প্রেমাতাল

প্রেমাতাল - এর সবগুলো পর্ব একসাথে

পর্ব – ১

প্রেমাতাল | পর্ব – ১

ঘড়িতে রাত ১২:৫৬ । অনেকক্ষণ যাবৎ ফোনটা বেজেই চলেছে, তিতিরের হাত পা কাঁপছে। ফোন ধরার সাহস হচ্ছেনা। অবশেষে থাকতে না পেরে ধরেই ফেলল, – হ্যালো – যাক, অবশেষে দয়া হলো ফোনটা ধরার। – আসলে আমি ফোনের কাছে ছিলাম না। তাই ধরতে পারিনি। – আর সেদিন যে সারারাত কল দিলাম

পর্ব – ২

প্রেমাতাল | পর্ব – ২

মুগ্ধ দেখলো তিতির অডিওটা সিন করেছে। যাক তাহলে নিশ্চই শুনছে এখন। শুনে হয়তো কাঁদছে, কিন্তু শান্তি তো পাচ্ছে! এটাই অনেক। ও কি একটা টেক্সট করবে? তিতির নিশ্চই রিপ্লে দিবেনা। তখন খারাপ লাগবে। এসব ভেবেও টেক্সট একটা করেই ফেলল, “তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করে।” প্রায় সাথে সাথে মেসেজটা সিন করলো তিতির,

পর্ব – ৩

প্রেমাতাল | পর্ব – ৩

সারাপথ ভালই টুকটাক গল্প হয়েছিল ওদের। কিন্তু গল্প করতে করতে তিতির কখন যেন ঘুমিয়ে পড়লো। মুগ্ধ অবাক হয়ে ভাবলো একটা মানুষ কিভাবে এত তাড়াতাড়ি ঘুমাতে পারে! তিতির কিছু একটা জিজ্ঞেস করেছিল তার উত্তর দিয়ে খেয়াল করলো তিতির ঘুমাচ্ছে! খুব হাসি পাচ্ছিল মুগ্ধর। কিন্তু মেয়েটা বেশ! সহজ সরল, কিন্তু ভীষণ সাহসী।

পর্ব – ৪

প্রেমাতাল | পর্ব – ৪

মুগ্ধ চিন্তা করতে করতে একসময় বলল, -“তুমি সিওর যে তুমি আমার সাথে থানচি পর্যন্ত যাবে?” -“হ্যা। কিন্তু কিভাবে?” -“সেটা দেখছি তুমি আরেকবার ভেবে বল তুমি সিওর তো?” -“১০০%” -“ওকে,এসো আমার সাথে।” মুগ্ধ বাসস্ট্যান্ডের দিকে হাটা শুরু করলো। ২ মিনিটের রাস্তা। বাসস্ট্যান্ডের একপাশে অনেকগুলো সিএনজি। মুগ্ধ একজনকে জিজ্ঞেস করলো, -“মামা থানচি

পর্ব – ৫

প্রেমাতাল | পর্ব – ৫

মুগ্ধ বলল, -“মেঘের আরো কাছে নিয়ে যাব তোমাকে। হাত বাড়ালেই মেঘগুলো লুটিয়ে পড়বে তোমার গায়ে।” তিতির একথা শুনে বলল, -“কোথায়? ওহ শুনেছিলাম নিলগিরি তে নাকি মেঘ ছোঁয়া যায়। সত্যি কি?” -“হুম তবে সেটা খুব সকালে। ৮/৯ টা পর্যন্ত। কিন্তু আমরা নিলগিরি পৌঁছাতে ১২/১ টা বেজে যাবে।” -“ওহ!” -“আমি অবশ্য বলছিলাম

পর্ব – ৬

প্রেমাতাল | পর্ব – ৬

তিতিরের ঘুম ভাঙতেই দেখলো মুগ্ধ গুনগুন করে গান গাইছে। ও বলল, -“আপনি গান গাইতে পারেন?” মুগ্ধ বেড়ী দিয়ে তিতিরকে আগলে রাখা হাতটা সরিয়ে নিল। তিতির আড়মোড়া ভেঙে সোজা হয়ে বসল। তিতিরের ঘুমে জড়ানো কন্ঠস্বরটা মুগ্ধর বুকে গিয়ে লাগলো। মুগ্ধ সত্যি এবার চিন্তায় পড়ে গেল। ও তিতিরের প্রেমে পড়ে যাচ্ছে না

পর্ব – ৭

প্রেমাতাল | পর্ব – ৭

কতক্ষণ এভাবে কেটে যাওয়ার পর মুগ্ধ তিতিরকে পাহাড়ের কিনার থেকে সরিয়ে আনলো। ওরা ছিল আকাশনীলা কটেজের পেছন দিকটায়। কটেজের পিছন দিকেও একটা বারান্দা ছিল। সেই বারান্দার সামনে ঘাসের উপর তিতির বসে পড়লো। মুগ্ধও বসলো তিতিরের পাশে। অনেকটা সময় কেটে গেল, একটা কথাও বলেনি তিতির।

পর্ব – ৮

প্রেমাতাল | পর্ব – ৮

থানচির রাস্তাকে পাশ কাটিয়ে ওরা বেশ কিছুদূর এসে পড়েছে। দুজনে পাশাপাশি হাঁটছে। একপাশে বিশাল পাহাড়, অন্যপাশে গভীর খাদ। পাহাড়টা যেখানে ছোট হয়ে এসেছে সেখানে সেখান থেকেই জঙ্গল শুরু। ওদিকটায় গিয়েই হঠাৎ মুগ্ধ দাঁড়িয়ে পড়লো। তিতির বলল, -“কি হলো?” মুগ্ধ তিতিরকে দেখালো যায়গাটা। তিতির বলল, -“জঙ্গল দেখে কি করবো?”

পর্ব – ৯

প্রেমাতাল | পর্ব – ৯

মুগ্ধর মনে হলো রাস্তার দিকটায় কেউ নেই, কারন কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। শুধু জঙ্গলের ভেতর থেকে শুকনো পাতায় পা ফেলার ঝুপঝাপ শব্দ আসছিল। বেশ কিছুক্ষণ পর পায়ের আওয়াজটা কাছে চলে এল। আবার কথোপকথন শোনা গেল। তার মানে ওদের দলের সর্দারটা জঙ্গলে ঢোকেনি, এখানেই ছিল।

পর্ব – ১০

প্রেমাতাল | পর্ব – ১০

-“ও চাঁদ সামলে রাখো জোছনাকে…” গান শেষ হওয়ার পর কিছুক্ষণ দুজনই চুপ! তারপর তিতির বলল, -“এই গানটা আমি কখনো শুনিনি। কিন্তু গানটা খুব সুন্দর।” -“এটা অনেক আগের গান। মান্না দে এর গাওয়া। জানি আজকালকার ছেলে মেয়েরা মান্না দে এর গান শোনে না। কিন্তু আমি আবার ওনার অনেক বড় ফ্যান।

পর্ব – ১১

প্রেমাতাল | পর্ব – ১১

-“এত হাসছেন কেন, শুনি?” -“এমনি।” -“এমনি না, আপনি খুব খারাপ। খালি মনে মনে কি যেন ভাবেন আর হাসেন।” মুগ্ধ একথার পর আবার হাসলো। তিতির এবার রেগেমেগে উঠে দাঁড়িয়ে বলল, -“আপনি আসলেই খুব খারাপ!” তারপর হাটা শুরু করলো। মুগ্ধ দৌড়ে ওকে ধরলো। পাশাপাশি হাটতে হাটতে বলল, -“সরি সরি, আর হাসবো না।

পর্ব – ১২

প্রেমাতাল | পর্ব – ১২

মুগ্ধ-তিতির আলো ফুটতেই মানে ৫ টার দিকে রওনা দিয়েছিল। ৩ ঘন্টা হাটা আর প্রায় ১ ঘন্টা বাস জার্নির পর ওরা থানচি পৌঁছেছিল। থানচি গেস্ট হাউজে ঢুকেই মুগ্ধ রিসিপশনের দিকে গেল। পিছন পিছন গেল তিতির। ঘড়ির কাটা ছিল তখন ৯ টার আশেপাশে।

পর্ব – ১৩

প্রেমাতাল | পর্ব – ১৩

গেস্ট হাউজের বিল মিটিয়ে, আর্মি ক্যাম্পে এন্ট্রি করে তারপর নৌকার ঘাটে গেল ওরা। নৌকা খুঁজছিল মুগ্ধ। হঠাৎ কোত্থেকে এক ছেলে দৌড়ে মুগ্ধ দাদা মুগ্ধ দাদা করতে করতে এল। তাকে দেখেই মুগ্ধর সেকি আনন্দ। তিতির বুঝলো না এই পাহাড়ী ছেলেটার সাথে এমন কি সম্পর্ক মুগ্ধর! কাছে আসতেই তাকে জড়িয়ে ধরে বলল, […]

পর্ব – ১৪

প্রেমাতাল | পর্ব – ১৪

গেস্ট হাউজটা আসলে একটা কটেজের মত। চারদিকে ঘিরে আছে একটা বারান্দা। কটেজে মোট ৪ টি ঘর। প্রত্যেকটি ঘরে দুটো করে বিছানা। আর দুই বিছানার মাঝেও অনেক যায়গা। ফ্লোরিং করার প্ল্যান ছিল বাকিদের। কিন্তু কি থেকে কি হয়ে গেল। কোথায় চলে গেল সাফিরা।

পর্ব – ১৫

প্রেমাতাল | পর্ব – ১৫

আবার এলোযে সন্ধ্যা, শুধু দুজনে। চলোনা ঘুরে আসি অজানাতে যেখানে নদী এসে থেমে গেছে…” গানটা শেষ হতেই তিতির বলল, -“উফফ সত্যি খুব ভাল গান আপনি। আর গানটাও এত জোস। একদম পারফেক্ট এখানে এই পরিবেশে।” মুগ্ধ হাসলো আর খেয়াল করলো তিতিরের ভয়েসটা একটু অন্যরকম হয়ে গেছে। একদম ঘুমে জড়ানো।

পর্ব – ১৬

প্রেমাতাল | পর্ব – ১৬

পাহাড়ে ওঠাটা যতটা কঠিন ছিল নামাটা আরো বেশি কঠিন মনে হলো তিতিরের। নিচে তাকাতেই ভয় করছে। এত খাড়া পাহাড়! মুগ্ধ বলল, -“আরে এভাবে পা ফেলছো কেন? এত ভয়ের কিছু নেই।” -“ভয়ের কিছু নেই মানে? কোথায় পা ফেলবো সেটাই তো বুঝতে পারছি না।”

পর্ব – ১৭

প্রেমাতাল | পর্ব – ১৭

পুরাদস্তুর জঙ্গল যাকে বলে! কখনো বাঁশঝাড়, কখনো বিশাল বিশাল নাম না জানা গাছ, কখনো বিভিন্ন রকমের লতা, ছোট বড় পাহাড়! তার মধ্যে দিয়ে বয়ে চলেছে ঝিরিপথটি। হাটতে হাটতে তিতির খেয়াল করছিল দোলা সাফির সাথে ঝগড়া করছে। ঝগড়ার টপিক কোমড় সমান পানি সাফি ওকে হাটিয়ে পার করিয়েছে।

পর্ব – ১৮

প্রেমাতাল | পর্ব – ১৮

জলপ্রপাতের পানিতে ভাসতে ভাসতে আর স্রোতের ধাক্কা খেতে খেতে তিতিরের সারা শরীর যেন অসাড় হয়ে পড়ছিল। তিতির পানি থেকে ওঠার কথা মুগ্ধকে বলতে গিয়ে দেখলো কোনো কথাই বলতে পারছেনা। কথা বলার জন্য যে মিনিমাম শক্তিটুকু দরকার তা ওর ওই মুহূর্তে ছিলনা। কিছুক্ষণের মধ্যেই মুগ্ধ বলল, -“এইযে তিতিরপাখি, চলো এবার

পর্ব – ১৯

প্রেমাতাল | পর্ব – ১৯

মুগ্ধ তিতিরকে না পেয়ে নিজের বাসায় ফিরে এল। ভাল লাগছে না কিছু! সারারাত বাসের ঝাঁকুনি আর তিতিরকে নির্ভয়ে অপলক দেখার লোভ! এই দুটো কারনে ঘুমাতে পারেনি ও। ভেবেছিল বাসায় এসে ঘুমাবে। কিন্তু কিসের ঘুম কিসের খাওয়া। তিতিরকে কিভাবে পাবে সেই চিন্তায় ও অস্থির! যদিও বাসা চেনে কিন্তু কয় তলায় থাকে

পর্ব – ২০

প্রেমাতাল | পর্ব – ২০

তিতির মুগ্ধকে জড়িয়ে ধরার পর মুগ্ধও তিতিরকে ধরলো কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের জন্য। তারপর ছেড়ে দিয়ে বলল, -“এইযে তিতিরপাখি! এবার ফোন নাম্বারটা বলো।” -“01*********” -“আচ্ছা এবার বাসায় গিয়ে ভেজা কাপড় ছাড়ো। আমি বাসায় গিয়ে কল দিচ্ছি।” -“আচ্ছা, কিন্তু একবার শুনেই নাম্বারটা মনে রাখতে পারবেন?” মুগ্ধ নাম্বারটা বলল।

পর্ব – ২১

প্রেমাতাল | পর্ব – ২১

মুগ্ধ চোখ খুলে রাখতে পারছেন। ঘুমের জন্য না। চোখদুটো প্রচন্ড জ্বলছে তাই। গতকাল তিতিরের সাথে কথা হওয়ার পর সারারাত আর ঘুমাতে পারেনি। ফোন না দিয়েই বা কোথায় যাবে? মন তো আর সবসময় এত বাধা মানতে চায়না। নিঃশ্বাসটা আটকে যায় মাঝে মাঝে।

পর্ব – ২২

প্রেমাতাল | পর্ব – ২২

ওদের সম্পর্ক তখন ৪ মাস চলছিল। তিতির পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে চান্স পায়নি। প্রাইভেটেই ভর্তি হয়েছে। ওদিকে মুগ্ধর মাস্টার্স কম্পলিট হয়ে গেছে। তখনই মুগ্ধ আগের চাকরিটা ছেড়ে এখনকার চাকরিটায় জয়েন করেছিল। আগের অফিস ধানমন্ডিতেই ছিল। এখনকারটা বনানী। ধানমন্ডি থেকে বনানী অফিস করাটা ডিফিকাল্ট লাগলেও মুগ্ধ বাসা চেঞ্জ করেনি কারন এখানে তিতির আছে।

পর্ব – ২৩

প্রেমাতাল | পর্ব – ২৩

মুগ্ধ কলাবাগান বাস কাউন্টারে দাঁড়িয়ে আছে। ১০:৩০ এ বাস ছাড়বে। সামনেই সাফি আর দোলা বসে আছে। ওরা এসেছে হেল্প করার জন্য। কারন তিতিরকে পৌঁছে দিতে আসবে ওর বাবা এবং ভাইয়া। তিতির বাসায় বলেছে এবারও টিওবি থেকেই যাচ্ছে খাগড়াছড়ি ট্রিপে। যেহেতু তিতিরের বাবা, ভাইয়া সাফি-দোলাদের চেনে তাই ওদেরকে নিয়ে এসেছে মুগ্ধ।

পর্ব – ২৪

প্রেমাতাল | পর্ব – ২৪

বাসের লাইট জ্বলে উঠতেই দুজন দুজনকে ছেড়ে যে যার সিটে চলে গেল। বাস কুমিল্লার একটা হোটেলে ২০ মিনিটের ব্রেক দিল। মুগ্ধ বলল, -“চলো ডিনার করে আসি।” -“আমি তো ডিনার করেই এসেছি। আমি ৮ টার মধ্যে ডিনার করি।” -“ডায়েটকন্ট্রোল না?” -“ডায়েটকন্ট্রোল বলে কথা না।

পর্ব – ২৫

প্রেমাতাল | পর্ব – ২৫

ভোরের আলো ফোটার আগেই ঘুম ভাঙলো মুগ্ধর। কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিল টেরই পায়নি। জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে রইল। তিতির ওর বুকের মধ্যে ঘুমাচ্ছে। তিতিরের দিকে চোখ পড়তেই ওর রাতের পাগলামির কথা মনে পড়ে গেল। একা একাই হেসে ফেলল মুগ্ধ। আস্তে আস্তে আকাশটা সাদা হতে লাগলো। বাসে সামনে কয়েকজনের ঘুম ভেঙেছে।

পর্ব – ২৬

প্রেমাতাল | পর্ব – ২৬

মুগ্ধ হিসাব মেলাতে পারছিল না। কাল রাতে তিতির ঘুমের ঘোরে বলেছে মুগ্ধ কেন ওকে আদর করেনা! এখন আবার আদর করতে যেতেই এরকম করলো যেন ও চাচ্ছেই না। অল্পবয়সী মেয়েদের সাথে প্রেমে এই এক ঝামেলা বটে! তারা কখন যে কি চায় বোঝা বড় দায়।

পর্ব – ২৭

প্রেমাতাল | পর্ব – ২৭

মুগ্ধর পরিবারের সবাই যেমন ছিল ওর বাবা ছিল তার পুরোপুরি উলটো। উনি খুব সিরিয়াস টাইপের মানুষ। কিন্তু মুগ্ধ বেশ সাবলীল ছিল ওর বাবার সাথে। তিতির ভাবতেও পারেনি এতবড় একটা ইন্টারভিউ ওকে দিতে হবে ওনার কাছে। সকালবেলা ১০/১১ টার দিকে উনি এসেছিল। তিতির-মুগ্ধ তখন বাগানে ছিল। বাবা ওদের দেখতে পায়নি।

পর্ব – ২৮

প্রেমাতাল | পর্ব – ২৮

তিতির শুয়ে আছে কিন্তু ঘুম আসছে না। পিউ ওর পাশে শুয়ে বিভিন্নরকম গল্প জুড়ে দিয়েছে। প্রত্যেকটা কথা এত আগ্রহ নিয়ে বলছে যে তিতির হাসি হাসি মুখ করে শুনছে, নিজের অজান্তেই পিউয়ের কথায় তাল মেলাচ্ছে। কিন্তু একটা শব্দও তিতিরের কান পর্যন্ত যাচ্ছে না। ওর মাথায় একটা ব্যাপারই ঘুরছে!

পর্ব – ২৯

প্রেমাতাল | পর্ব – ২৯

একসময় নীরবতা ভেঙে মুগ্ধ বলল -“ভাবছো আমি খুব খারাপ?” -“না।” -“তাহলে? কথা বলছো না, দূরে বসে আছো! এসবের কারন কি?” -“কই?” মুগ্ধ তিতিরের কাছে এগিয়ে ওর হাতটা ধরতেই তিতির আচমকা সরে গেল। মুগ্ধ বলল, -“ভয় কেন পাচ্ছো?” তিতির ভাবলো সত্যিই তো, ও কেন ভয় পাচ্ছে! বলল, -“কই নাতো!

পর্ব – ৩০

প্রেমাতাল | পর্ব – ৩০

তিতির ভয়ে ভয়ে তাকিয়ে আছে মুগ্ধর দিকে। ও বংশীর কথা তো শুনতে পাচ্ছে না কিন্তু মুগ্ধ চুপ করে থেকে একসময় বলল, -“আচ্ছা আচ্ছা নো প্রব্লেম। হুট করে এলে এমনটা হতেই পারে। আচ্ছা বংশী দা। রাখছি তাহলে।” ফোন রাখতেই তিতির বলল, -“ব্যবস্থা হয়নি না?”

পর্ব – ৩১

প্রেমাতাল | পর্ব – ৩১

কতক্ষণ পর তিতির ক্লান্ত হয়ে মাটিতে পা রাখলো। মাটিতে ভর দিতেই তিতির টের পেল ও সব শক্তি যেন হারিয়ে ফেলেছে, দাঁড়িয়ে থাকতে পারছে না। মুগ্ধর কোমরটা আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ঢলে পড়লো মুগ্ধর বুকের উপর। নিঃশ্বাস পড়ছিল ঘন ঘন। মুগ্ধ তিতিরের মুখটা ধরে উপরে তুলল তারপর নিজের ঠোঁট দিয়ে…

পর্ব – ৩২

প্রেমাতাল | পর্ব – ৩২

সেই পাগলী তিতির আর আজকের তিতিরের মধ্যে অনেক পার্থক্য। ৪ বছর পর্যন্ত সত্যি কোনো পার্থক্য ছিল না। গত সাত মাসে যেন হঠাৎই বড় হয়ে গেল। তিতির ডানদিকে কাত হয়ে নিজের হাতের উপর মাথা শুয়ে আছে। এই বিছানায় ওর বউ হয়ে শোবার কথা ছিল, আর আজ অসুস্থ হয়ে শুয়ে আছে।

পর্ব – ৩৩

প্রেমাতাল | পর্ব – ৩৩

হঠাৎ কলিং বেল বেজে উঠতেই মুগ্ধর ভাবনায় লাগাম পড়লো। উঠে গিয়ে দরজা খুলল, মা এসেছে। ভেতরে ঢুকেই জিজ্ঞেস করলো, -“তিতির কোথায়?” -“আমার ঘরে।” মা সোজা মুগ্ধর ঘরে চলে গেল। মুগ্ধ দরজা লাগিয়ে ঘরে ঢুকতেই মা বলল, -“একি অবস্থা হয়েছে মেয়েটার!” মা বিছানায় তিতিরের পাশে বসেছে।

পর্ব – ৩৪

প্রেমাতাল | পর্ব – ৩৪

কাঁদতে কাঁদতে তিতিরের নিঃশ্বাস আটকে যাচ্ছিল। বার বার মনে একটা চিন্তাই ঘুরপাক খাচ্ছিল যে, মুগ্ধকে আর ও পাবেনা। আর ঠিক তখনই ওর চোখে ভেসে উঠছিল মুগ্ধর সাথে কাটানো দিনগুলো, ওদের সব স্পেশাল মুহূর্তগুলো! কত স্বপ্ন, কত প্ল্যানিং, কত কথা দেয়া নেয়া সব এভাবে শেষ হয়ে যাবে?

পর্ব – ৩৫

প্রেমাতাল | পর্ব – ৩৫

প্রত্যেকটা মানুষই সবকিছুর একটা নির্দিষ্ট স্টক নিয়ে পৃথিবীতে আসে। সেই স্টক শেষ হয়ে গেলে যেমন আর পাওয়া যাবে না তেমনি শেষ না হলেও মৃত্যুর আগে যেভাবেই হোক শেষ হতে হবে। তিতিরের সুখের স্টক শেষ বোধহয়। আর কষ্টের স্টকে তো হাতই পড়েনি এতদিন। ছোটবেলা থেকে কেঁদেছে অনেকবারই তবে সেটা শুধুই সুখে,আবেগে।

পর্ব – ৩৬

প্রেমাতাল | পর্ব – ৩৬

সবসময় এরকমই হয় নিজ থেকে তিতির কখনোই এগিয়ে আসে না। কিন্তু মুগ্ধ যখন একবার শুরু করে দেয় তিতির আর ছাড়তেই চায়না। নেশা হয়ে যায় ওর। বুদ্ধদেব গুহ লিখেছেন, ‘মধুতে যে মরে তাকে বিষ দিয়ে মারতে নেই।’ কোন বইতে যেন লিখেছেন? ‘সবিনয় নিবেদন’ নাকি ‘একটু উষ্ণতার জন্য’ তে?

পর্ব – ৩৭

প্রেমাতাল | পর্ব – ৩৭

তিতির চোখ মেলে দেখলো গাড়িতে ও একা। মুগ্ধ নেই, গাড়ি একটা শপিং মলের সামনে পার্ক করা। এটা কোথায় বুঝতেও পারছে না। তিতির মোবাইল বের করে মুগ্ধকে কল করলো, -“হ্যালো, আমার ঘুমকুমারীর ঘুম ভেঙে গেল?” -“হুম। আপনি আমাকে একা রেখে কোথায় চলে গেছেন?”

পর্ব – ৩৮

প্রেমাতাল | পর্ব – ৩৮

মুগ্ধ বাথরুম থেকে বের হয়ে নতুন কেনা টাওয়াল টা নিয়ে সোজা বারান্দায় চলে গেল। ডিভানে বসে শার্টটা খুলে ছুড়ে ফেলল ফ্লোরে। টাওয়াল টা পড়ে প্যান্ট টা খুলে সেটাও ছুড়ে ফেলল। রাগে নিজের চুল নিজেই ছিঁড়লো। তান্নাকে পেলে এখন খুন করতো ও।

পর্ব – ৩৯

প্রেমাতাল | পর্ব – ৩৯

-“উফ, এবার নামাও। আমি টায়ার্ড হয়ে গিয়েছি।” কোনমতে হাসি থামিয়ে তিতির একথা বলল। মুগ্ধ ওকে তালগাছ থেকে নামিয়ে ওভাবেই পা ভাজ করলো। তিতির সেই ভাজ করা পায়ে হেলান দিয়ে বসে হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, -“তালগাছে উঠালে তুমি আর টায়ার্ড হলাম আমি।” -“স্বাভাবিক, কারন তুমি অতিরিক্ত হেসেছো।” তিতির বলল, -“গরম লাগছে।”

পর্ব – ৪০

প্রেমাতাল | পর্ব – ৪০

সকাল সকাল গাড়ি ছুটে চলেছে গোয়াইনঘাটের পথে। শহর ছেড়েছে অনেকক্ষণ। গোয়াইনঘাট থেকে নৌকায় করে যাবে বিছনাকান্দি। মুগ্ধ ড্রাইভ করতে করতে বলল, -“একটা সুপুরুষ ছেলের সাথে কিস করতে করতে একটা মেয়ে ঘুমিয়ে পড়তে পারে আমি আগে জানতাম না। তাও আবার দাঁড়ানো অবস্থায়!” তিতির মন খারাপ করে বলল, -“আর কত পচাবে?” -“আজীবন

পর্ব – ৪১

প্রেমাতাল | পর্ব – ৪১

গোয়াইনঘাটে নৌকার ঘাট থেকে কিছুটা আগে গাড়ি রেখেছিল মুগ্ধ। সাঁতরে সাঁতরে শরীর ক্লান্ত দুজনেরই। যা খেয়েছিল তা সব শেষ। এটুকু হেটে গাড়ির কাছে আসতেও খুব কষ্ট হলো। এসে মুগ্ধ বলল, -“তুমি গাড়িতে ঢুকে চেঞ্জ করে নাও। তোমার হয়ে গেলে আমি ঢুকবো।” -“এখানে আমি চেঞ্জ করবো?” -“হ্যা কে আছে দেখবার জন্য?

পর্ব – ৪২

প্রেমাতাল | পর্ব – ৪২

তিতির কখন যেন কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পড়েছে। মুগ্ধ ওকে বুকের উপর থেকে নামিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিল। তারপর উঠে দাঁড়াতেই বুঝতে পারলো শরীরটা ভার হয়ে আছে। বুকের ভেতর ব্যাথা করে উঠলো। বুকে হাত দিতেই দেখতে পেল বুকের লোমগুলো ভিজে গেছে তিতিরের চোখের জলে। বুকের ভেতরটায় হাহাকার করে উঠলো।

পর্ব – ৪৩

প্রেমাতাল | পর্ব – ৪৩

মা কয়েক সেকেন্ড চুপচাপ দাঁড়িয়ে থেকে শীতল গলায় বলল, -“কি করে হলো এসব?” তিতির তো আকাশ থেকে পড়লো। নিজের মেয়েকে কেউ এসব জিজ্ঞেস করে? এমনি লজ্জা লাগছে আবার ডিটেইল জানতে চাচ্ছে। এমন তো না যে মা জানেনা কি করে মানুষ প্রেগন্যান্ট হয়। ওকে চুপ থাকতে দেখে মা আবার জিজ্ঞেস করলো

পর্ব – ৪৪

প্রেমাতাল | পর্ব – ৪৪

সবাই একে একে ঘর থেকে বেড়িয়ে গেল। শুধু চম্পা ঘরের এক কোনায় বসে কাঁদতে লাগলো। তিতির উপুর হয়ে শুলো। পিঠটা বিছানায় রাখতে পারছে না। পিঠের এমন কোন যায়গা নেই যে স্কেল পড়েনি। কোথাও কোথাও একই যায়গায় বারবার পড়েছে। উপুর হয়েও ব্যাথা অনুভব করলো। বুকে, পেটেও বোধহয় দুএকটা লেগেছে।

পর্ব – ৪৫

প্রেমাতাল | পর্ব – ৪৫

মুগ্ধ আটকালো না তিতিরকে। ওর মা এসে আচমকাই ওর গালে একটা চড় মারলো। মুগ্ধ আকাশ থেকে পড়লো! মা শেষ কবে ওকে মেরেছিল মনে করতে পারছে না। পিউ অবাক হয়ে চেয়ে রইলো। মুগ্ধ বলল, -“এটা কি হলো?” মা বলল, -“তুই মেয়েটাকে এভাবে কাঁদালি কেন?” -“মা মাঝেমধ্যে না আমি তোমাকে বুঝেও বুঝিনা।

পর্ব – ৪৬

প্রেমাতাল | পর্ব – ৪৬

তিতিরের শরীর প্রচন্ড গরম। চোখগুলো লাল হয়ে আছে, অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছে। ও বোধহয় জ্বরের ঘোরে নিজেকে কন্ট্রোলে রাখতে পারেনি তাই চলে এসেছে। জ্বর কমলে, ঘোর কাটলে তো চলেই যাবে। শুধু শুধু মায়া বাড়াতে এল মেয়েটা! -“এই দাওনা। খাবোতো!” মুগ্ধর ঘোর কাটলো। বলল, -“কি দেব?” -“তোমার ঘুমু ঘুমু ভয়েসটা।”

পর্ব – ৪৭

প্রেমাতাল | পর্ব – ৪৭

পুরোটা বিকেল ওরা বারান্দায় কফির মগ হাতে গল্প করে কাটিয়ে দিল। বারান্দার দেয়ালে হেলান দিয়ে ফ্লোরে বসে গল্প। খুব সিরিয়াস টাইপের গল্প। প্রায় এক বছর কে কিভাবে কাটিয়েছে, কার জীবনে কি হয়েছে সেসব গল্প। তিতির মুগ্ধকে সুহাসের কথাটা সব খুলে বলততেই মুগ্ধ খানিকটা চিন্তায় পড়ে গেল। বলল

পর্ব – ৪৮

প্রেমাতাল | পর্ব – ৪৮

সন্ধ্যা হতে না হতেই তিতিরের জ্বর মারাত্মক পর্যায়ে চলে গেল। ওকে ডাক্তারের কাছে নিতে হবে। কিন্তু ও কিছুতেই যেতে চাচ্ছে না। উল্টোপাল্টা কথাবার্তা বলছে। অবশেষে মুগ্ধ ওকে জোর করে তুলে নিয়ে গেল। ডাক্তার দেখে বলল, ‘ভাইরাস জ্বর। এন্টিবায়োটিকস দিচ্ছি। চিন্তা করবেন না ঠিক হয়ে যাবে।’

পর্ব – ৪৯

প্রেমাতাল | পর্ব – ৪৯

মা আর স্নিগ্ধ ফেরার পর ওরা সবাই মিলে মিটিং এ বসলো। তিতির বসলো একদম মুগ্ধর মার গা ঘেঁষে। মা ওকে জড়িয়ে ধরে বসেছিল। প্রথম কথা উঠলো কাকে কাকে দাওয়াত করা হবে। মুগ্ধ বলল, -“এত দাওয়াত ফাওয়াতের কি দরকার মা? আপাতত নিজেরা নিজেরাই করি।

পর্ব – ৫০

প্রেমাতাল | পর্ব – ৫০

তিতির বরাবরই এভাবে মুগ্ধর বুকে মাথা রেখে গান শুনতে পছন্দ করে। মুগ্ধর বুকের পাঁজর যেন প্রতিটা ধুকধুক এর মধ্য দিয়ে চুমুতে চুমুতে ভরিয়ে দেয় তিতিরের গাল। আর গানের প্রতিটা কথা, সুর সাথে প্রিয় মানুষটার কণ্ঠস্বর কানের এত কাছে! গান শেষ করে তিতিরের কানে কানে মুগ্ধ বলল…

পর্ব – ৫১

প্রেমাতাল | পর্ব – ৫১

হসপিটালে কেবিনের সামনেই তান্নাকে দেখা গেল। তিতিরের পেছন পেছন মুগ্ধও কেবিনে ঢুকতে নিতেই তান্না ওকে আটকে বলে, -“তোর ভাগ্য ভাল যে আমার বাবা অসুস্থ নাহলে তোকে এখানেই মেরে পুঁতে দিতাম।” একথা শুনে তিতির চমকে পেছনে তাকালো। মুগ্ধ চোখের ইশারায় ওকে ভেতরে যেতে বলল। তিতির ভেতরে গেল।

পর্ব – ৫২

প্রেমাতাল | পর্ব – ৫২

দুই সপ্তাহ পর তিতিরের বাবাকে বাসায় আনা হলো। তারপর তিতির একটু নিশ্চিন্ত হলো। ডাক্তার বলে দিয়েছে বাবাকে এখন থেকে খুব সাবধানে রাখতে হবে, উনি আর কোন ভারী কাজ করতে পারবেন না। এমনকি ওনাকে বাজার করতেও দেয়া যাবে না। ফুল বেডরেস্টে থাকতে হবে, নিয়মিত ওষুধ খেতে হবে।

পর্ব – ৫৩

প্রেমাতাল | পর্ব – ৫৩

এলার্ম বেজে উঠতেই তিতির হাত বাড়িয়ে সেটাকে বন্ধ করলো। রাতে ঘুম আসেনা, ইনসমনিয়া হয়ে গিয়েছে বোধহয়। ঘুমাতে ঘুমাতেই ২/৩ টা বেজে যায়। তাই এলার্ম দিয়ে রেখেছিল, যাতে ভোর ৫ টায় উঠতে কোন প্রব্লেম না হয়। তিতির আড়মোড়া ভেঙে উঠে বসলো। বাইরে তাকিয়ে দেখলো এখনো আলো ফোটেনি।

পর্ব – ৫৪

প্রেমাতাল | পর্ব – ৫৪

ঘুম ভাঙার পরও শুয়ে রইলো মুগ্ধ তিতির যদি আসে! যদি আগের মত এসে ওর ঘুম ভাঙায়! আজকের দিনটা কি ও না এসে পারবে? অবশ্য নাও আসতে পারে, এখন তো ওর এঙ্গেজমেন্ট হয়ে গিয়েছে। এখন তো চাইলেও এত সহজে আসতে পারবে না।

পর্ব – ৫৫

প্রেমাতাল | পর্ব – ৫৫

মুগ্ধ বাসায় ফিরতেই দেখলো পিউরা মাত্রই এসেছে, যাক বেশি দেরী হয়নি তাহলে। সবার সাথে গল্পগুজব, হইচই, খাওয়াদাওয়ার পর রাত ১২ টার দিকে পিউরা চলে গেল। মুগ্ধ নিজের ঘরে গিয়ে শুয়েছে কেবল। এমনসময় মা এসে দরজায় নক করলো, -“ঘুমিয়ে পড়েছিস বাবা?” -“না, মা.. খুলছি দাঁড়াও।” দরজা খুলতেই মা বলল, -“ঢুকবো না

পর্ব – ৫৬

প্রেমাতাল | পর্ব – ৫৬

প্রেমাতাল পর্ব ৫৬ মৌরি মরিয়ম মুগ্ধর মা ফোন রাখার কিছুক্ষণ পরই মুগ্ধ ফোন করলো। -“তিতির, আমি তোমার সাথে দেখা করতে চাই। একটু সময় দিতে পারবে?” কি করবে তিতির? মাত্রই ওর মা ফোন করে বলল যাতে দেখা না করে আর এক্ষুনি ও দেখা করতে চাইছে! আল্লাহ কেন এমন পরিস্থিতিতে ফেলে? তিতির বলল, -“কবে?” -“আজ। সন্ধ্যার পর।”

পর্ব – ৫৭ |  সর্বশেষ পর্ব

প্রেমাতাল | পর্ব – ৫৭ | সর্বশেষ পর্ব

ড্রইং রুমের দরজায় দাঁড়িয়ে তিতির দেখলো বাবা খবরের কাগজ পড়ছে। তিতির বাবার সামনে গিয়ে ফ্লোরে বসলো। বাবা কাগজ থেকে চোখ না সরিয়েই বলল, -“কিছু বলবি মা?” তিতির কখনো এভাবে একা বাবার সামনে বসে সরাসরি মুগ্ধর ব্যাপারে কথা বলেনি। কিভাবে বলবে? লজ্জা লাগছে, আর ভয়ও করছে।