঘরে আটকে রাখলো।

পর্ব – ২০

পরিজান | পর্ব – ২০

আবার উচ্চস্বরে হেসে ওঠে বিন্দু। ওর হাসিতে মুখরিত হয় এই কুয়াশাময় সকাল। খেজুর গাছের উপর থেকে মহেশ মেয়ের হাসির শব্দ শুনে হাঁক ছাড়ে,’কি রে মা কার লগে কথা কইয়া হাসোস??’

পর্ব – ২২

পরিজান | পর্ব – ২২

রাস্তা দিয়ে দৌড়ে আসছে পরী। গায়ের চাদরটা বৈঠকে পড়ে গেছে আসার সময়। গাঢ় কুয়াশার ভেতর দিয়ে দৌড়াতে দৌড়াতে ফর্সা শরীরে বিন্দু বিন্দু শিশির কণা জমেছে।

পর্ব – ২৩

পরিজান | পর্ব – ২৩

-‘পরী তুই খুন করলি!!’ -‘মরে গেছে!!সত্যি সত্যি!’ একটু অবাক হলো পরী। কারণ সে বাজে ভাবে জখম করতে চেয়েছিল। কিন্ত পরীর ধারণার চাইতে কোপ টা একটু জোরে হয়ে গেছে। রুপালি পরীর হাত ধরে ঝাঁকিয়ে বলে,’কি করলি পরী!!এখন কি হবে?’

পর্ব – ২৫

পরিজান | পর্ব – ২৫

-‘আমাকে নিয়ে ভাবতে আপনাকে হবে না।’ -‘আপনাকে নিয়ে ভাবছি না আমি। নিজেকে নিয়ে ভাবছি। কেউ দেখে ফেললে আমারই বিপদ।’ -‘ওসব কথা থাক। বিন্দুকে কারা মেরেছে?’ -‘আমি সত্যিই জানি না। আমাকে জানার অধিকার আপনার বাবা দেয়নি।’ বিষ্মিত হলো পরী। বলে,’মানে?ভাল করে বলুন।’

পর্ব – ২৮

পরিজান | পর্ব – ২৮

জ্বলন্ত তারা গুলোর দিকে তাকিয়ে হাসলো পরী। বিন্দুকে খুব মনে পড়ছে। কিন্ত ওই বিন্দু এখন ধরা ছোঁয়ার বাইরে। -‘চাদর ছাড়া ছাদে কেন এসেছেন আপনি? ঠান্ডা লাগছে না?’ শায়েরের গলার আওয়াজ চিনলো পরী। তাই পেছন ফিরে তাকালো না। পরী ওভাবেই বলল,’এই দায়িত্ব টা আপনার নিতে হবে না।’

পর্ব – ৩২

পরিজান | পর্ব – ৩২

পরী কথা বলল না। ওভাবেই রইল। কিছুক্ষণ পর পরী বলল,’শুনেছি সত্যিকারের ভালোবাসা নাকি কাঁদায়!! ভালোবাসায় চোখের পানি না ঝরলে সেই ভালোালোবাসা পরিপূর্ণ হয় না??’

পর্ব – ৩৩

পরিজান | পর্ব – ৩৩

পাঞ্জাবির পকেট থেকে ফুলগুচ্ছ বের করে পরীর হাতে দিলো। আবারও সেই বেলিফুল। সাদা রঙের এই ফুলটিতে মন মাতানো সুবাস থাকে। কেমন যেন নেশা ধরে যায় পরীর। নাকের কাছে ফুল নিয়ে ঘ্রাণ নিতেই মন ভাল হয়ে যায়।

পর্ব – ৩৫

পরিজান | পর্ব – ৩৫

পরী জবাব দিলো,’আমার কেন জানি মনে হচ্ছে এই জমিদার বাড়িতে কিছু একটা হচ্ছে। যা আমার অজানা। কিন্ত আম্মা,আপা,কুসুম,শেফালি,দাদি এবং জুম্মান জানে। কি এমন হয়েছে সবার??’

পর্ব – ৩৬

পরিজান | পর্ব – ৩৬

পরী তৎক্ষণাৎ শায়েরের হাত মুঠোয় নিয়ে বলে, ‘আপনি ছাড়া আমি পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির কাছেও সুখি থাকতে পারবো না। তাই এই প্রশ্ন আপনি কখনোই করবেন না।’

পর্ব – ৩৮

পরিজান | পর্ব – ৩৮

ঘর থেকে বের হওয়ার আগে শায়ের চম্পাকে উদ্দেশ্য করে বলে,’যে মানুষ টা তোকে এতো কাছে টানলো তার এতোবড় ক্ষতি করতে তোর বুক কাঁপলো না? তোর মুখ যেন দ্বিতীয়বার আমি না দেখি।’

পর্ব – ৪০

পরিজান | পর্ব – ৪০

-‘যদি পুরষত্ব দেখাতে হয় তাহলে আমার হাত খুলে দেখা।’ কবির আদুরে স্বরে বলে,’নাহ,বাঘীনিকে সবসময় খাঁচায় বন্দি করে রাখতে হয়। নাহলে যে আক্রমণ করে বসে। তুমি জানো না বুঝি?’

পর্ব – ৪১

পরিজান | পর্ব – ৪১

নওশাদ আফসোসের সুরে বলে,’তোমাকে এভাবে দেখে আমার খুব কষ্ট হচ্ছে পরী। কতো ভালোবাসলে তুমি শায়ের কে। কিন্ত সে তোমাকে ধোঁকা দিয়ে মোটেও ভালো করেনি।’ -‘আমি সব জানতে চাই??তারপর কি হয়েছিল?’

পর্ব – ৪৪

পরিজান | পর্ব – ৪৪

পরী শায়েরের বুকে মাথা রাখে। আর শায়ের স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে নিজের তৃষ্ণা মেটায়। এ যেন বহুক্ষণের পিপাসা। -‘আমার হাতে যদি ছুরি থাকতো আর সেটা যদি আপনার বুকে গেঁথে দিতাম তাহলে কেমন হতো মালি সাহেব?’

পর্ব – ৪৫

পরিজান | পর্ব – ৪৫

-‘চুপ থাক পরী। অনেক হয়েছে,শুধু শায়েরের জন্য তোকে বাঁচিয়ে রেখেছি। তোকে তো তাড়াতাড়ি শেষ করে দেব।’ পরী গলা উচিয়ে বলে,’বের হন অন্দর থেকে নয়তো লা*শ পড়ে যাবে।’

পর্ব – ৪৬

পরিজান | পর্ব – ৪৬

শেফালি কাচুমাচু করে সামনে এসে দাঁড়াল,’বড় কর্তা আমি কুসুম রে দেখছি বিষ মিশাইতে।’ -‘দেখছেন ভাই আপনার মেয়ে এখনই আমাদের মা*রার পরিকল্পনা সেরে ফেলছে। শেফালি না বললে তো আমরা শরবত খেয়েই ম*রে যেতাম।’

পর্ব – ৪৭

পরিজান | পর্ব – ৪৭

ছু*রি*টা নিয়ে পালঙ্কের দিকে এগিয়ে গেল নওশাদ। ইচ্ছামতো ছু*রি চালালো শুয়ে থাকা ব্যক্তির শরীরে। নওশাদ ভাবছে নিশ্চয়ই পরীর শরীর এতক্ষণে ক্ষ*ত বি*ক্ষ*ত হয়ে গেছে।

পর্ব – ৪৮

পরিজান | পর্ব – ৪৮

শায়ের দম ফেলে পরীর দিকে তাকাল। পরী এখনও শায়েরের বুকে মাথা রেখে আছে। শায়ের বলল, ‘আপনি কি শুনছেন পরীজান?’ ‘হুম শুনছি। আপনিও তো টাকার জন্য খু*ন করেছেন।’

পর্ব – ৫০

পরিজান | পর্ব – ৫০

-‘দয়া করে বলুন না অতীতের সেই ঘটনা? আমি আপনাদের ভালোবাসার স্বাক্ষী হিসেবে থাকতে চাই।’ -‘আমি আপনাকে বলব সব। কিন্ত একটা কথা আপনাকে দিতে হবে। কাউকে কোনদিন সত্যিটা বলতে পারবেন না আপনি।’

পর্ব – ৫২

পরিজান | পর্ব – ৫২

মুসকান কে দেখে এগিয়ে এলো শায়ের। মুচকি হেসে বলল,’কি রহস্য ভেদ করে এলেন সাংবাদিক মেডাম?’ -‘আপনাকে বোঝার সাধ্য পরী ছাড়া কারো নেই। এজন্য আমি ঠিক বুঝতে পারছি না আপনাকে।’

পর্ব – ৫৩

পরিজান | পর্ব – ৫৩

নিজ ঘরে বসে ছটফট করছে পরী। শায়েরের জন্য তার চিন্তা হচ্ছে। নূরনগর গেলে আফতাব যদি শায়েরের কোন ক্ষতি করে দেয়? আফতাব তো চেয়েছিল শায়ের কে হ*ত্যা করতে। একথা ভেবে পরী অস্বস্তি অনুভব করছে।

পর্ব – ৫৫

পরিজান | পর্ব – ৫৫

শায়ের পুনরায় পরীর শরীর গামছা দিয়ে মুছে দিতে লাগল,’আপনি মৃ*ত্যুকে সহজ ভাবলেও মৃ*ত্যু কিন্ত এত সহজ নয়।’ -‘আমাকে মারা তো সহজ ছিল। তাহলে আমাকে কেন মারতে পারল না কেউ?’

পর্ব – ৫৬

পরিজান | পর্ব – ৫৬

-‘ভাই পরীর কথা শুনবেন না। ও এখন সবাইকে সারিয়ে নিচ্ছে যাতে পরে আমাদের উপর আ*ক্র*মণ করতে পারে। আমি সব বুঝতে পারছি। পরী তুই একবার যখন আমাদের জালে এসে পড়েছিস তাহলে তোকে আমরা যেতে দিব না।